যুক্তরাষ্ট্রে শাস্তির নামে শিক্ষার্থীর পিঠে দাঁড়িয়েছিলেন ১৬০ কেজি ওজনের শিক্ষক, অমানবিক আচরণে মিলল সাজা
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে বিদ্যালয়ের লকডাউন মহড়ার সময় শিক্ষার্থীদের শাস্তি দিতে তাদের পিঠের ওপর পা রাখার ঘটনায় অভিযুক্ত এক শিক্ষককে দুই বছরের প্রবেশনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যে থাকা শিক্ষকতার লাইসেন্স স্বেচ্ছায় জমা দিতে হবে। এছাড়া রাগ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মূল্যায়নে অংশ নেওয়া, ৯০ ঘণ্টা সমাজসেবা করা, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনার চিঠি লেখা এবং জরিমানা ও আদালতের বিভিন্ন ফি হিসেবে ২ হাজার ২৫০ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মিনেসোটার অটার টেইল কাউন্টির আন্ডারউড এলাকার ৪৯ বছর বয়সী শিক্ষক জেসন লাওয়েল রজার্সের বিরুদ্ধে শিশুদের প্রতি বিদ্বেষমূলক শাস্তি দেওয়ার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। স্থানীয় আদালত মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে তার বিরুদ্ধে 'স্টে অব অ্যাডজুডিকেশন' মঞ্জুর করেন। অর্থাৎ তিনি দোষ স্বীকার করলেও আপাতত আনুষ্ঠানিক দণ্ডাদেশ স্থগিত থাকবে। প্রবেশন চলাকালে আদালতের সব শর্ত মেনে চললে অভিযোগগুলো খারিজ হয়ে যাবে। তবে শর্ত ভঙ্গ করলে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারবেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্ডারউড স্কুলে লকডাউন মহড়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। এক ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী তদন্তকারীদের জানান, মহড়ার সময় তিনি উপুড় হয়ে মেঝেতে শুয়ে ছিলেন। তখন শিক্ষক জেসন রজার্স তার পিঠের ওপর দুই পা দিয়ে দাঁড়ান। আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়, রজার্সের ওজন ৩৫০ পাউন্ডেরও বেশি, যা প্রায় ১৫৯ কিলোগ্রামের সমান। ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থী তীব্র পিঠের ব্যথায় ভুগতে থাকে এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তদন্ত চলাকালে রজার্স স্বীকার করেন, তিনি শুধু ওই একজন নন, আরও দুই শিক্ষার্থীর পিঠেও পা রেখেছিলেন। তার দাবি ছিল, কয়েকজন শিক্ষার্থী লকডাউন মহড়াকে গুরুত্ব দিচ্ছিল না। তাদের সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই তিনি এমনটি করেছিলেন। তবে তদন্তকারী সংস্থার মতে, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা শিশুদের প্রতি শারীরিক শাস্তির শামিল।
ঘটনার পর ২০২৫ সালের মার্চে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর আন্ডারউড স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়। এরপর থেকে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন ছিল।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রবেশন চলাকালে রজার্সকে শিক্ষকতার লাইসেন্স ত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি তাকে রাগ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে, সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নিতে হবে এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে স্থগিত থাকা অভিযোগে আনুষ্ঠানিক দণ্ডাদেশ কার্যকর হতে পারে।
মার্কিন শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যালয়ে জরুরি পরিস্থিতির মহড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পরিচালিত হলেও তা পরিচালনার সময় শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিকর কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষকদের আচরণবিধি এবং বিদ্যালয়ের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে সড়কে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে গাড়ি চালানোর প্রবণতা ঠেকাতে অভিনব কৌশল নিয়েছে একটি পুলিশ বিভাগ। ঝোপের ছদ্মবেশ ধারণ করে সড়কের পাশে অবস্থান নেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাত্র ছয় ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে ৭৪ জন চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মিডলসেক্স কাউন্টির ডানেলেন পুলিশ বিভাগ ২৯ জুলাই এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। শহরের নর্থ ওয়াশিংটন অ্যাভিনিউর ১০০ নম্বর ব্লকে অভিযানটি চালানো হয়। এলাকাটি যানবাহন ও পথচারীদের ব্যস্ত চলাচলের জন্য পরিচিত। পুলিশ জানায়, নিউ জার্সির হাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে গাড়ি চালানো সংক্রান্ত আইন কার্যকর করা এবং সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানোই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। অভিযানে এক পুলিশ কর্মকর্তা ঝোপের মতো পোশাক পরে রাস্তার পাশে অবস্থান নেন। তার সঙ্গে ছিল দূরবীন। তিনি গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী চালকদের শনাক্ত করেন। এরপর সামনে অবস্থান নেওয়া অন্য পুলিশ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট যানবাহন থামিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন। অভিযানের আরও একটি ছবিতে একজন কর্মকর্তাকে "আমি পুলিশ নই" লেখা টি-শার্ট পরেও দেখা যায়, যা অভিযানের গোপনীয়তা বজায় রাখতে ব্যবহার করা হয়েছিল। ডানেলেন পুলিশ বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, মাত্র ছয় ঘণ্টায় ৭৪টি জরিমানার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিভাগটি মজার ছলে লিখেছে, "আমাদের 'ঝোপ' কিন্তু বেশ ব্যস্ত ছিল।" একই সঙ্গে চালকদের উদ্দেশে বার্তায় বলা হয়, "কোনো বার্তা বা নোটিফিকেশন অপেক্ষা করতে পারে। সড়কে গাড়ি চালানোর সময় দৃষ্টি রাখুন রাস্তায়, মোবাইলের পর্দায় নয়।" নিউ জার্সির আইনে গাড়ি চালানোর সময় হাতে মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ। প্রথমবার এ আইন ভঙ্গ করলে ২০০ থেকে ৪০০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ এবং অন্যান্য শাস্তিও বাড়তে পারে। রাজ্যের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, বিভ্রান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মাঝে মধ্যেই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। কোথাও সাধারণ পোশাকে, কোথাও আবার ভিন্ন ধরনের ছদ্মবেশ ব্যবহার করে আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করা হয়। ডানেলেন পুলিশের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে সড়কে আইন মেনে চলার বিষয়ে কার্যকর সচেতনতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
রেসিজম নিয়ে সোচ্চার, কমলা হ্যারিসের ৮ মিলিয়ন ডলারের নতুন বাড়ির আশপাশে নেই কোনো কৃষ্ণাঙ্গ
যুক্তরাষ্ট্রে শাস্তির নামে শিক্ষার্থীর পিঠে দাঁড়িয়েছিলেন ১৬০ কেজি ওজনের শিক্ষক, অমানবিক আচরণে মিলল সাজা
নিউইয়র্কে লেজিওনেয়ার্স রোগের প্রাদুর্ভাবে আরও একজনের মৃত্যু, মৃত বেড়ে ৭
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের কুলিজ শহরে দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যে লাইফ সাপোর্টে থাকা ছেলেকে বাঁচিয়ে রাখতে এক মায়ের নিরলস লড়াইয়ের ঘটনা আলোচনায় এসেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্র একে একে বন্ধ হয়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে ঘরের তাপমাত্রা প্রায় ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মার্কিন গণমাধ্যম পিপল এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অ্যারিজোনাস ফ্যামিলি জানিয়েছে, গত ২৫ জুলাই বিকেল সাড়ে ২টার দিকে কুলিজের বড় একটি এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যায়। ওই বিভ্রাটে কয়েক হাজার বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, মৌসুমি ঝড়ের সময় বজ্রপাতের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। কারেন গ্লেজারের ছেলে ডেভিড গ্লেজার ২০২০ সালের ৯ মে ভয়াবহ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তার শরীরের প্রায় সব হাড় ভেঙে যায় এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। চিকিৎসকেরা প্রথমে তাকে ঘাড়ের নিচ থেকে সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি বাড়িতেই চিকিৎসাধীন এবং শ্বাস-প্রশ্বাস, শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক চিকিৎসা যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। পরিবারটি তার সম্ভাব্য স্টেম সেল চিকিৎসার জন্যও অর্থ সংগ্রহ করছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডেভিডের বিশেষ চিকিৎসা শয্যা, পালস অক্সিমিটারসহ একাধিক জরুরি যন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়। কারেন জানান, ব্যাকআপ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও কাজ করেনি। ফলে মুহূর্তের মধ্যে তিনি বুঝতে পারেন, ছেলের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে গেছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘরের তাপমাত্রা প্রায় ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছে যায়। ডেভিড নিজের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে পারেন না। তাই কারেন বারবার পানিতে কাপড় ভিজিয়ে ছেলের শরীর মুছে তাকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে তিনি হাতে করে ডেভিডের মুখ থেকে লালা পরিষ্কার করেন, যাতে শ্বাসরোধের ঝুঁকি তৈরি না হয়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় শহরে শীতলীকরণ কেন্দ্র (কুলিং সেন্টার) চালু করা হলেও সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি কারেনের। তিনি ছেলেকে একা রেখে বের হতে পারেননি। বরফ সংগ্রহ করতেও যেতে পারেননি। পরে সাহায্য চেয়ে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করলেও তার মোবাইল ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যায় এবং নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এমনকি জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান। কারেনের ভাষ্য, তাদের বাসা জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগের তালিকায় থাকলেও কর্তৃপক্ষ কয়েক দফায় বিদ্যুৎ ফেরার সম্ভাব্য সময় পরিবর্তন করে। এতে উদ্বেগ আরও বাড়ে। অবশেষে প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর রোববার সকালে বিদ্যুৎ ফিরে এলে ডেভিডের চিকিৎসা যন্ত্রগুলো আবার চালু হয় এবং তার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করে। ঘটনার পর কারেন বলেন, এই অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। তার ভাষায়, "এ ধরনের পরিস্থিতি আর কখনো ঘটতে দেওয়া যায় না।" দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎনির্ভর চিকিৎসা যন্ত্র বন্ধ থাকলে গুরুতর রোগীদের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, চরম গরমের সময়ে যেসব পরিবারে বিদ্যুৎনির্ভর চিকিৎসা যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, তাদের জন্য বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ব্যাটারি এবং জরুরি যোগাযোগ পরিকল্পনা আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক এই ঘটনা সেই প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিকেই আবার সামনে এনে দিয়েছে।
নিউইয়র্কে রাস্তায় গোলাগুলির মাঝে পড়ে প্রাণ হারাল ১২ বছরের জ্যাকব, চলতি বছর গুলিবিদ্ধ অন্তত ৫০ শিশু-কিশোর
বাবার সামনেই বিষাক্ত ক্র্যাটম বড়ি খেয়ে ছটফট করছিল ২ বছরের শিশু, ৯১১-এ কল না করায় গ্রেপ্তার বাবা ও এক নারী
একই নির্যাতনের গল্পে ডজন ডজন অ্যাসাইলাম আবেদন, ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবীকে ৪.৭ লাখ ডলার জরিমানা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের দ্বৈত নাগরিকদের (যাদের যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্য দেশেরও নাগরিকত্ব রয়েছে) জন্য ভ্রমণ নীতিমালায় কড়াকড়ি আরোপ করে নতুন সতর্কতা জারি করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং দেশ ত্যাগের ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনোভাবেই বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশে প্রবেশ করা যাবে না। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, দ্বৈত নাগরিকরা ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইএসটিএ (ESTA)-এর জন্য আবেদন করতে পারবেন না। কেউ বিদেশি পাসপোর্ট দিয়ে এই আবেদন করলে তা নিয়মিতভাবেই বাতিল করে দেওয়া হবে। মূলত, মার্কিন নাগরিকদের জন্য কোনো ধরনের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বা ইএসটিএ সুবিধা প্রযোজ্য নয়। এই কঠোর নিয়মটি প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য হবে। কোনো শিশুর পিতা-মাতা মার্কিন নাগরিক হলে, সেই শিশুটির মার্কিন নাগরিকত্বের আনুষ্ঠানিক নথিপত্র বা ডকুমেন্টেশন না থাকলেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে সন্তানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা ত্যাগ করতে চাইলে অভিভাবকদের অবশ্যই শিশুটির জন্য একটি মার্কিন পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া, যেসব মার্কিন নাগরিক বিদেশে বসবাস করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের পাসপোর্ট মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগেই তা নবায়ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো দেশে প্রবেশের তারিখ থেকে পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ছয় মাস থাকা বাঞ্ছনীয়। ভ্রমণ সংক্রান্ত নির্দেশনার পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসন দ্বৈত নাগরিকদের কর বিষয়ক আইনি বাধ্যবাধকতার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে তাদের দেশটির কর আইন মেনে চলা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়াটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য দ্বৈত নাগরিকদের আয়কর রিটার্ন দাখিলে অভিজ্ঞ কোনো কর উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।
জর্জিয়ায় স্কুল হামলায় ৪ জন নিহত, ছেলের অপরাধে বাবার ১৫ বছরের কারাদণ্ড
ইরান যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় তলানিতে মার্কিন অর্থনীতি, জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে ১.৫ শতাংশ