বাংলাদেশ

নিজের বংশ ও দুই ছেলের নামে তিন ইউনিয়নের নামকরণ, প্রতিমন্ত্রী বললেন ‘কাকতালীয়’

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১৬:৫৪
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

"গোলাপকে যে নামেই ডাকা হোক না কেন, সে সমভাবেই সুবাস ছড়াবে"—উইলিয়াম শেকসপিয়রের এই বিখ্যাত দর্শন যেন সম্পূর্ণ মার খেয়েছে উত্তরবঙ্গের জেলা বগুড়ায়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের কাছে কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম কেবল একটি পরিচয় নয়, বরং তা নিজের ক্ষমতা ও প্রভাব প্রদর্শনের এক অন্যতম হাতিয়ার।

 

নিজের, স্ত্রীর এবং দুই ছেলের নাম রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পাবলিক এবং প্রাইভেট স্থাপনায় খোদাই করার এক নজিরবিহীন ও দীর্ঘদিনের নেশা এখন দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ক্ষমতার এই দৃশ্যমান প্রদর্শনী নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বগুড়ার একজন প্রবীণ নাগরিক জানান, অনেকে নিজেদের সামাজিক মর্যাদা বাড়াতে সম্পদ দেখান, কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর ধারণা নিজের নাম সব জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়াই আভিজাত্য প্রকাশের একমাত্র উপায়।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর এই নামকরণের আগ্রাসন সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি ২০০১ সাল থেকে শুরু হওয়া দুই দশকেরও বেশি সময়ের এক পরিকল্পিত প্রয়াস। তিনি নিজের দান করা জমিতে 'বেতগাড়ী মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই ধারার সূচনা করেন। পরবর্তীতে সেই ক্যাম্পাসের একটি ভবনের নাম দেওয়া হয় তাঁর স্ত্রী লাবনী আক্তারের নামে।

 

শুধু তা-ই নয়, সংলগ্ন এলাকায় 'বেতগাড়ী মীরবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়', 'বেতগাড়ী মীর শাহে আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ', 'বেতগাড়ী মীর লাবনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়' এবং 'বেতগাড়ী মীর শাহে আলম মাদ্রাসা ও এতিমখানা' প্রতিষ্ঠা করে সবখানেই পারিবারিক নামের সিলমোহর বসানো হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর পদ পাওয়ার পর তিনি নতুন উপজেলা সদরে প্রতিষ্ঠা করেন 'মোকামতলা মীর শাহে আলম-সাত্তার তালুকদার মহাবিদ্যালয়' এবং সেখানে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) আতিকুর রহমানকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে নিজের বাণিজ্যিক তেলের ব্যবসার নামও তিনি রেখেছেন দুই ছেলের নামে 'মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন' এবং স্ত্রী ও কন্যার নামে 'মীর লাবনী-নুসরাত ফিলিং স্টেশন'।

 

তবে প্রতিমন্ত্রীর এই আত্মপ্রচারণার চরম রূপ প্রকাশ পায় শিবগঞ্জ উপজেলার সীমানা পুনর্গঠনের মাধ্যমে গঠিত চারটি নতুন ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণে। প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি ‘মীরবাড়ী’র সাথে মিলিয়ে একটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় 'বেতগাড়ী মীরবাড়ী ইউনিয়ন'। আর বাকি তিনটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় 'সীমান্ত', 'দিগন্ত' এবং 'স্বর্ণগ্রাম'। আশ্চর্যজনকভাবে প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নামও মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্ত। এই "অলৌকিক মিল" নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে প্রতিমন্ত্রী এক অদ্ভুত ভৌগোলিক তত্ত্ব দিয়ে দাবি করেন, উপজেলা সীমান্তে অবস্থিত হওয়ায় 'সীমান্ত' এবং দূরবর্তী হওয়ায় 'দিগন্ত' নাম রাখা হয়েছে, যার সাথে তাঁর সন্তানদের নামের মিল কেবলই কাকতালীয়।

 

তবে নেপথ্যের সত্য হলো, নিয়ম অনুযায়ী গণশুনানি বা স্থানীয় মতামতের তোয়াক্কা না করে প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের ওপর ভিত্তি করেই এই নামকরণ চূড়ান্ত করা হয়েছিল। বগুড়ার জেলা প্রশাসক নিজেই গণমাধ্যমের কাছে ফাঁস করে দিয়েছেন যে, তাঁর দপ্তরে যখন প্রস্তাবটি পৌঁছায়, তখন প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য বিকল্প কোনো নাম ছাড়াই কেবল একটি করেই নাম জমা দেওয়া হয়েছিল।

 

মীর শাহে আলমের এই একচ্ছত্র প্রভাব কেবল নামকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, মন্ত্রণালয়ের ভেতরেও তিনি এক অলিখিত একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছেন। ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হিসেবে রাজনীতি শুরু করা শাহে আলম ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দ্রুত তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বলয়ে জায়গা করে নেন।

 

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা একাধিক চেক ডিজনার ও ফৌজদারি মামলা থেকে তিনি দ্রুত খালাস পান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ খোদ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তাঁকে "সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী" হিসেবে ঘোষণা করেন। মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেবল নামেমাত্র প্রধান, কিন্তু বদলি, পদোন্নতি ও লাভজনক প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সমস্ত সিদ্ধান্ত নেন শাহে আলম। এই চরম আধিপত্য ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল রাজনীতি থেকে অবসরের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন বলে দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

 

প্রতিমন্ত্রীর এই অসীম ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ নিয়ে রাতারাতি ভাগ্যবদল হয়েছে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র মীর শাকরুল আলম সীমান্তের। লন্ডন থেকে পড়াশোনা শেষ করে ফেরার মাত্র এক বছরের মাথায় তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন। এরপর নাটকীয়ভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক পদ এবং বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি পদও পান। সবচেয়ে বড় অনিয়মটি ঘটেছে যখন দেখা যায়, সীমান্ত তাঁর বাবার নিজস্ব মন্ত্রণালয়ের অধীনেই ঠিকাদারি লাইসেন্স নিয়ে শিবগঞ্জ পৌরসভায় একটি আরসিসি রাস্তা নির্মাণের বড় কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন, যা গত ২৬ এপ্রিল প্রতিমন্ত্রী নিজেই উদ্বোধন করেন।

 

প্রতিমন্ত্রীর এই পারিবারিক স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "এটি কেবল অশোভনই নয়, বরং স্বার্থের সংঘাত এবং ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সুবিধা নেওয়ার একটি প্রকাশ্য উৎসব, যা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নেওয়া শপথের সরাসরি লঙ্ঘন"।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

বাংলাদেশ

View more
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নিজের বংশ ও দুই ছেলের নামে তিন ইউনিয়নের নামকরণ, প্রতিমন্ত্রী বললেন ‘কাকতালীয়’

"গোলাপকে যে নামেই ডাকা হোক না কেন, সে সমভাবেই সুবাস ছড়াবে"—উইলিয়াম শেকসপিয়রের এই বিখ্যাত দর্শন যেন সম্পূর্ণ মার খেয়েছে উত্তরবঙ্গের জেলা বগুড়ায়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের কাছে কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম কেবল একটি পরিচয় নয়, বরং তা নিজের ক্ষমতা ও প্রভাব প্রদর্শনের এক অন্যতম হাতিয়ার।   নিজের, স্ত্রীর এবং দুই ছেলের নাম রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পাবলিক এবং প্রাইভেট স্থাপনায় খোদাই করার এক নজিরবিহীন ও দীর্ঘদিনের নেশা এখন দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ক্ষমতার এই দৃশ্যমান প্রদর্শনী নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বগুড়ার একজন প্রবীণ নাগরিক জানান, অনেকে নিজেদের সামাজিক মর্যাদা বাড়াতে সম্পদ দেখান, কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর ধারণা নিজের নাম সব জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়াই আভিজাত্য প্রকাশের একমাত্র উপায়।   অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর এই নামকরণের আগ্রাসন সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি ২০০১ সাল থেকে শুরু হওয়া দুই দশকেরও বেশি সময়ের এক পরিকল্পিত প্রয়াস। তিনি নিজের দান করা জমিতে 'বেতগাড়ী মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই ধারার সূচনা করেন। পরবর্তীতে সেই ক্যাম্পাসের একটি ভবনের নাম দেওয়া হয় তাঁর স্ত্রী লাবনী আক্তারের নামে।   শুধু তা-ই নয়, সংলগ্ন এলাকায় 'বেতগাড়ী মীরবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়', 'বেতগাড়ী মীর শাহে আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ', 'বেতগাড়ী মীর লাবনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়' এবং 'বেতগাড়ী মীর শাহে আলম মাদ্রাসা ও এতিমখানা' প্রতিষ্ঠা করে সবখানেই পারিবারিক নামের সিলমোহর বসানো হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর পদ পাওয়ার পর তিনি নতুন উপজেলা সদরে প্রতিষ্ঠা করেন 'মোকামতলা মীর শাহে আলম-সাত্তার তালুকদার মহাবিদ্যালয়' এবং সেখানে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) আতিকুর রহমানকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে নিজের বাণিজ্যিক তেলের ব্যবসার নামও তিনি রেখেছেন দুই ছেলের নামে 'মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন' এবং স্ত্রী ও কন্যার নামে 'মীর লাবনী-নুসরাত ফিলিং স্টেশন'।   তবে প্রতিমন্ত্রীর এই আত্মপ্রচারণার চরম রূপ প্রকাশ পায় শিবগঞ্জ উপজেলার সীমানা পুনর্গঠনের মাধ্যমে গঠিত চারটি নতুন ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণে। প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি ‘মীরবাড়ী’র সাথে মিলিয়ে একটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় 'বেতগাড়ী মীরবাড়ী ইউনিয়ন'। আর বাকি তিনটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় 'সীমান্ত', 'দিগন্ত' এবং 'স্বর্ণগ্রাম'। আশ্চর্যজনকভাবে প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নামও মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্ত। এই "অলৌকিক মিল" নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে প্রতিমন্ত্রী এক অদ্ভুত ভৌগোলিক তত্ত্ব দিয়ে দাবি করেন, উপজেলা সীমান্তে অবস্থিত হওয়ায় 'সীমান্ত' এবং দূরবর্তী হওয়ায় 'দিগন্ত' নাম রাখা হয়েছে, যার সাথে তাঁর সন্তানদের নামের মিল কেবলই কাকতালীয়।   তবে নেপথ্যের সত্য হলো, নিয়ম অনুযায়ী গণশুনানি বা স্থানীয় মতামতের তোয়াক্কা না করে প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের ওপর ভিত্তি করেই এই নামকরণ চূড়ান্ত করা হয়েছিল। বগুড়ার জেলা প্রশাসক নিজেই গণমাধ্যমের কাছে ফাঁস করে দিয়েছেন যে, তাঁর দপ্তরে যখন প্রস্তাবটি পৌঁছায়, তখন প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য বিকল্প কোনো নাম ছাড়াই কেবল একটি করেই নাম জমা দেওয়া হয়েছিল।   মীর শাহে আলমের এই একচ্ছত্র প্রভাব কেবল নামকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, মন্ত্রণালয়ের ভেতরেও তিনি এক অলিখিত একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছেন। ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হিসেবে রাজনীতি শুরু করা শাহে আলম ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দ্রুত তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বলয়ে জায়গা করে নেন।   ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা একাধিক চেক ডিজনার ও ফৌজদারি মামলা থেকে তিনি দ্রুত খালাস পান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ খোদ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তাঁকে "সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী" হিসেবে ঘোষণা করেন। মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেবল নামেমাত্র প্রধান, কিন্তু বদলি, পদোন্নতি ও লাভজনক প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সমস্ত সিদ্ধান্ত নেন শাহে আলম। এই চরম আধিপত্য ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল রাজনীতি থেকে অবসরের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন বলে দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।   প্রতিমন্ত্রীর এই অসীম ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ নিয়ে রাতারাতি ভাগ্যবদল হয়েছে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র মীর শাকরুল আলম সীমান্তের। লন্ডন থেকে পড়াশোনা শেষ করে ফেরার মাত্র এক বছরের মাথায় তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন। এরপর নাটকীয়ভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক পদ এবং বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি পদও পান। সবচেয়ে বড় অনিয়মটি ঘটেছে যখন দেখা যায়, সীমান্ত তাঁর বাবার নিজস্ব মন্ত্রণালয়ের অধীনেই ঠিকাদারি লাইসেন্স নিয়ে শিবগঞ্জ পৌরসভায় একটি আরসিসি রাস্তা নির্মাণের বড় কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন, যা গত ২৬ এপ্রিল প্রতিমন্ত্রী নিজেই উদ্বোধন করেন।   প্রতিমন্ত্রীর এই পারিবারিক স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "এটি কেবল অশোভনই নয়, বরং স্বার্থের সংঘাত এবং ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সুবিধা নেওয়ার একটি প্রকাশ্য উৎসব, যা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নেওয়া শপথের সরাসরি লঙ্ঘন"।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১৬:৫৪
ছবি: সংগৃহীত

ইউএনএইচসিআর নির্বাহী কমিটির নেতৃত্বে প্রথমবার বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অর্জন

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গাদের জন্য অতিরিক্ত ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো সহায়তা দিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ছবি: সংগৃহীত

৮০% ছেলেকে ‘আনফিট’ বলে ছাত্রীকে লিভ টুগেদারের প্রস্তাব দিলেন খুবি অধ্যাপক

ছবি: সংগৃহীত
স্ত্রী ইকরার মৃত্যুর মামলায় অভিনেতা জাহের আলভী কারাগারে

স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া, যিনি জাহের আলভী নামে পরিচিত, তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আত্মসমর্পণের পর জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেওয়া হয়।   বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন জাহের আলভী। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।   আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন দুপুর দেড়টার দিকে আদালতে উপস্থিত হন জাহের আলভী। পরে শুনানি শুরু হলে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেন। তার পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূইয়াসহ একাধিক আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন। অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানান।   জামিন আবেদনে জাহের আলভীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তিনি ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নন। আবেদনে বলা হয়, প্রেমের বিয়ে নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রতিহিংসাবশত মামলাটি করা হয়েছে। সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই।   আসামিপক্ষের দাবি, মামলাটি দায়েরের সময় জাহের আলভী দেশে ছিলেন না। ঈদ উপলক্ষে নাটকের কাজের জন্য তিনি গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নেপালে অবস্থান করছিলেন। ফলে তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও জামিন আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে শুনানি শেষে আদালত এসব যুক্তি গ্রহণ না করে জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।   মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ মার্চ বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে দেখতে পান তারা। পরে স্বজন ও বাড়ির মালিক মিলে দ্রুত তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয় এবং মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়।   ঘটনার পরদিন রাতে ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ রাজধানীর সংশ্লিষ্ট থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জাহের আলভী ছাড়াও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে আসামি করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের মানসিক নির্যাতনের কারণে ইকরা চরম মানসিক চাপে ছিলেন এবং সেই পরিস্থিতির কারণে তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।   তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন জাহের আলভী ও তার পরিবার। তাদের দাবি, মামলায় আনা অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে। এদিকে ঘটনাটি নাট্যাঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের দিকে এখন সবার নজর রয়েছে।   উল্লেখ্য, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার ভিত্তিতে এর কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ৫:৫৯
ছবি: সংগৃহীত

রাবিতে বিশ্বকাপ ম্যাচ প্রদর্শনী ঘিরে সংঘর্ষ, হল সংসদের জিএস আহতের অভিযোগ

বিকেএসপি ঘুরে বিভিন্ন বিভাগের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন জাইমা রহমান। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

এত প্রতিভা ও দক্ষ কোচ থাকার পরও কেন আন্তর্জাতিক পদক কম? প্রশ্ন তুললেন জাইমা রহমান

আইফোন চুরির অপবাদে হোস্টেলে স্কুলছাত্রকে ‘পিটিয়ে হত্যা’ অভিযোগ

ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত জি জুন কিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল
বাংলাদেশে প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া

বাংলাদেশে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এ আগ্রহের কথা জানান ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত জি জুন কিম।   প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।   বৈঠকে বিশেষভাবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   সাক্ষাৎকালে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশে বিশেষ করে ইলেকট্রনিকস উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাতে বড় পরিসরে বিনিয়োগে আগ্রহী।   তিনি আরও উল্লেখ করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদনশিল্পসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতেও সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।   পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্প সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।   তিনি বাংলাদেশে আরও বেশি দক্ষিণ কোরীয় বিনিয়োগকে স্বাগত জানান এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ৭:৪২
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী জার্মানি

ছবি:সংগৃহীত

দিল্লি বিমানবন্দরকাণ্ডে ভারতের কাছে জবাব চাইল বাংলাদেশ

ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা জটিলতা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

0 Comments