নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানীকে নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক মন্তব্য করার পর এনওয়াইপিডির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান নেতারা এই পদক্ষেপকে “রাজনৈতিক পক্ষপাত” বলে দাবি করলেও, সিটি প্রশাসন বলছে এটি পুলিশ বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা কর্মকর্তা হলেন এনওয়াইপিডির ক্যাপ্টেন জেমস উইলসন।তিনি ব্রুকলিনের ৯৪তম প্রিসিঙ্কটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে তাকে মেয়র মামদানিকে “an embarrassment” বা “লজ্জাজনক” বলতে শোনা যায়। একই ভিডিওতে তিনি নিউইয়র্কের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ভিডিওটি দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর এনওয়াইপিডি প্রশাসন তাকে ব্রঙ্কসে অবস্থিত ৯১১ কল সেন্টারে বদলি করে। এনওয়াইপিডির নীতিমালা অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক মন্তব্য করতে পারেন না। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও চলছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর রিপাবলিকান রাজনীতিক ও রক্ষণশীল নেতারা ক্যাপ্টেন উইলসনের পক্ষে অবস্থান নেন। তাদের দাবি, মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার প্রয়োগ করায় তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। কুইন্সের রিপাবলিকান কাউন্সিলওম্যান জোয়ান অরিওলা বলেন, “যদি একই ধরনের মন্তব্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে করা হতো, তাহলে হয়তো তাকে নায়ক হিসেবে তুলে ধরা হতো। কিন্তু মেয়র মামদানির সমালোচনা করায় এখন তাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
রিপাবলিকান নেতাদের অভিযোগ, নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করছে। তারা এটিকে “দুই ধরনের নিয়ম” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন—একটি কট্টর বামপন্থীদের জন্য, আরেকটি অন্যদের জন্য।
অন্যদিকে মেয়র মামদানি দাবি করেছেন, ক্যাপ্টেন উইলসনের বদলির সিদ্ধান্তে তার কোনো ব্যক্তিগত ভূমিকা ছিল না। তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ এনওয়াইপিডির প্রশাসনিক বিষয়।” তবে বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানীকে নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক মন্তব্য করার পর এনওয়াইপিডির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান নেতারা এই পদক্ষেপকে “রাজনৈতিক পক্ষপাত” বলে দাবি করলেও, সিটি প্রশাসন বলছে এটি পুলিশ বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা কর্মকর্তা হলেন এনওয়াইপিডির ক্যাপ্টেন জেমস উইলসন।তিনি ব্রুকলিনের ৯৪তম প্রিসিঙ্কটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে তাকে মেয়র মামদানিকে “an embarrassment” বা “লজ্জাজনক” বলতে শোনা যায়। একই ভিডিওতে তিনি নিউইয়র্কের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর এনওয়াইপিডি প্রশাসন তাকে ব্রঙ্কসে অবস্থিত ৯১১ কল সেন্টারে বদলি করে। এনওয়াইপিডির নীতিমালা অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক মন্তব্য করতে পারেন না। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও চলছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর রিপাবলিকান রাজনীতিক ও রক্ষণশীল নেতারা ক্যাপ্টেন উইলসনের পক্ষে অবস্থান নেন। তাদের দাবি, মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার প্রয়োগ করায় তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। কুইন্সের রিপাবলিকান কাউন্সিলওম্যান জোয়ান অরিওলা বলেন, “যদি একই ধরনের মন্তব্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে করা হতো, তাহলে হয়তো তাকে নায়ক হিসেবে তুলে ধরা হতো। কিন্তু মেয়র মামদানির সমালোচনা করায় এখন তাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।” রিপাবলিকান নেতাদের অভিযোগ, নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করছে। তারা এটিকে “দুই ধরনের নিয়ম” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন—একটি কট্টর বামপন্থীদের জন্য, আরেকটি অন্যদের জন্য। অন্যদিকে মেয়র মামদানি দাবি করেছেন, ক্যাপ্টেন উইলসনের বদলির সিদ্ধান্তে তার কোনো ব্যক্তিগত ভূমিকা ছিল না। তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ এনওয়াইপিডির প্রশাসনিক বিষয়।” তবে বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি সম্মেলন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (FOBANA)-এর ৪০তম কনভেনশন এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই বৃহৎ মিলনমেলাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে আয়োজকরা। আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর লেবার ডে ছুটির সপ্তাহে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে বিখ্যাত Hilton Los Angeles / Universal City হোটেলে। কনভেনশনের হোস্ট সংগঠন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (BAC)। আয়োজকরা বলছেন, ফোবানার ৪০তম আয়োজনকে স্মরণীয় ও ব্যতিক্রমধর্মী করতে নেওয়া হয়েছে নানা পরিকল্পনা। “উত্তরণের পথে আগামীর প্রত্যয়ে প্রবাস বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের ফোবানা আয়োজন করা হচ্ছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে তুলে ধরা, উত্তর আমেরিকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি আরও শক্তিশালী করা এবং মূলধারার আমেরিকান সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবস্থান আরও সুদৃঢ় করাই এবারের কনভেনশনের মূল লক্ষ্য। আয়োজকদের প্রকাশিত বিভিন্ন কমিটি ও প্রস্তুতি কার্যক্রম থেকে জানা গেছে, এবারের কনভেনশনে থাকছে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বাংলাদেশ ও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে গালা নাইট, ব্যবসা ও বিনিয়োগ বিষয়ক সেমিনার, যুব নেতৃত্ব ও নারী নেতৃত্ব বিষয়ক আলোচনা, স্বাস্থ্য ও ওয়েলনেস সেশন, স্কলারশিপ ও শিক্ষা কার্যক্রম, সাহিত্য জলসা, মিডিয়া ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক সেশন, কমিউনিটি অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিনিময় সভা, শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ফ্যাশন শো ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক প্রদর্শনী, বাংলাদেশি খাবারের ফুড ফেস্টিভ্যাল, বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক্সপো বুথ, মিডিয়া ও কমিউনিটি নেটওয়ার্কিং কার্যক্রম, আইনি ও কমিউনিটি সহায়তা বিষয়ক আলোচনা এবং ফান্ডরেইজিং কার্যক্রম। এছাড়াও ফোবানা কনভেনশন উপলক্ষে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রচারণা, প্রস্তুতি সভা এবং কমিটি গঠনের কাজও চলছে। আয়োজকরা আশা করছেন, এবারের কনভেনশনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং বাংলাদেশ থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি, বিশিষ্ট অতিথি, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও কমিউনিটি নেতারা অংশ নেবেন। ফোবানার চেয়ারম্যান রবিউল করিম বেলাল, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ, ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন, মেম্বার সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল এবং আয়োজক কমিটির সভাপতি মোয়াজ্জেম চৌধুরীসহ নেতারা জানিয়েছেন, এবারের আয়োজনকে আরও বৃহৎ, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক করতে ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে হলিউড, ইউনিভার্সাল স্টুডিও এবং ইউনিভার্সাল সিটির কাছাকাছি ভেন্যু হওয়ায় এবারের কনভেনশন নিয়ে প্রবাসীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিশ্বের বিনোদন রাজধানী হিসেবে পরিচিত লস অ্যাঞ্জেলেসে আয়োজিত এবারের ফোবানা সম্মেলন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতায় পরিণত হবে। উল্লেখ্য, গত বছর ফোবানা কনভেনশন জর্জিয়ার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেটি ব্যাপক সফলতা পায়। দেশ-বিদেশের শিল্পী, কমিউনিটি নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি ছিল প্রাণবন্ত ও দর্শকপূর্ণ। সেই সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবার লস অ্যাঞ্জেলেস কনভেনশনকে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই মনে করছেন, ফোবানা শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; বরং এটি উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি পরিচয়, ঐক্য, সংস্কৃতি ও কমিউনিটির শক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের চিরচেনা ট্রাফিক জট থেকে মুক্তি দিতে দীর্ঘ ২৫ বছর পর শহরে নতুন সাবওয়ে (ভূগর্ভস্থ ট্রেন) স্টেশন চালু হয়েছে। ১২ মাইলের যে পথ পাড়ি দিতে ব্যস্ত সময়ে ১ থেকে ২ ঘণ্টা সময় লাগত, এখন পাতালপথে মাত্র ২১ মিনিটে সেই গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ সালের অলিম্পিক গেমসের কথা মাথায় রেখে এই প্রকল্পকে লস অ্যাঞ্জেলেসের যাতায়াত ব্যবস্থায় একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শহরটির ডাউনটাউন থেকে বেভারলি হিলস পর্যন্ত বিস্তৃত এই সাবওয়েটি ‘ডি লাইন’ (D Line) নামে পরিচিত। গত শুক্রবার জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বর্ধিত অংশের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হলিউড তারকাদের উপস্থিতি এবং ‘রাইড দ্য ডি’ (Ride the D) লেখা টি-শার্ট পরিহিত কয়েকশ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এই উপলক্ষে সপ্তাহজুড়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেট্রো ব্যবস্থা সবার জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস মেট্রোর প্রধান প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অফিসার টিম লিন্ডহোম বলেন, "গড়পড়তা নাগরিকদের কাছে এটি অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে যে, ইউনিয়ন স্টেশন থেকে বেভারলি হিলস এখন মাত্র ২১ মিনিটের পথ। এটি শহরটির পরিবহন ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক।" পুরো প্রকল্পটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে মিরাকল মাইল এলাকার তিনটি স্টেশন চালু হয়েছে, যা ল্যাকমা (Lacma) এবং একাডেমি মিউজিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে যুক্ত করেছে। আগামী বছর পরবর্তী দুটি ধাপ শেষ হলে সাবওয়েটি সরাসরি ইউসিএলএ (UCLA) এবং ওয়েস্ট লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত পৌঁছাবে। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের পরিকল্পনা সেই ১৯৬০-এর দশকে করা হলেও বিভিন্ন আইনি জটিলতা এবং মাটির নিচের কঠিন স্তরের কারণে বারবার থমকে গিয়েছিল। বিশেষ করে ‘লা ব্রিয়া’র মতো পিচ্ছিল আলকাতরার খনি এবং মাটির নিচে গ্যাস বিস্ফোরণের ঝুঁকির কারণে খনন কাজ বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। এমনকি খনন চলাকালে উলিম্যামথ এবং আমেরিকান বাইসনের মতো কয়েকশ প্রাচীন প্রাণীর জীবাশ্ম উদ্ধার করা হয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, পরিচ্ছন্ন এবং নিরাপদ এই মেট্রো সেবা কেবল পর্যটকদের জন্যই নয়, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও গণপরিবহনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনবে। বিশ্বব্যাপী চোখ যখন লস অ্যাঞ্জেলেসের দিকে, তখন এই আধুনিক সাবওয়ে শহরটির ভবিষ্যৎ যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।