বিশ্ব

দ্য টেলিগ্রাফের সাবেক সম্পাদক রাজাগোপাল:

ভারতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, পাসপোর্টও আটকে গেল; ‘এর চেয়ে অপমানজনক আর কিছু হতে পারে না’

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৬:২৬
কলকাতার ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-এর সাবেক সম্পাদক রাজাগোপাল রামদাস । গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
কলকাতার ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-এর সাবেক সম্পাদক রাজাগোপাল রামদাস । গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পর পাসপোর্ট নবায়নও আটকে গেছে কলকাতার ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-এর সাবেক সম্পাদক রাজাগোপাল রামদাসের। তাঁর অভিযোগ, ভোটাধিকার নিয়ে তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তার জেরে এখন তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর ভারতজুড়ে গণমাধ্যম, সাংবাদিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজাগোপাল রামদাস বলেন, "হঠাৎ করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এবং ভোট দিতে না পারা একজন দেশের নাগরিকের কাছে এর চেয়ে বেশি অপমানজনক আর কিছু হতে পারে বলে আমি মনে করি না। ভোট দেওয়া একজন নাগরিকের সবচেয়ে পবিত্র অধিকার।"

 

তিনি আরও বলেন, "আমার মনে হচ্ছে যেন আমাকে নিয়ে একটি অনিশ্চয়তা রয়েছে, আমি নাগরিক কি না। নিজেকে একজন হাফ সিটিজেন মনে হচ্ছে।" কেরালায় জন্ম নেওয়া রাজাগোপাল রামদাস গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কলকাতায় বসবাস করছেন। কয়েক মাস আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় তাঁর নাম বাদ পড়ে। পরে সেই যুক্তি দেখিয়েই তাঁর ভারতীয় পাসপোর্ট নবায়ন আটকে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মেয়ের বিয়েতেও উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। যদিও তাঁর আগের পাসপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের বৈধ ভিসা রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের সম্পাদকদের সংগঠন এডিটরস গিল্ড বিবৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর জন্মরাজ্য কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

বর্তমানে নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণ জোগাড় করতেই সময় কাটছে বলে জানান রাজাগোপাল রামদাস। এসআইআরে নাম বাদ পড়ার পর তিনি মেনে নিয়েছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। রাজাগোপাল রামদাস জানান, জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি ভোট দেননি। তিনি বলেন, "আমি বিশ্বাস করতাম একজন সাংবাদিকের ভোট দেওয়া উচিত না। কারণ তাহলে তারা একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সমর্থন করতে বাধ্য।"

 

তাঁর ভাষায়, "অনেক বছর পর আমি বুঝলাম আমার এটা ভুল হয়েছে। সাংবাদিকদেরও পক্ষ নেওয়া উচিত। ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম। দুঃখ পেয়েছিলাম।" সেই হতাশা কাটিয়ে তিনি মেনে নিয়েছিলেন যে এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। কিন্তু জুন মাসে পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করার পর দ্বিতীয় ধাক্কা আসে।

 

তিনি জানান, জুন মাসে পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, তাঁর 'সন্দেহজনক' ভোটাধিকারের কারণ দেখিয়ে কলকাতা পুলিশ তাঁর নামে একটি 'অ্যাডভার্স' রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেই কারণে আপাতত নতুন পাসপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

 

রাজাগোপাল রামদাস বলেন, "পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ আমার নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ করেনি। করেছে কলকাতা পুলিশ। তারা আমার পুলিশি ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে 'নো অবজেকশন' দিতে নারাজ। পুলিশ আমাকে জানিয়েছে, যতক্ষণ আমার নাম ভোটার তালিকায় আবার যুক্ত না হচ্ছে, ততক্ষণ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে না।"

 

তিনি জানান, কলকাতা পুলিশের কাছে তিনি জানতে চেয়েছিলেন কোন আইন বা সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ পাসপোর্ট আবেদন সংক্রান্ত নির্দেশিকায় ভোটার আইডি বাধ্যতামূলক নথি হিসেবে উল্লেখ নেই। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ সহযোগিতা করলেও মূল প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট উত্তর দেয়নি।

 

পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে আগামী ১৭ জুলাই আবার উপস্থিত হতে বলেছে। তিনি বলেন, "একশোরও বেশি দিন আগে আমি বায়োমেট্রিক তথ্য জমা দিয়েছি। পাসপোর্ট অফিস সব নথি যাচাই করেছে। পরে পুলিশও অতিরিক্ত নথি চেয়েছিল। আমি সব দেখিয়েছি। এর বাইরে আমার কাছে নতুন কোনো নথি নেই।"

 

তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে আমি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। আমার আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিলও হয়নি, আবার অনুমোদনও হয়নি। ফলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ নিয়েও আমি নিশ্চিত নই।"

 

রাজাগোপাল রামদাসের জন্ম কেরালায়। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করেন, এসআইআরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে 'অ্যাডভার্স রিপোর্ট' দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সেই রিপোর্টের কারণেই তাঁর পাসপোর্ট নবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। চিঠিতে রাজাগোপাল রামদাসকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে কলকাতায় বসবাসকারী একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক উল্লেখ করে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানানো হয়।

 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি জানিয়েছে, পাসপোর্ট একটি ভ্রমণ নথি, নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। অন্যদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি মামলার পর্যবেক্ষণে বলেছে, নির্বাচন কমিশনের কাজ ভোটার হিসেবে যোগ্যতা নির্ধারণ করা। নাগরিকত্ব নির্ধারণ তাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।

 

রাজাগোপাল রামদাসের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ভারতের একাধিক সাংবাদিক সংগঠন। প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আরেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সম্রাট চৌধুরীর পাসপোর্টও সম্প্রতি সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। যদিও তার কারণ স্পষ্ট নয়। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিরা 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার' প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।

 

তবে যাদের আবেদন বিচারাধীন এবং যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় আবেদন করেছেন, তারা এই সুবিধা পাবেন বলে জানান তিনি। মানবাধিকারকর্মীদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের সময় বানান ভুলসহ ছোটখাটো ত্রুটির কারণে যেভাবে বহু মানুষ ভোটাধিকার হারিয়েছেন, একই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকেও মানুষ বঞ্চিত হতে পারেন।

 

এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সদস্য সাগরিকা ঘোষ জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার দাবিতে ২৩টি বিরোধী দল যৌথভাবে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দিয়েছে। রাজাগোপাল রামদাসের অভিযোগের বিষয়ে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত কমিশনার ধ্রুবজ্যোতি দে ভারতীয় সংবাদপত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, তাঁর ঠিকানায় বসবাসকারী একাধিক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

 

তিনি বলেন, যাচাইয়ের জন্য ভোটার আইডি চাওয়া হতে পারে। তবে এটি পাসপোর্ট তদন্তের একমাত্র বা চূড়ান্ত নথি নয়। সবকিছু ঠিক থাকলে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে নতুন রিপোর্ট পাঠানো হবে। গত বছরের অক্টোবরে ভারতের নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গসহ নয়টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু করে।

 

নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর উদ্দেশ্য ছিল যোগ্য ভোটারদের তালিকায় রাখা এবং অযোগ্য ভোটারদের বাদ দেওয়া। এসআইআরে প্রায় ৬০ লাখ ভোটার অতিরিক্ত যাচাইয়ের মুখে পড়েন। পরে নির্বাচন সামনে রেখে ২৭ লাখেরও বেশি 'বিবেচনাধীন' ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

রাজাগোপাল রামদাস তাঁদেরই একজন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। তবে সেই আবেদন এখনও বিচারাধীন।

 

এসআইআরের পর অভিযোগ ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য সাবেক বিচারকদের নেতৃত্বে একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। বর্তমানে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণে বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করতেই সময় কাটছে রাজাগোপাল রামদাসের। তিনি জানান, সম্প্রতি নিজের জন্মসনদ খুঁজে পেয়েছেন। তবে সেখানে তাঁর মায়ের পদবিতে অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি বলেন, "আমার মায়ের নাম আসলে রাধা দেবী। কিন্তু জন্মসনদে লেখা আছে রাধা বাই। এই ভুল সংশোধনের জন্য এখন আমাকে মায়ের ম্যাট্রিকুলেশনের সনদ খুঁজে বের করতে হচ্ছে।"

 

তিনি জানান, মায়ের স্কুলজীবনের বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুরোনো তথ্য সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি বাবার প্রবীণ বন্ধুদের কাছ থেকেও তাঁর বাবার পুরোনো ছবি সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। রাজাগোপাল রামদাস বলেন, "একজন প্রাক্তন সাংবাদিক হিসেবে আমি ভাবতাম, সাধারণ মানুষের সমস্যার মুখোমুখি আমাকে কোনোদিন হতে হবে না। এখন বুঝেছি, সেটা আমার ভুল ধারণা ছিল। ভোট দিতে না পারার চেয়ে বেশি অপমানজনক কিছু হতে পারে না।"

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
স্পেসএক্সে হার্ভার্ডের ২.২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার, বড় লাভের পথে বিশ্ববিদ্যালয়
স্পেসএক্সে হার্ভার্ডের ২.২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার, বড় লাভের পথে বিশ্ববিদ্যালয়

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি স্পেসএক্সে প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারধারণ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার জমা দেওয়া নিয়ন্ত্রক নথিতে এই তথ্য উঠে এসেছে।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হার্ভার্ডের নথিতে দেখানো ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন শেয়ার পোর্টফোলিওর মধ্যে স্পেসএক্সই সবচেয়ে বড় একক শেয়ারধারণ। তবে এই হিসাবের মধ্যে সরাসরি মালিকানাধীন শেয়ারের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিলের মাধ্যমে পাওয়া শেয়ারও থাকতে পারে।   স্পেসএক্সের জুনে হওয়া রেকর্ড আইপিওর পর বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের বিনিয়োগের মূল্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এক দশকেরও বেশি আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্পেসএক্সে বিনিয়োগের সুযোগ পেয়েছিল। কোম্পানিটির শেয়ারবাজারে প্রবেশের পর সেই পুরোনো বিনিয়োগগুলোর মূল্য দ্রুত বেড়েছে।   হার্ভার্ড একা নয়। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বিনিয়োগ সংস্থাও প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের স্পেসএক্স শেয়ারধারণ প্রকাশ করেছে। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা এবং ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইন সেন্ট লুইসেরও স্পেসএক্সে বিনিয়োগ রয়েছে বলে বিভিন্ন নথিতে উঠে এসেছে।   হার্ভার্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে হার্ভার্ডের মোট এনডাওমেন্টের মূল্য ছিল প্রায় ৫৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। এই তহবিলের বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য কার্যক্রমে অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে প্রবেশও ছিল নজিরবিহীন। জুনের আইপিওতে কোম্পানিটি প্রতি শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করে। এর পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছে।   স্পেসএক্সে বড় বিনিয়োগ করে লাভবান হয়েছে আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানও। এর মধ্যে রয়েছে অ্যালফাবেট। ২০১৫ সালে অ্যালফাবেটের ৯০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এক দশক পর প্রায় ৯৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারে পরিণত হয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়।   স্পেসএক্সের বর্তমান বাজারমূল্য নিয়ে অবশ্য বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কোম্পানিটির মহাকাশযান উৎক্ষেপণ ব্যবসা, স্টারলিংক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কারণে বড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। আবার এত উচ্চ মূল্যায়নের কারণে ঝুঁকির কথাও বলছেন কিছু বিশ্লেষক।   হার্ভার্ডের স্পেসএক্স বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি ও মহাকাশ খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সম্ভাব্য সুফলও সামনে এসেছে। স্পেসএক্সের মূল্যায়ন দ্রুত বাড়ার ফলে শুধু ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী নয়, বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এনডাওমেন্টও বড় অঙ্কের সম্পদের মালিক হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২:৫২
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৫১

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৫১, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৫ হাজার মানুষ

চেনির তত্ত্বাবধানে ইউএফও থেকে উদ্ধার ‘এলিয়েন’ আটকের দাবি গ্রুশের

চেনির তত্ত্বাবধানে ইউএফও থেকে উদ্ধার ‘এলিয়েন’ আটকের দাবি গ্রুশের

চীনা পর্যটক কমলেও জাপানের পর্যটন খাত হারায়নি গতি

তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনা, চীনা পর্যটক কমলেও জাপানের পর্যটন খাত হারায়নি গতি

মিসরও যোগ দিতে পারে তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে: এরদোয়ান
মিসরও যোগ দিতে পারে তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে: এরদোয়ান

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি আরও দেশের জন্য উন্মুক্ত রাখার কথা জানালেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট; হামলা হলে সদস্যদের যৌথ প্রতিক্রিয়ার নীতি, বাড়ছে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা।   তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসরও যোগ দিতে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে চুক্তিটি অন্য দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।   আল জাজিরা আরবির ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানের জন্য দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান বলেন, কোনো সদস্য দেশ বাইরের কোনো পক্ষের সশস্ত্র হামলার শিকার হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার নীতি চুক্তিতে রাখা হয়েছে। মিসরের সম্ভাব্য অংশগ্রহণকে তিনি চুক্তি সম্প্রসারণের একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে উল্লেখ করেন।    গত ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কায় এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মূল নীতির মধ্যে রয়েছে—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা।    চুক্তির আওতায় তিন দেশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়, নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উন্নয়ন ও প্রযুক্তি সহযোগিতার বিষয় রয়েছে। সামরিক মহড়ায় স্থল, নৌ, আকাশ ও সাইবার সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।    তবে তুরস্ক ও পাকিস্তান দুদেশই জোর দিয়ে বলেছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। বিশেষ করে ইরানকে লক্ষ্য করে এই প্রতিরক্ষা কাঠামো তৈরি হয়েছে—এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে আঙ্কারা।    ইরানও চুক্তিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রচেষ্টা নিয়ে তেহরানের ভয়ের কোনো কারণ দেখছে না। তবে তিনি চুক্তিটি যেন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় এবং আঞ্চলিক বাস্তবতা ও প্রকৃত নিরাপত্তা হুমকি বিবেচনায় নেয়, সেই প্রত্যাশা জানিয়েছেন।    মিসরের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে অবশ্য এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মিসরকে সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হলেও কায়রো নতুন কোনো প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারে কতটা আগ্রহী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।    এদিকে এরদোয়ান সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রণালিটি পুনরায় চালু করা তুরস্কের অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কাতারের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তিনি।   সিরিয়া, গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে তুরস্ক তার প্রতিবেশীদের একা ছেড়ে দেবে না। সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গাজায় সহায়তা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।    এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নিয়েও কথা বলেন এরদোয়ান। তিনি দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে এফ-৩৫ পাওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন। তবে তুরস্কের রুশ নির্মিত এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে দেশটির এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফেরার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এখনো রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা রয়েছে।   বিশ্লেষকদের কাছে মক্কা চুক্তির গুরুত্ব শুধু তিন দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা, উপসাগরীয় নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ফলে মিসরসহ আরও দেশ এতে যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোয় এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১:২০
হরমুজে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে চায় তেহরান

ইরান-ওমান সমঝোতার পথে, হরমুজে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে চায় তেহরান

শ্রীধর চিল্লালের কাটা নখ নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষকের বকুনি থেকে জেদ করে তিনতলা ভবনের সমান নখ রেখে গিনেস বুকে রেকর্ড করেলন শ্রীধর

ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়া। ৭ জুন ইউরোপে যাওয়ার পর দুই মাসেও দেশে ফেরেননি তিনি। ছবি: সংগৃহীত

‘সংক্ষিপ্ত সফরে’ ইউরোপ গিয়ে ২ মাস ধরে ‘নিখোঁজ’ বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট

সাবেক প্রেমিকের বাড়ির সামনে এক টন পেঁয়াজ পাঠিয়েছিলেন চীনের শানডংয়ের এক তরুণী। ছবি: সংগৃহীত
‘আমি ৩ দিন কেঁদেছি, এবার তোমার পালা’, ব্রেকআপের পর সাবেক প্রেমিকের বাড়িতে এক টন পেঁয়াজ পাঠালেন তরুণী

বিচ্ছেদের পর তিন দিন ধরে কেঁদেছিলেন চীনের শানডং প্রদেশের এক তরুণী। এদিকে সাবেক প্রেমিককে দেখে তার মনে হচ্ছিল, বিচ্ছেদের কোনো প্রভাবই যেন পড়েনি তার ওপর। বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত অভিনব এক কাণ্ড ঘটান ওই তরুণী। সাবেক প্রেমিকের বাড়ির সামনে তিনি পাঠিয়ে দেন এক টন পেঁয়াজ। সঙ্গে ছিল ছোট্ট একটি চিরকুট, ‘আমি তিন দিন কেঁদেছি, এবার তোমার পালা।’   ঘটনাটি ঘটে চীনের শানডং প্রদেশের জিবো শহরে। তবে ঘটনাটি নতুন নয়, ২০২০ সালের মে মাসে এটি চীনা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটনাটি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তৎকালীন প্রতিবেদনগুলোতে চীনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম শানডং নেট এবং দাজং ডটকমের বরাত দিয়ে ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছিল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই তরুণীর পদবি ছিল ঝাও। সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে তার প্রায় এক বছর ধরে সম্পর্ক ছিল। পরে তাদের বিচ্ছেদ হয়। ঝাওয়ের দাবি, বিচ্ছেদের পর তিনি ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলেন এবং টানা তিন দিন কেঁদেছিলেন। কিন্তু তার সাবেক প্রেমিককে দেখে তার মনে হয়, তিনি যেন বেশ স্বাভাবিকভাবেই জীবন কাটাচ্ছেন।   সাবেক প্রেমিকের এমন আচরণেই ক্ষুব্ধ হন ঝাও। তার মনে হয়, শুধু তিনিই বিচ্ছেদের কষ্টে কাঁদবেন, আর সাবেক প্রেমিক কোনোভাবেই আবেগ প্রকাশ করবেন না, তা হতে পারে না। তাই তাকে কাঁদানোর জন্য এমন কিছু পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন, যার কারণে চোখে পানি আসবেই।   এরপর অনলাইনে অর্ডার করেন এক টন পেঁয়াজ। মোট ২০০টি প্যাকেটে ১০ কেজি করে পেঁয়াজ কেনা হয়েছিল বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়। সরবরাহকারীকে ঝাও বিশেষভাবে বলে দেন, পেঁয়াজগুলো যেন সাবেক প্রেমিকের বাড়ির দরজার সামনে রেখে আসা হয় এবং তাকে আগে থেকে ফোন করে জানানো না হয়।   শুধু পেঁয়াজ পাঠিয়েই থামেননি তিনি। প্যাকেটের সঙ্গে একটি চিরকুটও দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সেখানে লেখা ছিল, ‘বিচ্ছেদের পর আমি তিন দিন কেঁদেছি, এবার তোমার পালা।’ পেঁয়াজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জানান, ঝাওয়ের অনুরোধ অনুযায়ী তাদের গ্রাহকসেবা বিভাগ থেকেই ওই চিরকুটটি লিখে দেওয়া হয়েছিল।   পেঁয়াজের বিশাল চালান যখন সাবেক প্রেমিকের বাড়ির সামনে পৌঁছায়, তখন বিষয়টি নিয়ে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়। তবে ঝাও যে ফলাফল চেয়েছিলেন, তা অবশ্য হয়নি। তার সাবেক প্রেমিক কাঁদেননি।   বরং ঘটনাটিকে অন্যভাবে সামলে নেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি পেঁয়াজগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন এবং এর বিনিময়ে এক হাজার ইউয়ানের বেশি পেয়েছেন। অর্থাৎ সাবেক প্রেমিককে কাঁদানোর পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত তার জন্য উল্টো আর্থিক লাভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।   সাবেক প্রেমিকের বক্তব্যও ছিল বেশ সরাসরি। তিনি ঝাওয়ের এই কাণ্ডকে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের আগে থেকেই সমস্যা ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তারা আলাদা হয়ে যান। তিনি দাবি করেন, ঝাও তার ফোনে অন্য নারীদের সঙ্গে কথোপকথন দেখে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ করেছিলেন।   তবে এই ঘটনার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়ে ওঠেন ভবনের অন্য বাসিন্দারা। এক টন পেঁয়াজ দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় চারপাশে তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় এক বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সাবেক প্রেমিক কাঁদছেন কি না তিনি জানেন না, তবে পেঁয়াজের গন্ধে তার নিজেরই দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। পুরো আবাসিক এলাকায় পচা পেঁয়াজের গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   পেঁয়াজগুলো সেখানে পৌঁছে দেওয়ার কাজটিও সহজ ছিল না। তৎকালীন প্রতিবেদনে বলা হয়, সরবরাহকারীকে কয়েক ঘণ্টা ধরে বহুবার যাতায়াত করে পেঁয়াজগুলো ভবনের সামনে পৌঁছে দিতে হয়েছিল। ফলে সাবেক প্রেমিককে কাঁদাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সরবরাহকারীকেও বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়।   ঘটনার পর বিষয়টি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকে ঘটনাটিকে বিচ্ছেদের পর প্রতিশোধ নেওয়ার অদ্ভুত ও হাস্যকর উপায় হিসেবে দেখেন। কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তোলেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমস্যার কারণে কেন পুরো আবাসিক এলাকার মানুষকে দুর্গন্ধের ভোগান্তিতে পড়তে হবে।   তবে ঝাওয়ের পরিকল্পনার শেষ ফলাফল ছিল তার প্রত্যাশার পুরো বিপরীত। তিনি চেয়েছিলেন সাবেক প্রেমিকের চোখে পানি আনতে। কিন্তু সাবেক প্রেমিক কাঁদলেন না, বরং পেঁয়াজ বিক্রি করে অর্থও পেলেন। আর সেই পেঁয়াজের গন্ধে কষ্ট পেলেন আশপাশের বাসিন্দারা।   ফলে বিচ্ছেদের পর সাবেক প্রেমিককে ‘কাঁদানোর’ এই অভিনব পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত চীনের অন্যতম আলোচিত বিচ্ছেদ-পরবর্তী ঘটনার তালিকায় জায়গা করে নেয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ২২:২০
উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ সোনার মুদ্রা ও বার তালিকাভুক্ত করছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

নর্দমার পাইপ বসাতে গিয়ে মিলল ১০৪ কোটি টাকার সোনা, প্রথমে ভেবেছিলেন এক ইউরোর কয়েন

খাবার সংকট ও মানসিক স্বাস্থ্য উদ্বেগে দেশে ফিরছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন

খাবার সংকট ও মানসিক স্বাস্থ্য উদ্বেগে দেশে ফিরছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত অন্তত ২০

0 Comments