ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত বন্ধে সব পক্ষকে চীনের আহ্বান
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালির সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন সরকার। তারা সব পক্ষকে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তা একটি ‘ভয়াবহ দুষ্টচক্রে’ রূপ নেবে, যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সংঘাত চলতে থাকলে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে যাবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের ওপর চাপ ও সামরিক হুমকির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
লিন জিয়ান বলেন, কোনো সমস্যার সমাধানে শক্তি প্রয়োগ কেবল প্রতিশোধের জন্ম দেয় এবং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। চীনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এই যুদ্ধের সূচনা হওয়া উচিত ছিল না।
তিনি আরও জানান, বেইজিং সব পক্ষকে অবিলম্বে অস্ত্রবিরতি দিয়ে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছে এবং কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreঅস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ‘স্কোয়াটার্স রাইটস’ বা অ্যাডভার্স পজেশন আইনের সুযোগ নিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে একটি বাড়ির মালিকানা পাওয়ার ঘটনায় ৭৮ বছর বয়সী মার্গারেট কোলকুহুনকে দুই বছর চার মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার ছেলে অ্যান্ড্রু কোলকুহুনকে ১৮ মাসের কমিউনিটি কারেকশন অর্ডার দেওয়া হয়েছে। তবে মার্গারেটের স্বামী ও সিডনির সাবেক আইনজীবী পিটার কোলকুহুন অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে আলোচিত এ মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সিডনির গ্লেব এলাকার ৬১ বয়েস স্ট্রিটের একটি বাড়ি। আদালতের নথি ও অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্পত্তিটির মালিক ছিলেন আনসিস নিল্যান্ডস। ১৯৯৫ সালে তার মৃত্যুর পর সম্পত্তিটির উত্তরাধিকার নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। নিউ সাউথ ওয়েলসে অ্যাডভার্স পজেশনের মাধ্যমে কোনো সম্পত্তির মালিকানা দাবি করতে সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে মালিকের অনুমতি ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন ও একচ্ছত্র দখলের প্রমাণ দিতে হয়। এ ব্যবস্থাই সাধারণভাবে ‘স্কোয়াটার্স রাইটস’ নামে পরিচিত। মার্গারেট ও অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা সম্পত্তিটির দখল নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এমন তথ্য দিয়েছিলেন, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিল ছিল না। বিশেষ করে তারা দাবি করেছিলেন, ২০০০ সালের নভেম্বরের দিকে বাড়িটির প্রকৃত দখল নিয়েছিলেন। এই সময়সীমা তাদের অ্যাডভার্স পজেশন দাবির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটি তখন পুরোপুরি পরিত্যক্ত ছিল না। বিচারক অ্যালিস্টার অ্যাবাডি মামলার তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে মার্গারেট ও অ্যান্ড্রুকে প্রতারণার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। মার্গারেট ২০০৪ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বাড়িটি ভাড়া দিয়ে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার রেন্ট আদায় করেছিলেন বলেও আদালতে উঠে আসে। পরবর্তীতে সম্পত্তিটির মালিকানা তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ২০২২ সালে গ্লেবের বাড়িটি প্রায় ৩.৬৭ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারে বিক্রি করা হয়। সাজা ঘোষণার সময় বিচারক মার্গারেট ও তার ছেলের আচরণের সমালোচনা করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে তাদের কর্মকাণ্ডে প্রতারণামূলক আচরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মার্গারেট ২০২৭ সালের অক্টোবরে প্যারোলের জন্য যোগ্য হবেন। অ্যান্ড্রুকে কারাগারে না পাঠিয়ে ১৮ মাসের কমিউনিটি কারেকশন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে তার পারিবারিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, তিনি নয় সন্তানের প্রধান দেখাশোনাকারী। অন্যদিকে পিটার কোলকুহুনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের অভিযোগ ছিল, পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। তবে আদালত সেই অভিযোগ প্রয়োজনীয় মানদণ্ডে প্রমাণিত হয়নি বলে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেননি। মামলাটি অস্ট্রেলিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে কারণ অ্যাডভার্স পজেশনের মাধ্যমে সম্পত্তি দাবি করার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রতারণার অভিযোগে ফৌজদারি বিচারের এমন নজির অত্যন্ত বিরল। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এটিকে দেশটিতে এ ধরনের প্রথম সফল ফৌজদারি মামলার নজির হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই রায় একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য সামনে এনেছে। অ্যাডভার্স পজেশন নিজে অবৈধভাবে সম্পত্তি দখলের সমার্থক নয়। নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ হলে এর মাধ্যমে মালিকানা দাবি করা সম্ভব। কিন্তু সেই দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য দখলের সময়কাল বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা উপস্থাপন করলে তা ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে যেতে পারে।
যুদ্ধের এক দশকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে উন্নয়নের বহু বছর পিছিয়ে ইয়েমেন, দায় হুথিদের!
এই ফল এই ন্যাটোর কোনো মিত্র দেশে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া! সতর্ক করল মার্কিন গোয়েন্দারা
অ্যাসাইলাম সিকারদের জোর করে পলাতে বাধ্য করা হচ্ছে টানা তিনবারের মতো! থেটফোর্ডে উত্তেজনা থামছেই না
কোনো ধরনের জ্বালানি ব্যবহার না করেই ৩ হাজারের বেশি নটিক্যাল মাইল সমুদ্রপথ অতিক্রম করে নতুন নজির গড়েছেন উদ্ভাবক লুকাস শোমান। নিজের হাতে তৈরি ১১ মিটার দীর্ঘ সৌরচালিত ইয়ট ‘হেলিওস ১১’ নিয়ে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন উপকূল ঘুরে সম্পূর্ণ সৌরশক্তির ওপর নির্ভর করে এই দীর্ঘ যাত্রা সফলভাবে শেষ করেছেন। প্রচলিত বৈদ্যুতিক ইয়টের মতো ঘন ঘন মেরিনায় গিয়ে চার্জ নেওয়ার প্রয়োজন হয় না ‘হেলিওস ১১’-এর। ইয়টটির ছাদে বসানো রয়েছে ১০টি সাধারণ আবাসিক সৌর প্যানেল, যা একটি ২৪ কিলোওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারি প্যাককে চার্জ দেয়। সর্বোচ্চ সূর্যালোকে এটি প্রায় ৪ হাজার ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, যা ৬ কিলোওয়াটের বৈদ্যুতিক আউটবোর্ড মোটর চালানোর পাশাপাশি নোঙর অবস্থায় ব্যাটারিও পূর্ণ চার্জ করতে সক্ষম। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, পুরো ইয়টটি নির্মাণে লুকাস শোমানের খরচ হয়েছে আনুমানিক ২০ হাজার ৭২৪ মার্কিন ডলার। তার হিসাবে, ব্যাটারি প্যাকে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮৮১ ডলার, বৈদ্যুতিক মোটরে ৪ হাজার ৬০০ ডলার এবং সৌর প্যানেলের খরচ ৯০০ ডলারেরও কম। তুলনামূলকভাবে কম খরচে পরিবেশবান্ধব নৌযান তৈরি করা সম্ভব এটাই দেখাতে চেয়েছেন তিনি। লুকাস শোমান জানান, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল প্রমাণ করা যে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তার আশা, এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের পরিবেশসচেতন নৌভ্রমণপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করবে। 'হেলিওস ১১'-এর আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর মাত্র আধা মিটার গভীর ড্রাফট। ফলে বড় ইয়ট যেখানে পৌঁছাতে পারে না, সেখানকার অগভীর উপকূল ও নিরিবিলি নোঙরস্থলেও সহজেই চলাচল করতে পারে এই নৌযান। নকশাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে কম শক্তি ব্যবহার করেও দীর্ঘ সময় স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে সমুদ্রে চলাচল সম্ভব হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌরশক্তিনির্ভর নৌযান এখনো মূলধারার প্রযুক্তি না হলেও ‘হেলিওস ১১’-এর মতো প্রকল্প ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব সামুদ্রিক পরিবহনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। বাস্তব ব্যবহারে এমন প্রযুক্তির সফলতা টেকসই নৌপরিবহনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইসলামিক পোশাক পরে ডিউটিতে বাধা, এনএইচএসের বিরুদ্ধে আদালতে মুসলিম কর্মী
পারিবারিক ‘সম্মান’ রক্ষার নামে নিজের মেয়েকে খুন করালেন বাবা
অবরুদ্ধ বাড়ি থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুর প্রাণ বাঁচালেন পুলিশ, মর্মান্তিক এই ঘটনায় প্রাণ গেল গর্ভবতী মায়ের
ডেনমার্কের ১৯ বছর বয়সী রাজকুমারী ইসাবেলা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় যোগ দিয়েছেন। ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ডেনমার্ক যখন সামরিক নিয়োগ সম্প্রসারণ করছে, ঠিক সেই সময়েই দেশটির রাজপরিবারের এই সদস্যের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজকুমারী ইসাবেলা হলেন ডেনমার্কের রাজা দশম ফ্রেডেরিক এবং রানি মেরির কন্যা। রাজপরিবারের সদস্য হলেও দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তিনি সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। তিনি ১ হাজার ৬০০ নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যের সঙ্গে মোট ১১ মাসের সামরিক সেবা সম্পন্ন করবেন। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ মাস থাকবে মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং পরবর্তী ছয় মাস থাকবে কার্যকরী সামরিক দায়িত্ব। তিনি স্লাগেলসে শহরে অবস্থিত গার্ড হুসার রেজিমেন্টে প্রশিক্ষণ নেবেন বলে জানানো হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া, আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং উত্তর ইউরোপে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদারের প্রেক্ষাপটে ডেনমার্ক সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্যও ডেনমার্কে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনাকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কৌশলগত ও প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ হওয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক—দুই পক্ষই বারবার স্পষ্ট করেছে, অঞ্চলটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো ধরনের দাবি তারা গ্রহণ করবে না। প্রতিরক্ষা সংস্কারের অংশ হিসেবে ডেনমার্ক সামরিক নিয়োগে নারীদেরও বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। একই সঙ্গে আগে যেখানে সামরিক সেবার মেয়াদ ছিল চার মাস, এখন তা বাড়িয়ে ১১ মাস করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবছর নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যের সংখ্যা আরও আড়াই হাজার বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। রাজকুমারী ইসাবেলা তার বড় ভাই যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ানের পথ অনুসরণ করছেন। যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ানও একই গার্ড হুসার রেজিমেন্টে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছিলেন। ডেনিশ সংবাদমাধ্যম বিটি (BT)-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজকুমারীর সামরিক সেবার সব ব্যয় বহন করবেন রাজা ফ্রেডেরিক ও রানি মেরি। তবে ইসাবেলা সেনাসদস্যদের জন্য নির্ধারিত খাবার ভাতা ও বেতন গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০২৫ সালে ডেনিশ রাজপরিবারের জন্য বরাদ্দ বাজেট ছিল ১ কোটি ৭২ লাখ ডেনিশ ক্রোনার। রাজপরিবারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ সেবাস্টিয়ান ওলডেন-ইয়র্গেনসেন স্প্যানিশ সাময়িকী হোলা!-কে বলেন, ইসাবেলার এই সিদ্ধান্তকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পেশায় যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার ভাষায়, যদি তিনি ভবিষ্যতে সামরিক কর্মকর্তা হওয়ার পরিকল্পনা করতেন, তাহলে নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনীর মতো অন্য কোনো শাখা বেছে নেওয়াই বেশি স্বাভাবিক হতো। গত মাসে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, জোটের প্রতিটি ভূখণ্ড রক্ষায় তাদের দেশ প্রস্তুত, যার মধ্যে ডেনমার্কের নিজস্ব ভূখণ্ডও রয়েছে। ডেনমার্কের পাশাপাশি সুইডেন ও নরওয়েও নারীদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ চালু করেছে। অন্যদিকে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, সব সদস্যদেশ এখনো সেই লক্ষ্য পূরণের পথে সমানভাবে এগোতে পারেনি।
ভারতের আসামে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫, ২৫ জেলায় ১১ লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে
হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলছে না, নতুন নৌচলাচল ব্যবস্থায় সমঝোতার পথে ইরান-ওমান