ভিসা ইন্টারভিউয়ের আগে পড়ুন, এই ৭ ভুলেই বাতিল হতে পারে মার্কিন ভিসা
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষা, ব্যবসা কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে প্রতি বছর বিশ্বের লাখো মানুষ ভিসার জন্য আবেদন করেন। তবে আবেদন করলেই ভিসা মিলবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। মার্কিন অভিবাসন আইন অনুযায়ী নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নির্দেশনায় ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সাতটি প্রধান কারণ তুলে ধরা হয়েছে, যা নতুন আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের কনস্যুলার কর্মকর্তা। আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য, জমা দেওয়া নথিপত্র, সাক্ষাৎকার এবং প্রযোজ্য অভিবাসন আইন পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা উল্লেখ করে আবেদনকারীকে কারণ জানিয়ে দেওয়া হয়।
সরকারি নির্দেশনায় ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের যেসব কারণ সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে আবেদনপত্র অসম্পূর্ণ থাকা বা প্রয়োজনীয় সহায়ক নথিপত্র জমা না দেওয়া। প্রয়োজনীয় তথ্য বা নথির ঘাটতি থাকলে আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করা সম্ভব হয় না।
দ্বিতীয় কারণ হলো, যে ধরনের ভিসার জন্য আবেদন করা হয়েছে, সেই ভিসার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়া। উদাহরণ হিসেবে, পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসার আবেদনকারী যদি সফরের উদ্দেশ্য বিশ্বাসযোগ্যভাবে ব্যাখ্যা করতে না পারেন বা সফর শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার যথেষ্ট প্রমাণ দেখাতে না পারেন, তাহলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।
তৃতীয় কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের আওতায় অযোগ্য বা অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়া। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, নির্দিষ্ট মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ, প্রতারণা, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বা অন্যান্য আইনি কারণ এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়।
চতুর্থ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে আবেদনকারীর অতীত বা বর্তমান কর্মকাণ্ড। আগে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করা, অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা কিংবা ভুয়া তথ্য বা জাল নথি ব্যবহার করার মতো ঘটনা ভবিষ্যতের ভিসা আবেদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পঞ্চম কারণ হলো আর্থিক সক্ষমতার পর্যাপ্ত প্রমাণ দিতে না পারা। যেসব ভিসার ক্ষেত্রে নিজের বা স্পনসরের আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ বাধ্যতামূলক, সেখানে পর্যাপ্ত তথ্য উপস্থাপন করতে না পারলে আবেদন নাকচ হতে পারে।
ষষ্ঠ কারণ হলো প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য আর্থিক দায়বদ্ধতার অঙ্গীকারপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হওয়া। বিশেষ করে অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে এই নথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সপ্তম এবং সবচেয়ে গুরুতর কারণ হলো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদান। মার্কিন কর্তৃপক্ষের মতে, প্রতারণামূলক তথ্য বা জাল নথি ব্যবহার করলে শুধু বর্তমান আবেদনই বাতিল হয় না, ভবিষ্যতেও দীর্ঘমেয়াদে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে।
মার্কিন সরকার জানিয়েছে, ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও অনেক ক্ষেত্রে পুনরায় আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে নতুন করে আবেদন করার আগে প্রত্যাখ্যানের কারণ দূর করা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র হালনাগাদ করা এবং সব তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী বিশেষ অনুমতি বা আইনি ছাড় পাওয়ার সুযোগও থাকতে পারে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, আবেদনপত্রে সত্য ও নির্ভুল তথ্য প্রদান, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পূর্ণ রাখা এবং সাক্ষাৎকারে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সঠিক উত্তর দেওয়া—মার্কিন ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার লেক চার্লস শহরে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তিকে ব্লিচ খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে তারই হোম কেয়ার কর্মীর বিরুদ্ধে। পুলিশের অভিযোগ, ৩০ বছর বয়সী রেজিনাল্ড আন্দ্রে উইলসন একটি পানির বোতলে ব্লিচ ঢেলে ওই ব্যক্তিকে তা পান করতে দিয়েছিলেন। ঘটনাটি ধরা পড়ে বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায়। পরিবারের প্রকাশ করা নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, উইলসন একটি বড় পাত্র থেকে বোতলে তরল ঢালছেন। এরপর তিনি পাত্রটি লন্ড্রি এলাকার দিকে রেখে বোতলটি ঝাঁকিয়ে নেন। পরে ওই বোতল নিয়ে তিনি তার দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছে যান এবং সেটি পান করতে বলেন বলে পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি বোতল থেকে পান করার পর তরলটির স্বাদ ব্লিচের মতো অনুভব করেন। বিষয়টি তিনি পরিবারের এক সদস্যকে জানান। পরে ওই পরিবারের সদস্য উইলসনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পুলিশের দাবি, তখন উইলসন বোতলের পানিতে ব্লিচ ঢালার কথা স্বীকার করেন। পরিবার পরে নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। উইলসন লেক চার্লসের হেভেন অন আর্থ নেটওয়ার্ক নামের একটি প্রতিষ্ঠানে হোম কেয়ার কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তিগত যত্ন ও দৈনন্দিন কাজে সহায়তা দেওয়ার সেবা প্রদান করে। ঘটনার খবর পাওয়ার পর তাকে ওই বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য ইমার্জেন্সি রুমে নেওয়া হয়। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি ভালো আছেন। লেক চার্লস পুলিশ উইলসনকে ক্ষতিকর পদার্থ মেশানো, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ওপর নিষ্ঠুরতা এবং গুরুতর হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই উইলসন সেখান থেকে চলে গিয়েছিলেন। পরে তাকে খুঁজে বের করে কোনো ধরনের ঘটনা ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়। হেভেন অন আর্থ নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, তাদের কাছে সেবাগ্রহীতার নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনো ধরনের নির্যাতন তারা মেনে নেয় না। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের তদন্তে সহযোগিতা করছে। গোপনীয়তা আইনের কারণে ওই ব্যক্তির চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পেছনে উইলসনের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য কী ছিল, তা পুলিশ প্রকাশ করেনি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আইনগতভাবে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের, বাড়ছে কূটনৈতিক বিরোধ
যুক্তরাষ্ট্রে বড় মজুরি পরিবর্তনের প্রস্তাব, ঘণ্টায় ৭.২৫ থেকে ২৫ ডলার
ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের চেক: মাত্র ২১ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন প্রতিশ্রুত অর্থ দেবেন তিনি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মেক্সিকো সীমান্তের কাছে একটি ট্রাকের ভেতর থেকে ৩১ অভিবাসীকে আটক করেছে ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল। ঘটনাটি ঘটেছে ইম্পেরিয়াল কাউন্টির ওকোটিলো এলাকায়। ট্রাকটিতে গাদাগাদি করে ওই অভিবাসীদের নেওয়া হচ্ছিল বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। মেক্সিকোর সংবাদমাধ্যম এন প্লাসের তথ্য অনুযায়ী, বর্ডার প্যাট্রোল সদস্যরা ট্রাকটি থেকে ৩১ জনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। চালক তাদের ওকোটিলো এলাকায় রেখে মেক্সিকোর দিকে পালিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরে মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ ওই চালককে আটক করে। ট্রাকটিকে একটি পরিবর্তিত ইউটিলিটি ট্রাক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ বহনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি মানব পাচারের সন্দেহে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে আটক ৩১ জনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল ওকোটিলো ক্যালিফোর্নিয়ার ইম্পেরিয়াল কাউন্টিতে, মেক্সিকো সীমান্তের কাছের একটি দুর্গম মরুভূমি এলাকায় অবস্থিত। অঞ্চলটি প্রচণ্ড গরম ও দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। আগের বছরগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই এলাকায় সীমান্ত পারাপারের সময় অভিবাসীদের উদ্ধার এবং তীব্র গরমে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও উঠে এসেছে। বর্ডার প্যাট্রোল সদস্যরা ট্রাকটি পরীক্ষা করার পর ভেতরে থাকা মানুষদের শনাক্ত করেন। তাদের আটকের পর পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে তাদের নাগরিকত্ব, বয়স বা তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের কোন পথ ব্যবহার করেছিলেন - এসব বিষয়ে প্রকাশ্য পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। সীমান্তে মানব পাচার ঠেকাতে যানবাহন পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের বর্ডার প্যাট্রোলের নিয়মিত আইন প্রয়োগ কার্যক্রমের অংশ। এর আগে টেক্সাসেও ট্রাকের গোপন অংশ থেকে অভিবাসীদের উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার এই ঘটনায় একসঙ্গে ৩১ জনকে একটি পরিবর্তিত ট্রাক থেকে আটকের বিষয়টি বিশেষভাবে সামনে এসেছে। সোর্স: নিউইয়র্ক পোস্ট, এন প্লাস
যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার ১ শতাংশ বা তারও কম হওয়া উচিত - ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের স্কুল বাছাইয়ে ভুল এড়াতে বাবা-মায়ের যে বিষয়গুলো দেখা উচিত
হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশনে ৯৭৭ ডলার দেনা, নিলামে বিক্রি সাড়ে চার লাখ ডলারের বাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসীদের জীবনে যেকোনো সময় আইনি সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে পারে। ইমিগ্রেশন, গ্রিন কার্ড, সিটিজেনশিপ, আইসিই-সংক্রান্ত বিষয়, ড্রাইভিং বা ট্রাফিক মামলা, গাড়ি দুর্ঘটনা, ব্যক্তিগত আঘাত, ক্রিমিনাল কেস, পারিবারিক বিরোধ কিংবা ব্যবসায়িক জটিলতায় দ্রুত একজন যোগ্য অ্যাটর্নির সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। তাই জরুরি মুহূর্তের অপেক্ষা না করে নিজের ফোনে অন্তত কয়েকজন অ্যাটর্নি বা ল ফার্মের নম্বর আগে থেকেই সেভ করে রাখা কাজে আসতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কথা মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি বা বাংলাভাষী কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করা কয়েকজন অ্যাটর্নি ও ল ফার্মের প্রকাশ্য যোগাযোগের তথ্য তুলে ধরা হলো। এটি কোনো অ্যাটর্নির সেবা, দক্ষতা বা ফলাফলের র্যাংকিং নয়। কোনো আইনি বিষয়ে যোগাযোগের আগে সংশ্লিষ্ট অ্যাটর্নির বর্তমান লাইসেন্স, কোন ধরনের মামলা তিনি নেন এবং আপনার স্টেটে প্র্যাকটিস করার অনুমতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া উচিত। নিউইয়র্কে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত আইনি সহায়তার জন্য অ্যাটর্নি মওমিতা রহমানের ল ফার্মের অফিস নম্বর ২১২-২৪৮-৭৯০৭। নিউইয়র্কে তার অফিস এবং প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি বাংলা ভাষায় সেবা দেন এবং ইমিগ্রেশন আইনের বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেন। অ্যাটর্নি নাসরিন মোজ্নুরের ব্রঙ্কস অফিসের ফোন ৭১৮-৫১৮-০৪৭০, বিকল্প নম্বর ৯১৭-৫৯৭-৬৩৪৯। অ্যাটর্নি মীর এম. মিজানুর রহমানের ম্যানহাটন অফিসের ফোন ২১২-৭৩২-২২২০, বিকল্প নম্বর ৯১৭-৬২২-৭৯৬৯। এসব অফিসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তারা বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনি সেবা দিয়ে থাকেন। নিউইয়র্কের আরেকটি বাংলাদেশি কমিউনিটিকেন্দ্রিক ল ফার্ম খায়রুল বাশার ল-এর অফিস ফোন ২১২-৪৬৪-৮৬২০ এবং ৭১৮-৭৭৫-৮৫০৯। ফার্মটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ইমিগ্রেশন, ফ্যামিলি ইমিগ্রেশন, সিটিজেনশিপ, আইসিই ডিটেনশন, বন্ড এবং বিভিন্ন ইমিগ্রেশন কেস নিয়ে তারা কাজ করে। জ্যাকসন হাইটসের রুমা জুননাতুল ল অফিসের প্রকাশিত ফোন নম্বর ৫১৬-৫৪৯-৬৭০৭ এবং ৭১৮-৪২৭-১২৩৩। প্রতিষ্ঠানটি ইমিগ্রেশন ও সিভিল লিটিগেশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে এবং বাংলা ভাষায় সহায়তার কথা উল্লেখ করেছে। জর্জিয়ায় আটলান্টা মেট্রো এলাকার মনির মেহরান ল-এর ডোরাভিল অফিসের ফোন ৪৭০-৮০০-৯২১৩। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সেবা বিভিন্ন স্টেটের ক্লায়েন্টদের দেওয়া হয়। তবে পার্সোনাল ইনজুরি সংক্রান্ত কাজ জর্জিয়াকেন্দ্রিক এবং অন্যান্য স্টেটের স্টেট ল-এর ক্ষেত্রে লাইসেন্সের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই ফোন করার সময় নিজের মামলার ধরন ও স্টেটের কথা পরিষ্কারভাবে জানানো জরুরি। মিশিগানের হামট্রামকে অ্যাটর্নি রুহুল এম. মুমেনের অফিসের ফোন ৩১৩-৮৯৩-২৫০০। তার ফার্মের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি বাংলা ও ইংরেজিতে সেবা দেন এবং অটো অ্যাকসিডেন্ট, পার্সোনাল ইনজুরি, ক্রিমিনাল ডিফেন্স, ডিইউআইসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেন। মিশিগান স্টেটের অ্যাটর্নি রেকর্ড ও প্রকাশিত পেশাগত তথ্যেও তার লাইসেন্সের তথ্য পাওয়া যায়। ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অ্যাটর্নি জুবাইদা ইকবালের প্রকাশ্য যোগাযোগ নম্বর ৪০৭-৯৩০-১৫৫২। ফ্লোরিডা বারের তথ্য অনুযায়ী তিনি ফ্লোরিডায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি। তার প্রকাশ্য প্রোফাইলে বিভিন্ন আইনি বিষয়ে কাজের তথ্য রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট মামলার ক্ষেত্রে তিনি সেটি গ্রহণ করছেন কি না, ফোনে আগে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত। টেক্সাসের হিউস্টনে অ্যাটর্নি মনিকা উদ্দিন আহমাদ, জাভিতসানোস অ্যান্ড মেনসিং-এর সঙ্গে কাজ করেন। টেক্সাসের ফেডারেল কোর্টের অ্যাটর্নি রেকর্ডে তার অফিসের ফোন ৭১৩-৬০০-৪৯১৩ এবং হিউস্টন অফিসের ঠিকানা ১২২১ ম্যাককিনি স্ট্রিট, স্যুট ২৫০০ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। ফার্মের তথ্য অনুযায়ী তিনি বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান এবং বাংলা ভাষায় কথা বলেন। তার মূল প্র্যাকটিস কমার্শিয়াল লিটিগেশন ও ব্যবসায়িক বিরোধকেন্দ্রিক। তাই ইমিগ্রেশন বা ব্যক্তিগত কোনো মামলার জন্য যোগাযোগের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি তারা গ্রহণ করেন কি না জেনে নেওয়া উচিত। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অ্যাটর্নি ওমর এইচ. বেঙ্গালির অফিস গিরার্ড বেঙ্গালি, এপিসি। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট বারের প্রকাশিত রেকর্ড অনুযায়ী তার লাইসেন্স সক্রিয় এবং অফিসের ফোন ৩২৩-৩০২-৮৩০০। অফিসের ঠিকানা ৩৫৫ সাউথ গ্র্যান্ড অ্যাভিনিউ, স্যুট ২৪৫০, লস অ্যাঞ্জেলেস। নির্দিষ্ট আইনি সমস্যায় যোগাযোগের আগে তার ফার্ম সেই ধরনের মামলা গ্রহণ করে কি না নিশ্চিত করা উচিত। ওয়াশিংটন স্টেটের সিয়াটলে অ্যাটর্নি তাহমিনা ওয়াটসনের ওয়াটসন ইমিগ্রেশন ল-এর ফোন ২০৬-২৯২-৫২৩৭। ওয়াশিংটন স্টেট বারের প্রকাশিত রেকর্ডে তার লাইসেন্স সক্রিয় এবং প্র্যাকটিস এরিয়া ইমিগ্রেশন হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। একই রেকর্ডে বাংলা ভাষাও তার জানা ভাষার মধ্যে রয়েছে। ইমিগ্রেশন, ডিপোর্টেশন ডিফেন্স, গ্রিন কার্ড, সিটিজেনশিপ, ফ্যামিলি ওয়ার্ক ভিসাসহ বিভিন্ন ইমিগ্রেশন বিষয়ে তার ফার্ম কাজ করে। মিশিগানে আরেকজন বাংলাদেশি-আমেরিকান অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীর অফিসের প্রকাশিত যোগাযোগ নম্বর ১-৮৬৬-৬৬৪-৬৫২৯ এবং সরাসরি নম্বর ৯১৭-২৮২-৯২৫৬। তার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি মিশিগান স্টেট ও যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিসের জন্য অনুমোদিত এবং নিউইয়র্কে তার কাজ ইমিগ্রেশন বিষয়ে সীমিত। অন্য স্টেটের মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্টেটে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যাটর্নিদের মাধ্যমে কাজ করার তথ্যও তার অফিস উল্লেখ করেছে। আইনি ঝামেলা হলে শুধু পরিচিত কারও পরামর্শের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত যোগ্য অ্যাটর্নির সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন মামলার ক্ষেত্রে নোটারি, ডকুমেন্ট প্রিপেয়ারার বা তথাকথিত ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টকে অ্যাটর্নি ধরে নেওয়া উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ইমিগ্রেশন কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন কোর্ট ও বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলের সামনে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন বৈধভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি অথবা অনুমোদিত অ্যাক্রেডিটেড রিপ্রেজেন্টেটিভ। নোটারি, ট্রাভেল এজেন্ট বা সাধারণ ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট সেখানে আইনগত প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না। যাদের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত, তাদের জন্যও বিকল্প রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ইমিগ্রেশন রিভিউ অফিস স্বীকৃত সংস্থা ও অ্যাক্রেডিটেড রিপ্রেজেন্টেটিভদের তালিকা প্রকাশ করে। এসব সংস্থার কিছু কম খরচে বা প্রো বোনো আইনি সহায়তা দিতে পারে। তবে বিচার বিভাগও স্পষ্ট করে যে তালিকায় থাকা কোনো প্রতিষ্ঠান বা অ্যাটর্নিকে তারা ব্যক্তিগতভাবে সুপারিশ বা অনুমোদন করে না। প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে ভালো প্রস্তুতি হতে পারে নিজের ফোনে কয়েকজন অ্যাটর্নির নম্বর আলাদা করে সেভ করে রাখা। তবে নম্বর সেভ করার পর সুযোগ থাকলে একবার অফিসে ফোন করে নম্বরটি বর্তমান কি না, অফিস কোন ধরনের মামলা নেয়, জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে যোগাযোগ করতে হয় এবং প্রাথমিক কনসালটেশনের জন্য কোনো ফি রয়েছে কি না, তা জেনে নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, প্রকাশ্যে থাকা ফোন নম্বর পরিবর্তিত হতে পারে এবং কোনো অ্যাটর্নি সব ধরনের মামলা নাও নিতে পারেন। তাই কোনো আইনি সমস্যায় পড়লে প্রথমে নিজের স্টেটের বার অ্যাসোসিয়েশন বা সংশ্লিষ্ট সরকারি লাইসেন্স রেকর্ডে অ্যাটর্নির বর্তমান স্ট্যাটাস যাচাই করে নেওয়াই নিরাপদ। এই তালিকার উদ্দেশ্য কাউকে নির্দিষ্টভাবে বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া নয়, বরং প্রবাসীদের জরুরি সময়ে দ্রুত আইনি সহায়তার যোগাযোগ খুঁজে পেতে প্রস্তুত থাকতে উৎসাহিত করা।
কাবুল বিমানবন্দর হা/মলায় আই এস আই এস-কে সহায়তার দায়ে মোহাম্মদ শরিফুল্লাহকে ২০ বছরের কারাদণ্ড
নিউইয়র্কে তিন মাসে তিন ক্যাবচালকের মৃত্যু, প্রবাসী চালকদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ