যুদ্ধের কঠিন সংকটেও সক্ষমতার প্রমাণ, ড্রোন উৎপাদন ৩ গুণ বাড়ালো ইরান
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা তিন গুণ বৃদ্ধি করেছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সবচেয়ে কঠিন সময়েও প্রতিরক্ষা উৎপাদন বন্ধ হয়নি, বরং ওই সময়েই ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ-এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। তার ভাষায়, “সাম্প্রতিক যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে ইরানের মেধাবী জনশক্তি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগই দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।”
তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধের সবচেয়ে কঠিন সময়েও প্রতিরক্ষা উৎপাদন বন্ধ হয়নি। বরং ওই সময়েই ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।”
ইরানের দাবি, যুদ্ধকালীন সময়ে প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর উন্নয়ন, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) খাতে বিনিয়োগ এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে এই উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। দেশটি বলছে, দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার যে নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তারই ফল এখন দৃশ্যমান হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের ড্রোন প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ধরনের নজরদারি ও হামলায় সক্ষম ড্রোন তৈরির দাবি করে আসছে তেহরান। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এবং তাদের মিত্ররা ইরানের ড্রোন কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে।
অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের এ ধরনের দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। তবে ইরানের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি কমেছে। বুধবারের দরপতনে দুই ধরনের বেঞ্চমার্ক তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সৌদি সময় সকাল ৭টা ৪৭ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৩০ ডলার বা ২.৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৬.২৮ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২.০৮ ডলার বা ২.৫৩ শতাংশ কমে ৮০.২৯ ডলারে নেমে আসে। এর আগে ব্রেন্ট ১৩ আগস্টের পর এবং ডব্লিউটিআই ১০ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। এর আগের দিন মঙ্গলবারও দুই বেঞ্চমার্কের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছিল। তেলের বাজারে এই দরপতনের প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের চালান পরিবহন করা হতো। বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার তেহরানে বৈঠকে বসেন ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে একটি যৌথ অস্থায়ী নৌ চলাচল করিডর চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে প্রণালিটি মাইনমুক্ত করার জন্য যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। ওমান ও ইরানের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশ নিরাপদ নৌ চলাচল পুনরায় চালুর জন্য ধাপে ধাপে একটি কাঠামো তৈরির বিষয়ে আলোচনা করেছে। ভবিষ্যতে স্থায়ী নৌ চলাচল করিডর, জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা, তথ্য আদান প্রদান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে আরও কারিগরি আলোচনা হবে। তবে এখনো হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি পার হয়েছে। এর মধ্যে দুটি এলপিজি ট্যাংকার ও একটি বিটুমিন ট্যাংকার ছিল, পাশাপাশি দুটি খালি প্রোডাক্ট ট্যাংকারও চলাচল করেছে। যেখানে আগের ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১৫টি জাহাজ। ফুজিতোমি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক মিৎসুরু মুরাইশি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে তেল বিক্রির চাপ বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় কিছু বিনিয়োগকারী কম দামে তেল কিনছেন, ফলে দরপতন সীমিত থাকছে। এদিকে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রও নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। ওয়াশিংটন সোমবার ইরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে এবং তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোকেও শাস্তির হুমকি দিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জরিমানা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুতও বেড়েছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২১ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির ক্রুড অয়েল ইনভেন্টরি প্রায় ৪২ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকেরা গড়ে প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বুধবার মজুতের সরকারি তথ্য প্রকাশ করার কথা। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের অবসান নিয়েও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরানে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনায় সংঘাতের অবসান ও শান্তির পথ নিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে স্থায়ীভাবে জাহাজ চলাচল কবে স্বাভাবিক হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের বিশাল গুদাম আগুনে পুড়ে ধ্বংস
‘ঈদ মোবারক’ লিখে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি
চাঁদে পৌঁছানোর পথের হিসাব করেছিলেন নাসার এই গণিতবিদ, ১০১ বছর বয়সে মৃত্যু
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সের এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ দাবি করা হয়েছে। খবরটি প্রকাশ্যে আসে নেতানিয়াহু ইরান তার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল বলে দাবি করার একদিন পর। নিউজম্যাক্সের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, ইসরাইলি গোয়েন্দারা গত বছরের ডিসেম্বরে জানতে পারে, ফ্লোরিডায় অবস্থানরত ইয়াইরকে হত্যার পরিকল্পনা করছে ইরান। ৩৫ বছর বয়সী ইয়াইর নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় এবং গত কয়েক বছর ধরে বেশির ভাগ সময় মিয়ামি এলাকায় বসবাস করছিলেন। মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওই সূত্রের দাবি, ইরানের হয়ে কাজ করা একটি দল মিয়ামি এলাকায় অবস্থান নিয়ে ইয়াইরের চলাফেরা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল। ইসরাইলি গোয়েন্দারা বিষয়টি জানার পর তাকে দ্রুত ফ্লোরিডা ছেড়ে ইসরাইলে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সতর্কবার্তা পাওয়ার পর ইয়াইর দ্রুত ফ্লোরিডা ছাড়েন। এমনকি নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ পাননি। এরপর থেকে তিনি ইসরাইলেই বসবাস করছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর আগে সোমবার ইসরাইলের চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ইরান তার দুই ছেলের একজনকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে তখন তিনি কোন ছেলে লক্ষ্যবস্তু ছিলেন, কখন ঘটনাটি ঘটেছে বা কীভাবে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। নিউজম্যাক্সের প্রতিবেদনে ইয়াইরকেই কথিত হামলার লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, এই দাবির বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি। টাইমস অব ইসরাইলও জানিয়েছে, মার্কিন সূত্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ইয়াইরকে লক্ষ্য করার বিষয়টি সামনে এসেছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর এই দাবি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র এবং নেতানিয়াহুর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা চলছে। নেতানিয়াহু তার ছেলেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে কথিত হত্যাচেষ্টার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। তবে ইরান এখন পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া দিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। ফলে ফ্লোরিডায় ইয়াইরকে ঘিরে কথিত হত্যাচেষ্টার বিস্তারিত তথ্য এখনো মূলত গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রনির্ভর প্রতিবেদনেই সীমাবদ্ধ।
পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা এলাকায় আঘাত হেনেছিল ভারতের ড্রোন, লক্ষ্য ছিল রাডার
বিড়ালের ডাক ভেবে এগিয়ে যেতেই আবর্জনার স্তূপে মিলল নবজাতক
দক্ষিণ কোরিয়া যেতে চেয়েছিলেন, শহরের নামের ভুলে পৌঁছে গেলেন উত্তর কোরিয়ায়
ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ট্রেন্ড অনুসরণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন এক তরুণ। তার গাড়িজুড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪০০টি লিপস্টিকের চুমুর দাগ দেওয়ার পর ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। পরে সেই ছবি দেখে গাড়িটি শনাক্ত করে ট্রাফিক পুলিশ এবং নিয়ম ভাঙার অভিযোগে ৫ হাজার ৫০০ রুপি জরিমানা করা হয়। গাড়িটির মালিক আদিত্য সিকারওয়ার। জানা গেছে, অনলাইনে দেখা একটি ট্রেন্ড থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তার প্রেমিকা গাড়িটিতে একের পর এক লিপস্টিকের ছাপ দেন। হাজার হাজার চুমুর দাগ দিতে সময় লাগে প্রায় চার ঘণ্টা। ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ট্রাফিক পুলিশের নজরেও আসে। ভাইরাল ছবিতে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর স্পষ্ট থাকায় সেটি শনাক্ত করতে পুলিশের বেশি সময় লাগেনি। পরে পুলিশ গাড়িটি জব্দ করে আদিত্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে ৫ হাজার ৫০০ রুপি জরিমানা করে। পরে গাড়ি থেকে সব লিপস্টিকের দাগ পরিষ্কার করে সেটি ধুয়ে ফেলা হয়। নিজের ভুলও স্বীকার করেন আদিত্য। প্রেমের অভিনব প্রকাশ হিসেবে শুরু হওয়া ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত জরিমানা ও গাড়ি পরিষ্কারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ট্রেন্ড ভাইরাল হলেই তা অনুসরণ করার আগে সংশ্লিষ্ট আইন ও নিয়ম সম্পর্কে সতর্ক থাকার বিষয়টিও সামনে এনেছে ঘটনাটি।
সাত বছর পর ভারতে শি জিনপিং, ৪০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে সফরের সম্ভাবনা
নাসার ইন্টার্নশিপের তৃতীয় দিনেই ১৭ বছরের কিশোরের গ্রহ আবিষ্কার