আপনার স্টেটে কোন প্রাণীর হাতে প্রাণহানির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি? নতুন তালিকা প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রকাশিত নতুন এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে চমকে দেওয়া তথ্য। কোথাও মশা, কোথাও হরিণ, কোথাও আবার ভালুক, কুমির বা বিষধর সাপ, অঙ্গরাজ্যভেদে মানুষের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণীর তালিকা ভিন্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃতির বড় শিকারির চেয়ে অনেক সময় ছোট প্রাণী বা দৈনন্দিন জীবনে বেশি দেখা যায় এমন প্রাণীর কারণেই প্রাণহানির ঝুঁকি বেশি তৈরি হয়।
ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ প্রকাশিত ২০২৬ সালের একটি বিশ্লেষণে, এ-জেড অ্যানিম্যালসের তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণী বা কীটপতঙ্গ চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঝুঁকির ধরন নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু, বন্যপ্রাণী এবং মানুষের জীবনযাত্রার ওপর।
নিউইয়র্কে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণী হিসেবে উঠে এসেছে মশা। বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের কারণে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে নিউ জার্সি, ইলিনয়, মিনেসোটা ও উটাহে শীর্ষ ঝুঁকিতে রয়েছে কায়োট। পেনসিলভানিয়া, ওহাইও, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও আরকানসাসে হোয়াইট-টেইলড হরিণকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বলা হয়েছে, কারণ এ প্রাণীর সঙ্গে সংঘর্ষে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর বহু মানুষ হতাহত হন।
ফ্লোরিডা ও টেক্সাসে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে কুমির। আবার মন্টানা, আইডাহো ও ওয়াশিংটনে গ্রিজলি ভালুক, কেনটাকি, ম্যাসাচুসেটস, টেনেসি, উইসকনসিন ও ওরেগনে কালো ভালুককে সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কলোরাডো, মেইন, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও ভারমন্টে মুজ এবং সাউথ ডাকোটা ও ওয়াইওমিংয়ে বাইসন মানুষের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
দক্ষিণাঞ্চলের অনেক অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন প্রজাতির বিষধর র্যাটলস্নেক, কটনমাউথ ও কপারহেড সাপ সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণীর তালিকায় রয়েছে। হাওয়াইয়ে ইয়েলো-বেলিড সি স্নেক, আর আটলান্টিক উপকূলীয় কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বুল শার্ক, টাইগার শার্ক এবং পর্তুগিজ ম্যান-ও'-ওয়ারের মতো সামুদ্রিক প্রাণীকেও উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আলাবামা ও নেব্রাস্কায় ব্ল্যাক উইডো মাকড়সা, মিসৌরিতে টিক এবং আইওয়ায় বোলতা মানুষের জন্য উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করে। আলাস্কায় সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বন্য কুকুরকে।
কোনো প্রাণী আকারে বড় হলেই যে সেটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হবে—এ ধারণা সব সময় সঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগ সংক্রমণ, বিষক্রিয়া কিংবা সড়ক দুর্ঘটনার মতো পরোক্ষ কারণেই মানুষের প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে যায়। তাই নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় বন্যপ্রাণী সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলাই ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসন ধরপাকড় ও বহিষ্কার কার্যক্রমের প্রভাব শুধু অনিবন্ধিত অভিবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মার্কিন নাগরিকদের চাকরিতেও পড়তে পারে বলে দাবি করেছে নতুন এক প্রতিবেদনে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU) ও এএফএল-সিআইওর যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে প্রায় ৬০ লাখ চাকরি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে, যার প্রায় অর্ধেক বর্তমানে মার্কিন নাগরিকদের দখলে। ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘সিটিজেনশিপ অ্যান্ড দ্য অ্যাফোর্ডেবিলিটি এজেন্ডা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংগঠন দুটি দাবি করেছে, ব্যাপক ডিপোর্টেশন শ্রমবাজারে কর্মী সংকট তৈরি করছে এবং নির্মাণ, হসপিটালিটি ও কেয়ারগিভিংয়ের মতো অভিবাসী কর্মী নির্ভর খাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত করছে। তাদের মতে, এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্য ও সেবার দাম এবং কর্মসংস্থানের ওপরও পড়তে পারে। প্রতিবেদনের সবচেয়ে আলোচিত হিসাবটি এসেছে ইকোনমিক পলিসি ইনস্টিটিউটের একটি প্রক্ষেপণ থেকে। এতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপোর্টেশন কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে প্রায় ৬০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে। এর প্রায় অর্ধেক চাকরি বর্তমানে মার্কিন নাগরিকরা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রক্ষেপণ, ইতোমধ্যে হারিয়ে যাওয়া চাকরির পরিসংখ্যান নয়। ACLU ও এএফএল-সিআইও আরও দাবি করেছে, অভিবাসন ধরপাকড়ের কারণে অনেক এলাকায় মানুষ কর্মস্থলে যাওয়া, কেনাকাটা ও রেস্টুরেন্টে যাওয়ার মতো স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড থেকেও দূরে থাকছেন। তাদের প্রতিবেদনে একটি হিসাব তুলে ধরে বলা হয়েছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বছরে প্রায় ৮ দশমিক ১ বিলিয়ন কম ভিজিট এবং ৩ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলারের কম ব্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মিনেসোটায় ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ চলাকালে ব্যবসাগুলোর সাপ্তাহিক ১০ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটির আরেকটি দাবি হলো, অভিবাসন এনফোর্সমেন্টের ফলে শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লে কিছু নিয়োগকর্তার জন্য কর্মীদের কম মজুরি দেওয়া বা শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সংগঠন দুটি বলছে, এর প্রভাব শুধু অভিবাসীদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না এবং অভিবাসী ও মার্কিন নাগরিক উভয় ধরনের কর্মী থাকা একই শিল্পে মজুরি ও কর্মপরিবেশের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে এসব দাবির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন একমত নয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিস নিউজউইককে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিত অভিবাসন বৃদ্ধিই মার্কিন নাগরিকদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ, মূল্যস্ফীতি এবং মজুরির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে প্রশাসনের অবস্থান। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিবাসন আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মার্কিন কর্মীদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়ানোই তাদের লক্ষ্য। অভিবাসন নীতির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৬ সালের মে মাসে ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের একটি গবেষণায় বলা হয়েছিল, বেশি ICE গ্রেপ্তার হওয়া এলাকাগুলোতে অনিবন্ধিত কর্মীদের কর্মসংস্থান ৪ থেকে ৫ শতাংশ কমেছিল। একই গবেষণায় দেখা যায়, উচ্চমাধ্যমিক বা তার নিচের শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কিন নাগরিক পুরুষদের কর্মসংস্থানও কমেছে। ওই গবেষণায় আরও দেখা যায়, অনিবন্ধিত পুরুষ কর্মীদের প্রতি ছয়জন চাকরি হারানোর বিপরীতে প্রায় একজন মার্কিন নাগরিক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। গবেষকরা বিশেষ করে কৃষি, নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে এর প্রভাব দেখতে পেয়েছেন। গবেষণাটি ২০২৫ সালে ICE গ্রেপ্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল এমন এলাকাগুলোর মাসভিত্তিক কর্মসংস্থান তথ্য বিশ্লেষণ করে তুলনা করেছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের সমর্থকদের যুক্তি হলো, অনিবন্ধিত কর্মীদের শ্রমবাজার থেকে সরিয়ে দিলে মার্কিন নাগরিকদের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে নতুন ACLU ও এএফএল-সিআইও প্রতিবেদন এবং প্রশাসনের অবস্থানের মধ্যে মূল বিরোধটি হলো, অভিবাসন ধরপাকড় শেষ পর্যন্ত মার্কিন কর্মীদের জন্য চাকরি ও মজুরি বাড়াবে, নাকি শ্রমবাজার ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সংকুচিত করে উল্টো প্রভাব ফেলবে। নতুন প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, চাকরি ও মজুরি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনও সামনে রয়েছে। তবে প্রতিবেদনটির ৬০ লাখ চাকরি হারানোর হিসাব একটি প্রক্ষেপণ এবং এর সঙ্গে অভিবাসন নীতির পাশাপাশি অর্থনীতির অন্যান্য পরিবর্তনশীল কারণও জড়িত থাকতে পারে। তাই এটিকে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ফলাফল হিসেবে নয়, বরং একটি নীতি বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাবের হিসাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পানির বোতলে ব্লিচ ঢেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে খাওয়ান হোমকেয়ার, ভিডিও ভাইরাল
দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের, বাড়ছে কূটনৈতিক বিরোধ
যুক্তরাষ্ট্রে বড় মজুরি পরিবর্তনের প্রস্তাব, ঘণ্টায় ৭.২৫ থেকে ২৫ ডলার
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৫ হাজার ডলারের “ডিভিডেন্ড” নিয়ে আমেরিকানদের মধ্যে আগ্রহ থাকলেও, তিনি শেষ পর্যন্ত এই অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন কি না, সে বিষয়ে আস্থা রয়েছে মাত্র ২১ শতাংশের। ১১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পরিচালিত ইকোনমিস্ট/ইউগভ জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৪৬১ জন নিবন্ধিত ভোটারের ৪৮ শতাংশ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাবকে তারা সমর্থন করেন। ৪০ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। অর্থাৎ সরাসরি ৫ হাজার ডলার পাওয়ার ধারণার প্রতি উল্লেখযোগ্য সমর্থন থাকলেও, ট্রাম্প সেই অর্থ বাস্তবে দেবেন কি না, সে প্রশ্নে চিত্রটি ভিন্ন। ইকোনমিস্ট/ইউগভ জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২১ শতাংশ ভোটার মনে করেন ট্রাম্প সম্ভবত বা নিশ্চিতভাবে এই ৫ হাজার ডলারের ডিভিডেন্ড দেবেন। বিপরীতে ৫৭ শতাংশ মনে করেন, তিনি সম্ভবত বা নিশ্চিতভাবে তা করবেন না। জরিপটির মার্জিন অব এরর প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট। দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেও এই পার্থক্য স্পষ্ট। জরিপে ৪৫ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন, ট্রাম্প এই অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন বলে তারা মনে করেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার মাত্র ৪ শতাংশ। ট্রাম্প গত ৯ সেপ্টেম্বর ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মিডটার্ম কনভেনশনে ঘোষণা দেন, নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে তিনি প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের “ট্রাম্প ডিভিডেন্ড” দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন। তবে প্রস্তাবটির অর্থায়ন, যোগ্যতার শর্ত এবং কীভাবে অর্থ বিতরণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে একই সময়ে পরিচালিত রয়টার্স/ইপসস জরিপেও প্রস্তাবটি নিয়ে ভিন্ন ধরনের সংশয় দেখা গেছে। ১ হাজার ১৪৩ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ৬৩ শতাংশ ট্রাম্পের এই ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতিকে অনুপযুক্ত বলে মনে করেছেন। জরিপটির মার্জিন অব এরর ৩ শতাংশ পয়েন্ট। তবে ৫ হাজার ডলারের অর্থ দেওয়ার প্রস্তাবটি এখনো কোনো অনুমোদিত ফেডারেল বেনিফিট নয়। এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও আইনি কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ১৫ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসের এক শুনানিতে বলেন, ট্রেজারি বিভাগ এমন উপায় খতিয়ে দেখছে যাতে প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় এবং একই সঙ্গে ফেডারেল ঘাটতিও না বাড়ে। প্রয়োজন হলে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার পথেও প্রশাসন এগোতে পারে বলে তিনি জানান। প্রস্তাবটির সম্ভাব্য ব্যয়ও বড় একটি প্রশ্ন। সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হলে মোট ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে বলে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে হিসাব করা হয়েছে। তবে কারা এই অর্থ পাবেন, কোনো আয়সীমা থাকবে কি না এবং অর্থের নির্দিষ্ট উৎস কী হবে, এসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সাম্প্রতিক দুটি জরিপের ফলাফলে তাই দুটি আলাদা বিষয় সামনে এসেছে। একদিকে ৫ হাজার ডলার পাওয়ার ধারণার প্রতি ভোটারদের একটি বড় অংশের সমর্থন রয়েছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুত অর্থ বাস্তবে পাওয়া যাবে কি না এবং প্রস্তাবটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ট্রাকে গাদাগাদি করে ৩১ অভিবাসী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্ডার প্যাট্রোলের হাতে আটক
যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার ১ শতাংশ বা তারও কম হওয়া উচিত - ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের স্কুল বাছাইয়ে ভুল এড়াতে বাবা-মায়ের যে বিষয়গুলো দেখা উচিত
অ্যারিজোনার মেসায় মাত্র ৯৭৭ ডলার হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বা হোআ (HOA) এর বকেয়া থেকে শুরু হওয়া বিরোধে সাড়ে চার লাখ ডলারের একটি বাড়ি শেষ পর্যন্ত নিলামে কিনে নিয়েছে সেই হোআ। ২০২৫ সালের শেষ দিকে হওয়া এই নিলামে বাড়িটির দাম ওঠে মাত্র ৮ হাজার ১৭২ ডলার। ঘটনাটি নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা চলছে। ইস্ট মেসার বাসিন্দা টবি নিউটন ২০২২ সালে প্রায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলারে চার বেডরুমের বাড়িটি কিনেছিলেন। অবসর জীবনের জন্য কেনা বাড়িটিতে তিনি তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী শেরি প্যাটেনকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। ২০২৪ সালে নিউটনের চাকরি চলে যাওয়ার পর তিনি আর্থিক সমস্যায় পড়েন। একই সময়ে তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। ফলে বাড়ির নিয়মিত খরচের পাশাপাশি হোআর প্রায় ১৭০ ডলার ত্রৈমাসিক ফি পরিশোধ করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হোআর কাছে তার বকেয়া দাঁড়ায় ৯৭৭ ডলার, যার মধ্যে ফি ও সুদ ছিল। নিউটনের দাবি, বকেয়া পরিশোধের জন্য তিনি হোআর সঙ্গে একাধিকবার পেমেন্ট প্ল্যানের চেষ্টা করেন। প্রথমে মাসে ৫০ ডলার, পরে ১৩৩ দশমিক ৭০ ডলার এবং শেষ পর্যন্ত মাসে ২০০ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। এরপর বিষয়টি ফোরক্লোজার প্রক্রিয়ায় গড়ায়। আদালতের প্রক্রিয়ায় অ্যাটর্নি ফি, কালেকশন খরচ ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হতে থাকে। ফলে প্রাথমিক ৯৭৭ ডলারের বকেয়া পরে কয়েক হাজার ডলারে বেড়ে যায়। ২০২৫ সালে আদালতের প্রক্রিয়া শেষে বাড়িটি পাবলিক অকশনে তোলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপারস্টিশন স্প্রিংস কমিউনিটি মাস্টার অ্যাসোসিয়েশন ৮ হাজার ১৭২ ডলারের সর্বোচ্চ দর দিয়ে বাড়িটি কিনে নেয়। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে চার লাখ ডলারের মূল্যের একটি বাড়ি হোআর নিলাম ক্রয়ে চলে যায় মাত্র কয়েক হাজার ডলারে। এদিকে বাড়িটি হারানোর পরও নিউটন ও প্যাটেন সেখানে অবস্থান করছেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বাড়িটি ফেরত পাওয়ার জন্য তারা আইনি উদ্যোগের পাশাপাশি অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। ঘটনাটির সময়কালও গুরুত্বপূর্ণ। নিউটনের বিরুদ্ধে ফোরক্লোজার প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৪ সালে। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যারিজোনায় নতুন আইন কার্যকর হয়, যেখানে পরিকল্পিত আবাসিক কমিউনিটির হোআর ফোরক্লোজারের ক্ষেত্রে বকেয়ার সীমা ১ হাজার ২০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ডলার করা হয় এবং বকেয়া থাকার সময়সীমা এক বছর থেকে ১৮ মাস করা হয়। ফলে নিউটনের মামলাটি নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগের আইনি কাঠামোর অধীনে এগিয়েছিল। ঘটনাটি সামনে আসার পর হোআর ক্ষমতা, বকেয়া আদায়ের পদ্ধতি এবং তুলনামূলকভাবে ছোট অঙ্কের দেনা থেকে একটি বাড়ির ওপর ফোরক্লোজার কীভাবে হতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আইনি ঝামেলায় পড়লে কাকে ফোন করবেন? প্রবাসীদের কাজে আসতে পারে যেসব অ্যাটর্নির ফোন নম্বর
কাবুল বিমানবন্দর হা/মলায় আই এস আই এস-কে সহায়তার দায়ে মোহাম্মদ শরিফুল্লাহকে ২০ বছরের কারাদণ্ড