বিশ্ব

উত্তেজনা থাকলেও কেন একে অপরের পরমাণু কেন্দ্রে হামলা করে না ভারত-পাকিস্তান?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ৬:৩৩
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে সামরিক সংঘাত যত জটিল হচ্ছে, ততই বাড়ছে বেসামরিক পরমাণু অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ইরানের নাতানজ, ফোরদো ও ইসফাহানের পরমাণু স্থাপনাকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, যুদ্ধের সময় এসব স্পর্শকাতর স্থাপনার নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত।

 

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, পরমাণু স্থাপনায় হামলাকে আন্তর্জাতিকভাবে এক ধরনের অলঙ্ঘনীয় নিষেধাজ্ঞা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। কারণ এ ধরনের হামলা শুধু একটি দেশের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

 

এমন এক সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে ভারত ও পাকিস্তানের একটি পুরোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, যা কয়েক দশক ধরে দুই দেশের মধ্যে পরমাণু স্থাপনাগুলোকে সামরিক হামলার বাইরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

 

ভারত ও পাকিস্তান বিশ্বের দুই পরমাণু অস্ত্রধারী প্রতিবেশী রাষ্ট্র। স্বাধীনতার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে একাধিক যুদ্ধ, সীমান্ত সংঘাত এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও সম্পর্কের অবনতি হয়েছে এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ সীমিত পর্যায়ে নেমে এসেছে।

 

তবুও একটি বিষয়ে দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে আশ্চর্যজনক সংযম বজায় রেখেছে। তা হলো, কোনো পরিস্থিতিতেই একে অপরের পরমাণু স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু না করা।

এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে ১৯৮৮ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর নেতৃত্বে ‘পরমাণু স্থাপনা ও কেন্দ্রে হামলা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। পরে ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে এটি কার্যকর হয়।

 

চুক্তিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রতি বছর ১ জানুয়ারি ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের পরমাণু স্থাপনাগুলোর তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে একে অপরের কাছে হস্তান্তর করে। এর উদ্দেশ্য হলো, যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বা সংঘাতের সময় এসব স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত না করা।

১৯৯২ সালে এই তথ্য বিনিময় প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে একবারের জন্যও তা বন্ধ হয়নি। চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারিতেও দুই দেশ টানা ৩৫তম বারের মতো এই তালিকা বিনিময় করেছে।

 

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই তালিকায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং সংশ্লিষ্ট বেসামরিক অবকাঠামোর তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। নিউ দিল্লি ও ইসলামাবাদের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে এসব তথ্য নিয়মিত আদান-প্রদান করা হয়।

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত ডি বি ভেঙ্কটেশ বর্মা এই ব্যবস্থাকে বিশ্বের অন্যতম সফল আস্থা-নির্মাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকা সত্ত্বেও দুই দেশ এই চুক্তিকে কার্যকর রেখেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ।

 

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় ভারতের সাবেক প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরউদ্দিনও চুক্তিটির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ১৯৯০-এর দশকে ইসলামাবাদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিজেই এই তালিকা বিনিময় প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন। তার মতে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির বর্তমান বাস্তবতায় এই ব্যবস্থা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরমাণু স্থাপনায় হামলার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো তেজস্ক্রিয় দূষণ। একটি বড় দুর্ঘটনা বা হামলার প্রভাব কেবল একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বাতাস, পানি এবং পরিবেশের মাধ্যমে তা সীমান্ত পেরিয়ে বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে।

এ কারণেই আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরমাণু অবকাঠামোকে যুদ্ধের বাইরে রাখার নীতি ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

 

তবে আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি মনে করেন, ভারত-পাকিস্তান মডেলটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সব অঞ্চলে সরাসরি একইভাবে প্রয়োগ করা সহজ হবে না। কারণ প্রতিটি অঞ্চলের রাজনৈতিক বাস্তবতা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং কৌশলগত পরিবেশ ভিন্ন।

বর্তমানে ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন পরমাণু স্থাপনাকেও ঘিরে উত্তেজনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের চুক্তি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা ও রাজনৈতিক বিরোধ এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি। তবে পরমাণু স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গড়ে ওঠা এই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা দেখিয়েছে, চরম বৈরিতার মধ্যেও কিছু বিষয়ে সহযোগিতা ও সংযম বজায় রাখা সম্ভব।

তাদের মতে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এটিই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
নিম্ন আদালতের জরিমানার রায় বাতিল করে নতুন সিদ্ধান্ত দিয়েছে আপিল আদালত। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলকে নাৎসিদের সঙ্গে তুলনা করা অপরাধ নয়: জার্মান আদালতের রায়

ইসরায়েলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার নাৎসি শাসনব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা কোনো অপরাধ নয় বলে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে জার্মানির একটি উচ্চতর আদালত। নাগরিকের বাকস্বাধীনতার অধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে এক নারীকে সমস্ত অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এবং জার্মানির আইন বিষয়ক খবরের ওয়েবসাইট বেক অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে এই মামলার সূত্রপাত। অভিযুক্ত নারী তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে নাৎসি শাসনামলের অপরাধের তুলনা করে একটি তালিকা প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে নাৎসিদের ব্যবহৃত স্বস্তিকা চিহ্ন এবং নাৎসি পার্টির পতাকার ছবি যুক্ত কিছু গ্রাফিক্স ব্যবহার করেছিলেন তিনি।   এ ছাড়া অন্য একটি পোস্টে একটি দেয়ালচিত্রের ছবি প্রকাশ করা হয়, যেখানে ডেভিড তারকার মাঝে স্বস্তিকা চিহ্ন আঁকা ছিল। চিত্রে দেয়ালের ওপর থেকে সৈন্যদের গুলি ছোঁড়ার দৃশ্য এবং নিচ দিয়ে রক্ত বয়ে যাওয়ার ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়। পোস্টগুলোতে ফিলিস্তিনের সমর্থনে এবং গাজায় সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে বিভিন্ন হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছিল।   জার্মানির সংবিধানে নিষিদ্ধ বা অসাংবিধানিক সংগঠনের প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগে দেশটির লুদভিগসহাফেন শহরের একটি নিম্ন আদালত ওই নারীকে ২ হাজার ৪০০ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা) অর্থদণ্ড দেয়। নিম্ন আদালতের সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জাইব্রুকেনের একটি উচ্চতর আঞ্চলিক আদালতে মামলাটির শুনানি হয়।   আপিল শুনানির পর জাইব্রুকেনের উচ্চতর আঞ্চলিক আদালত নিম্ন আদালতের দেওয়া ওই দণ্ড আদেশ পুরোপুরি বাতিল ঘোষণা করেন। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, অসাংবিধানিক সংগঠনের প্রতীক ব্যবহারের যে আইনি বাধা রয়েছে, এই ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। কারণ সংশ্লিষ্ট নারী কোনো নিষিদ্ধ আদর্শের প্রচার বা উসকানি দিতে এটি করেননি; বরং ইসরায়েল রাষ্ট্রের নীতি ও পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করতে গিয়ে বাকস্বাধীনতার অংশ হিসেবে বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ২২:২৫
নাজকা লাইনসের দর্শনীয় ফ্লাইট চলাকালে পেরুতে বিধ্বস্ত হয় পর্যটকবাহী বিমান। ছবি: এআই

পেরুতে ইউরোপীয় পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত: দুই পাইলটসহ প্রাণ হারালেন ১৩ জন

স্কটল্যান্ডে মৌমাছির ঝাঁকের হামলায় গুরুতর আহত হন এক মা ও তার দুই বছরের ছেলে। ছবি: সংগৃহীত

হাজার হাজার মৌমাছির হামলা: ১৫০টিরও বেশি কামড় খেয়ে হাসপাতালে মা ও শিশু

অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বিতর্কে টমি রবিনসনকে যুক্তিতে হারালেন অক্সফোর্ডের মুসলিম শিক্ষার্থী

অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বিতর্কে টমি রবিনসনকে যুক্তিতে হারালেন অক্সফোর্ডের মুসলিম শিক্ষার্থী

কিয়েভে রুশ ২৭ টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি, মাত্র একটি ভূপাতিত করতে পারল ইউক্রেন
কিয়েভে রুশ ২৭ টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি, মাত্র একটি ভূপাতিত করতে পারল ইউক্রেন

রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবারও কেঁপে উঠেছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী লক্ষ্য করে ছোড়া ২৭টি রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।   ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি রাশিয়া ড্রোন ব্যবহার করেও একযোগে আক্রমণ চালায়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চ গতি ও স্বল্প সময়ের সতর্কবার্তার কারণে অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি।   দেশটির বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে উন্নত প্রযুক্তির প্যাট্রিয়টের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব প্রতিরক্ষা অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়েও ইউক্রেন বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।   কিয়েভ সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং হতাহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো সম্ভব হয়নি।    সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা বেড়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারের দাবি নতুন করে সামনে এসেছে।   ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাশিয়াও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ৩:৫৫
কিয়েভে রুশ ২৭ টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি

কিয়েভে রুশ ২৭ টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি, মাত্র একটি ভূপাতিত করতে পারল ইউক্রেন

গাজার খান ইউনিসে আয়োজিত ৫০০ মিটারের একটি দৌড় প্রতিযোগিতা। ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

যুদ্ধে বাবা-মা হারানো ১০০ শিশুর দৌড়, গাজায় অনাথদের পাশে থাকার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

হামাসকে অর্থ ও রসদ সরবরাহের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে তুর্কি নাগরিক গ্রেপ্তার

হামাসকে অর্থ ও রসদ সরবরাহের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে তুর্কি নাগরিক গ্রেপ্তার, যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের প্রস্তুতি

স্পেন সীমান্তে অভিবাসীদের নজিরবিহীন ঢল
স্পেন সীমান্তে অভিবাসীদের নজিরবিহীন ঢল: কেন হঠাৎ সিউতার পথে হাজারো মানুষের ছুটে চলা?

উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সিউতা আবারও ইউরোপের অভিবাসন সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে মরক্কো থেকে হাজার হাজার মানুষ সমুদ্র সাঁতরে, রাবারের টিউব ব্যবহার করে এবং স্থলসীমান্ত অতিক্রম করে স্পেনে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই ঢলে অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় নজিরবিহীন মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সিউতা আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত হলেও এটি স্পেনের অংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্ত। ফলে সেখানে পৌঁছাতে পারলেই ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন বিশ্বাস বহু বছর ধরেই আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের আকৃষ্ট করে আসছে। তবে এবারের ঢল অতীতের অনেক ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই সংকটের পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে। মরক্কোর অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ বেকারত্ব, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা আগেই ছিল।    কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। মানবপাচারকারী চক্র বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার চালায় যে, সিউতায় পৌঁছাতে পারলে স্পেন আর দ্রুত কাউকে ফেরত পাঠাতে পারবে না। এই তথ্যের সত্যতা না থাকলেও হাজারো মানুষ সেই প্রচারণায় বিশ্বাস করে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় নামেন। স্পেনের একটি আদালতের সাম্প্রতিক রায়কে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে এই গুজব আরও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অনেক অভিবাসী মনে করেন, সীমান্ত অতিক্রম করতে পারলেই তারা ইউরোপে থেকে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। বাস্তবে স্পেন সরকার জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রত্যেক অভিবাসীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের অনেককেই মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পেন সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্বও পালন করা হবে। একই সঙ্গে মরক্কোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।    সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানবপাচারকারী চক্রের কার্যক্রম বন্ধ না হলে মানুষ জীবন বাজি রেখে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়েই যাবে। সিউতার সাম্প্রতিক সংকট আবারও দেখিয়ে দিল, ইউরোপের অভিবাসন সমস্যা শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি মানবিক, অর্থনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতারও বড় একটি চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য অভিবাসনের মূল কারণগুলো মোকাবিলা এবং বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দিচ্ছেন নীতিনির্ধারক ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ৪:৩
অস্ট্রেলিয়ায় আয়ের বড় অংশ গিলে খাচ্ছে বাড়িভাড়া

অস্ট্রেলিয়ায় আয়ের বড় অংশ গিলে খাচ্ছে বাড়িভাড়া, কম আয়ের পরিবার সবচেয়ে চাপে

যন্তর মন্তরের শিক্ষার্থী বিক্ষোভ প্রসঙ্গে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

গালাগালির অভিযোগ তুলে গভীর রাতে ভিডিও বার্তা দিলেন মোদি

অভিবাসন সংকটকে কেন্দ্র করে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন সুবিধা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। ছবি: সংগৃহীত

সেউতা সংকটের জেরে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন সুবিধা স্থগিত করল ইতালি

0 Comments