বিডা

যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় সবচেয়ে সস্তায় বাড়ি মিলছে? দেখে নিন ১০ অঙ্গরাজ্যের তালিকা
যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় সবচেয়ে সস্তায় বাড়ি মিলছে? দেখে নিন ১০ অঙ্গরাজ্যের তালিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান আবাসন ব্যয়ের কারণে যখন সাধারণ মানুষ দিশেহারা, তখন এক নতুন বিশ্লেষণে দেশটির সবচেয়ে সাশ্রয়ী আবাসন বাজারগুলোর চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার জন্য সবচেয়ে কম খরচের অঙ্গরাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে আইওয়া।   প্রপার্টিশার্ক-এর তথ্যমতে, সেখানে একটি বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা দেশটির জাতীয় গড়ের তুলনায় দুই লাখ ডলারেরও বেশি কম। সাশ্রয়ী দামের এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আলাবামা। অন্যদিকে ওকলাহোমা এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে, যেখানে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার ডলার।   আবাসনবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আইওয়া, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, মিশিগান, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, আরকানসাস, ইন্ডিয়ানা ও মিসৌরির মতো অঙ্গরাজ্যগুলো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সাশ্রয়ী আবাসন বাজারের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যে বাড়ির মধ্যম মূল্য সাধারণত ২ লাখ ৩০ হাজার থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্য-পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে তুলনামূলকভাবে বাড়ির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় কম হওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত আবাসন সরবরাহ রয়েছে। এ কারণে এই অঞ্চলগুলো প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।   তবে সাশ্রয়ী বাজারের এই খবরের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক আবাসন সংকটের চিত্রটি এখনও বেশ তীব্র। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, দেশজুড়ে একটি গড় মানের বাড়ি কিনতে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ডলারের বার্ষিক আয় প্রয়োজন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যম পারিবারিক আয়ের তুলনায় অনেক বেশি।   এর ফলে অধিকাংশ মার্কিন পরিবারের জন্যই নিজস্ব বাড়ি কেনা এখনও একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। একদিকে যেমন আইওয়া, আলাবামা, ওকলাহোমা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া এবং ইন্ডিয়ানার মতো রাজ্যগুলোতে সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি মিলছে, ঠিক তেমনি ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই, ম্যাসাচুসেটস ও নিউইয়র্কের মতো অঙ্গরাজ্যগুলো এখনও দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসন বাজার হিসেবে তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা বা বিক্রির পরিকল্পনা? আগে জেনে নিন কেন ৭০% বাড়ির মালিক বিক্রি করছেন না
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা বা বিক্রির পরিকল্পনা? আগে জেনে নিন কেন ৭০% বাড়ির মালিক বিক্রি করছেন না

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বাড়ির দাম এখনও তুলনামূলক বেশি থাকলেও বিক্রির জন্য বাজারে বাড়ির সরবরাহ সীমিত। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো ‘লক-ইন ইফেক্ট’—অর্থাৎ কম সুদের মর্টগেজ ধরে রাখতে বাড়ির মালিকদের অনীহা।   সাম্প্রতিক আবাসন বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে যাদের সক্রিয় হোম মর্টগেজ রয়েছে, তাদের বড় একটি অংশ ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে নেওয়া ঋণের সুবিধা ভোগ করছেন। সে সময় মর্টগেজ সুদের হার ছিল ঐতিহাসিকভাবে কম, অনেক ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে। এমনকি অধিকাংশ ঋণগ্রহীতার সুদের হার এখনও ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে।   অন্যদিকে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে নতুন ৩০ বছরের ফিক্সড-রেট মর্টগেজের সুদের হার ৬ থেকে ৭ শতাংশের বেশি পর্যায়ে অবস্থান করছে। ফলে কেউ যদি এখন নিজের পুরনো বাড়ি বিক্রি করে নতুন বাড়ি কেনেন, তবে তাকে আগের তুলনায় অনেক বেশি সুদে নতুন ঋণ নিতে হবে। এতে মাসিক কিস্তির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।   এই কারণেই অনেক বাড়ির মালিক বর্তমান বাড়ি বিক্রি না করে সেটিতেই বসবাস চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আবাসন বাজারে এই প্রবণতাকে ‘লক-ইন ইফেক্ট’ নামে অভিহিত করা হয়। এর ফলে বিক্রির জন্য নতুন বাড়ির সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং বাজারে সরবরাহ সংকুচিত হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের ওপর। বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ি কম থাকায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং অনেক এলাকায় মূল্যও উচ্চ পর্যায়ে রয়ে গেছে।   অন্যদিকে, যাদের আগে থেকেই কম সুদের মর্টগেজ রয়েছে, তারা নতুন ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান ঋণ ধরে রাখছেন। অনেক পরিবার নতুন বাড়ি কেনার বদলে বর্তমান বাড়ি সংস্কার বা সম্প্রসারণের পথ বেছে নিচ্ছেন।   অর্থনীতিবিদদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ভবিষ্যতে সুদের হার কমালে আবাসন বাজারে কিছুটা গতি ফিরতে পারে। তবে ২০২১-২২ সালের মতো ৩ থেকে ৪ শতাংশের অত্যন্ত কম মর্টগেজ সুদের হার অদূর ভবিষ্যতে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই সীমিত বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যারা এখন বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তারা আগে থেকেই স্থানীয় ঋণদাতার কাছ থেকে প্রি-অ্যাপ্রুভাল নিয়ে রাখুন এবং ভালো ক্রেডিট স্কোর বজায় রাখুন। এতে অনুকূল সুদে ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হবে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
২৫ বছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামে ৫.৯ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি
২৫ বছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামে ৫.৯ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি! কী বিশেষ আছে টেক্সাসের এই বাড়িতে?

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ম্যাগনোলিয়া এলাকায় একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ বিক্রি হয়ে গত ২৫ বছরের মধ্যে ওই অঞ্চলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মূল্যের আবাসিক সম্পত্তি হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। হিউস্টনভিত্তিক আবাসন বাজারে উচ্চমূল্যের বাড়ির চাহিদা অব্যাহত থাকার মধ্যেই এই বিক্রি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।    হিউস্টন ক্রনিকলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাগনোলিয়ার রেড বে সার্কেলে অবস্থিত মেডিটেরেনিয়ান রিভাইভাল নকশার প্রাসাদটি ২০২৬ সালের জুনে বিক্রি হয়। বাড়িটির তালিকাভুক্ত মূল্য ছিল ৫ দশমিক ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি ২০০০ সালের পর থেকে ম্যাগনোলিয়া অঞ্চলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মূল্যের আবাসিক সম্পত্তি বিক্রির রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।    প্রায় ১১ হাজার ৪৯০ বর্গফুট আয়তনের এই বাড়িটিতে রয়েছে সাতটি শয়নকক্ষ, ব্যক্তিগত হোম থিয়েটার, আধুনিক ফিটনেস স্টুডিও এবং বিস্তীর্ণ ছয় একর বনঘেরা জমি। সম্পত্তির ভেতরে একাধিক পুকুর ও খোলা প্রাকৃতিক পরিবেশও রয়েছে, যা এটিকে এলাকার অন্যতম ব্যতিক্রমধর্মী বিলাসবহুল আবাসনে পরিণত করেছে।    একই সময়ে হিউস্টন অঞ্চলের বিলাসবহুল আবাসন বাজারেও বেশ কয়েকটি বহু-মিলিয়ন ডলারের বাড়ি বিক্রি হয়েছে। মেমোরিয়াল ভিলেজ, দ্য উডল্যান্ডস এবং বাঙ্কার হিল ভিলেজের একাধিক প্রাসাদও ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে হাতবদল হয়েছে, যা উচ্চমূল্যের আবাসন খাতে ক্রেতাদের আগ্রহের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে।    বিশ্লেষকদের মতে, তুলনামূলক উচ্চ সুদের হার থাকা সত্ত্বেও টেক্সাসের বিলাসবহুল আবাসন বাজারে শক্তিশালী চাহিদা বজায় রয়েছে। বিশেষ করে বড় আকারের জমি, ব্যক্তিগত সুবিধা এবং প্রিমিয়াম অবস্থানের সম্পত্তিগুলো এখনও উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে।    ম্যাগনোলিয়া, যা হিউস্টনের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত মন্টগোমারি কাউন্টির একটি দ্রুত বর্ধনশীল এলাকা, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় আকারের এস্টেট ও বিলাসবহুল আবাসনের জন্য ক্রেতাদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই সর্বশেষ বিক্রিও সেই প্রবণতারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ বলে মনে করছেন আবাসন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মর্টগেজ সুদে নতুন বাড়ি কেনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ক্রেতারা
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মর্টগেজ সুদে নতুন বাড়ি কেনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ক্রেতারা

টানা দুই মাসের মন্দা কাটিয়ে গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এক-পরিবারভিত্তিক বাড়ি বিক্রি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে চড়া মর্টগেজ সুদের হার এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা এখনো নতুন বাড়ি কেনা থেকে পিছিয়ে থাকছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সেন্সাস ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের তুলনায় জুন মাসে দেশটিতে নতুন বাড়ি বিক্রি ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বার্ষিক ৬ লাখ ২৮ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিক্রির এই হার এখনো প্রায় ৫.৬ শতাংশ কম।   অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে জুন মাসে নতুন বাড়ি বিক্রির সংখ্যা ৬ লাখ ২৮ হাজারে পৌঁছালেও, বাড়তি সুদের চাপ বর্তমানে দেশটির আবাসন খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া নতুন বাড়ির মধ্যবর্তী মূল্য (মিডিয়ান প্রাইস) ছিল ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৩০০ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৭ শতাংশ কম। তবে এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় '৩০ বছর মেয়াদী ফিক্সড মর্টগেজ'-এর গড় সুদের হার গত সপ্তাহে বেড়ে ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বন্ধকি ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ‘ফ্রেডি ম্যাক’-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে গড়ে এই ঋণের সুদের হার দাঁড়িয়েছে ৬.৫৮ শতাংশে।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পায়, যা সার্বিক মূল্যস্ফীতিকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক 'ফেডারেল রিজার্ভ' মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় বন্ড মার্কেট ও মর্টগেজ বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী সেপ্টেম্বরে হতে যাওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকে সুদের হার ফের বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। সুদের হার কমার তাৎক্ষণিক কোনো সম্ভাবনা না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ি বিক্রির বাজার এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কিনতে চান? ডাউন পেমেন্ট নিয়ে যা জানা জরুরি

অনেক প্রবাসীর ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে হলে আগে থেকেই বাড়ির মূল্যের ২০ শতাংশ জমা রাখতে হবে। এই ধারণার কারণে অনেকেই বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন, অথচ বাস্তবে তাদের বাড়ি কেনার সুযোগ হয়তো আগেই ছিল।   যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো (CFPB) বলছে, অনেক ক্ষেত্রে কনভেনশনাল মর্টগেজের জন্য মাত্র ৩% ডাউন পেমেন্ট দিয়েও বাড়ি কেনা সম্ভব। আবার FHA (Federal Housing Administration) ঋণের ক্ষেত্রে ৩.৫% ডাউন পেমেন্টেও যোগ্য ক্রেতারা বাড়ি কিনতে পারেন।   তবে শুধু ডাউন পেমেন্ট থাকলেই হবে না। ঋণদাতারা আপনার আয়, ক্রেডিট স্কোর, চাকরির স্থিতিশীলতা, ঋণের পরিমাণ এবং মাসিক খরচও বিবেচনা করেন। তাই বাড়ি কেনার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই ক্রেডিট স্কোর উন্নত করা এবং অপ্রয়োজনীয় ঋণ কমানো গুরুত্বপূর্ণ।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্লোজিং কস্ট। অনেকেই ডাউন পেমেন্টের জন্য টাকা জমালেও ক্লোজিং কস্টের কথা ভুলে যান। CFPB-এর তথ্য অনুযায়ী, বাড়ি কেনার সময় ক্লোজিং কস্ট সাধারণত বাড়ির মূল্যের ২% থেকে ৫% পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ ৪ লাখ ডলারের একটি বাড়ির ক্ষেত্রে কয়েক হাজার থেকে ২০ হাজার ডলারেরও বেশি অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।   যাদের ডাউন পেমেন্ট জোগাড় করতে সমস্যা হচ্ছে, তাদের জন্যও রয়েছে সুখবর। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজার হাজার Down Payment Assistance Program চালু রয়েছে। অনেক অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকার প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতাদের অনুদান, স্বল্পসুদে ঋণ কিংবা ক্লোজিং কস্ট সহায়তা দিয়ে থাকে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে ২,৬০০-এরও বেশি ডাউন পেমেন্ট সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ি কেনার আগে শুধু ডাউন পেমেন্ট নয়, জরুরি তহবিলও রাখা জরুরি। কারণ নতুন বাড়িতে ওঠার পর মেরামত, আসবাবপত্র, ইউটিলিটি সংযোগ এবং অন্যান্য অপ্রত্যাশিত খরচ সামনে আসতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে বাড়ির দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ I ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বাড়ির দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে, গড় মূল্য ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে বাড়ি কেনার খরচ পৌঁছাল এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ চূড়ায়। নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরস-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অঞ্চলটিতে একটি বাড়ির গড় বা মধ্যবর্তী দাম (মিডিয়ান প্রাইস) প্রায় ৫ লাখ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে নতুন রেকর্ড গড়েছে। ২০২৬ সালের জুন মাসে এই দাম বছরে ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলারে।   আবাসন বাজারে এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে অবাক করা দিক হলো, বাজারে বিক্রয়যোগ্য বাড়ির সরবরাহ (ইনভেন্টরি) বৃদ্ধি সত্ত্বেও দাম কমেনি। তথ্যে দেখা যায়, নিউইয়র্কের বাজারে টানা ১৬ মাসের মতো বিক্রয়যোগ্য বাড়ির সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৫ সালের জুনে যেখানে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল ৩১,১২৪টি বাড়ি, ২০২৬ সালের জুনে তা ৪.৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২,৫০৮টিতে। এর পাশাপাশি মে ও জুন মাসের ব্যবধানে বন্ধকী ঋণের (মর্গেজ) সুদের হার সামান্য বেড়ে ৬.৪৯ শতাংশে পৌঁছালেও, তা গত বছরের সর্বোচ্চ ৬.৮২ শতাংশের চেয়ে এখনও কম রয়েছে।   তবে পুরো নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যজুড়ে বাড়ি কেনার খরচে এক বিশাল আঞ্চলিক বৈষম্য লক্ষ করা গেছে। আপস্টেট অঞ্চলের কিছু এলাকায় এখনো মাত্র ২ লাখ ডলারের সামান্য বেশি দামে বাড়ি পাওয়া গেলেও, ডাউনস্টেট কাউন্টিগুলোতে ছবিটা একদম ভিন্ন। জেনিসি কাউন্টিতে বাড়ির গড় মূল্য ছিল ২ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং প্রতিবেশী অরলিন্স কাউন্টিতে ২ লাখ ২১,৫০০ ডলার। কিন্তু এর বিপরীত চিত্রে ডাউনস্টেটের রিচমন্ড, রকল্যান্ড ও সাফোক কাউন্টিতে প্রতিটি বাড়ির গড় দাম ছাড়িয়ে গেছে ৭ লাখ ডলার।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে লাগবে না ডাউন পেমেন্ট I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে লাগবে না ডাউন পেমেন্ট, বিশেষ ঋণ সুবিধা দিচ্ছে সরকার

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে বাড়ি কেনা অনেকের জন্যই একটি দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরবান ইন্সটিটিউটের তথ্যমতে, প্রায় অর্ধেক মার্কিন নাগরিকের জন্য দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটিতে একটি বাড়ির গড় দাম বর্তমানে ৫ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ ডলারের রেকর্ড ছুঁয়েছে, যা ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো বা ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে আরও অনেক বেশি। প্রচলিত মর্টগেজ নিয়মে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট বা প্রায় ১ লাখ ডলার নগদ জমা করা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এক প্রকার অসম্ভব কাজ।   আর এর চেয়ে কম ডাউন পেমেন্ট দিলে ক্রেতাদের ঘাড়ে চাপে অতিরিক্ত 'প্রাইভেট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স' বা পিএমআই-এর বোঝা। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতেও যোগ্য ক্রেতাদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ ভেটেরান অ্যাফেয়ার্স (ভিএ) এবং ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারের (ইউএসডিএ) শূন্য ডাউন পেমেন্ট মর্টগেজ সুবিধা।   সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং ভেটেরানদের আবাসন ব্যয় কমাতে ১৯৪৪ সালে জিআই বিলের অধীনে ভিএ জিরো-ডাউন পেমেন্ট ঋণ কর্মসূচি চালু করে মার্কিন সরকার। এই সুবিধার আওতায় যোগ্য প্রার্থীরা কোনো ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই ঋণ গ্রহণ করতে পারেন। এতে পিএমআই ফি মওকুফ থাকায় প্রতি মাসে ক্রেতাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হয়। ভেটেরানস ইউনাইটেড হোম লোনস-এর মর্টগেজ ইনসাইট বিভাগের ভিপি ক্রিস বার্কের মতে, নমনীয় ক্রেডিট আন্ডাররাইটিং এবং ধারাবাহিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক সুদের হারের কারণে এটি আবাসন বাজারের অন্যতম শক্তিশালী একটি অর্থায়ন বিকল্প।   এই সুবিধা পেতে প্রার্থীদের ন্যূনতম ক্রেডিট স্কোর সাধারণত ৬২০ হতে হয়, তবে অনেক ক্ষেত্রে তা ৫৫০ পর্যন্তও শিথিলযোগ্য। এছাড়া আবেদনকারীর একটি 'সার্টিফিকেট অফ এলিজিবিলিটি' বা সিওই থাকা বাধ্যতামূলক। যোগ্য ভেটেরানদের পাশাপাশি শর্তসাপেক্ষে তাদের অবিবাহিত বিধবা স্ত্রীরাও এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন এবং এমনকি 'জাম্বো লোন'-এর ক্ষেত্রেও কোনো ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই তারা আবেদন করার সুযোগ পান।   অন্যদিকে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের জন্য গ্রামীণ বা শহরতলী এলাকায় সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি কেনার সুযোগ করে দেয় ইউএসডিএ ঋণ। নেইবারস ব্যাংকের হোমবায়ার এডুকেশন ডিরেক্টর অ্যাশলে হ্যারিসের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ৯৭ শতাংশ ভূখণ্ডই এই সুবিধার আওতাভুক্ত, যার ফলে অনেক সাধারণ মানুষ সহজেই এর সুবিধা নিতে পারেন।   এই ঋণেও কোনো ডাউন পেমেন্ট লাগে না এবং ব্যয়বহুল পিএমআইয়ের ঝামেলা নেই, তবে সামান্য একটি অগ্রিম ফি যুক্ত থাকে। ইউএসডিএ ঋণ পাওয়ার জন্য আবেদনকারীর মোট পারিবারিক আয় স্থানীয় গড় আয়ের ১১৫ শতাংশের নিচে হতে হয় এবং স্বয়ংক্রিয় অনুমোদনের জন্য ক্রেডিট স্কোর অন্তত ৬৪০ প্রয়োজন হয়। এছাড়াও শর্ত থাকে যে, কেনা বাড়িটিকে অবশ্যই আবেদনকারীর প্রাথমিক বাসস্থান বা 'প্রাইমারি রেসিডেন্স' হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।   তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, 'শূন্য ডাউন পেমেন্ট' মানেই যে পকেট থেকে কোনো অর্থ খরচ হবে না, বিষয়টি এমন নয়। ভিএ লোনের ক্ষেত্রে ১.২৫ থেকে ৩.৩ শতাংশ পর্যন্ত ফান্ডিং ফি দিতে হতে পারে, যা সাধারণত মূল ঋণের সাথে যুক্ত করা যায়। পাশাপাশি ক্লোজিং কস্ট, হোম ইন্সপেকশন বা প্রপার্টি অ্যাপ্রাইজালের মতো খরচগুলো ক্রেতাকেই বহন করতে হয়, তবে এক্ষেত্রে বিক্রেতার সাথে আলোচনার মাধ্যমে খরচ কিছুটা সমন্বয় করার সুযোগ থাকে। এছাড়া শূন্য ডাউন পেমেন্টে বাড়ি কিনলে শুরুতে কোনো ইকুইটি থাকে না।   ফলে হঠাৎ বাড়ির দাম কমে গেলে বা দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হলে ঋণের পরিমাণ বাড়ির বর্তমান মূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যাকে 'নেগেটিভ ইকুইটি' বলা হয়। তা সত্ত্বেও, দেশের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত কর্মীদের এবং সাধারণ মানুষের মাথার ওপর ছাদ নিশ্চিত করতে এই মর্টগেজ সুবিধাগুলো নিঃসন্দেহে এক অনন্য সুযোগ হিসেবে কাজ করছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনার চেয়ে যে ৫ শহরে ভাড়ায় থাকাই বেশি লাভজনক
ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকাই বেশি লাভজনক, বছরে সাশ্রয় হতে পারে লাখ ডলারের বেশি

ক্যালিফোর্নিয়ার অনেক পরিবারের জন্যই এখন বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকা আর্থিকভাবে অনেক বেশি লাভজনক হয়ে উঠেছে। আবাসন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান 'জুম্পার' (Zumper)-এর নতুন এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এলাকার তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়ার একক আধিপত্য রয়েছে। এই অঙ্গরাজ্যের বেশ কয়েকটি শহরে সমমানের একটি বাড়ি কেনার মাসিক কিস্তি বা খরচের তুলনায় ভাড়ায় থাকলে প্রতি মাসে হাজার হাজার ডলার সাশ্রয় করা সম্ভব, যা অনেকেই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হচ্ছেন।   ভাড়ায় থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ সাশ্রয় হয় ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে শহরে। সেখানে বাড়ি কেনার পরিবর্তে ভাড়ায় থাকলে একটি পরিবারের প্রতি মাসে প্রায় ৮,৫৯৩ ডলার বা বছরে ১ লাখ ৩ হাজার ডলারেরও বেশি সাশ্রয় হতে পারে। শহরটিতে একটি বাড়ির মধ্যমা বা মিডিয়ান দাম ২০ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যেখানে মাসিক ভাড়া মাত্র ৩,০৭৩ ডলার। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আনাহেইম শহর, যেখানে ভাড়া থাকলে বছরে প্রায় ৬৮ হাজার ৪০০ ডলার বাঁচানো সম্ভব। তৃতীয় স্থানে থাকা সান ফ্রান্সিসকোর বাসিন্দারাও বাড়ি কেনার বদলে ভাড়া থাকলে আর্থিকভাবে বেশ সুবিধায় থাকবেন, কারণ এতে তাদের বছরে প্রায় ৪৬ হাজার ডলার সাশ্রয় হতে পারে।   তালিকার চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে থাকা সান ডিয়েগো এবং লস অ্যাঞ্জেলেস শহর দুটিও বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত লাভজনক। সান ডিয়েগোতে ভাড়ায় থাকলে বছরে প্রায় ৩৮ হাজার ৫০০ ডলার এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে বছরে প্রায় ২৮ হাজার ডলার সাশ্রয় হয়। মূলত দুটি মাপকাঠির ওপর ভিত্তি করে এই বিশ্লেষণটি করা হয়েছে— 'প্রাইস-টু-রেন্ট রেশিও' বা মূল্য-ভাড়া অনুপাত এবং 'পিআইটিআই' (PITI) কস্ট ডেল্টা (যেখানে বন্ধকী, সুদ, কর এবং বিমা অন্তর্ভুক্ত)। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, মূল্য-ভাড়া অনুপাত ২১-এর বেশি হলে তা ভাড়ায় থাকার অনুকূলে যায়। ক্যালিফোর্নিয়ার এই শহরগুলোর পাশাপাশি সল্টলেক সিটি, সিয়াটল, পোর্টল্যান্ড এবং রেনোর মতো শহরগুলোতেও বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকা আর্থিকভাবে বেশি লাভজনক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
উত্তরাধিকার সূত্রে পেলেন বাবার বাড়ি, পরে জানলেন সঙ্গে আছে ২ লাখ ২৮ হাজার ডলারের পানির বিল

যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরে উত্তরাধিকার সূত্রে বাবার রেখে যাওয়া বাড়ি পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ক্রিস্টিনা মুর নামের এক নারী। নিজের বাড়ির পানির বিল দিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার ঘাড়ে চেপেছে পুরো এলাকার প্রায় ২ লাখ ২৮ হাজার ডলারের (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় কয়েক কোটি টাকা) বিশাল পানির বিল! গত এপ্রিলে তার ছোটবেলার এই বাড়ির দরজায় একটি নোটিশ দেখতে পান তিনি।   ডব্লিউবিএফএফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নোটিশে বলা হয়েছিল, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই বিশাল অঙ্কের বকেয়া বিল পরিশোধ না করলে বাড়ির পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।   বিপুল অঙ্কের এই বিল দেখে হতবাক ক্রিস্টিনা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, 'স্প্রিংউড এস্টেট হোমাওনার্স অ্যাসোসিয়েশন' (এইচওএ)-এর আওতাভুক্ত ওই এলাকার ৩৭টি বাড়ির জন্য মাত্র একটি মূল মিটার রয়েছে। আর দুর্ভাগ্যবশত সেই মাস্টার মিটারটি তার বাড়ির ঠিকানার সঙ্গেই যুক্ত। নিয়ম অনুযায়ী, এলাকার প্রতিটি বাড়ির মালিক তাদের ব্যবহৃত পানির হিসাব করে নিজ নিজ অংশের বিল মালিক সমিতির কাছে জমা দেন।   এরপর সেই অর্থ দিয়ে বাল্টিমোর সিটি ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক ওয়ার্কস (ডিপিডব্লিউ)-এর ইস্যু করা মূল বিলটি পরিশোধ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেটি না হওয়ায় পুরো বিলের আইনি দায়ভার এখন ক্রিস্টিনার ঘাড়ে এসে পড়েছে।   অপ্রত্যাশিত এই ঝামেলার সমাধান খুঁজতে ক্রিস্টিনা মালিক সমিতি এবং ডিপিডব্লিউ-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শুরুতে তিনি ভেবেছিলেন এই বিল পরিশোধের দায় তার নয়, তাই তিনি মালিক সমিতির দ্বারস্থ হন। কিন্তু ডিপিডব্লিউ থেকে তাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, যেহেতু মিটারটি তার ঠিকানায়, তাই এই সম্পত্তিই বিলটির জন্য দায়বদ্ধ। এমনকি পুরো বিল পরিশোধ না করা পর্যন্ত তিনি বাড়িটি বিক্রিও করতে পারবেন না।   বর্তমানে বিল পরিশোধের জন্য একটি কিস্তির ব্যবস্থা করা হলেও, বকেয়া সম্পূর্ণ শোধ না হওয়া পর্যন্ত ওই সতর্কবার্তা বহাল থাকবে বলে তাকে জানানো হয়েছে। এমন অদ্ভুত ও অযৌক্তিক ঘটনায় ওই এলাকার অন্যান্য বাসিন্দারাও চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণে বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়েছে ইউএস-বাংলা। ছবি: সংগৃহীত
১৪ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে ইউএস-বাংলার বহরে আসছে ২১টি নতুন বোয়িং

দেশের অন্যতম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস বহর সম্প্রসারণে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। এই বিনিয়োগের আওতায় বহরে যুক্ত হবে ২১টি নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সংস্থাটির মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা বেড়ে ৪৬টিতে পৌঁছাবে।   বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন-এর কাছে পাঠানো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি বিমান লিজিং প্রতিষ্ঠানের (লেসর) কাছ থেকে লিজের মাধ্যমে নতুন উড়োজাহাজগুলো সংগ্রহ করা হবে। ২০২৭ সালের মধ্যে পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।   ইউএস-বাংলা জানিয়েছে, নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পর শুধু বহর বৃদ্ধি নয়, বরং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আঞ্চলিক বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন হলে ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ বাড়বে।   এই বিনিয়োগ পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগামী ২৯ জুলাই রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগিহ, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, আন্তর্জাতিক বিমান লিজিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ দেশি-বিদেশি বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।   অনুষ্ঠানে নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহের সম্ভাব্য সময়সূচি, আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে ইউএস-বাংলা।   প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এটি শুধু বহর বাড়ানোর উদ্যোগ নয়; বরং বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগ, যা দেশের আকাশপথে সংযোগ, পর্যটন এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজগুলোতে আধুনিক কেবিন বিন্যাস, প্রিমিয়াম আসন এবং উন্নত যাত্রীসেবা থাকবে। যাত্রীরা নিজেদের স্মার্টফোন, ট্যাবলেট কিংবা ল্যাপটপ ব্যবহার করে ওয়্যারলেস ইন-ফ্লাইট বিনোদন ব্যবস্থার মাধ্যমে সিনেমা, টেলিভিশন অনুষ্ঠান, নাটক ও সংগীত উপভোগ করতে পারবেন।   এছাড়া প্রতিটি উড়োজাহাজে ইন-ফ্লাইট ওয়াই-ফাই সুবিধা থাকবে। এর ফলে আকাশে ভ্রমণের সময় যাত্রীরা ইন্টারনেট ব্যবহার, বার্তা আদান-প্রদান এবং অনলাইন যোগাযোগের সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে এ ধরনের প্রযুক্তি একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে নতুন উড়োজাহাজগুলো সরবরাহ করা হবে। এগুলো বহরে যুক্ত হলে নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পাশাপাশি বিদ্যমান রুটগুলোতে ফ্লাইটের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।   ইউএস-বাংলার মতে, এই সম্প্রসারণের ফলে পাইলট, প্রকৌশলী, কেবিন ক্রু, রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী এবং অন্যান্য কারিগরি খাতে শত শত নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে পর্যটন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।   বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বহরে ২৫টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৯টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, ৩টি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০, ১০টি এটিআর ৭২-৬০০ এবং ৩টি অন্যান্য উড়োজাহাজ। নতুন ২১টি বোয়িং যুক্ত হলে বহরের মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৬টি।   বর্তমানে সংস্থাটি দেশের সব অভ্যন্তরীণ রুটের পাশাপাশি কলকাতা, চেন্নাই, মালে, মাসকাট, দোহা, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, জেদ্দা, রিয়াদ, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর ও চীনের গুয়াংজুসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার আরও কয়েকটি নতুন গন্তব্যে সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।   সূত্র: ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ, বিক্রি কমলেও কমছে না দাম

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রে পুরোনো বা আগে ব্যবহৃত বাড়ির বিক্রি কমে গেলেও দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরস (এনএআর) জানিয়েছে, গত মে মাসের তুলনায় জুনে বাড়ির বিক্রি ২.৪ শতাংশ কমে বার্ষিক ৪০ লাখ ৯০ হাজার ইউনিটে দাঁড়িয়েছে, যা অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশিত ৪২ লাখ ১০ হাজার ইউনিটের চেয়ে অনেকটাই কম। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিক্রি ২.৮ শতাংশ বেড়েছে। দামের এই অব্যাহত ঊর্ধ্বগতি সাধারণ ও নতুন ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনা আরও কঠিন করে তুলেছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই মর্টগেজ বা বন্ধকি ঋণের সুদের হার ক্রমাগত বাড়ছে। তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের ইয়েল্ড বৃদ্ধি পেয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে গৃহঋণের ওপর। বিক্রি ধীরগতির হলেও দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই বাজারে। জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যম সারির বাড়ির দাম বার্ষিক ১.৮ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ৪০ হাজার ৬০০ ডলারে পৌঁছেছে, যা ১৯৯৯ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এনএআর-এর তথ্যমতে, টানা ৩৬ মাস ধরে দেশটিতে বাড়ির দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গত মাসে মোট বিক্রিত বাড়ির ৩৩ শতাংশ কিনেছেন প্রথমবারের মতো বাড়ি ক্রেতারা।   এনএআর-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ লরেন্স ইয়ুন জানান, সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে বাড়ি পাওয়া এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এ কারণেই বাজারে বাড়ির সরবরাহ বাড়ানো জরুরি। মূলত ২০২২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজার মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথমার্ধে বাড়ির বিক্রি বেড়েছে মাত্র ০.৭ শতাংশ। বছরের পর বছর ধরে চলা নির্মাণ ঘাটতি এবং বাজারে বিক্রয়যোগ্য বাড়ির তীব্র সংকটের কারণেই মূলত বিক্রি কমার পরও দাম এতটা চড়া রয়েছে।   বাজারে অঞ্চলভেদে দামের ব্যাপক তারতম্য দেখা যাচ্ছে। রিয়েলটর ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের সর্বোচ্চ দামের পর থেকে পশ্চিমাঞ্চলে ৭.৩ শতাংশ এবং দক্ষিণাঞ্চলে ৩.৫ শতাংশ দাম কমলেও, মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে ১০ শতাংশ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ১২.৬ শতাংশ দাম বেড়েছে। গত জুনের শেষে বাজারে অবিক্রীত বাড়ির সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৬০ হাজার, যা প্রাক-কোভিড মহামারির স্বাভাবিক মাত্রার (প্রায় ২০ লাখ) চেয়ে অনেকটাই কম। বর্তমানে বাজারে যে পরিমাণ বাড়ি রয়েছে, তা দিয়ে আগামী ৪.৬ মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব, যেখানে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজারের জন্য সাধারণত ৫ থেকে ৬ মাসের সরবরাহ প্রয়োজন হয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
ওহাইওর একটি বাড়ি থেকে ১৬ শিশুকে জীবিত উদ্ধার, অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে চার প্রাপ্তবয়স্ক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের ছোট্ট গ্রাম হ্যামডেনে এক হৃদয়বিদারক অভিযানে একটি বাড়ি থেকে ১৬ জন শিশুকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শিশুদের অনেকেই গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। এ ঘটনায় চারজন প্রাপ্তবয়স্ককে শিশুদের জীবন বিপন্ন করার গুরুতর অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার পরিচালিত অভিযানে ওহাইও ব্যুরো অব ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন এবং ভিন্টন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যরা বাড়িটিতে প্রবেশ করে শিশুদের অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও মানবেতর পরিবেশে বসবাস করতে দেখেন। উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স দেড় বছর থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা এতটাই গুরুতর ছিল যে দুই শিশুকে হেলিকপ্টারে করে বিশেষায়িত ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয় এবং অন্যদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া চারজন হলেন গ্যারি সাইডার্স সিনিয়র, গ্যারি সাইডার্স জুনিয়র, এলিজাবেথ সাইডার্স এবং ক্রিস্টিনা সাইডার্স। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির অভিযোগসহ একাধিক ফেলনি শিশু নির্যাতন ও শিশুদের জীবন বিপন্ন করার মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওহাইওর অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যান্ডি উইলসন ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের অন্যতম ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শিশুদের যে পরিবেশে রাখা হয়েছিল তা কল্পনারও বাইরে এবং তাদের জন্য দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা ছিল অত্যন্ত জরুরি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে মানবপাচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ, শিশুদের সঙ্গে অভিযুক্তদের সম্পর্ক এবং তারা কতদিন ধরে ওই অবস্থায় ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাড়িটিতে আরও একটি পৃথক তল্লাশিও চালানো হচ্ছে। ওহাইওর গভর্নর মাইক ডিওয়াইন এক বিবৃতিতে বলেন, শিশুদের এমন অবস্থার খবর অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি শিশু সুরক্ষা বিভাগ, চিকিৎসাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে চার অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে শিশুদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সিদ্দিকুর রহমান জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে বেশি লটারির জ্যাকপট জেতেন মানুষ, জিতলে কেমন বাড়ি কেনা সম্ভব?

যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় থাকেন, সেটি শুধু লটারির জ্যাকপট জেতার সম্ভাবনাই নয়, সেই অর্থ দিয়ে কেমন বাড়ি কেনা সম্ভব, সেটিও অনেকাংশে নির্ধারণ করতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিছু অঙ্গরাজ্যে অন্যগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি মানুষ লটারির বড় পুরস্কার জিতছেন। একই সঙ্গে এসব রাজ্যে জ্যাকপট জিতলে কী ধরনের বিলাসবহুল বাড়ি কেনা সম্ভব, সে চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।   রিয়েল এস্টেটবিষয়ক সংবাদমাধ্যম Realtor.com প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে Vegas Insider-এর যুক্তরাষ্ট্রের লটারি–সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, লটারির জ্যাকপট বিজয়ীর সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে মিশিগান। এ পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যটিতে ৪৬টি জ্যাকপট জয়ের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বছরে গড়ে ৭২ দশমিক ৭ জন এবং প্রতি ১০ লাখ বাসিন্দার বিপরীতে ৯৮ দশমিক ৪ জন বিজয়ীর হিসাব পাওয়া গেছে।   মিশিগানের পরের অবস্থানে রয়েছে ভার্জিনিয়া, নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, মেরিল্যান্ড, আইওয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ জার্সি, রোড আইল্যান্ড ও মিসৌরি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারীদের জন্য বড় অঙ্কের লটারি জেতা শুধু ভাগ্যের বিষয় নয়, বরং বিলাসবহুল আবাসনের স্বপ্নও বাস্তবে রূপ দিতে পারে। তবে সেই স্বপ্নের বাড়ির ধরন নির্ভর করবে পুরস্কারের পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার আবাসন বাজারের ওপর।   মিশিগান: কয়েক মিলিয়ন ডলারে বিলাসবহুল বাড়ি ডেট্রয়েটভিত্তিক রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান Max Broock Realtors-এর সহযোগী ব্রোকার এরিকা কলিকা সুইঙ্ক বলেন, মেট্রো ডেট্রয়েটে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার ডলার, আর পুরো মিশিগানে তা প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার ডলার। তাঁর মতে, কর পরিশোধের পরও যদি কয়েক মিলিয়ন ডলার হাতে থাকে, তাহলে বার্মিংহাম, ব্লুমফিল্ড হিলস, গ্রস পয়েন্ট কিংবা লেক হিউরনের তীরবর্তী এলাকায় ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ডলারের বিলাসবহুল বাড়ি সহজেই কেনা সম্ভব। একই বাজেটে ডেট্রয়েট শহরে ঐতিহাসিক প্রাসাদ কিংবা অভিজাত পেন্টহাউসও কেনা যেতে পারে।   ভার্জিনিয়া: জ্যাকপট জিতলে মিলতে পারে বিলাসবহুল প্রাসাদ উত্তর ভার্জিনিয়ায় একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ ডলার। আরলিংটনভিত্তিক রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ডেল জিন্টি বলেন, বড় অঙ্কের লটারি জিতলে আর্লিংটন, ম্যাকলিন, গ্রেট ফলস ও ভিয়েনা এলাকায় ৩০ লাখ থেকে দেড় কোটি ডলারের কাস্টম নির্মিত বিলাসবহুল প্রাসাদ কেনা সম্ভব। এসব বাড়িতে সাধারণত রিসোর্ট–ধাঁচের সুইমিং পুল, হোম থিয়েটার, আধুনিক রান্নাঘর, হট টাব এবং অন্যান্য বিলাসবহুল সুবিধা থাকে।   নিউ জার্সি: ইয়ট রাখার সুযোগসহ জলপাড়ের বাড়ি নিউ জার্সির মনমাউথ কাউন্টিতে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৭ লাখ ডলারের বেশি। ডগলাস এলিম্যান রিয়েল এস্টেটের বিক্রয় প্রতিনিধি ক্রিস ক্যাটজ বলেন, বড় জ্যাকপট জয়ীরা সাধারণত রামসন, মনমাউথ বিচ ও ওশানপোর্ট এলাকায় ৪০ লাখ থেকে দেড় কোটি ডলারের জলপাড়ের বাড়ির প্রতি আগ্রহী হন। এসব বাড়িতে ব্যক্তিগত নৌঘাট, ইয়ট রাখার ব্যবস্থা এবং আটলান্টিক মহাসাগরে সহজ যাতায়াতের সুযোগ থাকে। অন্যদিকে, যারা রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলা কম চান, তাদের জন্য সমুদ্রতীরবর্তী বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টও আকর্ষণীয় বিকল্প। এসব ভবনের পেন্টহাউসের দাম ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ডলারের মধ্যে।   ক্যালিফোর্নিয়া: একবার লটারি জিতলেও যথেষ্ট নাও হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসন বাজারগুলোর একটি ক্যালিফোর্নিয়া। নিউপোর্ট বিচ এলাকায় একটি বাড়ির গড় বিক্রয়মূল্য প্রায় ৪৮ লাখ ডলার। স্থানীয় ব্রোকার পাবলো রেনার বলেন, প্রকৃত অর্থে ‘স্বপ্নের বাড়ি’ কিনতে হলে অন্তত ১ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ ডলারের বাজেট প্রয়োজন। আর অনেক বিলাসবহুল বাড়ির দাম ২ থেকে ৩ কোটি ডলার পর্যন্তও হতে পারে। এসব বাড়িতে প্রশান্ত মহাসাগরের দৃশ্য, ব্যক্তিগত নৌঘাট, ব্যক্তিগত সুইমিং পুল, ছাদবাগান, লিফট এবং সমুদ্রসৈকতে সরাসরি প্রবেশের মতো সুবিধা থাকে।   নিউইয়র্ক: পুরস্কারের অঙ্কই নির্ধারণ করবে বাড়ির ধরন নিউইয়র্ক সিটিতে লটারির অর্থ দিয়ে কী ধরনের বাড়ি কেনা যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে পুরস্কারের পরিমাণের ওপর। ব্রাউন হ্যারিস স্টিভেন্সের রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ম্যাথিউ মেলিঞ্জার বলেন, কয়েক মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার দিয়ে শহরের ভালো এলাকায় একটি মানসম্মত অ্যাপার্টমেন্ট কেনা সম্ভব। তবে ম্যানহাটনের অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল কন্ডোমিনিয়াম, ঐতিহাসিক ভবন বা টাউনহাউসের দাম কয়েক কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ফলে বড় অঙ্কের জ্যাকপট জিতলেও অনেক সময় সেটি মানুষের ধারণার তুলনায় কম হতে পারে।   শুধু বাড়ি কিনলেই দায়িত্ব শেষ নয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লটারি জেতার পর অনেকেই বাড়ির দাম নিয়েই ভাবেন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় বিবেচনা করেন না। এরিকা সুইঙ্কের মতে, বিলাসবহুল বাড়ি কিনে ফেলাই সবচেয়ে বড় বিষয় নয়। সম্পত্তি কর, বীমা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল, কর্মচারীদের বেতন, বাগান পরিচর্যা এবং নিয়মিত সংস্কার বাবদ প্রতি বছর কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। তিনি জানান, বিশেষ করে পুরোনো বা উচ্চমূল্যের বাড়ির ক্ষেত্রে প্রতি বছর বাড়ির মোট মূল্যের ২ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ধরা উচিত। অর্থাৎ ২০ লাখ ডলারের একটি বাড়ির জন্য বছরে শুধু রক্ষণাবেক্ষণেই ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার ডলার খরচ হতে পারে।   তাঁর পরামর্শ, বড় অঙ্কের লটারি জেতার পর বাড়ি কেনার আগে আর্থিক পরামর্শক, হিসাবরক্ষক, সম্পত্তি–সংক্রান্ত আইনজীবী এবং অভিজ্ঞ রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। কারণ, লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু অর্থ ব্যয় করা নয়, দীর্ঘমেয়াদে সেই সম্পদ সংরক্ষণ করাও।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
চীনে ১০ পরিবারের ৯টিরই নিজস্ব বাড়ি, অর্থনৈতিক চাপ ও আবাসন সংকটে বদলাচ্ছে স্বপ্ন

চীনে দীর্ঘ তিন দশক ধরে নিজস্ব বাড়ির মালিক হওয়া ছিল মধ্যবিত্ত জীবনের অন্যতম বড় লক্ষ্য। সরকারি নীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পারিবারিক মূল্যবোধ মিলিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে গড়ে উঠেছিল শক্তিশালী আবাসন সংস্কৃতি। তবে ধীরগতির অর্থনীতি ও দীর্ঘস্থায়ী আবাসন সংকট সেই স্বপ্নকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।   চীনের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ নেমে এসেছে ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে। ২০২১ সালে যেখানে নতুন বাড়ি বিক্রির মূল্য ছিল ১৬ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান, সেখানে গত বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে।   ম্যাককোয়ারি ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপের অর্থনীতিবিদেরা চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে জানান, নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ গত বছর ৮ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে এবং এই নিম্নমুখী প্রবণতা দ্রুত থামার কোনো ইঙ্গিত নেই।   বেইজিংয়ের ৩৬ বছর বয়সী গ্রাফিক ডিজাইনার কাই ইয়োচেংও আপাতত বাড়ি কেনার পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছেন। তিনি বলেন, ভাড়া বাসায় থাকলে অনেক সময় অস্থায়ী জীবনের অনুভূতি তৈরি হয় এবং নিজের ইচ্ছামতো ঘর সাজানোর স্বাধীনতা থাকে না। তারপরও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ভাড়াতেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।   তার ভাষায়, “হিসাব করলে ভাড়া থাকাই বেশি যৌক্তিক মনে হয়। তবে মনের ভেতরে নিজের একটি বাড়ির ইচ্ছা এখনো আছে।”   চীনে বাড়ির মালিক হওয়া কেবল সম্পত্তির মালিকানা নয়, এটি পারিবারিক দায়িত্ব ও সামাজিক অবস্থানের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক এরিক ফং বলেন, কনফুসীয় পারিবারিক মূল্যবোধ চীনা সমাজে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে এবং পরিবারকে কেন্দ্র করেই জীবনের অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   ১৯৮০-এর দশকে অর্থনৈতিক উদারীকরণের পর চীনের কমিউনিস্ট সরকার ধীরে ধীরে কর্মস্থলনির্ভর আবাসন ব্যবস্থা কমিয়ে ব্যক্তিগত মালিকানাকে উৎসাহিত করতে শুরু করে। ১৯৯০-এর দশকে ভর্তুকিনির্ভর নীতির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হয়।   ইউনিভার্সিটি অ্যাট অ্যালবানির অধ্যাপক হুয়াং ইউচিন বলেন, অনেক মানুষ খুব কম দামে হঠাৎ করেই বাড়ির মালিক হয়ে যান। এতে বিপুলসংখ্যক ভাড়াটিয়া একসময় বাড়ির মালিক শ্রেণিতে পরিণত হন।   চীনা সমাজে সঞ্চয়ের প্রবণতাও এই প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করে। দ্রুত বাড়তে থাকা সম্পত্তির দাম আবাসন খাতকে জনপ্রিয় বিনিয়োগে পরিণত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক গ্রামীণ অভিবাসী শহরে বাড়ি কিনে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে চেয়েছেন। আবার সন্তানদের বিয়ের সম্ভাবনা বাড়াতেও বাবা-মায়েরা অ্যাপার্টমেন্ট কিনে দিয়েছেন।   বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে চীনের প্রতি ১০টি পরিবারের ৯টিরই নিজস্ব বাড়ি রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ আবাসন মালিকানার হার।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকানার হার প্রায় ৬৫ শতাংশ। উচ্চশিক্ষার ঋণ ও বাড়ির বাড়তি মূল্য অনেক তরুণকে দীর্ঘ সময় ভাড়ায় থাকতে বাধ্য করছে।   তবে চীনের আবাসন খাতের দ্রুত উত্থানের সঙ্গে তৈরি হয়েছে বড় ঝুঁকিও। প্রবৃদ্ধির সময় অনেক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বিপুল ঋণ নেয়। অতিরিক্ত নির্মাণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয় ফাঁকা আবাসিক অঞ্চল ও অবিক্রীত প্রকল্প।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০২০ সালে চীনের কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। আবাসন খাত, যা একসময় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রায় ৩০ শতাংশ জুড়ে ছিল, তা নিয়ন্ত্রণে নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়।   এই পদক্ষেপে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ কমলেও সম্পত্তির দাম দ্রুত পড়ে যায়। অনেক ক্রেতা অসম্পূর্ণ বা বিলম্বিত ফ্ল্যাটের মুখোমুখি হন। ঋণসংকটে পড়ে বড় বড় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও ধসে পড়ে।   চীনের অন্যতম বৃহৎ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এভারগ্রান্ডকে ২০২৪ সালে হংকংয়ের একটি আদালত বিলুপ্তির নির্দেশ দেয়। কান্ট্রি গার্ডেন ও ভ্যাংকের মতো বড় প্রতিষ্ঠানও আর্থিক চাপে পড়ে।   এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্বল অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যসংঘাতের আশঙ্কা। ফলে সম্ভাব্য ক্রেতারা এখন আরও সতর্ক।   কাই ইয়োচেং বলেন, তিনি ভবিষ্যতে বাড়ি কিনতে চান, তবে আগামী কয়েক বছরে সেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না।   পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও আবাসন খাত এখনো সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। মার্চ মাসেও দেশজুড়ে নতুন বাড়ির দাম কমেছে, যদিও কয়েকটি বড় শহরে সামান্য উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান কুশম্যান অ্যান্ড ওয়েকফিল্ডের কর্মকর্তা ঝ্যাং শিয়াওদুয়ান বলেন, সরকারের ইতিবাচক বার্তা থাকলেও বাস্তবে ক্রয়ক্ষমতার বড় ধরনের পুনরুদ্ধার দেখা যাচ্ছে না।   গত বছর চীন ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করলেও সাধারণ মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতায় সেই প্রবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।   কুনমিং শহরের ৩০ বছর বয়সী আলোকচিত্রী ম্যান্ডি ফেং বলেন, বাড়ির দাম কমলেও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করছে।   তার ভাষায়, “মানুষ বাড়ি কিনতে চায় না, এমন নয়। কিন্তু আয় অনিশ্চিত এবং উপার্জন কম থাকলে কেউ ঋণ নিতে সাহস পায় না।”   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে আবাসন নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাচ্ছে। বেইজিংয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ঝো ঝ্যাং বলেন, তিনি সম্ভবত নিজের সন্তানদের জন্য বাড়ি কিনবেন না, যদিও নিজের ফ্ল্যাট কিনতে বাবা-মায়ের সহায়তা পেয়েছিলেন।   তার মতে, চীনের আবাসন বাজার ধীরে ধীরে পশ্চিমা দেশের মতো হয়ে উঠছে, যেখানে ভবিষ্যতে ভাড়া বাসায় থাকার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

নুরুল্লাহ সাইদ মে ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বাড়ি কেনা এখন স্বপ্নের মতো, ডাউন পেমেন্ট জমাতেই লাগতে পারে প্রায় ২০ বছর

বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল নগরী নিউইয়র্কে নিজের একটি বাড়ি কেনা এখন মধ্যবিত্ত ও সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। আবাসনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্ট্রিটইজির ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক শহরের গড় আয়ের একজন বাসিন্দার একটি বাড়ির প্রাথমিক অর্থ বা ডাউন পেমেন্ট জমাতে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ২০ বছরের সঞ্চয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্ক শহরের মধ্যম আয়ের একজন ব্যক্তি যদি প্রতি বছর তার আয়ের ১০ শতাংশ নিয়মিতভাবে সঞ্চয় করেন, তাহলেও একটি সাধারণ বাড়ির ২০ শতাংশ প্রাথমিক অর্থ জোগাড় করতে তার প্রায় দুই দশক সময় লাগতে পারে।   স্ট্রিটইজির তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে নিউইয়র্ক শহরে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য ছিল প্রায় ১০ লাখ ৪০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে একটি বাড়ি কিনতে প্রাথমিক অর্থ হিসেবে প্রয়োজন পড়ছে প্রায় ২ লাখ ৯ হাজার ডলার।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক শহরের মধ্যম পারিবারিক আয় বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ডলার। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয়, কর, স্বাস্থ্যসেবা, যাতায়াত ও শিক্ষাঋণের খরচ বহন করার পর এত বড় অঙ্কের অর্থ সঞ্চয় করা অধিকাংশ পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবাসনের মূল্য বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার এবং ভাড়াবাড়ির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাড়ি কেনার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিচ্ছেন। অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় ভাড়ার বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছে।   এদিকে বাড়ি কেনা কঠিন হলেও ভাড়ার বাজারেও তেমন স্বস্তি নেই। বিভিন্ন আবাসন বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিউইয়র্কে ভাড়াবাড়ির খরচও এখনো উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। ফলে যারা বাড়ি কিনতে পারছেন না, তাদের অনেকেই উচ্চ ভাড়ার চাপ সামলে সঞ্চয় করতে হিমশিম খাচ্ছেন।   আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নিউইয়র্কে নিজস্ব বাড়ির মালিক হওয়া সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ মে ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

সাপ মারতে জাপানে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশি বেজি

সাপ মারতে জাপানে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশি বেজি, সেই বেজি নিধনেই লেগেছে ৪৫ বছর

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০