আমেরিকা

আদালতকে বলতে চাইলাম ফাঁসি দিয়ে দেন, প্রস্তুত আছি: লতিফ সিদ্দিকী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ৭:৪২
লতিফ সিদ্দিকীকে আদলতে তুলার সময়। ছবি:সংগৃহীত
লতিফ সিদ্দিকীকে আদলতে তুলার সময়। ছবি:সংগৃহীত

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। আদেশ ঘোষণার পর আদালতে কথা বলার সুযোগ না পেয়ে তিনি উচ্চস্বরে বলেন, “আদালতকে বলতে চাইলাম ফাঁসি দিয়ে দেন। আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু আদালত শুনতে চাইল না।”

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

 

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে লতিফ সিদ্দিকীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত আসামিপক্ষ থেকে কোনো আবেদন দাখিল করা হয়নি। এ অবস্থায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানানো হলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

আদেশ ঘোষণার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া ওকালতনামায় স্বাক্ষরের অনুমতি এবং ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় তার মক্কেলের সঙ্গে কথা বলার আবেদন জানান। ট্রাইব্যুনাল দুটি আবেদনই মঞ্জুর করেন।

 

এ সময় কাঠগড়া থেকে উঠে দাঁড়িয়ে হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন লতিফ সিদ্দিকী। তিনি কয়েকবার বলেন, “মাননীয় আদালত, আমি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।” তবে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়ে যাওয়ায় আদালত তার বক্তব্য শোনেননি।

 

এরপর তিনি বলেন, “হায়রে হায়, এই যদি হয় আদালত, তাহলে আমি কোথায় যাব?” দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে হাজতখানায় নিয়ে যেতে এগিয়ে এলে কিছুক্ষণ বাকবিতণ্ডারও সৃষ্টি হয়। পুলিশ সদস্যরা বসতে বললে তিনি বলেন, “আমি বসে থাকবো নাকি দাঁড়িয়ে থাকবো সেটা আমার বিষয়। তোমরা বলার কে।”

 

এজলাসকক্ষ থেকে বের হওয়ার সময়ও তিনি বলেন, “আদালতকে বলতে চাইলাম ফাঁসি দিয়ে দেন। আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু আদালত শুনতে চাইল না।”

 

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার কিছু পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

 

মামলাটি ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে ওই সময়ের বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত ও অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান এবং মামলার চূড়ান্ত রায় হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
পুলিশ প্রটোকল। ছবি:সংগৃহীত
স্তন্যদানকারী মা দুই সিনড্রোম শিশু থেকে আলাদা করে আইসির হেফাজতে, পরিবারের ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিলে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) এক স্তন্যদানকারী মাকে আটক করার পর তার ১০ মাস বয়সী শিশুসন্তান এবং ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত আরেক সন্তানের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও অধিকারকর্মীরা অবিলম্বে ওই মায়ের মুক্তি দাবি করেছেন।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেআরএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যাশভিলের অ্যান্টিয়ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই নারীকে আটক করে আইসিই। আটকের সময় তিনি তার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছিলেন এবং পরিবারের আরেকটি ছোট সন্তান ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়ায় বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।    পরিবারের আইনজীবী ও স্বজনদের অভিযোগ, মাকে আটক করার ফলে শিশু দুটি প্রয়োজনীয় মাতৃসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে স্তন্যদানকারী শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের পরিচর্যা নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।    অভিবাসন অধিকারকর্মীরা ঘটনাটিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, চলমান অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করা উচিত এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।    এদিকে আইসিইর নীতিমালা অনুযায়ী, গর্ভবতী, সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া বা স্তন্যদানকারী ব্যক্তিদের আটক করার ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনার কথা উল্লেখ থাকলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সংস্থাটি তাদের হেফাজতে নিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে এমন কয়েকটি ঘটনায় ফেডারেল আদালত আইসিইর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির নির্দেশও দিয়েছে।    ঘটনাটি নিয়ে আইসিইর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ৮:৩৬
জর্জ বিমার। ছবি:সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় মায়ের ‘শেষ ইচ্ছা’ পূরণের দাবি করে গুলি করে হত্যা করে মরদেহে আগুন! ছেলে গ্রেপ্তার

মেলানিয়া ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিচ্ছিন্ন আরও পাঁচ শিশুর পরিবারে ফেরা, মেলানিয়া ট্রাম্পের ভূমিকায় প্রশংসনীয় ভূমিকা

লতিফ সিদ্দিকীকে আদলতে তুলার সময়। ছবি:সংগৃহীত

আদালতকে বলতে চাইলাম ফাঁসি দিয়ে দেন, প্রস্তুত আছি: লতিফ সিদ্দিকী

ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করা এক রহস্যময় হ্যাকার। ছবি:সংগৃহীত
ভর্তির সুযোগ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক!

ভারতের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি কানপুর ও আইআইটি মাদ্রাজের ওয়েবসাইটে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে আলোচনায় আসা এক তরুণের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে তার প্রযুক্তিগত দক্ষতা মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইআইটি কানপুর। প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য, পরীক্ষায় যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারলে আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আইআইটি কানপুরের নতুন চালু হওয়া ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন সাইবার সিকিউরিটি প্রোগ্রামে আবেদন করেছিলেন ওই তরুণ। তার অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও ভর্তি প্রক্রিয়ার হ্যাকাথন ধাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি।   প্রাথমিক বাছাইয়ে বাদ পড়ার পর তিনি আইআইটি কানপুর ও আইআইটি মাদ্রাজের ওয়েবসাইটে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে একটি বার্তা রেখে যান। সেখানে লেখা ছিল, “এই সাইট হ্যাক করা হয়েছে। আমার শুধু একটি ন্যায্য সুযোগ প্রয়োজন।”   পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়েবসাইটে প্রবেশের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, কারও ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে নয়; বরং নিজের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রদর্শন করতেই তিনি এ কাজ করেছেন।   আইআইটি কানপুরের পরিচালক মণীন্দ্র আগরওয়াল জানিয়েছেন, আবেদনকারীর পূর্ব অভিজ্ঞতা ভর্তি নীতিমালায় নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ না করায় তাকে নির্বাচিত করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।   তবে ঘটনাটিকে শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে না দেখে সম্ভাবনাময় প্রতিভা মূল্যায়নের সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য ওই তরুণকে ক্যাম্পাসে ডেকে একটি বিশেষ দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সেখানে তিনি প্রয়োজনীয় সক্ষমতা দেখাতে পারলে আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তির আবেদন ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।   আইআইটি কানপুর আরও জানিয়েছে, পরীক্ষার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ওই তরুণকে বোঝাবেন যে, প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলেও অনুমতি ছাড়া কোনো কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করা আইন ও পেশাগত নৈতিকতার দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।   সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক বা ওয়েবসাইটে মালিকের অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা অধিকাংশ দেশেই আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করলেও দায়িত্বশীলভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নৈতিক চর্চা বা ‘রেসপনসিবল ডিসক্লোজার’। আইআইটি কানপুরের এই সিদ্ধান্ত তাই একদিকে সম্ভাবনাময় মেধাকে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে সাইবার নৈতিকতা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে।

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ৭:২৩
"হাসপাতালে পিঠে বিলিয়ার্ড/পুল কিউ (লাঠি) এক ব্যক্তির নাটকীয় দৃশ্য।" ছবি:সংগৃহীত

ট্রেকিং স্টিক শরীর ভেদ করেও ১৬ কিলোমিটার হাটলেন পর্বতারোহী

বিট কয়েন ও বিমান। ছবি:সংগৃহীত

এমিরেটসে এবার বিটকয়েনে টিকিটের মূল্য পরিশোধ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুগের সূচনা

গাড়ি বহর। ছবি:সংগৃহীত

সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা

ক্রিস্টোফার নোলান বিখ্যাত ব্রিটিশ-আমেরিকান চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার এবং প্রযোজক। ছবি:সংগৃহীত
স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না, ই মেইলও নয়! তবু ৫ হাজার কোটি টাকার মালিক

সময়কে গল্প বলার অন্যতম শক্তিশালী উপাদানে পরিণত করা, বাস্তব লোকেশনে দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য নির্মাণ এবং জটিল কাহিনিকে আবেগের সঙ্গে মিশিয়ে দর্শককে নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়া—এসব কারণেই বিশ্ব চলচ্চিত্রে আলাদা অবস্থান গড়ে তুলেছেন অস্কারজয়ী ব্রিটিশ নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান। আজ ৩০ জুলাই ৫৬ বছরে পা রাখলেন ‘ওপেনহেইমার’, ‘ইন্টারস্টেলার’, ‘ইনসেপশন’ ও ‘দ্য ডার্ক নাইট’-এর এই নির্মাতা।   নোলানের নতুন সিনেমা মুক্তি মানেই বিশ্বজুড়ে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ। তাঁর আসন্ন ছবি ‘দ্য অডিসি’ ঘিরেও একই উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশেও তাঁর সিনেমার জন্য দর্শকদের আগ্রহ বরাবরই চোখে পড়ার মতো।   ১৯৭০ সালের ৩০ জুলাই লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে জন্ম নোলানের। বাবা ছিলেন একটি বিজ্ঞাপন সংস্থার নির্বাহী, আর মা ছিলেন শিক্ষক ও সাবেক বিমানবালা। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা নোলান মাত্র সাত বছর বয়সে বাবার সুপার-৮ ক্যামেরা হাতে পান। সেখান থেকেই চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর ভালোবাসার শুরু। খেলনা ব্যবহার করে ছোট ছোট চলচ্চিত্র বানাতেন তিনি। ‘স্টার ওয়ার্স’ সিরিজ তাঁর শৈশবের কল্পনাশক্তিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।   অনেকের ধারণা, নোলান চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। বাস্তবে তিনি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র সমিতিতে কাজ করতে গিয়েই হাতে-কলমে সিনেমা নির্মাণ শেখেন। পরবর্তীতে ফিল্ম স্কুলে আবেদন করলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়। তবে সেই ব্যর্থতা তাঁকে থামাতে পারেনি। বন্ধুদের নিয়ে সপ্তাহান্তে স্বল্প বাজেটে চলচ্চিত্র নির্মাণ চালিয়ে যান তিনি।   তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ফলোয়িং’ নির্মিত হয় খুব সীমিত বাজেটে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এনে দেয় ২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মেমেন্টো’। স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্ত এক ব্যক্তির গল্পকে উল্টো সময়রেখায় তুলে ধরার অভিনব কৌশল চলচ্চিত্র সমালোচকদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। পরে ছবিটি দুটি বিভাগে অস্কারের মনোনয়নও পায়।   এরপর ‘ব্যাটম্যান বিগিনস’ দিয়ে সুপারহিরো চলচ্চিত্রকে নতুন বাস্তবধর্মী রূপ দেন নোলান। ‘দ্য ডার্ক নাইট’ আজও আধুনিক চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী সিনেমা হিসেবে বিবেচিত হয়। এরপর ‘ইনসেপশন’, ‘ইন্টারস্টেলার’, ‘ডানকার্ক’, ‘টেনেট’ এবং ‘ওপেনহেইমার’ দিয়ে তিনি নিজের নির্মাণশৈলীকে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। ‘ওপেনহেইমার’-এর জন্য তিনি সেরা পরিচালক এবং ছবিটি সেরা চলচ্চিত্রসহ একাধিক বিভাগে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয়।   নোলানের চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সময়কে গল্পের কেন্দ্রে নিয়ে আসা। ‘মেমেন্টো’তে উল্টো সময়রেখা, ‘ইনসেপশন’-এ স্বপ্নের ভেতরে স্বপ্ন, ‘ইন্টারস্টেলার’-এ আপেক্ষিকতার প্রভাবে সময়ের ভিন্ন গতি, ‘টেনেট’-এ সময়ের বিপরীত প্রবাহ এবং ‘ওপেনহেইমার’-এ একাধিক সময়রেখার সমন্বয় তাঁর নির্মাণশৈলীর স্বাক্ষর। তবে জটিলতা সৃষ্টি নয়, বরং দর্শককে গল্পের সক্রিয় অংশে পরিণত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।   ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগেও নোলান সেলুলয়েড ফিল্মের অন্যতম বড় সমর্থক। তিনি এখনও ৭০ মিলিমিটার ও আইম্যাক্স ক্যামেরায় শুটিং করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কম্পিউটারনির্ভর দৃশ্যের পরিবর্তে বাস্তব লোকেশন ও ব্যবহারিক বিশেষ প্রভাব ব্যবহারে তাঁর আগ্রহ বেশি। ‘দ্য ডার্ক নাইট’-এ বাস্তবে ট্রাক উল্টে দেওয়া, ‘ইনসেপশন’-এর ঘূর্ণায়মান করিডর কিংবা ‘ওপেনহেইমার’-এ যতটা সম্ভব বাস্তব বিস্ফোরণের ব্যবহার তাঁর এই দর্শনেরই প্রতিফলন।   ব্যক্তিগত জীবনে নোলানের সবচেয়ে বড় সহযাত্রী তাঁর স্ত্রী এমা টমাস। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই তাঁদের পরিচয়। এমা শুধু জীবনসঙ্গী নন, নোলানের প্রায় সব চলচ্চিত্রের প্রযোজকও। দুজনে মিলে প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘সিনকোপ’, যা হলিউডের অন্যতম সফল পরিচালক-প্রযোজক অংশীদারত্বের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।   কাজের ক্ষেত্রেও নোলান বরাবরই ব্যতিক্রমী। তিনি স্মার্টফোন খুব কম ব্যবহার করেন এবং ব্যক্তিগতভাবে ই-মেইল ব্যবহার করেন না বলেই বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। শুটিং সেটে অপ্রয়োজনীয় মানুষের উপস্থিতি পছন্দ করেন না। চিত্রনাট্য সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নতুন প্রকল্প নিয়ে প্রকাশ্যে খুব কম কথা বলেন এবং অভিনেতাদের কাছ থেকেও কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখার প্রত্যাশা করেন।   নোলানের বিশ্বাস, প্রযুক্তি মানুষের সৃজনশীলতাকে সহায়তা করবে, কিন্তু গল্প বলার বিকল্প হতে পারে না। এই দর্শনই তাঁকে সমকালীন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও সফল চলচ্চিত্র নির্মাতায় পরিণত করেছে।

সিদ্দিকুর রহমান প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ৬:৮
ফেডারেল রিজার্ভ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ছবি:সংগৃহীত

ফেডের সুদহার অপরিবর্তিত, ঋণ ও মর্টগেজে নেই স্বস্তি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ওষুধ। ছবি:সংগৃহীত

২০২৭ থেকে শেষ হচ্ছে মেডিকেয়ার পার্ট-ডি ভর্তুকি, ওষুধ বিমার খরচ বাড়তে পারে লাখো মার্কিন প্রবীণের

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কুয়েতের উত্তরাঞ্চলে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় একজন কর্মী নিহত হওয়ার পাশাপাশি স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কুয়েতে চীনা প্রতিষ্ঠানের ভবনে নিহত ১, সংঘাতের নতুন মাত্রা

0 Comments