মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদের জয়ে ভারতের কর্ণাটকে উৎসব, ‘জামাইবাবু’র সাফল্যে উচ্ছ্বাস
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান থেকে প্রথম মুসলিম মার্কিন সিনেটর হিসেবে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল-সায়েদ। তার এই বিশাল বিজয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি উৎসবের ছোঁয়া লেগেছে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ভাটকলেও! কারণ, এল-সায়েদের স্ত্রী ডা. সারাহ জুকাকুর পরিবারের শেকড় প্রোথিত রয়েছে এই উপকূলীয় শহরেই। 'কর্ণাটকের জামাইবাবু'র এই সাফল্যে সারাহর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মাঝে এখন রীতিমতো আনন্দের জোয়ার বইছে।
এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সারাহর মামাতো ভাই জুকাকু শামসুদ্দিন জিয়া এবং চাচাতো বোন বিবি হুসনা জানিয়েছেন, ভোটের পুরোটা সময় চরম মানসিক চাপে থাকলেও বিজয়ের খবর শোনার পর তাদের আনন্দ বাঁধভাঙা রূপ নেয়। আত্মীয়স্বজনরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকায় পরিবারের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোই হয়ে উঠেছিল অভিনন্দনের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এল-সায়েদের সঙ্গে ভাটকলের সম্পর্ক অনেক পুরোনো। সারাহর বাবা ডা. তায়েব জুকাকু সবসময় সন্তানদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখতে চাইতেন। এক দশকেরও বেশি সময় আগে একটি পারিবারিক বিয়ে উপলক্ষে আবদুল এল-সায়েদ ভাটকলে এসেছিলেন এবং বেশ কয়েকদিন এখানে কাটিয়েছিলেন। আত্মীয়দের কাছে তিনি একজন অত্যন্ত বিনয়ী, অমায়িক এবং আড্ডাপ্রিয় মানুষ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ভাটকলের ঐতিহ্যবাহী বিরিয়ানি ও 'লোনমিরি' নামের স্থানীয় খাবারগুলো তার বেশ পছন্দের।
বেঙ্গালুরুতে বসবাসরত জিয়া এই বিজয়ের মাঝে তার প্রয়াত দাদা জুকাকু শামসুদ্দিনের স্মৃতি খুঁজে পান, যিনি একসময় মহীশূর রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন। তিনি মনে করেন, তার দাদার মতোই এল-সায়েদ জনসেবা ও সততার প্রতি দারুণভাবে দায়বদ্ধ। অন্যদিকে, বিবি হুসনা এই বিজয়কে কেবল ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে না দেখে, বরং এটিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইসলামোফোবিয়া, দুর্নীতি এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে একটি বড় জয় হিসেবেই দেখছেন। তবে বিপুল প্রত্যাশার এই নতুন পদে দায়িত্ব পালনকালে এল-সায়েদ ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা চিন্তিতও তারা। সব মিলিয়ে হাজার মাইল দূরের এক বড় রাজনৈতিক বিজয়ের সঙ্গে নিজেদের মাটির এই নিবিড় সংযোগে ভাটকলবাসী এখন গর্বিত ও উচ্ছ্বসিত।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে কয়েক দশক পর ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় আসার পরপরই অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। ‘নির্বাচনের ফলাফলের একটি গুরুত্ব আছে’ উল্লেখ করে শুক্রবার মার্কিন কেন্দ্রীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের (আইসিই) সঙ্গে শহরটির সহযোগিতা সীমিত করার এক আদেশে সই করেছেন হিউস্টনের মেয়র জন হুইটমায়ার। মঙ্গলবারের নির্বাচনের পর দেশের চতুর্থ বৃহত্তম শহরটির এই পদক্ষেপ মূলত আইসিই-এর ক্ষমতা খর্ব করার একটি ঐতিহাসিক ধাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নতুন এই নির্দেশনার আওতায়, হিউস্টনের পুলিশ এখন থেকে কেবল তখনই আইসিই-এর সঙ্গে যোগাযোগ করবে, যখন কোনো ব্যক্তিকে জেলযোগ্য অপরাধে গ্রেপ্তার করা হবে অথবা আইসিই-এর কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সই করা প্রশাসনিক পরোয়ানা থাকবে। মেয়র হুইটমায়ার স্পষ্ট জানিয়েছেন, যারা নিজেদের মতো সাধারণ জীবনযাপন, কাজ ও পড়াশোনা নিয়ে আছেন, তাদের কোনোভাবেই হয়রানি করা হবে না; বরং যারা সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ, কেবল তাদের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মতো অহিংস বা জেলযোগ্য নয় এমন অপরাধের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন পুলিশকে জড়ানো হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। এতে অভিবাসীদের ভয় ও উদ্বেগ অনেকটাই কমে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এমনকি শুধুমাত্র অবৈধ অভিবাসী হওয়ার সন্দেহে কাউকে আটকে রাখাও নতুন এই দুই পৃষ্ঠার আদেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিগত ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে হিউস্টনে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। চলতি গ্রীষ্মে এক মেক্সিকান নির্মাণকর্মীকে আইসিই কর্মকর্তার গুলি করে হত্যা এবং আরেক ব্যক্তিকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনায় সেখানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। গত সপ্তাহে মারিও আলবার্তো মোরালেস নামের এক আইসিই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগে মামলাও গঠন করেছে একটি গ্র্যান্ড জুরি। প্রসিকিউটরদের দাবি, মোরালেস ইচ্ছাকৃতভাবে মিগুয়েল পাররা হার্নান্দেজ নামের এক ব্যক্তির গায়ে গাড়ি তুলে দিয়েছিলেন, যার ফলে তার পা ভেঙে যায়। যদিও আইসিই দাবি করেছিল যে পাররা নিজেই গাড়ির সামনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, তবে ভিডিও ফুটেজে সেটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি চুক্তি সই করার মাধ্যমে আইসিই অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে ব্যাপকভাবে স্থানীয় প্রশাসনের ওপর নির্ভরশীল। বিগত দিনে টেক্সাসের রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসার কাছে টানা চতুর্থ মেয়াদের লড়াইয়ে পরাজিত হন। রাজনৈতিক এই পালাবদলের পর হিউস্টন শহরের এমন মানবিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন 'ফিয়েল' (FIEL)। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সিজার এস্পিনোসা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, "আজ হিউস্টনের জয় হয়েছে। সিটি কাউন্সিল কয়েক মাস আগেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আর এখন তা বাস্তবে রূপ দেওয়ার সময় এসেছে।"
হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ হচ্ছেন ট্রাম্পের কট্টর অভিবাসন উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১৩টি অ্যাপার্টমেন্টের হাউজিং লটারি, ভাড়া শুরু ২ হাজার ৪০ ডলার থেকে
নেশাগ্রস্ত ভাইয়ের হাত থেকে বাঁচতে পুলিশের সাহায্য, উল্টো গুলিবিদ্ধ নির্দোষ ভাই
ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের (Trump Organization) মালিকানাধীন এই চমৎকার বাড়িটি ভাড়া নিতে হলে প্রতি মাসে গুনতে হবে ১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার (যা আগে ১ লাখ ২২ হাজার ৫০০ ডলার চাওয়া হয়েছিল)। আর পুরো এক বছরের জন্য ভাড়া নিলে খরচ পড়বে ১.৩২ মিলিয়ন ডলার! ১৯৭৪ সালে নির্মিত এই বাড়িটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান গেস্টহাউস হিসেবে পরিচিত, যেখানে শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং তার পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা ছুটি কাটাতে আসেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের আগে ট্রানজিশন পিরিয়ডে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সপরিবারে কিছুদিন এই বাড়িতেই কাটিয়েছিলেন। ৪ হাজার ৭২ বর্গফুটের সম্পূর্ণ সুসজ্জিত (ফার্নিশড) এই বাড়িতে রয়েছে ৪টি বেডরুম, ৪টি বাথরুম, চোখ ধাঁধানো মেহগনি ও মার্বেল পাথরের মেঝে, একটি সুইমিং পুল এবং একটি প্রাইভেট হোম অফিস। তবে এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণীয় দিক হলো— বাড়ির পেছনের গেট খুললেই সরাসরি ট্রাম্পের 'উইন্টার হোয়াইট হাউস' খ্যাত মার-এ-লাগোতে প্রবেশ করা যায়! শুধু তাই নয়, যারা এখনও মার-এ-ল্যাগোর সদস্য নন, বাড়িটি ভাড়া নিলে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে ওই অতি-অভিজাত ক্লাবের সদস্যপদ পাওয়ার একটি সুবর্ণ সুযোগও মিলতে পারে। পাম বিচ আইল্যান্ডের সবচেয়ে দামি বাড়িগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। আটলান্টিকের তীরে ব্যক্তিগত সৈকতসহ এমন বিলাসবহুল প্রাসাদে ছুটি কাটানোর এই সুযোগ মার্কিন ধনকুবেরদের বেশ নজর কেড়েছে।
ফ্লোরিডায় ঋণের নোটিশ পেয়ে সিটিব্যাংকে নারীকে হ ত্যা, মেরিন সেনার গুলিতে নিহত হা মলাকারী
নিউইয়র্কে একই অ্যাপার্টমেন্টে বৃদ্ধ ও নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে গুলি করে হ ত্যা, আতঙ্কে বাসিন্দারা
যুক্তরাষ্ট্রে ৮৪৭ মিলিয়ন ডলারের লটারি জয়, আজীবন পরিচয় গোপন রাখতে পারবেন বিজয়ী
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। তবে নতুন নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সদস্যরা দায়িত্ব নেওয়ার আগে আরও প্রায় দুই মাস প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ থাকবে রিপাবলিকানদের হাতে। এই সময়ের মধ্যেই সরকারি শাটডাউন ঠেকানো, প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলো এগিয়ে নিতে চান দলটির নেতারা। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিশংসন ভোটও কংগ্রেসের শেষ সময়ের কার্যক্রমকে জটিল করে তুলতে পারে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ইয়াহু নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে। তবে নতুন কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হবে ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি। ফলে ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত বর্তমান রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেস আইন প্রণয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবে। নির্বাচনের পর থেকে নতুন কংগ্রেসের দায়িত্ব গ্রহণের আগের এই সময়কে মার্কিন রাজনীতিতে ‘লেম ডাক সেশন’ বলা হয়। নির্বাচনের রাতে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন দলীয় নেতাদের জানান, রিপাবলিকানদের কাজ এখনো শেষ হয়নি। আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) কংগ্রেসের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিল দ্রুত পাসের উদ্যোগ নিতে পারেন দলটির নেতারা। তাঁদের প্রথম অগ্রাধিকার হবে ফেডারেল সরকারের অর্থায়ন নিশ্চিত করা। বর্তমানে কার্যকর সাময়িক বাজেটের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১১ ডিসেম্বর। এর মধ্যে নতুন অর্থায়ন বিল অনুমোদিত না হলে ১২ ডিসেম্বর থেকে আবারও সরকারি শাটডাউন শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারি অর্থায়ন নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। রিপাবলিকান নেতারা বর্তমান ব্যয়ের কাঠামো আরও এক বছরের জন্য বহাল রাখার পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন বিলের পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন, যাতে জানুয়ারিতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নিজেদের অগ্রাধিকার অনুযায়ী বাজেট তৈরি করা যায়। সিনেটে অধিকাংশ সাধারণ অর্থায়ন বিল এগিয়ে নিতে ৬০ ভোট প্রয়োজন হওয়ায় রিপাবলিকানদের ডেমোক্র্যাটদের সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতিরক্ষা বাজেট। ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৭ সালের জন্য প্রায় দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক অর্থায়ন চেয়েছে। তবে ডেমোক্র্যাটদের একটি অংশ এই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর দাবি তুলেছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের জন্য বাড়তি অর্থ বরাদ্দ নিয়ে দুই দলের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত বার্ষিক নীতিমালা নির্ধারণকারী ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্টও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব বিষয়ে সমঝোতা না হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নতুন কংগ্রেসের ওপর ছেড়ে দিতে হতে পারে। এদিকে রিপাবলিকানদের একটি অংশ শেষ সময়ে বড় আকারের বাজেটসংক্রান্ত আইন পাসের পরিকল্পনা করছে। এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট আর্থিক বিষয়ে সিনেটের সাধারণ ফিলিবাস্টার এড়িয়ে দলীয় ভোটে আইন অনুমোদনের সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে ট্রাম্পের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতি, সামরিক ব্যয় এবং অন্যান্য আর্থিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের চেষ্টা হতে পারে। তবে নিজেদের দলের মধ্যেও মতবিরোধ থাকায় এমন উদ্যোগ সফল হবে কি না, তা অনিশ্চিত। অন্যদিকে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব পুনরায় উত্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। ইরান যুদ্ধ পরিচালনা ও সামরিক ক্ষমতা ব্যবহারের অভিযোগে হেগসেথের বিরুদ্ধে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ম্যাসি আগামী সপ্তাহেই প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের উদ্যোগ নিতে পারেন। তবে অভিশংসনের প্রস্তাব উত্থাপন করা মানেই সেটি অনুমোদিত হওয়া নয়। হেগসেথ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এ ছাড়া ট্রাম্প মনোনীত বিচারকদের নিয়োগ নিশ্চিত করা, জ্বালানি প্রকল্পের অনুমোদন সহজ করা, ক্রিপ্টোকারেন্সিসংক্রান্ত আইন এবং কলেজ ক্রীড়াব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয়ও রিপাবলিকানদের অগ্রাধিকারে রয়েছে। তবে হাতে সময় কম এবং রাজনৈতিক মতবিরোধ বেশি হওয়ায় সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে। জানুয়ারিতে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর তদন্ত ও নজরদারি বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
নিউইয়র্কের সাবওয়েতে গান গাইতে গিয়ে হেনস্তার শিকার শিল্পী, পাশে দাঁড়ালেন যাত্রীরা
যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৬৫ হাজার চাকরি বাড়লেও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে না কর্মীদের মজুরি