গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় দুই বছর ধরে বিচ্ছিন্ন ছিল একটি পরিবার। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটেছে অবশেষে। বহু আইনি প্রক্রিয়া শেষে গাজা থেকে বের হয়ে বড় বোনের সঙ্গে ইসরায়েলে মিলিত হয়েছে সাত ভাইবোন। তবে এই পুনর্মিলনের আনন্দেও রয়ে গেছে গভীর বেদনা। কারণ এরই মধ্যে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন তাঁদের বাবা-মা ও এক ছোট ভাই।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩ বছর বয়সী মাইস আল-ঘারাম যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস আগে গাজা ছেড়ে ইসরায়েলে চলে যান। এরপর ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হলে তাঁর সাত ভাইবোন সেখানে আটকা পড়ে। যুদ্ধ চলাকালে এক বিমান হামলায় প্রাণ হারান তাঁদের বাবা-মা এবং ছোট এক ভাই।
এরপর শুরু হয় ভাইবোনদের নিরাপদে বের করে আনার দীর্ঘ সংগ্রাম। আইনজীবীদের সহায়তায় দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে তারা গাজার কেরেম শালোম সীমান্ত অতিক্রম করে ইসরায়েলে প্রবেশের অনুমতি পায়।
সীমান্তে ভাইবোনদের দেখেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মাইস। একে একে সবাইকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদ, যুদ্ধের আতঙ্ক এবং স্বজন হারানোর শোক মিলেমিশে সেই মুহূর্তকে আরও আবেগঘন করে তোলে।
পরে পরিবারের সদস্যরা ইসরায়েলের নাজারেতে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে একত্র হন। বহুদিন পর তারা একই টেবিলে বসে খাবার খেলেও বাবা-মা ও ছোট ভাইয়ের অনুপস্থিতি পুরো পরিবারকে বারবার শোকাহত করে তোলে।
এপি জানায়, গাজা থেকে পরিবারের সদস্যদের বের করে আনার প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত জটিল। যুদ্ধ, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং আইনি জটিলতার কারণে হাজারো পরিবার এখনও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
মাইস আল-ঘারামের পরিবারের এই পুনর্মিলন তাই শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়; এটি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার অসংখ্য বিচ্ছিন্ন পরিবারের বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি। বহু প্রতীক্ষার পর সাত ভাইবোন আবার একসঙ্গে হলেও, বাবা-মা ও ছোট ভাইকে হারানোর শূন্যতা তাদের জীবনে চিরস্থায়ী হয়ে রইল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় দুই বছর ধরে বিচ্ছিন্ন ছিল একটি পরিবার। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটেছে অবশেষে। বহু আইনি প্রক্রিয়া শেষে গাজা থেকে বের হয়ে বড় বোনের সঙ্গে ইসরায়েলে মিলিত হয়েছে সাত ভাইবোন। তবে এই পুনর্মিলনের আনন্দেও রয়ে গেছে গভীর বেদনা। কারণ এরই মধ্যে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন তাঁদের বাবা-মা ও এক ছোট ভাই। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩ বছর বয়সী মাইস আল-ঘারাম যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস আগে গাজা ছেড়ে ইসরায়েলে চলে যান। এরপর ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হলে তাঁর সাত ভাইবোন সেখানে আটকা পড়ে। যুদ্ধ চলাকালে এক বিমান হামলায় প্রাণ হারান তাঁদের বাবা-মা এবং ছোট এক ভাই। এরপর শুরু হয় ভাইবোনদের নিরাপদে বের করে আনার দীর্ঘ সংগ্রাম। আইনজীবীদের সহায়তায় দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে তারা গাজার কেরেম শালোম সীমান্ত অতিক্রম করে ইসরায়েলে প্রবেশের অনুমতি পায়। সীমান্তে ভাইবোনদের দেখেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মাইস। একে একে সবাইকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদ, যুদ্ধের আতঙ্ক এবং স্বজন হারানোর শোক মিলেমিশে সেই মুহূর্তকে আরও আবেগঘন করে তোলে। পরে পরিবারের সদস্যরা ইসরায়েলের নাজারেতে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে একত্র হন। বহুদিন পর তারা একই টেবিলে বসে খাবার খেলেও বাবা-মা ও ছোট ভাইয়ের অনুপস্থিতি পুরো পরিবারকে বারবার শোকাহত করে তোলে। এপি জানায়, গাজা থেকে পরিবারের সদস্যদের বের করে আনার প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত জটিল। যুদ্ধ, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং আইনি জটিলতার কারণে হাজারো পরিবার এখনও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। মাইস আল-ঘারামের পরিবারের এই পুনর্মিলন তাই শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়; এটি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার অসংখ্য বিচ্ছিন্ন পরিবারের বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি। বহু প্রতীক্ষার পর সাত ভাইবোন আবার একসঙ্গে হলেও, বাবা-মা ও ছোট ভাইকে হারানোর শূন্যতা তাদের জীবনে চিরস্থায়ী হয়ে রইল।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘সবর ইনস্টিটিউট’-এর এক সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় থাকা এবং ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ২৭ লাখের বেশি ভোটারের মধ্যে ৭০ দশমিক ১৭ শতাংশই মুসলিম। এছাড়া এই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের ৫১ শতাংশই নারী। সম্প্রতি প্রকাশিত ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশের বেশি বাঙালি হওয়ায় বাদ পড়া ভোটারদের অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসব ভোটারের বড় অংশকে তথাকথিত ‘যৌক্তিক অসংগতি’ বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’র অভিযোগে চিহ্নিত করা হয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, বিচারাধীন ২৭ লাখের বেশি ভোটারের বাইরে আরও প্রায় ৬৪ লাখ ভোটারের নাম ‘সাপ্লিমেন্টারি’ বা অতিরিক্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত বা দ্বৈত ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এই তালিকার তথ্য নিয়েও বর্তমানে বিশ্লেষণ চলছে বলে জানিয়েছে সবর ইনস্টিটিউট। পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বহু বৈধ ভোটারের নাম অত্যন্ত আপত্তিকর ও অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কোনো দম্পতির ছয় বা তার বেশি সন্তান থাকলে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আবার মা–বাবার নামের বানানে সামান্য অমিল কিংবা মা–বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম হওয়ার মতো কারণেও অনেকের ভোটাধিকার স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় প্রথম ধাপে প্রায় ৬১ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়। পরে ‘সাপ্লিমেন্টারি’ তালিকা প্রকাশের পর মোট বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৯১ লাখে পৌঁছায়। এর ফলে আগের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কমে যায়। এদিকে নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে, তালিকা থেকে মূলত মৃত, স্থানান্তরিত কিংবা খুঁজে পাওয়া যায়নি—এমন ব্যক্তিদের নামই বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এবং হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে এসআইআর ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। বর্তমানে বাদ পড়া এসব ভোটার কবে আবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন এবং ভোটাধিকার ফিরে পাবেন, তা অনিশ্চিত রয়েছে।
বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় বাংলাদেশ তিন ধাপ এগিয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের প্রকাশিত ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সংস্করণের হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৭তম। তবে র্যাংকিংয়ে উন্নতি হলেও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে আগাম ভিসা ছাড়াই বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধায় মাত্র ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন, যা বৈশ্বিক মানদণ্ডে এখনও তুলনামূলকভাবে সীমিত। হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স মঙ্গলবার সর্বশেষ এই সূচক প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) টিম্যাটিক ডেটাবেসের তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বের ১৯৯টি পাসপোর্ট এবং ২২৭টি গন্তব্য বিশ্লেষণ করে এ র্যাংকিং তৈরি করে। সর্বশেষ সূচকে বাংলাদেশ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ৯৭তম অবস্থানে রয়েছে। গত বছরের তুলনায় তিন ধাপ এগোলেও ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধার গন্তব্য কমে ৩৫টিতে নেমে এসেছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩৭। র্যাংকিংয়ের পরিবর্তন মূলত অন্যান্য দেশের অবস্থানের পরিবর্তনের কারণেও হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালদ্বীপের পাসপোর্ট সবচেয়ে শক্তিশালী। দেশটির অবস্থান ৫২তম এবং তাদের নাগরিকরা ৯৩টি দেশে ভিসামুক্ত বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা পান। ভারতের অবস্থান ৮১তম, শ্রীলঙ্কা ৯৪তম, বাংলাদেশের পরেই রয়েছে নেপাল। পাকিস্তানের অবস্থান ১০১তম, আর তালিকার সর্বশেষে রয়েছে আফগানিস্তান। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের অবস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা ১৯২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স বিশ্বজুড়ে একটি স্বীকৃত সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। কোনো দেশের পাসপোর্ট দিয়ে আগাম ভিসা ছাড়াই কতটি দেশে প্রবেশ করা যায়, তার ভিত্তিতেই এই র্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়।