- প্রচ্ছদ
- Topic
নরেন্দ্র মোদি
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত এক শিক্ষার্থী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেকে এবং তার প্রয়াত মাকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। তবে ঘটনার জেরে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট তরুণ-তরুণীদের ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি এ বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে এক নারী শিক্ষার্থীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে গত ২৩ জুলাই তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়। ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, “যন্তর মন্তরে যা ঘটেছে, তা গোটা দেশ ও বিশ্ব দেখেছে। কিছু বিপথগামী তরুণ এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, যা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শুধু আমাকে নয়, আমার প্রয়াত মাকেও তারা অপমান করেছে।” ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, “গালিগালাজ করে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। আসুন, বিপথগামীদের সঠিক পথ দেখাই। সবাই মিলে ভারতের সমৃদ্ধির জন্য কাজ করি।” তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের পক্ষে নন বলেও জানান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, তরুণ বয়সে মানুষ ভুল করতে পারে এবং সেই ভুল সংশোধনের সুযোগও থাকা উচিত। মোদি বলেন, “সমাজে যে ক্ষোভ রয়েছে, তা আমি বুঝি। কিন্তু এই তরুণদের দূরে ঠেলে দেওয়া বা আদালতে টেনে হয়রানি করা কোনো সমাধান নয়। এরা আমাদেরই সন্তান। ভালোবাসা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা আমাদের দায়িত্ব।” ভিডিও বার্তায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওই তরুণ-তরুণীদের ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে সমাজের সব স্তরের মানুষের প্রতিও তাদের প্রতি সহনশীল ও উদার মনোভাব প্রদর্শনের আহ্বান জানান। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে নোয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার কয়েকটি ধারায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে শান্তিভঙ্গের উসকানি, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং মানহানির বিষয় রয়েছে। পরে জিরো এফআইআরের বিধান অনুযায়ী মামলাটি তদন্তের জন্য দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় হস্তান্তর করা হয়। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে আন্দোলনের আয়োজক সংগঠন। সংগঠনটির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ব্যবহৃত ভাষার শালীনতা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক প্রতিবাদ এবং আইন প্রয়োগের সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির ক্ষমার আহ্বানও দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামে একটি কথিত পদত্যাগপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই নথিতে দাবি করা হয়, ‘ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার’ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তবে ভারত সরকার এটিকে সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং জনগণকে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে। ভারতের সরকারি তথ্যসংস্থা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) ফ্যাক্টচেক ইউনিট বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত পদত্যাগপত্রটি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে জারি করা হয়নি। এতে ব্যবহৃত স্বাক্ষরও নরেন্দ্র মোদির প্রকৃত স্বাক্ষর নয়। পিআইবি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে বলেছে, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বাক্ষর করা একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রধানমন্ত্রী এমন কোনো চিঠি জারি করেননি এবং এতে তার কোনো স্বাক্ষরও নেই।” ভাইরাল নথিতে ভারতের জাতীয় প্রতীক অশোক চক্র এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরের মতো একটি চিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছিল। এতে এমনভাবে ভাষা ব্যবহার করা হয়, যাতে এটি সরকারি নথি বলে মনে হতে পারে। তবে সরকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি একটি জাল নথি এবং এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। পিআইবি জনগণকে পরামর্শ দিয়েছে, এ ধরনের কোনো নথি বা দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার আগে অবশ্যই সরকারি উৎস থেকে তথ্য যাচাই করতে হবে। সংস্থাটি বলেছে, ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করাই দায়িত্বশীল আচরণ। এটি প্রথমবার নয়। এর আগেও নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি একাধিক ভুয়া ভিডিও ও ভুয়া নথি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁস–সংক্রান্ত বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তার নামে একটি এআই-নির্মিত ভিডিওও ভাইরাল হয়েছিল। ওই ভিডিওতে দাবি করা হয়, প্রধানমন্ত্রী বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন। পরে পিআইবি জানায়, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। ভুয়া তথ্য ও এআই-নির্মিত বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার নিয়ে বিশ্বজুড়েই উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি সিদ্ধান্ত, নির্বাচন বা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ভুয়া নথি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই তথ্য যাচাইয়ের জন্য সরকারি ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটার কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে ভারত সরকার। এ বিষয়ে জবাব দিতে মেটার বৈশ্বিক জননীতি বিভাগের প্রধানকে তলব করেছে দেশটির ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (মেইটি)। মেটা ইতোমধ্যে ঘটনাটিকে একটি প্রযুক্তিগত ভুল বলে স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, পোস্টটি ভুলবশত সীমাবদ্ধ হয়েছিল। পরে সেটি পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং এ ঘটনার জন্য প্রতিষ্ঠানটি দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে ভারত সরকার বলছে, শুধু ক্ষমা চাইলেই বিষয়টি শেষ হয়ে যাচ্ছে না; কীভাবে এমন ভুল হলো এবং ভবিষ্যতে এটি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জুলাই। সেদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তরুণদের উদ্দেশে একটি সেলফি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করা হলে কিছু সময়ের জন্য সেটির দৃশ্যমানতা সীমিত হয়ে যায়। এর ফলে অনেক ব্যবহারকারী ভিডিওটি দেখতে পারেননি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস. কৃষ্ণান বলেন, মেটা ভুল স্বীকার করেছে, যা ইতিবাচক। কিন্তু তাদের দেওয়া ব্যাখ্যায় সরকার সন্তুষ্ট নয়। তার ভাষায়, “তারা বলেছে ভুল হয়েছে এবং ক্ষমাও চেয়েছে। কিন্তু কীভাবে এই ভুল হলো এবং ভবিষ্যতে এটি ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চাই।” সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, মেটা জানিয়েছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট যাচাই ব্যবস্থার একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে মূল পোস্টটিও ভুলবশত সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সরকারের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটির ব্যাখ্যা দিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। তাদের মতে, যদি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কারণেই এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে মেটার উচিত দ্রুত তাদের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি আরও নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য করা। কারণ, কোটি কোটি ব্যবহারকারীর তথ্যপ্রবাহ পরিচালনা করা একটি প্ল্যাটফর্মের কাছ থেকে এ ধরনের ভুল গ্রহণযোগ্য নয়। বিজেপি নেত্রী প্রীতি গান্ধী প্রথম প্রকাশ্যে এ ঘটনাটির সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিডিও কীভাবে সীমাবদ্ধ করা হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ভারতীয় নাগরিকরা কী দেখবেন বা দেখবেন না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কোনো বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেই। এই ঘটনার মধ্যেই ভারতে মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে ঘিরে সরকারি নজরদারি আরও বেড়েছে। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপে প্রস্তাবিত ব্যবহারকারী নাম (ইউজারনেম) সুবিধা এবং ইনস্টাগ্রামে অবৈধ কনটেন্ট নিয়েও প্রতিষ্ঠানটিকে নোটিশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আগামী ৩ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নীতিমালা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহি নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মেটাসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রকাশ করা একটি সেলফি ভিডিও ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার পর তা পুনরায় ফিরিয়ে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটা। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটি এ ঘটনাকে অনিচ্ছাকৃত ভুল উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভিডিওটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে গিয়েছিল। পরে বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর ভিডিওটি আবারও বহাল করা হয়। এক বিবৃতিতে মেটার একজন মুখপাত্র জানান, ভিডিওটি ভুলবশত সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং পরে তা পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এদিকে ভিডিওটি সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে ভারত সরকার। কী কারণে ভিডিওটি সরানো হয়েছিল, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে মেটার শীর্ষ কর্মকর্তাদের তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মেটা ও ইনস্টাগ্রামের বৈশ্বিক প্রধানদের কাছেও সমন পাঠিয়েছে। ঘটনার পটভূমিতে জানা যায়, নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল। সেই আন্দোলনের মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে একটি সেলফি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার প্রশ্ন ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। আন্দোলনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই প্রকাশিত এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ভারতে প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ ভিডিও বার্তা ও কঠোর আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতির পর অনশন প্রত্যাহার করেছেন বিখ্যাত অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালের খাটে বসেই টানা ২৭ দিন ধরে চলা এই অনশন ভাঙেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ২ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন। বার্তায় তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের জন্য এটি চরম কষ্টদায়ক ও উদ্বেগজনক। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে বিগত আড়াই মাসে সরকার অনেক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে বহু অপরাধীকে গ্রেফতার করে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যাতে একটি বছর নষ্ট না হয়, সেজন্য পুনর্বার পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল জানিয়ে মোদি বলেন, ২২ লাখ পরীক্ষার্থী সেই পুনরায় আয়োজিত পরীক্ষায় অংশ নেন এবং ইতোমধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। অনেকেই এতে খুশি হলেও সরকার এখনও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে সরকার ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ইতোমধ্যেই একটি খসড়া বিল জমা দিয়েছে। তিনি আরও জানান, শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে খসড়া বিলটি পাস করানোর জোরালো চেষ্টা চালানো হবে। ভিডিওটির ক্যাপশনেও স্পষ্ট করা হয় যে, প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে মন্ত্রিসভায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ইতিবাচক বার্তার পরপরই বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালের কক্ষে অনশন ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নেন সোনম ওয়াংচুক। ওই সময় তাঁর পাশে উপস্থিতি ছিলেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জৈন আংমো। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং সরাসরি হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে ওয়াংচুককে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানান। অনশন প্রত্যাহারের পর সোনম ওয়াংচুক সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সন্তোষ প্রকাশ করেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নড্ডা, জিতেন্দ্র সিং এবং লাদাখের 'অ্যাপেক্স বডি'র শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি অনশন ভঙ্গ করেছেন। তিনি আরও জানান, অনশন চলাকালীন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অন্তত ৬৫ জন সংসদ সদস্য সরাসরি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কিংবা চিঠি পাঠিয়ে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। দেশে যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা না ছড়ায়, সেই চিন্তা থেকে এবং বেশ কিছু শর্ত নিয়ে নীতিগত আলোচনার পর তিনি এই অনশন প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বুধবার রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু করে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পাটনা, সুরাট এবং লখনউয়ের মতো বড় শহরগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে প্রধান বিরোধী দলগুলো এবং ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছে, অন্যদিকে কেন্দ্র সরকার বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া এই ক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার রীতিমতো বেকায়দায় পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক এই উত্তাপ চরম আকার ধারণ করে মঙ্গলবার। এদিন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে বসার অপরাধে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে আটক করে পুলিশ। নিট কেলেঙ্কারির দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়নের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তারা। শীর্ষ নেতাদের আটকের এই ঘটনার পরই আন্দোলনের আঁচ রাজধানী ছাড়িয়ে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিরোধী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও রাজপথ শান্ত হয়নি। বরং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং অন্তত ১৬টি মেট্রো স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মহারাষ্ট্রের বিশিষ্ট মারাঠা আন্দোলনকারী মনোজ জারাঙ্গে পাতিলও সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করে এই ছাত্র আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি পাটনা, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও সুরাটেও রাজপথে নেমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন হাজারো প্রতিবাদী মানুষ। এদিকে, উত্তরপ্রদেশের লখনউতে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সংঘাতের সাক্ষী হয়েছে দেশ। সেখানে বিজেপি এবং কংগ্রেস মুখোমুখি প্রতিবাদ মিছিল বের করে। উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অজয় রাইয়ের নেতৃত্বে দলীয় কর্মীরা দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর প্রতি দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বাসভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ পথ আটকালে কংগ্রেস কর্মীরা রাস্তায় ধর্নায় বসেন, যার জেরে অজয় রাইসহ একাধিক নেতাকে আটক করা হয়। এর পাল্টা হিসেবে রাজ্য বিজেপি প্রধান পঙ্কজ চৌধুরীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রবিরোধী কাজ’-এর অভিযোগ তুলে পাল্টা মিছিল বের করেন বিজেপি কর্মীরা। রাজপথের এই রাজনৈতিক সংঘাত শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে আইনি লড়াইয়েও। গত ২০ জুলাই সিজেপি-র প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে দায়ের হওয়া তিনটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে নোটিশ জারি করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ পুলিশি পদক্ষেপের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, বডি-ক্যামেরার রেকর্ডিং এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রমাণ নিরাপদে সংরক্ষণের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো জমায়েত বেআইনি হলেও বলপ্রয়োগের আগে আইনি নিয়মকানুন মেনে চলা পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর এই চাঞ্চল্যকর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কংগ্রেস নেতারা প্রধানমন্ত্রী মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান। একই সঙ্গে আগের দিন শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনাও করেন তারা। বিক্ষোভ চলাকালে দিল্লি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ উপস্থিত কংগ্রেস নেতাদের আটক করে। পরে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কংগ্রেসের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা করা হয়েছে। দলটির নেতারা বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতেই তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এই বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক ভর্তি পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ এবং তা ঘিরে দিল্লিতে সংঘটিত সহিংসতা। ওই ঘটনার জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। বিরোধী দলগুলো বিষয়টি নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে।
বিদেশ সফরে গিয়ে একের পর এক আন্তর্জাতিক পুরস্কার জেতার রেকর্ডে এবার এক মজার কাণ্ড ঘটিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলস সফরে গিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ সম্মাননা 'গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন' গ্রহণ করার পর ট্রোল আর হাসির বন্যায় ভেসে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কারণ, মোদির হাতে তুলে দেওয়া প্রশংসাপত্রে খোদ সেশেলস দেশের নামের বানান এবং 'রিপাবলিক' শব্দের বানানই ভুল ছিল! শুধু তাই নয়, বিশেষ সফটওয়্যার দিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সার্টিফিকেটটি তড়িঘড়ি করে ‘এআই’ (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বানানো হয়েছিল। ভেতরের খবর হলো, নরেন্দ্র মোদি সেশেলসে পা রাখার মাত্র তিন দিন আগে তড়িঘড়ি করে এই নতুন পুরস্কারটি আবিষ্কার করা হয় এবং ফুটবল ইতিহাসের ট্রফির মতো মোদিই এই পুরস্কারের প্রথম ও একমাত্র বিজয়ী। এই সুযোগ হাতছাড়া না করে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস খোঁচা দিয়ে বলেছে, "মোদিকে যেকোনো পুরস্কারের কথা বললেই তিনি এক পায়ে দৌড়ে যান। পুরস্কার দেওয়ার জন্য তারা এতটাই তাড়াহুড়ো করছিল যে নিজেদের দেশের নাম ‘সেশেলস’ (Seychelles)-এর বানান পর্যন্ত ভুল লিখে বসে আছে!" এই ট্রোল আর সমালোচনার মুখে পড়ে সেশেলসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেষমেশ মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা সাফাই গেয়েছে যে, ভুলবশত একটি 'খসড়া বা খসড়া সার্টিফিকেট' মোদির হাতে চলে গিয়েছিল, পরে নাকি আসলটি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মোদির দল বিজেপি অবশ্য এই ট্রোলকে পাত্তাই দেয়নি। তাদের দাবি, মোদির এই গ্রিন লিডারশিপের স্বীকৃতি ভারতের জন্য বিশাল গৌরবের। তবে সমালোচকেরা বলছেন, ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা মোদির বিদেশ সফরে গিয়ে এমন অদ্ভুত সব পুরস্কার কুড়ানোর এক অনন্য শখ রয়েছে। গত মাসেই ইসরায়েল সফরের ঠিক তিন দিন আগে সে দেশের সংসদ রাতারাতি 'মেডাল অব দ্য নেসেট' নামের এক সর্বোচ্চ সম্মাননা তৈরি করে মোদির গলায় ঝুলিয়ে দেয়, যার একমাত্র মালিকও তিনি। ২০১৯ সালেও তিনি ‘ফিলিপ কোটলার প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছিলেন, যা প্রতি বছর বিশ্বের কোনো এক রাষ্ট্রপ্রধানকে দেওয়ার নিয়ম করা হলেও মোদির পর আর কোনো বিশ্বনেতা ভুলেও সেই পুরস্কার পাননি! মূলত নিজের আন্তর্জাতিক ইমেজ দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতেই মোদি এসব মেডেলের আয়োজন করেন বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পক্ষ থেকে পাঠানো এ আমন্ত্রণ ভারতের সামনে নতুন একটি কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কূটনৈতিক সূত্র ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানে খামেনির প্রতি রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৬ জুলাই তেহরানে এবং ৭ জুলাই কোম শহরে জানাজার আয়োজন করা হবে। পরে মরদেহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে নেওয়া হবে এবং ৯ জুলাই ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে দাফন সম্পন্ন হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগতভাবে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই সময় তার পূর্বনির্ধারিত বিদেশ সফর রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী বা উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল তেহরানে যেতে পারে। এর আগে ২০২৪ সালে ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হলে ভারত এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিল। তখন তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়কে শেষকৃত্যে অংশ নিতে তেহরানে পাঠানো হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের জন্য ইরান শুধু একটি প্রতিবেশী অঞ্চল নয়, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বিশেষ করে পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার বাজারে পৌঁছাতে ভারতের জন্য চাবাহার বন্দর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে নয়াদিল্লির বড় বিনিয়োগ রয়েছে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্কও উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে। ফলে খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে ভারতের উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণ ওয়াশিংটন ও তেল আবিব কীভাবে নেবে, সেটিও দিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। নয়াদিল্লিভিত্তিক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের কৌশলগত অধ্যয়ন বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ব্রহ্ম চেলানি মনে করেন, এই আমন্ত্রণ ভারতের জন্য একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক পরীক্ষা। তার ভাষায়, একদিকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব অক্ষুণ্ন রাখা, দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন নয়াদিল্লির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এখন পর্যন্ত ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি, প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন নাকি ভারতের পক্ষ থেকে অন্য কোনো প্রতিনিধি তেহরানে যাবেন।
কলকাতা: রাজ্যের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার সোমবার বিধানসভায় তাদের প্রথম বাজেট পেশ করতে চলেছে। এই বাজেটকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে বড় কোনও ঘোষণা আসতে পারে বলে জল্পনা চলছে। পাশাপাশি একগুচ্ছ নতুন প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির ঘোষণাও আসতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। এই আবহেই বাংলার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ সহায়তার বার্তা সামনে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুধু তাই নয়, গত দেড় মাসে রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতে কেন্দ্র কত অর্থ বরাদ্দ করেছে, সেই হিসাবও তুলে ধরেছেন তিনি। শনিবার ছিল পশ্চিমবঙ্গ দিবস। এ উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তারকেশ্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে রাজ্যের মানুষের উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি একটি আবেগঘন বার্তা দেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে লেখা পাঁচ পাতার চিঠিতে বাংলার উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার নানা দিক তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও জাতীয় জীবনে রাজ্যের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করবে। জল জীবন মিশন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নসহ অতীতে আটকে থাকা বিভিন্ন প্রকল্পকে দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। রেলের উন্নয়নের জন্য প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং আরও ৬০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমি আত্মবিশ্বাসী যে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের যাত্রা আরও বেশি গতিতে এগিয়ে যাবে। এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে। এর জন্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, শিল্পোন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সহায়তা করা এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের জন্য এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা হয়রানি বা অনিশ্চয়তার মুখোমুখি না হয়ে সহযোগিতা পাবেন।” প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ আগামী দিনে মৎস্যচাষ, উৎপাদন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বন্দরভিত্তিক উন্নয়ন, বস্ত্রশিল্প, পর্যটন এবং ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, রাজ্যের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান একে বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারে পরিণত করতে সক্ষম। চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যেখানেই বিজেপি সরকার রয়েছে, সেখানে পরিশ্রমী কৃষকরাই নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। আমি নিশ্চিত, পশ্চিমবঙ্গও এর ব্যতিক্রম হবে না।” উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বারবার ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুফলের কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, রাজ্যের উন্নয়নে কেন্দ্র সব ধরনের সহযোগিতা করবে। সেই প্রেক্ষাপটেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর কেন্দ্রীয় সহায়তা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং দেশভাগের পূর্বে অবিভক্ত বাংলার নোয়াখালীর দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে এক মহাসমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই দিনের এক বিশেষ রাষ্ট্রীয় সফরে শনিবার (২০ জুন) পশ্চিমবঙ্গে আসেন তিনি। মূলত পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে তার এই গুরুত্বপূর্ণ সফর। সফরের প্রথম দিনে তারকেশ্বরে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় যোগ দিয়ে তিনি এই রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বক্তব্য প্রদান করেন। তারকেশ্বরের ওই জনসভা থেকে ঐতিহাসিক বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, পরাধীন থাকার সময় ভারতের এই বাংলা অঞ্চল কী পরিমাণ অত্যাচার ও রক্তপাত সহ্য করেছে, তা ইতিহাস সাক্ষী। দেশভাগের আগে ১৯৪৬ সালে কলকাতায় যে ভয়াবহ সহিংসতা হয়েছিল এবং বাংলাদেশের নোয়াখালীতে যে দাঙ্গা হয়েছিল, তাতে কত শত নির্দোষ বাঙালিকে নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হয়েছে। বাংলা নিজের মানুষকে হারিয়েছে এবং নিজের মাতৃভূমিকে টুকরো হতে দেখেছে, কিন্তু নিজের সংস্কৃতি ও পরিচয়কে কখনো নষ্ট হতে দেয়নি। সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী মোদী পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে আরও বলেন, অতীতে পুরো বাংলা অঞ্চলকে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করার জন্য একটি সুগভীর আন্তর্জাতিক চক্রান্ত করা হচ্ছিল। তবে তৎকালীন সময়ে ভারতের অংশ হিসেবে আলাদা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তৈরি করার মাধ্যমে সেই চক্রান্তকে সফল হতে দেওয়া হয়নি। হাজার বছরের পুরোনো বাঙালি সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং এখানকার মূল আস্থা ও পরম্পরা অনেক লড়াই-আন্দোলনের পর অবশেষে রক্ষা পেয়েছে। এরপর ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি পূর্ববর্তী রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের কাজ আগের রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখেছিল। তবে রাজ্যে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরপরই সেই জটিলতা কেটে গেছে এবং সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য দ্রুত জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি নিশানা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, যারা বছরের পর বছর ধরে আপনাদের শোষণ ও অত্যাচার করেছে, তারা নিজেরাই এখন এসে আপনাদের কাছ থেকে লুটে নেওয়া জনগণের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছে। রাজ্যের বড় বড় দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের একের পর এক জেলে পাঠানো হচ্ছে। যারা একসময় সিন্ডিকেট রাজ চালাত, তারা এখন জনগণের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে এবং অবৈধভাবে চাঁদাবাজি করা গুন্ডারা ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ রোববার কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেড রোডে ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’-এর মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন নরেন্দ্র মোদী। তবে তার এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে এক নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, যানজটের অজুহাত দেখিয়ে কলকাতার এই রেড রোডে মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদের নামাজের জন্য মাত্র কয়েক ঘণ্টার অনুমতি দেয়নি বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। অথচ সেই একই রেড রোড আটকে এবার টানা ৭ দিন ধরে যোগ দিবস পালনের আয়োজন করছেন প্রধানমন্ত্রী।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘দেবদূতের মতো ভদ্র’ কিন্তু বাস্তবে ‘টোটাল কিলার’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, মোদিকে বাইরে থেকে যতটা ভদ্র ও শান্ত মনে হয়, বাস্তবে তিনি ততটাই কঠোর এবং দক্ষ দরকষাকষিকারী। তার ভাষায়, মোদি একজন ‘টোটাল কিলার’, যা তিনি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন বলে জানা যায়। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘এই মানুষটিকে দেখুন। আমি আপনাদের একটি শিক্ষা দিই। তিনি সবচেয়ে সুন্দর চেহারার মানুষদের একজন। তাকে দেখতে এতটাই ভদ্র ও শান্ত লাগে, যেন একজন দেবদূত। কিন্তু বাস্তবে তিনি টোটাল কিলার। তবে তাকে দেখতে এত ভালো লাগে যে তিনি আপনাকে অবাক করে দেন। এমন মানুষ খুব কমই আছে।’ তিনি আরও বলেন, মোদি একজন ‘খুবই কঠিন’ নেতা এবং দক্ষ দরকষাকষিকারী। পাশাপাশি তিনি ভারতীয় জনগণ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যতদিন প্রেসিডেন্ট আছি, ভারত হোয়াইট হাউসে একজন সত্যিকারের বন্ধুকে পাবে। ভারতকে সবাই ভালোবাসে এবং এই নেতার প্রতি অসাধারণ শ্রদ্ধা রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পাচ্ছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল বিনিয়োগ আসছে এবং বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। এ সময় তিনি ২০১৯ সালে হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ‘হাউডি মোদি’ সমাবেশের কথাও উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে ভারত সফরের ইঙ্গিত দেন। অন্যদিকে বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হরমুজ প্রণালির নিরাপদ ও উন্মুক্ত থাকা জরুরি বলে উল্লেখ করেন। মোদি বলেন, ‘এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার নতুন আশা জেগে উঠেছে। আমি বিশ্বাস করি, এটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করবে।’ তিনি আরও বলেন, ভারত সবসময় নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয় এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা উচিত। সূত্র: এনডিটিভি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার প্রেক্ষাপটে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার (৪ মে) প্রাথমিক ফলাফলের প্রবণতায় বিজেপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ইঙ্গিত মিলতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের ফলাফলকে বিশেষভাবে উল্লেখ করে মোদি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটি জনগণের শক্তির জয় এবং সুশাসনের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন।” তিনি রাজ্যের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। মোদি আরও বলেন, “বাংলার মানুষ বিজেপিকে যে জনদেশ দিয়েছে, তার মর্যাদা রক্ষা করা হবে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমাদের দল কাজ করবে। এমন একটি সরকার গঠন করা হবে, যা সমাজের সব স্তরের মানুষের উন্নয়ন, সুযোগ এবং আত্মমর্যাদা নিশ্চিত করবে।” নির্বাচনের সর্বশেষ প্রবণতা অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি ২০০-এর বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস-কে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে দলটি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ফলাফল উপলক্ষে দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিজয় উদ্যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক লড়াই এখন তুঙ্গে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) কলকাতায় এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি এক মঞ্চে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রীকে বলুন আমার সঙ্গে এক মঞ্চে বিতর্ক করতে। মুখোশ টেনে খুলে দেব। টেলিপ্রম্পটার ছাড়া তিনি কথা বলতে পারেন না, শুধু সাজানো সাক্ষাৎকার দেন।" জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী ভোটারদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিজেপিকে সিপিএমের থেকেও 'ভয়ঙ্কর' বলে আখ্যা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে অনেক ভোটারের নাম তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হচ্ছে। নাম কাটা যাওয়া ভোটারদের দ্রুত ট্রাইব্যুনালে আবেদনের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, "যারা নাম কেটেছে, তাদের একটিও ভোট দেবেন না। ভোটের মাধ্যমেই এই নাম কাটার বদলা নিতে হবে।" মালদার সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বহিরাগতরা এসে বাংলার সম্মান নষ্ট করার চেষ্টা করছে। হায়দরাবাদ থেকে আসা আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "বিহারের মতো এখানেও বিভাজনের রাজনীতি করার চেষ্টা চলছে। সংখ্যালঘু ভোটারদের সতর্ক থাকতে হবে যেন ভোট ভাগ না হয়।" আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি রাজ্যের সিআইডির প্রশংসা করলেও অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় তার হাত পা বাধা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বলেন, "এত বাহিনী থাকা সত্ত্বেও কেন অশান্তি আটকানো যাচ্ছে না? বাংলার মানুষ আতিথেয়তা দেবে আর ভোট লুট হয়ে যাবে, তা হতে পারে না।" মণিপুর পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে বলেন, "আগে নিজের রাজ্য সামলান, তারপর বাংলার দিকে তাকান।" রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ায় বাংলার নির্বাচনী লড়াই এখন চূড়ান্ত উত্তেজনায় পৌঁছেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী অভিযোগ করেছেন যে, একাধিক নারী সংসদ সদস্যকে বিশেষ অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে মন্ত্রীপদ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে আন্তর্জাতিক বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব জেফ্রি এপস্টেইনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ভারতে এমন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। স্বামীর এই বিস্ফোরক দাবিকে সমর্থন জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করেছেন এক সময় মোদির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হিন্দুত্ববাদী লেখিকা মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার। তিনি অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট কিছু এমপিকে কিসের ভিত্তিতে মন্ত্রী করা হয়েছে তা হিন্দুত্ববাদী মহলের অনেকেরই জানা। কিশওয়ার এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, হরদীপ সিং পুরী এবং স্মৃতি ইরানির নাম উল্লেখ করে তাদের মন্ত্রী হওয়ার পেছনে ‘বিশেষ পরিষেবার’ ইঙ্গিতপূর্ণ দাবি করেন। মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার এক সময় মোদিকে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করলেও, তার এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে স্বামী বা কিশওয়ার—কেউই এখন পর্যন্ত তাদের এই গুরুতর অভিযোগের পক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হলেও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (PMO) বা শাসকদল বিজেপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee কলকাতার ঐতিহাসিক Red Road-এর ঈদের জামাতে অংশ নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-কে কটাক্ষ করে ‘সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী’ বলে মন্তব্য করেছেন। শনিবার পবিত্র Eid al-Fitr উপলক্ষে রেড রোডে রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে হালকা বৃষ্টি থাকলেও নামাজ আদায়ে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। দলে দলে মুসল্লির উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলিতে মেতে ওঠেন মুসল্লিরা। জামাতে যোগ দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি বলেন, রাজ্য ও দেশের উন্নয়ন এবং সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করা জরুরি। এ সময় নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং এ নিয়ে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, সবার অধিকার রক্ষায় এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মমতা প্রশ্ন তোলেন, বিদেশ সফরে গিয়ে ভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্য দেখানো হলেও দেশে ফিরে বিভাজনের রাজনীতি করা হচ্ছে কি না। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদিজিই ভারতের সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী।” এ ছাড়া তিনি সতর্ক করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে লক্ষ্য করে কোনো ধরনের উসকানি দেওয়া হলে তা প্রতিহত করা হবে। একই সঙ্গে রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান মোদি। পোস্টে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলার নিন্দা জানান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে নৌপথ উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। মোদি আরও বলেন, ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেহরানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি। বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ফোনালাপকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।