সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ক্ষতিপূরণ

আমেরিকান সুপারমার্কেট চেইন পাবলিক্স ছবি:সংগৃহীত।
সুপারমার্কেটে পিছলে পড়ে গুরুতর আহত, ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে ফেডারেল কোর্টে ক্রেতা

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ন্যাশভিলে সুপারমার্কেটে কেনাকাটা করতে গিয়ে পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগে পাবলিক্সের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছেন এক ক্রেতা। দুর্ঘটনায় শারীরিক আঘাত ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন তিনি। মামলাটি এখন টেনেসির ফেডারেল আদালতে নেওয়া হয়েছে।   ন্যাশভিলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেআরএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে পাবলিক্স সুপারমার্কেটে। ওই ব্যক্তি কেনাকাটার জন্য স্টোরে প্রবেশ করার পর ভেতরে পা পিছলে পড়ে যান। তার অভিযোগ, পড়ে যাওয়ার কারণে তিনি গুরুতর শারীরিক আঘাতের শিকার হন এবং এর পর থেকে তাকে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।   মামলায় ওই ক্রেতার অভিযোগ, পাবলিক্সের দায়িত্ব ছিল স্টোরের ভেতরের পরিবেশ ক্রেতাদের জন্য নিরাপদ রাখা। কোনো বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি হলে সেটি দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান করা অথবা ক্রেতাদের যথাযথভাবে সতর্ক করা উচিত ছিল। কিন্তু তার ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।   ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আইনি লড়াই এখন ফেডারেল আদালতে পৌঁছেছে। বাদীপক্ষ এক মিলিয়ন বা ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। তবে এই অর্থ আদালতের দেওয়া কোনো ক্ষতিপূরণ নয়। মামলায় ওই ব্যক্তির পক্ষ থেকে দাবি করা অর্থের পরিমাণ এটি।বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতই নির্ধারণ করবে পাবলিক্সের কোনো দায় রয়েছে কি না এবং থাকলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কত হবে।   এ ধরনের মামলা যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত ‘প্রিমাইসেস লায়াবিলিটি’ আইনের আওতায় বিবেচিত হয়। অর্থাৎ কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ক্রেতা আহত হলে শুধু দুর্ঘটনা ঘটেছে - এটুকু দিয়েই প্রতিষ্ঠানটিকে দায়ী করা যায় না।   বিপজ্জনক পরিস্থিতি ছিল কি না, প্রতিষ্ঠানটি সেটি জানত বা যুক্তিসংগতভাবে জানা উচিত ছিল কি না এবং ক্রেতাকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না - এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।ফলে এই মামলার অন্যতম প্রশ্ন হবে, পাবলিক্সের ভেতরে ঠিক কী কারণে ওই ব্যক্তি পিছলে পড়েছিলেন এবং দুর্ঘটনার আগে সেই পরিস্থিতি সম্পর্কে স্টোর কর্তৃপক্ষ জানত কি না। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্টোরের রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুর্ঘটনার পর ওই ব্যক্তির চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যও আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   তবে এখন পর্যন্ত মামলায় আনা অভিযোগগুলো বাদীপক্ষের দাবি। আদালত পাবলিক্সকে দায়ী করে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দিয়েছে - এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবিকেও চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। উভয় পক্ষের নথি, সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনার পরই দায় নির্ধারণ করবেন আদালত।   যুক্তরাষ্ট্রে সুপারমার্কেট, রেস্তোরাঁ বা অন্য কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনায় প্রায়ই এ ধরনের মামলা হয়ে থাকে। তবে প্রতিটি মামলার ফল নির্ভর করে ঘটনার পরিস্থিতি ও প্রমাণের ওপর। বিশেষ করে নিরাপত্তার ঝুঁকি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠান আগে থেকে জানত কি না - সেটিই অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়ায়।   ন্যাশভিলের এই মামলাতেও এখন সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজবে ফেডারেল আদালত। কেনাকাটা করতে গিয়ে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা শেষ পর্যন্ত ১০ লাখ ডলারের আইনি লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে - তবে পাবলিক্সকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে কি না, সেটি নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম পর্যন্ত।

Unknown আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
লেখক ও সাবেক ম্যাগাজিন কলামিস্ট ই. জিন ক্যারল ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের রায় বাতিলে সুপ্রিম কোর্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

লেখক ও সাবেক ম্যাগাজিন কলামিস্ট ই. জিন ক্যারলকে মানহানির জন্য ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় বাতিল করতে এবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার আইনজীবীদের দাবি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেওয়া বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির প্রশ্ন যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি নিম্ন আদালত।    গত ২৮ জুলাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি শুনানির জন্য আবেদন করেন। সর্বোচ্চ আদালতের ডকেট অনুযায়ী, আবেদনটি ৩০ জুলাই নথিভুক্ত হয়েছে এবং ই. জিন ক্যারলের পক্ষের জবাব দেওয়ার সময়সীমা বর্তমানে ৩১ আগস্ট। তবে সুপ্রিম কোর্ট এখনো মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেনি এবং ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের রায়ও বাতিল করেনি।    মামলাটির সূত্রপাত ই. জিন ক্যারলের অভিযোগ থেকে। সাবেক এল ম্যাগাজিন কলামিস্ট ক্যারল অভিযোগ করেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি ড্রেসিং রুমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ক্যারল মিথ্যা বলছেন বলে দাবি করেছেন।    ২০১৯ সালে ক্যারল তার স্মৃতিকথায় অভিযোগটি প্রকাশ্যে আনার পর তখন প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তা অস্বীকার করেন। ওই বক্তব্যের জেরেই ক্যারল তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল জুরি ক্যারলের পক্ষে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে।    এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু নিউইয়র্কভিত্তিক দ্বিতীয় সার্কিট আপিল আদালত রায় বহাল রাখে। আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির যুক্তির বিষয়ে বলেছিল, মামলার যথাযথ পর্যায়ে সেই প্রতিরক্ষা না তোলায় তিনি তা ব্যবহারের সুযোগ হারিয়েছেন। চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল পূর্ণাঙ্গ আপিল আদালতে পুনর্বিবেচনার আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়।    সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবীরা সেই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করছেন। তাদের বক্তব্য, দায়িত্বে থাকা একজন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তার অফিসিয়াল বক্তব্যের জন্য ক্ষতিপূরণের দায় আরোপের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া উচিত হয়নি। তারা চাইছেন সর্বোচ্চ আদালত মামলাটি গ্রহণ করে এই সাংবিধানিক প্রশ্নটির নিষ্পত্তি করুক।    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবীদের যুক্তি, একজন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সময় তার যোগ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সরকারি দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। সে কারণে ২০১৯ সালে দেওয়া বক্তব্যকে ব্যক্তিগত বক্তব্য না ধরে প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখার দাবি করছেন তারা।    এই মামলায় ২০২৪ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তও আলোচনায় এসেছে। ওই রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেছিল, প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার আওতায় নেওয়া কিছু সরকারি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সাবেক প্রেসিডেন্টরা ফৌজদারি মামলা থেকে ইমিউনিটি পেতে পারেন। তবে ই. জিন ক্যারলের মামলা ফৌজদারি নয় - এটি দেওয়ানি মামলা। ফলে সেই সিদ্ধান্ত এই মামলায় কতটা প্রযোজ্য, সেটিই এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন।    এদিকে ক্যারলকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরেকটি ৫০ লাখ ডলারের মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে ইতোমধ্যে চূড়ান্ত ধাক্কা এসেছে। গত জুনে সুপ্রিম কোর্ট ওই মামলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এরপর পুনর্বিবেচনার আবেদনও ১৭ আগস্ট প্রত্যাখ্যান করেছে আদালত। ফলে ২০২৩ সালের ওই জুরি রায় এখন চূড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে।    ওই পৃথক মামলায় জুরি সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন এবং পরে মানহানি করেছেন। তবে জুরি নিউইয়র্ক আইনের অধীনে ক্যারলের ধর্ষণের নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেয়নি। মামলাটি মূলত ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হয়েছিল, যখন তিনি প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন না।    দুটি মামলার মধ্যে তাই গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ৫০ লাখ ডলারের মামলাটি ২০২২ সালের বক্তব্য এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থাকা ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের মামলাটি মূলত ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। আর এই পার্থক্যকেই প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির যুক্তিতে সামনে আনছেন তার আইনজীবীরা।    এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের রায় বাতিল হয়নি এবং সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি শুনবেই, এমন সিদ্ধান্তও এখনো হয়নি। আদালত প্রথমে ঠিক করবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আবেদন গ্রহণ করে মামলাটির পূর্ণ শুনানি করবে কি না। বর্তমান ডকেট অনুযায়ী, ক্যারলের জবাব জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ আগস্ট।    ফলে ই. জিন ক্যারলকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের একটি মামলা শেষ হয়ে গেলেও সবচেয়ে বড় অঙ্কের মামলাটি এখনো ঝুলে রয়েছে। এবার নজর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে - ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের রায় নিয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির প্রশ্নটি তারা শুনানির জন্য গ্রহণ করে কি না, সেটিই হবে এই আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
নিহত গ্রেগ আমেন এবং গ্রেস স্পিরিডন, যাদের মৃত্যুতে তাদের দুই যমজ কন্যা ৩৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা হারিয়ে এতিম দুই মেয়ে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে পেল ৩৩ মিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বেপরোয়া গতির এক স্ট্রিট রেসিং কেড়ে নিয়েছিল এক দম্পতির প্রাণ। বাবা-মাকে হারিয়ে রাতারাতি এতিম হয়ে যায় তাদের দুই যমজ কন্যাশিশু। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কিশোর চালক ও তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় এবার ৩৩ মিলিয়ন (৩ কোটি ৩০ লাখ) মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে ওই দুই শিশু। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান মাতেও কাউন্টির একটি জুরি বোর্ড এই রায় ঘোষণা করেছে। বে এরিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'বে সিটি নিউজ' এবং আদালতের নথির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।   ২০২২ সালের ৪ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড সিটিতে ঘটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নিহত দম্পতির নাম গ্রেগ আমেন এবং গ্রেস স্পিরিডন। তারা যখন নিজেদের শেভ্রোলেট ভোল্ট গাড়ি নিয়ে এল ক্যামিনো রিয়েল সড়কে বাঁ দিকে মোড় নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই দুটি দ্রুতগতির গাড়ি রেসিং করতে গিয়ে তাদের সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই দম্পতি, আর তাদের যমজ কন্যারা পরিণত হয় পিতৃ-মাতৃহীন এতিমে।   আদালতের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় সিজার মোরালেস নামের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর কাইল হ্যারিসন নামের অপর এক চালকের সঙ্গে স্ট্রিট রেসিংয়ে লিপ্ত ছিল। তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই বিচারের শুনানিতে জুরি বোর্ড জানতে পারে, দুর্ঘটনার রাতে মোরালেস ঘণ্টায় ১০৫ থেকে ১১০ মাইল বেগে গাড়ি চালাচ্ছিল। জুরি বোর্ড এই দুর্ঘটনার জন্য সিজার মোরালেসকে অবহেলা ও চরম গাফিলতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে।   শুধু তাই নয়, চাঞ্চল্যকর এই রায়ে মোরালেসের বাবা আর্নল্ড মোরালেস এবং মা সুজানা সালতো আলভারেজকেও দায়ী করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, তাদের সন্তানের বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর বিষয়ে পূর্ব সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও তারা সেটি পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন। এর আগে ঘণ্টায় ১০০ মাইলের বেশি বেগে গাড়ি চালানোর জন্য মোরালেসকে একবার জরিমানাও করা হয়েছিল। যদিও তার বাবা-মা আদালতে দাবি করেছিলেন যে তারা ওই জরিমানার বিষয়টি জানতেন না। তবে জুরি বোর্ড সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, মোরালেসের বাবা-মা তাদের সন্তানের অনিরাপদ ড্রাইভিং অভ্যাস সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত ছিলেন, কিন্তু তারা তাকে নিবৃত্ত করতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।   নিহত দম্পতির পরিবারের পক্ষে আইনি লড়াই করেছে 'কচেট, পিট্রে অ্যান্ড ম্যাকার্থি' ল ফার্ম। রায়ের পর প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী নিল ম্যাকার্থি এক বিবৃতিতে বলেন, "আমরা আশা করছি আজকের এই রায় বে এরিয়ার সব বাবা-মায়ের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। মোরালেস পরিবারের দায়িত্বহীন সিদ্ধান্তের কারণে আজ দুটি ছোট মেয়েকে তাদের বাবা-মা ছাড়া জীবন কাটাতে হচ্ছে।"   তিনি আরও বলেন, "বাবা-মায়ের দায়িত্ব কেবল সন্তানকে একটি গাড়ি কিনে দিয়ে চুপচাপ বসে থাকা নয়। সন্তানের আচরণে যখন সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন তাদের অবশ্যই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে এমন ট্র্যাজেডি এড়ানো সম্ভব নয়।"   দুর্ঘটনার পর সিজার মোরালেসের বিচার হয়েছিল শিশু আদালতে। সেখানে ভেহিকুলার ম্যানস্লটার বা বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যার দায়ে তাকে মাত্র ৯০ দিনের ইলেকট্রনিক হোম মনিটরিংয়ের সাজা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, রেসিংয়ে অংশ নেওয়া অপর চালক কাইল হ্যারিসনকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে গত বছর সান মাতেও কাউন্টির একটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে জুরি বোর্ড এতিম দুই কন্যাশিশুকে অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ১৯ মিলিয়ন ডলার এবং তাদের মানসিক ও অন্যান্য অপূরণীয় ক্ষতির জন্য প্রত্যেকে ৭ মিলিয়ন করে আরও ১৪ মিলিয়ন ডলার প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ মিলিয়ন ডলার।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
কস্টকোর প্রচারমূলক ইমেইল সংক্রান্ত মামলার সমঝোতায় ক্ষতিপূরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে কিছু গ্রাহকের জন্য। ছবি: সংগৃহীত
কস্টকোর গ্রাহকদের জন্য সুখবর! ক্ষতিপূরণ হিসেবে পেতে পারেন ৫০০ ডলারের ও বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কস্টকোর কিছু গ্রাহক একটি ক্লাস অ্যাকশন মামলার নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। নির্দিষ্ট অভিযোগের আওতায় থাকা গ্রাহকদের জন্য এই অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।   মামলাটি কস্টকোর কিছু নির্দিষ্ট পণ্য ও গ্রাহক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে করা হয়েছিল। অভিযোগকারীদের দাবি ছিল, প্রতিষ্ঠানটির কিছু কার্যক্রমের কারণে গ্রাহকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে কস্টকো অভিযোগগুলো স্বীকার করেনি এবং কোনো অনিয়ম করার কথা অস্বীকার করেছে। চূড়ান্ত নিষ্পত্তির মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হচ্ছে।   আদালতের অনুমোদিত নিষ্পত্তি চুক্তি অনুযায়ী, যোগ্য গ্রাহকরা তাদের দাবির ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি জমা দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়েছেন, তারাই এই অর্থ পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন। ক্লাস অ্যাকশন মামলা হলো এমন একটি আইনি প্রক্রিয়া যেখানে একই ধরনের অভিযোগ থাকা অনেক ব্যক্তি একসঙ্গে একটি মামলা করেন। এতে প্রত্যেক ব্যক্তিকে আলাদাভাবে মামলা পরিচালনা করতে হয় না।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় কোম্পানির বিরুদ্ধে এমন নিষ্পত্তি গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কোনো ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আগে গ্রাহকদের অবশ্যই নিজেদের যোগ্যতা, দাবির শর্ত এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কস্টকো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় সদস্যভিত্তিক খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান, যেখানে লাখ লাখ গ্রাহক নিয়মিত পণ্য কেনাকাটা করেন। এ ধরনের আইনি নিষ্পত্তি তাই বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের নজরে এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
সেনা সংকটে এবার বিশ্ববিদ্দালয় পড়ুয়াদের টার্গেট করছে রুশ সেনাবাহিনী

রাশিয়ায় চলমান যুদ্ধের জন্য এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করছে ক্রেমলিন, যেখানে ড্রোন বাহিনীতে যোগ দিতে তাদের ওপর তৈরি করা হচ্ছে নজিরবিহীন মানসিক চাপ। মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো বড় শহরগুলোর নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন যুদ্ধের প্রচারণামূলক পোস্টার এবং ড্রোন পরিচালনার ভিডিও গেমিং বিজ্ঞাপনে ছেয়ে গেছে পুরো শিক্ষাঙ্গন। শিক্ষার্থীদের প্রলুব্ধ করতে মাত্র এক বছরের চুক্তি, সম্মুখ সমর থেকে দূরে থাকা এবং উচ্চ বেতনের পাশাপাশি বিশাল অংকের আর্থিক বোনাসের লোভ দেখানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন যে, এই চুক্তিগুলো আসলে এক ধরণের ফাঁদ এবং একবার সই করলে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধে আটকে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। রাশিয়ার বর্তমান আইন অনুযায়ী আংশিক সংহতির ডিক্রি বহাল থাকায় এক বছরের চুক্তির প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হওয়ার কোনো আইনি গ্যারান্টি নেই বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় ঘাটতি রয়েছে বা যারা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার ঝুঁকিতে আছে, তাদের বহিষ্কারের ভয় দেখিয়ে যুদ্ধে যোগ দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। ভিডিও গেমারদের ড্রোন চালক হিসেবে গড়ে তোলার এই কৌশলী প্রচারণা তরুণ প্রজন্মের কাছে যুদ্ধের ভয়াবহতাকে আড়াল করে একটি অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে ক্রেমলিন। অনেক শিক্ষার্থী সরাসরি জানিয়েছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখন নিয়মিত সভা করে তাদের যুদ্ধে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন যা সাধারণ শিক্ষার পরিবেশকে চরমভাবে ব্যাহত করছে। সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটির মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন সরাসরি সামরিক চুক্তি প্রচার করছে যা রাশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সরকারের ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণেরই স্পষ্ট প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর অনুসন্ধান বলছে যে, বিশাল অংকের অর্থের প্রলোভন সত্ত্বেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এই প্রচারণা নিয়ে সন্দিহান এবং তারা একে এক ধরণের মরণফাঁদ হিসেবেই দেখছে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ, রুশ শিক্ষার্থী নিয়োগ, ড্রোন বাহিনী প্রচারণা, ক্রেমলিন সামরিক নীতি, আন্তর্জাতিক সংবাদ।

Unknown এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
পাঁচ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি, জাতিসংঘে ইরানের চিঠি
পাঁচ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি, জাতিসংঘে ইরানের চিঠি

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সহযোগিতার অভিযোগ তুলে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি জানিয়েছে ইরান। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে ওই হামলায় পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছে।   অভিযোগের তালিকায় রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।   জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় সেই চিঠি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে জমা দেওয়া হয়।   চিঠিতে বলা হয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এমন তথ্য পাওয়া গেছে যে, উল্লেখিত দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালিয়েছে। এসব তথ্য এর আগেও নিরাপত্তা পরিষদে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।   ইরাভানি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, আগের প্রতিবেদনগুলোতেও বলা হয়েছিল—আগ্রাসনকারীরা ওই দেশগুলোর সহায়তা নিয়ে কিছু বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালিয়েছে।   চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আন্তর্জাতিক আইন ও দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করেছে। তাই ইরানের ওপর সংঘটিত বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ তাদের দিতে হবে।   এতে আরও বলা হয়, এসব দেশ সামরিক সুবিধা দিয়ে আগ্রাসনকে সহায়তা করেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। ১৯৭৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৩৩১৪ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে বেআইনি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   ইরান দাবি করেছে, এই পদক্ষেপগুলো তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি সশস্ত্র হামলায় উসকানি দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘনের শামিল। ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেই বহন করতে হবে।   চিঠিতে এ ধরনের কার্যক্রম দ্রুত বন্ধ করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধে ২৭০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি: পাঁচ আরব দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইল ইরান

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে ইরানের অন্তত ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। একই সঙ্গে হামলায় সহযোগিতার অভিযোগ তুলে পাঁচটি আরব দেশের কাছে ক্ষতিপূরণও চেয়েছে দেশটি।   রুশ বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমাহ মোহাজেরানি বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এই বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে ধাপে ধাপে মূল্যায়ন করা হবে।   মোহাজেরানির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে অবকাঠামো ও স্থাপনার ক্ষতি নিরূপণ করা হবে। এরপর বাজেট ঘাটতি, শিল্পকারখানা বন্ধ থাকা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি স্কুলে হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   এদিকে, ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। অভিযোগ করা হয়েছে, এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে।   জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার লঙ্ঘন করেছে। ফলে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য তাদের দায়ী করা উচিত।   সংঘাত শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ইরান পাল্টা হামলা চালায় ইসরায়েলসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।   এরই মধ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টার ওই বৈঠকে মতপার্থক্য কাটেনি, তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।   কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে দুই দেশ আবারও আলোচনায় বসতে পারে। যদিও এখনো নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি, তবুও উভয় পক্ষ আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের অর্থনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা উভয় পক্ষকেই আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করছে।

Unknown এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
পদ্মায় বাসডুবি: ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দাবি, সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ২৬ জন নিহতের ঘটনায় সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে জনস্বার্থে এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী— অ্যাডভোকেট নেওয়াজুল আসিফ সাদ, ব্যারিস্টার রাফি জি রহমান ও অ্যাডভোকেট জায়েদ বিন নাসের। পাঠানো নোটিশে নিহত প্রতিটি পরিবারকে ন্যূনতম ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং কর্মক্ষমতা হারানো ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এই লিগ্যাল নোটিশে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, নৌপরিবহন মন্ত্রী, সেতু বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী, সেতু সচিব এবং নৌপরিবহন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আপাতদৃষ্টিতে এটি দুর্ঘটনা মনে হলেও ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনা বা পরিবহন কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা জরুরি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে সেই প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। অ্যাডভোকেট নেওয়াজুল আসিফ সাদ জানান, সময়ের স্বল্পতার কারণে আপাতত ই-মেইলের মাধ্যমে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী কর্মদিবসে এটি ডাকযোগেও পাঠানো হবে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে উচ্চ আদালতে রিটসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকেলে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর পন্টুনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের বাসটি নদীতে তলিয়ে যায়, যা থেকে এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

Unknown মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অপহৃত নার্স এমিলিয়ানে তামারা নুনেস কারভালহো

সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে, সাবেক স্বামীর হাতে পাঁচ দিন শেকলবন্দি তরুণী নার্স

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০