বাড়িতে ফ্রি থাকতে চাইলে মেয়েকে মানতে হবে মায়ের ১০ শর্ত, না হলে দিতে হবে ৫০০ ডলার ভাড়া
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামায় বসবাসরত কায়লা নামের ২২ বছর বয়সী এক তরুণী সম্প্রতি তার নিজের ঘরে ফিরে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। তার মা তাকে একটি চুক্তিপত্র ধরিয়ে দিয়েছেন, যেখানে শর্ত দেওয়া হয়েছে—বিনা ভাড়ায় বাড়িতে থাকতে হলে তাকে বেশ কিছু কড়া নিয়ম মেনে চলতে হবে, অন্যথায় প্রতি মাসে ৫০০ ডলার ভাড়া গুণতে হবে। পূর্ণকালীন চাকরির পাশাপাশি অনলাইনে ফুল-টাইম কলেজ কোর্স করা কায়লা জানান, কাজের চাপে তিনি এমনিতেই খুব কম সময় বাড়িতে থাকেন, তার ওপর মায়ের এমন অদ্ভুত চুক্তিতে তিনি বেশ অবাক হয়েছেন।
কায়লার এই পরিস্থিতি অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রে এখন আর নতুন কোনো বিষয় নয়। জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাসা ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় দেশটির ৩৫ বছরের কম বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার প্রবণতা রেকর্ড ছুঁয়েছে। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ২ কোটি ৫২ লাখ তরুণ-তরুণী (প্রতি তিনজনে একজন) বাবা-মায়ের সাথে থাকছেন, যা কোভিড-১৯ মহামারির সময়ের চেয়েও অনেক বেশি। রিয়েলটর ডটকম-এর প্রতিবেদন অনুসারে, এদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই কর্মজীবী, যা প্রমাণ করে যে ক্রমবর্ধমান বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণেই তারা বাধ্য হয়ে বাড়িতে থাকছেন।
বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যকার আনুষ্ঠানিক চুক্তির মতো করে তৈরি করা ওই চুক্তিপত্রে বেশ কিছু সাধারণ ও কড়া নিয়মের কথা বলা হয়েছে। নিজের খাওয়া শেষ হওয়া খাবার বা পানীয়ের জায়গা পূরণ করা, মেঝেতে ময়লা না ফেলা, রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা এবং ওয়াশিং মেশিনে কাপড় ধোয়া শেষে দ্রুত তা শুকানোর মতো সাধারণ কিছু নিয়ম এতে রয়েছে। তবে এর বাইরেও ড্রয়িংরুম পরিষ্কার করা, কুকুরকে গোসল করানো, রাতে ১টার মধ্যে অবশ্যই বাড়ি ফেরা, মায়ের মেসেজের দ্রুত উত্তর দেওয়া এবং বাড়িতে অতিথি আনতে হলে আগে থেকে অনুমতি নেওয়ার মতো কঠিন শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কায়লার সঙ্গীকে রাতে বাড়িতে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। চুক্তিপত্রটি টিকটকে শেয়ার করার পর নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, কায়লা যদি আলাদা থাকতেন, তবে এই কাজগুলোর পাশাপাশি তাকে ভাড়াও গুণতে হতো।
এই বিষয়ে নিউজউইক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কায়লা জানান, তিনি এমনিতেই সবকিছু পরিষ্কার রাখেন, তাই এই চুক্তিপত্রটি তার কাছে একেবারেই ‘অপ্রয়োজনীয়’ মনে হয়েছে। তিনি বলেন, “ঘরের কাজগুলো করা আমার জন্য কোনো সমস্যা নয়, কিন্তু এই বয়সে এসে আমার ওপর রাতে বাড়ি ফেরার সময়সীমা বা কারফিউ চাপিয়ে দেওয়াটা বিরক্তিকর। আমি নিজের উপার্জনে কেনা গাড়ি চালাই এবং কাজের চাপে প্রায় সারাদিনই বাইরে থাকি।” মায়ের এই পদক্ষেপকে তিনি নিয়মশৃঙ্খলার চেয়ে বরং নিজের ওপর ‘নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা বলেই মনে করেন। তবে অনেকেই ধারণা করছেন, মেয়েকে স্বাবলম্বী করে আলাদা বাসা নিতে বাধ্য করতেই হয়তো মা এই কৌশল বেছে নিয়েছেন। কায়লা জানিয়েছেন, তিনি আগামী ডিসেম্বর বা বড়জোর জানুয়ারির মধ্যেই নিজের জন্য আলাদা বাসা ভাড়া নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাবওয়ে স্টেশনের ট্র্যাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার শিকার হয়েছেন এক মার্কিন সেনাসদস্য। গত শুক্রবার সকালে ঘটা এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণে মর্মান্তিকভাবে নিজের বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিতে পারেননি তিনি। অ্যারন কারিম ওয়াটসন নামের ২৭ বছর বয়সী ওই সেনা সদস্য মূলত ছুটি নিয়ে ব্রুকলিনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত তার বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। অ্যারন জানান, ই-ট্রেনে ভ্রমণের সময় এক অপরিচিত যাত্রীর সঙ্গে তার বাদানুবাদ হয়। ওই ব্যক্তি একনাগাড়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকার কারণেই মূলত বিতণ্ডার সূত্রপাত। এরপর অ্যারন গ্রিনউইচ ভিলেজের ওয়েস্ট ফোর্থ স্ট্রিট স্টেশনে ট্রেন থেকে নামলে ওই ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে তাদের মধ্যে আবারও কথা কাটাকাটি হয় এবং ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার পরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ব্যক্তি অ্যারনকে ধাক্কা দিয়ে রেললাইনে ফেলে দেন। রেললাইনে পড়ে যাওয়ার পরপরই স্টেশনে থাকা উপস্থিত যাত্রীদের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পান অ্যারন। সামান্য আঘাত ও আঁচড় নিয়ে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু এই আকস্মিক ঘটনার কারণে তিনি তার বাবা আলফ্রেড কেনেথ ওয়াটসনের শেষকৃত্যে যোগ দিতে পারেননি। উল্লেখ্য, গত ২৩ জুলাই ব্রুকলিনের ইস্ট নিউইয়র্কে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তার বাবা প্রাণ হারান। মাত্র দুই মাস আগে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া অ্যারন জর্জিয়ায় বেসিক ট্রেনিংরত অবস্থায় বিশেষ ছুটি নিয়ে এসেছিলেন কেবল বাবাকে শেষবারের মতো দেখার জন্য। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ওই হামলাকারী এখনও পলাতক এবং এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। অ্যারনের বর্ণনামতে, হামলাকারী ব্যক্তি সম্ভবত গৃহহীন এবং তার পরনে পুরোপুরি কালো পোশাক, সাদা-কালো স্নিকার্স ও একটি কালো ব্যাগ ছিল। এদিকে এই ঘটনায় অ্যারনের পরিবারে শোকের ছায়া আরও গাঢ় হয়েছে। তার ফুফু সিলভিয়া ওয়াটসন আক্ষেপ করে বলেন, বাবার আকস্মিক মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এমন দুর্ঘটনা সত্যিই মর্মান্তিক। শেষবারের মতো বাবার মুখটা দেখার সুযোগও অ্যারনের হলো না।
ট্যারিফ রিফান্ডে বিলিয়ন ডলার পাচ্ছে মার্কিন কোম্পানিগুলো, সাধারণ গ্রাহকরা কি পাবেন?
বিমানে ওঠার আগে সাবধান! বাড়তি তল্লাশি এড়াতে ক্যারি-অন ব্যাগে কী রাখছেন, সেদিকে নজর দিন
বাড়িতে ফ্রি থাকতে চাইলে মেয়েকে মানতে হবে মায়ের ১০ শর্ত, না হলে দিতে হবে ৫০০ ডলার ভাড়া
যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকেরও বেশি নাগরিক বর্তমানে তাদের দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদা মেটাতে ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি ‘ইউ.এস. নিউজ’-এর পরিচালিত দেশব্যাপী এক জরিপে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গত ৮ থেকে ১১ জুন (২০২৬) পর্যন্ত পিওরস্পেকট্রামের মাধ্যমে ১২০০ জন ভোক্তার ওপর পরিচালিত এই জরিপে মার্কিনীদের ক্রেডিট কার্ডের ঋণ, তা পরিচালনার পদ্ধতি এবং ব্যয়ের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, ৫৬ শতাংশ আমেরিকান তাদের ক্রেডিট কার্ডের বড় অংশই গ্যাস, মুদি বাজার, সন্তানের দেখাশোনা বা ইউটিলিটি বিলের মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করছেন। এর মানে হলো, তারা এখন আর ক্রেডিট কার্ডকে কেবল জরুরি অবস্থার সুরক্ষাকবচ হিসেবে নয়, বরং দৈনন্দিন জীবন ধারণের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন। অপ্রত্যাশিত বা জরুরি কাজে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের হার নেমে এসেছে মাত্র ৩৪ শতাংশে। জরিপের তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৫৭ শতাংশ গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ডে বকেয়া ঋণ রয়েছে। এদের মধ্যে ৪১ শতাংশেরই সর্বমোট ঋণের পরিমাণ ১,০০১ থেকে ৬,০০০ ডলারের মধ্যে। ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বয়সীদের মধ্যে তারতম্য দেখা গেছে। সামগ্রিকভাবে ৫৮ শতাংশ গ্রাহক ন্যূনতম প্রদেয় অর্থের (মিনিমাম ডিউ) চেয়ে বেশি পরিশোধ করলেও তরুণ প্রজন্ম এক্ষেত্রে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। জেন এক্স এবং বেবি বুমাররা তুলনামূলক বেশি অর্থ পরিশোধ করলেও ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী জেন জি প্রজন্মের ৭০ শতাংশ এবং ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী মিলেনিয়ালদের ৫৩ শতাংশই কেবল ন্যূনতম অর্থ পরিশোধ করেন। ঋণের মেয়াদকালের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ২২ শতাংশ গ্রাহক ছয় মাস থেকে এক বছর এবং ১৯ শতাংশ গ্রাহক পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঋণের বোঝা টানছেন। তবে আশার কথা হলো, ৭৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তিন বছরের মধ্যে এই ঋণ পুরোপুরি শোধ করার বিষয়ে আশাবাদী, যদিও প্রায় ১০ শতাংশের আশঙ্কা তারা হয়তো কখনোই এই ঋণের বৃত্ত থেকে বের হতে পারবেন না। মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণেই সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে ক্রেডিট কার্ডের ওপর ঝুঁকছেন বলে জরিপে উঠে এসেছে। ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, মাস শেষের খরচ মেটাতে তাদের ক্রেডিট কার্ডের ওপরই নির্ভর করতে হয়। এক্ষেত্রে পুরুষদের (৫২%) তুলনায় নারীরা (৬২%) বেশি মাত্রায় ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভরশীল। এমনকি গত ১২ মাসে প্রায় ২৭ শতাংশ গ্রাহক তাদের ক্রেডিট কার্ডের সর্বোচ্চ সীমা বা লিমিট শেষ করে ফেলেছেন। আকস্মিকভাবে এক হাজার ডলারের কোনো জরুরি খরচের সম্মুখীন হলে ৫৮ শতাংশ আমেরিকান তা মেটানোর জন্য ক্রেডিট কার্ডের ওপরই ভরসা করবেন, যা প্রমাণ করে যে বেশিরভাগ মানুষের কাছে কোনো জরুরি সঞ্চয় বা ইমার্জেন্সি ফান্ড নেই। ক্রেডিট কার্ডের এই ঋণের পাহাড় আমেরিকানদের জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। ৬০ শতাংশ মানুষের মতে, এই ঋণ জরুরি সঞ্চয় তহবিল গঠনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া গাড়ি কেনা (৩৫%), বিনিয়োগ (৩১%) বা বাড়ি কেনার (২৩%) মতো বড় আর্থিক সিদ্ধান্তগুলোতেও এই ঋণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটা নিয়ে আক্ষেপও রয়েছে অনেক মার্কিনীদের। প্রায় ২৬ শতাংশ মানুষ আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিকস, পোশাক এমনকি মুদি বাজার বা ভাড়ার বিল ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করে পরবর্তীতে অনুশোচনা করেছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ঋণের এই চাপ তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন যে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে, যার মধ্যে ১৮ শতাংশের মতে এই প্রভাব অত্যন্ত গভীর।
লুইজিয়ানায় ভয়ংকর ‘ফ্লেশ-ইটিং’ ব্যাকটেরিয়ায় পাঁচজনের প্রাণহানি, জারি বিশেষ সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীদের জন্য ড্রাইভিং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? সাক্ষাৎকারে তিন নারীর তিন অভিজ্ঞতা
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বিস্ফোরণে ধসে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে মিলল তৃতীয় ম রদেহ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন কিয়ারা ডারভন বোলিং (৩১) নামের এক বিউটি কুইন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, তাকে ধাক্কা দেওয়া গাড়িটি চালাচ্ছিল ৪ ও ৭ বছর বয়সী দুই শিশু ভাই। গত বৃহস্পতিবার ওকল্যান্ডের রাস্তায় এক বন্ধুর কুকুর নিয়ে হাঁটার সময় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। বর্তমানে ওকল্যান্ডের হাইল্যান্ড হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন কিয়ারা। তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনায় তার মস্তিষ্কে একাধিক রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং মুখের হাড় মারাত্মকভাবে ভেঙে গেছে। তার বোন ক্রিস্টিনা ব্ল্যাকমন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, কিয়ারা বেঁচে ফেরার জন্য আপ্রাণ লড়াই করছেন। তবে আশার কথা হলো, তিনি চিকিৎসকদের প্রাথমিক কিছু কথায় ধীরে ধীরে সাড়া দিতে শুরু করেছেন। দীর্ঘমেয়াদী এই চিকিৎসার বিপুল ব্যয়ভার মেটাতে 'গোফান্ডমি' (GoFundMe)-তে খোলা একটি তহবিলে ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে ৩১ হাজার ডলারের বেশি অনুদান জমা পড়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন বাবা-মা ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে গাড়ির চাবি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে ওই দুই শিশু। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সম্ভবত এক ভাই স্টিয়ারিং হুইল ধরেছিল এবং অন্যজন গ্যাস ও ব্রেক প্যাডেল চাপাচ্ছিল। প্রচণ্ড গতিতে ছুটে চলা গাড়িটি প্রথমে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি গাড়িকে ধাক্কা দেয়। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে কুকুরসহ হেঁটে যাওয়া কিয়ারাকে সরাসরি চাপা দিয়ে রাস্তার ধারের একটি বাড়ির বেড়ায় আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় 'গ্রিজলি' নামের কুকুরটিও আহত হয়, তবে বর্তমানে সেটি উদ্ধার করে পশু চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। গত বছর 'ক্যালিফোর্নিয়া রিজেন্সি ইন্টারন্যাশনাল পেজেন্ট'-এ 'মিস গ্রেটার বে এরিয়া' মুকুট জয় করেছিলেন কিয়ারা। তিনি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির (ইস্ট বে) শেষ সেমিস্টারের ছাত্রী এবং আইন পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় জড়িত ৭ বছর বয়সী এক শিশুর পা ভেঙে গেছে এবং তার ছোট ভাই মাথায় আঘাত (কনকাশন) পেয়েছে। তাদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। শিশুদের বাবা-মা পুলিশের তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন বলে জানা গেছে। এত বড় ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার পরও কিয়ারার পরিবার শিশুগুলোর প্রতি কোনো ক্ষোভ রাখেনি। কিয়ারার বোন বলেন, "শিশুরা তো আর গাড়ি চালাতে জানে না, তাই তাদের প্রতি আমাদের কোনো আক্রোশ নেই।"
শিকাগোতে মৃতদেহ সংরক্ষণ কেন্দ্রে চরম অবহেলা, উদ্ধার ৫০টির বেশি পচনশীল মরদেহ
যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদন পেল মডার্নার যুগান্তকারী এমআরএনএ ফ্লু টিকা