যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) পরিচালিত একটি বন্দিশিবিরের সামনে বিক্ষোভকারী এক নারীকে গুলি করার অভিযোগে ওই শিবিরের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, জিও গ্রুপের পরিচালিত অরোরা আইসিই প্রসেসিং সেন্টারের কর্মী ৪২ বছর বয়সী ব্র্যান্ডন বুথ গত বৃহস্পতিবার রাতে বন্দিশিবিরের কাছাকাছি একটি রাস্তায় নিজের গাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। বিক্ষোভকারীরা বন্দিশিবিরের প্রবেশপথ আটকে রাখায় তিনি এবং অন্যান্য কর্মীরা ভেতরে ঢুকতে পারছিলেন না।
পুলিশ জানিয়েছে, অপেক্ষারত অবস্থায় দুজন নারী বিক্ষোভকারী কর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান এবং তাদের গাড়ির ছবি তুলে সেখান থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করেন। ঠিক তখনই ব্র্যান্ডন বুথ তার ব্যক্তিগত পিস্তল দিয়ে ওই দুই নারীকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে এক নারীর শরীরের নিম্নাংশে গুলি লাগে। ঘটনার পরপরই বুথ গাড়ি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও মাত্র দুই ব্লক দূর থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং হামলায় ব্যবহৃত পিস্তলটি জব্দ করে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ ওই নারীকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় বুথের বিরুদ্ধে হামলা ও দ্বিতীয় মাত্রার হত্যাচেষ্টার (অ্যাটেম্পটেড সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডার) গুরুতর অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
অরোরা পুলিশের প্রধান টড চেম্বারলেইন এই ঘটনাকে একটি মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি আখ্যা দিয়ে বলেছেন, অন্যান্য গোলাগুলির মতো এই ঘটনাটিও সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অরোরাতে কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না; একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজে সাংবিধানিক অধিকারের চরম গুরুত্ব থাকলেও সেখানে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। উল্লেখ্য, কলোরাডোর একমাত্র এই আইসিই বন্দিশিবিরটি জিও গ্রুপ নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে, যেখানে ১,৫০০ শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাদের একজন অফ-ডিউটি কর্মী একটি গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত বলে তারা অবগত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাসে এক চীনা নারীকে ঘিরে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের মাধ্যমে একাধিক পুরুষকে বিয়ে করে তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নিয়েছেন তিনি। এরপর অনেক ক্ষেত্রেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তিনি অন্তত ১৫টি বিয়ের আবেদন জমা দিয়েছিলেন, যার মধ্যে আটটি বিয়ের সনদ ইস্যু হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে তিনি প্রায় ১৪ জন পুরুষকে বিয়ের ফাঁদে ফেলেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেভিভিইউ (KVVU) ও আদালতের নথির বরাতে জানা গেছে, অভিযুক্ত জিয়াইং চেনকে (Jiaying Chen) গত ৪ জুন লাস ভেগাসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি রেস্তোরাঁ থেকে আটক করা হয়। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছিলেন, তিনি সেখানে এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্ভাব্য বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালায় লাস ভেগাস মেট্রোপলিটন পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় তদন্তকারীরা তার কাছ থেকে 'ভিকি লিয়াং' (Vicky Liang) নামে একটি সন্দেহভাজন জাল মার্কিন পাসপোর্ট এবং নেভাডা অঙ্গরাজ্যের একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স উদ্ধার করেন। পরে নেভাডা মোটরযান বিভাগের তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, ওই লাইসেন্স নম্বর বা নাম-জন্মতারিখের সঙ্গে সরকারি কোনো রেকর্ডের মিল নেই। তদন্তে ক্লার্ক কাউন্টির বিয়ে নিবন্ধন সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, 'ভিকি লিয়াং' নামেও একাধিক বিয়ের আবেদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি বিয়ের সনদ ইস্যু করা হয়েছে। সবচেয়ে সাম্প্রতিক একটি বিয়ের আবেদন করা হয় ২৩ এপ্রিল ২০২৫ সালে এবং বিয়ের সনদ নিবন্ধিত হয় একই বছরের ৫ মে। ওই বিয়ের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তি তদন্তকারীদের জানান, তিনি চেনকে অর্থ দিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, একই সময়ে তিনি আরও একাধিক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন। এরপর তিনি আদালতে বিয়ে বাতিলের আবেদন করেন। আরেক ব্যক্তি, যিনি ২৩ এপ্রিল ২০২৬ সালের একটি বিয়ের সনদে চেনের স্বামী হিসেবে তালিকাভুক্ত, তদন্তকারীদের জানান যে বিয়ের আগে ছয় মাস তাদের পরিচয় ছিল। তিনি দাবি করেন, চেনের সৎবোনের চিকিৎসার কথা শুনে তিনি তাকে ২০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন। তবে তারা এখনও আইনগতভাবে স্বামী-স্ত্রী। এছাড়া ২১ মে জমা দেওয়া আরেকটি বিয়ের আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, তিনি চেনকে ৩০ হাজার ডলার দিয়েছেন এবং এখনও তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল রয়েছে। তদন্তকারীরা এপ্রিল ও মে মাসে করা আরও কয়েকটি বিয়ের আবেদনও পর্যালোচনা করেছেন। তবে সেসব বিয়ে বাতিল বা বিচ্ছেদের কোনো নথি এখনও পাওয়া যায়নি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের সময় চেনের সঙ্গে ছয়জন পুরুষের বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল ছিল। এর বেশিরভাগ বিয়েই গত তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কাউন্টির নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত চেন ক্লার্ক কাউন্টি ম্যারেজ লাইসেন্স ব্যুরোতে ১৫টি বিয়ের আবেদন জমা দেন। এর মধ্যে আটটি বিয়ের সনদ ইস্যু হয়। তদন্তকারীদের কাছে তিনি স্বীকার করেন, সব আবেদনই বিয়েতে গড়ায়নি, কারণ তার ভাষায়, "সবাই টাকা দেয় না।" এছাড়া তিনি পুলিশকে জানান, একটি বিয়ে থেকে তিনি সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারতেন এবং লাস ভেগাসে বিয়ে করতেন কারণ সেখানে বিয়ের প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ। তদন্তকারীদের দাবি, চেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরুষদের সঙ্গে পরিচিত হতেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই বিয়ের প্রস্তাব দিতেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ চাইতেন। কিছু মামলায় অভিযোগ রয়েছে, তিনি অসুস্থ আত্মীয়ের চিকিৎসার কথা বলে অর্থ নিতেন। তবে কেন এসব ব্যক্তি এত দ্রুত বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন, সে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে লাস ভেগাস রিভিউ-জার্নাল-এর তথ্য অনুযায়ী, পৃথক তদন্তে অভিযোগ উঠেছে যে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের একটি অংশ জুয়ায় ব্যয় করা হয়েছে। আদালতে তিনি ইতোমধ্যে একটি সমঝোতার অংশ হিসেবে বহুবিবাহ এবং প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকারে সম্মত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তার সাজা ঘোষণা করা হবে আগামী ২০ আগস্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে দেশাত্মবোধক পোশাক পরা এক কিশোরীকে চড় মারার অভিযোগে অভিযুক্ত কানাডীয় নাগরিক কেইটলিন ট্রেসিকে নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর (ডিএইচএস)। গত ৪ জুলাইয়ের ছুটির সপ্তাহে পয়েন্ট প্লিজ্যান্ট বিচে ঘটা ওই ঘটনার পর ৩৩ বছর বয়সী ট্রেসিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাকে নিউ জার্সির নিওয়ার্ক-এ অবস্থিত ডেলানি হল অভিবাসন আটক কেন্দ্রে বন্দি রাখা হয়েছে। ডিএইচএস এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে তাকে 'ম্যাপল লিফ মেনেস' হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছে, ভিসার মেয়াদ পার হওয়ার পরও অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা এবং এক মার্কিন কিশোরীর ওপর হামলা চালানো এই নারীর সে দেশে থাকার কোনো অধিকার নেই। তাকে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্ট) প্রস্তুতি চলছে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেসি ২০২৪ সালে পাসপোর্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও তার ভিসার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে যায়। গত ৩ জুলাইয়ের হামলার ঘটনার পর সোমবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে শিশুর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, সাধারণ হয়রানি ও কাজে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ গঠন করা হয়। শুরুতে তাকে ওশান কাউন্টি জেলে রাখা হলেও পরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। ডিএইচএস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার একটি ভিডিও শেয়ার করেছে, যেখানে দেখা যায় ট্রেসি 'ইউএসএ ২৫০' লেখা ট্যাংক টপ পরা এক কিশোরীর দিকে এগিয়ে গিয়ে দ্রুত দুটি চড় মারছেন। এদিকে নিউ জার্সির অ্যাজবুরি পার্কে বসবাসরত ট্রেসির মার্কিন স্বামী ম্যাথিউ গেরোনি তার স্ত্রীর মুক্তির জন্য জোর দাবি জানিয়ে আসছেন। উল্লেখ্য, গেরোনির নিজের টিকটক অ্যাকাউন্টটিও বেশ বিতর্কিত, যেখানে তিনি এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রাণনাশের কামনা করে এবং তার পরিবারের সদস্যদের ক্যানসার হওয়ার প্রার্থনা করে ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। স্ত্রীর আইনি লড়াইয়ের খরচ জোগাতে একটি তহবিল গঠনের চেষ্টাও করেন তিনি। 'গোফান্ডমি' (GoFundMe) প্ল্যাটফর্মে ৯ হাজার ডলারের লক্ষ্যের বিপরীতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ডলার সংগ্রহ হওয়ার পর 'সহিংস অপরাধ' নীতির লঙ্ঘনের দায়ে সেই ক্যাম্পেইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে 'গিভসেন্ডগো' (GiveSendGo) প্ল্যাটফর্মে নতুন করে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয় এবং শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৩ হাজার ৫৬৯ ডলার জমা হয়েছে। প্ল্যাটফর্মটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন এই তহবিল সংগ্রহ তাদের নিজস্ব নীতিমালা ভঙ্গ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বিষধর র্যাটলস্নেকের কামড়ে আক্রান্ত এক ব্যক্তি অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেও, হাসপাতাল থেকে পাওয়া আকাশচুম্বী এক মেডিকেল বিল দেখে রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন। ক্রিস হাওয়ার্থ নামের ওই ব্যক্তিকে সাপের বিষ থেকে বাঁচাতে চিকিৎসকদের মোট ৫৪ ডোজ অ্যান্টি-ভেনম দিতে হয়েছিল, যার ফলে তার মোট চিকিৎসার খরচ দাঁড়িয়েছে ১.৩ মিলিয়ন ডলার বা ১৩ লাখ মার্কিন ডলার (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ কোটি টাকারও বেশি)। সাপের বিষের জটিল প্রতিক্রিয়ার কারণে একটি হাসপাতালের সম্পূর্ণ অ্যান্টি-ভেনম শেষ হয়ে যাওয়ার পর তাকে হেলিকপ্টারে করে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়। ঘটনাটির সূত্রপাত হয় যখন ক্রিস আইডাহো থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার ওরোভিলে তার পরিবারের সাথে দেখা করতে যান। একটি বৃষ্টির দিনে মায়ের বাগানে হাঁটার সময় তিনি অসাবধানতাবশত একটি বিষধর র্যাটলস্নেকের ওপর পা দিয়ে ফেলেন। প্রথমে সাপের কামড়কে গাছের কাঁটার আঘাত ভেবে ভুল করলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, জিহ্বা অবশ হয়ে যায় এবং লিম্ফ নোড ফুলে ওঠে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তার স্ত্রী জেনি হাওয়ার্থ তাকে দ্রুত ওরোবিলের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ৩৬টি অ্যান্টি-ভেনমের ভায়াল দেওয়ার পর হাসপাতালের সম্পূর্ণ স্টক শেষ হয়ে যায়। এরপর জরুরি ভিত্তিতে তাকে হেলিকপ্টারে করে স্ট্যানফোর্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তার জীবন বাঁচাতে আরও ১৮টি ভায়াল অ্যান্টি-ভেনম দিতে হয়। ক্রিসের স্ত্রী জেনি একটি ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্মে জানান, প্রতিটি অ্যান্টি-ভেনম ভায়ালের দাম ছিল ১৩ হাজার ডলার এবং স্ট্যানফোর্ড হাসপাতালে প্রতি রাতের খরচ ছিল ৬১ হাজার ডলার। এই বিপুল পরিমাণ অ্যান্টি-ভেনম, রক্ত সঞ্চালন, সিটি স্ক্যান এবং অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার কারণেই বিলটি এত বিশাল অঙ্কে পৌঁছায়। জেনি জানান যে তাদের ইন্স্যুরেন্স বা স্বাস্থ্যবিমা এই বিলের একটি অংশ বহন করবে এবং এই ১৩ লাখ ডলারের হিসাবটি বিমার টাকা বাদ দেওয়ার আগের। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্রিসের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে উঠেছিল এবং তার শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার জটিল রোগ 'ডিআইসি' (Disseminated Intravascular Coagulation) দেখা দিয়েছিল, যা পুরো পরিবারের জন্য ছিল অত্যন্ত ভীতিকর। গত ২৬ মে থেকে ক্রিস কর্মক্ষেত্রে যেতে পারছেন না এবং তার জমানো সব ছুটিও শেষ হয়ে গেছে। গত সাত সপ্তাহ ধরে পরিবারটিতে কোনো বেতন না আসায় এবং সামনে এত বড় মেডিকেল বিল থাকায় তারা চরম মানসিক ও আর্থিক দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। বর্তমানে ক্রিস প্রায় ৮০ শতাংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এখনো পা ফোলা এবং তীব্র ক্লান্তির মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগছেন। এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের পরিবারকে সাহায্য করতে স্থানীয় মানুষ এগিয়ে এসেছেন এবং একটি তহবিল গঠনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১০ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ সংগৃহীত হয়েছে।