এআই দৌড়ে বড় বাজি ট্রাম্পের, পুরোনো পারমাণবিক স্থাপনায় গড়ে উঠছে বিশাল ডেটা সেন্টার
যুক্তরাষ্ট্রকে এআই প্রযুক্তিতে বিশ্বনেতৃত্বের অবস্থানে রাখতে পুরোনো পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাবেক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ও জ্বালানি বিভাগের মালিকানাধীন কিছু স্থানে বিশাল আকারের এআই ডেটা সেন্টার এবং সেগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
সাম্প্রতিক ঘোষণায় কেনটাকির প্যাডুকাহে অবস্থিত একটি সাবেক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের স্থানে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের একটি এআই ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ব্রুকফিল্ড ও নেক্সটএরা এনার্জি। এতে বড় আকারের ডেটা সেন্টারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধাও থাকবে। প্রথম ধাপ ২০২৮ সালে চালু এবং পুরো প্রকল্প ২০৩২ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে বিপুল পরিমাণ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রয়োজন হচ্ছে। সে কারণেই বিদ্যমান ফেডারেল জমি ও অবকাঠামো ব্যবহার করে ডেটা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এতে নতুন জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন কমবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।
এর আগে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে জ্বালানি বিভাগকে নির্দেশ দেন, ফেডারেল মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থানে উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এআই অবকাঠামোর জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করতে। পাশাপাশি সামরিক ও জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট স্থাপনায়ও উন্নত পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। পরিবেশবিদ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের আশঙ্কা, বড় আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিদ্যুৎ, পানি ও পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, প্রকল্পগুলো মূলত বেসরকারি বিনিয়োগে বাস্তবায়িত হবে এবং এর ব্যয় সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ট্রাম্প মোবাইলের টি১ স্মার্টফোনের দাম এক লাফে ২৫০ ডলার বেড়েছে। ৪৯৯ ডলারের প্রাথমিক দামের ফোনটি এখন ৭৪৯ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। দাম বাড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্প মোবাইল আলাদা কোনো ঘোষণা দেয়নি। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ভার্জ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি রাতারাতি তাদের ওয়েবসাইটে ফোনটির দাম পরিবর্তন করে। একই সঙ্গে আগে ব্যবহৃত ‘প্রমোশনাল প্রাইস’ শব্দটিও ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। টি১ ফোনটির হার্ডওয়্যারে এই দাম বৃদ্ধির সঙ্গে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। ফোনটিতে রয়েছে ১২ জিবি র্যাম ও ৫১২ জিবি স্টোরেজ। ফলে অতিরিক্ত ২৫০ ডলার দেওয়ার বিনিময়ে ক্রেতারা নতুন কোনো হার্ডওয়্যার আপগ্রেড পাচ্ছেন না। ট্রাম্প মোবাইলের কর্মকর্তারা এর আগে ৪৯৯ ডলারের দামকে ‘ইন্ট্রোডাক্টরি’ বা প্রাথমিক মূল্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। পরে এটিকে ‘প্রমোশনাল প্রাইস’ হিসেবে দেখানো হয়। তবে সর্বশেষ দাম বাড়ানোর পেছনে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ জানায়নি। এদিকে প্রযুক্তি বাজারে মেমোরি চিপের দাম বেড়ে যাওয়াকে স্মার্টফোন নির্মাতাদের ওপর বাড়তি চাপের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে টি১ ফোনের দাম বৃদ্ধির সরাসরি কারণ হিসেবে ট্রাম্প মোবাইল মেমোরি চিপের দামকে নিশ্চিত করেনি। ফলে এ বিষয়টি অনুমান হিসেবে উপস্থাপন করাই নিরাপদ। দাম বৃদ্ধির পর টি১ ফোনটি এখন আইফোন ১৭ই এবং স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এস২৬ এফই-এর মতো ফোনের সঙ্গে সরাসরি দামের প্রতিযোগিতায় পড়েছে। দ্য ভার্জের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ৭৪৯ ডলারে ফোনটির প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আগের তুলনায় আরও কঠিন হয়েছে। অন্যদিকে অ্যাপলও সম্প্রতি তাদের পুরোনো কয়েকটি আইফোনের দাম ১০০ ডলার করে বাড়িয়েছে। তবে ট্রাম্প ফোনের ২৫০ ডলারের মূল্যবৃদ্ধি শতাংশের হিসাবে আরও বড় - প্রায় ৫০ শতাংশ।
ছেলে সমকামী জানার পর লালন-পালনের খরচ ৬ হাজার ডলার ফেরত চেয়ে বাবার মামলা
ইসলাম গ্রহণের পর অ্যাম্বার বললেন, ইসলামই দিয়েছেন সেই শান্তি, স্বস্তি ও বরকত যা সবসময় খুঁজেছি
বাড়ি কিনতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি চাপে ক্রেতারা, শীর্ষে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড
যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি স্ন্যাপ থেকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর মে ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ মানুষ কমে গেছে। সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে স্ন্যাপের সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে নতুন অর্থায়ন কাঠামো কার্যকর হওয়ার আগে রাজ্যগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। স্ন্যাপ বা Supplemental Nutrition Assistance Program যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নআয়ের মানুষের খাবার কেনার জন্য সবচেয়ে বড় ফেডারেল সহায়তা কর্মসূচি। এটি মূলত ইউএসডিএর অধীন পরিচালিত হলেও রাজ্য সরকারগুলো স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করে। ২০২৫ সালের ৪ জুলাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা One Big Beautiful Bill Act-এ স্ন্যাপের যোগ্যতা, কাজের শর্ত এবং অর্থায়নে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। নতুন আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো স্ন্যাপ পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয়ের ভাগ। ইউএসডিএর প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছর থেকে ফেডারেল সরকারের অংশ ৫০ শতাংশ থেকে কমে ২৫ শতাংশ হবে। অর্থাৎ রাজ্যগুলোকে প্রশাসনিক ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ বহন করতে হবে। এই পরিবর্তন ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। প্রস্তাবিত নিয়ম নিয়ে জনমত দেওয়ার সময়সীমা ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্ন্যাপের মূল খাদ্য সহায়তার খরচের একটি অংশও রাজ্যগুলোর ওপর পড়বে। নতুন আইনে ২০২৮ অর্থবছর থেকে রাজ্যের স্ন্যাপ পেমেন্ট এরর রেট বা সুবিধা নির্ধারণ ও প্রদানে ভুলের হারের ওপর ভিত্তি করে রাজ্যকে খাদ্য সহায়তার ব্যয়ের ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বহন করতে হতে পারে। ভুলের হার কম হলে রাজ্যের অতিরিক্ত অংশ কম বা শূন্য থাকতে পারে। এদিকে স্ন্যাপ সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের স্ন্যাপ অংশগ্রহণ কমেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আলাস্কা ছাড়া সব অঙ্গরাজ্যেই সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমেছে। ৪৬টি অঙ্গরাজ্যে কমার হার ছিল অন্তত ৫ শতাংশ এবং ২৩টি অঙ্গরাজ্যে অন্তত ১০ শতাংশ। এই পতনের পেছনে নতুন কাজের শর্ত, যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তন এবং আবেদন ও পুনর্নবীকরণ প্রক্রিয়ায় বাড়তি প্রশাসনিক জটিলতার প্রভাব রয়েছে বলে স্ন্যাপ নীতি বিশ্লেষকেরা বলছেন। নতুন আইনে নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কাজ বা অনুমোদিত কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার শর্ত আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। ফলে আগে যাদের ওপর এই শর্ত প্রযোজ্য ছিল না, তাদের একটি অংশও নতুন নিয়মের আওতায় আসছে। স্ন্যাপ থেকে সুবিধা কমে যাওয়ার প্রভাব খাদ্য ব্যাংকগুলোর ওপরও পড়ছে। বিভিন্ন রাজ্যে খাদ্য সহায়তা নিতে মানুষের চাপ বাড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে খাদ্য সহায়তা সংগঠনগুলোর মতে, খাদ্য ব্যাংকগুলো স্ন্যাপের বিকল্প হিসেবে কাজ করার মতো সক্ষমতা রাখে না। কারণ স্ন্যাপের মাধ্যমে যে পরিমাণ খাদ্য সহায়তা মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা স্থানীয় খাদ্য ব্যাংকের সামর্থ্যের তুলনায় অনেক বেশি। অ্যারিজোনার ক্ষেত্রেও স্ন্যাপ সুবিধাভোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। রাজ্যটি সুবিধা নির্ধারণের ক্ষেত্রে নথিপত্র যাচাই ও আয় পর্যবেক্ষণের মতো পদক্ষেপ জোরদার করেছে। একই সময়ে খাদ্য ব্যাংকগুলোতে সহায়তা চাওয়া মানুষের চাপ বেড়েছে বলে স্থানীয় খাদ্য সহায়তা সংগঠনগুলো জানিয়েছে। নিউ মেক্সিকোতেও খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রগুলোতে মানুষের দীর্ঘ লাইন তৈরি হওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় খাদ্য ব্যাংক সংগঠনগুলো। এসব সংগঠনের আশঙ্কা, স্ন্যাপের সুবিধা কমে গেলে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে খাদ্য ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই বাড়তি চাহিদা পূরণ করা তাদের জন্য কঠিন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। রাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ের খাদ্য সহায়তা সংগঠনগুলো কংগ্রেসের কাছে নতুন অর্থায়ন কাঠামো কার্যকর করার সময় পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, রাজ্যগুলোকে নতুন নিয়ম বাস্তবায়ন, ভুলের হার কমানো এবং স্ন্যাপ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার জন্য আরও সময় দেওয়া প্রয়োজন। এ নিয়ে কংগ্রেসে পরিবর্তনের প্রস্তাবও উঠেছে, তবে নতুন অর্থায়ন কাঠামো পুরোপুরি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। অন্যদিকে ফেডারেল সরকার স্ন্যাপের নতুন নিয়মের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো, কর্মসূচির অপচয় ও ভুল কমানো এবং রাজ্যগুলোর দায়িত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। ইউএসডিএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের নতুন আইনের বিভিন্ন বিধান ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফলে আগামী মাসগুলোতে স্ন্যাপের যোগ্যতা, কাজের শর্ত এবং রাজ্যগুলোর আর্থিক দায় নিয়ে আরও পরিবর্তন সামনে আসতে পারে।
৮ বছর বয়স থেকে ৭৫ বছরের দাম্পত্য! স্বামীর মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্ত্রীরও বিদায়
ইউটাহতে বাড়ির দাম আকাশছোঁয়া, কিনতে পারছেন না ৯১% ভাড়াটিয়া
নয় বছর আগে যে নারী বাঁচিয়েছিলেন জীবন, সেই নারীর স্বামীকেই পরে বাঁচালেন সেই ছেলে
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশির একজন ছিলেন সাব্বির আহমেদ। হামলার ২৫ বছর পূর্তিতে তার পরিবারের সদস্যরাও নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোর ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়ামে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সেখানে প্রিয়জনের স্মৃতি ঘিরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ফিরে আসে সেই ভয়াবহ দিনের শোক ও বেদনা। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বিডিনিউজ২৪ জানায়, ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে গ্রাউন্ড জিরোতে নিহতদের স্বজনদের উপস্থিতি ছিল। সেখানে সাব্বির আহমেদসহ হামলায় নিহত বাংলাদেশিদের পরিবারের সদস্যদেরও দেখা যায়। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সন্ত্রাসীরা চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ ও সাউথ টাওয়ারে আঘাত হানে। দুটি টাওয়ারই পরে ধসে পড়ে। আরেকটি বিমান আঘাত করে ওয়াশিংটন ডিসির কাছে পেন্টাগনে। চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে বিধ্বস্ত হয়। সেদিনের হামলায় মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ছয়জন ছিলেন বাংলাদেশি। তারা হলেন শাকিলা ইয়াসমিন, নুরুল হক মিয়া, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবুল কে চৌধুরী, সাব্বির আহমেদ ও মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। ২০২৬ সালের ২৫তম বার্ষিকীর স্মরণ অনুষ্ঠানে তাদের স্বজনদের উপস্থিতির কথাও উঠে এসেছে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। সাব্বির আহমেদের জীবন ও পরিবারের বিষয়ে প্রকাশ্য নির্ভরযোগ্য তথ্য তুলনামূলকভাবে সীমিত। তবে ৯/১১ হামলার নিহতদের তালিকায় তার নাম রয়েছে এবং তার স্বজনরা গ্রাউন্ড জিরোর ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়ামে উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ফলে সাব্বিরের পরিবারের জন্য নিউইয়র্কের এই স্থান শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, বরং ২৫ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া একজন আপনজনের স্মৃতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি জায়গা। গ্রাউন্ড জিরোর ৯/১১ মেমোরিয়ালে সাবেক টুইন টাওয়ারের জায়গায় দুটি বিশাল রিফ্লেক্টিং পুল রয়েছে। চারপাশের ব্রোঞ্জের প্যারাপেটে হামলায় নিহতদের নাম খোদাই করা হয়েছে। ২০১১ সালে হামলার দশম বার্ষিকীতে মেমোরিয়ালটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়। নিহতদের নামের পাশে দাঁড়িয়ে স্বজনদের অনেকেই প্রতিবছর প্রিয়জনকে স্মরণ করেন। ২৫ বছর পর নিউইয়র্কের আকাশরেখা বদলে গেছে। টুইন টাওয়ারের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে নতুন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কমপ্লেক্স এবং ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। কিন্তু নিহতদের পরিবারের কাছে উন্নত ভবন বা পুনর্গঠিত শহর সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারেনি। সাব্বির আহমেদের পরিবারের জন্যও ৯/১১-এর স্মৃতি তাই কেবল ইতিহাস নয়, একজন আপন মানুষকে হারানোর দীর্ঘস্থায়ী বেদনা। ২০২৬ সালের স্মরণ অনুষ্ঠান সেই ইতিহাসকেই আবার সামনে এনেছে। ২৫ বছর পরও গ্রাউন্ড জিরোর স্মৃতিফলকে খোদাই করা নামগুলো স্বজনদের কাছে শুধু নাম নয়, প্রতিটি নামের পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি জীবন এবং অপূরণীয় এক শূন্যতার গল্প।
টেক্সাসে মসজিদের বাইরে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেও থামেনি নামাজ, জুমায় অংশ নিলেন মুসল্লিরা
২০২৭ সালে বাড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা, সম্ভাব্য বৃদ্ধি ৩.৬ শতাংশ