পরিবারের স্বপ্ন পূরণে যুক্তরাষ্ট্রে এসে নর্থ ক্যারোলাইনায় সড়কে ঝরল ভারতীয় প্রবাসীর প্রাণ
ডারহাম পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে নর্থ ক্যারোলাইনার ডারহাম ফ্রিওয়ের দক্ষিণমুখী লেনে ফায়েটভিল স্ট্রিটের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়ির টায়ার পাংচার হওয়ায় রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে টায়ার পরিবর্তনের জন্য বাইরে নেমেছিলেন ৩৭ বছর বয়সী রাকেশ বাবু পুজারি। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ঘাতক চালক গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান।
দুর্ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর গত ৩ নভেম্বর জুলিয়েন জোসেফ নামে ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ডারহাম পুলিশ। তিনি নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাপেক্স এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হিট অ্যান্ড রান বা দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর প্রায় ১২ মাইল গাড়ি চালিয়ে যান জোসেফ। পরে প্রথমে স্ত্রীকে ফোন করেন এবং এরপর জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ যোগাযোগ করেন। তবে এক স্টেট ট্রুপারের কাছে তিনি দাবি করেছিলেন, তার গাড়ির সঙ্গে একটি হরিণের ধাক্কা লেগেছে।
জোসেফ এক লাখ ডলারের জামানতবিহীন বন্ডে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার আদালতে হাজিরাও দেন তিনি। মুক্তির নথিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্তের আগের অপরাধের রেকর্ড না থাকা, স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা ও অনুশোচনা প্রকাশের বিষয়টিও জামিনের সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে। তার পরবর্তী আদালতে হাজিরার তারিখ আগামী বছরের ১৪ জানুয়ারি।
এদিকে রাকেশের মৃত্যুতে শোকাহত তার পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতজনেরা। বন্ধুদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের আর্থিক সহায়তা ও স্বজনদের পাশে দাঁড়াতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন তিনি। ভারতে থাকা পরিবারের কাছে তার মৃত্যুর খবর পৌঁছে দেওয়ার পর স্বজনেরা ভেঙে পড়েন। বন্ধু মোহাম্মদ শেখজি বলেন, রাকেশ ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক ও সদয় মনের মানুষ। তার মৃত্যুর খবর প্রথম শোনার পর তারা গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছিলেন।
বন্ধুরা জানান, রাকেশ সব সময় অন্যের উপকার করতেন এবং সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন। তার সেই মানবিক গুণাবলিই তাকে সবার কাছে প্রিয় করে তুলেছিল। রাকেশের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা মানুষের প্রতি আরও সদয় ও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মোহাম্মদ শেখজির ভাষায়, রাকেশ যেমন মানুষের পাশে দাঁড়াতেন, তেমনি প্রত্যেকেরই উচিত একে অপরের প্রতি সহায়ক ও মানবিক হওয়া। স্ত্রী ও স্বজনদের রেখে যাওয়া রাকেশকে শেষ পর্যন্ত ভারতে সমাহিত করা হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবরে কৃষি খাতের বাইরে ১ লাখ ৬৫ হাজার চাকরি যোগ হয়েছে। বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশে। তবে চাকরি বাড়লেও কর্মীদের মজুরি বৃদ্ধির হার সর্বশেষ প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির হারের নিচে রয়েছে। শুক্রবার, ৬ নভেম্বর প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনে চাকরির বাজারের এই চিত্র উঠে এসেছে। ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের হিসাবে, অক্টোবরে বেসরকারি খাতে ঘণ্টাপ্রতি গড় আয় আগের মাসের তুলনায় ১৪ সেন্ট বেড়ে ৩৮ ডলার হয়েছে। মাসিক হিসাবে এই বৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। গত বছরের অক্টোবরের তুলনায় ঘণ্টাপ্রতি গড় মজুরি বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে সর্বশেষ প্রকাশিত সেপ্টেম্বরের হিসাবে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ওই মাসে গ্যাসোলিনের দাম আগের মাসের তুলনায় ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। সামগ্রিক মাসিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির অর্ধেকের বেশি এসেছে গ্যাসোলিনের দাম থেকে। অক্টোবরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে ১০ নভেম্বর। নতুন চাকরির বড় অংশ এসেছে পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবা খাতে। সেখানে অক্টোবরে ৭০ হাজার চাকরি যোগ হয়েছে। হেলথকেয়ার খাতে বেড়েছে ৪২ হাজার এবং পরিবহন ও ওয়্যারহাউসিং খাতে ২৫ হাজার চাকরি। ম্যানুফ্যাকচারিং খাতেও কর্মসংস্থান বেড়েছে ১৯ হাজার। অন্য বড় খাতগুলোতে কর্মসংস্থানের পরিবর্তন ছিল সামান্য। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের চাকরির হিসাবও সংশোধন করা হয়েছে। নতুন হিসাবে আগস্টে ১ লাখ ৮৬ হাজার এবং সেপ্টেম্বরে ৬০ হাজার চাকরি যোগ হয়েছে। দুই মাস মিলিয়ে আগের প্রকাশিত হিসাবের চেয়ে চাকরির সংখ্যা ৮৪ হাজার বেশি। অক্টোবরে চাকরি বৃদ্ধিও আগের ১২ মাসের মাসিক গড় ৪৮ হাজারের চেয়ে বেশি ছিল। তবে ফুলটাইম কাজ চেয়েও পার্টটাইম করতে বাধ্য হওয়া মানুষের সংখ্যা অক্টোবরে ৩ লাখ ৩৯ হাজার বেড়ে ৪৮ লাখ হয়েছে। কাজের সময় কমে যাওয়া অথবা ফুলটাইম চাকরি না পাওয়ায় তাঁরা পার্টটাইম কাজ করছেন। একই সময়ে মোট বেকার মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭১ লাখ। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকস ও ডব্লিউটিএক্সএল।
পরিবারের স্বপ্ন পূরণে যুক্তরাষ্ট্রে এসে নর্থ ক্যারোলাইনায় সড়কে ঝরল ভারতীয় প্রবাসীর প্রাণ
১০ ডলারের অপমান, ৭ লাখ ৮৪ হাজার ডলারের ভালোবাসা পেলেন চার সন্তানের বাবা
বাংলাদেশি একই পরিবারের দুই সদস্য নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে, স্বজনদের আনন্দ বার্তা
যুক্তরাষ্ট্রে থ্যাংকসগিভিং, বড়দিন ও নতুন বছরের ছুটির মৌসুমে ফ্লাইট বিলম্বের ঝুঁকিতে থাকা বিমানবন্দরগুলোর নতুন তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এতে আবহাওয়াজনিত বিলম্বের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি এবং নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি বিমানবন্দরও শীর্ষ দশে রয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে নতুন এই গবেষণার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ভ্রমণবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আপগ্রেডেড পয়েন্টস যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব ট্রান্সপোর্টেশন স্ট্যাটিসটিকসের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করেছে। গবেষণায় দেশের ব্যস্ততম ৬০টি বিমানবন্দর ও নয়টি প্রধান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ বছরের ছুটির মৌসুমের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত বিলম্বিত ফ্লাইটগুলোর গড়ে ২১ দশমিক ৯ শতাংশ বিলম্বের জন্য আবহাওয়া দায়ী ছিল। ফলে এবারের ছুটির মৌসুমে ভ্রমণকারীদের আগেভাগে পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সান ফ্রান্সিসকো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে বিলম্বিত ফ্লাইটের ৪০ দশমিক ৩ শতাংশের পেছনে ছিল প্রতিকূল আবহাওয়া। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে এই হার ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে সিয়াটল-টাকোমা বিমানবন্দর, যেখানে আবহাওয়ার কারণে ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ বিলম্ব ঘটেছে। তালিকার চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি বিমানবন্দর, যার হার ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ। দশম অবস্থানে থাকা নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে এই হার ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ নিউইয়র্ক ও আশপাশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরই আবহাওয়াজনিত বিলম্বের তালিকার শীর্ষ দশে জায়গা পেয়েছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ডিসেম্বর মাসে আবহাওয়াজনিত বিলম্বের হার সবচেয়ে বেশি। ওই মাসে বিলম্বিত ফ্লাইটের প্রায় ২৩ দশমিক ৬ শতাংশের জন্য আবহাওয়া দায়ী ছিল। জানুয়ারিতে এই হার প্রায় ২২ দশমিক ৬ শতাংশ। এয়ারলাইনসভিত্তিক হিসাবে আলাস্কা এয়ারলাইনসে আবহাওয়াজনিত বিলম্বের হার সর্বোচ্চ ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস, যার হার ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে হাওয়াইয়ান এয়ারলাইনসের ক্ষেত্রে এই হার ছিল সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে গবেষণার এসব শতাংশ সব ফ্লাইটের বিলম্বের হার নয়; বিলম্বিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে আবহাওয়াকে কারণ হিসেবে শনাক্ত করার অনুপাত। এদিকে চলতি বছরের ছুটির মৌসুমে বিমানভাড়াও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠান হপারের হিসাবে, থ্যাংকসগিভিং উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাউন্ড-ট্রিপ টিকিটের গড় দাম প্রায় ৪০২ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি। বড়দিনের সময় গড় ভাড়া প্রায় ৪৫২ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। আগামী ২৯ নভেম্বর এবং ২৭ ডিসেম্বর ফিরতি ভ্রমণের জন্য বিশেষ ব্যস্ত সময় হতে পারে। ফলে এসব দিনে টিকিটের দাম ও যাত্রীদের চাপ বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ সব ভ্রমণকারীর জন্য ছুটির মৌসুমে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। যাত্রার আগে এয়ারলাইনসের অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই, কানেক্টিং ফ্লাইটের মধ্যে পর্যাপ্ত সময় রাখা এবং সম্ভাব্য তুষারঝড় ও কুয়াশার পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের রিয়েল-টাইম ফ্লাইট স্ট্যাটাস ব্যবস্থার মাধ্যমেও বিমানবন্দরের পরিস্থিতি জানা যায়। তবে গবেষণার তালিকাটি অতীতের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি, আসন্ন ছুটির মৌসুমের নির্দিষ্ট ফ্লাইট বিলম্বের পূর্বাভাস নয়। সংবাদসূত্র: আপগ্রেডেড পয়েন্টস , হপার হলিডে ট্রাভেল ইনডেক্স।
ভবিষ্যত পরিবর্তন ঠেকাতে, হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ঘোষণা ট্রাম্পের
ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ডের টহল বাড়ানোর অনুমোদন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের
মিনেসোটায় নির্বাচনে জয়ী সোমালি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী, ডে-কেয়ারে অনিয়ম নিয়ে বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পিত ২৫০ ফুট উঁচু বিশাল স্মারক তোরণ নির্মাণে ফেডারেল প্যানেলের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই বাধা দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ন্যাশনাল ক্যাপিটাল প্ল্যানিং কমিশন আট-চার ভোটে প্রকল্পটি অনুমোদন করে। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পর ফেডারেল বিচারক তানিয়া চুটকান নির্মাণকাজ শুরুর ওপর ১৪ দিনের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রস্তাবিত স্মারক তোরণটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে পটোম্যাক নদীর কাছে মেমোরিয়াল সার্কেলে, আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারি ও আর্লিংটন মেমোরিয়াল ব্রিজের সংযোগস্থলে। এটি ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়ালের বিপরীত পাশে অবস্থিত। ফ্রান্সের প্যারিসে বিখ্যাত আর্ক দ্য ত্রিয়ম্ফের আদলে নির্মিতব্য তোরণটি উচ্চতায় সেটির চেয়েও প্রায় ৮০ ফুট বড় হবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং মার্কিন ইতিহাস ও সামরিক বাহিনীর অবদান তুলে ধরতেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চান ট্রাম্প। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তোরণের ওপর সোনালি রঙের ডানাওয়ালা নারী মূর্তি, ঈগলের প্রতিকৃতি এবং একটি চিরন্তন শিখা স্থাপন করা হবে। বৃহস্পতিবার প্রায় সাড়ে নয় ঘণ্টার শুনানি শেষে ন্যাশনাল ক্যাপিটাল প্ল্যানিং কমিশন প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা অনুমোদন করে। কমিশনের চেয়ারম্যান মার্ক পাওলেটা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয়, ইতিহাস ও গৌরব তুলে ধরতে এমন বিশাল স্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁর মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্যোগে নির্মিত তোরণটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঐতিহাসিক স্মারক হয়ে থাকবে। তবে শুনানিতে শতাধিক ব্যক্তি প্রকল্পের বিরোধিতা করেন। তাঁদের মধ্যে সাবেক সেনাসদস্য, ইতিহাসবিদ, স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারাও ছিলেন। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রকল্পটি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারির ঐতিহাসিক পরিবেশ, আশপাশের স্মৃতিসৌধের দৃশ্যমানতা এবং স্থানীয় যান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ডন বেয়ার অভিযোগ করেন, এই বিশাল তোরণ নির্মাণে দীর্ঘদিন সড়কে যানজট তৈরি হবে এবং কাছের রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের কার্যক্রমও প্রভাবিত হতে পারে। সমালোচকদের একাংশের দাবি, এটি জাতীয় বীরদের স্মরণ করার চেয়ে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রকল্পে পরিণত হচ্ছে। এদিকে প্রকল্পটি বন্ধের দাবিতে ওয়াশিংটন ডিসি ও ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্য যৌথভাবে মামলা করে। একই প্রকল্পের বিরুদ্ধে তিনজন ভিয়েতনাম যুদ্ধের সাবেক সেনাসদস্য ও একজন স্থাপত্য ইতিহাসবিদও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। মামলাকারীদের যুক্তি, কংগ্রেসের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া ফেডারেল জমিতে এ ধরনের বিশাল স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ আইনসম্মত নয়। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ১৯২৫ সালের একটি আইনের মাধ্যমে ওই এলাকায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের অনুমোদন আগেই দেওয়া হয়েছিল। তবে বিচারক তানিয়া চুটকান এই যুক্তির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রায় এক শতাব্দী আগের আইন দিয়ে বর্তমানের ২৫০ ফুট উঁচু তোরণ নির্মাণের অনুমোদন রয়েছে বলে দাবি করা যুক্তিসংগত নয়। নির্মাণ শুরু হলে সড়ক বন্ধ, যানজট, জরুরি সেবা পরিচালনায় সমস্যা এবং স্থানীয় প্রশাসনের অতিরিক্ত ব্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে বিচারক আপাতত ১৪ দিনের জন্য যেকোনো ধরনের নির্মাণ, খনন ও সড়ক বন্ধের কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে আগামী সোমবারের মধ্যে আদালতের নির্দেশনা মানার বিষয়ে প্রশাসনকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছিল, অনুমোদন পাওয়ার পরই নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু হতে পারে। পুরো প্রকল্প শেষ করতে প্রায় ৩৩ থেকে ৩৯ মাস সময় লাগার কথা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, তোরণটি সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার কাজেও ব্যবহার করা যেতে পারে। সেখানে ড্রোন ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের সুযোগ থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে আদালত জানিয়েছে, প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনায় জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত এসব যুক্তির পর্যাপ্ত সমর্থন পাওয়া যায়নি। ফলে ফেডারেল প্যানেলের অনুমোদন মিললেও আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নির্মাণকাজ শুরু করতে পারবে না ট্রাম্প প্রশাসন। সংবাদসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
স্কুলে যাওয়ার পথে আটক, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মার্কিন শিক্ষার্থীর কবজি ভাঙার অভিযোগে তদন্ত
অপমানের ভিডিও ভাইরাল, চার সন্তানের বাবার জন্য প্রায় ৮ লাখ ডলার দিলেন মানুষ