যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ব্রেইনার্ডে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাকে ঘিরে শোক, ক্ষোভ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিহত কিশোরী অ্যালেক্সিসের পরিবার দাবি করেছে, স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে সহপাঠীদের বুলিংয়ের শিকার হওয়ার পরই সে এই চরম সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ব্রেইনার্ড পাবলিক স্কুলস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক বুলিং অভিযোগ জমা পড়েনি। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার পর্যালোচনা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
অ্যালেক্সিসের বাবা-মা শ্যান্টেল স্মিথ ও ব্রেন্ট উইলিসের অভিযোগ, তাদের মেয়ে ফরেস্টভিউ মিডল স্কুলে পড়ার সময় একদল সহপাঠী তার গায়ের রং, নাকের আকৃতি ও চেহারা নিয়ে নিয়মিত অপমান করত। তাদের দাবি, অ্যালেক্সিস বিষয়টি বন্ধু, পরিবারের সদস্য এমনকি স্কুলের কিছু কর্মীকেও জানিয়েছিল। কিন্তু এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ কখনো পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব মন্তব্যের মধ্যে বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণও ছিল। তারা মনে করেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নিলে হয়তো এই মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত।
ঘটনার পর দায়িত্ব নেওয়া ব্রেইনার্ড পাবলিক স্কুলসের সুপারিনটেনডেন্ট চিপ র্যাঙ্কিন বলেন, অ্যালেক্সিসের মৃত্যুর ঘটনায় জেলাজুড়ে গভীর শোক নেমে এসেছে। তিনি জানান, স্কুল প্রশাসনের নথিতে অ্যালেক্সিসকে ঘিরে কোনো আনুষ্ঠানিক বুলিং রিপোর্ট নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না থাকলেই যে বুলিং হয়নি, এমনটি বলা যায় না।
র্যাঙ্কিন বলেন, বর্তমানে অনেক বুলিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঘটে, যা স্কুল সময়ের বাইরে হওয়ায় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী অভিভাবকদের জড়াতে না চাওয়ায় ঘটনাগুলোও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় না।
তিনি জানান, অ্যালেক্সিসের মৃত্যুর পরপরই জেলার সংকট মোকাবিলা দল সক্রিয় করা হয়েছে। ফরেস্টভিউ মিডল স্কুলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় ৩০টিরও বেশি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের নীতিমালা অনুযায়ী যেকোনো বুলিং অভিযোগ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ইন-স্কুল বা আউট-অব-স্কুল সাসপেনশন, বহিষ্কার, এমনকি প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
র্যাঙ্কিন বলেন, নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে বুলিং শনাক্তকরণ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং অভিযোগ গ্রহণ ও যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, বুলিং প্রতিরোধ কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং স্কুলে অভিভাবক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এদিকে মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের শৃঙ্খলাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, ব্রেইনার্ড পাবলিক স্কুলসে বুলিং ও হয়রানির ঘটনা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে যেখানে এমন ঘটনার সংখ্যা ছিল মাত্র তিনটি, সেখানে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০-এ। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এ সংখ্যা আরও বেড়ে ২৫-এ পৌঁছায়।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বুলিংয়ের ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও কঠোর হয়েছে। ইন-স্কুল সাসপেনশনের পাশাপাশি আউট-অব-স্কুল সাসপেনশনও আগের তুলনায় বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।
অ্যালেক্সিসের মৃত্যু আরও বেশি আলোচনায় এসেছে, কারণ এর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে একই স্কুলের আরেক শিক্ষার্থীও আত্মহত্যা করেছিল। দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া না গেলেও পরপর দুটি মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, বুলিং প্রতিরোধ এবং স্কুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো ঘটনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সহায়ক শিক্ষাপরিবেশ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তার গুলিতে নিহত ৫২ বছর বয়সী লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর মামলায় নতুন মোড় এসেছে। এফবিআই আদালতে দাখিল করা এক অনুসন্ধানী পরোয়ানায় দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তি যে ভ্যানটি চালাচ্ছিলেন, সেখানে অবৈধ মাদক থাকার সম্ভাব্য কারণ পাওয়া গেছে। ফেডারেল আদালতে দাখিল করা ওই ওয়ারেন্ট আবেদনে বলা হয়, নিয়ন্ত্রিত মাদক বিতরণ, উৎপাদন, বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ অথবা অবৈধভাবে মাদক রাখার অভিযোগ তদন্তের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া সন্দেহভাজন মাদক কার ছিল, সে বিষয়ে নথিতে কোনো নির্দিষ্ট দাবি করা হয়নি। ওয়ারেন্টে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থলে পৌঁছে এফবিআইয়ের বিশেষ এজেন্ট ডেভিড ম্যাকনিলি ভ্যানের বাইরে থেকে ড্যাশবোর্ডে ছোট প্লাস্টিকের প্যাকেটে সাদা স্ফটিকসদৃশ পদার্থ দেখতে পান। তার ভাষ্য, প্যাকেটগুলোর ধরন ও উপস্থাপনা মেথঅ্যামফেটামিনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। তবে সেগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর থেকেই আইসিইর দাবি ছিল, আত্মরক্ষার্থে তাদের এক এজেন্ট গুলি চালিয়েছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে থাকা কর্মকর্তাদের কারও শরীরে বডি-ক্যামেরা না থাকায় সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, গুলির ঘটনার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভ্যানটিতে কোনো তল্লাশি চালায়নি। পরে এফবিআই আদালতের অনুমতি নিয়ে গাড়িটি তল্লাশি করে। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি, যাতে বোঝা যায় গুলি চালানোর সময় আইসিই কর্মকর্তারা গাড়ির ভেতরে সম্ভাব্য মাদক থাকার বিষয়ে আগে থেকেই জানতেন। ময়নাতদন্তে বলা হয়েছে, সালগাদো আরাউহোর মৃত্যু হয়েছে শরীরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে। তবে ঘটনার সময় তার শরীরে কোনো মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি ছিল কি না, সে সম্পর্কিত টক্সিকোলজি রিপোর্ট এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে লাতিনো সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সংগঠন লুলাক অ্যাডেলান্তে প্যাকের সভাপতি ডোমিঙ্গো গার্সিয়া অভিযোগ করেছেন, নতুন এই ওয়ারেন্ট প্রকাশের মাধ্যমে তদন্তের মূল বিষয় থেকে জনমত অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তার ভাষায়, পুরো বিষয়টি একটি 'কলঙ্ক ছড়ানোর প্রচারণা' ও 'ধামাচাপার চেষ্টা' বলে মনে হচ্ছে। টেক্সাসের আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)ও বলেছে, পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সংস্থার দাবিগুলো সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা উচিত। ঘটনার সময় ভ্যানে সালগাদো আরাউহোর সঙ্গে থাকা আরও তিনজনকে এখনো আটক রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে নিহতের ভাই ভিক্টর সালগাদোও রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তিনজনই ইউ-ভিসা সনদ পেয়েছেন, যা তদন্তে সহযোগিতাকারী অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক বহিষ্কার থেকে সাময়িক সুরক্ষা দেয়। এদিকে হ্যারিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, তারা অনুসন্ধানী পরোয়ানা দাখিল বা কার্যকর করেনি। তবে এফবিআইয়ের অনুমতিতে তারা ভ্যানটি পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছে। গুলির ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান। কী পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী গুলি চালানো হয়েছিল এবং ভ্যানে পাওয়া সন্দেহভাজন মাদকের সঙ্গে নিহত ব্যক্তির কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
বিশ্বখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র নায়াগ্রা ফলসকে ঘিরে স্বল্পমেয়াদি আবাসন ভাড়ার বাজারে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন অনেক প্রবাসী বিনিয়োগকারী। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফালো শহরে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি পাওয়া যাওয়ায় অনেকের নজর এখন এয়ারবিএনবি-ভিত্তিক রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের দিকে। বাজার বিশ্লেষণ, স্থানীয় রিয়েল এস্টেট সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা এবং পর্যটন প্রবাহ সব মিলিয়ে বাফালোকে সম্ভাবনাময় একটি বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি কানাডার অন্টারিও প্রদেশের নায়াগ্রা ফলস এলাকায় আমেরিকা বাংলার প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী অ্যান্ডি ও সুজানের। তারা যৌথভাবে নায়াগ্রা অঞ্চলে বাড়ি কিনে এয়ারবিএনবির মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাদের অভিজ্ঞতায়, পর্যটনের ব্যস্ত মৌসুমে প্রায় পুরো সময়ই তাদের বাসাগুলো বুকড থাকে। এমনকি পর্যটক তুলনামূলক কম আসার সময় বাদ দিলে বছরের অধিকাংশ সময়ই নিয়মিত অতিথি পাওয়া যায়। তাদের মতে, নায়াগ্রা ফলস এমন একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সারা বছরই পর্যটক আসেন। ফলে পরিবার বা দল নিয়ে ভ্রমণকারীদের একটি বড় অংশ হোটেলের পরিবর্তে এয়ারবিএনবিতে থাকতে আগ্রহী হন। অ্যান্ডি ও সুজান জানান, কানাডার নায়াগ্রা অঞ্চলে বাড়ির দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাফালো একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হতে পারে। তাদের মতে, বাফালোতে তুলনামূলক কম মূল্যে বাড়ি কিনে অথবা আইনগতভাবে দীর্ঘমেয়াদি লিজ নিয়ে সেটি এয়ারবিএনবির মাধ্যমে পরিচালনা করার সুযোগ রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার বাজার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান এয়ারডিএনএ এর তথ্য অনুযায়ী, বাফালোতে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার সক্রিয় স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার তালিকা রয়েছে। এসব সম্পত্তির গড় দখল হার ৫০ শতাংশের বেশি এবং পর্যটন মৌসুমে চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে প্রকৃত আয় নির্ভর করে সম্পত্তির অবস্থান, সুযোগ-সুবিধা, ব্যবস্থাপনা এবং মৌসুমি চাহিদার ওপর। কানাডার নায়াগ্রা অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিয়েল এস্টেট এজেন্ট রামদীপ সিং জানান, নায়াগ্রা ফলস ভ্রমণে আসা অনেক পর্যটক বাফালো নায়াগ্রা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। তাদের অনেকেই এক বা একাধিক রাতের জন্য হোটেলের পরিবর্তে এয়ারবিএনবির বাসা বেছে নেন। ফলে বাফালো ও আশপাশের এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আবাসনের চাহিদা বছরজুড়েই থাকে। রামদীপ সিংয়ের মতে, শুধু বাড়ির দাম কম দেখেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। সম্ভাব্য ভাড়া, দখল হার, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ, সম্পত্তি কর, বীমা এবং মর্টগেজের কিস্তিসহ সব ধরনের ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা জরুরি। তার ভাষায়, সঠিক লোকেশন নির্বাচন এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাফালোতে এয়ারবিএনবি ব্যবসায় ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট শহরের শর্ট-টার্ম রেন্টাল নীতিমালা, জোনিং আইন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় বিধিনিষেধ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া উচিত। কারণ বিভিন্ন শহরে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। বাফালো শহর থেকে নায়াগ্রা ফলসে গাড়িতে পৌঁছাতে সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে। এই ভৌগোলিক সুবিধার কারণে অনেক পর্যটক কম খরচে থাকার জন্য বাফালোকে বেছে নেন। একই সঙ্গে শহরটির বিমানবন্দর, মহাসড়ক যোগাযোগ এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন বাজার বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে এয়ারবিএনবি ব্যবসাকে বিবেচনা করছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তবসম্মত আর্থিক পরিকল্পনা, স্থানীয় আইন মেনে পরিচালনা এবং বাজার সম্পর্কে পর্যাপ্ত গবেষণার মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে বাফালো অঞ্চলে এয়ারবিএনবি খাত ভবিষ্যতে আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে অতিরিক্ত মদ্যপান করে ভুল পথে গাড়ি চালিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক তদন্ত প্রতিবেদনে। গত মে মাসে রুট ১-এ সংঘটিত এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হন ম্যাসাচুসেটস স্টেট পুলিশের ট্রুপার কেভিন ট্রেইনর (৩০) এবং ঘাতক জিপ চালক হার্নান মারেরো (৫০)। জানা গেছে, দুর্ঘটনার ঠিক আগে সাগাস শহরের একটি রেস্তোরাঁ থেকে টানা নয়টি অ্যালকোহলিক ড্রিংক পান করেছিলেন অভিযুক্ত চালক। এসেক্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি পল টাকার বুধবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানান, চালক মারেরো সেদিন রাতে মোট দশটি ড্রিংক পান করেন। ওয়ালথামের একটি রেস্তোরাঁ থেকে প্রথম ড্রিংক পানের পর তিনি সাগাসের 'ট্রিবু মেক্সিকান কিচেন অ্যান্ড বার'-এ যান এবং মধ্যরাত পর্যন্ত আরও নয়টি ড্রিংক পান করেন। ময়নাতদন্তের টক্সিকোলজি রিপোর্টে দেখা যায়, মারেরোর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল ০.১৯২, যা ম্যাসাচুসেটসের বৈধ সীমার দ্বিগুণেরও বেশি। অতিরিক্ত সময় ও বিনামূল্যে মদ পরিবেশনের অভিযোগে ওই রেস্তোরাঁটির বিরুদ্ধে সিভিল রেগুলেশন ভঙ্গের নোটিশ দেওয়া হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। আগামী ২৮ জুলাই এ বিষয়ে একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাত প্রায় ২টার দিকে মারেরো ভুল পথে (রং ওয়ে) গাড়ি চালানো শুরু করেন। রাস্তায় ‘রং ওয়ে’ বা ‘প্রবেশ নিষেধ’ লেখা স্পষ্ট সাইনবোর্ড থাকা সত্ত্বেও তিনি সেগুলো তোয়াক্কা না করে তীব্র গতিতে এগিয়ে যান। অন্যদিকে, ট্রুপার কেভিন ট্রেইনর তার ডিউটি শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে রেডিওতে ভুল পথে আসা গাড়ির খবর পান এবং নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেটি থামানোর চেষ্টা করেন। প্রায় ৬০ মাইল বেগে আসা জিপটির সঙ্গে তার পুলিশের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির মতে, নিজের জীবনের বিনিময়ে ট্রেইনরের এই সাহসী পদক্ষেপ হয়তো আরও বড় কোনো প্রাণহানির হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করেছে।