যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় সবচেয়ে সস্তায় বাড়ি মিলছে? দেখে নিন ১০ অঙ্গরাজ্যের তালিকা
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান আবাসন ব্যয়ের কারণে যখন সাধারণ মানুষ দিশেহারা, তখন এক নতুন বিশ্লেষণে দেশটির সবচেয়ে সাশ্রয়ী আবাসন বাজারগুলোর চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার জন্য সবচেয়ে কম খরচের অঙ্গরাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে আইওয়া।
প্রপার্টিশার্ক-এর তথ্যমতে, সেখানে একটি বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা দেশটির জাতীয় গড়ের তুলনায় দুই লাখ ডলারেরও বেশি কম। সাশ্রয়ী দামের এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আলাবামা। অন্যদিকে ওকলাহোমা এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে, যেখানে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার ডলার।
আবাসনবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আইওয়া, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, মিশিগান, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, আরকানসাস, ইন্ডিয়ানা ও মিসৌরির মতো অঙ্গরাজ্যগুলো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সাশ্রয়ী আবাসন বাজারের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যে বাড়ির মধ্যম মূল্য সাধারণত ২ লাখ ৩০ হাজার থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্য-পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে তুলনামূলকভাবে বাড়ির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় কম হওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত আবাসন সরবরাহ রয়েছে। এ কারণে এই অঞ্চলগুলো প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
তবে সাশ্রয়ী বাজারের এই খবরের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক আবাসন সংকটের চিত্রটি এখনও বেশ তীব্র। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, দেশজুড়ে একটি গড় মানের বাড়ি কিনতে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ডলারের বার্ষিক আয় প্রয়োজন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যম পারিবারিক আয়ের তুলনায় অনেক বেশি।
এর ফলে অধিকাংশ মার্কিন পরিবারের জন্যই নিজস্ব বাড়ি কেনা এখনও একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। একদিকে যেমন আইওয়া, আলাবামা, ওকলাহোমা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া এবং ইন্ডিয়ানার মতো রাজ্যগুলোতে সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি মিলছে, ঠিক তেমনি ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই, ম্যাসাচুসেটস ও নিউইয়র্কের মতো অঙ্গরাজ্যগুলো এখনও দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসন বাজার হিসেবে তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের স্বাস্থ্যসেবা খাতে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পরিচালিত মেডিকেইড কর্মসূচিতে বড় ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে এসেছে। স্টেট কম্পট্রোলার থমাস ডিনাপোলির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক অডিট প্রতিবেদনে জানা গেছে, পর্যাপ্ত নজরদারি ও স্পষ্ট নির্দেশনার অভাবে এই কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি ১৬ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ভুলভাবে পরিশোধ করা হয়েছে। অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ক্ষেত্রে একজন রোগী তার জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ কতবার সেই পরীক্ষা করাতে পারবেন, তার একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারিত রয়েছে। তবে এই সীমা উপেক্ষা করে হাজার হাজার দাবির বিপরীতে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে এমন অনেক জেনেটিক পরীক্ষাও রয়েছে, যেগুলো সাধারণত মানুষের জীবনে একাধিকবার করার কোনো প্রয়োজন হয় না। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এমন ৯১ হাজার ৭১৮টি দাবি শনাক্ত করা হয়েছে, যার বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ ডলারই পরিশোধ করেছে মেডিকেইড পরিচালনাকারী ম্যানেজড কেয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো। অডিটরদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই পরীক্ষার নির্ধারিত সীমা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা পায়নি এবং তাদের দাবি যাচাই করার নিজস্ব ব্যবস্থায়ও মারাত্মক দুর্বলতা ছিল। এছাড়াও, ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের জন্য ল্যাব ও অ্যাম্বুলেটরি সেবার আরও ১১ হাজার ৪৯টি দাবির বিপরীতে প্রায় ১৮ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। অথচ হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের এসব সেবার খরচ সাধারণত নির্ধারিত ইনপেশেন্ট প্যাকেজের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। ফলে আলাদা করে এসব বিল পরিশোধ করায় একই সেবার জন্য অনর্থক অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়েছে। স্টেট কম্পট্রোলারের কার্যালয় জানিয়েছে, নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ ২৭৫ ধরনের ল্যাব পরীক্ষার ক্ষেত্রে আজীবন সীমা নির্ধারণ করলেও প্রকাশ্য নির্দেশিকায় মাত্র সাতটির তথ্য উল্লেখ করেছে। ফলে বাকি পরীক্ষাগুলোর সীমা সম্পর্কে ম্যানেজড কেয়ার প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীদের কাছে কোনো সঠিক তথ্য ছিল না। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল এড়াতে অডিট প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগকে অতিরিক্ত পেমেন্টগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অর্থ ফেরত আনার পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে, সীমা নির্ধারিত থাকা সব ল্যাব পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ভুল পেমেন্ট ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, নিউইয়র্কের মেডিকেইড কর্মসূচিতে বছরে প্রায় ৯০ বিলিয়ন বা ৯ হাজার কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হয়। এই সুবিশাল কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের ৮০ লাখের বেশি নিম্ন আয়ের মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন থাকা বাসিন্দা চিকিৎসাসেবা পেয়ে থাকেন। স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ জানিয়েছে, অপচয় ও অপব্যবহার ঠেকাতে ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট ল্যাব পরীক্ষার সীমা কার্যকর করার জন্য সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম শনাক্ত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফেডারেল সরকার যখন নিউইয়র্কের মেডিকেইড ব্যয় ও ব্যবহারের ওপর তাদের নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঠিক তখনই নতুন এই অডিট প্রতিবেদনটি প্রকাশ পেল।
ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানলে ছাই ৭ শতাধিক বাড়ি, ঘরছাড়া ৬৫ হাজার বাসিন্দা
যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় সবচেয়ে সস্তায় বাড়ি মিলছে? দেখে নিন ১০ অঙ্গরাজ্যের তালিকা
১৫ হাজার ডলারের সঞ্চয় থেকে বছরে ৬০০ ডলারের বেশি আয়ের সুযোগ
ফ্লোরিডার মিয়ামি-ডেড এবং পাম বিচ কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগ (এফডিওএইচ) সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গত ৩ আগস্ট মশাবাহিত রোগের বিষয়ে একটি জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সাপ্তাহিক নজরদারি প্রতিবেদন অনুসারে, ২৬ জুলাই থেকে ১ আগস্টের মধ্যে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত তিনটি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত তিনটি কাউন্টিতে স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত চারজন ডেঙ্গু রোগীর কথা জানা গেছে। এর মধ্যে হিলসবরো কাউন্টিতে দুজন এবং মিয়ামি-ডেড ও পাম বিচ কাউন্টিতে একজন করে রোগী শনাক্ত হয়েছেন। মিয়ামি-ডেড স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ডেঙ্গুর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র পেশি ও অস্থিসন্ধির ব্যথাসহ ফ্লুর মতো অসুস্থতা, জ্বর এবং কখনো কখনো শরীরে ফুসকুড়ি বা র্যাশ দেখা দেওয়া। সংক্রমিত এডিস ইজিপ্টি মশার কামড় খাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে সাধারণত এসব উপসর্গ প্রকাশ পায়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন যে ডেঙ্গু কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়, এটি কেবল সংক্রমিত মশার কামড়েই একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়ায়। মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হিসেবে মিয়ামি-ডেড কাউন্টি কর্তৃপক্ষ গত জুন মাসেই স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। বিশেষ করে বাড়ির চারপাশে যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির পর বা বাগানে পানি দেওয়ার ফলে ফুলের টব, পিরিচ, আঙিনায় পড়ে থাকা খেলনা, কুলার এবং গাড়ি বা নৌকার প্লাস্টিকের কভারে সাধারণত পানি জমে থাকে, যা মশার নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। এই প্রজাতির মশাগুলোই ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা এবং ইয়েলো ফিভারের মতো মারাত্মক ভাইরাস ছড়ানোর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। ফ্লোরিডার স্বাস্থ্য বিভাগের একটি প্রচারপত্রে সতর্ক করে বলা হয়েছে, "মাত্র এক চা-চামচ বা বোতলের ছিপির সমপরিমাণ জমে থাকা পানি যদি এক সপ্তাহের বেশি থাকে, তবে তা মশার বংশবৃদ্ধি ও বিস্তারের জন্য যথেষ্ট। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাড়ির বাইরে বের হলে মশা নিবারক বা রিপেলেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশেষ করে গোধূলি থেকে ভোর পর্যন্ত এই সতর্কতা মেনে চলা জরুরি, কারণ এই সময়ে মশা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে এখনো বছরে ১ লাখ ডলারের বেশি আয় প্রয়োজন
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় ও চীনা শিক্ষার্থীদের এফ-১ ভিসা প্রদান ৬০% কমল
অ্যারিজোনায় নিখোঁজ দম্পতির বাড়ির উঠোনে মিলল অজ্ঞাত দেহাবশেষ, দেশ ছেড়েছে সন্দেহভাজন ছেলে
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী তরুণদের জন্য দারুণ এক সুখবর নিয়ে এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের জন্য তাদের মর্যাদাপূর্ণ ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মেধাবীরা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কাজ করার এবং পেশাদার অভিজ্ঞতা অর্জনের এক অনন্য সুযোগ পাবেন। আবেদনের শেষ সময় নির্দিষ্ট না থাকায় পদ পূরণের আগেই আগ্রহীদের দ্রুত আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই ইন্টার্নশিপটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ কাজের সুযোগ নয়, বরং এটি অংশগ্রহণকারীদের আন্তর্জাতিক জ্ঞান ও শিক্ষার পরিধি বিস্তারের একটি চমৎকার মাধ্যম। নির্বাচিত ইন্টার্নরা নিজেদের দক্ষতা যাচাই ও শাণিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি শক্তিশালী পেশাদার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, সিএসআইএস তাদের এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারীদের নির্দিষ্ট হারে ভাতাও প্রদান করবে, যা যুক্তরাষ্ট্রে একটি স্বস্তিদায়ক কাজের পরিবেশ ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত লিংকে (https://tinyurl.com/nhw84wm2) প্রবেশ করে সহজেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। এই দারুণ সুযোগের মূল কৃতিত্ব সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের। শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম অপরচুনিটিজ সার্কেল এই তথ্যটি প্রকাশ করলেও তারা এর মালিকানা দাবি করে না। মূল কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় এই নিয়মনীতি বা তথ্যে পরিবর্তন আনতে পারে, তাই আগ্রহীদের অফিশিয়াল সোর্স থেকে নিয়মিত আপডেট থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ট্রাম্পের গ্রিন কার্ড স্থগিতাদেশ বেআইনি, রায় দিলেন ভারতীয়-বংশোদ্ভূত বিচারক
নিউইয়র্কে বিনামূল্যে চাইল্ডকেয়ার: বছরে ২৬ হাজার ডলার বাঁচবে কর্মজীবী অভিভাবকদের