সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

অ্যারিজোনা

অটোপাইলট মোডে চলা অবস্থায় মহাসড়কে হঠাৎ থেমে যাওয়ায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত
অটোপাইলট মোডে আচমকা মহাসড়কে থেমে গেল টেসলা, পেছন থেকে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত চালক

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের একটি ব্যস্ত মহাসড়কে অটোপাইলট মোডে চলা অবস্থায় হঠাৎ থেমে যায় একটি টেসলা গাড়ি। এরপর পেছন থেকে আসা একটি বিশাল আকৃতির ফোর্ড এফ ৩৫০ পিকআপ ট্রাকের সজোরে ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান টেসলার চালক। সম্প্রতি মার্কিন ট্রাফিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া নতুন নথিপত্র থেকে এই দুর্ঘটনার পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।   গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাত আনুমানিক তিনটার দিকে মেসা শহরের ইস্টবাউন্ড লুপ ২০২ মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার শিকার গাড়িটি ছিল ২০২০ সালের মডেল ৩ টেসলা। গাড়িটি যখন মহাসড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এটি হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে পুরোপুরি থেমে যায়।   সে সময় স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অ্যারিজোনাস ফ্যামিলি এবং টুয়েলভ নিউজ দুর্ঘটনার খবর প্রচার করলেও, সেখানে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কোনো উল্লেখ ছিল না। তবে সম্প্রতি ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বা এনএইচটিএসএ কাছে টেসলার জমা দেওয়া নথিপত্র থেকে চালকের মৃত্যুর জন্য দায়ী প্রযুক্তিগত ত্রুটির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।   প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইলেকট্রিক এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার নথিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে মারাত্মক ওই সংঘর্ষের সময় টেসলার স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং সিস্টেম চালু ছিল। এটি টেসলার সাধারণ অটোপাইলট কিংবা ব্যয়বহুল ফুল সেলফ ড্রাইভিং বা এফএসডি সফটওয়্যার হতে পারে। এছাড়া দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে গাড়িটির গতিবেগ ঘণ্টায় শূন্য মাইল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এর কয়েক সপ্তাহ আগেই ফ্লোরিডার একটি মহাসড়কে প্রায় একই ধরনের একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সেখানেও টেসলার ড্রাইভার অ্যাসিস্ট সফটওয়্যারে চলা একটি মডেল ৩ গাড়ি মহাসড়কের মাঝখানে হঠাৎ থেমে যায় এবং পেছন থেকে অন্য একটি যানের ধাক্কায় টেসলার চালক নিহত হন। টেসলার গাড়িগুলোতে দীর্ঘকাল ধরেই ফ্যান্টম ব্রেকিং নামের এক অদ্ভুত প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা যাচ্ছে। এই ত্রুটির ফলে সামনে কোনো বাধা ছাড়াই গাড়িগুলো হঠাৎ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক কষে। একটি গাড়ির ভিডিও, টেলিমেটিক্স এবং ইভেন্ট ডেটা রেকর্ডারসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য টেসলার কাছে সংরক্ষিত থাকে। ফলে গাড়িটি কেন হঠাৎ থেমে গিয়েছিল, তা কোম্পানিটির কাছে খুবই স্পষ্ট।   তবে ইলেকট্রিক জানিয়েছে, টেসলা এই দুর্ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি তথ্য গোপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, ব্যবহৃত সফটওয়্যারের সংস্করণ এবং গাড়িটি অনুমোদিত এলাকায় চলছিল কি না সেই তথ্য। এই তথ্যগুলোকে গোপন ব্যবসায়িক তথ্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছে টেসলা। জানা গেছে, কোম্পানিটি তাদের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ দুর্ঘটনার প্রতিবেদনেই এই কৌশল অবলম্বন করে থাকে।   ফ্যান্টম ব্রেকিং ত্রুটি নিয়ে ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছিল ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। অটোপাইলট বা অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল ব্যবহারের সময় মহাসড়কের দ্রুতগতিতে গাড়ি হঠাৎ থেমে যাওয়ার অসংখ্য অভিযোগ পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে চার বছর ধরে চলা সেই তদন্তটি চলতি বছরের গত জুলাই মাসে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। সংস্থাটি জানায়, এ ধরনের দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং তারা যান্ত্রিক ব্রেকের কোনো ত্রুটি বা অযৌক্তিক সংঘর্ষের ঝুঁকি খুঁজে পায়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
বেসবল খেলার মাঠে ১১ বছর বয়সী জিওভান্নি ক্রুজ। ছবি: সংগৃহীত
বেসবল খেলতে খেলতেই বুকে-পিঠে তীব্র ব্যথা, ১১ বছরের শিশুর বিরল রোগ শনাক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ১১ বছর বয়সী জিওভান্নি ক্রুজ বেসবল খেলার সময় হঠাৎ বুকে ও পিঠে তীব্র ব্যথায় আক্রান্ত হওয়ার পর অত্যন্ত বিরল ইডিওপ্যাথিক মাল্টিসেন্ট্রিক ক্যাসলম্যান রোগে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। জুন মাসে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তার রোগ শনাক্ত করেন।   জিওভান্নির মা প্যাট্রিসিয়া জানান, অসুস্থ হওয়ার আগে তার ছেলে নাচছিল, হাসছিল এবং বেসবল খেলছিল। হঠাৎ তার বুকে ব্যথা শুরু হয় এবং শরীর ঘামতে থাকে। পরে ব্যথা বাড়তে থাকলে প্যাট্রিসিয়া তাকে দ্রুত টাকসন মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে একাধিক পরীক্ষা করা হলেও প্রায় এক সপ্তাহ পর কোনো নির্দিষ্ট রোগ শনাক্ত না করেই তাকে বাড়ি পাঠানো হয়।   বাড়ি ফেরার পরও জিওভান্নির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তার মা জানান, এক মুহূর্তের মধ্যে সে প্রচণ্ড ব্যথায় চিৎকার করতে শুরু করত, ঘামত এবং পিঠের ব্যথার কথা বলত। পরে তাকে আবার টাকসন মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ব্যানার ডায়মন্ড চিলড্রেনস মেডিকেল সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ইডিওপ্যাথিক মাল্টিসেন্ট্রিক ক্যাসলম্যান রোগ শনাক্ত করেন।   ইডিওপ্যাথিক মাল্টিসেন্ট্রিক ক্যাসলম্যান একটি অত্যন্ত বিরল রোগ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি ১০ লাখ আমেরিকানের মধ্যে মাত্র প্রায় তিনজন এই রোগে আক্রান্ত হন। এই রোগে শরীরের বিভিন্ন অংশের লসিকা গ্রন্থি আক্রান্ত হয়ে বড় হয়ে যেতে পারে। রোগটি রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে অতিরিক্ত সক্রিয় করে দেওয়ায় শরীরজুড়ে ব্যাপক প্রদাহ তৈরি হতে পারে এবং বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   প্যাট্রিসিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, জিওভান্নির অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়েছিল। সে প্রচণ্ড ব্যথায় ভুগছিল, ঘামছিল এবং পরে প্রচুর বমি করতে শুরু করে। তার গালও লাল হয়ে উঠেছিল। পরবর্তী পরীক্ষায় দেখা যায়, তার শরীরের বিভিন্ন লসিকা গ্রন্থি আক্রান্ত হয়েছে। প্যাট্রিসিয়া জানান, ক্যাসলম্যান রোগের এমন একটি ধরন রয়েছে যেখানে একটি মাত্র লসিকা গ্রন্থি আক্রান্ত হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি অপসারণ করা যায়। তবে জিওভান্নির ক্ষেত্রে রোগটি শরীরের বিভিন্ন লসিকা গ্রন্থিতে ছড়িয়ে রয়েছে।   পরিবারের জন্য তৈরি তহবিল সংগ্রহের তথ্য অনুযায়ী, জিওভান্নির চিকিৎসায় একাধিক অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনবার নমুনা পরীক্ষা, তিনটি লসিকা গ্রন্থি অপসারণ করে বিস্তারিত পরীক্ষা, চৌম্বকীয় অনুরণন পরীক্ষা, কম্পিউটারভিত্তিক স্ক্যান, হৃদ্‌যন্ত্রের পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড, এক্স-রে এবং বহুবার রক্ত পরীক্ষা রয়েছে।   তহবিল সংগ্রহের তথ্যে আরও বলা হয়েছে, জিওভান্নির পেট, ফুসফুস ও হৃদ্‌যন্ত্রের চারপাশে তরল জমেছিল। এর কারণে তার শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল এবং অতিরিক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হচ্ছিল। একই সঙ্গে তার কিডনিতেও জটিলতা দেখা দিয়েছে এবং দীর্ঘস্থায়ী জ্বর রয়েছে। বর্তমানে তাকে আইএল-৬নির্ভর চিকিৎসা, উচ্চমাত্রার শিরাপথে স্টেরয়েড এবং ডায়ালাইসিস দেওয়া হচ্ছে।   চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রায় ছয় থেকে আট সপ্তাহ চলতে পারে বলে তহবিল সংগ্রহের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান চিকিৎসায় সাড়া না দিলে পরবর্তী সময়ে কেমোথেরাপি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে জিওভান্নি কতদিন হাসপাতালে থাকবে এবং চিকিৎসায় তার শারীরিক সাড়া কেমন হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   ইডিওপ্যাথিক মাল্টিসেন্ট্রিক ক্যাসলম্যান রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। এই রোগে লিভার, কিডনি ও অস্থিমজ্জাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ আক্রান্ত হতে পারে। জিওভান্নির মা তার হাসপাতালে থাকার পুরো সময় তার পাশে রয়েছেন এবং এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কাজেও যেতে পারেননি।   অসুস্থ হওয়ার আগে জিওভান্নি সাহুয়ারিটায় ষষ্ঠ শ্রেণি ও মধ্য বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করার অপেক্ষায় ছিল। সে বেসবলের প্রতি আগ্রহী এবং প্রথম ও তৃতীয় বেসে খেলার পাশাপাশি পিচার হিসেবেও খেলত। বর্তমানে বিরল এই রোগের চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ১১ বছর বয়সী শিশুটি।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

তাবাস্সুম আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন বহু দর্শনার্থী। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যা, ৬২ জনকে উদ্ধার, নিখোঁজ আরও ১৫

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৫ জন হাইকার ও ব্যাকপ্যাকার নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ এলাকায় হঠাৎ প্রবল বন্যা দেখা দিলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর মধ্যে ৬২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস (এনপিএস) জানিয়েছে, নিখোঁজদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তাদের মধ্যে কেউ ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক করিডোরে হাঁটছিলেন, কেউ ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন, আবার কেউ নর্থ কাইবাব ট্রেইল ধরে ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চের দিকে যাচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বন্যার ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের ওপর থাকা প্রায় সব পায়ে হাঁটার সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে। পানির প্রবল স্রোতে কাদা, পাথর, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ ভেসে গিয়ে কলোরাডো নদীতেও পড়ে। এতে নদীপথে চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।   এনপিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ এলাকায় আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। ৩০ আগস্ট সকাল পর্যন্ত ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ ও নর্থ কাইবাব ট্রেইলের নিচের অংশ থেকে ৬২ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আরও কয়েকজনকে কটনউড ক্যাম্পগ্রাউন্ড ও ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। উদ্ধার করা ব্যক্তিদের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দক্ষিণ প্রান্তের মাসউইক লজ ক্যাফেটেরিয়ায় নেওয়া হয়, যেখানে আমেরিকান রেড ক্রস তাদের সহায়তা করছে। প্রথম দিকে পার্ক কর্তৃপক্ষ ২০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ বা নিখোঁজের মতো অবস্থায় থাকতে পারেন বলে জানিয়েছিল। পরে যাচাইয়ের পর সেই সংখ্যা প্রায় ১৫ জনে নেমে আসে। তাদের মধ্যে কারা রয়েছেন বা তারা কোন এলাকার বাসিন্দা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস তাই নিখোঁজ ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য দিতে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে।   বিশেষ করে নর্থ কাইবাব ট্রেইলহেড থেকে ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ পর্যন্ত যাতায়াত করা হাইকার, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ডে অবস্থানকারী ব্যক্তি এবং ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চের উত্তরে ‘দ্য বক্স’ নামে পরিচিত এলাকায় থাকা বা চলাচল করা ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কারও পরিচিত ব্যক্তি ওই এলাকায় ছিলেন বলে জানা থাকলে তার নাম, আনুমানিক অবস্থান, ভ্রমণ পরিকল্পনা, দলের সদস্যসংখ্যা কিংবা পোশাক ও ব্যাগের বর্ণনা দিয়ে তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। বন্যার সময়ের বিভিন্ন ভিডিওতে ক্যানিয়নের ভেতর দিয়ে কাদা ও পানির প্রবল স্রোত নেমে আসতে দেখা গেছে। বড় বড় পাথর, গাছের অংশ এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ পানির সঙ্গে ভেসে যায়। একজন হাইকার বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, বৃষ্টির পর তারা হঠাৎ করে খালে পানি বেড়ে যেতে, বিভিন্ন জায়গা থেকে জলপ্রপাতের মতো পানি নেমে আসতে এবং পাথর, কাদা ও ভূমিধস দেখতে পান।   প্রবল স্রোতে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের গতিপথও বদলে গেছে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, বন্যায় ক্যানিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে রয়েছে সেতু, ট্রেইল, পানি ও অন্যান্য পরিষেবা অবকাঠামো। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন এখনো চলছে। বন্যার পর ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড এবং পুরো নর্থ কাইবাব ট্রেইল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। কলোরাডো নদীর ওপরের ব্ল্যাক ব্রিজ ও সিলভার ব্রিজও বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে নদীতে ধাতব কাঠামো ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ পড়ে যাওয়ায় ওই এলাকায় নৌযান চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে। এসব এলাকা কবে খুলবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।   আবহাওয়ার ঝুঁকিও এখনো কাটেনি। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, রোববার ও সোমবার আরও বজ্রঝড় এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নতুন করে আকস্মিক বন্যা, ধ্বংসাবশেষের স্রোত, পাথর ধস এবং ট্রেইল ও নদীর পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে পারে। এই বন্যার পেছনে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দুর্গম ভূপ্রকৃতির পাশাপাশি গত বছরের ড্রাগন ব্রাভো দাবানলের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ওই দাবানলে নর্থ রিমের বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে যায়। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি জলাধার ও উপত্যকায় ভারী বৃষ্টির পর আকস্মিক বন্যা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। বিশেষ করে খাড়া ভূখণ্ডে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেও পানি দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসতে পারে।   ড্রাগন ব্রাভো দাবানলের পর গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের কর্মকর্তারা এ ধরনের বন্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক ছিলেন। ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যার আগাম সতর্কতা উন্নত করতে ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চের উজানে অতিরিক্ত পানি প্রবাহ মাপার যন্ত্র ও অন্যান্য সেন্সর স্থাপন করা হয়েছিল। তবে এবারের বন্যার আকস্মিকতা ও স্রোতের শক্তি পরিস্থিতিকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে এমন আকস্মিক বন্যা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে ক্যানিয়নের গভীর ও খাড়া ভূপ্রকৃতির কারণে ওপরের দিকে বৃষ্টি হলেও নিচের অংশে হঠাৎ করে ভয়াবহ স্রোত তৈরি হতে পারে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস তাই দর্শনার্থীদের আবহাওয়ার সতর্কতা অনুসরণ করতে এবং বৃষ্টি না হলেও ক্যানিয়নের ভেতরের নদী, খাল বা নিচু এলাকায় অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়ে থাকে।   এদিকে উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান অব্যাহত রেখেছে। পার্ক কর্তৃপক্ষ ও অ্যারিজোনা জননিরাপত্তা বিভাগ সমন্বয় করে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্যে কোনো আহত বা নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আরও বৃষ্টি ও নতুন করে বন্যার আশঙ্কা থাকায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালানো হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে সময় যত গড়াচ্ছে, তাদের পরিবার ও স্বজনদের উদ্বেগও বাড়ছে। দুর্গম ক্যানিয়নের ভেতরে বন্যার পর বদলে যাওয়া ভূপ্রকৃতি, ধ্বংস হওয়া সেতু এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পথ উদ্ধারকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপাতত সবার নজর নিখোঁজ হাইকারদের সন্ধান এবং নতুন করে কোনো প্রাণহানি ঠেকানোর দিকে।   সংবাদসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং আল জাজিরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
অ্যারিজোনার ১২০ ডিগ্রি তাপে মরুভূমিতে পড়ে গুরুতর দগ্ধ হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গ্র্যান্ট সাইলার। ছবি: সংগৃহীত
মরুভূমির ৪৯ ডিগ্রি তাপে পুড়ে গেছে পা, হাঁটুর ওপর থেকে পা কাটতে হবে ৭২ বছরের বৃদ্ধের

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে তীব্র গরমের মধ্যে মরুভূমিতে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ৭২ বছর বয়সী গ্র্যান্ট সাইলার। প্রায় ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় মাটিতে পড়ে থাকার পর তাঁর শরীরে ভয়াবহ দগ্ধ হওয়ার ক্ষত তৈরি হয়েছে। এখন তাঁর ডান পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলতে হতে পারে।   অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে গত ৩ আগস্ট এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১০ ফিনিক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইলার সেদিন বাড়ির এলাকা থেকে প্রায় এক মাইল দূরে মরুভূমির দিকে হাঁটতে গিয়েছিলেন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে হঠাৎ হোঁচট খেয়ে পড়ে যান তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নিজে উঠে দাঁড়াতে বা সাহায্য চাইতে পারেননি।   সাইলারের মেয়ে হিদার ক্রুক জানান, তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বুলহেড সিটিতে বসবাস করছে এবং প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে তারা পরিচিত। ১৯৮৮ সালে তাঁর পরিবার সেখানে চলে আসে। কিন্তু দুর্ঘটনার দিন তাপমাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ক্রুক বলেন, প্রথমে বাবার পড়ে যাওয়ার খবর শুনে তাঁর মনে হয়েছিল, এত গরমের মধ্যে তিনি বাইরে হাঁটতে গেলেন কেন। কিন্তু পরে তাঁর অবস্থার ভয়াবহতা জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।   সাইলারকে শেষ পর্যন্ত এক পথচারী নারী দেখতে পান। তিনি মাটিতে পড়ে থাকা সাইলারের শরীরে পানি ঢালেন এবং তাঁকে জ্ঞান ফেরাতে সাহায্য করেন। এরপর স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তাঁর বাড়ির ঠিকানা জেনে জরুরি সেবায় খবর দেন। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় সাইলার প্রচণ্ড কাঁপছিলেন। তাঁর শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৪০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল বলে তাঁর পরিবারের ভাষ্য। তাঁকে দ্রুত লাস ভেগাসের একটি দগ্ধ রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়।   চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় উত্তপ্ত মাটির ওপর পড়ে থাকার কারণে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাত্রার দগ্ধ হওয়ার ক্ষত তৈরি হয়েছে। তিনি একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা-সংক্রান্ত জটিলতারও মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর ডান পায়ের টিস্যু এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে তা আর স্বাভাবিকভাবে সেরে ওঠার সম্ভাবনা নেই বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।   এ কারণে আগামী ৩১ আগস্ট তাঁর ডান পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলার অস্ত্রোপচার করার কথা রয়েছে। এরপর তাঁকে দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কৃত্রিম পা, চলাফেরার সহায়ক সরঞ্জাম এবং বাড়িতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মতো বিষয়ও পরিবারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাইলারের মেয়ে ক্রুক পেশায় একজন নার্স। তিনি বাবাকে অত্যন্ত শক্ত ও স্বনির্ভর মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, সাধারণত সামান্য আঘাত পেলেও সাইলার চিকিৎসা বা অন্যের সহায়তা নিতে চাইতেন না।   ক্রুক জানান, মাত্র নয় মাস আগেও তাঁর বাবা তাঁর বাড়ির পেছনে একটি দেয়াল নিজেই পুনর্নির্মাণ করেছিলেন। তখন প্রায় ৮০ পাউন্ড ওজনের একটি কংক্রিটের ব্লক তাঁর পায়ের ওপর পড়ে গেলেও তিনি ব্যথানাশক ওষুধও নিতে চাননি। সেই মানুষটিই এখন তীব্র ব্যথায় কাতরাচ্ছেন বলে জানান তাঁর মেয়ে।   ফক্স ১০-কে ক্রুক বলেন, তাঁর বাবা এমন মানুষ, যিনি সাধারণত পড়ে গেলে উঠে দাঁড়িয়ে আবার কাজ শুরু করার চেষ্টা করেন। তাই তাঁকে এবার এতটা কষ্টে দেখতে পাওয়া পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনার পর শুধু চিকিৎসাজনিত সংকট নয়, আর্থিক চাপও তৈরি হয়েছে পরিবারের ওপর। সাইলারের স্ত্রী ভিকি প্রতিদিন নেভাদার হাসপাতালে স্বামীকে দেখতে যান। এ জন্য তাঁকে প্রতিদিন প্রায় তিন ঘণ্টা যাতায়াত করতে হচ্ছে।   পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় সামাল দিতে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৬ হাজার ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সামনে আরও বড় ব্যয়ের আশঙ্কা করছে পরিবার। বাড়িতে হুইলচেয়ার চলাচলের উপযোগী পরিবর্তন, কৃত্রিম পা, বিশেষ চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের খরচ এর মধ্যে রয়েছে। অ্যারিজোনার মরুভূমি অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় সরাসরি উত্তপ্ত মাটির সংস্পর্শে থাকা শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাইলারের ঘটনা সেই ঝুঁকিরই একটি ভয়াবহ উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে।   বর্তমানে সাইলার লাস ভেগাসের দগ্ধ রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। তাঁর পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট নির্ধারিত অস্ত্রোপচারের পর তাঁর সুস্থতা ও পুনর্বাসনের দীর্ঘ পথ শুরু হবে।   সংবাদসূত্র: ফক্স ১০ ফিনিক্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
অ্যারিজোনার ফিনিক্সে একটি পার্কে সংঘর্ষে হামলায় নিহত হয়েছেন ১৯ বছর বয়সী তুমুসিফু বাজিরাকে। ছবি: সংগৃহীত
ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে ফুটবল মাঠে গণপিটুনি! প্রাণ গেল ১৯ বছরের তরুণের

কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার কথা ছিল মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে। স্বপ্ন ছিল একদিন ফায়ারফাইটার হওয়ার। কিন্তু অ্যারিজোনার ফিনিক্সে একটি পার্কে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একদল মানুষের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন ১৯ বছর বয়সী তুমুসিফু বাজিরাকে। ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়েই তিনি হামলার শিকার হন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।   ঘটনাটি ঘটে গত ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় ফিনিক্সের সুয়েনো পার্কে। ফিনিক্স পুলিশ জানিয়েছে, পার্কের মাঠে ফুটবল খেলার সময় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন মিলে বাজিরাকাকে মারধর করেন। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।   বাজিরাকার ভাই জিনপল জানিয়েছেন, খেলার ফলাফল নিয়ে প্রতিপক্ষ দলের কয়েকজন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে প্রথমে উত্তেজনা এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকলে ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান বাজিরাকা। এরপর হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয়।   পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজিরাকাকে মাটিতে ফেলে ঘুষি ও লাথি মারা হয়। হামলার একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তাকে নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যায় বলে পরিবারের দাবি।   রাত প্রায় ৮টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ সুয়েনো পার্কের কাছে পৌঁছে বাজিরাকাকে অচেতন অবস্থায় পায়। ফিনিক্স ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। তখন তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল।   এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর ১৩ আগস্ট মারা যান বাজিরাকা। তার মরদেহ মেরিকোপা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে পরীক্ষা চলছে।   বাজিরাকার সামনে তখন জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। ২৪ আগস্ট তার কলেজে ক্লাস শুরু করার কথা ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, পড়াশোনা নিয়ে তিনি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং ভবিষ্যতে ফায়ারফাইটার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।   ফিনিক্স পুলিশ এখন ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং কোনো সন্দেহভাজনের পরিচয়ও প্রকাশ করেনি পুলিশ।   কারা ওই রাতে মাঠে বাজিরাকার ওপর হামলা চালিয়েছিল, তা শনাক্ত করতে প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা ঘটনার বিষয়ে তথ্য থাকা ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।   একটি সাধারণ ফুটবল ম্যাচ থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ শেষ পর্যন্ত একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি নিয়ে এসেছে। যে তরুণের কয়েক দিনের মধ্যে কলেজে যাওয়ার কথা ছিল, তার পরিবারকে এখন তার শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে একই ফ্লাইট নম্বরে মুখোমুখি দুই বিমান, অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা ঠেকালেন কন্ট্রোলার
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে একই ফ্লাইট নম্বরে মুখোমুখি দুই বিমান, অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা ঠেকালেন কন্ট্রোলার

যুক্তরাষ্ট্রের ফিনিক্সে একই ফ্লাইট নম্বর নিয়ে আকাশে ওড়া আমেরিকান এয়ারলাইনসের দুটি বিমানের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ অল্পের জন্য এড়ানো সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাতের পর অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স স্কাই হারবার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশে এই ঘটনা ঘটে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও পেশাদারিত্বের কারণে দুই বিমানের যাত্রীরা নিশ্চিত দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।   জানা গেছে, ‘আমেরিকান ২৪৮২’ নম্বরের একটি ফ্লাইট শিকাগো থেকে ফিনিক্সে অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে শিকাগো থেকে ওই বিমানটির রওনা হতে কিছুটা দেরি হয়।   অন্যদিকে, ফিরতি ফ্লাইটের সময় ঠিক রাখতে আমেরিকান এয়ারলাইনস ফিনিক্স থেকে শিকাগো যাওয়ার জন্য একই ফ্লাইট নম্বরে অন্য একটি বিমানকে উড্ডয়নের ব্যবস্থা করে। এর ফলে আকাশে একই সময়ে ‘আমেরিকান ২৪৮২’ কল সাইন যুক্ত দুটি যাত্রীবাহী বিমান একে অপরের কাছাকাছি চলে আসে।   এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি প্রথম টের পান দায়িত্বে থাকা ২৫ বছরের অভিজ্ঞ এক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার। তিনি বুঝতে পারেন, কেবল ফ্লাইট নম্বর ধরে নির্দেশ দিলে দুই পাইলটই বিভ্রান্ত হতে পারেন এবং মাঝ-আকাশে বিমান দুটির মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিমান দুটিকে ‘অ্যারাইভাল’ (অবতরণকারী) এবং ‘ডিপারচার’ (উড্ডয়নকারী) হিসেবে আলাদা করে নির্দেশ দিতে শুরু করেন।   তার এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার কারণে উড্ডয়নকারী বিমানটি নির্দিষ্ট উচ্চতার নিচে অবস্থান করে এবং অবতরণকারী বিমানটি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলে যায়।   বিপদ কেটে যাওয়ার পর এক পাইলট রেডিওবার্তায় ওই কন্ট্রোলারকে দারুণ কাজের জন্য ধন্যবাদ জানান। জবাবে ওই কন্ট্রোলার বলেন, "এটি একটি ভয়াবহ বিপর্যয় হতে পারত, তবে শেষ পর্যন্ত সব ঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আমি আনন্দিত।" তিনি আরও জানান, তার দীর্ঘ ২৫ বছরের ক্যারিয়ারে একই কল সাইন নিয়ে দুটি বিমানকে এভাবে কাছাকাছি হতে তিনি আগে কখনও দেখেননি।   এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ারলাইন্সের ডিসপ্যাচ সেন্টারের ভুলের কারণেই এমনটা ঘটেছে। এই গুরুতর ভুলের কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং আমেরিকান এয়ারলাইন্স।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
অ্যারিজোনায় হত্যার শিকার হওয়া ১৯ বছর বয়সী জুলিসা রুবি সালাজার এবং অভিযুক্ত প্রেমিক ভারতীয় শিক্ষার্থী ভারুন ব্যাচিগারি (ইনসেটে)। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেমিকাকে হত্যা করে পালানোর পথে জার্মানিতে গ্রেপ্তার ভারতীয় শিক্ষার্থী, ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে

অ্যারিজোনার টাকসনে ১৯ বছর বয়সী প্রেমিকাকে হত্যার অভিযোগে ২০ বছর বয়সী এক ভারতীয় শিক্ষার্থীকে জার্মানিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় জার্মানিতে আটক হন ভারুন ব্যাচিগারি। তাকে অ্যারিজোনায় ফিরিয়ে এনে মামলার কার্যক্রম চালানোর প্রস্তুতি চলছে।    নিহত তরুণীর নাম জুলিসা রুবি সালাজার। গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার কাছাকাছি টাকসনের একটি অ্যাপার্টমেন্টে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের অনুরোধে পুলিশ সেখানে ওয়েলফেয়ার চেক করতে গেলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। টাকসন পুলিশ জানিয়েছে, তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তদন্তে গলা টিপে হত্যার আলামত পাওয়া যায়।    পুলিশের তদন্তে সালাজারের প্রেমিক ব্যাচিগারিকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যা ও অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।   তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর ব্যাচিগারি সালাজারের মোবাইল ফোন ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে যান এবং তার মায়ের কাছে সালাজারের পরিচয়ে একাধিক বার্তা পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পরিবারের সন্দেহ হলে তারা পুলিশের কাছে ওয়েলফেয়ার চেকের অনুরোধ করেন।    হত্যাকাণ্ডের দিনই ব্যাচিগারি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তিনি টাকসন থেকে হিউস্টন হয়ে জার্মানির বার্লিনে যান এবং সেখান থেকে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে জার্মানিতে পৌঁছানোর পর এফবিআই ও টাকসন পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি জার্মান হেফাজতে রয়েছেন এবং তাকে অ্যারিজোনায় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাচিগারি ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনায় পড়াশোনা করতেন। পরে একটি মারামারির ঘটনার পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আগের সহিংস আচরণ এবং ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে।    তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সালাজার তার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করার পরিকল্পনা করছিলেন এবং ব্যাচিগারির আচরণ নিয়ে তিনি ভয় পেতেন। তার মৃত্যুর আগের দিন সালাজারের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চিৎকার শোনার কথাও এক রুমমেট তদন্তকারীদের জানিয়েছেন।    এদিকে ব্যাচিগারির যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী হিসেবে অবস্থান এবং তার ভিসার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে তার অভিবাসন স্ট্যাটাস বা ভিসা বাতিলের নির্দিষ্ট তথ্য এখনো সরকারি সূত্রে প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।   জার্মানিতে গ্রেপ্তার ব্যাচিগারিকে অ্যারিজোনায় ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাকে পিমা কাউন্টিতে হেফাজতে নেওয়া হবে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে আদালতের কার্যক্রম শুরু হবে। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ব্যাচিগারিকে আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় মানুষের স্থানান্তর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার হিড়িক, কেন অ্যারিজোনার দিকে ছুটছেন হাজারো পরিবার?

ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় মানুষের স্থানান্তর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত অভ্যন্তরীণ অভিবাসন প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। উচ্চ আবাসন ব্যয়, তুলনামূলক বেশি রাজ্য আয়কর এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগের কারণে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পরিবার ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে অ্যারিজোনায় বসতি গড়ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর জনসংখ্যা ও অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের তথ্যেও দুই রাজ্যের বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে ক্যালিফোর্নিয়া জনসংখ্যা হারাচ্ছে, অন্যদিকে অ্যারিজোনা দ্রুত জনসংখ্যা বাড়ানো রাজ্যগুলোর একটি হয়ে উঠছে।   ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এগুলো হলো রাজ্য আয়কর, বাড়ির দাম এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ।   প্রথম কারণ, আয়করের বড় পার্থক্য   ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যক্তিগত আয়কর আয়ের স্তর অনুযায়ী ১ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত। এর পাশাপাশি ১০ লাখ ডলারের বেশি করযোগ্য আয়ের ওপর অতিরিক্ত ১ শতাংশ কর রয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রাজ্য আয়করের হার দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে, অ্যারিজোনায় ২০২৩ সাল থেকে ব্যক্তিগত আয়করের সমতল হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য দুই রাজ্যের আয়করের ব্যবধান বেশ বড়।   তবে শুধু আয়কর দিয়েই একজন মানুষের মোট করের বোঝা নির্ধারিত হয় না। বাড়ির দাম, সম্পত্তি কর, বিক্রয় কর, বাড়ির বীমা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয়ও হিসাব করতে হয়। তারপরও ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় কম রাজ্য আয়কর অ্যারিজোনাকে অনেক পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।   দ্বিতীয় কারণ, তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ   ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ আবাসন ব্যয়। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ডিয়েগো, অরেঞ্জ কাউন্টি ও সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকার মতো ব্যয়বহুল অঞ্চলের তুলনায় অ্যারিজোনার অনেক এলাকায় একই বাজেটে বড় বাড়ি কেনা সম্ভব। রিয়েল এস্টেট কোম্পানি রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার বড় শহর ও মহানগর এলাকাগুলোতে বাড়ির দাম দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিপরীতে ফিনিক্স ও টুসনের মতো অ্যারিজোনার বড় শহরগুলোতে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে।   তবে দুই রাজ্যের বাড়ির দাম সরাসরি তুলনা করার সময় শহর ও এলাকার পার্থক্য বিবেচনায় নিতে হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার সব এলাকার বাড়ির দাম যেমন সমান নয়, তেমনি অ্যারিজোনার সব এলাকাও সস্তা নয়। তারপরও ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চ আবাসন ব্যয় বহু পরিবারকে অন্য রাজ্যে যাওয়ার কথা ভাবতে বাধ্য করছে। অ্যারিজোনায় তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার পাশাপাশি অনেক পরিবার কম মাসিক ঋণের কিস্তির সুবিধাও পাচ্ছে।   তৃতীয় কারণ, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থান   অ্যারিজোনার আকর্ষণ শুধু কম আবাসন ব্যয় বা কম করের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজ্যটি দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও অর্ধপরিবাহী শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। তাইওয়ানের অর্ধপরিবাহী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি অ্যারিজোনার ফিনিক্স এলাকায় বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। কোম্পানিটি সেখানে তিনটি কারখানা নির্মাণের জন্য ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।   এর মধ্যে প্রথম কারখানায় ৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। পরবর্তী কারখানাগুলো চালু হলে অ্যারিজোনায় উন্নত প্রযুক্তির অর্ধপরিবাহী উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রযুক্তি জায়ান্ট ইন্টেলও অ্যারিজোনার চ্যান্ডলারে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে দুটি নতুন অর্ধপরিবাহী কারখানা নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছে।   এসব বিনিয়োগের ফলে শুধু কারখানায় সরাসরি চাকরি নয়, প্রকৌশল, নির্মাণ, সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন, প্রযুক্তি ও অন্যান্য সহযোগী খাতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।   ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার প্রবণতা অবশ্য নতুন নয়   ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অন্য রাজ্যে মানুষের চলে যাওয়ার প্রবণতা কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে। উচ্চ আবাসন ব্যয়, জীবনযাত্রার খরচ, কর এবং কিছু ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের অবস্থান পরিবর্তন এর পেছনে ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে অ্যারিজোনা, টেক্সাস, নেভাদা ও ফ্লোরিডার মতো রাজ্যগুলো তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের কারণে নতুন বাসিন্দাদের আকর্ষণ করছে।   তবে অ্যারিজোনায় মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানেও আবাসনের চাহিদা ও দাম বাড়ছে। পানি, পরিবহন, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য অবকাঠামোর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে শুধু কম কর বা কম বাড়ির দামের হিসাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। পরিবারের আয়, চাকরির ধরন, দূর থেকে কাজের সুযোগ, সন্তানদের শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনাও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   তারপরও সাম্প্রতিক বছরগুলোর অভ্যন্তরীণ জনসংখ্যা স্থানান্তরের চিত্রে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনার দিকে মানুষের আগমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হিসেবে উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চ আবাসন ব্যয় ও করের চাপের বিপরীতে অ্যারিজোনার তুলনামূলক কম রাজ্য আয়কর, আবাসনের সুযোগ এবং প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগ অনেক পরিবারের কাছে নতুন করে বসতি গড়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন গার্লফ্রেন্ড জুলিসা রুবি সালাজারকে (বামে) নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক ভারুন ব্যাচিগারি (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন গার্লফ্রেন্ডকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে, ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টাকসনে ১৯ বছর বয়সী কলেজছাত্রী জুলিসা রুবি সালাজারকে হত্যার অভিযোগে ভারুন ব্যাচিগারিকে জার্মানির একটি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার কাছে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে গত ৫ আগস্ট সালাজারকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের অনুরোধে তার খোঁজ নিতে গিয়ে পুলিশ ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।   তদন্তে সালাজারের প্রেমিক ব্যাচিগারিকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে পুলিশ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সালাজারের গলায় চাপ প্রয়োগ করে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাটিকে প্রথম ডিগ্রির হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সালাজারের মৃত্যুর পর ব্যাচিগারি তার ফোন ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে যান এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে তার ফোন ব্যবহার করে একাধিক বার্তা পাঠান। এতে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ আরও বাড়ে।   এরপর ব্যাচিগারি টাকসন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে যান। সেখান থেকে হিউস্টরের একটি ফ্লাইটে ওঠেন এবং পরে জার্মানির বার্লিনগামী ফ্লাইটে করে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েন। কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, তিনি শেষ পর্যন্ত ভারতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।   অ্যারিজোনার পুলিশ ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তৎপরতায় জার্মানিতে পৌঁছানোর পর তাকে আটক করা হয়। তাকে অ্যারিজোনায় ফিরিয়ে এনে পিমা কাউন্টি অ্যাডাল্ট ডিটেনশন সেন্টারে প্রথম ডিগ্রির হত্যার অভিযোগে হাজির করার প্রক্রিয়া চলছে।   তদন্তে ব্যাচিগারির আগের সহিংস আচরণের বিষয়ও সামনে এসেছে। পুলিশ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে অ্যাসল্টের একটি মামলা চলমান ছিল। এছাড়া আরেক নারী তদন্তকারীদের কাছে তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই নারী তখন অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশের কাছে করেননি।   সালাজারের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সমস্যা চলছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, সালাজার সম্পর্কটি শেষ করার কথা ভাবছিলেন। ঘটনার কয়েক দিন আগে তার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে কয়েক মিনিট ধরে চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন বলে তার রুমমেটরা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। পরে তারা সালাজারকে মেসেজ করে জানতে চাইলে তিনি ঠিক আছেন এবং এটি শুধু একটি ঝগড়া ছিল বলে জানিয়েছিলেন।   ব্যাচিগারি আগে ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনায় ব্যবসা বিশ্লেষণ বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন। একটি মারামারির ঘটনার পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সম্প্রতি তিনি চাকরিও হারিয়েছিলেন এবং ভাড়া পরিশোধে সমস্যায় পড়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   এদিকে সালাজারের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। কলেজজীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকা এই তরুণীকে পরিবারের কাছে প্রিয় মেয়ে ও বোন হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে।   তবে মামলাটি এখনো তদন্তাধীন এবং ব্যাচিগারির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে আইনের অধীনে আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো অভিযুক্তকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হয় না।

তাবাস্সুম আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
অ্যারিজোনায় নিখোঁজ দম্পতির বাড়ির উঠোনে মিলল অজ্ঞাত দেহাবশেষ, দেশ ছেড়েছে সন্দেহভাজন ছেলে
অ্যারিজোনায় নিখোঁজ দম্পতির বাড়ির উঠোনে মিলল অজ্ঞাত দেহাবশেষ, দেশ ছেড়েছে সন্দেহভাজন ছেলে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের লিচফিল্ড পার্কে একটি নিখোঁজ পরিবারের বাড়ির উঠোন থেকে মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিখোঁজ দম্পতির ২৭ বছর বয়সী ছেলে ম্যাথিউ ফ্লোরেসকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পুলিশের ধারণা, মঙ্গলবার বাড়িতে তল্লাশি চালানোর আগেই ম্যাথিউ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।   ফিনিক্স শহরের অদূরে অবস্থিত ওই বাড়িতে স্বামী, স্ত্রী ও তাদের প্রাপ্তবয়স্ক ছেলের সন্ধানে গত মঙ্গলবার আত্মীয়দের অনুরোধে প্রথমে তল্লাশি চালাতে যায় অ্যাভনডেল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। সেসময় বাড়িতে কাউকে পাওয়া না গেলেও সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কিছু প্রাথমিক আলামত মেলে, যার ভিত্তিতে নিখোঁজ তদন্ত শুরু করে পুলিশ।   গত বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে, ওই বাড়ির পিছনের উঠোনে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় অজ্ঞাত মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টিকে এখন হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারের অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিখোঁজ স্বামী ও স্ত্রীর নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।   তবে এই ঘটনার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত হওয়ার বা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পলাতক সন্দেহভাজন ম্যাথিউ ফ্লোরেসের অবস্থান সম্পর্কে কারো কাছে কোনো তথ্য থাকলে অ্যাভনডেল পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ৬২৩-৩৩৩-৭০০১ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
অভিযুক্ত মা ২৬ বছর বয়সী ক্যালিয়ান হিথম্যান, যাকে চরম মাতাল অবস্থায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ছবি: সংগৃহীত
বাড়িতে আগুন লাগার সময় গাড়ির সিটে বন্দি শিশু, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে ছিলেন মা

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্লেনডেলে একটি বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনায় দুই বছরের এক শিশুকে কার সিটে আটকে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় শিশুটির মা ঘরের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে গুরুতর শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ১২নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট গ্লেনডেলের ৬৭তম অ্যাভিনিউ ও ক্যাকটাস রোড এলাকার একটি বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও দমকলকর্মীরা। পরে গ্লেনডেল পুলিশ বিভাগের প্রকাশিত বডিক্যাম ভিডিওতে দেখা যায়, ঘন ধোঁয়ায় ভরা বাড়িতে প্রবেশ করে কর্মকর্তারা একটি দুই বছরের শিশুকে কার সিটে বাঁধা অবস্থায় খুঁজে পান। ধোঁয়ার কারণে শিশুটি প্রায় অচেতন হয়ে পড়েছিল এবং নিজে থেকে বের হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।   পুলিশ সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে কোলে নিয়ে বাড়ির বাইরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান, যাতে সে খোলা বাতাসে শ্বাস নিতে পারে। এরপর তারা আবার বাড়ির ভেতরে ফিরে গিয়ে বসার ঘরের সোফার পাশে মেঝেতে এক নারীকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তার পরিচয় ২৬ বছর বয়সী ক্যালিয়েন হিথম্যান (Kallien Heathman) হিসেবে নিশ্চিত করা হয়।   বডিক্যামের ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা বারবার তাকে জাগানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে আসার সময় তিনি চিৎকার করেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেন।   তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মাইক্রোওয়েভে পিজ্জা গরম করার সময় সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনার সময় বাড়িতে থাকা সাত বছর বয়সী আরেক শিশু তার বাবাকে ফোন করে পরিস্থিতির কথা জানায়। পরে ওই বাবা জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি পুলিশকে জানান, ওই নারী তার সাবেক সঙ্গী এবং সে সময় শিশু দুটির দায়িত্ব তার কাছেই ছিল।   স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স ১০-এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের সময় হিথম্যানের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা আইনসিদ্ধ সীমার প্রায় পাঁচ গুণ বেশি ছিল। পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার সময় শিশু দুটির অভিভাবক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন হিথম্যান। অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় শিশুদের কার্যত তত্ত্বাবধানহীন রেখে দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গুরুতর শিশু নির্যাতনের (ফেলনি চাইল্ড অ্যাবিউজ) মামলা দায়ের করা হয়েছে।   ঘটনায় উদ্ধার হওয়া শিশুদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে দ্রুত উদ্ধার অভিযানের কারণে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
দেউলিয়া হয়ে ৫ আগস্ট থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে সালাদ অ্যান্ড গো'র সব শাখা। ছবি: সংগৃহীত
দেউলিয়া হয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বন্ধ হচ্ছে সালাদ অ্যান্ড গো'র সব শাখা

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফাস্ট-ফুড চেইন সালাদ অ্যান্ড গো তাদের সব শাখা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ৫ আগস্ট থেকে তাদের সব আউটলেটের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।   ২০১৩ সালে অ্যারিজোনার গিলবার্টে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির অ্যারিজোনা ও নেভাডা অঙ্গরাজ্যে মোট ৭০টি শাখা রয়েছে। এর মধ্যে টাকসন এলাকাতেই রয়েছে সাতটি শাখা।   প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ৪ আগস্ট তারা স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্রের দেউলিয়া আইন অনুযায়ী চ্যাপ্টার ১১-এর অধীনে আবেদন করেছে। তবে পুনর্গঠনের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে।   এক বিবৃতিতে সালাদ অ্যান্ড গো জানায়, ভোক্তাদের চাহিদা দীর্ঘদিন ধরে কমে যাওয়া, অতীতের ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এবং পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এছাড়া জুলাই মাসে সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণ নিয়ে পুরো শিল্পে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়, সেটিও ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে ওই সংক্রমণের ঘটনায় সালাদ অ্যান্ড গো জড়িত ছিল না বলে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে।   সালাদ অ্যান্ড গো-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা টনি ও রুশান ক্রিস্টোফেলিস ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠানটি একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেন। পরে তারা অ্যাঞ্জিস গ্রিল নামে নতুন একটি রেস্তোরাঁ চেইন চালু করেন। তারা জানিয়েছেন, সালাদ অ্যান্ড গো বন্ধ হয়ে গেলেও অ্যাঞ্জিস গ্রিলের কার্যক্রমে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দুই প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ১৩ বছর আগে সবার জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু খাবার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তারা সালাদ অ্যান্ড গো প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিণতি তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের হলেও, কর্মী, গ্রাহক, সরবরাহকারী ও সমর্থকদের প্রতি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।   তারা আরও বলেন, তাদের নতুন প্রতিষ্ঠান অ্যাঞ্জিস গ্রিলেও একই লক্ষ্য থাকবে—সব শ্রেণির মানুষের জন্য উন্নত মানের খাবার সাশ্রয়ী দামে পৌঁছে দেওয়া।

তাবাস্সুম আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
মায়ের কোল থেকে নিয়ে যাওয়া ১১ দিনের নবজাতককে ২০০ মাইল দূর থেকে অক্ষত উদ্ধার করল পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
মায়ের কোল থেকে ১১ দিনের নবজাতককে নিয়ে যান বাবা, ২০০ মাইল দূরে উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে হেফাজতের আইনি অধিকার না থাকা বাবার বিরুদ্ধে ১১ দিনের নবজাতক ছেলেকে অনুমতি ছাড়া নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাতভর অনুসন্ধানের পর বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মাইল দূরে উইন্সলো এলাকার কাছ থেকে শিশুটিকে অক্ষত উদ্ধার করেছে পুলিশ।    কর্তৃপক্ষ জানায়, ৩১ জুলাই শুক্রবার রাতে পশ্চিম অ্যারিজোনার সারপ্রাইজ শহর থেকে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর সন্দেহভাজন একটি গাড়ির বিবরণসহ রাজ্যজুড়ে ‘অ্যাটেম্পট টু লোকেট’ বা এটিএল বার্তা পাঠানো হয়।   বার্তাটি পাওয়ার পর নাভাহো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যরা সম্ভাব্য গাড়িটির সন্ধান শুরু করেন। ১ আগস্ট শনিবার সকালে উত্তর অ্যারিজোনার উইন্সলো এলাকায় গাড়িটি শনাক্ত করে থামানো হয়। পরে গাড়ির ভেতর থেকে নবজাতকটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন কর্মকর্তারা। অভিযানে অ্যারিজোনা ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটির সদস্যরাও সহায়তা করেন।    শিশুটির শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাত পাওয়া যায়নি। তবে বয়স মাত্র ১১ দিন হওয়ায় সতর্কতামূলকভাবে তাকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়।    সারপ্রাইজ পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির বাবা তার আইনগত হেফাজ

তাবাস্সুম আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
অ্যারিজোনায় বাবাই অপহরণ করলেন ১১ দিনের সন্তান, ২০০ মাইল দূরে উদ্ধার করল পুলিশ
অ্যারিজোনায় বাবাই অপহরণ করলেন ১১ দিনের সন্তান, ২০০ মাইল দূরে উদ্ধার করল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে অপহরণের শিকার হওয়া ১১ দিন বয়সী এক নবজাতককে প্রায় ২০০ মাইল দূর থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদে ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে সারপ্রাইজ শহরের নিজ বাড়ি থেকে শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশের ব্যাপক তল্লাশি ও শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শুরু হয়। সারপ্রাইজ পুলিশের লেফট্যানেন্ট টিম ক্লার্কোস্কি জানিয়েছেন, শিশুটিকে অপহরণের মূল সন্দেহভাজন ছিলেন তার নিজের বাবা, যার কাছে সন্তানের আইনি অভিভাবকত্বের কোনো অধিকার ছিল না। কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ব্যক্তি কারও কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই বেআইনিভাবে শিশুটিকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন।   অপহরণের খবর প্রকাশ্যে আসার পরপরই পুলিশ দ্রুত একটি জরুরি ‘অ্যাটেম্পট টু লোকেট’ (খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা) অ্যালার্ট জারি করে। এই সতর্কবার্তা পেয়ে নাভাজো কাউন্টি শেরিফ ডিপার্টমেন্ট এবং অ্যারিজোনা স্টেট ট্রুপারস যৌথভাবে অঙ্গরাজ্যের উত্তরের মহাসড়কগুলোতে কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলে। অবশেষে শনিবার সকালে উইনস্লো শহরের নিকটবর্তী মরুভূমি এলাকায় সন্দেহভাজন ওই পিতার গাড়িটি দ্রুতগতিতে যেতে দেখেন শেরিফ ডেপুটুরা। কালক্ষেপণ না করে পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে গাড়িটি থামাতে সক্ষম হয় এবং শিশুটিকে সামান্য আঁচড় লাগার আগেই সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে।   উদ্ধারের পরপরই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অবুঝ ওই নবজাতকটিকে একটি স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নাভাজো কাউন্টি শেরিফ অফিস এই সফল অভিযানের জন্য অ্যারিজোনা ডিপিএস-এর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। লেফট্যানেন্ট ক্লার্কোস্কি ফক্স নিউজকে জানান, সারপ্রাইজ পুলিশের গোয়েন্দারা সারারাত নিরলসভাবে কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে দ্রুত ও কার্যকর যোগাযোগের ফলেই শিশুটিকে এত সহজে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় পুলিশের তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং খুব শিগগিরই ওই বাবার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হবে বলে জানা গেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
অ্যারিজোনায় নিখোঁজ বৃদ্ধার মামলায় অন্যায়ভাবে আটকের অভিযোগে ৩২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি। ছবি: সংগৃহীত
অ্যারিজোনায় নিখোঁজ বৃদ্ধার মামলায় আটক ব্যক্তি চাইলেন ৩২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ

অ্যারিজোনায় নিখোঁজ ৮৪ বছর বয়সী ন্যান্সি গুথরির মামলার তদন্তে আটক হয়ে পরে মুক্তি পাওয়া কার্লোস পালাজুয়েলোস স্থানীয় শেরিফের কার্যালয়ের বিরুদ্ধে ৩২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, তদন্তের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং পরে প্রকাশ্যে তার নামও পরিষ্কার করেনি।   কার্লোস পালাজুয়েলোস, ড্যানিয়েল ম্যাডক্স এবং বাড়ির মালিক জোসেফিনা ম্যাডক্সের পক্ষে ক্ষতিপূরণ দাবির নোটিশ দাখিল করা হয়েছে। এতে পালাজুয়েলোস ২৫ লাখ ডলার, ড্যানিয়েল ম্যাডক্স ৫ লাখ ডলার এবং জোসেফিনা ম্যাডক্স বাড়ির ক্ষয়ক্ষতির জন্য আড়াই লাখ ডলার দাবি করেছেন।   দাবিতে বলা হয়েছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি পরিচালিত অভিযানে কর্মকর্তারা অস্ত্র তাক করে পালাজুয়েলোসকে আটক করেন এবং সাত থেকে আট ঘণ্টা আটকে রাখার পর কোনো অভিযোগ ছাড়াই ছেড়ে দেন। অভিযানের সময় তার মোবাইল ফোন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সও জব্দ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ড্যানিয়েল ম্যাডক্সকে হাতকড়া পরিয়ে বাড়ির বাইরে সশস্ত্র পাহারায় রাখা হয় এবং তল্লাশির সময় জোসেফিনা ম্যাডক্সের বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষতিপূরণ দাবিতে বলা হয়েছে, তল্লাশি পরোয়ানা পেতে তদন্তকারীরা ভিত্তিহীন তথ্য ব্যবহার করেছেন এবং পালাজুয়েলোসের বিরুদ্ধে অপরাধের যথেষ্ট কারণ ছিল না।   পালাজুয়েলোসের আইনজীবীর দাবি, তদন্তের সময় কর্তৃপক্ষ তাকে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করলেও পরে প্রকাশ্যে সেই অবস্থান প্রত্যাহার করেনি। এর ফলে তিনি ও তার পরিবার জনসাধারণের নজরদারি, ছবি তোলা এবং অনুসরণের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   এদিকে ন্যান্সি গুথরির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং কোনো সন্দেহভাজনের নামও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। অ্যারিজোনা আইনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের জন্য ৬০ দিন সময় রয়েছে। এরপর প্রয়োজনে আদালতে মামলা করা যেতে পারে। পিমা কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, বিচারাধীন আইনি বিষয় নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবে না।

তাবাস্সুম আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
লাইফ সাপোর্টে থাকা ডেভিড গ্লেজার। ছবি: সংগৃহীত
১৬ ঘণ্টার বিদ্যুৎহীনতায় লাইফ সাপোর্টে থাকা ছেলেকে বাঁচাতে মায়ের প্রাণপণ লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের কুলিজ শহরে দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যে লাইফ সাপোর্টে থাকা ছেলেকে বাঁচিয়ে রাখতে এক মায়ের নিরলস লড়াইয়ের ঘটনা আলোচনায় এসেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্র একে একে বন্ধ হয়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে ঘরের তাপমাত্রা প্রায় ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।   মার্কিন গণমাধ্যম পিপল এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অ্যারিজোনাস ফ্যামিলি জানিয়েছে, গত ২৫ জুলাই বিকেল সাড়ে ২টার দিকে কুলিজের বড় একটি এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যায়। ওই বিভ্রাটে কয়েক হাজার বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, মৌসুমি ঝড়ের সময় বজ্রপাতের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।   কারেন গ্লেজারের ছেলে ডেভিড গ্লেজার ২০২০ সালের ৯ মে ভয়াবহ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তার শরীরের প্রায় সব হাড় ভেঙে যায় এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। চিকিৎসকেরা প্রথমে তাকে ঘাড়ের নিচ থেকে সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি বাড়িতেই চিকিৎসাধীন এবং শ্বাস-প্রশ্বাস, শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক চিকিৎসা যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। পরিবারটি তার সম্ভাব্য স্টেম সেল চিকিৎসার জন্যও অর্থ সংগ্রহ করছে।   বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডেভিডের বিশেষ চিকিৎসা শয্যা, পালস অক্সিমিটারসহ একাধিক জরুরি যন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়। কারেন জানান, ব্যাকআপ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও কাজ করেনি। ফলে মুহূর্তের মধ্যে তিনি বুঝতে পারেন, ছেলের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে গেছে।   সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘরের তাপমাত্রা প্রায় ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছে যায়। ডেভিড নিজের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে পারেন না। তাই কারেন বারবার পানিতে কাপড় ভিজিয়ে ছেলের শরীর মুছে তাকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে তিনি হাতে করে ডেভিডের মুখ থেকে লালা পরিষ্কার করেন, যাতে শ্বাসরোধের ঝুঁকি তৈরি না হয়।   বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় শহরে শীতলীকরণ কেন্দ্র (কুলিং সেন্টার) চালু করা হলেও সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি কারেনের। তিনি ছেলেকে একা রেখে বের হতে পারেননি। বরফ সংগ্রহ করতেও যেতে পারেননি। পরে সাহায্য চেয়ে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করলেও তার মোবাইল ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যায় এবং নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এমনকি জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।   কারেনের ভাষ্য, তাদের বাসা জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগের তালিকায় থাকলেও কর্তৃপক্ষ কয়েক দফায় বিদ্যুৎ ফেরার সম্ভাব্য সময় পরিবর্তন করে। এতে উদ্বেগ আরও বাড়ে। অবশেষে প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর রোববার সকালে বিদ্যুৎ ফিরে এলে ডেভিডের চিকিৎসা যন্ত্রগুলো আবার চালু হয় এবং তার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করে।   ঘটনার পর কারেন বলেন, এই অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। তার ভাষায়, "এ ধরনের পরিস্থিতি আর কখনো ঘটতে দেওয়া যায় না।" দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎনির্ভর চিকিৎসা যন্ত্র বন্ধ থাকলে গুরুতর রোগীদের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।   স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, চরম গরমের সময়ে যেসব পরিবারে বিদ্যুৎনির্ভর চিকিৎসা যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, তাদের জন্য বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ব্যাটারি এবং জরুরি যোগাযোগ পরিকল্পনা আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক এই ঘটনা সেই প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিকেই আবার সামনে এনে দিয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
অ্যারিজোনায় প্রসাধনী চুরির মামলায় অভিযুক্ত দুই বোন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে তিন দিনে ১৩ দোকান থেকে ৭৫ হাজার ডলারের প্রসাধনী চুরির অভিযোগে দুই বোন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রির জনপ্রিয় সুপারশপ 'আল্টা বিউটি'-র ১৩টি শাখায় একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই অভিনব কায়দায় চুরির মাধ্যমে ৭৫ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের প্রসাধনী লোপাটের অভিযোগে দুই বোনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'এজেডফ্যামিলি' এবং 'গ্রে নিউজ'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত দুই নারীর নাম ইভোন বুইত্রাগো-কাবরেরা এবং ইয়োরাইমা বুইত্রাগো-কাবরেরা। তারা মূলত কলম্বিয়ার নাগরিক। পুলিশ জানিয়েছে, চলিত জুলাই মাসের শুরুর দিকে মাত্র তিন দিনে এই দুই বোন অ্যারিজোনার বিভিন্ন আল্টা বিউটি স্টোরে সাধারণ ক্রেতা সেজে প্রবেশ করেন। এরপর বড় ব্যাগে প্রসাধনী পুরে কাউন্টারে কোনো মূল্য পরিশোধ না করেই সটকে পড়েন।   ফিনিক্স পুলিশ বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে অ্যারিজোনা এবং ক্যালিফোর্নিয়া দুই অঙ্গরাজ্য মিলিয়ে এই দুই বোনের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য চুরির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। চুরির ঘটনার প্রাথমিক মামলার পর তদন্তে নেমে পুলিশ আরও চার জায়গায় চুরির তথ্য উদ্ধার করে। কেবল কসমেটিকস শপ নয়, ল্যাকোস্টে, অ্যাডিডাস, পুমা এবং ক্রোকসের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের শোরুমেও এই দুই নারী চুরির ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন বলে প্রমাণ মিলেছে।   বর্তমানে দুই বোনকে অ্যারিজোনায় সংঘটিত চুরির ঘটনায় ৯টি সুসংগঠিত রিটেইল অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং তাদের জামিনের জন্য ৭৫ হাজার ডলারের নগদ বন্ড ধার্য করেছেন আদালত। অ্যারিজোনার আইন অনুযায়ী, এটি ক্লাস-৪ পর্যায়ের গুরুতর অপরাধ, যার শাস্তি হিসেবে এক থেকে চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।   আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কার্ল ডে লা গুয়েরা এই ধরনের অপরাধ প্রসঙ্গে বলেন, এই ধরনের শোরুমগুলোতে চুরির ঘটনা এত ঘনঘন ঘটে যে তা ঠেকানো খুচরা বিক্রেতাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। সেন্টারিং অন শ্যাডো ইকোনমিক্সের সিইও ও ফিনিক্স পুলিশের সাবেক সার্জেন্ট ডেভিড লেক জানান, তামাক, অ্যালকোহল ও ওষুধের মতো প্রসাধনী সামগ্রী বাজারে দ্রুত ও চড়া দামে পুনর্বিক্রি করা যায় বলে অপরাধীরা এগুলোকে বেশি নিশানা বানায়।   ডেভিড লেক আরও বলেন, সংগঠিত চুরির প্রভাব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। পণ্যের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে না পেরে অনেক সময় কর্মচারীরা চাকরি হারান এবং পুরো এলাকা থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানগুলো।   চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে অ্যারিজোনার মেরিকোপা কাউন্টি অ্যাটর্নি অফিসে ৩৪৪টি সংগঠিত চুরির মামলা জমা পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় পুলিশ ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ডিমেনশিয়া আক্রান্ত বৃদ্ধাকে নিরাপদে পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করে প্রশংসিত হয়েছে ১৪ বছরের রয়্যাল ক্যাথরুন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ৩৯.৪ ডিগ্রি তাপেও হাল ছাড়েনি কিশোর, পথ হারানো বৃদ্ধাকে নিরাপদে ফিরিয়ে দিল পরিবারের কাছে

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৩৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তীব্র দাবদাহের মধ্যে বাড়ি থেকে বহুদূরে পথ হারিয়ে ফেলা এক বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে প্রশংসায় ভাসছে ১৪ বছরের এক কিশোর। রয়্যাল ক্যাথরান নামের ওই কিশোরের সময়োচিত পদক্ষেপ ও মানবিকতার কারণে ৭৫ বছর বয়সী ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রম) রোগে আক্রান্ত থেরেসা মরগান নিশ্চিত বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস, জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা কিশোরের এই দায়িত্বশীল আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। অ্যারিজোনার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি ১৫ (ABC 15) এবং দ্য গার্ডিয়ান এ খবর নিশ্চিত করেছে।   ঘটনাটি ঘটে অ্যারিজোনার গিলবার্ট শহরে। গত মাসে ১৪ বছরের কিশোর রয়্যাল বাইসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় ৭৫ বছর বয়সী থেরেসা মরগানকে একাকী হেঁটে যেতে দেখে। বৃদ্ধার হাতে একটি শপিং ব্যাগ ও পার্স ছিল এবং তিনি ভীষণ ঘামছিলেন। তীব্র রোদে তাকে বেশ দিশেহারা ও বিভ্রান্ত দেখাচ্ছিল।   রয়্যাল তার পরিহিত স্মার্ট চশমায় (Smart Glasses) পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে, যা পরবর্তীতে এবিসি ১৫-এ প্রকাশিত হয়। ফুটেজে দেখা যায়, কিশোরটি বাইক থামিয়ে বৃদ্ধার কাছে গিয়ে জানতে চায় তিনি কোথায় যাচ্ছেন এবং তাকে সতর্ক করে বলে, "আমার মনে হয় না আশেপাশে কোনো অ্যাপার্টমেন্ট আছে।"   পরে রয়্যাল গণমাধ্যমকে জানায়, "উনাকে দেখে মনে হয়েছিল কোনো একটা সমস্যা হয়েছে। প্রচণ্ড গরম ছিল এবং উনি খুব ঘামছিলেন। তা দেখে আমি বুঝতে পারি উনার সাহায্যের প্রয়োজন।"   পরিস্থিতি অনুধাবন করে কিশোরটি আর এক মুহূর্ত দেরি করেনি। সে বৃদ্ধাকে রাস্তা থেকে সরিয়ে একটি ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে বসায় এবং তার শরীর ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থা করে। এরপর অত্যন্ত ধৈর্য ধরে বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলে তার ছেলে জেফের ফোন নম্বর মনে করানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বৃদ্ধা তার ছেলের নম্বরটি স্মরণ করতে সক্ষম হলে রয়্যাল দ্রুত যোগাযোগ করে এবং জেফ ঘটনাস্থলে না পৌঁছানো পর্যন্ত বৃদ্ধার পাশেই অবস্থান করে। খবর পেয়ে গিলবার্ট ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ টিমের সদস্যরাও দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।   বৃদ্ধার ছেলে জেফ জানান, তার মা সম্প্রতি ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রম রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সেদিন তিনি কেনাকাটার জন্য মুদি দোকানে গিয়ে বাড়ি ফেরার পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং ঘুরতে ঘুরতে বাড়ি থেকে কয়েক মাইল দূরে চলে আসেন। জেফের মতে, রয়্যাল যদি সঠিক সময়ে এগিয়ে না আসত, তবে তার মায়ের প্রাণহানিও ঘটতে পারত। তিনি আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, "কিশোরটি যা করেছে তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। ভাগ্য ভালো যে সে আমার মায়ের সামনে পড়েছিল এবং মা নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত তার যত্ন নিয়েছে।"   ছেলের এই মহানুভবতায় একটুও অবাক হননি রয়্যাল ক্যাথরানের মা। তিনি বলেন, "রয়্যাল সবসময়ই অন্যদের সাহায্য করতে ভালোবাসে। ঘটনার সময় সে অত্যন্ত শান্ত ও সমবেদনশীল ছিল। একজন মা হিসেবে আমি তার জন্য ভীষণ গর্বিত।"   গিলবার্ট ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগের ব্যাটালিয়ন চিফ রায়ান ম্যাকহিউ জানান, অ্যারিজোনার তীব্র গরমের মধ্যে এমন ঘটনা প্রাণঘাতী হতে পারত। তিনি দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, "রয়্যাল সময়মতো না দাঁড়ালে পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।" তিনি আরও জানান, রয়্যালের এই দ্রুত বুদ্ধিমত্তা ও মানবিকতার স্বীকৃতি হিসেবে আগামী ১১ আগস্ট গিলবার্ট টাউন কাউন্সিলের একটি বিশেষ সভায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধিত করা হবে।   অ্যারিজোনার ৫ নম্বর ডিস্ট্রিক্টের কংগ্রেস সদস্য অ্যান্ডি বিগস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিশোরটির প্রশংসা করে লিখেছেন, "বিপদের মুখে একজন বৃদ্ধাকে সাহায্য করার জন্য রয়্যাল ক্যাথরানকে অশেষ ধন্যবাদ। সমাজের অসহায় ও বয়স্ক মানুষের পাশে কীভাবে দাঁড়াতে হয়, রয়্যালের এই দৃষ্টান্ত থেকে আমাদের সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত।"   অ্যারিজোনায় গ্রীষ্মকালীন তীব্র দাবদাহের কারণে সাধারণ মানুষের হিট স্ট্রোকসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে এক কিশোরের এমন সংবেদনশীলতা ও সচেতনতা পুরো কমিউনিটির কাছে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
অ্যারিজোনায় রোবটের ধাক্কায় মেরুদণ্ড ভাঙল ৭৩ বছরের বৃদ্ধার, ন্যায়বিচার চেয়ে আদালতে পরিবার
অ্যারিজোনায় রোবটের ধাক্কায় মেরুদণ্ড ভাঙল ৭৩ বছরের বৃদ্ধার, ন্যায়বিচার চেয়ে আদালতে পরিবার

খাবার সরবরাহকারী (ফুড ডেলিভারি) স্বয়ংক্রিয় রোবটের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা রাজ্যের বাসিন্দা ট্রুডি পেরেজ (৭৩)। ২০২৩ সালে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি পার্কিং গ্যারেজে দায়িত্ব পালনকালে রোবটটির হঠাৎ বেপরোয়া আক্রমণের শিকার হন তিনি। এই ঘটনায় তার মেরুদণ্ডে ফাটল (ফ্র্যাকচার) ধরে এবং হাত গভীরভাবে কেটে যায়। চিরতরে শারীরিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলা এই বৃদ্ধা এবার রোবট প্রস্তুতকারক ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান 'স্টারশিপ টেকনোলজিস'-এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন, যার মূল বিচারিক প্রক্রিয়া আগামী বছরের শুরুতে শুরু হতে যাচ্ছে।   মামলার বিবরণ ও পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির পার্কিং অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কাজ করার সময় ট্রুডি পেরেজের ঠিক সামনে একটি স্বয়ংক্রিয় খাবার সরবরাহকারী রোবট যাচ্ছিল। কিন্তু কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই রোবটটি হঠাৎ গতিপথ বদলে পেছনের দিকে এসে সজোরে তাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেয়। তিনি মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও রোবটটি পুনরায় রিভার্স করে পেছনে আসে। ঘটনার পর অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি পুলিশের নথিতে দেখা যায়, ট্রুডির বাঁ হাতে চার ইঞ্চির একটি গভীর ক্ষত তৈরি হয় এবং তিনি অসহ্য যন্ত্রণায় মাটিতে কাতরাচ্ছিলেন। ভুক্তভোগীর আইনজীবী জানিয়েছেন, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রবীণ এই নারী আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিষয়ক আইনি বিশেষজ্ঞেরা জানান, প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাস্তায় বা পাবলিক প্লেসে চলাচলকারী এমন স্বয়ংক্রিয় রোবটগুলোকে সার্বক্ষণিক কোনো মানুষের মাধ্যমে দূরবর্তী পর্যবেক্ষণে (রিমোট মনিটরিং) রাখতে হয় এবং প্রতিটি রোবটের জন্য কমপক্ষে ১ লাখ ডলারের বীমা থাকা বাধ্যতামূলক। ফলে রোবটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে পুরোপুরি আইনি ও আর্থিক দায়ভার বহন করতে হয়। তবে এই পুরো মামলা ও গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে 'স্টারশিপ টেকনোলজিস'-এর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
অ্যারিজোনা প্রাইমারি নির্বাচনে নিজের সমর্থিত প্রার্থীদের বড় জয়কে “সম্পূর্ণ বিজয়” আখ্যা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
অ্যারিজোনা প্রাইমারিতে ট্রাম্পের শক্ত অবস্থান, সমর্থিত প্রার্থীদের একের পর এক জয়

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত রিপাবলিকান পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থিত একাধিক প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ফলাফল প্রকাশের পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এটিকে “সম্পূর্ণ বিজয়” হিসেবে উল্লেখ করে বিজয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানান।   নিজের পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, তার সমর্থিত “মাগা” প্রার্থীরা অ্যারিজোনার গুরুত্বপূর্ণ সব প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, অ্যারিজোনা ধীরে ধীরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হচ্ছে।   তবে এই নির্বাচন ছিল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ প্রাইমারি। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় প্রাইমারির মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ নির্বাচনের জন্য নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে। ফলে এই নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীরা নিজেদের দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সমর্থিত কংগ্রেস সদস্য অ্যান্ডি বিগস অ্যারিজোনার গভর্নর পদে রিপাবলিকান মনোনয়ন পেয়েছেন। একই সঙ্গে সাবেক এনএফএল খেলোয়াড় জে ফিলিও অ্যারিজোনার প্রথম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।   অ্যারিজোনা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বা ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে রাজ্যটিতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে। সে কারণে এবারের প্রাইমারি ফলাফল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাবের আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রাইমারি নির্বাচনের ফল সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করে না। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা মুখোমুখি হবেন। সেই নির্বাচনের ফলের ভিত্তিতেই গভর্নর, কংগ্রেসের বিভিন্ন আসন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারিত হবে।

তাবাস্সুম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
নাবালিকাকে অনলাইনে প্রতারণার মাধ্যমে শোষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩৫ বছর বয়সী অভিযুক্ত। ছবি: সংগৃহীত
নিজেকে ১৭ বছরের দাবি করে ১৩ বছরের কিশোরীর সঙ্গে ৫০-বারের শারীরিক সম্পর্ক, ভিডিও রেডিটে ভাইরাল

অনলাইনের জটিল জালে ফেঁদে কিশোরীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে শোষণের ঘটনা নতুন নয়, কিন্তু যখন সেই শোষকের বয়স ৩৫ আর শিকারের বয়স ১৫, তখন তা নিছক অপরাধের চেয়েও বেশি কিছু একটি নির্মম বাস্তবতার দলিল। অ্যারিজোনার স্কটসডেলের ঘটনাটি তেমনি এক উদাহরণ, যেখানে এক বৃদ্ধাশ্রমী শিকারি নিজেকে ১৭ বছরের কিশোর হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক নাবালিকাকে শোষণ করে, ঘটনাগুলো ভিডিওবন্দী করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়।   সম্প্রতি আদালতে হাজিরা দেওয়া ৩৫ বছর বয়সী কিথ শ্যাপারের বিরুদ্ধে মোট ২০টি ফেলনি (অভিযোগ) আনা হয়েছে। তার জামিন ধার্য করা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা শুধু নগদ অর্থে প্রদেয় । পুলিশ ও আদালতের নথি পর্যালোচনা করে জানা যায়, শ্যাপার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত অন্তত ৫০ বারের বেশি ওই কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন। কিন্তু এর গোড়াপত্তন ঘটে আরও অনেক আগে। তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোরী প্রথম শ্যাপারের সংস্পর্শে আসে যখন তার বয়স মাত্র ১৩। এক বন্ধুর কাছ থেকে পাওয়া একটি ফোন নম্বরের সূত্র ধরে তাদের কথোপকথন শুরু হয়। প্রথম দিকে শ্যাপার নিজেকে নারী হিসেবে পরিচয় দিলেও পরে নিজের আসল লিঙ্গ জানান, কিন্তু বয়সের ব্যাপারে মিথ্যা বলেন। সেই সময় থেকেই তারা অসভ্য ছবি বিনিময় করতে শুরু করে, যার মধ্যে শিকারের ১৩ বছর বয়সে তোলা ছবিও অন্তর্ভুক্ত ছিল । একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা আবার শুরু হয়।   গত ১৫ জুলাই, শিকারের দাদি স্কটসডেল পুলিশে অভিযোগ দায়ের করলে পুরো ঘটনা ফাঁস হয়। পুলিশ জানায়, শ্যাপার একটি ধূসর জিপ চেরোকি গাড়িতে করে ওই কিশোরীকে স্কটসডেলের দুটি ভিন্ন অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে যান এবং সেখানেই ঘটনা সংঘটিত করেন। রাতের অন্ধকারে বারবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়া কিশোরীটির অস্বাভাবিক আচরণ থেকেই সন্দেহ হয় পরিবারের ।   সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, শ্যাপার নিজেই পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে তিনি এই সম্পর্কের প্রথম দিকের কিছু ঘটনা ভিডিও করেন এবং সেই ভিডিওগুলো রেডিট প্ল্যাটফর্মে আপলোড করেন। যদিও পরে তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তিনি নিজেই তা ডিলিট করে দেন, এর মধ্য দিয়ে নাবালিকার ছবি ও ভিডিও সাইবার জগতে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয় । পাশাপাশি, তিনি মাদক (মেথামফেটামিন) ব্যবহারের কথাও স্বীকার করেছেন এবং অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই কিশোরীকে তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে মাদক সেবন করতে শিখিয়েছিলেন ।   শ্যাপারের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়েটেড চিলড্রেনের (এনসিএমইসি) কাছে একাধিক সাইবার টিপসও জমা পড়েছে। এক টিপসে তিনি অনলাইনে "১৩ বছরের কিশোরী" নিয়ে যৌন বিষয়বস্তু নিয়ে গর্ব করেছেন এবং স্পষ্ট ভাষায় অশ্লীল মন্তব্য করেছেন। তার স্ন্যাপচ্যাট অ্যাকাউন্টও নাবালিকাদের যৌন নির্যাতনের ছবি শেয়ার করার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল । পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও স্বীকার করেছেন যে তিনি কমপক্ষে ৫০ বারের বেশি নাবালিকাদের সঙ্গে অসভ্য ছবি বিনিময় করেছেন। শ্যাপারের বিরুদ্ধে আগেও মাদক, চুরি এবং মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগ রয়েছে । আদালতে শুনানির সময় তিনি বিচারকের কাছে মুক্তি চেয়ে আবেদন জানান, বলেন তিনি কাজে ফিরে যেতে চান এবং তার বাবা-মায়ের ওপর বোঝা হতে চান না। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, তিনি ভুক্তভোগী বা কোনো নাবালিকার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন না এবং ইলেকট্রনিক মনিটর পরার পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে প্রস্তুত ।   তবে প্রসিকিউটররা শ্যাপারকে ভুক্তভোগী ও অন্যান্য নাবালিকাদের জন্য বিপদজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, তিনি ঘটনা ভিডিও করেন, তা রেডিটে পোস্ট করেন এবং একাধিক নাবালিকার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন ।   শ্যাপার বর্তমানে ম্যারিকোপা কাউন্টি জেলে রয়েছেন। আগামী ২৩ জুলাই তাঁর আবার আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে । এই ঘটনা বাংলাদেশের পাঠকদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা—অনলাইন জগতে কে কী পরিচয়ে লুকিয়ে আছে, তা যাচাই না করে সন্তানদের মুক্ত না দেওয়া এবং অস্বাভাবিক কোনো আচরণ দৃষ্টিগোচর হলে সঙ্গে সঙ্গে আইনের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০