লস অ্যাঞ্জেলেসে অবৈধ রাস্তা দখলকে ঘিরে আগুন, ভাঙচুর ও লুটপাট; ক্ষতি ৫০ হাজার ডলারের মালামাল
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে শনিবার ভোরে দুটি পৃথক ‘স্ট্রিট টেকওভার’ বা বেআইনিভাবে রাস্তা দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খলা, অগ্নিকাণ্ড ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শহরের ইস্ট লস অ্যাঞ্জেলেস এবং গ্রামার্সি পার্ক এলাকায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এই ধ্বংসাত্মক দৃশ্যপট তৈরি হয়। জনসাধারণের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ এবং পুলিশ প্রশাসনের শত চেষ্টা ও বিপুল অর্থ ব্যয় সত্ত্বেও এ ধরনের বেপরোয়া কার্যকলাপ থামানো সম্ভব হচ্ছে না।
শহরের দক্ষিণাংশে একটি স্ট্রিট টেকওভারের পর রাস্তায় থাকা একটি গাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভোর ৪টা ৫২ মিনিটের দিকে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং বিশাল ওই আগুন নিভিয়ে ফেলেন।
লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এলএপিডি) একজন মুখপাত্র জানান, এর কিছুক্ষণ আগেই আতশবাজি ফোটানো বিশাল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে পুলিশের উপস্থিতি এবং রাস্তায় গাড়ির টায়ারের অসংখ্য দাগ (স্কিড মার্ক) দেখা যায়। তবে গাড়িতে কীভাবে আগুন লেগেছে বা এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে ইস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসের ১১৩১ সাউথ আটলান্টিক বুলেভার্ডে অবস্থিত একটি ‘অটোজোন’ স্টোরে ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রিট টেকওভারে অংশ নেওয়া দর্শনার্থীরাই স্টোরের সামনের কাঁচের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। খবর পেয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস শেরিফ ডিপার্টমেন্টের (এলএএসডি) কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, স্টোরের মেঝেতে গাড়ির ব্যাটারি, ওয়াইপার ফ্লুইড এবং নানা ধরনের যন্ত্রাংশ এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। এমনকি সেখানে একটি মডেলো বিয়ারের ক্যানও পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ঘটনাস্থলে থাকা এক ভিডিও স্ট্রিঙ্গারের তথ্যমতে, লুটপাটকারীরা ওই স্টোর থেকে অন্তত ৫০ হাজার ডলার মূল্যের মালামাল এবং তিনটি ক্যাশ রেজিস্টার চুরি করে পালিয়েছে। স্টোরের পাশের একটি গলি দিয়ে কিছু মালামাল নিয়ে লুকিয়ে পালানোর সময় স্থানীয় কয়েকজনকে প্রায় ধরেই ফেলেছিল পুলিশ। রাস্তার ওপর অসংখ্য গাড়ির টায়ারের দাগ পড়ে থাকা ওই অটোজোন স্টোরটি আপাতত বন্ধ রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনাতেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৫ হাজার মানুষ গাড়ির ঋণ থেকে আর্থিক স্বস্তি পেতে পারেন। ক্রেডিট অ্যাকসেপ্টেন্স করপোরেশনের সঙ্গে ৪১টি অঙ্গরাজ্যের করা ৬৯৪ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতার আওতায় জর্জিয়ার গ্রাহকদের জন্য নগদ অর্থ প্রদান ও গাড়ি ঋণের কিছু অংশ মওকুফের সুযোগ রাখা হয়েছে। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার জানিয়েছেন, এই সমঝোতায় জর্জিয়াও অংশ নিয়েছে। অঙ্গরাজ্যটির গ্রাহকদের জন্য ২৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি নগদ অর্থ ও ঋণ ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সব গ্রাহক এই সুবিধা পাবেন না। এই সমঝোতার পেছনে রয়েছে গাড়ির ঋণ দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে ওঠা অভিযোগ। অভিযোগ ছিল, ক্রেডিট অ্যাকসেপ্টেন্স এমন কিছু গ্রাহককে গাড়ির ঋণ দিয়েছিল, যাদের ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য প্রতিষ্ঠানটি আগে থেকেই জানত না বা যাদের ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সমঝোতায় গ্রাহকদের তথ্য দেওয়ার পদ্ধতি, গাড়ি বিক্রেতাদের ওপর নজরদারি এবং ভোক্তা সুরক্ষার আরও কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে ক্রেডিট অ্যাকসেপ্টেন্স জানিয়েছে, কোনো ধরনের অনিয়ম স্বীকার না করেই তারা এই সমঝোতায় পৌঁছেছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, কয়েক বছর ধরে চলা বিভিন্ন মামলা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিষয়গুলো নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই এই চুক্তি করা হয়েছে। কারা এই সুবিধা পাবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেডিট অ্যাকসেপ্টেন্স জানিয়েছে, তাদের সক্রিয় হিসাবের ৩ শতাংশেরও কম এই সমঝোতার আওতায় ঋণ মওকুফের জন্য যোগ্য হবে। অর্থাৎ অধিকাংশ গ্রাহক কোনো ধরনের ঋণ ছাড় পাবেন না এবং তাদের হিসাবেও কোনো পরিবর্তন হবে না। যোগ্য গ্রাহকদের সঙ্গে ক্রেডিট অ্যাকসেপ্টেন্স অথবা অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে নিয়োগ করা সমঝোতা প্রশাসক সরাসরি যোগাযোগ করবে। ডাকযোগে বা ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো নোটিশে জানানো হবে, সমঝোতার আওতায় সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের জন্য কী সুবিধা রয়েছে। যোগ্যতা যাচাই করতে গ্রাহকদের আলাদাভাবে আবেদন বা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে না। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ফোনে যোগাযোগ করে গ্রাহকেরা নিজেদের যোগ্যতা নিশ্চিত করতে পারবেন না। তাই সম্ভাব্য যোগ্য গ্রাহকদের ডাকের ঠিকানা ও ই-মেইল ঠিকানা হালনাগাদ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ তাদের কাছে পৌঁছায়। এদিকে সমঝোতার বিষয়ে আলাদা নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। যারা এই সুবিধার জন্য যোগ্য নন, তাদের ক্ষেত্রে ঋণের কিস্তি পরিশোধ, হিসাব পরিচালনা বা গ্রাহকসেবা নেওয়ার নিয়মে কোনো পরিবর্তন হবে না।
১ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ ভিসায় বাধ্যতামূলক সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই
১০ শতাংশের বেশি পর্যন্ত কমছে বাড়ির বিমার হার, স্বস্তি পেতে পারেন ৬২ হাজারের বেশি মালিক
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীদের গ্রিন কার্ড, পূরণ করতে হবে যে ৮ শর্ত
নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে স্কুল এইড পদে নতুন নিয়োগ চলছে, আর কিছু পদের জন্য হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি বাধ্যতামূলক নয়। ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকার স্কুলে একাধিক পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল চাকরির তালিকায় ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন স্কুল এইড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে। সিএসবি নিউজের প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হলেও, নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি যাচাই করে দেখা গেছে, অন্তত কয়েকটি স্কুল এইড পদের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি প্রয়োজন নেই। উদাহরণ হিসেবে ইস্ট ব্রঙ্কস একাডেমি ফর দ্য ফিউচারের ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই যোগ্যতার কথা উল্লেখ রয়েছে। স্কুল এইডদের কাজ মূলত শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন স্কুল কার্যক্রমে সহায়তা করা। এর মধ্যে হলওয়ে, স্টাডি হল, লাঞ্চরুম ও স্কুলের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের তদারকি, স্কুলে আসা ও ছুটির সময় সহায়তা, স্কুলবাসে আসা শিক্ষার্থীদের দেখভাল এবং লাঞ্চ পরিবেশনে সহযোগিতা রয়েছে। পাশাপাশি পাঠ্যবই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ইনভেন্টরি সংরক্ষণ এবং কিছু সাধারণ দাপ্তরিক কাজও করতে হতে পারে। অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রার্থীর নিয়মিত উপস্থিতি ও সময়ানুবর্তিতার ভালো রেকর্ড থাকতে হবে। দীর্ঘ সময় হাঁটা বা দাঁড়িয়ে কাজ করার সক্ষমতা এবং সর্বোচ্চ ১০ পাউন্ড ওজনের জিনিস তোলার সামর্থ্যও প্রয়োজন হতে পারে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। শিক্ষার্থীদের ভাষাগত প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু স্কুলে দ্বিভাষিক প্রার্থীদেরও বিবেচনা করা হতে পারে। কাজের সময় স্কুলভেদে ভিন্ন হতে পারে। ইস্ট ব্রঙ্কস একাডেমির বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার থেকে শুক্রবার কাজের কথা বলা হয়েছে এবং প্রতিদিন ন্যূনতম চার ঘণ্টা কাজের সম্ভাবনা রয়েছে। বেতন নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট কালেকটিভ বার্গেনিং এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী। তবে পদগুলো চূড়ান্ত বাজেট অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্টিং ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট শেষ তারিখ না থাকলেও পদ পূরণ হয়ে গেলে আবেদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সক্রিয় আছে কি না যাচাই করা জরুরি। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের বর্তমান চাকরির তালিকাতেও ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাধিক স্কুল এইড পদ দেখা যাচ্ছে। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তালিকায় ব্রঙ্কস ও কুইন্সের বিভিন্ন স্কুলসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। একই তালিকায় স্কুল এইডকে আলাদা চাকরির ক্যাটাগরি হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এ ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যোগ্যতা ও আবেদন পদ্ধতি স্কুলভেদে যাচাই করা। ডিপ্লোমা বা জিইডি না থাকলেও কোনো কোনো স্কুল এইড পদে আবেদন করা সম্ভব হলেও, প্রতিটি বিজ্ঞপ্তির শর্ত একই নয়। তাই জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের সর্বশেষ অফিসিয়াল পোস্টিং দেখে যোগ্যতা, কর্মঘণ্টা, আবেদন পদ্ধতি এবং পদটি এখনও খালি আছে কি না নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন পরিবারের কারা, স্পষ্ট করল যুক্তরাষ্ট্র
গ্রিন কার্ড পেতে চাকরির অফার বাধ্যতামূলক নয়, যে ৩ শর্ত জানাল ইউএসসিআইএস
সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে ঝড়ের শঙ্কা, মেক্সিকোর কাছে শক্তিশালী হ্যারিকেন পোলা
সাগরপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে ফ্লোরিডার উপকূলের কাছে একটি নৌকা থেকে ১৩ জন চীনা নাগরিকসহ ২২ জনকে আ টক করেছে ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি ও কোস্ট গার্ড। এ সময় নৌকাটি পরিচালনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কিউবার এক নাগরিককেও আ টক করা হয়েছে। মঙ্গলবার ফ্লোরিডার কী লার্গোর কাছে অ্যাঞ্জেলফিশ ক্রিক এলাকায় ২৭ ফুটের একটি নৌযান শনাক্ত করে সিবিপির এয়ার অ্যান্ড মেরিন অপারেশনসের একটি বিমান। পরে কোস্ট গার্ডের সহায়তায় নৌযানটি থামানো হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, নৌকায় থাকা ব্যক্তিদের কোনো ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই আ টক করা সম্ভব হয়েছে। আ টক ২২ জনের মধ্যে ১৩ জন চীনের নাগরিক, আটজন ইকুয়েডরের এবং একজন ডোমিনিকান রিপাবলিকের নাগরিক। নৌযানটি জব্দ করা হয়েছে এবং আ টক ব্যক্তিদের প্রক্রিয়াকরণের জন্য ইউএস কোস্ট গার্ডের কাটার ‘পাবলো ভ্যালেন্ট’-এ নেওয়া হয়। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যারিবীয় সাগরের এই ধরনের সমুদ্রপথ ব্যবহার করে চীনা নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা তুলনামূলকভাবে বিরল। এর আগে চীনা নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ঘটনা ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসের স্থল সীমান্তপথে বেশি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সিবিপির এয়ার অ্যান্ড মেরিন অপারেশনসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক আন্দ্রেস ব্লাঙ্কো বলেন, সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তার ভাষ্য, এই অভিযান মানব পা চারকারী চক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত তৎপরতার উদাহরণ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমুদ্রপথে এ ধরনের যাত্রায় প্রাণহানির ঝুঁকিও রয়েছে। আ টক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের কর্মকাণ্ড নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।
২০২৬ চলছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়ে গেছে ২০২৮-এর প্রেসিডেন্ট দৌড়
আইসক্রিমে পেরেক গিলে গুরুতর অসুস্থ নারী পেলেন ১৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ