গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন চালাচ্ছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র কঠোরভাবে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। প্রতিশোধমূলক হামলার অংশ হিসেবে তেল আবিবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানছে।
এর মধ্যে বাহরাইনে কয়েক হাজার মিসাইল ও ড্রোন ছোড়া হয়েছে। এবার দেশটির রাজধানী মানামায় আঘাত হেনেছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের। প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেমের মাধ্যমে ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা চলাকালীন ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র পথভ্রষ্ট হয়ে পার্শ্ববর্তী আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। এতে হতাহত বা ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এ ঘটনা উপসাগরীয় সংকটে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি নির্দেশ করছে, যেখানে মার্কিন ঘাঁটি ও কৌশলগত স্থাপনা রক্ষার জন্য ছোড়া ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বেসামরিক এলাকায় পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দৃশ্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরান থেকে পাঠানো বলে সন্দেহ করা একটি এনক্রিপ্টেড বা গোপন বার্তা আটক করেছে, যা বিদেশে অবস্থানরত স্লিপার এজেন্ট বা গোপন অপারেটিভদের সক্রিয় করার সংকেত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার দেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের পাঠানো একটি সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, প্রাথমিক সিগন্যাল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বার্তাটি সম্ভবত ইরান থেকে উৎপন্ন হয়ে একাধিক দেশের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। বার্তাটি আটক করা হয় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পরপরই, যা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বিশ্লেষণে জানা গেছে, বার্তাটি ছিল সম্পূর্ণ এনক্রিপ্টেড এবং নির্দিষ্ট গোপন প্রাপকদের জন্য, যাদের কাছে ডিকোড করার বিশেষ কী রয়েছে। এ ধরনের বার্তা সাধারণত ইন্টারনেট বা মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার না করে গোপন এজেন্ট বা স্লিপার অ্যাসেটদের নির্দেশ পাঠানোর জন্য ব্যবহার করা হয়, যাতে যোগাযোগ শনাক্ত করা কঠিন হয়। সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন থাকলেও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থাকে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি এবং বড় শহরগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, এই ধরনের সংকেত সব সময় হামলার নির্দেশ বোঝায় না, তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে দুষ্টুমি করতে গিয়ে এক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গেইন্সভিল শহরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বলে জানিয়েছে হল কাউন্টি শেরিফের দপ্তর। নিহত শিক্ষক জেসন হিউজ (৪০), তিনি নর্থ হল হাই স্কুলের গণিত শিক্ষক ছিলেন। পুলিশ জানায়, রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে কয়েকজন কিশোর তার বাড়ির সামনে টয়লেট পেপার ছুঁড়ে দুষ্টুমি করছিল। শব্দ শুনে তিনি বাইরে বের হয়ে বিষয়টি দেখতে যান। এ সময় ১৮ বছর বয়সী জেডেন ওয়ালেস ও তার সঙ্গে থাকা আরও চারজন কিশোর গাড়িতে উঠে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে হিউজ তাদের দিকে এগিয়ে যান। পুলিশ জানায়, তিনি হোঁচট খেয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে ওয়ালেসের চালানো পিকআপ গাড়ি তার ওপর উঠে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নর্থইস্ট জর্জিয়া মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে নেওয়া হলে শুক্রবার তিনি মারা যান। পুলিশ জানায়, চালক জেডেন ওয়ালেসের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির যানবাহনজনিত হত্যা, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, বেআইনি অনধিকার প্রবেশ এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে ময়লা ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য চারজন কিশোর এলিজিয়া ওয়েন্স, এইডেন হাক্স, আনা ক্যাথরিন লুকে ও আরিয়ানা ক্রুজ কে বেআইনি অনধিকার প্রবেশ ও ময়লা ফেলার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, জেসন হিউজ ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও দায়িত্বশীল শিক্ষক।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে পেন্টাগনের জন্য অতিরিক্ত বাজেট অনুমোদনের প্রস্তাব এলে তা আটকে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এখনো পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য কী এবং কতদিন এটি চলতে পারে। গত বছর কংগ্রেস প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেট অনুমোদন করেছিল, যা চলতি অর্থবছরের জন্য প্রতিরক্ষা দপ্তরকে দেওয়া হয়। তবে ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছে, যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হলে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাতে প্রতিদিন প্রায় ৮৯০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বড় চাপ তৈরি করতে পারে। হাউসের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিজ বলেন, প্রশাসন এখনো এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারেনি। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি বলেন, সেনাদের নিরাপদ রাখতে চাইলে এই যুদ্ধের জন্য নতুন অর্থ বরাদ্দের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া উচিত, যাতে অপ্রয়োজনীয় সংঘাতে মার্কিন সেনাদের ঝুঁকিতে না ফেলতে হয়। এখনো পরিষ্কার নয় পেন্টাগন কত অতিরিক্ত অর্থ চাইবে বা যুদ্ধ কতদিন চলবে। সিনেটে নতুন বাজেট পাস করতে ৬০ ভোট প্রয়োজন, তাই ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতা হলে অতিরিক্ত অর্থ অনুমোদন অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। এমনকি কিছু রিপাবলিকান সদস্যও ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তারাও অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন, যা প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।