চলমান সরকারি শাটডাউনের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে ইউএস ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্মী সংকট মোকাবিলা এবং যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনের চাপ কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানায়, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)-এর আংশিক শাটডাউনের কারণে Transportation Security Administration ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা টিএসএ এর অনেক কর্মকর্তা সীমিত সুবিধায় কাজ করছেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় এয়ারপোর্টে নিরাপত্তা তল্লাশিতে বিলম্ব এবং দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।
সোমবার সকালে নিউইয়র্ক, আটলান্টা, শিকাগোসহ বিভিন্ন ব্যস্ত বিমানবন্দরে আইস এজেন্টদের যাত্রীদের লাইনের মধ্যে টহল দিতে দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনেক যাত্রী আইস উপস্থিতি দেখে অস্বস্তি ও ভয়ের মধ্যে পড়েন, বিশেষ করে অভিবাসী ও গ্রিনকার্ডধারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি দেখা গেছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন, আইস এজেন্টদের মূল কাজ হলো ভিড় নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা এবং নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহযোগিতা করা। তারা সরাসরি নিরাপত্তা স্ক্যানার পরিচালনা করবে না এবং সাধারণ যাত্রীদের বিরুদ্ধে কোনো বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
তবে সমালোচকদের মতে, বিমানবন্দরের মতো সংবেদনশীল স্থানে অভিবাসন সংস্থার উপস্থিতি অনেক ভ্রমণকারীর মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, শাটডাউন দীর্ঘ হলে বিমানবন্দরগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম আরও ব্যাহত হতে পারে।
এদিকে যাত্রীদের আগেভাগে এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ নিরাপত্তা লাইনে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
চলমান সরকারি শাটডাউনের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে ইউএস ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্মী সংকট মোকাবিলা এবং যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনের চাপ কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্র জানায়, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)-এর আংশিক শাটডাউনের কারণে Transportation Security Administration ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা টিএসএ এর অনেক কর্মকর্তা সীমিত সুবিধায় কাজ করছেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় এয়ারপোর্টে নিরাপত্তা তল্লাশিতে বিলম্ব এবং দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। সোমবার সকালে নিউইয়র্ক, আটলান্টা, শিকাগোসহ বিভিন্ন ব্যস্ত বিমানবন্দরে আইস এজেন্টদের যাত্রীদের লাইনের মধ্যে টহল দিতে দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনেক যাত্রী আইস উপস্থিতি দেখে অস্বস্তি ও ভয়ের মধ্যে পড়েন, বিশেষ করে অভিবাসী ও গ্রিনকার্ডধারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি দেখা গেছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন, আইস এজেন্টদের মূল কাজ হলো ভিড় নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা এবং নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহযোগিতা করা। তারা সরাসরি নিরাপত্তা স্ক্যানার পরিচালনা করবে না এবং সাধারণ যাত্রীদের বিরুদ্ধে কোনো বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে সমালোচকদের মতে, বিমানবন্দরের মতো সংবেদনশীল স্থানে অভিবাসন সংস্থার উপস্থিতি অনেক ভ্রমণকারীর মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, শাটডাউন দীর্ঘ হলে বিমানবন্দরগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম আরও ব্যাহত হতে পারে। এদিকে যাত্রীদের আগেভাগে এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ নিরাপত্তা লাইনে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সব ধরনের ভিসা ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব আবেদন ফিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউকে হোম অফিস জানিয়েছে, নতুন এই ফি ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। নতুন হার অনুযায়ী, ৬ মাস পর্যন্ত ভিজিট ভিসা ফি ৬ পাউন্ড বাড়িয়ে ১৩৫ পাউন্ড করা হচ্ছে। ২ বছর মেয়াদি ভিজিট ভিসা ৩১ পাউন্ড বৃদ্ধি পেয়ে ৫০৬ পাউন্ড, ৫ বছর মেয়াদি ভিসা ৫৫ পাউন্ড বাড়িয়ে ৯০৩ পাউন্ড এবং ১০ বছর মেয়াদি ভিসা ৬৯ পাউন্ড বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ১২৮ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে আবেদনকারী ও তার নির্ভরশীলদের জন্য ফি ৩৪ পাউন্ড বাড়িয়ে ৫৫৮ পাউন্ড করা হচ্ছে। একাডেমিক কাজের জন্য ৬ থেকে ১২ মাস মেয়াদি ভিজিট ভিসা ১৪ পাউন্ড বাড়িয়ে ২৩৪ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। একই হারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা ভিসার ফিও বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে দক্ষ কর্মীদের স্পন্সরশিপ ভিসার ক্ষেত্রে ৩ বছর পর্যন্ত কাজের জন্য ফি ৫০ পাউন্ড এবং ৩ বছরের বেশি হলে ৯৯ পাউন্ড বৃদ্ধি পাবে। হেলথ কেয়ার কর্মীদের জন্য ৩ বছর পর্যন্ত আবেদনে ২০ পাউন্ড এবং এর বেশি হলে ৩৮ পাউন্ড বাড়ছে। সিজনাল ওয়ার্কারদের আবেদন ফি ২১ পাউন্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের ভেতরে দক্ষ কর্মীদের স্পন্সরশিপ ভিসার ক্ষেত্রে ৩ বছর পর্যন্ত কাজের জন্য ফি ৫৮ পাউন্ড এবং ৩ বছরের বেশি হলে ১১৪ পাউন্ড বাড়ানো হচ্ছে। ভিজিটর ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনের ফি ৭২ পাউন্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া বিমানবন্দরে ট্রানজিট ভিসা আড়াই পাউন্ড এবং স্থল সীমান্ত দিয়ে ট্রানজিট ভিসা সাড়ে ৪ পাউন্ড বাড়ানো হচ্ছে। ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথোরাইজেশন (ইটিএ) ফি ৪ পাউন্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা ফি ১৯৭ পাউন্ড বাড়ানো হচ্ছে।
ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক আগ্রাসনের বিষয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই তীব্র অসন্তোষ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সিএনএন ও এসএসআরএস-এর সাম্প্রতিক এক যৌথ জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৫৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানে হামলার ঘোর বিরোধী। বিপরীতে মাত্র ৪১ শতাংশ নাগরিক এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রেক্ষিতে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনা এখন মার্কিন রাজনীতির অভ্যন্তরীণ সংকটে রূপ নিয়েছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ৫৬ শতাংশ নাগরিক আশঙ্কা করছেন যে এই সংঘাত দ্রুত শেষ হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র একটি দীর্ঘমেয়াদী সামরিক লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন এবং লক্ষ্য অর্জনে তারা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এগিয়ে আছেন। তবে জনমত বলছে অন্য কথা—৬০ শতাংশ নাগরিক মনে করেন বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্টের কাছে আসলে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। এছাড়া স্থল সেনা পাঠানোর প্রশ্নেও মার্কিনিরা অনড়; মাত্র ১২ শতাংশ নাগরিক ইরানে সেনা পাঠানোর পক্ষে মত দিয়েছেন, যেখানে ৬০ শতাংশই এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন। রাজনৈতিক মেরুকরণের চিত্রটিও এই জরিপে অত্যন্ত স্পষ্ট। রিপাবলিকানদের মধ্যে ৭৭ শতাংশ এই হামলার সমর্থক হলেও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সমর্থনের হার মাত্র ১৮ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ৬২ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন পরবর্তী যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে ট্রাম্পের উচিত কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং শত শত মানুষের হতাহতের পর তৈরি হওয়া এই নেতিবাচক জনমত আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।