সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

জোহরান মামদানি হলেন ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ১৩:৫
ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মাঝে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে উঠে এসেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি সংগৃহীত
ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মাঝে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে উঠে এসেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি সংগৃহীত

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থক ও দলঘেঁষা ভোটারদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে উঠে এসেছেন। সিএনএনের নতুন জনমত জরিপে দেখা গেছে, জনপ্রিয়তার হিসাবে তিনি দলের বর্তমান শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি পুরো ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকেও ছাড়িয়ে গেছেন।

 

সিএনএনের জরিপে মামদানির নেট জনপ্রিয়তা পাওয়া গেছে ৫৪ শতাংশ। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের পছন্দের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন কংগ্রেস সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ (এওসি), যার নেট জনপ্রিয়তা ৪৫ শতাংশ।

 

জরিপে দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের অবস্থান তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিজের নেট জনপ্রিয়তা ২২ শতাংশে রয়েছে। অন্যদিকে, সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমারের জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে মাত্র ১ শতাংশে।

 

ফলাফল বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ডেমোক্র্যাট ভোটারদের একটি বড় অংশ এখন দলের দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের পরিবর্তে নতুন প্রজন্মের নেতাদের প্রতি বেশি আস্থা দেখাচ্ছেন। এর মধ্যে মামদানি অল্প সময়ের মধ্যেই দলীয় সমর্থকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন।

 

মাত্র সাত মাস আগে নিউইয়র্কের মেয়রের দায়িত্ব নেওয়া মামদানি দ্রুত দলের অভ্যন্তরে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন বলে জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে। তার জনপ্রিয়তা ডেমোক্র্যাট রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জরিপ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বর্তমান নেতৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। তৃণমূল সমর্থকরা কোন ধরনের নেতৃত্বকে বেশি পছন্দ করছেন, তা বিবেচনায় নিয়ে দলকে ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণ করতে হতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ডাউন সিনড্রোমে বেড়ে ওঠা দুই সন্তানকে নিয়ে আইসক্রিম ব্যবসায় বাবা
ডাউন সিনড্রোমের কারণে চাকরি না পাওয়া দুই সন্তানের জন্য আইসক্রিমের ব্যবসা গড়লেন বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের জোয়েল ওয়েগেনার চেয়েছিলেন, তাঁর দুই সন্তান মেরি ও জশ যেন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করতে পারে। ডাউন সিনড্রোম নিয়ে বেড়ে ওঠা সন্তানদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজে পাওয়া কঠিন হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই তৈরি করেন একটি নতুন পথ। পুরোনো একটি আইসক্রিম ট্রাক কিনে সন্তানদের নিয়ে শুরু করেন পারিবারিক ব্যবসা ‘স্পেশাল নিট ট্রিটস’। ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের পেছনে শুধু ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ছিল না। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর মেয়ে মেরি কেট কী ধরনের কাজ করতে পারবে, তা নিয়ে পরিবারে চিন্তা তৈরি হয়েছিল। প্রচলিত কর্মক্ষেত্রে ভিন্ন সক্ষমতার মানুষের জন্য উপযুক্ত সুযোগ সীমিত হওয়ায় জোয়েল সিদ্ধান্ত নেন, অপেক্ষা না করে সন্তানদের জন্য নিজেরাই একটি কর্মক্ষেত্র তৈরি করবেন। এরপর ইন্ডিয়ানার একটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরিবারের কাছ থেকে ব্যবহৃত একটি আইসক্রিম ট্রাক কিনে সেটি মেরামত করেন জোয়েল। সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন আইসক্রিম বিক্রির কাজ। ছোট পরিসরে শুরু হলেও ধীরে ধীরে এই উদ্যোগ হয়ে ওঠে মেরি ও জশের বাস্তব কর্মজীবনের প্রশিক্ষণের জায়গা। আইসক্রিম বিক্রির মাধ্যমে প্রতিদিনই নতুন কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা। গ্রাহকের কাছ থেকে অর্ডার নেওয়া, টাকা সামলানো, প্রশ্ন করা, মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং সামাজিক যোগাযোগ—এসব দক্ষতা কাজ করতে করতেই অনুশীলন করছেন মেরি ও জশ। জোয়েলের মতে, সন্তানদের জন্য এই উদ্যোগ শুধু একটি কাজের সুযোগ তৈরি করেনি, বরং তাঁদের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে। মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ফলে তাঁরা নিজেদের আরও স্বচ্ছন্দভাবে প্রকাশ করতে পারছেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব নেওয়া ও নিয়মিত কাজ করার অভ্যাসও তৈরি হচ্ছে। ওহাইওর লোভল্যান্ড এলাকায় শুরু হওয়া ‘স্পেশাল নিট ট্রিটস’ পরে বৃহত্তর সিনসিনাটি অঞ্চলেও পরিচিত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান, স্কুল এবং কমিউনিটি আয়োজনে আইসক্রিম বিক্রি করতে দেখা যায় ওয়েগেনার পরিবারকে। ২০২১ সালের প্রথম কয়েক মাসেই তাঁদের বিক্রি প্রায় ৫ হাজার আইসক্রিমে পৌঁছেছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এক প্রতিবেদনে মোট বিক্রি ১০ হাজারের বেশি ট্রিটে পৌঁছানোর কথা বলা হয়। তবে জোয়েলের কাছে এই ব্যবসার সাফল্য শুধু বিক্রির হিসাব দিয়ে মাপার বিষয় নয়। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল সন্তানদের এমন একটি পরিবেশ দেওয়া, যেখানে তাঁরা নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগাতে পারবেন এবং অন্যদের সঙ্গে সমানভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান নিয়েও একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন জোয়েল। তাঁর বিশ্বাস, উপযুক্ত পরিবেশ, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে ভিন্ন সক্ষমতার মানুষও কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। মেরি ও জশের গল্প তাই শুধু একটি আইসক্রিম ব্যবসার গল্প নয়। এটি এমন এক বাবার গল্প, যিনি সন্তানদের জন্য সুযোগের অপেক্ষা না করে নিজেরাই সেই সুযোগ তৈরি করেছেন। একটি পুরোনো আইসক্রিম ট্রাক তাঁদের কাছে হয়ে উঠেছে কাজ শেখা, আত্মবিশ্বাস অর্জন এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের একটি নতুন দরজা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৭:৫৫
বিদেশি সরকারি কর্মীদের সন্তানদের স্থায়ী বসবাস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নিয়ম

নতুন আবেদনকারীদের গ্রিন কার্ড পেতে মানতে হবে শর্ত, জানাল ডিএইচএস

ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ভুল শনাক্তকরণ নিয়ে আলোচিত মামলা

ফেসিয়াল রিকগনিশনের ভুলে গ্রে প্তার নারী, মুক্তির পর ১০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা

আইআরএসে দাবি না করা কর ফেরত, অঙ্গরাজ্যভেদে বড় পার্থক্য

কর ফেরত নিতে ভুলছেন অনেকে, যুক্তরাষ্ট্রের যে অঙ্গরাজ্যে পাওনা সবচেয়ে বেশি

সুদের হার বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ি বিক্রেতাদের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা
সুদের হার বাড়তেই চাপে আমেরিকার বাড়ির মালিকরা, কমতে পারে বাড়ির দাম

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পর দেশটির আবাসন বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। বাড়ির ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় যোগ্য ক্রেতার সংখ্যা কমতে পারে। ফলে বছরের শেষ নাগাদ বাড়ি বিক্রি করতে আগ্রহী অনেক মালিককে দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে হতে পারে বলে মনে করছেন আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা।   রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক বাড়ির মালিক এখনো কয়েক বছর আগের বাজারমূল্যকে ভিত্তি করে বেশি দাম প্রত্যাশা করছেন। কিন্তু বাজারের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় সেই প্রত্যাশা ধীরে ধীরে কমতে পারে। একই সময়ে ঋণের সুদ বেশি হওয়ায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।   ডাগ্রোসা ক্যাপিটাল পার্টনার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জো ডাগ্রোসা বলেন, বিক্রেতাদের অনেকেরই বাড়ির দাম নিয়ে উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে। তবে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেলে বিক্রির সুযোগও কমবে। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা—দুই পক্ষের জন্যই পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে।   কম্পাসের বাওয়ার্স গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রেট রুবিন বলেন, ক্রেতা কমে যাওয়ার কারণে বাড়ি বিক্রির প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশও দুর্বল হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক বাড়ি বাজারে আগের চেয়ে বেশি সময় ধরে পড়ে থাকছে এবং দাম কমানোর ঘটনাও বাড়ছে।   ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারকেরা বুধবার ১২-০ ভোটে ফেডারেল ফান্ডস রেট ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের সীমা থেকে বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশ করেছেন। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর এটি ছিল প্রথম সুদের হার বৃদ্ধি।   সুদের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির ঋণের খরচও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ৩০ বছরের নির্দিষ্ট হারের রিফাইন্যান্স ঋণের গড় হার বেড়ে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ১৫ বছরের নির্দিষ্ট হারের রিফাইন্যান্স ঋণের গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ।   ডাগ্রোসার মতে, গত ৮ থেকে ১০ বছরে অনেক বাড়ির মূল্য ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এখন যারা বাড়ি বিক্রি করতে চান, তাদের কেউ কেউ আগের তুলনায় কিছুটা কম দাম মেনে নিতে বাধ্য হতে পারেন। একই সঙ্গে বাড়ি নির্মাণ খাতেও চাপ বাড়ছে, কারণ নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হচ্ছে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বাড়ির মালিকের কাছে এখনো ৩ থেকে ৪ শতাংশের মতো কম সুদের পুরোনো মর্টগেজ রয়েছে। নতুন বাড়ি কিনলে বেশি সুদের হারে বড় ঋণ নিতে হবে—এই কারণে অনেকেই বাড়ি পরিবর্তন করতে চাইছেন না। আবাসন বাজারে এই পরিস্থিতিকে ‘মর্টগেজ রেট লক-ইন’ প্রভাব বলা হচ্ছে।   রুবিন বলেন, কম সুদের পুরোনো মর্টগেজ থাকা ব্যক্তিরা প্রয়োজন না হলে নতুন বাড়ি কেনার দিকে আগ্রহী নাও হতে পারেন। তবে চাকরির কারণে স্থানান্তর বা পারিবারিক প্রয়োজনের মতো কারণে যাদের বাড়ি কিনতে বা বিক্রি করতে হচ্ছে, তাদের উচ্চ সুদের এই পরিস্থিতির মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।   ডাগ্রোসা মনে করছেন, আগামী কয়েক মাসে আবাসন বাজার ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, বিক্রেতাদের কাছ থেকে দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে আপাতত বাজারে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা যেতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে বাড়ির মজুত বাড়া এবং মৌসুমি ধীরগতির সঙ্গে উচ্চ সুদের হার যুক্ত হওয়ায় বিক্রেতাদের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। যারা দাম কমাতে দেরি করবেন, তাদের সীমিতসংখ্যক ক্রেতার জন্য অন্য বিক্রেতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হতে পারে। ফলে সামনে ক্রেতাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুদের হার বাড়লেই সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির দাম কমে যাবে—এমন নয়। দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার বাড়তে থাকলে এর প্রভাব আবাসন বাজারে আরও স্পষ্ট হতে পারে। আগামী বসন্তের বাজার পরিস্থিতি এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা দিতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৫:৫৩
ক্যালিফোর্নিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা, যেখানে শিক্ষার্থী ঋণের বোঝা তুলনামূলকভাবে কম

শিক্ষার্থী ঋণে ক্যালিফোর্নিয়ার অবস্থান ৪৯তম, কম ঋণের পেছনে যে কারণ

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের মধ্যম আয় বেড়ে রেকর্ড ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলারে পৌঁছেছে

রেকর্ড গড়ল আমেরিকানদের পারিবারিক আয়, ২০২৫ সালে বেড়েছে ২.৬ শতাংশ

কারাগারে বন্দিদের নির্যাতনের ঘটনায় আলশেখকে ৬০ বছরের কারাদণ্ড

সিরিয়ায় বন্দিদের নি র্যাতন, সাবেক আসাদ কর্মকর্তার ৬০ বছরের কারাদণ্ড সাজা দিল যুক্তরাষ্ট্রের আদালত

নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতে ৪ মিলিয়ন ডলারের এক বছর মেয়াদি পাবলিক টয়লেট প্রকল্প চালু করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে মামদানির ৪ মিলিয়ন ডলারের টয়লেট, ১০ মিনিট পরই খুলবে দরজা

নিউইয়র্কে নতুন ১৭টি পাবলিক টয়লেট চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ৪ মিলিয়ন ডলারের এক বছর মেয়াদি পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি বরোতে এসব টয়লেট স্থাপন করা হচ্ছে। তবে এসব টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে রয়েছে বিশেষ নিয়ম—ভেতরে ঢোকার পর সর্বোচ্চ ১০ মিনিট সময় পাওয়া যাবে। সময় শেষ হলে সতর্কবার্তার পর দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে।   নতুন টয়লেটগুলো বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এগুলোতে থাকবে চলমান পানির ব্যবস্থা, ফ্লাশ টয়লেট, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং শিশুদের ডায়াপার পরিবর্তনের সুবিধা। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এসব টয়লেট খোলা থাকবে।   ব্যবহারকারীরা মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে, কিউআর কোড স্ক্যান করে, থ্রোন বাথরুম নেটওয়ার্ক অ্যাপের মাধ্যমে অথবা স্থানীয় কমিউনিটি অংশীদারদের দেওয়া ট্যাপ কার্ড ব্যবহার করে টয়লেটে প্রবেশ করতে পারবেন। অ্যাপের মাধ্যমে কাছাকাছি টয়লেটের অবস্থান, সেটি খালি আছে কি না এবং পরিচ্ছন্নতার তাৎক্ষণিক তথ্যও দেখা যাবে।   টয়লেটগুলোর সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো ১০ মিনিটের সময়সীমা। ব্যবহারকারীরা পাঁচ মিনিট ও আট মিনিটে সময় শেষ হওয়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা পাবেন। ১০ মিনিট পূর্ণ হলে টয়লেটের আলো জ্বলবে এবং অডিও বার্তার মাধ্যমে দরজা খোলার বিষয়ে জানানো হবে। এরপর প্রায় ৩০ সেকেন্ডের সতর্কতার পর দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে। সতর্কবার্তাগুলো ইংরেজি ও স্প্যানিশ—দুই ভাষায় দেওয়া হবে।   টয়লেট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান থ্রোন ল্যাবস জানিয়েছে, এই সময়সীমা নির্ধারণের আগে বিভিন্ন এলাকায় ব্যবহারকারীরা সাধারণত কতক্ষণ টয়লেটে থাকেন, তা পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের নেটওয়ার্কে অধিকাংশ ব্যবহারকারী সাড়ে তিন মিনিটের মধ্যেই টয়লেট থেকে বেরিয়ে যান। প্রায় ৮১ শতাংশ ব্যবহারকারী পাঁচ মিনিটের মধ্যে ব্যবহার শেষ করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি কেন্দ্রে ৯৫ শতাংশের বেশি ব্যবহারকারী ১০ মিনিটের মধ্যেই বেরিয়ে যান।   মামদানি প্রশাসনের এই প্রকল্পের আওতায় টয়লেটগুলো ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স, ব্রঙ্কস ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে স্থাপন করা হচ্ছে। নির্ধারিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যানহাটনের কুপার স্কয়ার ও ম্যালকম এক্স প্লাজা, ব্রুকলিনের কলম্বাস পার্ক ও মিলস্টোন পার্ক, কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া বুলেভার্ড ও নর্দার্ন বুলেভার্ডের বিভিন্ন এলাকা এবং ব্রঙ্কসের ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম এলাকা। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে নর্থ শোর এসপ্লানেডেও একটি ইউনিট স্থাপন করা হবে।   প্রচলিত স্থায়ী পাবলিক টয়লেটের তুলনায় এসব ইউনিট দ্রুত স্থাপন করা যায়। কারণ এগুলোকে সরাসরি পানি, পয়োনিষ্কাশন বা বিদ্যুৎ অবকাঠামোর সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রয়োজন নেই। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী ইউনিটগুলো অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া বা সরিয়ে ফেলা সম্ভব। থ্রোন ল্যাবসই প্রতিটি ইউনিটের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে।   নিউইয়র্কে পাবলিক টয়লেটের স্বল্পতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেটের অভাব রয়েছে। নতুন ১৭টি ইউনিটকে সেই ঘাটতি মোকাবিলায় একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পাইলট প্রকল্প এক বছর চলবে এবং এর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে শহরের পাবলিক টয়লেট নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।   ১০ মিনিটের নিয়মের উদ্দেশ্য হিসেবে দীর্ঘ সময় টয়লেট দখল করে রাখা বা সেখানে অপ্রয়োজনে অবস্থান ঠেকানোর বিষয়টি উল্লেখ করেছে থ্রোন ল্যাবস। আর মামদানি প্রশাসনের লক্ষ্য হলো ব্যস্ত এলাকাগুলোতে নিউইয়র্কবাসীর জন্য বিনামূল্যে, পরিচ্ছন্ন ও সহজে ব্যবহারযোগ্য পাবলিক টয়লেটের সুযোগ বাড়ানো।   সূত্র: ফক্স নিউজ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৪:১৮
হুবহু চেহারার মিলের কারণে নির্দোষ হয়েও কানসাসে প্রায় ১৭ বছর কারাদণ্ড ভোগ করেছেন রিচার্ড অ্যান্থনি জোন্স। ছবি: সংগৃহীত

অপরাধীর সঙ্গে চেহারা, নাম হুবহু মেলায় ১৭ বছর জেল! বেরিয়ে এলো সত্য

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার মহাসড়কে উবার থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর গাড়ির ধাক্কায় নিহত ২৩ বছর বয়সী তরুণী এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কার। ছবি: সংগৃহীত

মহাসড়কে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ায় মর্মান্তিক মৃত্যু, উবারকে ৪০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বা ইউসি-তে স্নাতক ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্যাট পরীক্ষা পুনরায় চালু করা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় আবার স্যাট ফেরানোর বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের ‘বেসিক গণিত’ নিয়ে প্রশ্ন

0 Comments