যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তার উত্তরসূরি ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রতিশোধ নেওয়া ইরানি জাতির দাবি এবং তা বাস্তবায়ন করতেই হবে।
প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মোজতবা খামেনি বলেন, তার ‘নিষ্পাপ রক্ত’ এবং সাম্প্রতিক সংঘাতে নিহত সব মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের জবাবদিহির মুখোমুখি করা হবে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তদের পরিচয় ইরানের কাছে রয়েছে এবং তারা কোনোভাবেই শাস্তি এড়াতে পারবে না। তাদের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তাও দেন তিনি।
মোজতবা খামেনি আরও বলেন, এই প্রতিশোধ কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কর্মকর্তার জীবনের ওপর নির্ভরশীল নয়। তার ভাষায়, “আমরা থাকি বা না থাকি, এই প্রতিজ্ঞা খুব শিগগিরই পূরণ করা হবে।” তার এই বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরে সমর্থকদের মধ্যে দৃঢ় অবস্থানের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি তাকে হত্যা করে বা এ ধরনের কোনো চেষ্টা চালায়, তাহলে দেশটিকে কঠোর সামরিক জবাবের মুখে পড়তে হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এর আগে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে ইরানের কথিত হত্যাচক্রান্ত সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের নতুন কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ খামেনি, মা ও স্ত্রী নিহত হন এবং তিনি নিজেও আহত হন। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে থেকে লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই ধরনের বক্তব্য ও পাল্টা হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এ অবস্থায় নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সূত্র: ফার্স নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর সফরের সময় ইসরায়েলি সেটেলার ও সেনাবাহিনীর হাতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেসম্যান রো খান্না। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এম-৪ রাইফেলধারী সেটেলাররা তার বহরের পথরোধ করে এবং পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে সেটেলারদের পক্ষেই অবস্থান নেয়। রয়টার্সের বরাত দিয়ে আল আরাবিয়া জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীরের একটি ফিলিস্তিনি গ্রামে অবস্থানকালে রো খান্না এ অভিযোগ করেন। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত এই মার্কিন আইনপ্রণেতা বলেন, বুধবার দক্ষিণ পশ্চিম তীরের খিরবেত যানুতা এলাকায় সফরের সময় তাদের বহরের মাইক্রোবাস ঘিরে ফেলে ইসরায়েলি সেটেলাররা। খান্নার ভাষ্য, তিনি এমন একটি গ্রাম পরিদর্শন করছিলেন, যেটি সেটেলারদের হামলায় ধ্বংস হয়েছে। তার দাবি, সেখানে স্কুল ও অন্যান্য স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় সশস্ত্র সেটেলাররা তাদের পথ আটকে দেয় এবং পরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) ডেকে আনে। তিনি বলেন, “তারা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এম-৪ রাইফেল নিয়ে আসে, রাস্তা বন্ধ করে দেয় এবং আমাদের আটকে রাখে। পরে আইডিএফ আসে, কিন্তু তারা আমেরিকানদের নয়, সেটেলারদের পক্ষেই অবস্থান নেয়।” খান্নার সফরসঙ্গী ক্যামেরন কাস্কি জানান, তাদের এক ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে তারা জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কাছে সহায়তা চান। পরে পুলিশ বলে মনে হওয়া একদল কর্মকর্তা এসে হস্তক্ষেপ করলে তারা ঘটনাস্থল ছেড়ে যেতে সক্ষম হন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, খিরবেত যানুতার কাছে কিছু যানবাহন সেটেলাররা আটকে রেখেছে—এমন খবর পাওয়ার পর সেনা ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যায়। তাদের দাবি, সেখানে পৌঁছে তারা ইসরায়েলি বেসামরিকদের ছত্রভঙ্গ করে এবং আটকে পড়া যানবাহনগুলোকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ করে দেয়। খিরবেত যানুতা দক্ষিণ হেবরন এলাকার একটি ছোট ফিলিস্তিনি গ্রাম। ২০২৩ সালে হামাসের হামলার পর ওই এলাকায় ইহুদি সেটেলারদের হামলার মুখে গ্রামটির বাসিন্দারা বাস্তুচ্যুত হন এবং বহু স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর থেকে এলাকাটি নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্যের জন্য ইসরায়েলি পুলিশ ও জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রো খান্নার অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পাকিস্তানের করাচির কুলসুম বাই ভ্যালিকা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আরও দুই শিশুর শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে হাসপাতালটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এইচআইভি আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ জনে। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, নতুন শনাক্ত হওয়া দুই শিশুর একজন করাচির মেট্রোভিল এলাকার মাত্র তিন বছর বয়সী একটি শিশু। তার বাবা জানান, বুকের সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য তাকে সিন্ধ এমপ্লয়িজ' সোশ্যাল সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশন (SESSI) পরিচালিত ভ্যালিকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ ধরা পড়ে। শিশুটির বাবা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরও তার মেয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হয়ে আরও অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকদের পরামর্শে অতিরিক্ত পরীক্ষা করানোর পর এইচআইভি শনাক্ত হয়। এর আগে সিন্ধ প্রদেশের শ্রমমন্ত্রী সাঈদ ঘানি জানিয়েছিলেন, ভ্যালিকা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া অন্তত ৭৮ শিশুর শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। সর্বশেষ আরও দুই শিশুর সংক্রমণ ধরা পড়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ জনে পৌঁছেছে। ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে সাঈদ ঘানি বলেন, কীভাবে এতসংখ্যক শিশু সংক্রমিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। এদিকে চলতি মাসের শুরুতে সিন্ধ হাইকোর্ট প্রাদেশিক সরকারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের ঘটনায় ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। একটি রিট আবেদনের শুনানিতে আদালত এ নির্দেশ দেন। ওই আবেদনে অভিযোগ করা হয়, হাসপাতালের অবহেলার কারণে প্রায় ২০০ শিশু এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে। আবেদনকারী পক্ষের দাবি, ২০২৫ সালে হাসপাতালটিতে দূষিত সিরিঞ্জ পুনর্ব্যবহারের কারণে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে এ অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিশ্চিত করতে সিন্ধ এমপ্লয়িজ' সোশ্যাল সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশন (SESSI) ২০০ কোটি পাকিস্তানি রুপি ব্যয়ে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই তহবিল থেকে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচআইভি সংক্রমণের উৎস নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণ প্রতিরোধে জীবাণুমুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।
হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে ছুটি কাটাতে গিয়ে নিহত হওয়া মার্কিন নাগরিক ম্যাকেঞ্জি মিচালস্কিকে হত্যার দায়ে এক আইরিশ নাগরিককে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে সাজা শেষ হলে তাকে হাঙ্গেরি থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং ডব্লিউকেবিডব্লিউ ৭ নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বুদাপেস্ট মেট্রোপলিটন কোর্ট এই রায় দেন। নিহত ম্যাকেঞ্জি মিচালস্কি (৩১) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ফ্রেডোনিয়ার বাসিন্দা ছিলেন। পরে তিনি ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে বসবাস শুরু করেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি হাঙ্গেরিতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। গত বছরের ৫ নভেম্বর বুদাপেস্টের একটি নাইটক্লাব থেকে বের হওয়ার পর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে তার পরিবার নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের সময় আশপাশের নাইটক্লাবগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ দেখতে পায়, নিখোঁজ হওয়ার রাতে ম্যাকেঞ্জি এক ব্যক্তির সঙ্গে বিভিন্ন ক্লাবে ছিলেন। পরে সেই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে ৭ নভেম্বর আটক করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি, যাকে আদালতের নথিতে এল.টি.এম. নামে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তদন্তে জানা যায়, নাইটক্লাবে পরিচয়ের পর দুজন অভিযুক্তের ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে যান। সেখানে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সময় একপর্যায়ে অভিযুক্ত ম্যাকেঞ্জিকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। ঘটনার পর তিনি এটিকে দুর্ঘটনা বলে দাবি করলেও তদন্তকারীরা জানান, হত্যার পর তিনি ঘটনাটি গোপন করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রথমে অ্যাপার্টমেন্ট পরিষ্কার করেন, পরে মরদেহ একটি আলমারিতে লুকিয়ে রাখেন। এরপর একটি বড় স্যুটকেস কিনে মরদেহ সেটির মধ্যে রাখেন। এরপর একটি গাড়ি ভাড়া নিয়ে বুদাপেস্ট থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে বালাটন হ্রদের কাছে সিজলিগেট এলাকার একটি বনাঞ্চলে মরদেহ ফেলে দেন। তদন্তকারীরা আরও জানান, গ্রেপ্তারের আগে অভিযুক্ত ইন্টারনেটে কীভাবে মরদেহ গোপন করা যায়, নিখোঁজ ব্যক্তির মামলায় পুলিশের তদন্ত পদ্ধতি কী, মৃতদেহ প্রাণী খেয়ে ফেলে কি না এবং বালাটন হ্রদ এলাকায় বুনো শূকর রয়েছে কি না, এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান করেছিলেন। পুলিশ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পরে অভিযুক্ত নিজেই তদন্তকারীদের মরদেহ ফেলে দেওয়া স্থানে নিয়ে যান। বিচার শেষে আদালত তাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন। রায় অনুযায়ী, ইতোমধ্যে আটক অবস্থায় কাটানো প্রায় দেড় বছর এই সাজা থেকে সমন্বয় করা হবে। এছাড়া তাকে আদালতের ব্যয় বাবদ ২৫ লাখ হাঙ্গেরিয়ান ফরিন্ট (প্রায় ৮ হাজার মার্কিন ডলার) পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্তের আইনজীবী এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। ম্যাকেঞ্জি মিচালস্কির মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রেডোনিয়া এবং হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে তার স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। ঘটনাটি সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও হাঙ্গেরি উভয় দেশেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।