দ্য টেলিগ্রাফের সাবেক সম্পাদক রাজাগোপাল:
ভারতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, পাসপোর্টও আটকে গেল; ‘এর চেয়ে অপমানজনক আর কিছু হতে পারে না’
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পর পাসপোর্ট নবায়নও আটকে গেছে কলকাতার ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-এর সাবেক সম্পাদক রাজাগোপাল রামদাসের। তাঁর অভিযোগ, ভোটাধিকার নিয়ে তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তার জেরে এখন তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর ভারতজুড়ে গণমাধ্যম, সাংবাদিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজাগোপাল রামদাস বলেন, "হঠাৎ করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এবং ভোট দিতে না পারা একজন দেশের নাগরিকের কাছে এর চেয়ে বেশি অপমানজনক আর কিছু হতে পারে বলে আমি মনে করি না। ভোট দেওয়া একজন নাগরিকের সবচেয়ে পবিত্র অধিকার।"
তিনি আরও বলেন, "আমার মনে হচ্ছে যেন আমাকে নিয়ে একটি অনিশ্চয়তা রয়েছে, আমি নাগরিক কি না। নিজেকে একজন হাফ সিটিজেন মনে হচ্ছে।" কেরালায় জন্ম নেওয়া রাজাগোপাল রামদাস গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কলকাতায় বসবাস করছেন। কয়েক মাস আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় তাঁর নাম বাদ পড়ে। পরে সেই যুক্তি দেখিয়েই তাঁর ভারতীয় পাসপোর্ট নবায়ন আটকে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মেয়ের বিয়েতেও উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। যদিও তাঁর আগের পাসপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের বৈধ ভিসা রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের সম্পাদকদের সংগঠন এডিটরস গিল্ড বিবৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর জন্মরাজ্য কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমানে নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণ জোগাড় করতেই সময় কাটছে বলে জানান রাজাগোপাল রামদাস। এসআইআরে নাম বাদ পড়ার পর তিনি মেনে নিয়েছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। রাজাগোপাল রামদাস জানান, জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি ভোট দেননি। তিনি বলেন, "আমি বিশ্বাস করতাম একজন সাংবাদিকের ভোট দেওয়া উচিত না। কারণ তাহলে তারা একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সমর্থন করতে বাধ্য।"
তাঁর ভাষায়, "অনেক বছর পর আমি বুঝলাম আমার এটা ভুল হয়েছে। সাংবাদিকদেরও পক্ষ নেওয়া উচিত। ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম। দুঃখ পেয়েছিলাম।" সেই হতাশা কাটিয়ে তিনি মেনে নিয়েছিলেন যে এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। কিন্তু জুন মাসে পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করার পর দ্বিতীয় ধাক্কা আসে।
তিনি জানান, জুন মাসে পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, তাঁর 'সন্দেহজনক' ভোটাধিকারের কারণ দেখিয়ে কলকাতা পুলিশ তাঁর নামে একটি 'অ্যাডভার্স' রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেই কারণে আপাতত নতুন পাসপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
রাজাগোপাল রামদাস বলেন, "পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ আমার নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ করেনি। করেছে কলকাতা পুলিশ। তারা আমার পুলিশি ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে 'নো অবজেকশন' দিতে নারাজ। পুলিশ আমাকে জানিয়েছে, যতক্ষণ আমার নাম ভোটার তালিকায় আবার যুক্ত না হচ্ছে, ততক্ষণ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে না।"
তিনি জানান, কলকাতা পুলিশের কাছে তিনি জানতে চেয়েছিলেন কোন আইন বা সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ পাসপোর্ট আবেদন সংক্রান্ত নির্দেশিকায় ভোটার আইডি বাধ্যতামূলক নথি হিসেবে উল্লেখ নেই। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ সহযোগিতা করলেও মূল প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট উত্তর দেয়নি।
পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে আগামী ১৭ জুলাই আবার উপস্থিত হতে বলেছে। তিনি বলেন, "একশোরও বেশি দিন আগে আমি বায়োমেট্রিক তথ্য জমা দিয়েছি। পাসপোর্ট অফিস সব নথি যাচাই করেছে। পরে পুলিশও অতিরিক্ত নথি চেয়েছিল। আমি সব দেখিয়েছি। এর বাইরে আমার কাছে নতুন কোনো নথি নেই।"
তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে আমি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। আমার আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিলও হয়নি, আবার অনুমোদনও হয়নি। ফলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ নিয়েও আমি নিশ্চিত নই।"
রাজাগোপাল রামদাসের জন্ম কেরালায়। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করেন, এসআইআরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে 'অ্যাডভার্স রিপোর্ট' দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সেই রিপোর্টের কারণেই তাঁর পাসপোর্ট নবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। চিঠিতে রাজাগোপাল রামদাসকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে কলকাতায় বসবাসকারী একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক উল্লেখ করে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানানো হয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি জানিয়েছে, পাসপোর্ট একটি ভ্রমণ নথি, নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। অন্যদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি মামলার পর্যবেক্ষণে বলেছে, নির্বাচন কমিশনের কাজ ভোটার হিসেবে যোগ্যতা নির্ধারণ করা। নাগরিকত্ব নির্ধারণ তাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।
রাজাগোপাল রামদাসের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ভারতের একাধিক সাংবাদিক সংগঠন। প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আরেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সম্রাট চৌধুরীর পাসপোর্টও সম্প্রতি সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। যদিও তার কারণ স্পষ্ট নয়। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিরা 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার' প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
তবে যাদের আবেদন বিচারাধীন এবং যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় আবেদন করেছেন, তারা এই সুবিধা পাবেন বলে জানান তিনি। মানবাধিকারকর্মীদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের সময় বানান ভুলসহ ছোটখাটো ত্রুটির কারণে যেভাবে বহু মানুষ ভোটাধিকার হারিয়েছেন, একই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকেও মানুষ বঞ্চিত হতে পারেন।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সদস্য সাগরিকা ঘোষ জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার দাবিতে ২৩টি বিরোধী দল যৌথভাবে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দিয়েছে। রাজাগোপাল রামদাসের অভিযোগের বিষয়ে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত কমিশনার ধ্রুবজ্যোতি দে ভারতীয় সংবাদপত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, তাঁর ঠিকানায় বসবাসকারী একাধিক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, যাচাইয়ের জন্য ভোটার আইডি চাওয়া হতে পারে। তবে এটি পাসপোর্ট তদন্তের একমাত্র বা চূড়ান্ত নথি নয়। সবকিছু ঠিক থাকলে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে নতুন রিপোর্ট পাঠানো হবে। গত বছরের অক্টোবরে ভারতের নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গসহ নয়টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু করে।
নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর উদ্দেশ্য ছিল যোগ্য ভোটারদের তালিকায় রাখা এবং অযোগ্য ভোটারদের বাদ দেওয়া। এসআইআরে প্রায় ৬০ লাখ ভোটার অতিরিক্ত যাচাইয়ের মুখে পড়েন। পরে নির্বাচন সামনে রেখে ২৭ লাখেরও বেশি 'বিবেচনাধীন' ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
রাজাগোপাল রামদাস তাঁদেরই একজন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। তবে সেই আবেদন এখনও বিচারাধীন।
এসআইআরের পর অভিযোগ ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য সাবেক বিচারকদের নেতৃত্বে একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। বর্তমানে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণে বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করতেই সময় কাটছে রাজাগোপাল রামদাসের। তিনি জানান, সম্প্রতি নিজের জন্মসনদ খুঁজে পেয়েছেন। তবে সেখানে তাঁর মায়ের পদবিতে অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি বলেন, "আমার মায়ের নাম আসলে রাধা দেবী। কিন্তু জন্মসনদে লেখা আছে রাধা বাই। এই ভুল সংশোধনের জন্য এখন আমাকে মায়ের ম্যাট্রিকুলেশনের সনদ খুঁজে বের করতে হচ্ছে।"
তিনি জানান, মায়ের স্কুলজীবনের বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুরোনো তথ্য সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি বাবার প্রবীণ বন্ধুদের কাছ থেকেও তাঁর বাবার পুরোনো ছবি সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। রাজাগোপাল রামদাস বলেন, "একজন প্রাক্তন সাংবাদিক হিসেবে আমি ভাবতাম, সাধারণ মানুষের সমস্যার মুখোমুখি আমাকে কোনোদিন হতে হবে না। এখন বুঝেছি, সেটা আমার ভুল ধারণা ছিল। ভোট দিতে না পারার চেয়ে বেশি অপমানজনক কিছু হতে পারে না।"
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreআমেরিকায় অনিয়মিত পথে যাওয়ার চেষ্টায় বিদেশে পাড়ি দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন ভারতের গুজরাটের তিন আত্মীয়। পরিবারের অভিযোগ, ইথিওপিয়ায় তাঁদের অপহরণ করে মুক্তির জন্য এক কোটি রুপি দাবি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বরের পর থেকে তাঁদের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন মমতা চাভদা, ৩০, তাঁর আত্মীয় ঋত্বিক জানসারি, ২৩, এবং ময়ূরী সোলাঙ্কি, ২৭। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁরা গুজরাট থেকে জয়পুর, এরপর আবুধাবি হয়ে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় যান। ২২ সেপ্টেম্বর মমতা পরিবারকে ফোন করে জানান, তাঁরা কানাডায় পৌঁছেছেন। এরপর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তবে তাঁদের কানাডায় পৌঁছানোর তথ্য নিশ্চিত হয়নি। পরিবারের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় এজেন্ট আলপেশ পাঞ্চালের দাবি, তিনজন ইথিওপিয়াতেই আটকা পড়েছেন। পরিবারের ভাষ্য, পরে ‘খান’ পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ফোন করে তিনজনকে অপহরণের দাবি করেন এবং এক কোটি রুপি মুক্তিপণ চান। অপহরণের অভিযোগ ও ফোনদাতার পরিচয় তদন্তাধীন। বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, মমতার বাবা কীর্তিভাই চৌহান মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর মেহসানার লাংঘনাজ থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করেন। থানার ইন্সপেক্টর এ এম গেহলটের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনজন ২০ সেপ্টেম্বর বাড়ি ছাড়েন। যাত্রার খরচ নিয়ে পরিবারের বক্তব্য ও অভিযোগে ভিন্ন অঙ্ক এসেছে। মমতার বাবার দাবি, প্রত্যেকের জন্য প্রায় ৭০ লাখ রুপি এজেন্টকে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগে জনপ্রতি ৭৫ লাখ রুপিতে যাত্রার ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে। মমতার স্বামী প্রায় ছয় মাস আগে স্টুডেন্ট ভিসায় আমেরিকায় যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, কয়েকবার আমেরিকান ভিসা পাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর মমতার পরিবার বিকল্প পথে তাঁকে পাঠাতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তিনজনকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে পরিবার। পুলিশ নিখোঁজের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করছে এবং যাত্রার ব্যবস্থা করা এজেন্টদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে।
সহকর্মীর গুলিতে ভারতে কমান্ডারসহ ৪ সিআইএসএফ সদস্য নিহত
১১ হাজার ৬৯৫ লেগো টুকরোয় পৃথিবীর মানচিত্র, দুই বন্ধুর বিশ্ব রেকর্ড
ইরাকে শেষ মার্কিন ঘাঁটিও ছাড়ল মার্কিন সেনারা, সতর্কবার্তা ইরান যুদ্ধ নিয়ে
ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে এক দম্পতির বিরুদ্ধে দুই মাস বয়সী ছেলেশিশুকে ১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ বলছে, শিশুটিকে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে তেলেঙ্গানায় নেওয়া হয় এবং মোট চার দফা হাতবদল হয়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে শিশু কল্যাণ কমিটির নির্দেশে একটি অনুমোদিত শিশু পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুটির বাবা-মা ভান্দনা কাম্বলে ও যোগেশ কাম্বলে প্রায় এক মাস বয়সে তাকে সীমা রেশওয়ালের কাছে ১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে দেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। সীমা পরে শিশুটিকে তাঁর আত্মীয় সঙ্গীতা আওহাদের কাছে ২ লাখ ৭০ হাজার রুপিতে বিক্রি করেন। সঙ্গীতা নানদেড়ে নিয়ে গিয়ে সুরেশ গুন্টুকার কাছে ৩ লাখ ৫০ হাজার রুপিতে শিশুটিকে দেন। পুলিশ জানায়, নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া সুরেশ পরে শিশুটিকে তাঁর আত্মীয় উমা খটকমের কাছে একই দামে হায়দরাবাদে পৌঁছে দেন। পুলিশের ভাষ্য, শিশুটির বাবা-মা বিক্রির টাকার একটি অংশ দিয়ে একটি স্মার্টফোন ও স্বর্ণালংকার কিনেছিলেন। তদন্তের অংশ হিসেবে সেগুলো জব্দ করা হয়েছে। শিশুটির খোঁজে তদন্ত চলার সময় মা ভান্দনা ২০ সেপ্টেম্বর অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন বলে পুলিশ জানায়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর সুরেশ ও উমা শিশুটিকে মুকুন্দওয়াড়ি থানায় নিয়ে গেলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। পরে শিশু কল্যাণ কমিটির নির্দেশে তার সুরক্ষা ও দেখভালের জন্য তাকে একটি অনুমোদিত শিশু পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা-মাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, অন্য রাজ্যগুলোতে বিস্তৃত কোনো শিশু পাচারচক্রের সঙ্গে ঘটনাটির যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মুসলমানদের জন্য ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধ রেখে নিজেদের ধর্মীয় আচার পালন করলো ইসরাইলিরা
মুসলিম শিশুদের খ্রিষ্টধর্ম শেখাতে সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন সিস্টার ডেইজি
শরণার্থী পুনর্বাসন চালু করছে যুক্তরাজ্য, আফগান নারী ও ফিলিস্তিনিদের অগ্রাধিকার
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বছরে ১ লাখ পাউন্ড আয় করেও দুই সন্তানকে নিয়ে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ৪০ বছর বয়সী একক মা ইয়াসমিন ক্যামিলা। প্রকল্প ব্যবস্থাপনার চাকরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাজ থেকে এই আয় করলেও বাড়তি জীবনযাত্রার খরচের কারণে নিজের জামাকাপড়, মেকআপ ও দামি ত্বকের প্রসাধনী কেনা বন্ধ করেছেন তিনি। এমনকি দৃষ্টিশক্তির অবনতি হলেও নতুন চশমা কেনার সামর্থ্য হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ইয়াসমিন। ১৩ ও ১১ বছর বয়সী দুই সন্তানকে নিয়ে লন্ডনের দুই শয়নকক্ষের একটি পুরোনো বাড়িতে থাকেন ইয়াসমিন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংসারের মৌলিক খরচই মাসে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ পাউন্ড। এর মধ্যে বাড়ির বন্ধকী ঋণের কিস্তি বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ পাউন্ড। তাঁর ঋণের সুদের হার এখন ১ শতাংশ, যা আগামী ফেব্রুয়ারিতে পরিবর্তিত হওয়ার কথা। এতে মাসিক কিস্তি প্রায় ৬০০ পাউন্ড বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। প্রায় ১৩ বছর ধরে ওই বাড়িতে বসবাস করছেন ইয়াসমিন। বাড়ির চিলেকোঠা সংস্কার করে থাকার জায়গা বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তা আর করতে পারেননি। পরিবারের জায়গার সংকট মেটাতে খাবার ঘরটিকেই একটি শয়নকক্ষে পরিণত করেছেন তিনি। খাবারের জন্য ইয়াসমিনের মাসিক বাজেট প্রায় ৪০০ পাউন্ড। তবে ব্যস্ততার কারণে খাবারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাজার ও রান্না করতে না পারলে বাড়তি খাবার কিনতে হয়। এতে মাসিক খাবারের খরচ আরও প্রায় ২০০ পাউন্ড বেড়ে যেতে পারে। সাধারণত স্যান্সবারিজ থেকে অনলাইনে বাজার করলেও বিভিন্ন দোকানের ছাড় ও অফার দেখে কেনাকাটা করেন তিনি। দুই সন্তানের স্কুলের খাবারের পেছনে প্রতি সপ্তাহে জনপ্রতি ২০ পাউন্ড খরচ হয়। রাতের খাবারে তিনি এমন পদ বেছে নেন, যেগুলো পরদিনও খাওয়া যায়। মরিচ-মাংসের রান্না, ম্যাকারনি ও চিজ, সসেজ পাস্তা এবং এয়ার ফ্রায়ারে তৈরি মুরগির খাবার তাঁদের নিয়মিত খাবারের মধ্যে রয়েছে। আগের দিনের খাবার পরদিন দুপুরের খাবার হিসেবেও ব্যবহার করেন তিনি। খরচ কমাতে বাজারে দোকানের নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্যকে অগ্রাধিকার দেন ইয়াসমিন। ধোয়ার তরল, কাপড়ের সফটেনার, টয়লেট পেপার ও কফির পডের মতো কিছু পণ্য একসঙ্গে বেশি পরিমাণে কেনেন। মাংসের দাম বেশি হওয়ায় নিরামিষ খাবারও বাড়িয়েছেন। চালের নুডলস দিয়ে ভাজি, ফেটা চিজের সঙ্গে ভূমধ্যসাগরীয় সবজি এবং আলু দিয়ে তৈরি খাবার তাঁর খরচ কমানোর কৌশলের অংশ। ইয়াসমিনের দাবি, পাঁচ বছর আগের তুলনায় তাঁর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বিল প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের খরচ কমাতে প্রয়োজন ছাড়া বিভিন্ন যন্ত্র ব্যবহার না করার জন্য সন্তানদেরও উৎসাহিত করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, আয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে, কিন্তু বাড়তি অর্থ হাতে থাকার অনুভূতি হচ্ছে না। সন্তানদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালু রাখতে নিজের অনেক খরচ বাদ দিয়েছেন ইয়াসমিন। তাঁর মেয়ে ব্যালে শেখে এবং ছেলে বিভিন্ন ক্লাবে যায়। এসব খরচকে তিনি সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন। ছেলের বয়স ১৩ বছর এবং জুতার মাপ ১১ হওয়ায় স্কুলে পরার জুতার দাম প্রায় ১০০ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। সন্তানের আত্মবিশ্বাসের বিষয়টি বিবেচনা করে এসব প্রয়োজনীয়তায় সবসময় না বলতে চান না তিনি। নিজের পোশাকের খরচ কমাতে ইয়াসমিন ব্যবহৃত পোশাকের অনলাইন বাজার ভিন্টেড ব্যবহার করেন। নিজের জন্য নতুন জামাকাপড়, মেকআপ ও দামি ত্বকের প্রসাধনী কেনা বন্ধ করেছেন। নখের সাজও আর করান না। চুলও তিন মাসে একবার করান। সন্তানদের পোশাকের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত পোশাক কেনার দিকে ঝুঁকেছেন। জন্মদিন ও বড়দিনের খরচের জন্যও নির্দিষ্ট সীমা রেখেছেন ইয়াসমিন। সন্তানপ্রতি জন্মদিনে ৩০০ পাউন্ড এবং বড়দিনে ২০০ পাউন্ড ব্যয়ের বাজেট করেছেন। প্রতি মাসে ১০ বা ২০ পাউন্ড করেও একটি সঞ্চয় প্রকল্পে টাকা রাখেন, যাতে উৎসব বা বিশেষ দিনের খরচ একসঙ্গে বড় চাপ তৈরি না করে। সন্তানদের নিয়ে বাইরে ঘোরার ক্ষেত্রেও খরচ কমানোর চেষ্টা করেন তিনি। বিনামূল্যের জাদুঘরে যান এবং সঙ্গে বাড়ির খাবার নিয়ে বের হন। রেস্তোরাঁয় খরচ কমাতে বিভিন্ন ছাড়ের কুপন সংগ্রহ করেন। সন্তানদের হাতখরচও সম্প্রতি সপ্তাহে ৫ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ২০ পাউন্ড করেছেন। তাঁর মেয়ে নিজে পোশাক কিনতে চাইতে শুরু করায় ইয়াসমিন তাঁকে বুঝিয়েছেন, ব্যক্তিগত চাহিদাগুলো ওই নির্দিষ্ট হাতখরচের মধ্য থেকেই মেটাতে হবে। ইয়াসমিন জানিয়েছেন, ছোটবেলায় তাঁর নিজের পরিবারে অর্থের সংকট ছিল। তাই সন্তানদের ভালো জীবন দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে হয়তো কিছু ক্ষেত্রে বেশি খরচ করেছেন। এখন তিনি সন্তানদের প্রয়োজনীয় সুযোগ দিতে চান, পাশাপাশি অর্থের মূল্যও শেখাতে চান। তবে ইয়াসমিনের অভিজ্ঞতা তাঁর ব্যক্তিগত আয় ও পারিবারিক বাজেটের হিসাব। এটি লন্ডনের সব পরিবার বা উচ্চ আয়ের মানুষের আর্থিক অবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাড়ির ঋণ, খাবার, জ্বালানি, পানি, শিশুদের কার্যক্রম ও অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে গিয়ে নিজের বিলাসী খরচ কমাতে হচ্ছে তাঁকে। সূত্র: আই নিউজ
তারেক রহমানের ভারত সফরে তাড়াহুড়ো নেই, বললেন ভারতীয় হাইকমিশনার
রাশিয়ায় আরও ১০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি