- প্রচ্ছদ
- Topic
সরকারি স্কুল
নিউইয়র্কের কুইন্সের একটি সরকারি স্কুলের চিমনিতে জুনে পাওয়া পচনধরা মরদেহের পরিচয় প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকা ২৯ বছর বয়সী ম্যাথিউ কোলাডো হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। তবে কীভাবে তিনি স্কুলের ভেতরে ঢুকলেন, কীভাবে চিমনিতে পৌঁছালেন এবং কীভাবে তাঁর মৃত্যু হলো, তার কোনো উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। নিউইয়র্ক সিটির মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর কারণ, সময় ও ধরন এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। কোলাডো কুইন্সের একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী র্যাপার ছিলেন এবং A.K. Nash নামে গান করতেন। তাঁর মা সোফিয়া উডের ভাষ্য অনুযায়ী, ৯ মে ভোর ৩টা ২২ মিনিটের দিকে তাকে জামাইকার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হতে দেখা যায়। এর পর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ হওয়ার আগে মাকে তিনি জানিয়েছিলেন, কয়েক দিন পর পরিবারের সঙ্গে মাদার্স ডে উদযাপন করবেন। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে তিনি আর উপস্থিত হননি। ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে উড পুলিশে নিখোঁজের রিপোর্ট করেন। পাশাপাশি নিজেও বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার লাগিয়ে ও অনলাইনে তথ্য ছড়িয়ে ছেলের সন্ধান চালান। কোলাডোর অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে তিনি তাঁর ফোন ও ওয়ালেট পড়ে থাকতে দেখেছিলেন। দরজাটিও ডেডবোল্ট দিয়ে এমনভাবে খোলা ছিল, যা দেখে তাঁর উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর কোলাডোর একটি নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল বলেও তাঁর মা জানিয়েছেন। এরপর ৩০ জুন সকালে কুইন্সের গ্লেনডেল এলাকার P.S./I.S. 113 Anthony Pranzo School-এ দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে এক এক্সটারমিনেটর চিমনির ভেতর মরদেহটি দেখতে পান। তখন স্কুলটি গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে বন্ধ ছিল এবং ভবনে সংস্কারকাজ চলছিল। এক্সটারমিনেটর চিমনির ছাই বের করার অংশ খুলে প্রথমে একটি জুতা দেখতে পান। পরে ভেতরে হাত দিয়ে তিনি একটি পায়ের অংশ অনুভব করেন। মরদেহ উদ্ধারের খবর প্রকাশের পর কোলাডোর মা বিষয়টি জানতে পারেন। তাঁর ছেলে নিখোঁজ থাকায় তিনি তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রথমদিকে তাঁকে জানানো হয়েছিল, চিমনি থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তাঁর ছেলের বলে মনে হচ্ছে না। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পর তদন্তকারীরা উডের ডিএনএ সংগ্রহ করেন। ২৯ জুলাই নিউইয়র্ক সিটির মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় দাঁতের রেকর্ডের মাধ্যমে মরদেহটি কোলাডোর বলে নিশ্চিত করে বলে তাঁর মা জানিয়েছেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরও রহস্যের সমাধান হয়নি। তদন্তকারীদের হাতে কোলাডো কীভাবে স্কুলে ঢুকেছিলেন বা কীভাবে চিমনির ভেতরে পৌঁছেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো নজরদারি ভিডিও নেই বলে তাঁর মা জানিয়েছেন। স্কুলটির সঙ্গে কোলাডোর কোনো পরিচিত সম্পর্কও পরিবারের জানা ছিল না। ফলে তাঁর মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে এখনো একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। কোলাডোর মা জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে উচ্চতার ভয় পেতেন এবং আগুন ও ধোঁয়াও অপছন্দ করতেন। তাই কীভাবে তিনি একটি চিমনির ভেতরে গেলেন, সেটি তাঁর কাছে আরও বিস্ময়কর। তবে তিনি কোনো অনুমান বা অভিযোগ করতে চান না। তাঁর ভাষায়, তিনি শুধু ঘটনার সত্যতা ও নির্ভুল ব্যাখ্যা চান। কোলাডো পূর্ব এলমহার্স্টে বেড়ে ওঠেন এবং সংগীত তৈরি করতেন। তাঁর মা জানিয়েছেন, তিনি বিভিন্ন গান ও বিট তৈরি করতেন এবং অনলাইনে তাঁর কিছু গানও রয়েছে। এখন ছেলের কণ্ঠ শোনার জন্য সেই গানগুলোর কাছেই ফিরে যেতে হচ্ছে তাঁকে। কোলাডোর পরিবার এখনো তাঁর মৃত্যুর কারণ ও স্কুলের চিমনিতে পৌঁছানোর ঘটনাটি জানতে চাইছে। তাঁর মা এ ঘটনার সত্য উদঘাটনে একজন প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। অন্যদিকে মেডিকেল এক্সামিনারের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কারণ ও ধরন সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যাচ্ছে না।
নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ২-কে থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য জেনারেটিভ এআই ব্যবহারে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নতুন এই নীতিতে একই সঙ্গে ছোট শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন টাইম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়র জোহরান মামদানি ও স্কুল চ্যান্সেলর মেলিসা সামুয়েলসের ঘোষিত নীতিটি নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলের প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থীকে প্রভাবিত করবে, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। নীতির আওতায় ২-কে থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলের কাজে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের সুযোগ পাবে না। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো ছোট বয়স থেকেই শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভরতা কমিয়ে পড়াশোনা, চিন্তাশক্তি ও শ্রেণিকক্ষের সরাসরি শেখার পরিবেশে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। তবে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এআই পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের এআই সম্পর্কে জ্ঞান ও দক্ষতা বা এআই লিটারেসি শেখানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এআই কীভাবে কাজ করে, এর সম্ভাবনা ও ঝুঁকি এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়ে ধারণা দেওয়া হবে। নতুন নীতিতে ছোট শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন ব্যবহারের সময় কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধু এআই নয়, শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরন নিয়েও স্কুলগুলোতে নতুন করে নীতিমালা কার্যকর হবে। কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের পেছনে মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে শেখার মৌলিক দক্ষতা শক্তিশালী করা। একই সঙ্গে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় এআই দক্ষতা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। নীতিটি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কার্যকর হবে। ফলে নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলে ছোট শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহার সীমিত করার পাশাপাশি বড় শিক্ষার্থীদের জন্য এআই শেখার সুযোগ - দুই ধরনের নীতিই একসঙ্গে চালু হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলগুলোতে এইচ-১বি ভিসায় বিদেশি শিক্ষক ও কর্মী নিয়োগ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। আগামী বছর অঙ্গরাজ্য আইনসভায় এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব তোলার কথা জানিয়েছেন তিনি। টেক্সাসে সরকারি স্কুলগুলোতে বর্তমানে ৩৪০ জনের বেশি এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মী রয়েছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী রয়েছেন ডালাস ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টে বা ডালাস আইএসডিতে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১৭১ জন এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মী কাজ করছেন। এইচ-১বি ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন এমন পেশায় বিদেশি কর্মীদের সাময়িকভাবে নিয়োগের সুযোগ দেয়। শিক্ষা খাতেও স্থানীয়ভাবে যোগ্য কর্মী পাওয়া কঠিন হলে স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলো এই ভিসার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ করতে পারে। ডালাস আইএসডি জানিয়েছে, তারা মূলত যেসব পদে স্থানীয়ভাবে শিক্ষক পাওয়া কঠিন, সেসব পদ পূরণে এইচ-১বি ভিসা ব্যবহার করে। বিশেষ করে ইংরেজি-স্প্যানিশ দ্বিভাষিক শিক্ষা ও বিশেষ শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ডালাস আইএসডির তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষকদেরও টেক্সাসের নির্ধারিত শিক্ষক সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার মতো শর্ত পূরণ করতে হয়। অর্থাৎ এই ভিসায় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের স্থানীয় শিক্ষকদের মতোই নির্দিষ্ট যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। তবে গভর্নর অ্যাবটের প্রস্তাবের পেছনে শুধু শিক্ষক নিয়োগের বিষয় নয়, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় বিদেশি প্রভাব কমানোর বিষয়টিও রয়েছে। তিনি টেক্সাসের সরকারি স্কুলগুলোতে বিদেশি সরকার বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উপহার ও অর্থায়নের ওপরও আরও কঠোর বিধিনিষেধ চান। অ্যাবটের উদ্যোগের সমর্থকদের যুক্তি, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি স্কুলে স্থানীয় কর্মীদের চাকরির সুযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, এইচ-১বি নিয়োগ বন্ধ হলে শিক্ষক সংকটে থাকা স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলো আরও চাপে পড়তে পারে। বিশেষ করে টেক্সাসে দ্বিভাষিক শিক্ষা ও বিশেষ শিক্ষার মতো ক্ষেত্রে যোগ্য শিক্ষক পাওয়া অনেক স্কুলের জন্য ইতিমধ্যেই বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ হলে এসব শূন্য পদ পূরণে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নতুন ব্যবস্থা নিতে হবে। এইচ-১বি নিয়োগ নিয়ে অ্যাবটের অবস্থানও নতুন নয়। এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি টেক্সাসের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য সংস্থা ও সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নতুন এইচ-১বি আবেদন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবার সরকারি স্কুলগুলোতেও একই ধরনের বিধিনিষেধ আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি। তবে প্রস্তাবটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। আগামী বছর টেক্সাস আইনসভায় এটি উত্থাপনের পর আইনপ্রণেতাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে সরকারি স্কুলে বিদেশি শিক্ষক ও অন্যান্য এইচ-১বি কর্মীদের ভবিষ্যৎ। ফলে টেক্সাসে একদিকে স্থানীয় কর্মীদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়ানোর দাবি, অন্যদিকে শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজন—এই দুই অবস্থানের মধ্যেই নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে এইচ-১বি কর্মসূচি।
নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির ৪০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী পড়া ও গণিতের শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় ফল করতে পারেনি। এরপরও গত বছর এসব শ্রেণির প্রায় ১০০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। একই শ্রেণিতে রাখা হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থীকে। নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির প্রায় ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পরবর্তী শ্রেণিতে ওঠার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারেনি। তবে তাদের অধিকাংশকেই শেষ পর্যন্ত পরবর্তী শ্রেণিতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষা নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ। অভিভাবকদের সংগঠন Parent Leaders for Accelerated Curriculum Education-এর সহসভাপতি জিন হান দ্য পোস্টকে বলেন, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত দক্ষতা অর্জন না করেও শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে তুলে দেওয়া শিক্ষাব্যবস্থার জন্য গুরুতর ব্যর্থতা। তবে নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষা বিভাগ বলছে, শুধু শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। শিক্ষার্থীর রিপোর্ট কার্ড, শ্রেণিকক্ষের কাজ এবং নির্ধারিত শিক্ষাগত দক্ষতা অর্জনের অন্যান্য প্রমাণও বিবেচনায় নেওয়া হয়। শিক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র বলেন, শিক্ষার্থীর কোর্সের ফলাফল থেকে তার নির্ধারিত শিক্ষাগত মান কতটা আয়ত্ত করেছে, তা বোঝা যায়। শুধু উপস্থিতি, আচরণ বা শ্রেণিকক্ষে কাটানো সময়ের ভিত্তিতে নয়, বরং নির্ধারিত শিক্ষাগত প্রত্যাশা পূরণ করেই শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করার কথা। নিউইয়র্ক সিটির স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের একই শ্রেণিতে রাখার হার গত এক দশকের বেশি সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৪ সালে তৎকালীন মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর প্রশাসনের সময় চালু হওয়া একটি নীতির আওতায় শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে তোলার ক্ষেত্রে শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি আরও বিস্তৃত মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। এর আগে ২০১০ সালে নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। সে বছর ১ দশমিক ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে একই শ্রেণিতে রাখা হয়েছিল। গত বছর সেই হার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশে। এ নিয়ে নিউইয়র্কের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষায় দুর্বল ফল করা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে তুলে দিলে তারা প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে কি না। অন্যদিকে শিক্ষা বিভাগের অবস্থান হলো, শিক্ষার্থীর সামগ্রিক একাডেমিক অগ্রগতি বিবেচনা করেই শ্রেণি উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলে মুসলিমসহ সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বাধ্যতামূলক পাঠ্যসূচিতে বাইবেলের নির্বাচিত অংশ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত টেক্সাস স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন সম্প্রতি ভোটের মাধ্যমে নতুন পাঠ্যসূচির অনুমোদন দিয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ শিক্ষাবর্ষ থেকে ধাপে ধাপে এই পাঠ্যসূচি চালু হবে। এতে বাইবেলের নির্বাচিত গল্প ও অংশের পাশাপাশি বিশ্বসাহিত্যের বিভিন্ন ধ্রুপদি রচনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। টেক্সাস শিক্ষা বোর্ডের দাবি, এটি ধর্মীয় শিক্ষা নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বোঝাতে বাইবেলের কিছু অংশকে শিক্ষাসামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করা হবে। টেক্সাসে বর্তমানে ৫০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে। নতুন পাঠ্যসূচি কার্যকর হলে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, ইহুদি, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মীয় পটভূমির সব শিক্ষার্থী একই পাঠ্যক্রমের আওতায় আসবে। সিদ্ধান্তের সমর্থকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আইন, ইতিহাস ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে ইহুদি-খ্রিস্টান ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ধারণা দিতেই বাইবেলের নির্বাচিত অংশ পাঠ্যসূচিতে যুক্ত করা হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন শিক্ষাবিদ, নাগরিক অধিকার সংগঠন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাদের অভিযোগ, সরকারি স্কুলের বাধ্যতামূলক পাঠ্যসূচিতে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গ্রন্থ অন্তর্ভুক্ত করা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে রাষ্ট্র ও ধর্মের পৃথক অবস্থানের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এতে মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী এবং ধর্মনিরপেক্ষ পরিবারের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উপেক্ষিত বা অস্বস্তিকর অবস্থায় অনুভব করতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সাস যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা ব্যবস্থা হওয়ায় এ সিদ্ধান্তের প্রভাব ভবিষ্যতে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা নীতিতেও পড়তে পারে। একই সঙ্গে বিষয়টি আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে টেক্সাস শিক্ষা বোর্ড আবারও স্পষ্ট করেছে, নতুন পাঠ্যসূচির উদ্দেশ্য কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস বা উপাসনা প্রচার করা নয়। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ইতিহাস ও সাহিত্য সম্পর্কে বিস্তৃত জ্ঞান দেওয়ার লক্ষ্যেই বাইবেলের নির্বাচিত অংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবুও সিদ্ধান্তটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ধর্ম, শিক্ষা এবং সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।