আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের গোপন ভ্রমণ তথ্য সংবাদমাধ্যমে, তদন্তে সিক্রেট সার্ভিস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:১৫
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের গোপন ভ্রমণ তথ্য সংবাদমাধ্যমে
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের গোপন ভ্রমণ তথ্য সংবাদমাধ্যমে

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভ্রমণ ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার অভিযোগে তার নিরাপত্তা দলের এক সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ইউএস সিক্রেট সার্ভিস। অভিযুক্ত এজেন্টকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ফৌজদারি তদন্তও চলছে।

 

বৃহস্পতিবার সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্থনি গুগলিয়েলমি এক বিবৃতিতে জানান, ভাইস প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা দলের এক সদস্যের বিরুদ্ধে অপারেশনাল ও তথ্যগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি সম্ভাব্য ফৌজদারি তদন্তও চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে অভিযোগের বিস্তারিত বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। 

 

এজেন্সির ভাষ্য অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের আচরণ যা নিরাপত্তা প্রাপ্ত ব্যক্তি এবং তার নিরাপত্তা দলের মধ্যে আস্থা নষ্ট করে বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে, তা তাদের নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। 

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএস নাউয়ের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের পর এই তদন্ত শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে বেনামী সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়, ভ্যান্সের নিরাপত্তা দলের কিছু সদস্য তার শেষ মুহূর্তের ভ্রমণসূচি পরিবর্তন এবং পারিবারিক সফর নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। প্রতিবেদনে তার নির্ধারিত কিছু ভ্রমণ পরিকল্পনার বিবরণও প্রকাশ করা হয়, যা সিক্রেট সার্ভিসের নজরে আসে। 

 

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তাধীন এজেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো তিনি এমন একটি সংবাদ প্রতিবেদনের জন্য তথ্য সরবরাহ করেছিলেন, যেখানে ভাইস প্রেসিডেন্টের ভ্রমণ পরিকল্পনার সংবেদনশীল বিবরণ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে ভ্যান্সের এক সফরের পরিকল্পনাসহ কয়েকটি অপারেশনাল তথ্যও উঠে আসে, যা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 

 

এ ঘটনায় ভ্যান্সের কার্যালয় কোনো পৃথক মন্তব্য করেনি। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি সিক্রেট সার্ভিসই দেখছে এবং এ বিষয়ে সংস্থাটিই বক্তব্য দেবে। 

 

যুক্তরাষ্ট্রে ভাইস প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভ্রমণসূচি, চলাচলের পরিকল্পনা এবং অপারেশনাল তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব তথ্য অননুমোদিতভাবে প্রকাশ পেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সে কারণেই অভিযোগটি শুধু প্রশাসনিক পর্যায়ে নয়, সম্ভাব্য ফৌজদারি তদন্তের আওতায়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ইরান যুদ্ধে নিহত ১৮ মার্কিন সেনা
কেউ ছিলেন সদ্য হাইস্কুল পাস, কেউ দুই সন্তানের বাবা; ইরান যুদ্ধে নিহত ১৮ মার্কিন সেনার গল্প

যুদ্ধের হিসাব সাধারণত লেখা হয় নিহতের সংখ্যা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কিংবা সামরিক সাফল্যের ভাষায়। কিন্তু প্রতিটি সংখ্যার পেছনে থাকে একটি পরিবার, কিছু অপূর্ণ স্বপ্ন এবং এমন মানুষ, যাদের জন্য বাড়িতে অপেক্ষা করছিল প্রিয়জন। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সদ্য হাইস্কুল পাস করা এক তরুণী, দুই সন্তানের বাবা, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা একজন কর্মকর্তা এবং সহকর্মীদের কাছে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠা আরও অনেক সৈনিক।    সর্বশেষ নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন টেক্সাসের ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। মাত্র কিছুদিন আগেই তিনি হাইস্কুলের পড়াশোনা শেষ করে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরিবার ও বন্ধুদের ভাষায়, তাঁর সামনে ছিল সম্ভাবনাময় একটি জীবন। কিন্তু জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় সেই স্বপ্ন থেমে যায়। মৃত্যুর পর তাঁকে মরণোত্তর পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।    ৩০ বছর বয়সী সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইন্টন ছিলেন দুই সন্তানের বাবা। উত্তর ক্যারোলাইনার এই সেনাসদস্য ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিষ্ক্রিয় করার সময় প্রাণ হারান। সহকর্মীরা তাঁকে একজন সাহসী সৈনিক হিসেবে স্মরণ করছেন, আর পরিবারের কাছে তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ স্বামী ও বাবা।    ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহ্যান ছিলেন হাওয়াইয়ের বাসিন্দা। সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং এমবিএ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছিলেন। জর্ডানে একই হামলায় তাঁর জীবনও শেষ হয়ে যায়।    ২৮ বছর বয়সী সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল র‍্যাম্পারসাদ নিউইয়র্কের ওজোন পার্ক এলাকার বাসিন্দা। প্রতিবেশীরা তাঁকে শান্ত, বিনয়ী ও অন্যের পাশে দাঁড়ানো একজন মানুষ হিসেবে মনে রেখেছেন। তিনিও জর্ডানে ইরানি হামলায় নিহত হন।    এই চারজনের গল্প সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এলেও, তাঁদের মতো আরও ১৪ জন মার্কিন সেনাসদস্য গত কয়েক মাসে বিভিন্ন অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন। কেউ কুয়েতে ড্রোন হামলায়, কেউ ইরাকে বিমান দুর্ঘটনায়, কেউ সৌদি আরব ও জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এবং কেউ সামরিক অভিযান চলাকালে নিহত হন। প্রত্যেকের মৃত্যু একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় শোক বয়ে এনেছে।    মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং ৪৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের সম্মানে ডেলাওয়ারের ডোভার এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মরদেহ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।    যুদ্ধের কৌশল, অস্ত্র কিংবা ভূরাজনীতির আলোচনা যতই হোক, শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মূল্য চোকায় মানুষ। ইরান যুদ্ধে নিহত এই ১৮ মার্কিন সেনার গল্প আবারও মনে করিয়ে দেয়, প্রতিটি সামরিক সংঘাতের পেছনে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য অসমাপ্ত স্বপ্ন, ভেঙে পড়া পরিবার এবং এমন শূন্যতা, যা কোনো পদক বা সামরিক সাফল্য দিয়ে পূরণ করা যায় না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৬:২
ভাড়া বাড়ার সঙ্গে সিকিউরিটি ডিপোজিট বাড়ানোর অধিকার আছে বাড়িওয়ালার - নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ

ভাড়া বাড়ার সঙ্গে সিকিউরিটি ডিপোজিট বাড়ানোর অধিকার আছে বাড়িওয়ালার - নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্পের ফোনে বদলে যায় ফিফার সিদ্ধান্ত, ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে ফিফাকে কাঠগড়ায় তুলছে নরওয়ে

রুশ সাইবার হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডজন মিত্র দেশ সতর্কতায়

এক ক্লিকও নয়, শুধু ই-মেইল খুললেই হ্যাক! রুশ সাইবার হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডজন মিত্র দেশ সতর্কতায়

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংক থেকে হোম লোন পাচ্ছেন না? জেনে নিন বিকল্প মর্টগেজের সুযোগ I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংক থেকে হোম লোন পাচ্ছেন না? জেনে নিন বিকল্প মর্টগেজের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ প্রচলিত ব্যাংক বা মর্টগেজ লেন্ডারের মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পর্যাপ্ত ক্রেডিট স্কোর না থাকা, স্বনিয়োজিত হওয়া, ডব্লিউ-২ আয়ের নথি না থাকা বা ট্যাক্স রিটার্নে আয় তুলনামূলক কম দেখানোর কারণে অনেক আবেদনকারী ব্যাংকের প্রচলিত হোম লোনের জন্য অনুমোদন পান না। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে সামনে আসে নন -কোয়ালিফাইড মর্টগেজ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট লোন বা প্রাইভেটে/পোর্টফলিও মর্টগেজ এর মতো বিশেষ ধরনের মর্টগেজ।   মর্টগেজ নিয়ে কাজ করেন তাদের মতে, এসব ঋণ মূলত তাদের জন্য, যাদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা রয়েছে কিন্তু প্রচলিত ব্যাংকের নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করা কঠিন। বিশেষ করে স্বনিয়োজিত ব্যবসায়ী, ১০৯৯ ভিত্তিক কর্মী, ফ্রিল্যান্সার, গিগ ইকোনমিতে কাজ করা ব্যক্তি, রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী এবং নতুন ব্যবসা শুরু করা অনেকেই এ ধরনের ঋণের সুবিধা নিয়ে থাকেন।   প্রচলিত ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে সাধারণত ডব্লিউ-২, ট্যাক্স রিটার্ন এবং নির্দিষ্ট আয়ের নথির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে অনেক নন -কোয়ালিফাইড মর্টগেজ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট লোন বা প্রাইভেটে/পোর্টফলিও কর্মসূচিতে আবেদনকারীর গত ১২ থেকে ২৪ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্যবসার নগদ প্রবাহ, সম্পদ এবং নিয়মিত আয়ের উৎস মূল্যায়ন করা হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে ক্রেডিট স্কোরের কোনো গুরুত্ব নেই। ঋণদাতারা এখনো ক্রেডিট ইতিহাস বিবেচনা করেন, তবে অনেক ক্ষেত্রে তারা আবেদনকারীর সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেন।   যুক্তরাষ্ট্রের মর্টগেজ শিল্পবিষয়ক প্রকাশনা হাউজিংওয়্যারের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নন -কোয়ালিফাইড মর্টগেজ কোনো “সাবপ্রাইম” মর্টগেজ নয় বরং এটি এমন একটি ঋণব্যবস্থা, যেখানে প্রচলিত আয়ের নথির পরিবর্তে বিকল্প উপায়ে আবেদনকারীর পরিশোধ সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়।   বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটিমাল ব্লুর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে  নন -কোয়ালিফাইড মর্টগেজের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে নতুন মর্টগেজের উল্লেখযোগ্য অংশই ছিল এই ক্যাটাগরির ঋণ, যা দেখায় প্রচলিত ব্যাংক ঋণের বাইরে বিকল্প অর্থায়নের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।   তবে মর্টগেজ লোন স্পেশালিস্টরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের ঋণের সুদের হার সব সময় এক রকম হয় না। অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রচলিত ব্যাংক মর্টগেজের তুলনায় বেশি হতে পারে, আবার শক্তিশালী আর্থিক অবস্থান, বড় ডাউন পেমেন্ট বা ভালো আয়ের প্রমাণ থাকলে প্রতিযোগিতামূলক সুদেও ঋণ পাওয়া সম্ভব। তাই একাধিক ঋণদাতার অফার তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।   এ ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্যবসার আয়ের তথ্য, সম্পদের প্রমাণ, ডাউন পেমেন্টের উৎস এবং অন্যান্য আর্থিক নথি চাওয়া হতে পারে। ঋণদাতা ও ঋণের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিন্ন হতে পারে।   মর্টগেজ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধু ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ার কারণে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে বিকল্প মর্টগেজ নেওয়ার আগে সুদের হার, ঋণের মেয়াদ, ক্লোজিং কস্ট, সম্ভাব্য অতিরিক্ত ফি এবং প্রিপেমেন্ট পেনাল্টির মতো শর্তগুলো ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মর্টগেজ লোন অরিজিনেটর বা আর্থিক পরামর্শকের সঙ্গে আলোচনা করে নিজের আর্থিক অবস্থার সঙ্গে সবচেয়ে উপযোগী ঋণ নির্বাচন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:৪০
পুলিশ কর্মকর্তা ফ্রেড মার্শ  এবং  প্রেমিকা হেইলি

প্রেমিকাকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ, বিয়ের প্রস্তাবের কয়েক ঘণ্টা পরই প্রাণ হারালেন পুলিশ কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের তরুণী উদ্যোক্তা ডেমি মার্চেসি

দিনে চাকরি, রাতে প্যাকেট বানাতেন আজ তার ব্যবসার বার্ষিক বিক্রি ৩৫ মিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের গোপন ভ্রমণ তথ্য সংবাদমাধ্যমে

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের গোপন ভ্রমণ তথ্য সংবাদমাধ্যমে, তদন্তে সিক্রেট সার্ভিস

নিউ ইয়র্কের কুইন্সে অবস্থিত ল্যাগার্ডিয়া বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করছে একটি বিমান। ছবি: রয়টার্স
নিউ ইয়র্কের বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রকেট লঞ্চার হামলার মিথ্যা সতর্কতায় আতঙ্কিত ডেল্টা পাইলট

নিউ ইয়র্কের ল্যাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে মঙ্গলবার রাতে অবতরণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ডেল্টা এয়ারলাইন্সের এক পাইলট সম্ভাব্য রকেট লঞ্চার হামলার একটি ভয়ঙ্কর মধ্য-আকাশের সতর্কতার মুখোমুখি হন। ডেট্রয়েট থেকে ল্যাগার্ডিয়াগামী ডেল্টা ফ্লাইট ২৬০৪-কে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে রাত ৮টা ২৭ মিনিটে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা একটি ম্যানপ্যাড সতর্কতা জারি করেন। সিবিএস নিউজের প্রাপ্ত অডিও রেকর্ডিং অনুযায়ী, এক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার বলেন, "ল্যাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে ম্যানপ্যাড সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চরম সতর্কতা অবলম্বন করুন।"   পোর্ট অথরিটি পুলিশ পরবর্তীতে যেটিকে একটি প্রতারণা বলে অভিহিত করে, সেই বেনামী টিপটি ল্যাগার্ডিয়ার কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে পাওয়া মাত্রই অবতরণের প্রস্তুতি নেওয়া পাইলটকে আতঙ্কিত ও বিভ্রান্ত করে তোলে। পাইলট যখন কন্ট্রোলারকে ম্যানপ্যাড কী তা ব্যাখ্যা করতে বলেন, তখন টাওয়ার থেকে জানানো হয় এটি মানব-বহনযোগ্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। কন্ট্রোলার আরও যোগ করেন, মূলত এটি একটি রকেট লঞ্চার হামলার রিপোর্ট ছিল।   তবে সতর্কতা জারি করার এক মিনিটের মধ্যেই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা হুমকিটি খারিজ করে দেন। পাইলটকে উদ্দেশ্য করে কন্ট্রোলার বলেন, উত্তর দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, ডেল্টা ২৬০৪। পোর্ট অথরিটি পুলিশ রিপোর্ট করেছে যে এটি একটি বিশ্বাসযোগ্য নয় এমন হুমকি। ডেল্টা ফ্লাইটটি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নিরাপদে অবতরণ করে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১২:৩৫
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো দুই শিশু মায়া ও সিগমন্ডের সাথে তাদের বাবা-মা। ছবি: ফেসবুক

নিউ জার্সিতে নৌকা দুর্ঘটনায় একসঙ্গেই প্রাণ গেল দুই ভাই-বোনের, শোকের ছায়া পরিবারে

গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে গিয়ে আটক হওয়া এবং টানা ৬৬ দিন বন্দি থাকার পর নিজ দেশে ডিপোর্ট হওয়া লিথুয়ানিয়ান নারী অ্যারাইডা গুল্ড। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে গিয়ে গ্রেপ্তার, মার্কিন সেনার স্ত্রীকে ডিপোর্ট করল আইসিই

মাত্র ৮০০ ডলার দিয়ে ব্যবসা শুরু করে আজ বছরে ৩৫ মিলিয়ন ডলার আয় করছেন ডেমি মারচেসে। ছবি: সংগৃহীত

কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই ৮০০ ডলারে শুরু, আজ ৩৫ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা

0 Comments