নর্থ ইংল্যান্ডে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রবাসীদের সংবর্ধনা
যুক্তরাজ্য সফররত বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমকে সংবর্ধনা দিয়েছেন নর্থ ইংল্যান্ডের প্রবাসী বাংলাদেশিরা। নর্থ ইংল্যান্ড বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ব্র্যাডফোর্ডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
রোববার (২১ জুন) অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে নুরুল আমিন তারেক সভাপতিত্ব করেন। যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক সারওয়ার হোসেইন ও শেখ আব্দুল কাইয়ুম। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন মাওলানা ইমরান আহমদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন মো. আব্দুল খালিক এবং নাশিদ পরিবেশন করেন ইলিয়াস আকরাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমকে বরণ করে নেন আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সংবর্ধিত অতিথিকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুল হাসান, সাংবাদিক এম. জি. কিবরিয়া, সলিসিটর আনছার হাবিব, সাবেক কাউন্সিলর ইসমাইল উদ্দিন, আজিজুল করিমসহ আরও অনেকে। বক্তারা বলেন, সাদিক কায়েমের মতো মেধাবী ও দূরদর্শী তরুণদের নেতৃত্বে দেশ ও জাতি উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে আরও এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে আনোয়ার আলী জিতু, মনজুর আহমদ, শিবলী শামস চৌধুরী, আবুল কাশেম খান, জাহাঙ্গীর আলম, মাসুম মুর্তজা, মুজিবুর রহমান, মাতাসিন আলী ও হাবিবুর রহমানসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নর্থ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহর থেকে আগত শত শত প্রবাসী বাংলাদেশির উপস্থিতিতে সংবর্ধনার জবাবে সাদিক কায়েম বলেন, বর্তমান ডাকসু অতীতের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয়, দায়িত্বশীল এবং শিক্ষার্থীবান্ধব ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে ডাকসু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা, পরামর্শ ও দোয়া অব্যাহত থাকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreভারতের ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানিকে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে ‘প্রফেসর অব প্র্যাকটিস’ মর্যাদা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়। ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টি এ ঘোষণা দেওয়ার পর পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও কয়েকজন শিক্ষাবিদ সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছেন। অনন্তের প্রতিষ্ঠিত বন্য প্রাণী কেন্দ্র ভানতারার কার্যক্রম এবং তাঁর পরিবারের তেল ও গ্যাস ব্যবসার সঙ্গে টেকসই উন্নয়নের এই স্বীকৃতি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাণীকল্যাণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশবিষয়ক কাজে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অনন্তকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। গুজরাটের জামনগরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ভানতারাকে আহত ও বিপন্ন প্রাণী উদ্ধার এবং পুনর্বাসনের উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিসংক্রান্ত উদ্যোগেও তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণায় এটি একটি ‘প্রফেসরশিপ অব প্র্যাকটিস’ স্বীকৃতি; তাঁকে নিয়মিত শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে বলে সেখানে বলা হয়নি। সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করে ভারতীয় ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ বলেছেন, ভারতে পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা আরও অনেক যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন। নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মীদের ইউনিয়ন শাখার সভাপতি অধ্যাপক ম্যাট পেরির ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে কর্মীদের মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি ছিল। এসব প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। ভানতারায় প্রাণী সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়েও আগে পরিবেশবাদীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তবে সমালোচনা বা তদন্তে ওঠা প্রশ্নকে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের একটি তদন্তে ভানতারার পরিচালকদের বিরুদ্ধে অনিয়ম পাওয়া যায়নি। অনন্তের পরিবার ও ভানতারাও প্রাণী পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সমালোচনার মধ্যেও সিদ্ধান্তের পক্ষে রয়েছে নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের বক্তব্য, ভানতারার কাজ এবং রিলায়েন্সের জ্বালানি রূপান্তর উদ্যোগে অনন্তের ভূমিকা বিবেচনা করেই তাঁকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ফলে বিতর্কটি এখন কেবল একজনকে অধ্যাপকের পদবি দেওয়া নিয়ে নয়; পরিবেশবিষয়ক কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কী মানদণ্ড অনুসরণ করেছে, সেই প্রশ্নেও গড়িয়েছে।
তেলকূপ ফিরে পাওয়ার প্রস্তুতিতে নাইজেরিয়ায় ২ হাজার তরুণকে তেল-গ্যাস প্রশিক্ষণ
খরচের চাপে ইউরোপ কৌশল বদলাচ্ছে ভারতের ইন্ডিগো, বন্ধ হচ্ছে লন্ডন ফ্লাইট
আইসিস ও আল-নুসরা ফ্রন্টকে সহায়তার অভিযোগে উজবেক নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ
কানাডায় চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসানের ব্যবস্থা চালুর এক দশক পূর্ণ হওয়ার সময়ে এ ব্যবস্থার আওতায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে চালু হওয়া ‘মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ডায়িং’ বা এমএআইডির আওতায় ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৭৬ হাজার ৪৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালেই এ ব্যবস্থার মাধ্যমে মারা গেছেন ১৬ হাজার ৪৯৯ জন। কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে এমএআইডির আওতায় মৃত্যুর হার আরও বেশি। বিশেষ করে কুইবেক প্রদেশের লানদিয়ের অঞ্চলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট মৃত্যুর ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ এমএআইডির আওতায় হয়েছে বলে কুইবেকের জীবনাবসান-সংক্রান্ত কমিশনের প্রতিবেদনের তথ্য উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। একই সময়ে পুরো কুইবেকে ৬ হাজার ২৬৮ জন এমএআইডির মাধ্যমে মারা যান, যা আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। তবে কানাডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছে। এমএআইডিকে দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানে মৃত্যুর একটি ‘কারণ’ হিসেবে গণ্য করা হয় না। যেমন, কোনো ক্যানসার আক্রান্ত ব্যক্তি এমএআইডি গ্রহণ করে মারা গেলে মৃত্যুসনদে সাধারণত ক্যানসারকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাই এমএআইডির সংখ্যা সরাসরি অন্যান্য রোগ বা মৃত্যুর কারণের সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়। ২০২৪ সালের সরকারি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই বছর এমএআইডির আওতায় মৃত্যুর ৯৫ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল ‘ট্র্যাক-১’ শ্রেণির। অর্থাৎ এসব ব্যক্তির স্বাভাবিক মৃত্যু যুক্তিসংগতভাবে অদূর ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত ছিল। বাকি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল ‘ট্র্যাক-২’, যেখানে স্বাভাবিক মৃত্যু অদূর ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত ছিল না। ২০১৯ সালে কানাডায় এমএআইডির আওতায় ৫ হাজার ৪৬১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২০ সালে তা বেড়ে ৭ হাজার ৪৬৯, ২০২১ সালে ১০ হাজার ৬৬, ২০২২ সালে ১৩ হাজার ১৯৯ এবং ২০২৩ সালে ১৫ হাজার ৪২৭ জনে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে সংখ্যা বেড়ে হয় ১৬ হাজার ৪৯৯। যদিও সংখ্যা বাড়ছে, বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় কমেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালে বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৪ সালে এমএআইডির জন্য মোট ২২ হাজার ৫৩৫টি অনুরোধের তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা পড়ে। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৪৯৯ জন শেষ পর্যন্ত এমএআইডি পান। আরও ৪ হাজার ১৭ জন আবেদনকারী অন্য কোনো কারণে মারা যান, ১ হাজার ৩২৭ জনকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি এবং ৬৯২ জন নিজেদের আবেদন প্রত্যাহার করেন। কানাডায় এমএআইডি চালুর পেছনে ২০১৫ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় ছিল। এরপর ২০১৬ সালে পার্লামেন্ট আইন প্রণয়ন করে নির্দিষ্ট শর্ত ও সুরক্ষা ব্যবস্থার অধীনে যোগ্য প্রাপ্তবয়স্কদের চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসানের সুযোগ দেয়। বর্তমানে মানসিক অসুস্থতাকে একমাত্র ভিত্তি হিসেবে এমএআইডির যোগ্যতার ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ১৭ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে। এদিকে কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। ফ্রেজার ইনস্টিটিউটের ২০২৫ সালের চিকিৎসা-অপেক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারিবারিক চিকিৎসকের কাছ থেকে বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর পর চিকিৎসা পাওয়া পর্যন্ত কানাডায় মধ্যমা অপেক্ষার সময় ছিল ২৮ দশমিক ৬ সপ্তাহ। অস্থি-সংক্রান্ত অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে তা ছিল ৪৮ দশমিক ৬ সপ্তাহ। তবে এটি একটি স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকদের ওপর পরিচালিত জরিপভিত্তিক হিসাব, সরকারি স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান নয়। এমএআইডি নিয়ে বিতর্কের একটি বড় অংশ হলো, এটি রোগীর নিজের সিদ্ধান্ত ও কষ্ট থেকে মুক্তির অধিকারকে গুরুত্ব দেয়, নাকি গুরুতর অসুস্থ ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন করে তুলতে পারে। কানাডার সরকার বলছে, এমএআইডির জন্য কঠোর যোগ্যতার শর্ত ও সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে কিছু চিকিৎসক, অধিকারকর্মী ও সংগঠন এসব সুরক্ষা কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যক্তিগত ঘটনাও এ বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। ৮৩ বছর বয়সী ব্রিজিট স্টেগেমানের মৃত্যুকে ঘিরে তার নাতনি অভিযোগ করেছেন, এমএআইডি গ্রহণের আগে তার দাদি সিদ্ধান্তটি নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন এবং শেষ মুহূর্তে বলেছিলেন, ‘আমি ভুল করেছি’। পরিবারটি ঘটনাটি তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও এমএআইডির সব নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা স্বাধীন তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়। আরেকটি আলোচিত ঘটনা ২৬ বছর বয়সী কিয়ানো ভাফাইয়ানের। তিনি ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর এমএআইডির মাধ্যমে মারা যান। তার মা দাবি করেছেন, ছেলের শারীরিক সমস্যা ও মানসিক অবস্থার কারণে তিনি ওই সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযুক্ত অবস্থায় ছিলেন না। তবে এমএআইডি প্রদানকারী চিকিৎসক এলেন ভিয়েবে বলেছেন, তিনি কাউকে কেবল মানসিক অসুস্থতার ভিত্তিতে এমএআইডি দেননি। কানাডায় শুধু মানসিক অসুস্থতাকে ভিত্তি করে এমএআইডি দেওয়ার সুযোগ এখনও স্থগিত রয়েছে। অন্যদিকে এমএআইডির সমর্থকেরা বলেন, গুরুতর ও অসহনীয় কষ্টে থাকা যোগ্য রোগীদের নিজেদের জীবনের শেষ পর্যায় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। কানাডার সরকারি প্রতিবেদনও এমএআইডিকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও আইনি সুরক্ষার অধীনে দেওয়া একটি স্বাস্থ্যসেবা হিসেবে বর্ণনা করেছে। কানাডায় এমএআইডি চালুর ১০ বছর পূর্তির সময়ে তাই এ ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক কেবল মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধিকে ঘিরে নয়। রোগীর স্বায়ত্তশাসন, চিকিৎসকের ভূমিকা, প্যালিয়েটিভ বা জীবনাবসানকালীন সেবা, চিকিৎসা পাওয়ার অপেক্ষার সময় এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের সুরক্ষা, সবকিছুই এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। সূত্র: কানাডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, কুইবেক কমিশন অন এনড-অব-লাইফ কেয়ার, ফ্রেজার ইনস্টিটিউট, নিউইয়র্ক পোস্ট
গৃহহীন থেকে বাধা পেরিয়ে হার্ভার্ডে মোনে থমাস, স্বপ্ন এখন পরিবর্তনের
ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও ১০ কোটি কানাডীয় ডলার সহায়তা দেবে কানাডা
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা হ্যাক করেছে এআই এজেন্ট
গোলান মালভূমির বদলে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্য দিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রসিকতা করেছিলেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। তবে রসিকতার আড়ালেও গোলান মালভূমি নিয়ে সিরিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। শারা বলেছেন, গোলান মালভূমি সিরিয়ার জনগণের ভূখণ্ড এবং সেটি ছেড়ে দেওয়ার অধিকার সিরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তির নেই। ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আটলান্টিক কাউন্সিল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শারা এ কথা বলেন। সেখানে তিনি ২০২৫ সালের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। শারা জানান, ওই বৈঠকে ট্রাম্প তাকে বলেছিলেন, গোলান মালভূমি ইসরায়েলের। জবাবে তিনি রসিকতা করে ট্রাম্পকে বলেন, ইসরায়েলকে গোলান মালভূমির পরিবর্তে নিউ জার্সি দিয়ে দেওয়া যেতে পারে। কারণ গোলান মালভূমি দেওয়ার অধিকার ট্রাম্পের নেই, কিন্তু নিউ জার্সি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড। শারা আরও বলেন, নিউ জার্সিতে অনেক ডেমোক্র্যাট ভোটার থাকেন এবং তারা ট্রাম্পকে ভোট দেন না। তাই রসিকতার ছলে তিনি বলেছিলেন, অঙ্গরাজ্যটি ইসরায়েলকে দিয়ে দিলে অন্তত এমন একটি জায়গা দেওয়া হবে, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব রয়েছে। তবে নিজের বক্তব্যের পরই শারা স্পষ্ট করেন, গোলান মালভূমির বিষয়টি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গোলান মালভূমি সেখানকার মানুষের ভূখণ্ড এবং এটি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কিংবা অন্য কারও পক্ষে অন্য কোনো পক্ষকে দিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইসরায়েল সিরিয়ার গোলান মালভূমির বড় অংশ দখল করে। ১৯৮১ সালে ইসরায়েল ওই এলাকায় নিজেদের আইন, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসন সম্প্রসারণ করে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাবে ওই সিদ্ধান্তকে ‘অকার্যকর’ এবং আন্তর্জাতিক আইনে কোনো বৈধতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়। জাতিসংঘের পরবর্তী বিভিন্ন প্রস্তাবেও গোলানকে ‘অধিকৃত সিরীয় ভূখণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ২০১৯ সালে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি দেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্রের মতো গোলানকে সিরিয়ার অধিকৃত ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করত। ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। গোলান ইস্যুতে শারার বক্তব্য আসে সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক যোগাযোগের সময়। সাবেক সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার পতনের পর ইসরায়েল গোলান মালভূমির বাইরে সিরিয়ার কয়েকটি এলাকায় সেনা মোতায়েন করে। সিরিয়ার নতুন সরকার এসব সেনা প্রত্যাহার করে ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নতাবিষয়ক চুক্তির আওতায় নির্ধারিত অবস্থানে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের অনুষ্ঠানে শারা বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আগে সিরিয়ার জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জানান, সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং কয়েকবার সমঝোতার কাছাকাছি গেলেও শেষ পর্যায়ে তা আর এগোয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও এসব আলোচনায় যুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি। ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করা হলে শারা বলেন, প্রথমে সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক উপস্থিতির বিষয়টি সমাধান করতে হবে। এরপর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এসব বিষয়ে সমঝোতা হলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি জানান। গোলান মালভূমির বিষয়ে অবশ্য শারার অবস্থান ছিল অনড়। তিনি বলেন, জাতিসংঘের স্বীকৃত অবস্থান অনুযায়ী এটি সিরিয়ার ভূখণ্ড এবং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ নেই। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আগের প্রস্তাবগুলোতেও গোলানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্তকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। অনুষ্ঠানে শারা আরও জানান, ২০১২ সালে সিরিয়ায় নিখোঁজ হওয়া মার্কিন সাংবাদিক অস্টিন টাইসের বিষয়েও সিরীয় কর্তৃপক্ষ কিছু প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। তবে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে তিনি বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। শারা বলেন, টাইসের বিষয়ে পাওয়া তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেয়ার করা হচ্ছে। তিনি জানান, বাশার আল-আসাদের দীর্ঘ শাসনামলে নিখোঁজ হওয়া বিপুলসংখ্যক সিরীয় নাগরিকের বিষয়েও নতুন সরকার অনুসন্ধান চালাচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে একটি বিশেষ সংস্থা গঠন করা হয়েছে এবং মরদেহ শনাক্তকরণ ও ফরেনসিক বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে শারার এই বক্তব্য সিরিয়া-ইসরায়েল সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কিত বিষয় গোলান মালভূমি নিয়ে দামেস্কের অবস্থান আবারও সামনে এনেছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের সঙ্গে তার রসিকতার মন্তব্যটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সূত্র: দ্য নিউ আরব, আটলান্টিক কাউন্সিল, জাতিসংঘ
জাতিসংঘে গাজায় ইসরায়েলের ‘গণহত্যার’ তীব্র নিন্দা স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর
শিশুশ্রম ঠেকাতে ঘানায় প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলারে গ্রাম বানালেন মিস্টারবিস্ট