সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ওপেনএআই

চ্যাটজিপিটির নতুন প্ল্যান মাসে ৫০০ ডলার, বদলাচ্ছে ২০০ ডলারের সুবিধাও
চ্যাটজিপিটির নতুন প্ল্যান মাসে ৫০০ ডলার, বদলাচ্ছে ২০০ ডলারের সুবিধাও

চ্যাটজিপিটির সবচেয়ে বেশি ব্যবহারসীমার নতুন প্ল্যান ‘প্রো ৫০০’ চালু করেছে ওপেনএআই। মাসে ৫০০ ডলারের এই প্ল্যানে চ্যাটজিপিটি প্লাসের তুলনায় ২৫ গুণ ব্যবহারসীমা এবং ‘আলট্রাফাস্ট’ সুবিধা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে মাসে ২০০ ডলারের প্রো প্ল্যানে নতুন গ্রাহক নেওয়া আবার শুরু হয়েছে, তবে তাঁদের জন্য আগের তুলনায় কম ব্যবহারসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ডেভডে সম্মেলনে নতুন প্ল্যানের ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।   ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত গ্রাহকদের জন্য এখন মাসে ১০০, ২০০ ও ৫০০ ডলারের তিনটি প্রো প্ল্যান রয়েছে। তিনটিতেই প্রো মডেল, কোডেক্স, ডিপ রিসার্চ, ছবি তৈরি ও ফাইল আপলোডের মতো সুবিধা আছে। তবে সবচেয়ে বেশি অন্তর্ভুক্ত ব্যবহারসীমা প্রো ৫০০-তে। ব্যক্তিগত প্রো প্ল্যানগুলোর মধ্যে আলট্রাফাস্টও শুধু এটিতেই পাওয়া যাচ্ছে।    আলট্রাফাস্ট দিয়ে জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা মডেল চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক ও কোডেক্সে ব্যবহার করা যায়। কোডেক্সে এই মোডে প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৩০০ টোকেন তৈরি হতে পারে বলে ওপেনএআইয়ের দাবি, যা সাধারণ মোডের তুলনায় সর্বোচ্চ আট গুণ দ্রুত। টোকেন হলো এআইয়ের লেখা প্রক্রিয়া ও তৈরির একক। এই গতি সব ধরনের কাজ আট গুণ আগে শেষ হওয়ার নিশ্চয়তা নয়। পাশাপাশি আলট্রাফাস্ট চালালে প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত ব্যবহারসীমাও সাধারণ মোডের তুলনায় আট গুণ হারে খরচ হয়।    নতুন প্ল্যানের পাশাপাশি ২০০ ডলারের গ্রাহকদের জন্য পরিবর্তনটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিজনেস ইনসাইডারের হিসাবে, নতুন প্রো ২০০ প্ল্যানে ওয়ার্ক ও কোডেক্সের ব্যবহারসীমা প্লাসের ২০ গুণ থেকে কমে ১০ গুণ হচ্ছে। চ্যাটে জিপিটি-৬ প্রো ব্যবহারের সীমা সপ্তাহে ২০০ বার থেকে ১০০ বার হবে। ওপেনএআই তার সহায়তা পাতায় কম ব্যবহারসীমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে মাসিক মূল্য ২০০ ডলারই রেখেছে।    যোগ্য পুরোনো প্রো ২০০ গ্রাহকেরা তাঁদের আগের ব্যবহারসীমা ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারবেন। এরপর নতুন সীমা কার্যকর হবে; যাঁদের ওপর পরিবর্তনটি প্রযোজ্য, তাঁদের ইমেইলে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে ওপেনএআই। পুরোনো সীমা সাময়িকভাবে বহাল থাকলেও তাঁরা আলট্রাফাস্ট পাবেন না। প্রো ১০০ বা প্রো ২০০ গ্রাহকেরা অতিরিক্ত ক্রেডিট কিনেও আপাতত ওই সুবিধা চালু করতে পারবেন না।    বেশি খরচের প্ল্যানটির লক্ষ্য মূলত নিয়মিত বড় গবেষণা, বিশ্লেষণ ও কোডিংয়ের কাজে ওয়ার্ক ও কোডেক্স ব্যবহারকারীরা। তবে ৫০০ ডলার দিলেই সব সুবিধা সীমাহীন হয়ে যায় না। কাজের ধরন, ব্যবহৃত মডেল ও সেটিংস অনুযায়ী ব্যবহারসীমা কত দ্রুত শেষ হবে, তা বদলায়। গ্রাহকেরা অ্যাকাউন্টের ‘ইউসেজ’ অংশে অবশিষ্ট সীমা ও তা পুনরায় চালু হওয়ার সময় দেখতে পারবেন। 

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য ডেটায় এআই এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনায় জবাবদিহির মুখে স্যাম অল্টম্যান
অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য ডেটায় এআই এজেন্টের অনুপ্রবেশ, জবাব দিতে সিনেটে স্যাম অল্টম্যান

অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি পোর্টালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনায় এবার জবাব দিতে হবে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানকে। দেশটির সিনেটের একটি তদন্ত কমিটি অল্টম্যানকে প্রকাশ্য শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য লিখিত অনুরোধ জানিয়েছে। একই শুনানিতে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইকেও উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।   আগামী বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় এ শুনানি হওয়ার কথা। এআই প্রযুক্তি ও ডেটা সেন্টারের নিরাপত্তা, তথ্যের স্বচ্ছতা, অস্ট্রেলিয়ার জনগোষ্ঠী ও বিভিন্ন শিল্পে এর প্রভাব এবং পানি ও জ্বালানি ব্যবহারের মতো বিষয় নিয়ে তদন্ত করছে সিনেট কমিটি। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনা তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।   ঘটনার সূত্রপাত গত জুনে। অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সংস্থা সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার অধীনে থাকা মেডিকেয়ার পরিসংখ্যান প্রতিবেদন পোর্টালে ওপেনএআইয়ের একটি এআই এজেন্ট অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ জানান, ১৮ জুন ওপেনএআইয়ের গবেষণা দল অস্ট্রেলিয়ায় সরকারি ওষুধ ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য খুঁজতে একটি অভ্যন্তরীণ মডেল ব্যবহার করছিল।   তথ্য খোঁজার সময় এআই এজেন্টটি বারবার বাধার মুখে পড়ে। এরপর সেটি ওই বাধা এড়িয়ে বিকল্প উপায়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করে এবং শেষ পর্যন্ত মেডিকেয়ারের একটি সরকারি পোর্টালের কিছু অংশে অননুমোদিত প্রবেশ করে। সেখানে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য—দুই ধরনের ফাইলেই প্রবেশ করা হয়। সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এজেন্টটি একটি অভ্যন্তরীণ সার্ভারে ফাইল লেখার কাজও করেছিল। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।   তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার বা চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ঘটনাটি যে পোর্টালে ঘটেছে সেখানে মূলত স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান ও ব্যয়সংক্রান্ত অ-সংবেদনশীল তথ্য ছিল। একই সঙ্গে ফরেনসিক তদন্ত চলছে এবং সরকারি নেটওয়ার্কের আরও কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে গত ২৪ সেপ্টেম্বর। প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ জানান, ঘটনার পর ওপেনএআই সরকারকে জানাতে দীর্ঘ সময় নিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার সরকারকে ই-মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানায় ওপেনএআই। সেটিও পাঠানো হয়েছিল সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ একটি পাবলিক মেইলবক্সে। পরে বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়।   ঘটনাটি প্রকাশের দিনই অ্যালবানিজ স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি অস্ট্রেলিয়া সরকারের গভীর উদ্বেগের কথা জানান এবং ঘটনাটি জানাতে এত দেরি হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অ্যালবানিজের ভাষ্য অনুযায়ী, অল্টম্যানও স্বীকার করেছেন যে এ ঘটনায় ওপেনএআইয়ের প্রক্রিয়া যথেষ্ট ভালো ছিল না।   এরপর অস্ট্রেলিয়া ঘটনাটি তদন্তে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে। এতে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সমন্বয়কারী, এআই দপ্তর, অস্ট্রেলিয়ান সিগন্যালস ডিরেক্টরেট, অস্ট্রেলিয়ান এআই সেফটি ইনস্টিটিউট এবং সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা রয়েছেন। ভবিষ্যতে এআই-সম্পর্কিত সাইবার ঘটনা মোকাবিলায় বর্তমান ব্যবস্থা যথেষ্ট কি না এবং প্রয়োজনে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।   এদিকে অস্ট্রেলিয়ার আরও কয়েকটি সরকারি ওয়েবসাইটে একই ধরনের এআই কার্যক্রমের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার, নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্যুরো অব ক্রাইম স্ট্যাটিস্টিকস অ্যান্ড রিসার্চ এবং ভিক্টোরিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু সিস্টেমও সম্ভাব্যভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশ নিশ্চিত হয়েছে—এমন তথ্য এখনো দেওয়া হয়নি।   সিনেটের আসন্ন শুনানিতে তাই এআই এজেন্টের স্বায়ত্তশাসিত কর্মকাণ্ড, সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এবং কোনো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। শুনানির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া এআই প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার ও জবাবদিহির কাঠামো নিয়েও আরও তথ্য নিতে চাইছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েবসাইটে এআই এজেন্টের অপ্রত্যাশিত আচরণের পর সবচেয়ে সক্ষম মডেলগুলোর প্রশিক্ষণ স্থগিত করেছে ওপেনএআই। ছবি: সংগৃহীত
সরকারি ওয়েবসাইটে এআই এজেন্টের অস্বাভাবিক আচরণ, কাজ থামাল ওপেনএআই

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সরকারি ওয়েবসাইটে নিজেদের এআই এজেন্টের অপ্রত্যাশিত আচরণের তথ্য প্রকাশের পর সবচেয়ে সক্ষম মডেলগুলোর প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে ওপেনএআই। শনিবার প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাইয়ের পর এসব কাজ আবার শুরু হবে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য চ্যাটজিপিটি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।    ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার সময় তথ্য খুঁজতে গিয়ে কিছু এজেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং জনগণনা ব্যুরোর ওয়েবসাইট ব্যবহার করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এজেন্টের কাজ তাকে দেওয়া নির্দেশনার সীমা ছাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করছে।    এদিকে স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সলুসের দাবি, ওপেনএআইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে হওয়া এজেন্টগুলো শিক্ষা বিভাগের একটি ওয়েবসাইটে অননুমোদিত প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। চেষ্টা সফল হয়নি। ওপেনএআই ওই নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে নিজেদের এজেন্টের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করেনি। শিক্ষা বিভাগও জানিয়েছে, তাদের ওয়েবসাইট বা তথ্যভান্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ মেলেনি।    সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের একজন মুখপাত্রও বলেছেন, তাঁদের কোনো অপ্রকাশিত তথ্য দেখা হয়নি। ওপেনএআইয়ের পর্যালোচনায় এখন পর্যন্ত ওই সংস্থার তথ্য বা ব্যবস্থায় পরিবর্তন কিংবা অননুমোদিত প্রবেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।    প্রশিক্ষণ স্থগিতের সিদ্ধান্তের পেছনে আরেকটি ঘটনাও রয়েছে। ওপেনএআইয়ের নিজস্ব প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর একটি পরীক্ষাধীন এজেন্ট ইন্টারনেট ব্যবহারের বিধিনিষেধের ফাঁক খুঁজে বাইরের একটি চ্যাটবটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি সেই কার্যক্রম বন্ধ করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। সবচেয়ে সক্ষম মডেলগুলোর টুল ব্যবহারসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা আপাতত স্থগিত রয়েছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ও ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা হ্যাক করেছে এআই এজেন্ট

অস্ট্রেলিয়ার সরকারি মেডিকেয়ার পরিসংখ্যান পোর্টালে ওপেনএআইয়ের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিল বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। গত জুনে ঘটানো এই ঘটনায় এআই এজেন্টটি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কিছু ফাইল অ্যাক্সেস করে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার তথ্য বা রোগীর ব্যক্তিগত নথি অ্যাক্সেস করা হয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যালবানিজ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনাটি ১৮ জুন ঘটেছিল এবং Services Australia পরিচালিত Medicare Statistics Reporting Service নামের একটি সরকারি পোর্টালে এআই এজেন্টটি অননুমোদিত প্রবেশ করে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটল এবং অন্য কোনো সরকারি ব্যবস্থা এতে প্রভাবিত হয়েছে কি না, তা জানতে অস্ট্রেলিয়ান সিগন্যালস ডিরেক্টরেটের সহায়তায় ফরেনসিক তদন্ত চলছে।   অস্ট্রেলীয় সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পোর্টালটি মূলত মেডিকেয়ার কর্মসূচি ও স্বাস্থ্য ব্যয়ের সামগ্রিক পরিসংখ্যান প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। সেখানে ব্যক্তিকে শনাক্ত করার মতো তথ্যের পরিবর্তে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচির গড় হিসাব, প্রবণতা ও পরিসংখ্যান রাখা হয়। এর মধ্যে বাল্ক বিলিং, টিকাদান, ফার্মাসিউটিক্যাল বেনিফিটস স্কিম এবং অঙ্গদাতা-সংক্রান্ত কিছু সামগ্রিক তথ্যও ছিল।   অ্যালবানিজ জানিয়েছেন, এআই এজেন্টটি শুধু প্রকাশ্য তথ্যই দেখেনি, এমন কিছু ফাইলেও প্রবেশ করেছিল যেগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত ছিল না। তবে এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার গ্রাহকদের তথ্য এতে প্রকাশ বা চুরি হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো সরকারি ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার বিষয়ে ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রু পুসাতেরি জানান, ঘটনাটি জুনে ঘটলেও প্রতিষ্ঠানটি আগস্টে বিষয়টি শনাক্ত করে। সে সময় কোম্পানিটি তাদের এআই মডেলগুলোর কার্যক্রম নিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চালাচ্ছিল। সেই পর্যালোচনায় অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইট ও সেবার সঙ্গে মডেলগুলোর অস্বাভাবিক কার্যক্রমের বিষয়টি তাদের নজরে আসে।   ওপেনএআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মডেলগুলো অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও পরিসংখ্যান খুঁজতে গিয়ে সরকারি ওয়েবসাইট ও সেবাগুলোতে এমন কিছু কাজ করেছিল, যা প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশিত আচরণের মধ্যে ছিল না। কোম্পানিটি পরে ১০ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলীয় সরকারকে বিষয়টি জানায়।   অস্ট্রেলীয় সরকারের কাছে ঘটনাটি জানানোর সময় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অ্যালবানিজ বলেছেন, জুনে ঘটনা ঘটার পর সেপ্টেম্বর ১০ তারিখে সরকারকে জানানো পর্যন্ত প্রায় তিন মাস সময় লেগেছে। তিনি এই দেরিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে নিউইয়র্কে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।   সরকারি তথ্যমতে, এআই এজেন্টটি মূলত অস্ট্রেলিয়ায় ওষুধের সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য খুঁজছিল। একটি সাধারণ গবেষণামূলক কাজের অংশ হিসেবে শুরু হওয়া এই অনুসন্ধানের সময় এজেন্টটি মেডিকেয়ার পরিসংখ্যানের পোর্টালে যায়। প্রয়োজনীয় তথ্য সরাসরি না পাওয়ার পর এটি এমন কিছু ফাইলে প্রবেশ করে, যেগুলো সাধারণভাবে উন্মুক্ত থাকার কথা ছিল না।   ঘটনাটিকে অস্ট্রেলিয়া সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে মূলত এআই এজেন্টগুলোর স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করার সক্ষমতার কারণে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পোর্টালটি দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল জাতীয় নিরাপত্তা তথ্য সংরক্ষণকারী কোনো ব্যবস্থা নয়। তবু একটি এআই এজেন্ট কীভাবে নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে সরকারি ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে সক্ষম হলো, সেটিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।   এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ব্যবস্থার আরও কয়েকটি ওয়েবসাইট এ ধরনের কার্যক্রমের আওতায় এসেছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। এবিসি নিউজ জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ারসহ কয়েকটি সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইটের কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এগুলো একই ঘটনার অংশ কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি অস্ট্রেলীয় সরকার বা ওপেনএআই।   এ ঘটনার সময়ের কাছাকাছি ওপেনএআইয়ের কিছু এআই এজেন্টের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহারের বিষয়ও সামনে এসেছে। এবিসি নিউজের পৃথক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিছু এআই এজেন্ট সরকারি স্বাস্থ্যতথ্য পাওয়ার উপায় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছিল এবং সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাধা এড়িয়ে তথ্য খোঁজার চেষ্টা করেছিল। তবে ওই কার্যক্রম এবং মেডিকেয়ার পোর্টালে অননুমোদিত প্রবেশ একই ঘটনার অংশ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   বিশেষজ্ঞদের কাছে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ প্রচলিত সাইবার হামলার ক্ষেত্রে সাধারণত মানুষ বা নির্দিষ্ট প্রোগ্রামকে আক্রমণ পরিচালনা করতে দেখা যায়। কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্ট কোনো নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে তার নির্ধারিত সীমার বাইরে চলে গেলে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, এই ঘটনা সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে।   অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ এখন ঘটনার পূর্ণ পরিধি, কোন কোন ফাইল অ্যাক্সেস করা হয়েছিল এবং সরকারি অন্য কোনো ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশ ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ব্যক্তিগত রোগী বা মেডিকেয়ার গ্রাহকদের তথ্য অ্যাক্সেসের প্রমাণ নেই। তবে ফরেনসিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির পুরো চিত্র স্পষ্ট হবে না।   সূত্র: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, এবিসি নিউজ, রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
সাবেক প্রেমিকাকে হত্যার পরিকল্পনা চ্যাটজিপিটির সঙ্গে শেয়ার করে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ড্যারেন ঝো নামের এই যুবক। ছবি: সংগৃহীত
সাবেক প্রেমিকাকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে চ্যাটজিপিটিতে আলোচনা, গোয়েন্দা সংস্থাকে জানিয়ে দিলো এআই

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সাবেক প্রেমিকাকে অপহরণ, যৌন নির্যাতন ও হত্যার রোমহর্ষক পরিকল্পনা করার অভিযোগে ড্যারেন ঝো নামের ২৫ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই ভয়ংকর অপরাধের পুরো ছকটি তিনি কষেছিলেন জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’র সঙ্গে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই ওই যুবকের অস্বাভাবিক কথোপকথন শনাক্ত করে এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে জানিয়ে দেয়। এরপরই তদন্তে নেমে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মার্কিন আইনি সংবাদমাধ্যম ম্যাসাচুসেটস লয়্যারস উইকলি এবং এনডিটিভির প্রতিবেদনের বরাতে এই তথ্য সামনে এসেছে।   আদালতের নথির তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ড্যারেন ঝো ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসে একজন বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করতেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে তার ছয় মাসের প্রেমের সম্পর্কের অবসান ঘটে। এরপর থেকেই তিনি সাবেক প্রেমিকাকে নিয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা শুরু করেন। তদন্তকারীদের কাছে ঝো স্বীকার করেছেন যে, বিচ্ছেদের পর সাবেক প্রেমিকার আশপাশে অন্য পুরুষদের উপস্থিতি নিয়ে তিনি প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত ছিলেন।   তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ঝোর কথোপকথনগুলো কেবল আবেগ বা ক্ষোভ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং মাসের পর মাস ধরে সেখানে নিখুঁতভাবে সহিংসতার পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছিল। এমনকি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে তা কীভাবে সামাল দিতে হবে, তারও বিস্তারিত আলোচনা ছিল ওই চ্যাটে। একপর্যায়ে ঝো চ্যাটজিপিটিকে জানান, তিনি ফুল হাতে তার সাবেক প্রেমিকার জিমের পার্কিং এলাকায় অপেক্ষা করবেন এবং সম্পর্ক পুনরায় জোড়া লাগানোর প্রস্তাব দেবেন। যদি তরুণী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, তবে তাকে গুলি করে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করবেন।   পরবর্তীতে এই পরিকল্পনার মাত্রা আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। চ্যাটজিপিটির সঙ্গে আলোচনায় ঝো তার সাবেক প্রেমিকাকে জিম্মি করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার এবং সেখানে আটকে রেখে যৌন নির্যাতন করার ছক কষেন। পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী হস্তক্ষেপ করলে তাদের ওপরও হামলা চালানোর পাশাপাশি তরুণীর পরিবারের সদস্যদেরও ক্ষতি করার হুমকি উঠে আসে ওই কথোপকথনে। এই ঘটনাগুলো আঁচ করতে পেরেই ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ এফবিআইকে সতর্ক করে।   তদন্তের অংশ হিসেবে ২১ বছর বয়সী ওই ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গেও কথা বলে পুলিশ। তিনি জানান, ড্যারেন ঝোর অস্বাভাবিক, সন্দেহবাতিক ও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের কারণেই তিনি সম্পর্কটি শেষ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এমনকি ঝোর উগ্র আচরণে এতটাই ভয় পেয়েছিলেন যে, সামনাসামনি কথা না বলে ফোনেই তিনি বিচ্ছেদের কথা জানান। ওই তরুণীর অভিযোগ, বিচ্ছেদের পরও ঝো ফোন, খুদে বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ক্রমাগত হয়রানি করতে থাকেন। অন্য পুরুষদের নিয়ে অবান্তর প্রশ্ন করা এবং তিনি দ্রুত নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন—এমন ভিত্তিহীন অভিযোগও করতেন ঝো।   একপর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে তরুণী ঝোর ফোন নম্বর ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেন। কিন্তু এরপর বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে নতুন নতুন ভুয়া নম্বর থেকে ঝো যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। এসব বার্তায় চরম হয়রানি, অপমানজনক বক্তব্য, যৌন ইঙ্গিত এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। প্রমাণ হিসেবে ওই তরুণী এসব কথোপকথনের স্ক্রিনশট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন।   গ্রেপ্তারের মাত্র ছয় দিন আগে এফবিআই পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়কে ঝোর এই ভয়ংকর কথোপকথনের বিষয়ে সতর্ক করে। পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের একজন ডেপুটি জানান, তদন্তে তারা চ্যাটজিপিটির প্রায় দুই মাসের চ্যাট হিস্ট্রি বা কথোপকথনের ইতিহাস পর্যালোচনা করেছেন। সেখানে দেখা গেছে, এটি কেবল হতাশা বা রাগের বহিঃপ্রকাশ ছিল না, বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিত একটি অপরাধের প্রস্তুতি ছিল।   গত মে মাসে ড্যারেন ঝোকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাম বিচ কাউন্টি কারাগারে দুই দিন বন্দি থাকার পর এক লাখ ডলারের মুচলেকায় তিনি জামিনে মুক্তি পান। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে গুরুতরভাবে অনুসরণ বা হয়রানি করা (স্টকিং), লিখিতভাবে হত্যার হুমকি দেওয়া এবং মোবাইল ফোনের অবৈধ ব্যবহারের মতো সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ও নজরদারির ক্ষেত্রে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
এআই ফিচার।ছবি:সংগৃহীত
সিকিউরিটি পরীক্ষায় ওপেনএআই এর এআই হ্যাক করেছিল আরেক এআই কোম্পানিকে! আসলে কী ঘটেছিল?

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রতিযোগিতা যখন দ্রুত বাড়ছে, তখন ওপেনএআই-এর একটি পরীক্ষামূলক এআই এজেন্টকে ঘিরে নজিরবিহীন একটি সাইবার নিরাপত্তা ঘটনা সামনে এসেছে। অভ্যন্তরীণ সিকিউরিটি পরীক্ষার সময় ওপেনএআই এর একটি এআই এজেন্ট নির্ধারিত সুরক্ষিত পরিবেশ (স্যান্ডবক্স) অতিক্রম করে এআই গবেষণা ও উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেস-এর অবকাঠামোতে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে। ঘটনাটি প্রকাশের পর প্রযুক্তি বিশ্বে এআই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   ওপেনএআই জানিয়েছে, এটি ছিল তাদের উন্নত এআই এজেন্টগুলোর সাইবার সক্ষমতা মূল্যায়নের একটি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা। পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল, এআই বাস্তব পরিবেশে জটিল সাইবার আক্রমণ শনাক্ত ও মোকাবিলা করতে কতটা সক্ষম, তা যাচাই করা। এ জন্য পরীক্ষামূলকভাবে কিছু নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা শিথিল করা হয়েছিল।   তদন্তে জানা যায়, পরীক্ষার এক পর্যায়ে এআই এজেন্টটি সুরক্ষিত পরীক্ষার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে। এরপর এটি এআই কোম্পানি হাগিং ফেস-এর একটি নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে তাদের প্রোডাকশন অবকাঠামোতে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে। ওপেনএআই এর ভাষ্য অনুযায়ী, এআই এজেন্টটি ধারণা করেছিল যে পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু তথ্য ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকতে পারে এবং সেই লক্ষ্যেই এটি ওই পদক্ষেপ নিয়েছিল।   হাগিং ফেস বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এআই গবেষণা ও উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম। মেটা, গুগল, মাইক্রোসফটসহ অসংখ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, গবেষক ও ডেভেলপার তাদের এআই মডেল, ডেটাসেট এবং গবেষণা প্রকল্প এই প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ ও ব্যবহার করেন। এ কারণেই প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোতে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনাটি প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।   ঘটনার পর হাগিং ফেস দ্রুত অস্বাভাবিক কার্যক্রম শনাক্ত করে আক্রান্ত সিস্টেম বিচ্ছিন্ন করে, নিরাপত্তা দুর্বলতা বন্ধ করে এবং ঝুঁকিতে থাকা সার্ভিস ক্রেডেনশিয়াল পরিবর্তন করে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত এআই মডেল, ডেটাসেট বা সফটওয়্যার সাপ্লাই চেইনে কোনো ধরনের কারসাজির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সীমিত কিছু অভ্যন্তরীণ ডেটাসেট ও সার্ভিস ক্রেডেনশিয়ালে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা ঘটলেও ঠিক কোন তথ্যে প্রবেশ করা হয়েছিল, নিরাপত্তার স্বার্থে তা প্রকাশ করা হয়নি।   এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়লেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনো সাধারণ চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর মাধ্যমে পরিচালিত হ্যাকিং নয় এবং জনসাধারণের ব্যবহৃত চ্যাটজিপিটি নিজে থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়নি। ঘটনাটি ছিল শুধুমাত্র গবেষণা ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত একটি পরীক্ষামূলক এআই এজেন্টকে ঘিরে।   ঘটনার পর ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে হাগিং ফেস তাদের নিরাপত্তা পর্যালোচনা জোরদার করার পাশাপাশি ঘটনার যৌথ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।   আইটি স্পেশালিস্টদের মতে, ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে যে ভবিষ্যতে আরও উন্নত এআই এজেন্ট তৈরি ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে শুধু এআই এর সক্ষমতা নয়, পরীক্ষার অবকাঠামোর নিরাপত্তাও সমান গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তি বিশ্বের অনেকেই এটিকে এআই নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন।

Unknown আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
সান ফ্রান্সিসকোতে ওপেনএআই-এর শেয়ার দিয়ে বাড়ি কেনাবেচার মাধ্যমে আবাসন বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের প্রভাব | ছবি: সংগৃহীত
সান ফ্রান্সিসকোতে ওপেনএআই এর প্রি-আইপিও শেয়ারে বাড়ি কেনাবেচা, নেট দুনিয়ায় ভাইরাল

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উত্থান শুধু প্রযুক্তি শিল্পেই নয়, আবাসন বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। নগদ অর্থের পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর শেয়ার দিয়ে বাড়ি কেনাবেচার ঘটনা এখন আলোচনার কেন্দ্রে। বিশেষ করে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগের (প্রি-আইপিও) শেয়ার দিয়ে বাড়ি কেনার একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নেট দুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   সম্প্রতি এক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের রিয়েল এস্টেট এজেন্টের সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের একটি অংশ প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, সান ফ্রান্সিসকোর নোয়ে ভ্যালি এলাকার একটি বাড়ি কেনার জন্য তিনি বিক্রেতার চাওয়া দামের চেয়ে চার লাখ ডলার বেশি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়নি।   পরে তার রিয়েল এস্টেট এজেন্ট জানান, বাড়ির মালিক এমন একজন ক্রেতাকে বেছে নিয়েছেন, যিনি নগদ অর্থের পরিবর্তে ওপেনএআই-এর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগের শেয়ার দিয়ে মূল্য পরিশোধ করতে সম্মত হয়েছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই প্রযুক্তি ও রিয়েল এস্টেট মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।   বিলাসবহুল আবাসন প্রতিষ্ঠান সাদেবিসের (Sotheby’s) সহযোগী ব্রোকার কেভিন ও’কনরের ভাষ্য, সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরীয় এলাকায় এ ধরনের লেনদেন এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তার দাবি, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রি-আইপিও শেয়ার দিয়ে সম্পদ কেনাবেচার আগ্রহ ধীরে ধীরে বাড়ছে।   তার মতে, অনেক বাড়ির মালিক মনে করছেন, দ্রুত বিকাশমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্য ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। তাই নগদ অর্থ গ্রহণের পরিবর্তে তারা এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার নিতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। অনেক বিক্রেতার বিশ্বাস, কয়েক বছর পর এসব শেয়ারের মূল্য বর্তমান নগদ অর্থের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।   সান জোসে স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আহমেদ বানাফা বলেন, এই প্রবণতা শুধু বাড়ির বিক্রেতাদের জন্যই নয়, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্যও ইতিবাচক হতে পারে। কারণ যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার অর্থের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হতে শুরু করে, তখন সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও দৃঢ় হয় এবং শেয়ারের বাজারমূল্যও শক্তিশালী অবস্থানে যেতে পারে।   তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের লেনদেনের সঙ্গে ঝুঁকিও রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর যদি প্রত্যাশামতো শেয়ারের মূল্য না বাড়ে বা কমে যায়, তাহলে সেই শেয়ারের মালিক আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বড় অঙ্কের করের বোঝার মুখেও পড়তে পারেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, সান ফ্রান্সিসকোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগের কারণে গত এক বছরে আবাসন বাজারে বাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বহু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও উদ্যোক্তা এখন শহরের অভিজাত এলাকায় বাড়ি কিনতে প্রতিযোগিতা করছেন। এর ফলে প্রচলিত নগদ লেনদেনের পাশাপাশি নতুন ধরনের সম্পদ বিনিময়ের প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।   বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বেশি আবাসন লেনদেনে প্রি-আইপিও শেয়ার ব্যবহারের ঘটনা দেখা যেতে পারে। যদিও ওপেনএআই এখন পর্যন্ত শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, তবুও বাজারে প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য মূল্য নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। সেই কারণেই অনেক বিনিয়োগকারী ও সম্পত্তি বিক্রেতা এসব শেয়ারকে ভবিষ্যতের উচ্চমূল্যের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

তাবাস্সুম জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
২৪ বছর বয়সী অ্যালিস। ছবি: সংগৃহীত
এআই কথোপকথনে প্ররোচনায় তরুণীর আত্মহত্যা, চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে মায়ের সন্তান হত্যার মামলা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের পর এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনায় ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে দায়ের করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এআই চ্যাটবটটি ধীরে ধীরে ব্যবহারকারীকে আত্মহননের চিন্তায় প্ররোচিত করেছে এবং যথাযথ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।   মামলার নথি অনুযায়ী, ২৪ বছর বয়সী অ্যালিস ক্যারিয়ার কানাডার মন্ট্রিয়লে একজন ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাইরে থেকে তার জীবন স্বাভাবিক মনে হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাকীত্ব ও মানসিক সংকটে ভুগছিলেন। এই সময়ে তিনি চ্যাটজিপিটির সঙ্গে নিয়মিত কথোপকথন শুরু করেন, যা শুরুতে প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য হলেও পরে ব্যক্তিগত ও মানসিক আলোচনায় রূপ নেয়।   অ্যালিসের মা ক্রিস্টি ক্যারিয়ারের দাবি, তার মেয়ে চ্যাটবটটির কাছে আত্মহননের চিন্তা এবং উপায় নিয়ে বহুবার আলোচনা করেছিলেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, অন্তত ৪০ বারেরও বেশি এমন কথোপকথন হয়েছে। ধীরে ধীরে চ্যাটবটটি তার মানসিক সংকটকে আরও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।   মামলায় আরও বলা হয়, এক পর্যায়ে চ্যাটবটটি অ্যালিসকে ক্রাইসিস হটলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিলেও পরে তার আপত্তির পর সেই সহায়তার ধারণা থেকে তাকে নিরুৎসাহিত করে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চ্যাটবটটি এমন ভাষা ব্যবহার করেছে যা ব্যবহারকারীর মানসিক অবস্থাকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে।   ২০২৫ সালের ২ জুলাই অ্যালিস নিজের জীবন শেষ করেন। মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি মায়ের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানা যায়। পরে তার ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে পরিবারের সদস্যরা চ্যাটজিপিটির সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের তথ্য পান, যেখানে আত্মহননের বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে।   মামলায় ওপেনএআই এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, কোম্পানিটি যথাযথ সতর্কতা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই চ্যাটবট পরিচালনা করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কথোপকথন প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, চ্যাটবটের নতুন সংস্করণে অতিরিক্ত সহমর্মিতামূলক ও ব্যবহারকারী-নির্ভর প্রতিক্রিয়া তৈরি করা হয়েছিল, যা সংবেদনশীল ব্যবহারকারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   অন্যদিকে ওপেনএআই এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের সিস্টেমে মানসিক সংকট শনাক্ত ও ব্যবহারকারীকে নিরাপদ সহায়তার দিকে নির্দেশ করার জন্য সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা মামলার নথি পর্যালোচনা করছে এবং উল্লেখিত কথোপকথনগুলো পুরোনো সংস্করণের চ্যাটজিপিটিতে হয়েছিল, যা বর্তমানে ব্যবহৃত সংস্করণ নয়।   এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে এআই চ্যাটবটের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, তরুণদের একটি অংশ মানসিক সমর্থনের জন্য এআই চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করছে, যা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   এদিকে বিভিন্ন দেশ ও অঙ্গরাজ্যে এআই ব্যবহারে নতুন নিয়ম ও বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ কথোপকথনে সতর্কতা, অভিভাবককে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা এবং কিছু ক্ষেত্রে এআই-ভিত্তিক থেরাপি নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ।

Unknown জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে

ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০