- প্রচ্ছদ
- Topic
অ্যারিজোনা
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের মরুভূমিতে ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিশাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয়েছে। স্টার্লিং নামের এই প্রকল্প থেকে বছরে ১ দশমিক ১ টেরাওয়াট-ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রত্যাশা রয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৯০ শতাংশ কেনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে টেসলা। প্রকল্পটি ২০২৮ সালে চালু হওয়ার লক্ষ্যে নির্মাণ করা হচ্ছে। গত ৬ অক্টোবর প্রকল্পটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে কনটুরগ্লোবাল। যুক্তরাষ্ট্রের মোহাভি কাউন্টিতে লেক হাভাসু সিটির প্রায় ২০ মাইল উত্তরে অবস্থিত এই প্রকল্পের আওতায় মরুভূমির দুই হাজার একরেরও বেশি জমি ব্যবহৃত হবে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এখানে বড় আকারের ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। প্রকল্পে সাত লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। প্যানেলগুলোর সম্মিলিত ক্ষমতা ৫০৯ মেগাওয়াট হলেও বিদ্যুৎ রূপান্তরের পর গ্রিডে সরবরাহযোগ্য ক্ষমতা হবে ৪৫০ মেগাওয়াট। এর সঙ্গে যুক্ত করা হবে তিন শতাধিক ব্যাটারি সংরক্ষণ কনটেইনার। ব্যাটারি ব্যবস্থার সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষমতা হবে ৩৬০ মেগাওয়াট। এতে প্রায় ১ দশমিক ৪ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করা যাবে, যা পূর্ণ ক্ষমতায় প্রায় চার ঘণ্টা সরবরাহ করা সম্ভব। কনটুরগ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, সৌর প্যানেল ও ব্যাটারি একসঙ্গে ব্যবহারের মাধ্যমে দিনে সর্বোচ্চ ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। ব্যাটারিতে ব্যবহার করা হবে লিথিয়াম আয়রন ফসফেট প্রযুক্তি, তরল শীতলীকরণ এবং সমন্বিত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা। টেসলার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ১ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ কিনবে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নবায়নযোগ্য জ্বালানির সনদও চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রকল্পটির প্রত্যাশিত বার্ষিক উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ। চালু হলে স্টার্লিং হবে কনটুরগ্লোবালের বিশ্বব্যাপী বৃহত্তম নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প। প্রকল্পটি ওয়েস্টার্ন এরিয়া পাওয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হবে। পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ার বিদ্যুৎ বাজারে বিদ্যুৎ পাঠানোর জন্য সঞ্চালন অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্মাণকাজে ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪০০ কর্মীর কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা রয়েছে। স্থানীয় কর্মীরা ভূমি উন্নয়ন, সড়ক নির্মাণ ও প্রকল্প এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার কাজ করবেন। ঐতিহাসিক রুট ৬৬-এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে ৫ দশমিক ২ মাইল বা প্রায় ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন প্রবেশসড়ক নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বেসরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। নির্মাণকালে বিনিয়োগের অর্থায়নে সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর একটি গোষ্ঠীর কাছ থেকে ঋণও নিশ্চিত করেছে কনটুরগ্লোবাল। সূত্র: ইলেকট্রেক
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অজ্ঞাত থাকা এক কিশোরের দেহাবশেষের পরিচয় অবশেষে শনাক্ত হয়েছে। ১৯৮২ সালে হোয়াইট ট্যাঙ্ক মাউন্টেন রিজিওনাল পার্কের একটি দুর্গম এলাকায় পাওয়া দেহাবশেষটি ছিল মিচেল জন পলির। ডিএনএ ডো প্রজেক্ট জানিয়েছে, অনুসন্ধানমূলক জেনেটিক জিনিয়োলজি ও পরবর্তী ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। মিচেল জন পলি যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইসে ১৯৬৪ সালে জন্মেছিলেন। পরে তাঁর পরিবার অ্যারিজোনার বাকআই এলাকায় চলে যায়। ডিএনএ ডো প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে প্রায় ১৪ বছর বয়সে তিনি নিখোঁজ হন। বহু বছর ধরে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটিও আনুষ্ঠানিকভাবে এই অজ্ঞাত দেহাবশেষের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। ১৯৮২ সালের ২২ এপ্রিল ফিনিক্সের পশ্চিমে হোয়াইট ট্যাঙ্ক মাউন্টেন রিজিওনাল পার্কের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় একটি খুলিসহ মেরুদণ্ডের কিছু হাড় পাওয়া যায়। ডিএনএ ডো প্রজেক্টের পুরোনো কেস রেকর্ড অনুযায়ী, মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যরা একটি হারিয়ে যাওয়া গান পডের সন্ধানে ওই এলাকায় অভিযান চালানোর সময় দেহাবশেষটি দেখতে পান। ঘটনাস্থল থেকে কোনো পোশাক বা ব্যক্তিগত জিনিস পাওয়া যায়নি। সে সময় চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয় অনুমান করেছিল, দেহাবশেষটি ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী এক কিশোরের এবং আবিষ্কারের এক থেকে তিন বছর আগে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। পরিচয় না মেলায় মামলাটি কয়েক দশক ধরে ‘জন মারিকোপা কাউন্টি ডো’ নামে নথিভুক্ত ছিল। মারিকোপা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের অফিস চলতি বছরের মে মাসে মামলাটি ডিএনএ ডো প্রজেক্টের কাছে পাঠায়। এই অনুসন্ধানে অর্থায়ন করে ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়েটেড চিলড্রেন। এরপর গবেষকেরা ডিএনএ মিলের সূত্র ধরে কিশোরটির পারিবারিক বংশপরিচয় খুঁজতে শুরু করেন। তদন্তে প্রথমে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে জার্মানির যোগসূত্র পাওয়া যায়। পরে কেনটাকি ও মিসৌরির বিভিন্ন পরিবারের সঙ্গে ডিএনএ সংযোগ মিলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত গবেষকদের নজর যায় সেন্ট লুইসের কয়েকটি পরিবারের দিকে। ডিএনএ ডো প্রজেক্টের টিম লিডার মেগান পাসিকার ভাষ্য অনুযায়ী, অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে তাঁরা ১৯৬৪ সালে সেন্ট লুইসে জন্ম নেওয়া এমন এক ছেলের সন্ধান পান, যার পরবর্তী জীবনের কোনো নির্ভরযোগ্য রেকর্ড পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে জানা যায়, ১৯৬৭ সালে তার পরিবার অ্যারিজোনার বাকআই এলাকায় চলে যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রটি ছিল ভৌগোলিক অবস্থান। মিচেলের পরিবার যে এলাকায় বসবাস করত, সেখান থেকে দেহাবশেষ পাওয়ার স্থানটির দূরত্ব ছিল মাত্র প্রায় পাঁচ মাইল। এরপর গবেষকেরা তাঁর পারিবারিক পূর্বপুরুষ এবং ‘জন মারিকোপা কাউন্টি ডো’র ডিএনএ ম্যাচের মধ্যে একাধিক সংযোগ খুঁজে পান। এসব তথ্যের ভিত্তিতে মিচেল জন পলিকে সম্ভাব্য পরিচয় হিসেবে মারিকোপা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের অফিসের কাছে উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তী ডিএনএ পরীক্ষা শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত করে, ১৯৮২ সালে পাওয়া দেহাবশেষটি মিচেলেরই। ডিএনএ ডো প্রজেক্ট এমন একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যারা অজ্ঞাত মানবদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে ইনভেস্টিগেটিভ জেনেটিক জিনিয়োলজি ব্যবহার করে। এই পদ্ধতিতে সরাসরি কোনো ব্যক্তির ডিএনএ রেকর্ড না থাকলেও দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের ডিএনএ ম্যাচ, পারিবারিক বংশতালিকা, জন্ম ও বসবাসের রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়। অ্যারিজোনায় দীর্ঘদিন ধরে বহু অজ্ঞাত মৃতদেহের মামলা রয়েছে। ডিএনএ ডো প্রজেক্ট এর আগেও রাজ্যটির একাধিক ‘জন ডো’ ও ‘জেন ডো’র পরিচয় শনাক্ত করতে সহায়তা করেছে। মিচেলের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় ৪৩ বছরের একটি রহস্যের অবসান হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তিনি ঠিক কখন নিখোঁজ হয়েছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা ছিল কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নতুন কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এখন অন্তত কয়েক দশক ধরে অজ্ঞাত থাকা কিশোরটির একটি নাম ফিরে এসেছে, মিচেল জন পলি।
দক্ষিণ অ্যারিজোনায় দ্বিতীয় সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণ ঠেকাতে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে গাছ আঁকড়ে প্রতিবাদ করছিলেন আন্দোলনকারীরা। শেষ পর্যন্ত সোমবার সেখানে অভিযান চালিয়ে একটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো কটনউড গাছ কেটে ফেলেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ঘটেছে সান রাফায়েল ভ্যালির লোচিয়েল শহরের কাছে। সীমান্তের পাশে থাকা চারটি কটনউড গাছের জায়গা দিয়েই প্রস্তাবিত দ্বিতীয় সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। গাছগুলো রক্ষায় আন্দোলনকারীরা সেখানে দুই মাসের বেশি সময় ধরে অবস্থান করছিলেন। সোমবার ফেডারেল এজেন্টরা ওই প্রতিবাদস্থলে অভিযান চালান। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রায় ৫০ জন ফেডারেল এজেন্ট সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের কয়েকজন মুখোশ পরেছিলেন। এমনকি কিছু এজেন্টের পোশাকের পরিচয়পত্র বা ব্যাজ টেপ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা। অভিযানের সময় একটি গাছে উঠে অবস্থান নেওয়া এক প্রতিবাদকারীকে নামিয়ে আনতে একটি উঁচু প্ল্যাটফর্মযুক্ত যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ফেডারেল এজেন্টরা গাছটি ঘিরে রেখেছেন। পরে ওই যন্ত্রের সাহায্যে গাছের ওপর থাকা প্রতিবাদকারীকে নামিয়ে আনা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই গাছটি কেটে ফেলা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ সংগঠন সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটির কর্মী রাস ম্যাকস্প্যাডেন বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা গাছগুলো কেটে ফেলার পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ ছিলেন। পরে কয়েকজন প্রতিবাদকারী গাছে উঠে অবস্থান নেন। তাদের একজন সেখানে টানা ৭১ দিন ছিলেন বলে জানান তিনি। অভিযানকারীদের দাবি, সোমবারের অভিযানে ১০ জন প্রতিবাদকারীকে আ ট ক করা হয়। তাদের কয়েকজন পরে ছাড়া পেয়েছেন। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত আরও কয়েকজন হেফাজতে ছিলেন। এই গাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অ্যারিজোনায় সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণ নিয়ে পুরোনো বিরোধ আবারও সামনে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণ সীমান্তে নতুন করে সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সান রাফায়েল ভ্যালিতেও নির্মাণকাজ চলছে। আন্দোলনকারীদের কাছে কটনউড গাছটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করত। তাদের মতে, গাছটির বয়স প্রায় ২০০ বছর এবং এটি ওই এলাকার অন্যতম পুরোনো গাছ। সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের জন্য গাছটি কেটে ফেলার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেই তারা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। সোমবারের অভিযানে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ, বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র এজেন্ট মুখোশ পরে সেখানে অভিযান চালান এবং পরিচয় শনাক্ত করার মতো ব্যাজও ঢেকে রাখেন। গাছের ওপর থাকা প্রতিবাদকারীকে সরিয়ে নেওয়ার পর দ্রুত সেটি কেটে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ তাদের। তবে সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও রয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চারটি কটনউড গাছই সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের জন্য অপসারণের তালিকায় ছিল। গাছ কাটার আগে পরিবেশবিষয়ক পর্যবেক্ষকেরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। অ্যারিজোনার সীমান্ত এলাকায় সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণ নিয়ে এর আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তোহোনো ও’ওধাম নেশন এলাকায় নির্মাণকাজের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ আদিবাসী প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছিল। সেখানেও স্থানীয় ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে নির্মাণকাজের বিরোধিতা করা হয়। লোচিয়েল এলাকার প্রতিবাদকারীরা জানিয়েছেন, সোমবারের অভিযান ও গাছ কাটার পরও তাদের আন্দোলন থামছে না। সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের বিরুদ্ধে তারা আরও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। মঙ্গলবারও প্রতিবাদের নতুন চিত্র দেখা গেছে। একজন আন্দোলনকারী মেক্সিকোর পাশের একটি কটনউড গাছে উঠে অবস্থান নেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে একটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো গাছ কেটে ফেলার ঘটনাটি শুধু একটি গাছ অপসারণের বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি অ্যারিজোনায় সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণ, পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের প্রতিবাদ—এই তিনটি বিষয়কে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় প্রায় ৩০০ ডলারসহ একটি মানিব্যাগ খুঁজে পেয়ে মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছিল ১৪ বছরের কোডি চালমার্স। ছেলের সততার কথা মা ফেসবুকে লিখলে পরিবারের অপরিচিত এক ব্যক্তি কোডিকে উপহার দেন তার পছন্দের বৈদ্যুতিক অফরোড সাইকেলটি। এটি ২০২৫ সালের এপ্রিলের ঘটনা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অ্যারিজোনাস ফ্যামিলি প্রথম খবরটি প্রকাশ করে ১ মে; পরে ইনসাইড এডিশনসহ অন্য সংবাদমাধ্যমও ঘটনাটি তুলে ধরে। চ্যান্ডলারের কুইন ক্রিক রোড ও অ্যারিজোনা অ্যাভিনিউয়ের কাছে সাইকেল চালানোর সময় রাস্তায় মানিব্যাগটি দেখতে পায় কোডি। ভেতরে থাকা এক নারীর পরিচয়পত্রের ছবি মাকে পাঠায় সে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনে খুঁজে তাঁরা ওই নারীর ফোন নম্বর বের করেন। কোডির ভাষ্য অনুযায়ী, মানিব্যাগটি হারানোর প্রায় আধা ঘণ্টা পরই মালিক তা ফেরত পান। মানিব্যাগে নগদ টাকার পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্স, ক্রেডিট কার্ড ও স্বাস্থ্যবিমার কার্ড ছিল বলে মালিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান। কোডি বলেছে, জিনিসটি হারিয়ে মালিক নিশ্চয়ই দুশ্চিন্তায় পড়বেন - এই ভেবেই সে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কয়েক বছর আগে তার বাবার মানিব্যাগ চুরি যাওয়ার পর পরিবারের উদ্বেগও তার মনে ছিল। কোডির মা ক্যারি স্ট্রেকার জানান, ছেলে কয়েক মাস ধরে একটি বৈদ্যুতিক অফরোড সাইকেল কেনার জন্য টাকা জমাচ্ছিল। সাইকেলটির দাম ছিল প্রায় চার হাজার ডলার। মানিব্যাগ ফেরত দেওয়ার ঘটনাটি তিনি স্থানীয় ফেসবুক গ্রুপে লেখেন। সেই পোস্ট দেখে তাঁদের অপরিচিত এক ব্যক্তি সাইকেলটি কিনে কোডিকে উপহার দেন। পরবর্তী প্রতিবেদনে উপহারদাতার নাম অ্যাডাম বেইলি বলে উল্লেখ করা হয়েছে; প্রথম স্থানীয় প্রতিবেদনে তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি। কোডি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছে, মানিব্যাগ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এমন কিছু পাবে, তা তার কল্পনায়ও ছিল না। তার মা ছেলের ঘটনাটি প্রকাশ করেছিলেন অন্যদের জানাতে যে কিশোরদের ভালো কাজও নজরে আনার মতো।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে মুদি ও কনভেনিয়েন্স স্টোরে চাকরির সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। জাতীয়ভাবে এ খাতে চাকরি কমেছে প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। ফেডারেল শ্রম বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে অ্যারিজোনা সেন্টার ফর ইকোনমিক প্রগ্রেস এ হিসাব দিয়েছে। একই সময়ে অ্যারিজোনার দোকানগুলোতে দেওয়া মোট মজুরির অঙ্ক কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। জাতীয়ভাবে কমেছে ১ শতাংশের কম। এটি খাতটিতে দেওয়া মোট মজুরির হিসাব; প্রত্যেক কর্মীর বেতন একই হারে কমেছে, এমন তথ্য নয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেওএলডির প্রতিবেদনে কয়েকজন ক্রেতা জানিয়েছেন, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা খাবার কেনায় খরচ কমাচ্ছেন। এক মুদি দোকানের কর্মী জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগে লোক কম থাকলেও কাজের প্রত্যাশা আগের মতোই রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সান্তা ক্রুজ কাউন্টিতে মুদি দোকানের চাকরি কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ এবং গ্রাহাম কাউন্টিতে ১৩ শতাংশ। সংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে বেশি চাকরি কমেছে ম্যারিকোপা কাউন্টিতে, প্রায় ৯০০টি। অ্যারিজোনা সেন্টার ফর ইকোনমিক প্রগ্রেস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে রাজ্যটিতে স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তা পাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার কমেছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জোসেফ পালোমিনোর মতে, খাদ্য সহায়তা কমলে পরিবারের কেনাকাটার সামর্থ্য এবং স্থানীয় দোকানের আয়েও চাপ পড়তে পারে। তবে স্ন্যাপ পাওয়া মানুষের সংখ্যা কমার কারণেই মুদি দোকানে চাকরি ও মোট মজুরি কমেছে, প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে তা নিশ্চিত করা যায় না। তথ্যগুলো একই সময়ে খাদ্য কেনাকাটা ও মুদি দোকানের কর্মসংস্থানে তৈরি হওয়া চাপের চিত্র তুলে ধরছে।
বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও রেসিংয়ের অভিযোগে এক ডেলিভারি চালককে হেফাজতে নেওয়ার পর তার গাড়িতে থাকা গ্রাহকের পিৎজার অর্ডারটি নিজেরাই পৌঁছে দিলেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টেম্পি শহরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ঘটে এই অদ্ভুত ঘটনা। বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও রেসিংয়ের অভিযোগে ট্রাফিক স্টপের সময় এক গ্রাবহাব ডেলিভারি চালককে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তবে চালককে নিয়ে যাওয়ার সময় তার গাড়িতে একজন গ্রাহকের পিৎজার অর্ডার পড়ে ছিল। চালককে হেফাজতে নেওয়ার পর পিৎজাটি কীভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছাবে, তা নিয়ে ভাবেন পুলিশ কর্মকর্তারা। শেষ পর্যন্ত তারা নিজেরাই অর্ডারটি পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর দুই কর্মকর্তা পিৎজার বাক্স হাতে ওই নারীর বাড়ির দরজায় গিয়ে হাজির হন। দরজা খুলে সামনে পুলিশ কর্মকর্তাদের দেখে বিস্মিত হয়ে যান গ্রাহক। তখন এক কর্মকর্তা তাকে জানান, তার গ্রাবহাব ডেলিভারি চালককে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে, তাই তারা পিৎজাটি পৌঁছে দিতে এসেছেন। পাশে থাকা আরেক কর্মকর্তা মজা করে বলেন, পিৎজাটি এখনো গরম থাকার কথা। অপ্রত্যাশিত এই ডেলিভারিতে অবাক হলেও পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান ওই নারী। পরে টেম্পি পুলিশ বিভাগের প্রকাশ করা বডিক্যাম ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে পুলিশের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ঘটনাটি দেখা যায়। ঘটনাটি নিয়ে টেম্পি পুলিশও রসিকতা করে জানায়, ডেলিভারি চালককে হেফাজতে নেওয়া হলেও পিৎজার ডেলিভারি শেষ পর্যন্ত ঠিকই সম্পন্ন হয়েছে। ফলে একটি সাধারণ ট্রাফিক স্টপই পরিণত হয় অস্বাভাবিক এক পিৎজা ডেলিভারির ঘটনায়।
অ্যারিজোনার মেসায় মাত্র ৯৭৭ ডলার হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বা হোআ (HOA) এর বকেয়া থেকে শুরু হওয়া বিরোধে সাড়ে চার লাখ ডলারের একটি বাড়ি শেষ পর্যন্ত নিলামে কিনে নিয়েছে সেই হোআ। ২০২৫ সালের শেষ দিকে হওয়া এই নিলামে বাড়িটির দাম ওঠে মাত্র ৮ হাজার ১৭২ ডলার। ঘটনাটি নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা চলছে। ইস্ট মেসার বাসিন্দা টবি নিউটন ২০২২ সালে প্রায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলারে চার বেডরুমের বাড়িটি কিনেছিলেন। অবসর জীবনের জন্য কেনা বাড়িটিতে তিনি তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী শেরি প্যাটেনকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। ২০২৪ সালে নিউটনের চাকরি চলে যাওয়ার পর তিনি আর্থিক সমস্যায় পড়েন। একই সময়ে তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। ফলে বাড়ির নিয়মিত খরচের পাশাপাশি হোআর প্রায় ১৭০ ডলার ত্রৈমাসিক ফি পরিশোধ করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হোআর কাছে তার বকেয়া দাঁড়ায় ৯৭৭ ডলার, যার মধ্যে ফি ও সুদ ছিল। নিউটনের দাবি, বকেয়া পরিশোধের জন্য তিনি হোআর সঙ্গে একাধিকবার পেমেন্ট প্ল্যানের চেষ্টা করেন। প্রথমে মাসে ৫০ ডলার, পরে ১৩৩ দশমিক ৭০ ডলার এবং শেষ পর্যন্ত মাসে ২০০ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। এরপর বিষয়টি ফোরক্লোজার প্রক্রিয়ায় গড়ায়। আদালতের প্রক্রিয়ায় অ্যাটর্নি ফি, কালেকশন খরচ ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হতে থাকে। ফলে প্রাথমিক ৯৭৭ ডলারের বকেয়া পরে কয়েক হাজার ডলারে বেড়ে যায়। ২০২৫ সালে আদালতের প্রক্রিয়া শেষে বাড়িটি পাবলিক অকশনে তোলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপারস্টিশন স্প্রিংস কমিউনিটি মাস্টার অ্যাসোসিয়েশন ৮ হাজার ১৭২ ডলারের সর্বোচ্চ দর দিয়ে বাড়িটি কিনে নেয়। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে চার লাখ ডলারের মূল্যের একটি বাড়ি হোআর নিলাম ক্রয়ে চলে যায় মাত্র কয়েক হাজার ডলারে। এদিকে বাড়িটি হারানোর পরও নিউটন ও প্যাটেন সেখানে অবস্থান করছেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বাড়িটি ফেরত পাওয়ার জন্য তারা আইনি উদ্যোগের পাশাপাশি অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। ঘটনাটির সময়কালও গুরুত্বপূর্ণ। নিউটনের বিরুদ্ধে ফোরক্লোজার প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৪ সালে। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যারিজোনায় নতুন আইন কার্যকর হয়, যেখানে পরিকল্পিত আবাসিক কমিউনিটির হোআর ফোরক্লোজারের ক্ষেত্রে বকেয়ার সীমা ১ হাজার ২০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ডলার করা হয় এবং বকেয়া থাকার সময়সীমা এক বছর থেকে ১৮ মাস করা হয়। ফলে নিউটনের মামলাটি নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগের আইনি কাঠামোর অধীনে এগিয়েছিল। ঘটনাটি সামনে আসার পর হোআর ক্ষমতা, বকেয়া আদায়ের পদ্ধতি এবং তুলনামূলকভাবে ছোট অঙ্কের দেনা থেকে একটি বাড়ির ওপর ফোরক্লোজার কীভাবে হতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের পিওরিয়ায় পরিবারের বাড়ির বাইরে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে গাড়িতে কয়েক ঘণ্টা থাকার পর ৫ বছরের থিও সাবোর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সময় বাড়িতে প্রায় ৫০ জন অতিথি নিয়ে পারিবারিক আয়োজন চলছিল। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা-মা মিহাইল সাবো ও আনকা সাবোকে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ১৩ সেপ্টেম্বর, রোববার। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা গির্জায় অন্য এক সন্তানের বাপ্তিস্ম অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দুপুর ১টার দিকে পিওরিয়ার বাড়িতে ফেরেন। এরপর বাড়িতে পারিবারিক আয়োজন চলতে থাকে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন, থিওকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে শিশুটির মা আনকা সাবো বাড়ির বাইরে থাকা পারিবারিক গাড়ির ভেতর থিওকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরিবারের সদস্যরা তাকে গাড়ি থেকে বের করে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বুকে চাপ দিয়ে কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস চালুর চেষ্টা করেন। পরে জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার দিন পিওরিয়া এলাকায় তাপমাত্রা ১০৫ থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি উঠেছিল। স্থানীয় আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন ফিনিক্স এলাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট, যা প্রায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শিশুটিকে গাড়িতে কীভাবে এতক্ষণ রেখে দেওয়া হলো, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম বিষয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কে শিশুটিকে গাড়ি থেকে বের করে আনবেন, তা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আদালতে পরিবারের আইনজীবী লিয়া ডডের বক্তব্য অনুযায়ী, থিওকে গাড়ি থেকে বের করে আনার দায়িত্ব প্রথমে বাবার ওপর থাকার কথা ছিল। পরে মিহাইল সাবো তাঁদের ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে থিওকে গাড়ি থেকে বের করে আনতে বলেছিলেন বলে আইনজীবী দাবি করেন। তবে আদালতে ওই কিশোর জানায়, তাকে এমন কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে তার মনে নেই। এই বক্তব্যের কারণে ঘটনার দায়িত্ব কার ওপর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটির অনুপস্থিতি বুঝতে পারেন। এরপর খোঁজাখুঁজির সময় গাড়ির ভেতর তাকে পাওয়া যায়। থিওর মৃত্যুর পর তাঁর বাবা মিহাইল ও মা আনকাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে শিশুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ করেনি এবং মামলার কিছু নথি আদালতের নির্দেশে গোপন রাখা হয়েছে। সোমবার মারিকোপা কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে পৃথক শুনানিতে হাজির হন থিওর বাবা-মা। শুনানির সময় আনকা সাবো কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং সন্তানদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চান। তাঁর আইনজীবী আদালতে বলেন, শিশুটিকে গাড়িতে পাওয়া যাওয়ার পর আনকাই জরুরি নম্বরে ফোন করেন, জীবন রক্ষার চেষ্টা করেন এবং তদন্তকারীদের সহযোগিতা করেন। আইনজীবী লিয়া ডড আরও বলেন, ঘটনাটি একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির ফল। তিনি অভিযোগ করেন, অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ এ ঘটনায় প্রযোজ্য নয়। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিশুটি দুই ঘণ্টারও বেশি সময় গাড়িতে ছিল এবং ওই পুরো সময় বাবা-মা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জানতেন না। আদালত মিহাইল ও আনকা সাবোর প্রত্যেকের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ড নির্ধারণ করেছেন। তাঁদের একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁদের অন্য চার সন্তানের সঙ্গে তত্ত্বাবধানে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ওই চার সন্তানের বয়স ৯, ১৪, ১৫ ও ১৮ বছর। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, দম্পতির বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তাঁরা প্রায় ১৯ বছর ধরে বিবাহিত এবং ২০১১ সাল থেকে অ্যারিজোনায় বসবাস করছেন বলে তাঁদের আইনজীবী জানিয়েছেন। পরিবারের প্রতিবেশীরাও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দম্পতিকে ভালো মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুটির ক্ষতি করা হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন না বলে জানিয়েছেন। অ্যারিজোনায় প্রচণ্ড গরমের কারণে গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা বাইরে থাকা তাপমাত্রার তুলনায় দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিস্থিতি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। পিওরিয়া পুলিশের কর্মকর্তা উইলিয়াম কেনেডি পরিবারগুলোর প্রতি গাড়ি থেকে নামার আগে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও পোষা প্রাণী কেউ ভেতরে রয়ে গেছে কি না তা নিশ্চিতভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শিশু নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা কিডস অ্যান্ড কার সেফটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সাল থেকে অ্যারিজোনায় গরম গাড়িতে অন্তত ৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সংস্থাটি শিশুদের গাড়িতে রেখে না যাওয়ার পাশাপাশি গাড়ি থেকে নামার পর শিশুর অবস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়। থিওর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত এখনো চলছে। মিহাইল ও আনকা সাবো আগামী ২১ সেপ্টেম্বর মারিকোপা কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে আবার হাজির হবেন। পরবর্তী শুনানিতে মামলার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: এজেডফ্যামিলি, কেজেডজেড, পিওরিয়া পুলিশ বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে মাত্র ৯৭৭ ডলার বকেয়ার জেরে প্রায় ৫ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের একটি বাড়ি হারানোর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মেসা শহরের বাসিন্দা টোবি নিউটন ২০২২ সালে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলার খরচ করে চার বেডরুমের ওই বাড়িটি কিনেছিলেন। কিন্তু দুই বছর পর চাকরি হারানো এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। এর ফলে তিনি ‘সুপারস্টিশন স্প্রিংস কমিউনিটি মাস্টার অ্যাসোসিয়েশন’-এর ত্রৈমাসিক ১৭০ ডলারের ‘এইচওএ’ (HOA) বা হাউজিং ফি পরিশোধে ব্যর্থ হন। ধীরে ধীরে তার বকেয়া ফি ও সুদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৭৭ ডলারে। বকেয়া মেটাতে নিউটন মাসে ২০০ ডলার করে কিস্তি দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও, তা প্রত্যাখ্যান করে হাউজিং সমিতি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন বাড়িটি ফোরক্লোজার বা বাজেয়াপ্ত করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। আইনি লড়াই দীর্ঘায়িত হওয়ার সাথে সাথে সামান্য ওই বকেয়ার অঙ্কও লাফিয়ে বাড়তে থাকে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাসের মধ্যে বকেয়া ফি, বাদীর খরচ এবং আইনজীবীর ফিসহ নিউটনের মোট দেনা গিয়ে ঠেকে ৬ হাজার ৫৭৯ ডলারে। শেষমেশ ২০২৫ সালের অক্টোবরে এক সরকারি নিলামে বাড়িটি মাত্র ৮ হাজার ১৭২ ডলারে কিনে নেয় খোদ সুপারস্টিশন স্প্রিংস কমিউনিটি মাস্টার অ্যাসোসিয়েশন! আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, এমন ঘটনা ঠেকাতেই ২০২৫ সালের এপ্রিলে অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা 'সিনেট বিল ১৪৯৪' নামের একটি নতুন আইন পাস করেছিলেন। নতুন এই আইনে বলা হয়েছে, কোনো বাড়ির মালিকের বকেয়া অন্তত ১৮ মাসের পুরোনো হতে হবে অথবা তাকে ন্যূনতম ১০ হাজার ডলারের বেশি ফি বকেয়া রাখতে হবে, তবেই কেবল এইচওএ তার বাড়িটি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে। এছাড়া বাজেয়াপ্ত করার আগে মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তিসঙ্গত কিস্তির প্রস্তাব দেওয়ারও নিয়ম করা হয়েছিল ওই আইনে। কিন্তু নিউটনের ক্ষেত্রে এর কোনোটিই কাজে আসেনি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় চরম আর্থিক ও মানসিক বিপর্যয়ে পড়া নিউটনের জন্য তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী শেরি প্যাটেন বর্তমানে ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe)-এর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের একটি ব্যস্ত মহাসড়কে অটোপাইলট মোডে চলা অবস্থায় হঠাৎ থেমে যায় একটি টেসলা গাড়ি। এরপর পেছন থেকে আসা একটি বিশাল আকৃতির ফোর্ড এফ ৩৫০ পিকআপ ট্রাকের সজোরে ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান টেসলার চালক। সম্প্রতি মার্কিন ট্রাফিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া নতুন নথিপত্র থেকে এই দুর্ঘটনার পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাত আনুমানিক তিনটার দিকে মেসা শহরের ইস্টবাউন্ড লুপ ২০২ মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার শিকার গাড়িটি ছিল ২০২০ সালের মডেল ৩ টেসলা। গাড়িটি যখন মহাসড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এটি হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে পুরোপুরি থেমে যায়। সে সময় স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অ্যারিজোনাস ফ্যামিলি এবং টুয়েলভ নিউজ দুর্ঘটনার খবর প্রচার করলেও, সেখানে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কোনো উল্লেখ ছিল না। তবে সম্প্রতি ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বা এনএইচটিএসএ কাছে টেসলার জমা দেওয়া নথিপত্র থেকে চালকের মৃত্যুর জন্য দায়ী প্রযুক্তিগত ত্রুটির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইলেকট্রিক এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার নথিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে মারাত্মক ওই সংঘর্ষের সময় টেসলার স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং সিস্টেম চালু ছিল। এটি টেসলার সাধারণ অটোপাইলট কিংবা ব্যয়বহুল ফুল সেলফ ড্রাইভিং বা এফএসডি সফটওয়্যার হতে পারে। এছাড়া দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে গাড়িটির গতিবেগ ঘণ্টায় শূন্য মাইল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগেই ফ্লোরিডার একটি মহাসড়কে প্রায় একই ধরনের একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সেখানেও টেসলার ড্রাইভার অ্যাসিস্ট সফটওয়্যারে চলা একটি মডেল ৩ গাড়ি মহাসড়কের মাঝখানে হঠাৎ থেমে যায় এবং পেছন থেকে অন্য একটি যানের ধাক্কায় টেসলার চালক নিহত হন। টেসলার গাড়িগুলোতে দীর্ঘকাল ধরেই ফ্যান্টম ব্রেকিং নামের এক অদ্ভুত প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা যাচ্ছে। এই ত্রুটির ফলে সামনে কোনো বাধা ছাড়াই গাড়িগুলো হঠাৎ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক কষে। একটি গাড়ির ভিডিও, টেলিমেটিক্স এবং ইভেন্ট ডেটা রেকর্ডারসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য টেসলার কাছে সংরক্ষিত থাকে। ফলে গাড়িটি কেন হঠাৎ থেমে গিয়েছিল, তা কোম্পানিটির কাছে খুবই স্পষ্ট। তবে ইলেকট্রিক জানিয়েছে, টেসলা এই দুর্ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি তথ্য গোপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, ব্যবহৃত সফটওয়্যারের সংস্করণ এবং গাড়িটি অনুমোদিত এলাকায় চলছিল কি না সেই তথ্য। এই তথ্যগুলোকে গোপন ব্যবসায়িক তথ্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছে টেসলা। জানা গেছে, কোম্পানিটি তাদের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ দুর্ঘটনার প্রতিবেদনেই এই কৌশল অবলম্বন করে থাকে। ফ্যান্টম ব্রেকিং ত্রুটি নিয়ে ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছিল ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। অটোপাইলট বা অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল ব্যবহারের সময় মহাসড়কের দ্রুতগতিতে গাড়ি হঠাৎ থেমে যাওয়ার অসংখ্য অভিযোগ পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে চার বছর ধরে চলা সেই তদন্তটি চলতি বছরের গত জুলাই মাসে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। সংস্থাটি জানায়, এ ধরনের দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং তারা যান্ত্রিক ব্রেকের কোনো ত্রুটি বা অযৌক্তিক সংঘর্ষের ঝুঁকি খুঁজে পায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ১১ বছর বয়সী জিওভান্নি ক্রুজ বেসবল খেলার সময় হঠাৎ বুকে ও পিঠে তীব্র ব্যথায় আক্রান্ত হওয়ার পর অত্যন্ত বিরল ইডিওপ্যাথিক মাল্টিসেন্ট্রিক ক্যাসলম্যান রোগে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। জুন মাসে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তার রোগ শনাক্ত করেন। জিওভান্নির মা প্যাট্রিসিয়া জানান, অসুস্থ হওয়ার আগে তার ছেলে নাচছিল, হাসছিল এবং বেসবল খেলছিল। হঠাৎ তার বুকে ব্যথা শুরু হয় এবং শরীর ঘামতে থাকে। পরে ব্যথা বাড়তে থাকলে প্যাট্রিসিয়া তাকে দ্রুত টাকসন মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে একাধিক পরীক্ষা করা হলেও প্রায় এক সপ্তাহ পর কোনো নির্দিষ্ট রোগ শনাক্ত না করেই তাকে বাড়ি পাঠানো হয়। বাড়ি ফেরার পরও জিওভান্নির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তার মা জানান, এক মুহূর্তের মধ্যে সে প্রচণ্ড ব্যথায় চিৎকার করতে শুরু করত, ঘামত এবং পিঠের ব্যথার কথা বলত। পরে তাকে আবার টাকসন মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ব্যানার ডায়মন্ড চিলড্রেনস মেডিকেল সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ইডিওপ্যাথিক মাল্টিসেন্ট্রিক ক্যাসলম্যান রোগ শনাক্ত করেন। ইডিওপ্যাথিক মাল্টিসেন্ট্রিক ক্যাসলম্যান একটি অত্যন্ত বিরল রোগ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি ১০ লাখ আমেরিকানের মধ্যে মাত্র প্রায় তিনজন এই রোগে আক্রান্ত হন। এই রোগে শরীরের বিভিন্ন অংশের লসিকা গ্রন্থি আক্রান্ত হয়ে বড় হয়ে যেতে পারে। রোগটি রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে অতিরিক্ত সক্রিয় করে দেওয়ায় শরীরজুড়ে ব্যাপক প্রদাহ তৈরি হতে পারে এবং বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্যাট্রিসিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, জিওভান্নির অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়েছিল। সে প্রচণ্ড ব্যথায় ভুগছিল, ঘামছিল এবং পরে প্রচুর বমি করতে শুরু করে। তার গালও লাল হয়ে উঠেছিল। পরবর্তী পরীক্ষায় দেখা যায়, তার শরীরের বিভিন্ন লসিকা গ্রন্থি আক্রান্ত হয়েছে। প্যাট্রিসিয়া জানান, ক্যাসলম্যান রোগের এমন একটি ধরন রয়েছে যেখানে একটি মাত্র লসিকা গ্রন্থি আক্রান্ত হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি অপসারণ করা যায়। তবে জিওভান্নির ক্ষেত্রে রোগটি শরীরের বিভিন্ন লসিকা গ্রন্থিতে ছড়িয়ে রয়েছে। পরিবারের জন্য তৈরি তহবিল সংগ্রহের তথ্য অনুযায়ী, জিওভান্নির চিকিৎসায় একাধিক অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনবার নমুনা পরীক্ষা, তিনটি লসিকা গ্রন্থি অপসারণ করে বিস্তারিত পরীক্ষা, চৌম্বকীয় অনুরণন পরীক্ষা, কম্পিউটারভিত্তিক স্ক্যান, হৃদ্যন্ত্রের পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড, এক্স-রে এবং বহুবার রক্ত পরীক্ষা রয়েছে। তহবিল সংগ্রহের তথ্যে আরও বলা হয়েছে, জিওভান্নির পেট, ফুসফুস ও হৃদ্যন্ত্রের চারপাশে তরল জমেছিল। এর কারণে তার শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল এবং অতিরিক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হচ্ছিল। একই সঙ্গে তার কিডনিতেও জটিলতা দেখা দিয়েছে এবং দীর্ঘস্থায়ী জ্বর রয়েছে। বর্তমানে তাকে আইএল-৬নির্ভর চিকিৎসা, উচ্চমাত্রার শিরাপথে স্টেরয়েড এবং ডায়ালাইসিস দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রায় ছয় থেকে আট সপ্তাহ চলতে পারে বলে তহবিল সংগ্রহের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান চিকিৎসায় সাড়া না দিলে পরবর্তী সময়ে কেমোথেরাপি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে জিওভান্নি কতদিন হাসপাতালে থাকবে এবং চিকিৎসায় তার শারীরিক সাড়া কেমন হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইডিওপ্যাথিক মাল্টিসেন্ট্রিক ক্যাসলম্যান রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। এই রোগে লিভার, কিডনি ও অস্থিমজ্জাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ আক্রান্ত হতে পারে। জিওভান্নির মা তার হাসপাতালে থাকার পুরো সময় তার পাশে রয়েছেন এবং এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কাজেও যেতে পারেননি। অসুস্থ হওয়ার আগে জিওভান্নি সাহুয়ারিটায় ষষ্ঠ শ্রেণি ও মধ্য বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করার অপেক্ষায় ছিল। সে বেসবলের প্রতি আগ্রহী এবং প্রথম ও তৃতীয় বেসে খেলার পাশাপাশি পিচার হিসেবেও খেলত। বর্তমানে বিরল এই রোগের চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ১১ বছর বয়সী শিশুটি। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৫ জন হাইকার ও ব্যাকপ্যাকার নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এলাকায় হঠাৎ প্রবল বন্যা দেখা দিলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর মধ্যে ৬২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস (এনপিএস) জানিয়েছে, নিখোঁজদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তাদের মধ্যে কেউ ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক করিডোরে হাঁটছিলেন, কেউ ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন, আবার কেউ নর্থ কাইবাব ট্রেইল ধরে ফ্যান্টম র্যাঞ্চের দিকে যাচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বন্যার ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের ওপর থাকা প্রায় সব পায়ে হাঁটার সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে। পানির প্রবল স্রোতে কাদা, পাথর, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ ভেসে গিয়ে কলোরাডো নদীতেও পড়ে। এতে নদীপথে চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এনপিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এলাকায় আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। ৩০ আগস্ট সকাল পর্যন্ত ফ্যান্টম র্যাঞ্চ ও নর্থ কাইবাব ট্রেইলের নিচের অংশ থেকে ৬২ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আরও কয়েকজনকে কটনউড ক্যাম্পগ্রাউন্ড ও ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। উদ্ধার করা ব্যক্তিদের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দক্ষিণ প্রান্তের মাসউইক লজ ক্যাফেটেরিয়ায় নেওয়া হয়, যেখানে আমেরিকান রেড ক্রস তাদের সহায়তা করছে। প্রথম দিকে পার্ক কর্তৃপক্ষ ২০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ বা নিখোঁজের মতো অবস্থায় থাকতে পারেন বলে জানিয়েছিল। পরে যাচাইয়ের পর সেই সংখ্যা প্রায় ১৫ জনে নেমে আসে। তাদের মধ্যে কারা রয়েছেন বা তারা কোন এলাকার বাসিন্দা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস তাই নিখোঁজ ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য দিতে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে। বিশেষ করে নর্থ কাইবাব ট্রেইলহেড থেকে ফ্যান্টম র্যাঞ্চ পর্যন্ত যাতায়াত করা হাইকার, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ডে অবস্থানকারী ব্যক্তি এবং ফ্যান্টম র্যাঞ্চের উত্তরে ‘দ্য বক্স’ নামে পরিচিত এলাকায় থাকা বা চলাচল করা ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কারও পরিচিত ব্যক্তি ওই এলাকায় ছিলেন বলে জানা থাকলে তার নাম, আনুমানিক অবস্থান, ভ্রমণ পরিকল্পনা, দলের সদস্যসংখ্যা কিংবা পোশাক ও ব্যাগের বর্ণনা দিয়ে তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। বন্যার সময়ের বিভিন্ন ভিডিওতে ক্যানিয়নের ভেতর দিয়ে কাদা ও পানির প্রবল স্রোত নেমে আসতে দেখা গেছে। বড় বড় পাথর, গাছের অংশ এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ পানির সঙ্গে ভেসে যায়। একজন হাইকার বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, বৃষ্টির পর তারা হঠাৎ করে খালে পানি বেড়ে যেতে, বিভিন্ন জায়গা থেকে জলপ্রপাতের মতো পানি নেমে আসতে এবং পাথর, কাদা ও ভূমিধস দেখতে পান। প্রবল স্রোতে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের গতিপথও বদলে গেছে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, বন্যায় ক্যানিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে রয়েছে সেতু, ট্রেইল, পানি ও অন্যান্য পরিষেবা অবকাঠামো। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন এখনো চলছে। বন্যার পর ফ্যান্টম র্যাঞ্চ, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড এবং পুরো নর্থ কাইবাব ট্রেইল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। কলোরাডো নদীর ওপরের ব্ল্যাক ব্রিজ ও সিলভার ব্রিজও বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে নদীতে ধাতব কাঠামো ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ পড়ে যাওয়ায় ওই এলাকায় নৌযান চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে। এসব এলাকা কবে খুলবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। আবহাওয়ার ঝুঁকিও এখনো কাটেনি। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, রোববার ও সোমবার আরও বজ্রঝড় এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নতুন করে আকস্মিক বন্যা, ধ্বংসাবশেষের স্রোত, পাথর ধস এবং ট্রেইল ও নদীর পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে পারে। এই বন্যার পেছনে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দুর্গম ভূপ্রকৃতির পাশাপাশি গত বছরের ড্রাগন ব্রাভো দাবানলের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ওই দাবানলে নর্থ রিমের বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে যায়। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি জলাধার ও উপত্যকায় ভারী বৃষ্টির পর আকস্মিক বন্যা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। বিশেষ করে খাড়া ভূখণ্ডে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেও পানি দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। ড্রাগন ব্রাভো দাবানলের পর গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের কর্মকর্তারা এ ধরনের বন্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক ছিলেন। ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যার আগাম সতর্কতা উন্নত করতে ফ্যান্টম র্যাঞ্চের উজানে অতিরিক্ত পানি প্রবাহ মাপার যন্ত্র ও অন্যান্য সেন্সর স্থাপন করা হয়েছিল। তবে এবারের বন্যার আকস্মিকতা ও স্রোতের শক্তি পরিস্থিতিকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে এমন আকস্মিক বন্যা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে ক্যানিয়নের গভীর ও খাড়া ভূপ্রকৃতির কারণে ওপরের দিকে বৃষ্টি হলেও নিচের অংশে হঠাৎ করে ভয়াবহ স্রোত তৈরি হতে পারে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস তাই দর্শনার্থীদের আবহাওয়ার সতর্কতা অনুসরণ করতে এবং বৃষ্টি না হলেও ক্যানিয়নের ভেতরের নদী, খাল বা নিচু এলাকায় অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়ে থাকে। এদিকে উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান অব্যাহত রেখেছে। পার্ক কর্তৃপক্ষ ও অ্যারিজোনা জননিরাপত্তা বিভাগ সমন্বয় করে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্যে কোনো আহত বা নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আরও বৃষ্টি ও নতুন করে বন্যার আশঙ্কা থাকায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালানো হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে সময় যত গড়াচ্ছে, তাদের পরিবার ও স্বজনদের উদ্বেগও বাড়ছে। দুর্গম ক্যানিয়নের ভেতরে বন্যার পর বদলে যাওয়া ভূপ্রকৃতি, ধ্বংস হওয়া সেতু এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পথ উদ্ধারকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপাতত সবার নজর নিখোঁজ হাইকারদের সন্ধান এবং নতুন করে কোনো প্রাণহানি ঠেকানোর দিকে। সংবাদসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং আল জাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে তীব্র গরমের মধ্যে মরুভূমিতে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ৭২ বছর বয়সী গ্র্যান্ট সাইলার। প্রায় ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় মাটিতে পড়ে থাকার পর তাঁর শরীরে ভয়াবহ দগ্ধ হওয়ার ক্ষত তৈরি হয়েছে। এখন তাঁর ডান পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলতে হতে পারে। অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে গত ৩ আগস্ট এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১০ ফিনিক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইলার সেদিন বাড়ির এলাকা থেকে প্রায় এক মাইল দূরে মরুভূমির দিকে হাঁটতে গিয়েছিলেন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে হঠাৎ হোঁচট খেয়ে পড়ে যান তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নিজে উঠে দাঁড়াতে বা সাহায্য চাইতে পারেননি। সাইলারের মেয়ে হিদার ক্রুক জানান, তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বুলহেড সিটিতে বসবাস করছে এবং প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে তারা পরিচিত। ১৯৮৮ সালে তাঁর পরিবার সেখানে চলে আসে। কিন্তু দুর্ঘটনার দিন তাপমাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ক্রুক বলেন, প্রথমে বাবার পড়ে যাওয়ার খবর শুনে তাঁর মনে হয়েছিল, এত গরমের মধ্যে তিনি বাইরে হাঁটতে গেলেন কেন। কিন্তু পরে তাঁর অবস্থার ভয়াবহতা জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সাইলারকে শেষ পর্যন্ত এক পথচারী নারী দেখতে পান। তিনি মাটিতে পড়ে থাকা সাইলারের শরীরে পানি ঢালেন এবং তাঁকে জ্ঞান ফেরাতে সাহায্য করেন। এরপর স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তাঁর বাড়ির ঠিকানা জেনে জরুরি সেবায় খবর দেন। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় সাইলার প্রচণ্ড কাঁপছিলেন। তাঁর শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৪০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল বলে তাঁর পরিবারের ভাষ্য। তাঁকে দ্রুত লাস ভেগাসের একটি দগ্ধ রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় উত্তপ্ত মাটির ওপর পড়ে থাকার কারণে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাত্রার দগ্ধ হওয়ার ক্ষত তৈরি হয়েছে। তিনি একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা-সংক্রান্ত জটিলতারও মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর ডান পায়ের টিস্যু এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে তা আর স্বাভাবিকভাবে সেরে ওঠার সম্ভাবনা নেই বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। এ কারণে আগামী ৩১ আগস্ট তাঁর ডান পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলার অস্ত্রোপচার করার কথা রয়েছে। এরপর তাঁকে দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কৃত্রিম পা, চলাফেরার সহায়ক সরঞ্জাম এবং বাড়িতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মতো বিষয়ও পরিবারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাইলারের মেয়ে ক্রুক পেশায় একজন নার্স। তিনি বাবাকে অত্যন্ত শক্ত ও স্বনির্ভর মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, সাধারণত সামান্য আঘাত পেলেও সাইলার চিকিৎসা বা অন্যের সহায়তা নিতে চাইতেন না। ক্রুক জানান, মাত্র নয় মাস আগেও তাঁর বাবা তাঁর বাড়ির পেছনে একটি দেয়াল নিজেই পুনর্নির্মাণ করেছিলেন। তখন প্রায় ৮০ পাউন্ড ওজনের একটি কংক্রিটের ব্লক তাঁর পায়ের ওপর পড়ে গেলেও তিনি ব্যথানাশক ওষুধও নিতে চাননি। সেই মানুষটিই এখন তীব্র ব্যথায় কাতরাচ্ছেন বলে জানান তাঁর মেয়ে। ফক্স ১০-কে ক্রুক বলেন, তাঁর বাবা এমন মানুষ, যিনি সাধারণত পড়ে গেলে উঠে দাঁড়িয়ে আবার কাজ শুরু করার চেষ্টা করেন। তাই তাঁকে এবার এতটা কষ্টে দেখতে পাওয়া পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনার পর শুধু চিকিৎসাজনিত সংকট নয়, আর্থিক চাপও তৈরি হয়েছে পরিবারের ওপর। সাইলারের স্ত্রী ভিকি প্রতিদিন নেভাদার হাসপাতালে স্বামীকে দেখতে যান। এ জন্য তাঁকে প্রতিদিন প্রায় তিন ঘণ্টা যাতায়াত করতে হচ্ছে। পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় সামাল দিতে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৬ হাজার ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সামনে আরও বড় ব্যয়ের আশঙ্কা করছে পরিবার। বাড়িতে হুইলচেয়ার চলাচলের উপযোগী পরিবর্তন, কৃত্রিম পা, বিশেষ চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের খরচ এর মধ্যে রয়েছে। অ্যারিজোনার মরুভূমি অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় সরাসরি উত্তপ্ত মাটির সংস্পর্শে থাকা শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাইলারের ঘটনা সেই ঝুঁকিরই একটি ভয়াবহ উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে। বর্তমানে সাইলার লাস ভেগাসের দগ্ধ রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। তাঁর পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট নির্ধারিত অস্ত্রোপচারের পর তাঁর সুস্থতা ও পুনর্বাসনের দীর্ঘ পথ শুরু হবে। সংবাদসূত্র: ফক্স ১০ ফিনিক্স
কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার কথা ছিল মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে। স্বপ্ন ছিল একদিন ফায়ারফাইটার হওয়ার। কিন্তু অ্যারিজোনার ফিনিক্সে একটি পার্কে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একদল মানুষের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন ১৯ বছর বয়সী তুমুসিফু বাজিরাকে। ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়েই তিনি হামলার শিকার হন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। ঘটনাটি ঘটে গত ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় ফিনিক্সের সুয়েনো পার্কে। ফিনিক্স পুলিশ জানিয়েছে, পার্কের মাঠে ফুটবল খেলার সময় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন মিলে বাজিরাকাকে মারধর করেন। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। বাজিরাকার ভাই জিনপল জানিয়েছেন, খেলার ফলাফল নিয়ে প্রতিপক্ষ দলের কয়েকজন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে প্রথমে উত্তেজনা এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকলে ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান বাজিরাকা। এরপর হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজিরাকাকে মাটিতে ফেলে ঘুষি ও লাথি মারা হয়। হামলার একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তাকে নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যায় বলে পরিবারের দাবি। রাত প্রায় ৮টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ সুয়েনো পার্কের কাছে পৌঁছে বাজিরাকাকে অচেতন অবস্থায় পায়। ফিনিক্স ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। তখন তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর ১৩ আগস্ট মারা যান বাজিরাকা। তার মরদেহ মেরিকোপা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে পরীক্ষা চলছে। বাজিরাকার সামনে তখন জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। ২৪ আগস্ট তার কলেজে ক্লাস শুরু করার কথা ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, পড়াশোনা নিয়ে তিনি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং ভবিষ্যতে ফায়ারফাইটার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। ফিনিক্স পুলিশ এখন ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং কোনো সন্দেহভাজনের পরিচয়ও প্রকাশ করেনি পুলিশ। কারা ওই রাতে মাঠে বাজিরাকার ওপর হামলা চালিয়েছিল, তা শনাক্ত করতে প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা ঘটনার বিষয়ে তথ্য থাকা ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। একটি সাধারণ ফুটবল ম্যাচ থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ শেষ পর্যন্ত একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি নিয়ে এসেছে। যে তরুণের কয়েক দিনের মধ্যে কলেজে যাওয়ার কথা ছিল, তার পরিবারকে এখন তার শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিনিক্সে একই ফ্লাইট নম্বর নিয়ে আকাশে ওড়া আমেরিকান এয়ারলাইনসের দুটি বিমানের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ অল্পের জন্য এড়ানো সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাতের পর অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স স্কাই হারবার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশে এই ঘটনা ঘটে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও পেশাদারিত্বের কারণে দুই বিমানের যাত্রীরা নিশ্চিত দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। জানা গেছে, ‘আমেরিকান ২৪৮২’ নম্বরের একটি ফ্লাইট শিকাগো থেকে ফিনিক্সে অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে শিকাগো থেকে ওই বিমানটির রওনা হতে কিছুটা দেরি হয়। অন্যদিকে, ফিরতি ফ্লাইটের সময় ঠিক রাখতে আমেরিকান এয়ারলাইনস ফিনিক্স থেকে শিকাগো যাওয়ার জন্য একই ফ্লাইট নম্বরে অন্য একটি বিমানকে উড্ডয়নের ব্যবস্থা করে। এর ফলে আকাশে একই সময়ে ‘আমেরিকান ২৪৮২’ কল সাইন যুক্ত দুটি যাত্রীবাহী বিমান একে অপরের কাছাকাছি চলে আসে। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি প্রথম টের পান দায়িত্বে থাকা ২৫ বছরের অভিজ্ঞ এক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার। তিনি বুঝতে পারেন, কেবল ফ্লাইট নম্বর ধরে নির্দেশ দিলে দুই পাইলটই বিভ্রান্ত হতে পারেন এবং মাঝ-আকাশে বিমান দুটির মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিমান দুটিকে ‘অ্যারাইভাল’ (অবতরণকারী) এবং ‘ডিপারচার’ (উড্ডয়নকারী) হিসেবে আলাদা করে নির্দেশ দিতে শুরু করেন। তার এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার কারণে উড্ডয়নকারী বিমানটি নির্দিষ্ট উচ্চতার নিচে অবস্থান করে এবং অবতরণকারী বিমানটি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলে যায়। বিপদ কেটে যাওয়ার পর এক পাইলট রেডিওবার্তায় ওই কন্ট্রোলারকে দারুণ কাজের জন্য ধন্যবাদ জানান। জবাবে ওই কন্ট্রোলার বলেন, "এটি একটি ভয়াবহ বিপর্যয় হতে পারত, তবে শেষ পর্যন্ত সব ঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আমি আনন্দিত।" তিনি আরও জানান, তার দীর্ঘ ২৫ বছরের ক্যারিয়ারে একই কল সাইন নিয়ে দুটি বিমানকে এভাবে কাছাকাছি হতে তিনি আগে কখনও দেখেননি। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ারলাইন্সের ডিসপ্যাচ সেন্টারের ভুলের কারণেই এমনটা ঘটেছে। এই গুরুতর ভুলের কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং আমেরিকান এয়ারলাইন্স।
অ্যারিজোনার টাকসনে ১৯ বছর বয়সী প্রেমিকাকে হত্যার অভিযোগে ২০ বছর বয়সী এক ভারতীয় শিক্ষার্থীকে জার্মানিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় জার্মানিতে আটক হন ভারুন ব্যাচিগারি। তাকে অ্যারিজোনায় ফিরিয়ে এনে মামলার কার্যক্রম চালানোর প্রস্তুতি চলছে। নিহত তরুণীর নাম জুলিসা রুবি সালাজার। গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার কাছাকাছি টাকসনের একটি অ্যাপার্টমেন্টে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের অনুরোধে পুলিশ সেখানে ওয়েলফেয়ার চেক করতে গেলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। টাকসন পুলিশ জানিয়েছে, তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তদন্তে গলা টিপে হত্যার আলামত পাওয়া যায়। পুলিশের তদন্তে সালাজারের প্রেমিক ব্যাচিগারিকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যা ও অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর ব্যাচিগারি সালাজারের মোবাইল ফোন ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে যান এবং তার মায়ের কাছে সালাজারের পরিচয়ে একাধিক বার্তা পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পরিবারের সন্দেহ হলে তারা পুলিশের কাছে ওয়েলফেয়ার চেকের অনুরোধ করেন। হত্যাকাণ্ডের দিনই ব্যাচিগারি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তিনি টাকসন থেকে হিউস্টন হয়ে জার্মানির বার্লিনে যান এবং সেখান থেকে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে জার্মানিতে পৌঁছানোর পর এফবিআই ও টাকসন পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি জার্মান হেফাজতে রয়েছেন এবং তাকে অ্যারিজোনায় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাচিগারি ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনায় পড়াশোনা করতেন। পরে একটি মারামারির ঘটনার পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আগের সহিংস আচরণ এবং ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সালাজার তার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করার পরিকল্পনা করছিলেন এবং ব্যাচিগারির আচরণ নিয়ে তিনি ভয় পেতেন। তার মৃত্যুর আগের দিন সালাজারের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চিৎকার শোনার কথাও এক রুমমেট তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। এদিকে ব্যাচিগারির যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী হিসেবে অবস্থান এবং তার ভিসার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে তার অভিবাসন স্ট্যাটাস বা ভিসা বাতিলের নির্দিষ্ট তথ্য এখনো সরকারি সূত্রে প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি। জার্মানিতে গ্রেপ্তার ব্যাচিগারিকে অ্যারিজোনায় ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাকে পিমা কাউন্টিতে হেফাজতে নেওয়া হবে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে আদালতের কার্যক্রম শুরু হবে। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ব্যাচিগারিকে আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় মানুষের স্থানান্তর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত অভ্যন্তরীণ অভিবাসন প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। উচ্চ আবাসন ব্যয়, তুলনামূলক বেশি রাজ্য আয়কর এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগের কারণে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পরিবার ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে অ্যারিজোনায় বসতি গড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর জনসংখ্যা ও অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের তথ্যেও দুই রাজ্যের বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে ক্যালিফোর্নিয়া জনসংখ্যা হারাচ্ছে, অন্যদিকে অ্যারিজোনা দ্রুত জনসংখ্যা বাড়ানো রাজ্যগুলোর একটি হয়ে উঠছে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এগুলো হলো রাজ্য আয়কর, বাড়ির দাম এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ। প্রথম কারণ, আয়করের বড় পার্থক্য ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যক্তিগত আয়কর আয়ের স্তর অনুযায়ী ১ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত। এর পাশাপাশি ১০ লাখ ডলারের বেশি করযোগ্য আয়ের ওপর অতিরিক্ত ১ শতাংশ কর রয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রাজ্য আয়করের হার দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে, অ্যারিজোনায় ২০২৩ সাল থেকে ব্যক্তিগত আয়করের সমতল হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য দুই রাজ্যের আয়করের ব্যবধান বেশ বড়। তবে শুধু আয়কর দিয়েই একজন মানুষের মোট করের বোঝা নির্ধারিত হয় না। বাড়ির দাম, সম্পত্তি কর, বিক্রয় কর, বাড়ির বীমা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয়ও হিসাব করতে হয়। তারপরও ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় কম রাজ্য আয়কর অ্যারিজোনাকে অনেক পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। দ্বিতীয় কারণ, তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ আবাসন ব্যয়। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ডিয়েগো, অরেঞ্জ কাউন্টি ও সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকার মতো ব্যয়বহুল অঞ্চলের তুলনায় অ্যারিজোনার অনেক এলাকায় একই বাজেটে বড় বাড়ি কেনা সম্ভব। রিয়েল এস্টেট কোম্পানি রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার বড় শহর ও মহানগর এলাকাগুলোতে বাড়ির দাম দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিপরীতে ফিনিক্স ও টুসনের মতো অ্যারিজোনার বড় শহরগুলোতে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। তবে দুই রাজ্যের বাড়ির দাম সরাসরি তুলনা করার সময় শহর ও এলাকার পার্থক্য বিবেচনায় নিতে হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার সব এলাকার বাড়ির দাম যেমন সমান নয়, তেমনি অ্যারিজোনার সব এলাকাও সস্তা নয়। তারপরও ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চ আবাসন ব্যয় বহু পরিবারকে অন্য রাজ্যে যাওয়ার কথা ভাবতে বাধ্য করছে। অ্যারিজোনায় তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার পাশাপাশি অনেক পরিবার কম মাসিক ঋণের কিস্তির সুবিধাও পাচ্ছে। তৃতীয় কারণ, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থান অ্যারিজোনার আকর্ষণ শুধু কম আবাসন ব্যয় বা কম করের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজ্যটি দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও অর্ধপরিবাহী শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। তাইওয়ানের অর্ধপরিবাহী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি অ্যারিজোনার ফিনিক্স এলাকায় বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। কোম্পানিটি সেখানে তিনটি কারখানা নির্মাণের জন্য ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে প্রথম কারখানায় ৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। পরবর্তী কারখানাগুলো চালু হলে অ্যারিজোনায় উন্নত প্রযুক্তির অর্ধপরিবাহী উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রযুক্তি জায়ান্ট ইন্টেলও অ্যারিজোনার চ্যান্ডলারে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে দুটি নতুন অর্ধপরিবাহী কারখানা নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছে। এসব বিনিয়োগের ফলে শুধু কারখানায় সরাসরি চাকরি নয়, প্রকৌশল, নির্মাণ, সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন, প্রযুক্তি ও অন্যান্য সহযোগী খাতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার প্রবণতা অবশ্য নতুন নয় ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অন্য রাজ্যে মানুষের চলে যাওয়ার প্রবণতা কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে। উচ্চ আবাসন ব্যয়, জীবনযাত্রার খরচ, কর এবং কিছু ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের অবস্থান পরিবর্তন এর পেছনে ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে অ্যারিজোনা, টেক্সাস, নেভাদা ও ফ্লোরিডার মতো রাজ্যগুলো তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের কারণে নতুন বাসিন্দাদের আকর্ষণ করছে। তবে অ্যারিজোনায় মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানেও আবাসনের চাহিদা ও দাম বাড়ছে। পানি, পরিবহন, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য অবকাঠামোর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে শুধু কম কর বা কম বাড়ির দামের হিসাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। পরিবারের আয়, চাকরির ধরন, দূর থেকে কাজের সুযোগ, সন্তানদের শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনাও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারপরও সাম্প্রতিক বছরগুলোর অভ্যন্তরীণ জনসংখ্যা স্থানান্তরের চিত্রে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনার দিকে মানুষের আগমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হিসেবে উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চ আবাসন ব্যয় ও করের চাপের বিপরীতে অ্যারিজোনার তুলনামূলক কম রাজ্য আয়কর, আবাসনের সুযোগ এবং প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগ অনেক পরিবারের কাছে নতুন করে বসতি গড়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টাকসনে ১৯ বছর বয়সী কলেজছাত্রী জুলিসা রুবি সালাজারকে হত্যার অভিযোগে ভারুন ব্যাচিগারিকে জার্মানির একটি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার কাছে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে গত ৫ আগস্ট সালাজারকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের অনুরোধে তার খোঁজ নিতে গিয়ে পুলিশ ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তে সালাজারের প্রেমিক ব্যাচিগারিকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে পুলিশ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সালাজারের গলায় চাপ প্রয়োগ করে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাটিকে প্রথম ডিগ্রির হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সালাজারের মৃত্যুর পর ব্যাচিগারি তার ফোন ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে যান এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে তার ফোন ব্যবহার করে একাধিক বার্তা পাঠান। এতে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ আরও বাড়ে। এরপর ব্যাচিগারি টাকসন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে যান। সেখান থেকে হিউস্টরের একটি ফ্লাইটে ওঠেন এবং পরে জার্মানির বার্লিনগামী ফ্লাইটে করে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েন। কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, তিনি শেষ পর্যন্ত ভারতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। অ্যারিজোনার পুলিশ ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তৎপরতায় জার্মানিতে পৌঁছানোর পর তাকে আটক করা হয়। তাকে অ্যারিজোনায় ফিরিয়ে এনে পিমা কাউন্টি অ্যাডাল্ট ডিটেনশন সেন্টারে প্রথম ডিগ্রির হত্যার অভিযোগে হাজির করার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে ব্যাচিগারির আগের সহিংস আচরণের বিষয়ও সামনে এসেছে। পুলিশ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে অ্যাসল্টের একটি মামলা চলমান ছিল। এছাড়া আরেক নারী তদন্তকারীদের কাছে তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই নারী তখন অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশের কাছে করেননি। সালাজারের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সমস্যা চলছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, সালাজার সম্পর্কটি শেষ করার কথা ভাবছিলেন। ঘটনার কয়েক দিন আগে তার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে কয়েক মিনিট ধরে চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন বলে তার রুমমেটরা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। পরে তারা সালাজারকে মেসেজ করে জানতে চাইলে তিনি ঠিক আছেন এবং এটি শুধু একটি ঝগড়া ছিল বলে জানিয়েছিলেন। ব্যাচিগারি আগে ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনায় ব্যবসা বিশ্লেষণ বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন। একটি মারামারির ঘটনার পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সম্প্রতি তিনি চাকরিও হারিয়েছিলেন এবং ভাড়া পরিশোধে সমস্যায় পড়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এদিকে সালাজারের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। কলেজজীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকা এই তরুণীকে পরিবারের কাছে প্রিয় মেয়ে ও বোন হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে। তবে মামলাটি এখনো তদন্তাধীন এবং ব্যাচিগারির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে আইনের অধীনে আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো অভিযুক্তকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হয় না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের লিচফিল্ড পার্কে একটি নিখোঁজ পরিবারের বাড়ির উঠোন থেকে মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিখোঁজ দম্পতির ২৭ বছর বয়সী ছেলে ম্যাথিউ ফ্লোরেসকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পুলিশের ধারণা, মঙ্গলবার বাড়িতে তল্লাশি চালানোর আগেই ম্যাথিউ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। ফিনিক্স শহরের অদূরে অবস্থিত ওই বাড়িতে স্বামী, স্ত্রী ও তাদের প্রাপ্তবয়স্ক ছেলের সন্ধানে গত মঙ্গলবার আত্মীয়দের অনুরোধে প্রথমে তল্লাশি চালাতে যায় অ্যাভনডেল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। সেসময় বাড়িতে কাউকে পাওয়া না গেলেও সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কিছু প্রাথমিক আলামত মেলে, যার ভিত্তিতে নিখোঁজ তদন্ত শুরু করে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে, ওই বাড়ির পিছনের উঠোনে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় অজ্ঞাত মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টিকে এখন হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারের অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিখোঁজ স্বামী ও স্ত্রীর নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে এই ঘটনার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত হওয়ার বা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পলাতক সন্দেহভাজন ম্যাথিউ ফ্লোরেসের অবস্থান সম্পর্কে কারো কাছে কোনো তথ্য থাকলে অ্যাভনডেল পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ৬২৩-৩৩৩-৭০০১ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্লেনডেলে একটি বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনায় দুই বছরের এক শিশুকে কার সিটে আটকে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় শিশুটির মা ঘরের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে গুরুতর শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ১২নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট গ্লেনডেলের ৬৭তম অ্যাভিনিউ ও ক্যাকটাস রোড এলাকার একটি বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও দমকলকর্মীরা। পরে গ্লেনডেল পুলিশ বিভাগের প্রকাশিত বডিক্যাম ভিডিওতে দেখা যায়, ঘন ধোঁয়ায় ভরা বাড়িতে প্রবেশ করে কর্মকর্তারা একটি দুই বছরের শিশুকে কার সিটে বাঁধা অবস্থায় খুঁজে পান। ধোঁয়ার কারণে শিশুটি প্রায় অচেতন হয়ে পড়েছিল এবং নিজে থেকে বের হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। পুলিশ সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে কোলে নিয়ে বাড়ির বাইরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান, যাতে সে খোলা বাতাসে শ্বাস নিতে পারে। এরপর তারা আবার বাড়ির ভেতরে ফিরে গিয়ে বসার ঘরের সোফার পাশে মেঝেতে এক নারীকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তার পরিচয় ২৬ বছর বয়সী ক্যালিয়েন হিথম্যান (Kallien Heathman) হিসেবে নিশ্চিত করা হয়। বডিক্যামের ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা বারবার তাকে জাগানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে আসার সময় তিনি চিৎকার করেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেন। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মাইক্রোওয়েভে পিজ্জা গরম করার সময় সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনার সময় বাড়িতে থাকা সাত বছর বয়সী আরেক শিশু তার বাবাকে ফোন করে পরিস্থিতির কথা জানায়। পরে ওই বাবা জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি পুলিশকে জানান, ওই নারী তার সাবেক সঙ্গী এবং সে সময় শিশু দুটির দায়িত্ব তার কাছেই ছিল। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স ১০-এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের সময় হিথম্যানের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা আইনসিদ্ধ সীমার প্রায় পাঁচ গুণ বেশি ছিল। পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার সময় শিশু দুটির অভিভাবক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন হিথম্যান। অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় শিশুদের কার্যত তত্ত্বাবধানহীন রেখে দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গুরুতর শিশু নির্যাতনের (ফেলনি চাইল্ড অ্যাবিউজ) মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় উদ্ধার হওয়া শিশুদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে দ্রুত উদ্ধার অভিযানের কারণে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফাস্ট-ফুড চেইন সালাদ অ্যান্ড গো তাদের সব শাখা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ৫ আগস্ট থেকে তাদের সব আউটলেটের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। ২০১৩ সালে অ্যারিজোনার গিলবার্টে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির অ্যারিজোনা ও নেভাডা অঙ্গরাজ্যে মোট ৭০টি শাখা রয়েছে। এর মধ্যে টাকসন এলাকাতেই রয়েছে সাতটি শাখা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ৪ আগস্ট তারা স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্রের দেউলিয়া আইন অনুযায়ী চ্যাপ্টার ১১-এর অধীনে আবেদন করেছে। তবে পুনর্গঠনের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে। এক বিবৃতিতে সালাদ অ্যান্ড গো জানায়, ভোক্তাদের চাহিদা দীর্ঘদিন ধরে কমে যাওয়া, অতীতের ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এবং পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এছাড়া জুলাই মাসে সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণ নিয়ে পুরো শিল্পে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়, সেটিও ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে ওই সংক্রমণের ঘটনায় সালাদ অ্যান্ড গো জড়িত ছিল না বলে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে। সালাদ অ্যান্ড গো-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা টনি ও রুশান ক্রিস্টোফেলিস ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠানটি একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেন। পরে তারা অ্যাঞ্জিস গ্রিল নামে নতুন একটি রেস্তোরাঁ চেইন চালু করেন। তারা জানিয়েছেন, সালাদ অ্যান্ড গো বন্ধ হয়ে গেলেও অ্যাঞ্জিস গ্রিলের কার্যক্রমে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দুই প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ১৩ বছর আগে সবার জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু খাবার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তারা সালাদ অ্যান্ড গো প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিণতি তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের হলেও, কর্মী, গ্রাহক, সরবরাহকারী ও সমর্থকদের প্রতি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা আরও বলেন, তাদের নতুন প্রতিষ্ঠান অ্যাঞ্জিস গ্রিলেও একই লক্ষ্য থাকবে—সব শ্রেণির মানুষের জন্য উন্নত মানের খাবার সাশ্রয়ী দামে পৌঁছে দেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।