সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

উদ্ধার অভিযান

যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় ক্লার্কস ফর্ক নদীতে ডুবে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বোনকে বাঁচাতে গিয়ে নদীতে ডুবে ১৩ বছরের কিশোরের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যে নদীতে টিউবিং করার সময় বোনকে বাঁচাতে গিয়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ক্লার্কস ফর্ক নদীতে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর বৃহস্পতিবার উদ্ধারকারীরা নদীর পানির নিচ থেকে কিশোরটির মরদেহ উদ্ধার করেন।   নিহত কিশোরের নাম এফ্রাইম ডেলি। কার্বন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, মন্টানার ফ্রমবার্গের কাছে ক্লার্কস ফর্ক নদীতে বোনের সঙ্গে টিউবিং করার সময় তারা সমস্যায় পড়েছিল। একপর্যায়ে এফ্রাইম তার বোনকে নিরাপদে তীরে উঠতে সহায়তা করলেও নিজে পানিতে তলিয়ে যান।   কার্বন কাউন্টির শেরিফ জশ ম্যাককুইলামের বরাত দিয়ে এমটিএন নিউজ জানিয়েছে, এফ্রাইম ও তার বোন নদীতে টিউবের ওপর ভেসে যাচ্ছিল। কোনো একপর্যায়ে তার বোন টিউব থেকে পড়ে যান অথবা টিউব থেকে নামার চেষ্টা করেন। তখন তিনি পানিতে সমস্যায় পড়লে এফ্রাইম তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন।   শেরিফ ম্যাককুইলাম বলেন, এফ্রাইম শেষ পর্যন্ত তার বোনকে টিউবে উঠতে সহায়তা করতে সক্ষম হন। তবে বোনটি এফ্রাইমকে একইভাবে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে মেয়েটি তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও এফ্রাইম পানিতে তলিয়ে যান।   ঘটনার পরপরই তাকে খুঁজতে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ক্লার্কস ফর্ক নদীর যে অংশে এফ্রাইম পানিতে তলিয়ে গিয়েছিলেন, সেখানে পানির গভীরতা ছিল প্রায় ৬ থেকে ১০ ফুট। উদ্ধারকারী দলের ডুবুরিরা নদীর ওই অংশে ব্যাপক তল্লাশি চালান।   অভিযানে ইয়েলোস্টোন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ও সহায়তা করে। একটি জরুরি ড্রোন এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নদীর আশপাশের এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হয়। পরে বিশেষ পানির নিচের অনুসন্ধান প্রযুক্তির সাহায্যে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে এফ্রাইমের সন্ধান পাওয়া যায়।   কার্বন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, পানির নিচ থেকে এফ্রাইমকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   এফ্রাইম ছিলেন নয় ভাইবোনের একজন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজন ও পরিচিতরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। পরিবারের সহায়তার জন্য খোলা একটি তহবিলের পাতায় এক ব্যক্তি এফ্রাইমকে ‘অসাধারণ নায়ক’ হিসেবে স্মরণ করেছেন। সেখানে তার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এবং হাসির গল্প বলে অন্যদের আনন্দ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।   নদীতে টিউবিংয়ের মতো বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে পানির স্রোত, গভীরতা ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ক্লার্কস ফর্ক নদীর দুর্ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান চলছে।   সূত্র: কার্বন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়, MTN News

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ইরানে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর উদ্ধার হওয়া মার্কিন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ব্রাভো। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর ৫০ ঘণ্টা আত্মগোপনে মার্কিন সেনা, জানালেন বেঁচে ফেরার অভিজ্ঞতা

ইরানের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর প্রায় দুই দিন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর এক কর্মকর্তা। ‘ডুড ৪৪ ব্রাভো’ নামে পরিচিত ওই কর্নেল প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসে তাঁর সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্যারাসুট নিয়ে আকাশ থেকে দ্রুত নিচে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তটিই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা।   রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘৬০ মিনিটস’-এর নতুন মৌসুমের প্রথম পর্বে সাংবাদিক নোরাহ ও’ডনেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ওই কর্মকর্তা। এপ্রিল মাসে ইরানের ওপর অভিযান চলাকালে এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর তিনি ইরানের মাটিতে আটকা পড়েছিলেন।   ওই যুদ্ধবিমানে দুই সদস্যের একটি দল ছিল। ‘ব্রাভো’ ছিলেন অস্ত্র ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, আর তাঁর সঙ্গে থাকা পাইলটকে মিশনের সাংকেতিক নামে ‘আলফা’ বলা হয়। বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর দুজনই জরুরি ব্যবস্থা নিয়ে বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন। পাইলটকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ব্রাভো একা পড়ে যান ইরানের পাহাড়ি এলাকায়।   ব্রাভোর ভাষ্য অনুযায়ী, বিমান থেকে বের হওয়ার পরই তিনি বুঝতে পারেন তাঁর প্যারাসুটে সমস্যা হয়েছে। একপর্যায়ে ওপরে তাকিয়ে তিনি প্যারাসুট দেখতে পাননি। সেই মুহূর্তটিকেই তিনি জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর দৃশ্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   তিনি জানান, তখন তাঁর পতনের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৭০ থেকে ১০০ মাইল পর্যন্ত ছিল বলে তাঁর ধারণা। তবে কত দ্রুত নিচে নামছেন, সেটি নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ ছিল না। বরং প্যারাসুটের যেসব অংশ ছড়িয়ে বা আটকে গিয়েছিল, সেগুলো টেনে বের করে যতটা সম্ভব প্যারাসুটটি খুলে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি।   শেষ পর্যন্ত ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবতরণ করেন ব্রাভো। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রায় দুই দিন একাই সেখানে টিকে থাকতে হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস জানিয়েছে, এই সময় তিনি ইরানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়া এড়িয়ে চলেন এবং তাঁর সামরিক প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপন করে থাকেন।   ব্রাভো তাঁর পাইলট ও সহকর্মী ‘আলফা’র প্রতিও গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, বিমান থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে আলফা তাঁদের দুজনের জীবন রক্ষা করেছিলেন।   এর আগে সিবিএস জানিয়েছিল, ব্রাভোকে উদ্ধারের অভিযানটি ছিল মার্কিন সামরিক ইতিহাসের অন্যতম বড় ও জটিল উদ্ধার অভিযান। দুই সদস্যের বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর পাইলট দ্রুত উদ্ধার হলেও ব্রাভোকে খুঁজে পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। পরে তাঁকে ইরান থেকে বের করে আনতে ব্যাপক সামরিক তৎপরতা চালানো হয়।   ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ প্রদেশের পাহাড়ি এলাকায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিমানটি ইরানের একটি কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়। দুর্গম ভূখণ্ডে অবস্থান করার কারণে ব্রাভোর সন্ধান ও উদ্ধার আরও কঠিন হয়ে ওঠে।   ‘৬০ মিনিটস’-এর ওই পর্বে শুধু ব্রাভোর অভিজ্ঞতাই তুলে ধরা হয়নি। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গেও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার অভিযান পরিচালনা ও এর পেছনের সামরিক তৎপরতা নিয়েও তাঁরা কথা বলেছেন।   ব্রাভোর প্রকাশ্যে আসা এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এপ্রিলের ওই ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রথমবারের মতো তাঁর নিজের মুখে সামনে এলো। যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর আহত অবস্থায় শত্রুপক্ষের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রায় দুই দিন টিকে থাকা এবং শেষ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীর হাতে উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটি এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের অন্যতম আলোচিত উদ্ধার কাহিনি হিসেবে সামনে এসেছে।   সূত্র: সিবিএস নিউজ, নিউইয়র্ক পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে যাত্রীবাহী ফেরি উদ্ধারে চলছে তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত
জাভা সাগরে ২৪৩ আরোহী নিয়ে নিখোঁজ সেই ফেরির সন্ধান মিলল, উদ্ধার ১০২

ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪৩ জন আরোহী নিয়ে নিখোঁজ হওয়া একটি যাত্রীবাহী ফেরির সন্ধান পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পর ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ১০২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ অন্যদের উদ্ধারে এখনো অভিযান চলছে।   সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমন্তানের বাঞ্জারমাসিন শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। রোববার স্থানীয় সময় ভোররাত প্রায় ২টার দিকে ফেরিটি জাভা সাগরে অবস্থান করছিল। এ সময় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ফেরিটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।   ফেরিটি বাঞ্জারমাসিন থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সেটির সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা। এরপর ঘটনাস্থলের আশপাশে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।   উদ্ধার অভিযানে একাধিক উদ্ধারকারী জাহাজের পাশাপাশি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজ আরোহীদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।   এখন পর্যন্ত ১০২ জনকে জীবিত উদ্ধারের খবর পাওয়া গেলেও ফেরিতে থাকা বাকি আরোহীদের সবার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্ঘটনাস্থলে তৎপরতা বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   ইন্দোনেশিয়া প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত একটি দ্বীপপুঞ্জের দেশ। দেশটির বিভিন্ন দ্বীপের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফেরি ও অন্যান্য নৌযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও দ্বীপাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে নৌপথের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে।   তবে দেশটিতে নৌপথে দুর্ঘটনার ঘটনাও নিয়মিত ঘটে। বৈরী আবহাওয়া, নৌযানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কখনো কখনো অতিরিক্ত যাত্রী বহনের মতো বিষয় এসব দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ফলে বড় কোনো ফেরি দুর্ঘটনা ঘটলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।   বর্তমান ঘটনায় দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ফেরিটি কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বৈরী আবহাওয়ার কথা প্রাথমিকভাবে উল্লেখ করা হলেও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের প্রয়োজন হবে।   উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ আরোহীদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থল থেকে আরও মরদেহ উদ্ধারের আশঙ্কাও রয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর দুর্ঘটনার কারণ ও ফেরিটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে।   সূত্র: বিবিসি, আরটিভি অনলাইন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হচ্ছে চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকে। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃত ভেবে শোক পালন শুরু, ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে। চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠা নামের ওই নারীকে মৃত ভেবে তাঁর পরিবার এরই মধ্যে ১১ দিনের শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া চারতলা বাড়ির ভেতর থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তাঁকে।   ঘটনাটি ঘটেছে নেপালের নুওয়াকোট জেলার বেত্রাবতীতে। গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদাধসে এলাকাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চারতলা বাড়িটি বন্যার স্রোতে ভেসে গিয়ে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়ে। সেখানেই একটি ছোট বাতাসের জায়গার মধ্যে কোনোভাবে বেঁচে ছিলেন চন্দিকা।   ৫ সেপ্টেম্বর উদ্ধারকাজ চালানোর সময় পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের কাছে একটি ক্ষীণ কণ্ঠ শুনতে পান। পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনালের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা শুনতে পান কেউ সাহায্যের জন্য ডাকছেন। এরপর প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চন্দিকাকে উদ্ধার করা হয়।   উদ্ধারের পর তাঁকে দ্রুত নেপালি সেনাবাহিনীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী জানিয়েছে, তাঁকে চারতলা একটি ভবনের ওপরের অংশের একটি সংকীর্ণ জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানে নয় সদস্যের একটি দল অংশ নেয়।   চন্দিকা ২৬ আগস্ট থেকে নিখোঁজ ছিলেন। ওই সময় বন্যার স্রোতে ভোতেকোশি নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ হয়ে যায়। বহু বাড়িঘর, দোকানপাট ও সড়ক কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা নিয়ে একসময় স্বজনদের মধ্যে আশাও প্রায় শেষ হয়ে আসছিল।   চন্দিকার পরিবারও তাঁকে আর জীবিত নেই বলেই ধরে নিয়েছিল। পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনাল জানিয়েছেন, তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং পরিবার এরই মধ্যে ১১ দিনের শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে জীবিত অবস্থায় চন্দিকাকে উদ্ধারের ঘটনা স্বজনদের জন্য অবিশ্বাস্য এক মুহূর্ত হয়ে আসে।   বেত্রাবতী ছিল বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। স্থানীয় বাজারসহ বহু আবাসিক ভবন কয়েক ফুট পুরু কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। কোনো কোনো ভবন ছিল চারতলা পর্যন্ত উঁচু। উদ্ধারকারীরা এখনো সেখানে কোদাল দিয়ে মাটি ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জীবনের কোনো চিহ্ন খুঁজছেন। ধ্বংসস্তূপের ফাঁকে কেউ আটকে থাকলে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিয়মিত বাঁশি বাজানো হচ্ছে।   চন্দিকাকে উদ্ধারের পাঁচ দিন আগে বেত্রাবতীর বাজার এলাকার একটি ভবন থেকে ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকায় মরদেহগুলোর অনেকগুলোই পচে গিয়েছিল। এ অবস্থায় উদ্ধারকাজে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছিল। তবু চন্দিকার উদ্ধার নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। নেপালের বিভিন্ন এলাকায় এখনো ধ্বংসস্তূপ, কাদার স্তর ও বিভিন্ন স্থাপনার ভেতরে আটকে থাকা মানুষকে খুঁজছেন উদ্ধারকারীরা।   ভয়াবহ এই দুর্যোগের ১১ দিন পরও প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ ছিলেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নেপালজুড়ে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। নদীর স্রোতে ভেসে অনেক মরদেহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে বহু দূরে গিয়ে পড়েছে। আবার কিছু এলাকায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এমন মরদেহের গণদাফনও করা হয়েছে।   ত্রিশূলী নদীর আশপাশেও উদ্ধার অভিযান চলছে। সেখানে কয়েকটি সুড়ঙ্গের মধ্যে বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেখান থেকে নেপালি নাগরিকদের পাশাপাশি এক চীনা নাগরিককেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কয়েকটি সুড়ঙ্গে এখনো শত শত মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   চন্দিকার মতো আরও কয়েকজনকে অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। আট বছর বয়সী এক শিশুকেও উদ্ধার করে তার মায়ের সঙ্গে পুনর্মিলন করানো হয়েছে। এসব ঘটনায় উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের কোনো ক্ষীণ চিহ্ন পেলেই অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।   নেপালের সাম্প্রতিক এই দুর্যোগের সূত্রপাত ঘটে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট ভয়াবহ পানির স্রোত থেকে। ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় এর প্রভাব পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে নদীর পানি ও কাদার স্রোত বসতি, বাজার এবং অবকাঠামোর ওপর দিয়ে বয়ে যায়।   চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠার উদ্ধার সেই বিপর্যয়ের মধ্যেও মানুষের বেঁচে থাকার এক বিরল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্যরা যখন তাঁকে হারিয়ে শোক পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি ছোট বাতাসের জায়গায় টিকে ছিলেন তিনি। দশ দিন পর তাঁর ক্ষীণ কণ্ঠই শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারীদের কাছে পৌঁছে দেয় তাঁর জীবিত থাকার খবর।   সূত্র: রয়টার্স, কাঠমান্ডু পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন নেপালি সেনা সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যার ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দুজনকে জীবিত উদ্ধার

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ১০ দিন পরও উদ্ধার অভিযানে মিলছে জীবনের সন্ধান। শনিবার ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিক এবং কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়া একটি বাড়ি থেকে ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। এর আগের দিন আরও দুই নেপালি শ্রমিককে সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। ফলে শুক্রবার ও শনিবার মিলিয়ে মোট চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলো।   শনিবার উদ্ধার হওয়া চীনা নাগরিকের নাম লু হাইতাও। নেপালি সেনাবাহিনী ও বিদেশি উদ্ধার বিশেষজ্ঞদের যৌথ দল রাশুয়া জেলার আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গের প্রায় ২২৫ মিটার ভেতর থেকে তাঁকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হচ্ছে।   সুড়ঙ্গ থেকে লু হাইতাওকে উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পর নুওয়াকোট জেলার বেত্রাবতীতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া চারতলা একটি বাড়ির ওপরের তলা থেকে ৬৪ বছর বয়সী চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠকে উদ্ধার করে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর একটি দল। তিনি প্রায় ১০ দিন ওই বাড়ির ভেতরে আটকে ছিলেন। উদ্ধার করার সময় তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরে তাঁকে হেলিকপ্টারে করে ত্রিশুলি এলাকায় নেপালি সেনাবাহিনীর একটি ব্যারাকে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।   এর এক দিন আগে, শুক্রবার আপার ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় সঞ্জয় সাহ ও কবির মহারজনকে। তাঁরা প্রায় নয় দিন ধরে সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে ছিলেন। উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের প্রায় ৪০ মিটার ভেতরে গিয়ে তাঁদের সন্ধান পান। দীর্ঘ সময় ধরে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে তাঁদের কাছে পৌঁছাতে হয়।   ২৬ আগস্ট নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে একটি হিমবাহ ও পাথরের বিশাল ধসের পর ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বরফ, পানি, কাদা ও পাথরের প্রবল স্রোত ভুটেকোশি নদী দিয়ে নেমে এসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে। এতে বসতি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গে থাকা বহু শ্রমিকের খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।   নেপাল পুলিশের শনিবারের হিসাব অনুযায়ী, দুর্যোগে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৪ হাজার ৮৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে ৫০১টি এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজ ও নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে মৃত ১ হাজার ২৬০ জন এবং তাঁদের ৯৭২ স্বজনের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৬৩১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৩ হাজার ৬৫৫ জন বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।   বন্যায় দেশটির ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনায় কর্মরতসহ মোট ৯৪২ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে। রাশুওয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেই নিখোঁজ রয়েছেন ৯৩ জন। তাঁদের মধ্যে নিয়মিত কর্মী, দৈনিক মজুরির শ্রমিক এবং বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও রয়েছেন।   উদ্ধার অভিযানে নেপালি সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। ৫০০-র বেশি প্রকৌশলী একটি সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে উদ্ধারকারীদের সুড়ঙ্গের নকশা, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিন্যাস এবং নিখোঁজ শ্রমিকদের তথ্য দিচ্ছেন। দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে উচ্চক্ষমতার ড্রোন, ভূগর্ভস্থ অনুসন্ধান রাডার, পানি নিষ্কাশন পাম্প এবং অন্যান্য বিশেষ সরঞ্জামেরও প্রয়োজন হচ্ছে।   জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপির হিসাবে, ছয় জেলার ১৭টি পৌরসভার প্রায় ৮৪ হাজার ২৭০ মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো ও ঘরবাড়ির বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   দুর্যোগের প্রভাব শিশুদের ওপরও গুরুতর। ইউনিসেফ জানিয়েছে, অন্তত ২২ হাজার শিশুর জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ পানীয় জল, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি সহায়তা প্রয়োজন। বন্যায় পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বেড়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২ হাজার ৬০০ শিশুর তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। এছাড়া অন্তত ১০৭ শিশু বাবা-মা বা অভিভাবকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।   দুর্যোগের ভয়াবহতার কারণে নেপাল সরকার ৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই দিন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে নেপালের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। একই সঙ্গে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।   দশ দিন পর ধ্বংসস্তূপ ও অন্ধকার সুড়ঙ্গ থেকে একের পর এক মানুষকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা নিখোঁজদের পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে দুর্গম ভূখণ্ড, কাদা ও পাথরে বন্ধ হয়ে যাওয়া সুড়ঙ্গ এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে উদ্ধার অভিযান এখনো অত্যন্ত কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।   সংবাদসূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
বন্যায় ধ্বংস হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে নেপাল সীমান্তে সড়ক পুনর্নির্মাণ করেছে চীন। ছবি: সংগৃহীত
বন্যায় ধ্বংস হওয়া নেপাল সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মাত্র এক সপ্তাহে পুনর্নির্মাণ করল চীন

ভয়াবহ বন্যায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়া নেপাল ও চীন সীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই পুনর্নির্মাণ করেছে চীন। নেপাল ও চীনের মধ্যকার অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম জিরং বা গিরং সীমান্ত ক্রসিংয়ের এই সড়কটি বুধবার পুরোপুরি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, সড়কটি দ্রুত মেরামত করার ফলে এখন দুর্গত এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো অনেক সহজ হবে।   গত সপ্তাহে হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর ও কাদার প্রবল স্রোতে গিরং সীমান্ত ক্রসিং এবং এর সঙ্গে যুক্ত এই বিস্তীর্ণ সড়কটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ওই অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তবে চীনের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতায় নতুন গতি এসেছে।   এদিকে নেপালে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর উদ্ধার অভিযান পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈরী আবহাওয়া ও দুর্গম পথের বাধা পেরিয়ে হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন আকাশযানের সহায়তায় নতুন করে আরও ১১৮ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ভূগর্ভস্থ টানেলে এখনো ৬০০ জনের বেশি শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, দুর্যোগের পর থেকে এসব জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ২৭৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে নেপাল, ভারত ও চীনের যৌথ উদ্ধারকারী দল একযোগে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।   নেপালে সাম্প্রতিক এই বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্মরণকালের ভয়াবহতাকে ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে এক হাজার দুইশ ছাড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, উদ্ধারকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।   দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। প্রতিবেশী দেশ চীন ইতোমধ্যে নিখোঁজদের শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার বিশেষজ্ঞ দল, দুর্গম এলাকায় অনুসন্ধানের জন্য অত্যাধুনিক ড্রোন এবং দুর্গত মানুষের জন্য পানি পরিশোধন সরঞ্জামসহ অতিরিক্ত সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪২ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি আর্থিক সহায়তা পৌঁছেছে।   হিমালয় অঞ্চলে এমন ভয়াবহ দুর্যোগের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, এই দুর্যোগ হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ও ভয়াবহ ঝুঁকিকে আরও একবার স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে, যার ফলেই এমন আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন বহু দর্শনার্থী। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যা, ৬২ জনকে উদ্ধার, নিখোঁজ আরও ১৫

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৫ জন হাইকার ও ব্যাকপ্যাকার নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ এলাকায় হঠাৎ প্রবল বন্যা দেখা দিলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর মধ্যে ৬২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস (এনপিএস) জানিয়েছে, নিখোঁজদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তাদের মধ্যে কেউ ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক করিডোরে হাঁটছিলেন, কেউ ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন, আবার কেউ নর্থ কাইবাব ট্রেইল ধরে ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চের দিকে যাচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বন্যার ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের ওপর থাকা প্রায় সব পায়ে হাঁটার সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে। পানির প্রবল স্রোতে কাদা, পাথর, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ ভেসে গিয়ে কলোরাডো নদীতেও পড়ে। এতে নদীপথে চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।   এনপিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ এলাকায় আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। ৩০ আগস্ট সকাল পর্যন্ত ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ ও নর্থ কাইবাব ট্রেইলের নিচের অংশ থেকে ৬২ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আরও কয়েকজনকে কটনউড ক্যাম্পগ্রাউন্ড ও ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। উদ্ধার করা ব্যক্তিদের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দক্ষিণ প্রান্তের মাসউইক লজ ক্যাফেটেরিয়ায় নেওয়া হয়, যেখানে আমেরিকান রেড ক্রস তাদের সহায়তা করছে। প্রথম দিকে পার্ক কর্তৃপক্ষ ২০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ বা নিখোঁজের মতো অবস্থায় থাকতে পারেন বলে জানিয়েছিল। পরে যাচাইয়ের পর সেই সংখ্যা প্রায় ১৫ জনে নেমে আসে। তাদের মধ্যে কারা রয়েছেন বা তারা কোন এলাকার বাসিন্দা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস তাই নিখোঁজ ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য দিতে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে।   বিশেষ করে নর্থ কাইবাব ট্রেইলহেড থেকে ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ পর্যন্ত যাতায়াত করা হাইকার, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ডে অবস্থানকারী ব্যক্তি এবং ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চের উত্তরে ‘দ্য বক্স’ নামে পরিচিত এলাকায় থাকা বা চলাচল করা ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কারও পরিচিত ব্যক্তি ওই এলাকায় ছিলেন বলে জানা থাকলে তার নাম, আনুমানিক অবস্থান, ভ্রমণ পরিকল্পনা, দলের সদস্যসংখ্যা কিংবা পোশাক ও ব্যাগের বর্ণনা দিয়ে তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। বন্যার সময়ের বিভিন্ন ভিডিওতে ক্যানিয়নের ভেতর দিয়ে কাদা ও পানির প্রবল স্রোত নেমে আসতে দেখা গেছে। বড় বড় পাথর, গাছের অংশ এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ পানির সঙ্গে ভেসে যায়। একজন হাইকার বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, বৃষ্টির পর তারা হঠাৎ করে খালে পানি বেড়ে যেতে, বিভিন্ন জায়গা থেকে জলপ্রপাতের মতো পানি নেমে আসতে এবং পাথর, কাদা ও ভূমিধস দেখতে পান।   প্রবল স্রোতে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের গতিপথও বদলে গেছে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, বন্যায় ক্যানিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে রয়েছে সেতু, ট্রেইল, পানি ও অন্যান্য পরিষেবা অবকাঠামো। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন এখনো চলছে। বন্যার পর ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড এবং পুরো নর্থ কাইবাব ট্রেইল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। কলোরাডো নদীর ওপরের ব্ল্যাক ব্রিজ ও সিলভার ব্রিজও বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে নদীতে ধাতব কাঠামো ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ পড়ে যাওয়ায় ওই এলাকায় নৌযান চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে। এসব এলাকা কবে খুলবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।   আবহাওয়ার ঝুঁকিও এখনো কাটেনি। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, রোববার ও সোমবার আরও বজ্রঝড় এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নতুন করে আকস্মিক বন্যা, ধ্বংসাবশেষের স্রোত, পাথর ধস এবং ট্রেইল ও নদীর পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে পারে। এই বন্যার পেছনে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দুর্গম ভূপ্রকৃতির পাশাপাশি গত বছরের ড্রাগন ব্রাভো দাবানলের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ওই দাবানলে নর্থ রিমের বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে যায়। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি জলাধার ও উপত্যকায় ভারী বৃষ্টির পর আকস্মিক বন্যা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। বিশেষ করে খাড়া ভূখণ্ডে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেও পানি দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসতে পারে।   ড্রাগন ব্রাভো দাবানলের পর গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের কর্মকর্তারা এ ধরনের বন্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক ছিলেন। ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যার আগাম সতর্কতা উন্নত করতে ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চের উজানে অতিরিক্ত পানি প্রবাহ মাপার যন্ত্র ও অন্যান্য সেন্সর স্থাপন করা হয়েছিল। তবে এবারের বন্যার আকস্মিকতা ও স্রোতের শক্তি পরিস্থিতিকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে এমন আকস্মিক বন্যা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে ক্যানিয়নের গভীর ও খাড়া ভূপ্রকৃতির কারণে ওপরের দিকে বৃষ্টি হলেও নিচের অংশে হঠাৎ করে ভয়াবহ স্রোত তৈরি হতে পারে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস তাই দর্শনার্থীদের আবহাওয়ার সতর্কতা অনুসরণ করতে এবং বৃষ্টি না হলেও ক্যানিয়নের ভেতরের নদী, খাল বা নিচু এলাকায় অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়ে থাকে।   এদিকে উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান অব্যাহত রেখেছে। পার্ক কর্তৃপক্ষ ও অ্যারিজোনা জননিরাপত্তা বিভাগ সমন্বয় করে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্যে কোনো আহত বা নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আরও বৃষ্টি ও নতুন করে বন্যার আশঙ্কা থাকায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালানো হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে সময় যত গড়াচ্ছে, তাদের পরিবার ও স্বজনদের উদ্বেগও বাড়ছে। দুর্গম ক্যানিয়নের ভেতরে বন্যার পর বদলে যাওয়া ভূপ্রকৃতি, ধ্বংস হওয়া সেতু এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পথ উদ্ধারকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপাতত সবার নজর নিখোঁজ হাইকারদের সন্ধান এবং নতুন করে কোনো প্রাণহানি ঠেকানোর দিকে।   সংবাদসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং আল জাজিরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
নেপালে ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিলেন ১০৫ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধা। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর ১০৫ বছরের বৃদ্ধা জীবিত উদ্ধার

নেপালে এক অবিশ্বাস্য উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। নিজের ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকার পর ১০৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার এই ঘটনাকে এক সত্যিকারের অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন সবাই।   গত ২৮ আগস্ট আলেকজান্ডার লোপেজের করা এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চোখের পলকেই ওই বৃদ্ধার বাড়িটি ধসে পড়েছিল। চারপাশের সব কিছু মাটির সঙ্গে মিশে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি ছোট্ট ফাঁকা জায়গায় আটকে ছিলেন তিনি। জায়গাটি এতটাই ছোট ছিল যে সেখানে শ্বাস নেওয়াও তার জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল।   এই অবস্থায় টানা ২৪ ঘণ্টা তিনি সেখানে একেবারে নিথর হয়ে পড়ে ছিলেন। বাইরে তখন উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের এক একটি স্তর সাবধানে সরিয়ে তাকে খুঁজছিল। তারা জানতেন না যে নিচে কোনো জীবিত মানুষ আছেন নাকি কেবল একটি মৃতদেহ পাওয়া যাবে। বুকের ওপর ধসে পড়া বাড়ির বিশাল ওজন নিয়ে বৃদ্ধা কেবল অপেক্ষাই করছিলেন। তার চিৎকার করার কোনো শক্তি ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার বেঁচে থাকার আশাও ক্ষীণ হয়ে আসছিল।   উদ্ধারকর্মীরা সেন্সরের মাধ্যমে ক্ষীণ প্রাণের স্পন্দন শনাক্ত করে তাদের কাজ চালিয়ে যান। বৃদ্ধার যেন কোনো আঘাত না লাগে, সে জন্য শেষ কয়েক মিটার তারা কোনো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করে খালি হাতেই মাটি ও ইটপাথর সরানোর কাজ করেন।   অবশেষে যখন ধ্বংসস্তূপের শেষ ব্লকটি সরানো হয়, তখন উদ্ধারকর্মীরা দেখতে পান যে এক শতাব্দীরও বেশি সময় পার করা ওই বৃদ্ধা তখনও বেঁচে আছেন এবং তার জ্ঞান রয়েছে। জীবনের ১০৫টি বছর পার করে এসে তিনি গত ২৪ ঘণ্টা মৃত্যুর যতটা কাছাকাছি ছিলেন, এর আগে হয়তো কখনোই এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি তিনি। নেপালের মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় এমন সফল উদ্ধার অভিযান মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।   সূত্র: আলেকজান্ডার লোপেজের প্রতিবেদন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
নেপালের নুয়াকোটে বন্যার পর কাদায় ঢেকে গেছে ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা। ছবি: সংগৃহীত
‘স্ত্রীর হাত ধরে টানছিলাম, কিন্তু কাদার স্রোত তাকে নিয়ে গেল’: নেপালের বন্যা নিয়ে বৃদ্ধের হৃদয়বিদারক বর্ণনা

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। এর মধ্যেই ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বারালের বেঁচে ফেরার গল্পটি সামনে এসেছে আরও এক করুণ বাস্তবতা নিয়ে। নিজের চোখের সামনে কাদার স্রোতে স্ত্রীকে হারিয়েছেন তিনি। চার ঘণ্টা পর হেলিকপ্টারে উদ্ধার করা হলেও এখনো স্ত্রীর কোনো সন্ধান পাননি এই বৃদ্ধ।   নেপালের নুয়াকোট জেলার বাসিন্দা কেশব গত বুধবার বাড়িতে ছিলেন। হঠাৎ পাহাড়ের দিক থেকে প্রবল গতিতে কাদা, পানি ও পাথরের স্রোত নেমে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই স্রোত ঢুকে পড়ে তার বাড়িতে। কেশব তখন স্ত্রীকে নিয়ে ঘরের উঁচু অংশে ওঠার চেষ্টা করেন। রয়টার্সকে দেওয়া বর্ণনায় তিনি বলেন, কাদার স্রোত যখন বাড়ির ভেতরে ঢুকতে শুরু করে, তখন তিনি স্ত্রীর হাত ধরে তাকে বারান্দার দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই স্রোতের শক্তি তাদের আলাদা করে দেয়। স্ত্রী তার হাত থেকে ছিটকে কাদার নিচে হারিয়ে যান।   চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর একটি হেলিকপ্টার কেশবকে উদ্ধার করে। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু স্ত্রীকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেশবের ভাষায়, তিনি এখনো কাদার নিচেই কোথাও আছেন এবং তার বেঁচে থাকার আশা নেই। কেশবের এই বর্ণনা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বুধবার নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় পাহাড়ধসের সঙ্গে প্রবল বন্যা শুরু হয়। ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর পানি ও কাদার স্রোত বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি পর্যটন ও তীর্থযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ পথও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   প্রাথমিকভাবে এই দুর্যোগের কারণ হিসেবে পাহাড়ি এলাকায় বরফ ও হিমবাহ ধসের কথা বলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিমবাহের একটি অংশ ধসে গিয়ে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও মাটি নিচের দিকে নেমে আসায় এই ভয়াবহ স্রোতের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ এখনো চলছে। দুর্যোগের পর উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, দেশটিতে শত শত মানুষ এখনো নিখোঁজ। ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ১৬৫টি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে রেডিও নেপাল। একই সময়ে নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, ৫৭৯ পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে নেপালি ও বিদেশি পর্যটক উভয়েই রয়েছেন।   নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, কানাডাসহ দুই ডজনের বেশি দেশের পর্যটকদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বতের গিরং এলাকায়ও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দুর্যোগের পর উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতুর কারণে। নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় বহু সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।   এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে রাজধানী কাঠমান্ডুর হাসপাতালগুলোতেও ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা। কেউ আহত স্বজনের খোঁজ করছেন, আবার কেউ নিখোঁজ স্বজনের কোনো তথ্য পাওয়ার আশায় সরকারি তালিকা ও উদ্ধারকেন্দ্রগুলোতে যোগাযোগ করছেন। কেশব প্রসাদ বারালের গল্প তাই শুধু একজন মানুষের বেঁচে ফেরার কাহিনি নয়। এটি কয়েক মুহূর্তের একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ কীভাবে একটি পরিবারের জীবন পুরোপুরি বদলে দিতে পারে, তারও নির্মম উদাহরণ। স্ত্রীকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করেও তাকে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। নিজে উদ্ধার হয়ে হাসপাতালে পৌঁছালেও এখনো অপেক্ষা করছেন এমন একটি খবরের জন্য, যা হয়তো আর কখনো আসবে না।   সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, রেডিও নেপাল।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার জাকুম্বা পর্বতমালার দুর্গম এলাকায় দুই দিন পর ২৫ বছরের এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ক্যালিফোর্নিয়ার মরুভূমিতে পথ হারিয়ে ২ দিন নিখোঁজ, উদ্ধার যুবক

মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ক্যালিফোর্নিয়ার দুর্গম মরুভূমি এলাকায় হারিয়ে যাওয়া ২৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে দুই দিন পর উদ্ধার করেছে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের বর্ডার প্যাট্রোলের এল সেন্ট্রো সেক্টর জানিয়েছে, দুর্গম পাথুরে এলাকায় আটকে পড়ার পর ওই ব্যক্তি বিপদসংকেত পাঠালে তাকে উদ্ধারে জরুরি অভিযান শুরু করা হয়।   বর্ডার প্যাট্রোলের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে সান দিয়েগো কাউন্টির কাছাকাছি জাকুম্বা পর্বতমালার পাথুরে এলাকায়। মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ওই ব্যক্তি মরুভূমির দুর্গম অংশে পথ হারিয়ে ফেলেন। এরপর প্রায় দুই দিন সেখানে আটকে ছিলেন। উদ্ধারের ছবি প্রকাশ করেছে বর্ডার প্যাট্রোল। ছবিতে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বড় একটি পাথরের আংশিক ছায়ায় বসে বা শুয়ে ছিলেন ওই ব্যক্তি। উদ্ধারকারীরা তার কাছে পৌঁছানোর পর শরীর ঠান্ডা রাখতে বরফ ব্যবহার করেন।   বর্ডার প্যাট্রোল জানায়, বিপদসংকেত পাওয়ার পর কর্মকর্তারা দ্রুত তার অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। জিপিএস প্রযুক্তির সাহায্যে তার অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। এরপর একাধিক সরকারি সংস্থার সহযোগিতায় আকাশপথে তল্লাশি চালানো হয়। তবে জাকুম্বা পর্বতমালার দুর্গম ও পাথুরে ভূখণ্ডের কারণে আকাশপথে সরাসরি সেখানে পৌঁছানোও সহজ ছিল না। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, কঠিন ভূপ্রকৃতি উদ্ধার অভিযানে বড় বাধা তৈরি করলেও তাকে খুঁজে বের করতে সব ধরনের উপলব্ধ সম্পদ কাজে লাগানো হয়।   অবশেষে কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তির সন্ধান পান। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসাকর্মীরা তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে কি না, তা দেখেন। প্রচণ্ড গরম ও দীর্ঘ সময় মরুভূমিতে অবস্থানের কারণে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বর্ডার প্যাট্রোল এক বিবৃতিতে জানায়, এ ধরনের প্রতিটি উদ্ধার অভিযানে দ্রুত সিদ্ধান্ত, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় এবং নিরলস প্রচেষ্টা প্রয়োজন হয়। এই ঘটনাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।   মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তাকে উদ্ধারের পর কোথায় নেওয়া হয়েছে বা তার বিরুদ্ধে পরবর্তী কী ধরনের অভিবাসন-সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। জাকুম্বা এলাকার সীমান্ত অঞ্চলটি অত্যন্ত দুর্গম ও পাথুরে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছাকাছি এই অঞ্চলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ঘটনাও আগে দেখা গেছে। ২০২৪ সালে জাকুম্বা হট স্প্রিংসের আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় মেক্সিকো, চীনসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সীমান্ত পেরিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে আশ্রয় চাওয়ার ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল।   তবে সীমান্ত পেরিয়ে দুর্গম মরুভূমিতে প্রবেশ করলে পথ হারানো, অতিরিক্ত গরম ও পানিশূন্যতার মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পাথুরে পাহাড়ি এলাকায় যানবাহন বা উদ্ধারকারী দলের সরাসরি পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় সামান্য বিপদও দ্রুত গুরুতর পরিস্থিতিতে পরিণত হতে পারে। এ ঘটনায় শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় যাতায়াতের ঝুঁকি আবারও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষী ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্ধার কার্যক্রমের গুরুত্বও স্পষ্ট হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
জন্ম থেকে ঘনিষ্ঠ তিন বোনের মধ্যে ভূমিকম্পের পর বেঁচে রইলেন শুধু আনিয়া মারিয়া। ছবি: সংগৃহীত
একসঙ্গে জন্ম, একসঙ্গে বেড়ে ওঠা: কলম্বিয়ার ভূমিকম্পে তিন বোনের মধ্যে বেঁচে রইলেন শুধু একজন, হারালেন বাবা-মাকেও

কলম্বিয়ার কালি শহরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন তিন বোনের দুইজন, যারা জন্ম থেকেই একসঙ্গে বড় হয়েছেন, একই বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং একসঙ্গে বিদেশেও ভ্রমণ করেছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় তিন বোনের মধ্যে এখন বেঁচে আছেন শুধু ২৩ বছর বয়সী আনিয়া মারিয়া।   ১৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কালি শহরের একটি ভবন ধসে পড়লে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন আনিয়া মারিয়া, তার তিনজনের মধ্যে দুই বোন সোফিয়া ও ইসাবেলা এবং তাদের বাবা-মা হাইরো হার্নান সাভেদ্রা ও ভিক্টোরিয়া কাইসেদো। পরিবারের আরেক সদস্যও এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।   উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে আনিয়া মারিয়ার বাবা-মাকে খুঁজে পান। পরে তার বোন সোফিয়ার সন্ধান মেলে। সর্বশেষ ইসাবেলাকে খুঁজে পাওয়া গেলেও তখন তিনি আর বেঁচে ছিলেন না। ১৩ আগস্ট রাতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   আনিয়া মারিয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হন। তার শ্রোণিতে একাধিক হাড় ভেঙেছে এবং দুই হাতেও আঘাত রয়েছে। পরে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কালি শহরের ইমবানাকো ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বজন ও বন্ধুরা হাসপাতালে তার পাশে রয়েছেন।   তিন বোনের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ছোটবেলা থেকেই তারা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছেন। একই বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের একটি সময় ফ্রান্সেও কাটিয়েছেন। বন্ধু ও স্বজনদের কাছে তারা ছিলেন সব সময় একসঙ্গে থাকা তিন বোন।   এই দুর্ঘটনার আগে তাদের জীবন ছিল অনেকটাই পরস্পরকে ঘিরে। একসঙ্গে পড়াশোনা, ঘোরাঘুরি এবং পারিবারিক সময় কাটানো ছিল তাদের জীবনের নিয়মিত অংশ। কয়েকদিনের ব্যবধানে সেই পরিবারের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে।   কলম্বিয়ার এই ভূমিকম্পে কালি শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পে অন্তত ২৮১ জন নিহত, প্রায় ৩ হাজার ৮০০ জন আহত এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজ চলার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে নতুন করে ধসের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি রয়েছে।   ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।   আনিয়া মারিয়ার পরিবারের এই ঘটনা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবারের ব্যক্তিগত শোকের একটি চিত্র তুলে ধরেছে। যে তিন বোন জন্ম থেকে একসঙ্গে ছিলেন, তাদের মধ্যে এখন একজনই বেঁচে আছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আনিয়া মারিয়াকে ঘিরে এখন তার স্বজন ও বন্ধুরাই হয়ে উঠেছেন প্রধান ভরসা।   সূত্র: ইউওএল, দ্য সান।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
টানা অনুসন্ধানের পর মা ও ১৮ দিনের শিশুকে নিরাপদে বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের নিচে ৩২ ঘণ্টা, জীবিত উদ্ধার মা ও ১৮ দিনের শিশু

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও আশার আলো দেখাল একটি উদ্ধার অভিযান। ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৩২ ঘণ্টা আটকে থাকার পর এক মা ও তার মাত্র ১৮ দিন বয়সী নবজাতককে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শহর কালি (Cali)-তে ধসে পড়া একটি ভবনের নিচে মা ও শিশুটি আটকা পড়েছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে টানা অনুসন্ধান চালানোর পর জরুরি সেবা বিভাগের সদস্য, দমকলকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার অভিযানের ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ধাপে ধাপে ভেতরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর তারা প্রথমে শিশুটিকে এবং পরে তার মাকে নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসেন। উদ্ধারস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা এ সময় করতালি ও উচ্ছ্বাসে উদ্ধারকারী দলকে অভিনন্দন জানান।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর কালি শহরসহ পশ্চিম কলম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। শত শত উদ্ধারকর্মী এখনো ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে দিনরাত কাজ করছেন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে জীবিত উদ্ধার অভিযানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়।   এপি, দ্য টাইমস এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, হাজারো মানুষ আহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।   এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও মা ও তার ১৮ দিনের নবজাতককে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাকে মানবিক সাহস, ধৈর্য এবং উদ্ধারকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টার এক বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি লাখো মানুষকে আবেগাপ্লুত করেছে এবং দুর্যোগের মাঝেও আশা হারিয়ে না ফেলার বার্তা দিচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
আইওয়ায় ভুল বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বার্তার কারণে উদ্ধার হন তিন ঘণ্টার বেশি কাদায় আটকে থাকা এক নারী। ছবি: সংগৃহীত
নির্জন এলাকায় ৩ ঘণ্টা কাদায় পড়েছিলেন বৃদ্ধা, অলৌকিকভাবে বাঁচাল একটি 'ভুল বার্তা'

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের একটি 'ভুল বার্তা' ৭৬ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার জীবন বাঁচিয়েছে। ভাঙা পা নিয়ে বাড়ির সামনের রাস্তায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কাদায় আটকে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ওই ভুল বার্তার সূত্র ধরেই সেখানে পৌঁছান বিদ্যুৎকর্মীরা এবং তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন।   আইওয়ার বুন কাউন্টির একটি নির্জন গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করেন পেনি লামার। গত ১০ জুন রাতে এলাকায় প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি হয়। পরদিন সকালে তিনি তার পোষা কুকুরগুলোকে বাইরে বের করতে এবং ঝড়ে বাড়ির কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা দেখতে বাইরে যান। ডায়াবেটিসের রোগী পেনি বাইরে যাওয়ার ঠিক আগেই ইনসুলিন নিয়েছিলেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেসিসিআই এবং সিএনএন নিউজসোর্স-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেনি লামার বলেন, বাড়ির সামনের রাস্তায় বা ড্রাইভওয়েতে বিশাল এক কাদার স্তূপ ছিল। সেখানে পা পিছলে তিনি মারাত্মকভাবে পড়ে যান। পতন এতটাই আকস্মিক ছিল যে, তার পা শরীরের নিচে বেঁকে যায় এবং তিনি আর উঠতে পারেননি।   পেনি লামারের স্বামী সে সময় কানাডায় ভ্রমণ করছিলেন। আর যেহেতু তারা একটি প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় থাকেন, তাই আশেপাশে এমন কোনো প্রতিবেশীও ছিলেন না, যিনি তাকে দেখতে পাবেন বা তার আর্তনাদ শুনতে পাবেন। উঠে দাঁড়াতে বা একটু নড়াচড়াও করতে পারছিলেন না তিনি। এভাবেই কাদায় শুয়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়ে যায়। পেনি বলেন, "সত্যি বলতে কী, আমি তখন ভাবছিলাম যে এভাবেই এখানে পড়ে থেকে আমাকে মরতে হবে।"   কিন্তু ঠিক তখনই ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা। মিডল্যান্ড পাওয়ার কো-অপারেটিভের একটি ট্রাক অপ্রত্যাশিতভাবে তার বাড়ির ড্রাইভওয়েতে এসে থামে। মূলত, কোম্পানির সিস্টেম থেকে একটি স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম বা সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল যে, ওই বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কর্মীরা সেখানে গিয়েছিলেন।   তবে সেখানে পৌঁছে তারা দেখেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। বরং ড্রাইভওয়েতে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে আছেন ওই বৃদ্ধা। পেনি লামারের উরুর হাড় (ফিমার) মারাত্মকভাবে ভেঙে গিয়েছিল। ইনসুলিন নেওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকায় তার রক্তে শর্করার মাত্রাও বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়েছিল। এছাড়া অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তিনি মারাত্মক রক্তশূন্যতায় (অ্যানিমিয়া) ভুগছিলেন। বিদ্যুৎকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ কল করেন এবং উদ্ধারকারী দল না আসা পর্যন্ত তার পাশেই অবস্থান করেন।   বর্তমানে পেনি লামার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার ক্ষতিগ্রস্ত পায়ে স্ক্রু ও রড বসিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। জীবন বাঁচানোর জন্য তিনি ওই বিদ্যুৎকর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।   নিজের বেঁচে যাওয়াকে এক অলৌকিক ঘটনা আখ্যা দিয়ে পেনি বলেন, "আমি মন থেকে বিশ্বাস করি যে সৃষ্টিকর্তা রহস্যময় উপায়ে কাজ করেন। এটি ছিল তার তেমনই এক রহস্যময় উপায় তিনিই মূলত বিদ্যুৎকর্মীদের কাছে ওই ভুল বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন।"   এদিকে, মিডল্যান্ড পাওয়ার কো-অপারেটিভ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যে কর্মীরা ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করেছেন, তাদের এই মহান কাজের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা জানানো হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
ইয়েলোস্টোন নদীতে ডুবন্ত ব্যক্তিকে ল্যারিয়েটের সাহায্যে উদ্ধার করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ১৪ বছরের জোরি থমাস। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে দড়ির ফাঁস ছুড়ে নদীতে ডুবতে থাকা মানুষকে বাঁচাল ১৪ বছরের কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যে পরিবারের সঙ্গে ক্যাম্পিংয়ে গিয়ে রোডিওতে ব্যবহৃত দড়ির ফাঁস (ল্যারিয়েট) ছুড়ে এক ডুবন্ত ব্যক্তির প্রাণ বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছে ১৪ বছর বয়সী জোরি থমাস। উপস্থিত বুদ্ধি, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং দারুণ দক্ষতায় তিনি যে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন, সেটিকে অনেকেই হলিউডের ওয়েস্টার্ন চলচ্চিত্রের দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করছেন।   ঘटनাটি ঘটে গত ৫ জুলাই মন্টানার গ্রেক্লিফ এলাকার ইয়েলোস্টোন নদীর তীরে। জোরি থমাস সেদিন পরিবারের সঙ্গে ক্যাম্পিং করছিলেন। হঠাৎ নদীর দিক থেকে সাহায্যের জন্য চিৎকার শুনে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, একটি ভেলা এবং একটি প্যাডেলবোর্ড সেতুর একটি স্তম্ভের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে চারজন নদীতে পড়ে যান। তাদের মধ্যে তিনজন সাঁতরে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও একজন ব্যক্তি একটি কুলার আঁকড়ে ধরে তীব্র স্রোতে ভেসে যাচ্ছিলেন। পরিস্থিতি দ্রুত আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছিল।   জোরি কোনো সময় নষ্ট না করে পকেট খালি করে নদীর তীর ধরে দৌড়ে ওই ব্যক্তির সমান্তরালে পৌঁছে যান। সৌভাগ্যক্রমে সেদিন ক্যাম্পিংয়ে তিনি সঙ্গে করে এনেছিলেন তার রোডিও প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত ল্যারিয়েট। এরপর দক্ষতার সঙ্গে দড়ির ফাঁস ছুড়ে প্রথম চেষ্টাতেই ডুবন্ত ব্যক্তিকে ধরতে সক্ষম হন। পরে বুকসমান গভীর ও প্রবল স্রোতের পানির মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে তাকে টেনে নিরাপদ তীরে নিয়ে আসেন। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছে উদ্ধারকাজের দায়িত্ব নেন।   জোরি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তখন তার মাথায় একটাই চিন্তা ছিল যেভাবেই হোক লোকটিকে পানির বাইরে নিয়ে আসতে হবে। তিনি জানান, গত এক বছর ধরে গবাদিপশুকে দড়ির ফাঁস দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার অনুশীলন করছিলেন। তবে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সেই দক্ষতা কাজে লাগাতে হবে—এমনটি কখনো ভাবেননি। মার্কিন সিনেটর স্টিভ ডেইনস জোরির সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে ‘মন্টানান অব দ্য মান্থ’ নির্বাচিত করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জোরি অত্যন্ত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, কঠিন পরিস্থিতিতে শান্ত থাকা এবং অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, যা তার বয়সের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত আচরণ।   এ ছাড়া সুইট গ্রাস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ও জোরিকে একটি ‘সার্টিফিকেট অব অ্যাচিভমেন্ট’ প্রদান করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, জোরি সেদিন দ্রুত উদ্যোগ না নিলে ডুবন্ত ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো না।   ঘটনার পর জোরির দাদি জানান, তাদের পরিবার প্রায়ই ওই ক্যাম্পগ্রাউন্ডে যায়। তবে সেদিনই প্রথম জোরি নিজের ল্যারিয়েট সঙ্গে নিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত এক ব্যক্তির জীবন বাঁচানোর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
গাড়িটি আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ার আগেই চালককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ছবি: সংগৃহীত
জ্বলন্ত গাড়ি থেকে খালি হাতে কাচ ভেঙে চালককে উদ্ধার, যুক্তরাষ্ট্রে সম্মানিত পুলিশ কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মহাসড়কের ওপর আগুনে জ্বলতে থাকা একটি গাড়ি থেকে চালককে জীবিত উদ্ধার করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ঝুঁকিপূর্ণ ওই অভিযানের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সাহসিকতার জন্য তাকে বিভাগটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননাও দেওয়া হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ এবং সাউথলেক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত ৭ জুন টেক্সাসের স্টেট হাইওয়ে ১১৪-এ। সাউথলেক পুলিশ বিভাগের করপোরাল জোশুয়া সুইশার জানান, সেদিন তিনি মহাসড়কের পাশে একটি যানবাহন থামিয়ে ট্রাফিক সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঠিক তখনই নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে একটি গাড়ি থেকে ঘন ধোঁয়া বের হওয়ার এবং সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ডের খবর পান।   তিনি জানান, বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার একটাই লক্ষ্য ছিল গাড়িটিকে নিরাপদ স্থানে থামিয়ে ভেতরে থাকা চালককে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই বের করে আনা। সাউথলেক পুলিশ বিভাগের প্রকাশ করা ড্যাশক্যাম ভিডিওতে দেখা যায়, ধোঁয়া বের হতে থাকা গাড়িটি সুইশারের পাশ দিয়ে চলে যায়। তিনি দ্রুত গাড়িটির পিছু নেন এবং সেটিকে মহাসড়কের পাশে থামাতে সক্ষম হন। কিন্তু গাড়িটি থামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।   ভিডিওতে আরও দেখা যায়, গাড়ির দরজা খুলতে গেলে আগুনের তাপে দরজার হাতল ভেঙে যায়। এতে চালককে বের করার পথ বন্ধ হয়ে যায়। এবিসি নিউজকে সুইশার বলেন, তখন তিনি বুঝতে পারেন, প্রচলিত উপায়ে দরজা খুলে চালককে বের করা সম্ভব নয়। তাই তিনি দস্তানা পরে গাড়ির জানালায় আঘাত করেন।   তার শরীরে ধারণ করা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ঘন কালো ধোঁয়ায় গাড়ির ভেতর প্রায় কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তারপরও তিনি জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। সুইশার বলেন, জানালার কাচ ভেঙে যাওয়ার পরই তিনি স্বস্তি পান, কারণ তখন অন্তত চালককে বের করার একটি পথ তৈরি হয়েছিল।   এরপর তিনি চালককে গাড়ি থেকে টেনে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পুরো গাড়িটি আগুনে পুড়ে যায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িতে চালক ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। তিনি মানসিকভাবে ভীত হলেও গুরুতর আহত হননি এবং নিজে হেঁটে ঘটনাস্থল ছেড়ে যেতে সক্ষম হন।   ঘটনার পর জোশুয়া সুইশার বলেন, "প্রতিদিন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় না। আমি শুধু খুশি যে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় ছিলাম এবং একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পেরেছি।"   এই সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ সাউথলেক পুলিশ বিভাগ তাকে মেরিটোরিয়াস কন্ডাক্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেছে। বিভাগটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই সম্মাননা কর্তব্য পালনের সময় অসাধারণ সাহস, পেশাদারিত্ব এবং জীবনঝুঁকি মোকাবিলার স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়।   পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অন্যের জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসার জন্যই এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।   সূত্র: এবিসি নিউজ, সাউথলেক পুলিশ বিভাগ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকারীদের তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে ১১ দিন বুকের দুধ খাইয়ে সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখেন মা

ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মায়ের গল্প ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, লা গুয়াইরা এলাকার একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে ওই মা টানা ১১ দিন বুকের দুধ খাইয়ে তার তিন সন্তানকে জীবিত রেখেছিলেন। পরে উদ্ধারকারীরা তাদের চারজনকেই জীবিত উদ্ধার করেন।   ভাইরাল পোস্টগুলোতে বলা হয়েছে, লা গুয়াইরার ওপিপি ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ওই মা নিজের বুকের দুধ খাইয়েই শিশুদের বাঁচিয়ে রাখেন। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যরা শেষ পর্যন্ত মা ও তার তিন সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করলে ঘটনাটি অনেকের কাছে 'অলৌকিক' হিসেবে বিবেচিত হয়। গল্পটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষ ওই মায়ের সাহস, আত্মত্যাগ ও মাতৃত্বের প্রশংসা করছেন। অনেকেই তাকে 'নায়ক' হিসেবে উল্লেখ করছেন।   তবে এ ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার সরকারি কর্তৃপক্ষ কিংবা আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।   কয়েকটি স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনাটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার কিছু অংশ এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এমনও আশঙ্কা করা হয়েছে যে, ভূমিকম্প-পরবর্তী বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানের তথ্য একসঙ্গে মিশে এই বর্ণনা তৈরি হয়ে থাকতে পারে।   ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পে লা গুয়াইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু ভবন ধসে পড়ে এবং হাজারো মানুষ হতাহত বা নিখোঁজ হন। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে একাধিক জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করার ঘটনাও ঘটেছে।   তবে ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা এক মা ১১ দিন ধরে বুকের দুধ খাইয়ে তিন সন্তানকে জীবিত রেখেছিলেন, এমন দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ও স্বাধীন নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত তথ্যের পরিবর্তে ভাইরাল দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
২৮ জুন ভেনেজুয়েলার লা গুইরা অঙ্গরাজ্যে ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজছে আর্জেন্টিনার অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলের একটি প্রশিক্ষিত কুকুর। ছবি: রয়টার্স
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪ দিন পর বাবা-ছেলে জীবিত উদ্ধার

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চার দিন আটকে থাকার পর এক বাবা ও তার ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। রোববারের এই উদ্ধার অভিযানে নতুন করে আশার আলো দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধারের পর বাবা ও ছেলেকে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানুষ উদ্ধারকারী দলের সাফল্যে স্বস্তি প্রকাশ করেন।   দেশটির উপকূলীয় লা গুইরা অঙ্গরাজ্য গত বুধবারের ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৪৫০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া হাজারো মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।   উদ্ধারকারী দল জানায়, বিশেষায়িত অনুসন্ধান ক্যামেরা ব্যবহার করে প্রায় ১২ ঘণ্টার টানা তল্লাশির পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা বাবা-ছেলের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাদের উদ্ধার করা হয়।   ফরাসি সিভিল সিকিউরিটির এক সদস্য বলেন, চার দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকায় তারা স্বাভাবিকভাবেই খুব দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তাদের শরীরে পানিশূন্যতা দূর করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে পুরো উদ্ধার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ধীরগতিতে সম্পন্ন করতে হয়েছে, যাতে নতুন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।   এলাকাটিতে উদ্ধার অভিযানে ফরাসি সিভিল সিকিউরিটির সদস্যদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ দলের সদস্যরাও অংশ নিচ্ছেন। এর আগের দিন একই এলাকায় এক মা ও তার নয় মাস বয়সী শিশুকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল।   সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় উদ্ধারকারীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর ৭২ ঘণ্টা অতিক্রম করলে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তাই প্রতিটি সফল উদ্ধারকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

Unknown জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
“আমেরিকা কাউকে ফেলে আসে না”—ইরানে দুঃসাহসিক অভিযানে উদ্ধার মার্কিন কর্নেল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ভেতরে পরিচালিত এক দুঃসাহসিক সামরিক উদ্ধার অভিযানের বর্ণনা দিয়েছেন, যা ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমেরিকা কখনো তার কোনো সন্তানকে পেছনে ফেলে আসে না।”   গত শুক্রবার রাতে ইসফাহান-এর দক্ষিণে একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। বিমানটির পাইলটকে দ্রুত উদ্ধার করা গেলেও অস্ত্র বিশেষজ্ঞ এক কর্নেল—যার কল সাইন ছিল “ডিউড ব্র্যাভো ৪৪”—শত্রুপূর্ণ এলাকায় গুরুতর আহত অবস্থায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।   ট্রাম্প জানান, ওই কর্নেল একা হাতে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যান। হাতে ছিল কেবল একটি হ্যান্ডগান, আর বিপরীতে ছিল ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী-এর সদস্যরা। তল্লাশিতে কুকুরও ব্যবহার করা হয়, কিন্তু তিনি কৌশলে স্থান পরিবর্তন করে পাহাড়ের দিকে উঠে যান এবং একটি পাথরের খাঁজে আশ্রয় নেন। রক্তক্ষরণ চললেও তিনি নিজেই প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।   প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর তিনি রেডিওতে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠান—“God is good”। প্রথমে এই বার্তাকে সন্দেহজনক মনে হলেও পরে নিশ্চিত হওয়া যায় এটি ওই কর্নেলেরই পাঠানো সংকেত। এরপরই শুরু হয় পূর্ণমাত্রার উদ্ধার অভিযান।   মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানায়, এই অভিযানে মোট ১৫৫টি সামরিক বিমান অংশ নেয়, যার মধ্যে যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী এবং উদ্ধারকারী বিমান ছিল। জন র‍্যাটক্লিফ বলেন, সিআইএ বিভ্রান্তিমূলক কৌশল ব্যবহার করে ইরানি বাহিনীকে বিভ্রান্ত রাখে এবং উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় কর্নেলের অবস্থান শনাক্ত করে।   অভিযানের শেষ পর্যায়ে একটি কৃষিজমিতে হেলিকপ্টার নামিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। তবে ভেজা বালিতে বিমান আটকে পড়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তবুও বিকল্প পরিকল্পনা ব্যবহার করে সফলভাবে কর্নেলকে উদ্ধার করা হয়। বিস্ময়করভাবে, পুরো অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা প্রাণ হারাননি, যদিও একটি হেলিকপ্টার গুলিবিদ্ধ হয়েছিল।   ড্যান কেইন, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান, বলেন—এই অভিযানের সাফল্যের মূল ছিল ওই কর্নেলের বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছাশক্তি। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পুরো ঘটনাকে ইস্টার উইকেন্ডের সঙ্গে মিলিয়ে এক আবেগঘন বিবরণ দেন।   এই অভিযানকে মার্কিন সামরিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল ও সাহসী উদ্ধার অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষায়, এটি শুধু একটি সামরিক সাফল্য নয়—বরং একটি বার্তা, “আমরা কাউকে ফেলে আসি না।”

Unknown এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
দৌলতদিয়ায় মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা: ১৬ মরদেহ উদ্ধার, শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসের উদ্ধারকাজ সরাসরি মনিটরিং করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বুধবার (২৫ মার্চ) মধ্যরাতে সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এক প্রেস বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।   মন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এবং ডুবুরি দল কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিসি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, নৌপুলিশ এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা সমন্বিতভাবে উদ্ধার তৎপরতায় অংশগ্রহণ করছে।   মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন এবং দ্রুততম সময়ে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সব সংস্থাকে নির্দেশনা দিয়েছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে।   উদ্ধার কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী এবং অন্যান্য কর্মকর্তাগণ। দুর্ঘটনায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পর্যন্ত ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

Unknown মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
দৌলতদিয়ায় পদ্মা থেকে বাস উদ্ধার, ভেতর থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধার

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাসটি তোলার পর ভেতর থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধার করতে দেখা গেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, ছয়জন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে।   উদ্ধারকারী সূত্র জানায়, বাসটির দরজা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। ভেতর থেকে স্কুলব্যাগ, জুতা-স্যান্ডেল, ভ্যানিটি ব্যাগসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভেসে উঠতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য তিনটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।   নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে ঘাট এলাকায় ভিড় করছেন পরিবার-পরিজনের সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে রোকন বলেন, তাঁর বন্ধুর ছোট বোন ও তার স্বামী ওই বাসে করে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর থেকে এখনো তাঁদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।   আরেক স্বজন শরিফুল ইসলাম জানান, তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাসে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে স্ত্রী, মেয়ে ও এক আত্মীয় সাঁতরে উঠতে পারলেও সাত বছরের ছেলে ও ১১ বছর বয়সী ভাগ্নে এখনও নিখোঁজ। তিনি বলেন, “আমার আর কিছু লাগবে না, শুধু আমার সন্তানের লাশটা আমাকে বুঝিয়ে দিন।”   নিখোঁজ দুই নাতির জন্য অপেক্ষা করছেন নবীজ উদ্দিন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার নাতি-নাতনি বাসে ছিল। তাদের জন্য অপেক্ষা করছি।” ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন জানান, প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষার সময় ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ছোট ফেরি পন্টুনে আঘাত করলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। উদ্ধারকারীরা আশঙ্কা করছেন, এখনও আরও যাত্রী বাসের ভেতরে আটকা থাকতে পারেন।

Unknown মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই কাতারে সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
কারিগরি ত্রুটিতে কাতারি জলসীমায় সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই কাতারের জলসীমায় দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। নিয়মিত মিশন পরিচালনার সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে গালফ নিউজ। দুর্ঘটনার পরপরই হেলিকপ্টারের ক্রু ও যাত্রীদের উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।   কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দলগুলো বর্তমানে নির্ধারিত জলসীমায় নিবিড় তল্লাশি চালাচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে হেলিকপ্টারটিতে ঠিক কতজন আরোহী ছিলেন, সে বিষয়ে কাতার সরকার এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।   আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই দুর্ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সম্প্রতি ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত জোরালো হলে কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালায় ইরান। যদিও অধিকাংশ হামলা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, তবুও এই সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যেই কারিগরি ত্রুটির কারণে কাতার সেনাবাহিনীর এই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর সামনে এলো।

তাবাস্সুম মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে চাকরির সুযোগ

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০