আন্তর্জাতিক

আইসের মাধ্যমে দেশছাড়া করার কয়েক সপ্তাহ পর গুলিতে নিহত অভিবাসী দম্পতি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ১১:২৬
আইসের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের পর গুয়াতেমালায় অভিবাসী দম্পতি নিহত। ছবি: সংগৃহীত
আইসের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের পর গুয়াতেমালায় অভিবাসী দম্পতি নিহত। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আইসের অভিযানে বহিষ্কার হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর গুয়াতেমালায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে অভিবাসী এক দম্পতিকে। নিহতের ১৪ মাস বয়সি শিশুকন্যাকে তাদের মৃতদেহের পাশ থেকেই জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে এবং এই সংবাদটি গোটা সেন্ট লুইস এলাকার কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত দম্পতির এমন করুণ পরিণতিতে অভিবাসী মহলে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

 

নিহত দম্পতির পরিচয় প্রকাশ করে জানানো হয়েছে যে তাদের নাম নিকসন পেরেজ পাজ এবং তাঁর স্ত্রী গ্লেন্ডি গঞ্জালেজ দে লা ক্রুজ। গুয়াতেমালার একটি আখের ক্ষেত থেকে তাঁদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। গ্লেন্ডি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার হওয়ার আগে সেন্ট লুইসের একজন পরিচিত অভিবাসী অধিকারকর্মী হিসেবে সক্রিয়ভাবে কাজ করতেন। পরিবারটির দীর্ঘ সংগ্রাম ও শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পর এমন নৃশংসতার শিকার হওয়া সবাইকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ১৪ মাস বয়সি শিশুটির নাম জিওভানি। ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের পরও শিশুটি অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়, যদিও উদ্ধারের সময় সে তীব্র পানিশূন্যতায় ভুগছিল। এই দম্পতির আরও তিন কন্যাসন্তান রয়েছে যাদের বয়স যথাক্রমে এগারো, পাঁচ ও এক বছর। বর্তমানে এই তিন শিশু গুয়াতেমালায় তাদের এক ফুফুর তত্ত্বাবধানে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায় যে গত বছর কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট বা আইস এজেন্টদের হাতে আটক হয়েছিলেন নিকসন। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে এবং তাঁর ভাইকে জোরপূর্বক গুয়াতেমালায় ফেরত পাঠানো হয়েছিল। দীর্ঘ এক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে একা সংগ্রাম করার পর গত জুন মাসের মাঝামা সময়ে তিন সন্তানকে নিয়ে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্বামীর কাছে ফিরে গিয়েছিলেন গ্লেন্ডি। কিন্তু সেখানে গিয়ে এই ভয়ংকর পরিণতির মুখোমুখি হতে হলো পরিবারটিকে।

 

এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং নিহতদের স্মরণে স্থানীয় প্রবাসী ও কমিউনিটির পক্ষ থেকে আগামী রবিবার একটি বিশেষ প্রার্থনাসভা বা জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। ওভারল্যান্ড সিটি হলের সামনে এই জনসভার মাধ্যমে অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও অধিকারের দাবি জোরালো করা হবে। এছাড়া এতিম হয়ে যাওয়া শিশুগুলোর ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় মেটানোর জন্য একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযানও শুরু করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
মিউনিখে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিএমডব্লিউ-এর প্রধান কার্যালয়। ছবি: ট্রাভেলস্টক
চীনা গাড়ির প্রতিযোগিতায় ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে বিএমডব্লিউ

জার্মানির গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বিএমডব্লিউ তাদের প্রশাসন ও উন্নয়ন বিভাগ থেকে ৮ হাজার পর্যন্ত কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের তীব্র চাপের মুখে খরচ কমাতে ইউরোপের এই বৃহৎ অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠান এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মিউনিখভিত্তিক কোম্পানিটি কর্মী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি স্বেচ্ছামূলক চাকরি ছাড়ার কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে উৎপাদন কার্যক্রম এই ছাঁটাইয়ের আওতামুক্ত থাকবে।   বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর দ্রুত আধিপত্য এবং ঘরোয়া বাজারে তাদের তীব্র মূল্যযুদ্ধের কারণে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। অতীতে চীনের বাজার ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য লাভজনক রপ্তানি আয়ের উৎস হলেও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এর পাশাপাশি পেট্রোলচালিত গাড়ি থেকে বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তর এবং মার্কিন শুল্ক নীতির চাপ মোকাবিলা করতে গাড়ি প্রস্তুতকারকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে ভক্সওয়াগেন, স্টেলান্টিস ও ফোর্ডের মতো অনেক কোম্পানি ইউরোপে গাড়ি তৈরি ও বিক্রির জন্য চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে অংশীদারত্ব করতে বাধ্য হয়েছে।   গত মে মাসে উৎপাদন বিভাগের সাবেক প্রধান মিলান নেডেলজকোভিচ প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিএমডব্লিউ এই ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিল। কোম্পানির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং চীনের বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতেই তারা এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছেন। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এই গ্রুপে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার কর্মী কাজ করছেন।   বিএমডব্লিউ ছাড়াও ইউরোপের অন্যান্য শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের পুনর্গঠন ও কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে। জার্মানির বৃহত্তম ব্র্যান্ড ভক্সওয়াগেন তাদের মোট কর্মীবাহিনীর মধ্য থেকে ১ লাখ চাকরি কমানোর পাশাপাশি চারটি কারখানা বন্ধ এবং মডেল সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া ভক্সওয়াগেনের অংশীদারিত্ব থাকা স্পোর্টস কার নির্মাতা পোর্শেও ২০৩৫ সালের মধ্যে তাদের এক-পঞ্চমাংশ বা ৯ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে।   বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা অ্যাস্টন মার্টিনও চীন ও মার্কিন বাজারে বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। স্টক মার্কেটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির লোকসান উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে তাদের সামগ্রিক আর্থিক পারফরম্যান্সে কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ১২:২৮
কেনিয়ার আম্বোসেলি জাতীয় উদ্যানে ১৫টি হাতির রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্ত শুরু। ছবি: রোনাল্ড এস ফিলিপস

কেনিয়ার আম্বোসেলি জাতীয় উদ্যানে ১৫টি হাতির রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্ত শুরু

আইসের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের পর গুয়াতেমালায় অভিবাসী দম্পতি নিহত। ছবি: সংগৃহীত

আইসের মাধ্যমে দেশছাড়া করার কয়েক সপ্তাহ পর গুলিতে নিহত অভিবাসী দম্পতি

বহুমুখী হামলার পর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: গেটি ইমেজেস

সৌদি আরবের ওপর বহুমুখী হামলা, আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো সফলভাবে ভূপাতিত করে এবং এ ঘটনায় মার্কিন সেনাদের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সেন্টকম জানায়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হঠাৎ করেই মার্কিন বাহিনীর ওপর "আকস্মিক হামলার চেষ্টা" চালায়। হামলার পরপরই মার্কিন বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে এবং পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক কমান্ড ও বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের জবাব হিসেবে চালানো হয়েছে। তবে তাদের দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যৌথ বিমান হামলা চালায়। এতে অন্তত ২০ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনীও জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন স্থানে পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জবাব "কঠোরভাবে" দেওয়া হবে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগে পিছপা হবে না। হামলার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহও নতুন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ১০:২০
তথ্য ফাঁসের আশঙ্কায় চীনসহ বিদেশি তৈরি হিউম্যানয়েড রোবট আমদানিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন এফসিসি। ছবি: সংগৃহীত

তথ্য ফাঁসের আশঙ্কায় চীনের রোবট ও প্রযুক্তি সরঞ্জামে নতুন বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের

গাজার ধ্বংসপ্রাপ্ত দেয়ালে আঁকা ১১ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিল্পী লায়ান আল-গুগার

আমি কখনো ভাবিনি একজন প্রধানমন্ত্রী আমার আঁকা ছবি দেখবেন! আমার জন্য ভিডিও রেকর্ড করবেন

তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ

কঠিন সময়েও আফগানদের পাশে দাঁড়িয়েছে ইরান: জবিউল্লাহ মুজাহিদ

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর ওপর আকস্মিক হামলা চালানোর উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নিয়েছিল ইরান।   তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকায় ইরান থেকে ধেয়ে আসা সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্রই সফলভাবে মাঝপথে প্রতিহত বা ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।   সেন্টকম তাদের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আরও নিশ্চিত করেছে যে, এই অতর্কিত হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।   যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ হামলা মোকাবিলায় তারা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলেও ওই বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৯:১২
কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই, তবুও আফগান নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল জার্মানি

কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই, তবুও আফগান নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল জার্মানি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানে ২,৬০০ কর্মী ছাঁটাই করছে বিশ্বের শীর্ষ পেমেন্ট নেটওয়ার্ক কোম্পানি ভিসা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানে ২,৬০০ কর্মী ছাঁটাই করছে বিশ্বের শীর্ষ পেমেন্ট নেটওয়ার্ক কোম্পানি ভিসা

৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর আবুধাবি সিআইডির হেফাজতে মিলল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রুর খোঁজ

৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর আবুধাবি সিআইডির হেফাজতে মিলল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রুর খোঁজ

0 Comments