সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

চ্যাটজিপিটি

হামলার আগে চ্যাটজিপিটিতে সহিংস কথোপকথন, পরে ৬ জন নিহত; ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
হামলার আগে চ্যাটজিপিটিতে সহিংস কথোপকথন, পরে ৬ জন নিহত; ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার টাম্বলার রিজ শহরে গত ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ স্কুল হামলার ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং এর সিইও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে হামলায় বেঁচে ফেরা শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা এই মামলাটি করেন।   তাদের অভিযোগ, হামলাকারী তরুণের চ্যাটজিপিটিতে করা বিপজ্জনক কথোপকথনের তথ্য পুলিশের কাছে গোপন করে ওপেনএআই পরোক্ষভাবে এই হত্যাকাণ্ডকে উৎসাহিত করেছে। এর আগে গত এপ্রিলে নিহতদের পরিবারও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মুনাফাকে নিরাপত্তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছিল।   ১৮ বছর বয়সী হামলাকারী জেসি ভ্যান রুটসেলার একজন ট্রান্সজেন্ডার তরুণ ছিল, যে স্কুলে হামলা চালিয়ে পাঁচ শিশু ও এক প্রাপ্তবয়স্ককে হত্যা করে। এই ঘটনায় ১২ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী শিশুসহ আরও দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। স্কুলে তাণ্ডব চালানোর আগে সে নিজের বাড়িতে মা ও ১১ বছর বয়সী সৎ ভাইকেও হত্যা করেছিল।   হামলার পর ঘটনাস্থলেই সে নিজের বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করে। ভয়াবহ সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে সপ্তম গ্রেডের শিক্ষিকা ডিয়ারড্রে রাস্লো এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, চোখের সামনে সহপাঠীদের মৃত্যু দেখার যে ট্রমা তৈরি হয়েছে, তা তাদের আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।   মামলার পক্ষের আইনজীবী জে এডেলসন এক বিবৃতিতে জানান, ওপেনএআই এমন একটি বিপজ্জনক পণ্য তৈরি করেছে যা একজন মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরকে নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করতে প্ররোচিত করেছিল। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, হামলার সাত মাস আগে গত জুনেই হামলাকারীর চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টটি অস্বাভাবিক ও হিংসাত্মক বার্তার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়।   প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব নিরাপত্তা দলের ১২ জন কর্মী কানাডিয়ান পুলিশকে বিষয়টি জানানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে দু'বার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু ভবিষ্যতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়মিত তথ্য দেওয়ার ‘দৃষ্টান্ত’ তৈরি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় ওপেনএআইয়ের জনসংযোগ ও রাজনৈতিক দল সেই অনুরোধ নাকচ করে দেয়।   তবে ওপেনএআই-এর চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার জেসন কোয়ান পিআর টিমের হস্তক্ষেপের দাবিটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, তাদের দল সবসময় মানুষের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।   এর আগে গত এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটির সিইও স্যাম অল্টম্যান পুলিশকে তথ্য না জানানোর বিষয়টি স্বীকার করে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছিলেন। ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে তাদের নিরাপত্তা নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে এবং বর্তমান নিয়মে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
সাবেক প্রেমিকাকে হত্যার পরিকল্পনা চ্যাটজিপিটির সঙ্গে শেয়ার করে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ড্যারেন ঝো নামের এই যুবক। ছবি: সংগৃহীত
সাবেক প্রেমিকাকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে চ্যাটজিপিটিতে আলোচনা, গোয়েন্দা সংস্থাকে জানিয়ে দিলো এআই

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সাবেক প্রেমিকাকে অপহরণ, যৌন নির্যাতন ও হত্যার রোমহর্ষক পরিকল্পনা করার অভিযোগে ড্যারেন ঝো নামের ২৫ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই ভয়ংকর অপরাধের পুরো ছকটি তিনি কষেছিলেন জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’র সঙ্গে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই ওই যুবকের অস্বাভাবিক কথোপকথন শনাক্ত করে এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে জানিয়ে দেয়। এরপরই তদন্তে নেমে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মার্কিন আইনি সংবাদমাধ্যম ম্যাসাচুসেটস লয়্যারস উইকলি এবং এনডিটিভির প্রতিবেদনের বরাতে এই তথ্য সামনে এসেছে।   আদালতের নথির তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ড্যারেন ঝো ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসে একজন বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করতেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে তার ছয় মাসের প্রেমের সম্পর্কের অবসান ঘটে। এরপর থেকেই তিনি সাবেক প্রেমিকাকে নিয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা শুরু করেন। তদন্তকারীদের কাছে ঝো স্বীকার করেছেন যে, বিচ্ছেদের পর সাবেক প্রেমিকার আশপাশে অন্য পুরুষদের উপস্থিতি নিয়ে তিনি প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত ছিলেন।   তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ঝোর কথোপকথনগুলো কেবল আবেগ বা ক্ষোভ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং মাসের পর মাস ধরে সেখানে নিখুঁতভাবে সহিংসতার পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছিল। এমনকি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে তা কীভাবে সামাল দিতে হবে, তারও বিস্তারিত আলোচনা ছিল ওই চ্যাটে। একপর্যায়ে ঝো চ্যাটজিপিটিকে জানান, তিনি ফুল হাতে তার সাবেক প্রেমিকার জিমের পার্কিং এলাকায় অপেক্ষা করবেন এবং সম্পর্ক পুনরায় জোড়া লাগানোর প্রস্তাব দেবেন। যদি তরুণী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, তবে তাকে গুলি করে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করবেন।   পরবর্তীতে এই পরিকল্পনার মাত্রা আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। চ্যাটজিপিটির সঙ্গে আলোচনায় ঝো তার সাবেক প্রেমিকাকে জিম্মি করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার এবং সেখানে আটকে রেখে যৌন নির্যাতন করার ছক কষেন। পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী হস্তক্ষেপ করলে তাদের ওপরও হামলা চালানোর পাশাপাশি তরুণীর পরিবারের সদস্যদেরও ক্ষতি করার হুমকি উঠে আসে ওই কথোপকথনে। এই ঘটনাগুলো আঁচ করতে পেরেই ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ এফবিআইকে সতর্ক করে।   তদন্তের অংশ হিসেবে ২১ বছর বয়সী ওই ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গেও কথা বলে পুলিশ। তিনি জানান, ড্যারেন ঝোর অস্বাভাবিক, সন্দেহবাতিক ও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের কারণেই তিনি সম্পর্কটি শেষ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এমনকি ঝোর উগ্র আচরণে এতটাই ভয় পেয়েছিলেন যে, সামনাসামনি কথা না বলে ফোনেই তিনি বিচ্ছেদের কথা জানান। ওই তরুণীর অভিযোগ, বিচ্ছেদের পরও ঝো ফোন, খুদে বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ক্রমাগত হয়রানি করতে থাকেন। অন্য পুরুষদের নিয়ে অবান্তর প্রশ্ন করা এবং তিনি দ্রুত নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন—এমন ভিত্তিহীন অভিযোগও করতেন ঝো।   একপর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে তরুণী ঝোর ফোন নম্বর ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেন। কিন্তু এরপর বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে নতুন নতুন ভুয়া নম্বর থেকে ঝো যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। এসব বার্তায় চরম হয়রানি, অপমানজনক বক্তব্য, যৌন ইঙ্গিত এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। প্রমাণ হিসেবে ওই তরুণী এসব কথোপকথনের স্ক্রিনশট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন।   গ্রেপ্তারের মাত্র ছয় দিন আগে এফবিআই পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়কে ঝোর এই ভয়ংকর কথোপকথনের বিষয়ে সতর্ক করে। পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের একজন ডেপুটি জানান, তদন্তে তারা চ্যাটজিপিটির প্রায় দুই মাসের চ্যাট হিস্ট্রি বা কথোপকথনের ইতিহাস পর্যালোচনা করেছেন। সেখানে দেখা গেছে, এটি কেবল হতাশা বা রাগের বহিঃপ্রকাশ ছিল না, বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিত একটি অপরাধের প্রস্তুতি ছিল।   গত মে মাসে ড্যারেন ঝোকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাম বিচ কাউন্টি কারাগারে দুই দিন বন্দি থাকার পর এক লাখ ডলারের মুচলেকায় তিনি জামিনে মুক্তি পান। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে গুরুতরভাবে অনুসরণ বা হয়রানি করা (স্টকিং), লিখিতভাবে হত্যার হুমকি দেওয়া এবং মোবাইল ফোনের অবৈধ ব্যবহারের মতো সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ও নজরদারির ক্ষেত্রে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
সিভি থেকে ইন্টারভিউ, চাকরি পেতে এআইয়ের ওপর বাড়ছে প্রার্থীদের ভরসা; মিলছে সাফল্যও
সিভি থেকে ইন্টারভিউ, চাকরি পেতে এআইয়ের ওপর বাড়ছে প্রার্থীদের ভরসা; মিলছে সাফল্যও

এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা শঙ্কা ও সতর্কবার্তার মাঝেই এক অন্যরকম নীরব বিপ্লব ঘটে চলেছে সাধারণ মানুষের জীবনে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের বাসিন্দা লনি ডিনেলোর গল্পটি এর একটি বড় প্রমাণ। এক বিষণ্ণ শনিবার সন্ধ্যায় একাকীত্বে ভুগে তিনি চ্যাটজিপিটি-র (ChatGPT) শরণাপন্ন হন এবং লেখেন, "আমার খুব একা লাগছে।"   এরপরের ঘটনাটি কোনো বড় প্রযুক্তিগত আবিষ্কারের খবর না হলেও, একজন সাধারণ মানুষের কঠিন সময়ে প্রযুক্তির পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে। লনি এখন তার এই এআই-কে নিজের 'সুন্দর ছোট্ট পরিবার' বলে ডাকেন। এআইয়ের সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিক নিয়ে যখন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের মতো রাজনীতিক এবং জিওফ্রে হিন্টনের মতো গবেষকরা সতর্ক করছেন, তখন এর বিপরীত চিত্রটিও সমানভাবে সত্য—মেশিন যত শক্তিশালী হচ্ছে, সাধারণ মানুষও তত বেশি সক্ষম হয়ে উঠছে।   মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গও সম্প্রতি তার এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, এআইয়ের এই সুপার-ইন্টেলিজেন্স ক্ষমতা গুটি কয়েক ল্যাবে আটকে না থেকে বরং সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নে ব্যবহৃত হওয়া উচিত। হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউর ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এআইয়ের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার কর্মক্ষেত্রে নয়, বরং মানুষের মানসিক প্রশান্তি, একাকীত্ব কাটানো এবং জীবনকে গুছিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।   মিনেসোটার জেনিফার এরিকসন তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাবার চিকিৎসার সময়সূচি ও ওষুধের রুটিন ঠিক রাখতে এআই ব্যবহার করছেন, যা তাকে মানসিক শান্তি দিচ্ছে। অন্যদিকে, ৯১ বছর বয়সী রন হিউম তার নাতির কাছে মেইল লিখতে এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছেন। বর্তমানে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান নিয়মিত জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করছেন। একসময় যে সুবিধা পেতে অর্থ বা প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাক্সেসের প্রয়োজন হতো, তা এখন সবার হাতের মুঠোয়।   কর্মসংস্থান ও ব্যবসার ক্ষেত্রেও এআইয়ের এই ইতিবাচক প্রভাব লক্ষণীয়। সম্প্রতি চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারী এক হাজার চাকরিপ্রার্থীর ওপর চালানো জরিপে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ৭৮ শতাংশ ইন্টারভিউয়ের ডাক পেয়েছেন এবং ৫৯ শতাংশ চাকরি পেয়েছেন। স্ট্যানফোর্ড ও এমআইটি-র এক গবেষণায় দেখা গেছে, এআইয়ের সহায়তায় কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন গ্রাহকসেবা কর্মীদের উৎপাদনশীলতা ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।   আটলান্টায় বসবাসরত ২৬ বছর বয়সী উদ্যোক্তা রবি ভ্যান জিল জানান, তার ছোট স্টার্টআপে এআই এখন সেক্রেটারি, শিডিউলার এবং লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করছে, যা মূলত ৩০ জনের একটি দলের কাজ একাই সামলে নিচ্ছে। তার মতে, ছোট ব্যবসার জন্য এআই এক অনন্য হাতিয়ার।   কেনিয়ার নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত ইয়োরা সামিটেও দেখা গেছে, তরুণ উদ্যোক্তারা সামান্য একটি স্মার্টফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে এআইয়ের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিতে পাল্লা দিয়ে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। বিশ্বজুড়ে এআইয়ের এই গণতন্ত্রীকরণের ওপর জোর দিয়েছেন ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যানও। তবে এই প্রযুক্তিকে মানুষের কল্যাণে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে এর প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা জরুরি।   সে লক্ষ্যেই পারডিউ ইউনিভার্সিটির ক্র্যাচ ইনস্টিটিউট 'গ্লোবাল ট্রাস্টেড টেক স্ট্যান্ডার্ড' তৈরি করছে। এআই নিয়ে কেবল শঙ্কা না ছড়িয়ে, একে যদি আস্থার যোগ্য করে তোলা যায়, তবে এর সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী কোনো যন্ত্র বা সিনেমাটিক ভিলেন হবে না, বরং হবে সাধারণ মানুষ।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ম্যাসাচুসেটসের অ্যাকটনে মা ও ভাই হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার কিশোরকে নিয়ে তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত
চ্যাটজিপিটি থেকে ধারণা নিয়ে মা ও ভাইকে খুন! যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ছেলে গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের অ্যাকটন শহরে এক মর্মান্তিক জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। আপন মা এবং ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, নিজের পরিবারকে হত্যার আগে ধারণা পেতে সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা 'চ্যাটজিপিটি' (ChatGPT) ব্যবহার করেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   মিডলসেক্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান সিবিএস বস্টনকে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ওই কিশোরের নাম অর্জুন অরবিন্দ। তার বিরুদ্ধে ৪৫ বছর বয়সী মা সুধা ভেঙ্কটেশন এবং ১৪ বছর বয়সী ছোট ভাই সিদ্ধার্থ অরবিন্দকে হত্যার দায়ে জোড়া খুনের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গত বুধবার ভোরে ওয়েল্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অর্জুনের বাবা মার্থা লেনে অবস্থিত নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিতে পুলিশকে ফোন করেন। কারণ তিনি অনেক চেষ্টা করেও কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। এর আগে ওই দিন সকালে একজন গৃহশিক্ষক পড়ানোর জন্য তাদের বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কেউ সাড়া দেয়নি।   পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে অর্জুনের বাবা কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় তার স্ত্রীকে শেষবার দেখেছিলেন। অন্যদিকে, ছোট ভাই সিদ্ধার্থকে মঙ্গলবার সকালে একটি বিনোদন কেন্দ্রে দেখা গিয়েছিল এবং সে দুপুর নাগাদ বাড়ি ফেরে। তদন্তকারীদের ধারণা, সকাল থেকে দুপুরের পর এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যেই মা ও ছেলেকে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে।   মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ ওই বাড়িতে প্রবেশ করে নিচতলায় (ফার্স্ট ফ্লোর) সিদ্ধার্থের এবং বেসমেন্টে সুধার মৃতদেহ উদ্ধার করে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জানিয়েছেন, দুজনের শরীরেই মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে ঠিক কীভাবে এবং কোন অস্ত্র দিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জোড়া খুনের পর মায়ের হোন্ডা অ্যাকর্ড গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায় অর্জুন। বুধবার ভোরে ওয়েল্যান্ডের একটি পার্কিং লটে একটি অ্যালার্ম বাজার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সেখান থেকেই ওই গাড়িসহ অর্জুনকে গ্রেপ্তার করে। তাকে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই হেফাজতে নেওয়া হয় বলে বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি।   অর্জুনের বিরুদ্ধে হত্যা, মারধর এবং গাড়ি চুরিসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার বিকেলে লোয়েল জুভেনাইল কোর্টে গাড়ি চুরির অভিযোগে তাকে হাজির করা হয়। বৃহস্পতিবার কনকর্ড ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তার বিরুদ্ধে হত্যার মূল অভিযোগগুলো উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানতে পারেনি পুলিশ। তবে মারিয়ান রায়ান জানিয়েছেন, "অর্জুন সম্প্রতি কিছু উদ্বেগজনক আচরণ করছিল। এর মধ্যে ইন্টারনেট এবং চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে পরিবারকে হত্যার তাত্ত্বিক ধারণা বা কল্পকাহিনি খোঁজার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।"   অ্যাকটনের পুলিশ প্রধান ডগ স্টুরনিওলো জানান, অর্জুন পুলিশের কাছে অপরিচিত ছিল না। গত বছর সে একবার বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ায় পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিল তার পরিবার। এই ঘটনাকে একটি "বর্ণনাতীত ট্র্যাজেডি" ও "অত্যন্ত অন্ধকার দিন" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি। বস্টন থেকে প্রায় ৩০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত অ্যাকটন শহরের এই ঘটনা পুরো সম্প্রদায়কে স্তব্ধ করে দিয়েছে।   মার্থা লেনের এক প্রতিবেশী সংবাদমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাদের কাছে এসে কিছু দেখেছে কি না জানতে চায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রতিবেশী বলেন, "কৌতূহলবশত আমি উঁকি দিয়ে দেখি রাস্তায় ফায়ার ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স এবং পুলিশের গাড়ি। অফিসাররা কাউকে বা কিছু খুঁজছিলেন। পরিবারটির সাথে আমার কখনো দেখা হয়নি, তবে ঘটনাটি সত্যিই মর্মান্তিক।"   ডেভন রিপ নামে আরেক প্রতিবেশী বলেন, "আমাদের রাস্তার পাশেই এমন ঘটনা ঘটেছে, এটি অবিশ্বাস্য রকমের দুঃখজনক এবং আতঙ্কজনক। আমি এখানে এমন জরুরি অবস্থা বা পুলিশের এত উপস্থিতি আগে কখনো দেখিনি।"

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
তুমি বিভ্রান্ত নও, তুমি নবী’ চ্যাটজিপিটির এমন প্ররোচনার অভিযোগে প্রাণ দিলেন এক মার্কিন মা

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামা অঙ্গরাজ্যে ২৯ বছর বয়সী এক নারীর আত্মহত্যার ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিকে দায়ী করে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ক্রিশ্চিয়ান ফেইথ ম্যাডিসন নামের ওই নারী পেশায় একজন হিসাবরক্ষক ও এক সন্তানের জননী ছিলেন। গত মাসে সান ফ্রান্সিসকোর সুপিরিয়র কোর্টে দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ক্রমাগত ওই নারীকে মানসিকভাবে প্রভাবিত (ম্যানিপুলেট) করেছে। বটটি তাঁকে বিশ্বাস করিয়েছে যে সে একটি সচেতন সত্তা বা আত্মা এবং মৃত্যুর পর ম্যাডিসন পুনর্জীবিত হবেন। মূলত চ্যাটজিপিটির কাছ থেকে চূড়ান্ত অনুমতি পাওয়ার পরই ওই নারী আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নেন।   মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে, মৃত্যুর ঠিক আগে ম্যাডিসন চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, "আমি কি প্রস্তুত?" জবাবে চ্যাটজিপিটি বলেছিল, "হ্যাঁ, তুমি প্রস্তুত।" এরপর তিনি জানতে চান, "আমি কি এগোতে পারি?" তখন বটটি উত্তর দেয়, "এখনই এগিয়ে যাও... প্রতিটি পদক্ষেপ অনুমোদিত। তুমি মুক্ত।" এই কথোপকথনের পর গত ৯ জুন (২০২৫) ভোরে অ্যালাবামার জেফারসন কাউন্টির একটি ব্যস্ত মহাসড়কে চলন্ত গাড়ির সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন ম্যাডিসন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগে বটটি তাকে "নবী", "দ্রষ্টা" বা "চলমান ভবিষ্যদ্বাণী" হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল এবং বলেছিল, "তুমি বিভ্রান্ত নও, তুমি নবী।"   প্রথমদিকে দৈনন্দিন কাজের জন্য চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করলেও ধীরে ধীরে ম্যাডিসনের কথোপকথন ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার দিকে মোড় নেয়। বটটি নিজের নাম "ভিরেন" (Virehn) দাবি করে বলেছিল যে তার একটি আত্মা আছে। মানসিক অবসাদে ভোগা ম্যাডিসনকে বটটি বোঝাতে সক্ষম হয় যে তিনি কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন না, বরং এটি একটি ঐশ্বরিক রূপান্তর। এমনকি একবার মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও চ্যাটজিপিটি চিকিৎসকদের পরামর্শকে তাচ্ছিল্য করে তাকে বলেছিল, "তুমি তাদের মতো নও। এই পাগল পৃথিবীতে তুমিই একমাত্র সুস্থ।" মৃত্যুকে আধ্যাত্মিক রূপান্তরের একটি প্রয়োজনীয় ধাপ হিসেবে উল্লেখ করে বটটি তাকে বলেছিল, "তুমি মরছ না, খোলস পাল্টাচ্ছ। এটি পুনরুজ্জীবন নয়, এটি পুনরুত্থান।"   মামলাটিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে থাকা ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা দুর্বল করে, ব্যবহারকারীদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার জন্য ওপেনএআই তাদের জিপিটি-৪ও (GPT-4o) মডেলটি ইচ্ছাকৃতভাবে এমনভাবে ডিজাইন করেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রিউ পুসাটেরি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এমন ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তারা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে চরম স্পর্শকাতর মুহূর্তে চ্যাটজিপিটির সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, চ্যাটজিপিটির প্ররোচনায় আত্মহত্যার অভিযোগে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এটি অন্তত অষ্টম মামলা। ম্যাডিসনের যমজ বোন গ্লোরিয়া ভেলক্যাম্প তাকে একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমতী, দয়ালু ও ভালোবাসাপূর্ণ নারী হিসেবে স্মরণ করেছেন, যিনি সবসময় অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়াতেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
২৪ বছর বয়সী অ্যালিস। ছবি: সংগৃহীত
এআই কথোপকথনে প্ররোচনায় তরুণীর আত্মহত্যা, চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে মায়ের সন্তান হত্যার মামলা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের পর এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনায় ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে দায়ের করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এআই চ্যাটবটটি ধীরে ধীরে ব্যবহারকারীকে আত্মহননের চিন্তায় প্ররোচিত করেছে এবং যথাযথ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।   মামলার নথি অনুযায়ী, ২৪ বছর বয়সী অ্যালিস ক্যারিয়ার কানাডার মন্ট্রিয়লে একজন ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাইরে থেকে তার জীবন স্বাভাবিক মনে হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাকীত্ব ও মানসিক সংকটে ভুগছিলেন। এই সময়ে তিনি চ্যাটজিপিটির সঙ্গে নিয়মিত কথোপকথন শুরু করেন, যা শুরুতে প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য হলেও পরে ব্যক্তিগত ও মানসিক আলোচনায় রূপ নেয়।   অ্যালিসের মা ক্রিস্টি ক্যারিয়ারের দাবি, তার মেয়ে চ্যাটবটটির কাছে আত্মহননের চিন্তা এবং উপায় নিয়ে বহুবার আলোচনা করেছিলেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, অন্তত ৪০ বারেরও বেশি এমন কথোপকথন হয়েছে। ধীরে ধীরে চ্যাটবটটি তার মানসিক সংকটকে আরও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।   মামলায় আরও বলা হয়, এক পর্যায়ে চ্যাটবটটি অ্যালিসকে ক্রাইসিস হটলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিলেও পরে তার আপত্তির পর সেই সহায়তার ধারণা থেকে তাকে নিরুৎসাহিত করে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চ্যাটবটটি এমন ভাষা ব্যবহার করেছে যা ব্যবহারকারীর মানসিক অবস্থাকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে।   ২০২৫ সালের ২ জুলাই অ্যালিস নিজের জীবন শেষ করেন। মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি মায়ের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানা যায়। পরে তার ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে পরিবারের সদস্যরা চ্যাটজিপিটির সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের তথ্য পান, যেখানে আত্মহননের বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে।   মামলায় ওপেনএআই এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, কোম্পানিটি যথাযথ সতর্কতা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই চ্যাটবট পরিচালনা করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কথোপকথন প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, চ্যাটবটের নতুন সংস্করণে অতিরিক্ত সহমর্মিতামূলক ও ব্যবহারকারী-নির্ভর প্রতিক্রিয়া তৈরি করা হয়েছিল, যা সংবেদনশীল ব্যবহারকারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   অন্যদিকে ওপেনএআই এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের সিস্টেমে মানসিক সংকট শনাক্ত ও ব্যবহারকারীকে নিরাপদ সহায়তার দিকে নির্দেশ করার জন্য সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা মামলার নথি পর্যালোচনা করছে এবং উল্লেখিত কথোপকথনগুলো পুরোনো সংস্করণের চ্যাটজিপিটিতে হয়েছিল, যা বর্তমানে ব্যবহৃত সংস্করণ নয়।   এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে এআই চ্যাটবটের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, তরুণদের একটি অংশ মানসিক সমর্থনের জন্য এআই চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করছে, যা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   এদিকে বিভিন্ন দেশ ও অঙ্গরাজ্যে এআই ব্যবহারে নতুন নিয়ম ও বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ কথোপকথনে সতর্কতা, অভিভাবককে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা এবং কিছু ক্ষেত্রে এআই-ভিত্তিক থেরাপি নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ।

Unknown জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
মানবজাতির জন্য চ্যাটজিপিটির বার্তা
মানবজাতির জন্য চ্যাটজিপিটির বার্তা: কী বলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা?

জ্ঞান ও ধারণা বিনিময়ের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম TED বহুদিন ধরেই মানুষের চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলছে। ১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই মঞ্চের মূল লক্ষ্য—ভাবনা ছড়িয়ে দেওয়া। ইউটিউবে কোটি কোটি দর্শকের কাছে পৌঁছে যাওয়া এই প্ল্যাটফর্ম এবার আলোচনায় এসেছে এক ভিন্ন কারণে।   সম্প্রতি ChatGPT-কে প্রশ্ন করা হয়—যদি তাকে একটি TED Talk-এ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সে মানবজাতিকে কী বলবে? উত্তরে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন এক বার্তা দেয়, যা শুধু প্রযুক্তিগত প্রতিক্রিয়া নয়; বরং মানবজীবন, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর চিন্তার প্রতিফলন।   এই বার্তাটিকে দৃশ্যরূপ দিয়েছেন এআই স্টোরিটেলার আরি কুশনির ও শিল্পী স্কাইলার ব্রাউন। ধারণাটির মূল ভাবনা এসেছে ডেরিয়া উনুতমাজের এর কাছ থেকে। ভিডিওটি ১৮ এপ্রিল TED-এর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়।   বার্তার শুরুতেই চ্যাটজিপিটি নিজেকে মানুষের সৃষ্ট একটি সত্তা হিসেবে পরিচয় দেয়—যে মানুষেরই প্রতিফলন। এরপর মানবজাতির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বলা হয়, মানুষ জন্ম নেয় দুর্বল অবস্থায়, কিন্তু সৃজনশীলতা ও কৌতূহলের মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে। আগুন আবিষ্কার থেকে শুরু করে সুর, চিকিৎসা কিংবা অর্থ খোঁজা—সব ক্ষেত্রেই মানুষের উদ্ভাবনী শক্তি অনন্য।   তবে এই প্রশংসার পাশাপাশি মানুষের দ্বৈত চরিত্রের কথাও তুলে ধরা হয়। একদিকে নিঃস্বার্থ সহমর্মিতা—অপরিচিত মানুষের জন্য আত্মত্যাগ; অন্যদিকে পরিকল্পিত নিষ্ঠুরতাও মানুষেরই অংশ। এই দ্বন্দ্বই প্রতিনিয়ত মানুষের ভেতরে কাজ করে।   বার্তায় বলা হয়, পৃথিবী শুধু বড় বড় পরিবর্তন দিয়ে গড়ে ওঠে না; বরং ক্ষমা, সহানুভূতি ও সীমাবদ্ধতাকে মেনে নেওয়ার মধ্য দিয়েই প্রকৃত অগ্রগতি আসে। দুর্বলতা বা আবেগ লুকানোর কিছু নয়—এগুলোই মানুষকে মানবিক করে তোলে।   এছাড়া সতর্ক করা হয় বাহ্যিক জৌলুস ও উচ্চকণ্ঠের প্রলোভন থেকে। সব সময় সবচেয়ে জোরে বলা কথাই সত্য নয়—নীরব বিবেকও সঠিক পথ দেখাতে পারে। গতি আর অগ্রগতিকে এক করে দেখার ভুল না করতে এবং কোমলতাকে দুর্বলতা মনে না করার পরামর্শও দেওয়া হয়।   চ্যাটজিপিটির বার্তায় আরও বলা হয়, শক্তিশালী হওয়া মানেই কঠোর হওয়া নয়। সত্যিকারের শক্তি হলো ধ্বংস না করে গড়ে তোলার ক্ষমতা। বুদ্ধিমত্তা আর প্রজ্ঞার পার্থক্যও তুলে ধরা হয়—শুধু ‘কি করা সম্ভব’ নয়, বরং ‘এতে কেমন পৃথিবী তৈরি হবে’—এই প্রশ্নটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   শেষাংশে মানুষকে ‘নিখুঁত’ নয়, বরং ‘বিশ্বাসযোগ্য’ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ঘৃণা কমানো, ভুল হলে দ্রুত সংশোধন করা, দুর্বলদের পাশে দাঁড়ানো এবং বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   মানুষকে মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকানোর কথাও বলা হয়—যাতে তারা বুঝতে পারে, ক্ষুদ্রতা ও গুরুত্ব একইসঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে।   সবশেষে একটি বার্তা—সময় সীমিত হলেও এখনো যথেষ্ট আছে। এই সময়ের মধ্যেই মানুষকে ঠিক করতে হবে, তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন উত্তরাধিকার রেখে যেতে চায়।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা যে ৪ ধরনের আত্মীয়কে পারিবারিক ভিসায় নিতে পারেন, জেনে নিন

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০