আকাশছোঁয়া বাড়ির দাম, তবুও প্রথমবার বাড়ি কিনতে চান? ক্রেতাদের জন্য সেরা কিছু শহর
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও মর্টগেজ সুদের হার ক্রমাগত বাড়তে থাকায় প্রথমবার বাড়ি কেনা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাবের নতুন এক বিশ্লেষণে প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ৩০০টি শহরের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ফ্লোরিডার পাম বে।
ওয়ালেটহাব ২২টি সূচকের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করেছে। এতে বাড়ির সামর্থ্য, আবাসন বাজারের অবস্থা, জীবনযাত্রার মান, বসবাসের ব্যয়, সম্পত্তি কর, অপরাধের হার, স্কুলের মান এবং বাজারে বাড়ির প্রাপ্যতার মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাম বেতে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক বাড়ি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে এবং নতুন আবাসন নির্মাণের অনুমোদনের হারও দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে শহরটিতে মিলেনিয়াল প্রজন্মের বাড়ির মালিকানার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা তরুণ ক্রেতাদের জন্য বাজারটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
ওয়ালেটহাবের তথ্য বলছে, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পাম বেতে বাড়ির মূল্য প্রায় ১০৭ শতাংশ বেড়েছে, যা গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অ্যারিজোনার সারপ্রাইজ এবং তৃতীয় স্থানে গিলবার্ট। সারপ্রাইজ শহরটি নতুন বাড়ির সরবরাহ, তুলনামূলক কম অপরাধ এবং সক্রিয় আবাসন বাজারের কারণে উচ্চ অবস্থান অর্জন করেছে। অন্যদিকে গিলবার্টে সম্পত্তি করের হার কম, নতুন আবাসন নির্মাণের গতি ভালো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও শক্তিশালী। শহরটিতে প্রায় ৪৬ শতাংশ মিলেনিয়াল নিজস্ব বাড়ির মালিক।
প্রথমবার বাড়ি কেনার জন্য শীর্ষ ১০ শহরের মধ্যে রয়েছে—
১. পাম বে, ফ্লোরিডা
২. সারপ্রাইজ, অ্যারিজোনা
৩. গিলবার্ট, অ্যারিজোনা
৪. ট্যাম্পা, ফ্লোরিডা
৫. ইউমা, অ্যারিজোনা
৬. পিওরিয়া, অ্যারিজোনা
৭. বোইসি, আইডাহো
৮. চ্যান্ডলার, অ্যারিজোনা
৯. অরল্যান্ডো, ফ্লোরিডা
১০. মারফ্রিসবোরো, টেনেসি
ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়ির দাম ও সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় প্রথমবারের মতো বাড়ি কেনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মতে, আদর্শ শহর শুধু সাশ্রয়ী হলেই হবে না; সেখানে পর্যাপ্ত আবাসনের সুযোগ, কম অপরাধ এবং ভালো শিক্ষা ব্যবস্থাও থাকতে হবে।
প্রতিবেদনটি এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে প্রথমবারের ক্রেতাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ওয়ালেটহাবের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মোট বাড়ি ক্রেতার মাত্র ২১ শতাংশ ছিলেন প্রথমবারের ক্রেতা, যেখানে ঐতিহাসিকভাবে এই হার প্রায় ৪০ শতাংশ ছিল।
এদিকে দীর্ঘমেয়াদি ৩০ বছরের মর্টগেজ ঋণের গড় সুদের হার আবারও সাড়ে ৬ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। উচ্চ সুদের কারণে ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুদের হার উচ্চ অবস্থানে থাকলে চলতি বছরও যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জ অব্যাহত থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে একটি স্কুলের কাস্টোডিয়ান প্রায় ছয় মাস ধরে গোপনে ওই স্কুলেই বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি স্কুল ভবনের ভেতরেই নিজের থাকার ব্যবস্থা করে নিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি গোপন রাখতে সক্ষম হন। তবে কীভাবে তিনি নিয়মিতভাবে স্কুলে অবস্থান করতেন এবং বিষয়টি এতদিন কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুলে কাস্টোডিয়ানের দায়িত্ব পালন করার সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তিনি ভবনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রম চললেও কর্তৃপক্ষ প্রথমদিকে তার সেখানে বসবাসের বিষয়টি জানতে পারেনি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুলের নিরাপত্তা, কর্মীদের প্রবেশাধিকার এবং ভবন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কর্মীদের দায়িত্ব পালনের সময় ও দায়িত্বের বাইরে স্কুল ভবনে অবস্থানের নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ওই কাস্টোডিয়ান কেন স্কুলে গোপনে বসবাস করছিলেন এবং তার এমন সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি সামনে আসার পর স্কুল ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্মীদের জন্য নির্ধারিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
ইকুয়েডরের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেশে ফেরত পাঠাল আইসিই, প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ
নিউ ইয়র্কে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন আরএসএস প্রধানের অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ মুসলিমদের
চাকরি হারালেই দ্রুত ছাড়তে হবে যুক্তরাষ্ট্র, H-1B ভিসাধারীদের জন্য ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছেছেন ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ এর প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শনিবার দুপুরে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ফোবানা হোস্ট কমিটির কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন, টাইটেল স্পন্সর মুনিরুল ইসলাম, চিফ প্যাট্রন শিপার চৌধুরীসহ হোস্ট কমিটির নেতৃবৃন্দ। এ সময় লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল, ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, সাধারণ সম্পাদক এম. ওয়াহিদ রহমান, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মুনিম, সাধারণ সম্পাদক লায়েক আহমেদ, বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস অ্যাঞ্জেলেস (বাফলা)-এর সাধারণ সম্পাদক নাসির সৈয়দ জেবুলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং মন্ত্রীর নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন। তিন দিনব্যাপী ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটিতে অবস্থিত ইউনিভার্সল হিলটন এ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর এ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। ভেন্যুটির ঠিকানা ৫৫৫ Universal Hollywood Drive, Universal City, California কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে পরিচিত ফোবানা কনভেনশন। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও প্রদেশ থেকে বাংলাদেশি-আমেরিকান ও বাংলাদেশি-কানাডিয়ানরা এ আয়োজনে অংশ নেন। এবারের ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের হোস্ট সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া। লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড সংলগ্ন ইউনিভার্সাল সিটিতে আয়োজন হওয়ায় এবারের কনভেনশনকে ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আয়োজকদেরা জানান, তিন দিনের এই কনভেনশনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা, বিভিন্ন প্রতিভা প্রদর্শন, যুব কার্যক্রম, সম্মাননা ও কমিউনিটি গ্যাদারিংয়ের পাশাপাশি খাবার, পরিবারকেন্দ্রিক আয়োজন ও বিভিন্ন কর্মশালার ব্যবস্থা থাকবে। ফোবানা দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠন ও প্রবাসীদের একটি বৃহৎ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে আসছে। বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদার করাও এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ৪০তম ফোবানা কনভেনশনে বাংলাদেশ সরকারের একজন মন্ত্রীর প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণকে তাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। লস অ্যাঞ্জেলেসে মন্ত্রীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ফোবানা হোস্ট কমিটি ও স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। কনভেনশনকে সফল করতে আয়োজকরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
ইসরায়েলের সমালোচনা করা শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করতে পারবেন না ট্রাম্প, মার্কিন আদালতের রায়
লিভারের চর্বি কমাতে কিটো ডায়েট এগিয়ে, গবেষণায় চর্বি কমেছে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত
ফ্লোরিডায় ১৭ বছরের ছাত্রের সঙ্গে একাধিকবার যৌ ন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে শিক্ষিকার ৭ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাউনটাউনে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে এক নারী আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার সকালে ঘটা এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে ১২০০ সাউথ গ্র্যান্ড অ্যাভিনিউ এলাকায় ভবন থেকে এক ব্যক্তির লাফ দেওয়ার প্রস্তুতির খবর পান তারা। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এলএপিডি) সঙ্গে যৌথভাবে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উদ্ধারকর্মীরা ভবনের ছাদে গিয়ে ওই নারীকে লাফ দেওয়া থেকে বিরত করার জন্য বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাদের সেই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ওই নারী ভবন থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই নারী সম্ভবত ভবনের সপ্তম তলা থেকে লাফ দিয়েছিলেন, তবে এই তথ্যের আনুষ্ঠানিক সত্যতা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়নি। আত্মহত্যা সংক্রান্ত বিভাগের নিজস্ব নীতিমালার কারণে পুলিশ এই ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী 'অসাম কফি' নামের একটি ক্যাফের এক কর্মী সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি এক নারীকে ওই ভবন থেকে লাফ দিতে দেখেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সেসময় ওই এলাকার রাস্তাঘাট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। নিহত নারীর পরিচয় এখনো জানা যায়নি, তবে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনার কার্যালয় থেকে ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মর্মান্তিক এই আত্মহত্যার ঘটনাটি লস অ্যাঞ্জেলেস কনভেনশন সেন্টারের ঠিক কয়েক ব্লক পূর্ব দিকে ঘটেছে।
ফ্লোরিডায় তপ্ত গাড়িতে এক বছরের নাতনির মৃ ত্যু, শিশুকে গাড়িতে রেখে ঘুমানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার দাদি
ই স রায়েলের সমালোচনা করলেই ডিপোর্ট? ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগকে অসাংবিধানিক বলল ফেডারেল আদালত