আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতালের টয়লেটে গোপনে নারীদের ভিডিও ধারণ, ভারতীয় চিকিৎসকের কারাদণ্ড

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ২০:৪৪
আদালতের রায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১৫ বছর যৌন অপরাধীর তালিকায় থাকার নির্দেশ পান অদ্বৈত দেশমুখ। ছবি: সংগৃহীত
আদালতের রায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১৫ বছর যৌন অপরাধীর তালিকায় থাকার নির্দেশ পান অদ্বৈত দেশমুখ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি হাসপাতালে সহকর্মী নারীদের ব্যবহৃত টয়লেটে গোপনে ক্যামেরা স্থাপন করে ভিডিও ও ছবি ধারণের অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক চিকিৎসককে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১৫ বছরের জন্য যৌন অপরাধীর তালিকাভুক্ত (Sex Offender Registry) থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত চিকিৎসকের নাম অদ্বৈত দেশমুখ। তিনি ওহাইওর টোলেডো শহরের একটি হাসপাতালের এন্ডোউরোলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের রেসিডেন্ট চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গত জুনে লুকাস কাউন্টি কমন প্লিজ কোর্টের বিচারক মাইকেল গোল্ডিং এ রায় দেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, অদ্বৈত দেশমুখের বিরুদ্ধে নজরদারির উদ্দেশ্যে গোপনে ভিডিও ধারণ (ভয়রিজম) এবং প্রমাণ নষ্ট বা লোপাটের চেষ্টাসহ মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল।

 

আদালতে তিনি অভিযোগ স্বীকার করলে বিচারক তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড, তিন বছরের প্রবেশন এবং যৌন আচরণ সংশোধনমূলক সহায়তা কর্মসূচি সেক্সাহোলিকস অ্যানোনিমাস-এর সেশনে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া ভবিষ্যতে তিনি অন্য কাউন্টিতে বসবাস করলেও আদালতের আরোপিত শর্ত ও চিকিৎসা কার্যক্রম বহাল থাকবে।

রায় ঘোষণার আগে আদালতে দাঁড়িয়ে অদ্বৈত দেশমুখ নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য বিচারক ও ভুক্তভোগীদের কাছে ক্ষমা চান। তার আইনজীবী কারাদণ্ডের পরিবর্তে কেবল প্রবেশনে রাখার আবেদন জানালেও আদালত তা গ্রহণ করেননি।

 

মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনাটির সূত্রপাত ২০২৫ সালের জুনে। টোলেডো হাসপাতালের রেনেসাঁ টাওয়ারের একটি কমন টয়লেটে একটি বাক্সের ভেতরে লুকিয়ে রাখা ডিজিটাল ক্যামেরা দেখতে পান এক কর্মী। তিনি সেটি সরানোর চেষ্টা করলে অদ্বৈত দেশমুখ ক্যামেরাটি নিয়ে নেন এবং সেটি নিজের বলে দাবি করেন। এই ঘটনাই পরবর্তীতে তদন্তের সূচনা করে।

 

পরবর্তীতে প্রোমেডিকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও টোলেডো পুলিশের যৌথ তদন্তে চিকিৎসকের মোবাইল ফোন থেকে ৮২টি গোপনে ধারণ করা ছবি উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিগুলো ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে হাসপাতালের টয়লেটে গোপনে ধারণ করা হয়েছিল।

তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করে। পরে আদালতে তিনি অপরাধ স্বীকার করলে বিচারক কারাদণ্ডের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও নিবন্ধনের নির্দেশ দেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং সম্মতি ছাড়া গোপনে ছবি বা ভিডিও ধারণের মতো অপরাধকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্রের মতো সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
মেয়ের কথায় লটারির টিকিট পরীক্ষা করেই জ্যাকপট জয়ের খবর পান মিশিগানের ৭৫ বছর বয়সী ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত
'এখন লটারি জিতলে ভালো হতো', মেয়ের কথার কিছুক্ষণ পরই আড়াই লাখ ডলারের লটারি জিতলেন বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মেয়ের বাড়ি পরিষ্কার করতে গিয়ে জীবনের সবচেয়ে বড় সুখবর পেলেন ৭৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। মেয়ের মুখে "এখন লটারি জিতলে ভালো হতো" কথাটি শোনার পরই তিনি পকেটে থাকা লটারির টিকিট পরীক্ষা করেন। আর তাতেই জানতে পারেন, তিনি জিতেছেন ২ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯৮ মার্কিন ডলার (প্রায় ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, বাংলাদেশি মুদ্রায়)।   মিশিগান লটারি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, ম্যাকোম্ব কাউন্টির বাসিন্দা ওই ব্যক্তি নিজের পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছেন। লটারি কর্তৃপক্ষকে তিনি জানান, প্রতি সোমবার দোকানে গেলে ফ্যান্টাসি ৫ লটারির একটি টিকিট কেনা তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, পরদিন ঝড়ে একটি গাছ ভেঙে মেয়ের বাড়ির ওপর পড়ার পর সেই ক্ষয়ক্ষতি পরিষ্কার করতে সাহায্য করছিলেন। তখন তার মেয়ে হঠাৎ বলেছিল, "এখন যদি লটারিতে জিততে, তাহলে কতই না ভালো হতো।"   এই কথাতেই তার মনে পড়ে যায়, আগের দিন কেনা লটারির টিকিটটি এখনো পরীক্ষা করা হয়নি। তিনি বলেন, "আমি পকেট থেকে টিকিট বের করে মিশিগান লটারির মোবাইল অ্যাপে নম্বর মিলিয়ে দেখি। তখনই জানতে পারি আমি জ্যাকপট জিতেছি। বিশ্বাসই হচ্ছিল না।" লটারি কর্তৃপক্ষ জানায়, ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত ফ্যান্টাসি ৫ ড্রয়ের ১৩, ১৬, ২৬, ২৮ ও ৩৭ নম্বরের সঙ্গে তার টিকিটের সব নম্বর মিলে যায়। এতে তিনি ২ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯৮ ডলারের জ্যাকপট জিতে নেন।   জয়ী টিকিটটি তিনি সেন্ট ক্লেয়ার শোরস শহরের লিটল ম্যাক বিয়ার অ্যান্ড ওয়াইন নামের একটি দোকান থেকে কিনেছিলেন। লটারিতে পাওয়া অর্থ কীভাবে ব্যবহার করবেন, সে প্রশ্নে ওই ব্যক্তি জানান, আপাতত পুরো অর্থ সঞ্চয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। মিশিগান লটারি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতই খেলোয়াড়দের দ্রুত টিকিট পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে থাকে। কারণ, এর আগেও মিশিগানে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের একটি পাওয়ারবল পুরস্কারের টিকিট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি না করায় সেই অর্থ রাজ্যের স্কুল এইড ফান্ডে চলে যায়।   এদিকে মিশিগানের সর্বশেষ বড় লটারি জ্যাকপট জয়ের ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের জুনে, যখন ব্রেকফাস্ট ক্লাব নামে একটি লটারি গ্রুপ ৮৪ কোটি ২০ লাখ ডলার মূল্যের মেগা মিলিয়নস জ্যাকপট জেতে। পরে তারা ফ্লোরিডায় বাড়ি কেনা এবং ভ্রমণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল।   সূত্র: মিশিগান লটারি।

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ২১:৪৯
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বহনকারী স্কুলবাসে অশালীন আচরণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন স্টিভেন এডওয়ার্ড উইলকিন্স। ছবি: সংগৃহীত

স্কুলবাসে অশালীন আচরণের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক বাসচালকের ২০ বছরের সাজা

পডকাস্টে ছেলেদের জীবনযাপন নিয়ে রসিকতা করে আলোচনায় ব্র্যান্ডি গ্ল্যানভিল। ছবি: সংগৃহীত

সন্তানেরা কোকেন ও মদ ছুঁয়েও দেখে না, ছেলেদের ‘বোরিং’ বললেন মার্কিন তারকা ব্রান্ডি গ্ল্যানভিল

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান ‘অপারেশন শার্লটস ওয়েব’ চলছিল

অভিবাসীদের সতর্ক করতে হর্ন বাজিয়ে গ্রেপ্তার ২ মার্কিন নারী, আইসের বিরুদ্ধে ২৫ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণের মামলা

গাড়িটি আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ার আগেই চালককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ছবি: সংগৃহীত
জ্বলন্ত গাড়ি থেকে খালি হাতে কাচ ভেঙে চালককে উদ্ধার, যুক্তরাষ্ট্রে সম্মানিত পুলিশ কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মহাসড়কের ওপর আগুনে জ্বলতে থাকা একটি গাড়ি থেকে চালককে জীবিত উদ্ধার করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ঝুঁকিপূর্ণ ওই অভিযানের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সাহসিকতার জন্য তাকে বিভাগটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননাও দেওয়া হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ এবং সাউথলেক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত ৭ জুন টেক্সাসের স্টেট হাইওয়ে ১১৪-এ। সাউথলেক পুলিশ বিভাগের করপোরাল জোশুয়া সুইশার জানান, সেদিন তিনি মহাসড়কের পাশে একটি যানবাহন থামিয়ে ট্রাফিক সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঠিক তখনই নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে একটি গাড়ি থেকে ঘন ধোঁয়া বের হওয়ার এবং সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ডের খবর পান।   তিনি জানান, বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার একটাই লক্ষ্য ছিল গাড়িটিকে নিরাপদ স্থানে থামিয়ে ভেতরে থাকা চালককে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই বের করে আনা। সাউথলেক পুলিশ বিভাগের প্রকাশ করা ড্যাশক্যাম ভিডিওতে দেখা যায়, ধোঁয়া বের হতে থাকা গাড়িটি সুইশারের পাশ দিয়ে চলে যায়। তিনি দ্রুত গাড়িটির পিছু নেন এবং সেটিকে মহাসড়কের পাশে থামাতে সক্ষম হন। কিন্তু গাড়িটি থামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।   ভিডিওতে আরও দেখা যায়, গাড়ির দরজা খুলতে গেলে আগুনের তাপে দরজার হাতল ভেঙে যায়। এতে চালককে বের করার পথ বন্ধ হয়ে যায়। এবিসি নিউজকে সুইশার বলেন, তখন তিনি বুঝতে পারেন, প্রচলিত উপায়ে দরজা খুলে চালককে বের করা সম্ভব নয়। তাই তিনি দস্তানা পরে গাড়ির জানালায় আঘাত করেন।   তার শরীরে ধারণ করা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ঘন কালো ধোঁয়ায় গাড়ির ভেতর প্রায় কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তারপরও তিনি জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। সুইশার বলেন, জানালার কাচ ভেঙে যাওয়ার পরই তিনি স্বস্তি পান, কারণ তখন অন্তত চালককে বের করার একটি পথ তৈরি হয়েছিল।   এরপর তিনি চালককে গাড়ি থেকে টেনে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পুরো গাড়িটি আগুনে পুড়ে যায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িতে চালক ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। তিনি মানসিকভাবে ভীত হলেও গুরুতর আহত হননি এবং নিজে হেঁটে ঘটনাস্থল ছেড়ে যেতে সক্ষম হন।   ঘটনার পর জোশুয়া সুইশার বলেন, "প্রতিদিন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় না। আমি শুধু খুশি যে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় ছিলাম এবং একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পেরেছি।"   এই সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ সাউথলেক পুলিশ বিভাগ তাকে মেরিটোরিয়াস কন্ডাক্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেছে। বিভাগটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই সম্মাননা কর্তব্য পালনের সময় অসাধারণ সাহস, পেশাদারিত্ব এবং জীবনঝুঁকি মোকাবিলার স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়।   পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অন্যের জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসার জন্যই এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।   সূত্র: এবিসি নিউজ, সাউথলেক পুলিশ বিভাগ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ২০:৫৪
আদালতের রায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১৫ বছর যৌন অপরাধীর তালিকায় থাকার নির্দেশ পান অদ্বৈত দেশমুখ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতালের টয়লেটে গোপনে নারীদের ভিডিও ধারণ, ভারতীয় চিকিৎসকের কারাদণ্ড

মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স

মার্কিন-ইসরায়েল সামরিক জোট শক্ত করার ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিলে ‘না’ ভোট চান স্যান্ডার্স

মেডিকেইডে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার জালিয়াতি করে কেনেন ফেরারি ও বিলাসবহুল বাড়ি

ভুয়া মেডিকেইড বিলে কোটি ডলারের জালিয়াতি, ফেরারি-বিলাসবহুল বাড়ি কিনে শেষ পর্যন্ত কারাগারে আদনান আরশাদ

সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস যদি ও সাবেক প্রেস সেক্রেটারি মাইকেল লারোসা I ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
২০২৮ নির্বাচনে কমলার সম্ভাবনা নেই, ‘ভোটাররা আর সুযোগ দেবেন না’ দাবি বাইডেন-সহকারীর

সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস যদি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে তার জয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাইডেন প্রশাসনের সাবেক এক কর্মকর্তা। মঙ্গলবার ফক্স নিউজের ‘আমেরিকা রিপোর্টস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনের সাবেক প্রেস সেক্রেটারি মাইকেল লারোসা এই দাবি করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, মার্কিন ভোটাররা কমলা হ্যারিসকে তৃতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসের দৌড়ে সুযোগ দেবেন না।   সম্প্রতি নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে কমলা হ্যারিসকে ২০২৮ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের সম্ভাব্য শীর্ষ প্রার্থী বা ফ্রন্ট-রানার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে এক ডেমোক্র্যাট কৌশলবিদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, কমলা হ্যারিস জনগণের কথা শুনছেন এবং কীভাবে তাদের আরও ভালোভাবে সেবা দেওয়া যায়, তা বোঝার চেষ্টা করছেন। তবে এই দাবির সরাসরি বিরোধিতা করেন লারোসা। তিনি বলেন, দশকের পর দশক রাজনীতির অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কমলা হ্যারিস এখনো সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ। তার মতে, কমলা ঝুঁকি নিতে চান না, বরং তিনি কেবল হিসাব-নিকাশ করে চলেন এবং প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান। লারোসা মনে করেন, জনগণের সঙ্গে প্রকৃত সংযোগ স্থাপন করতে চাইলে তাকে এই স্বভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, যদিও তার তৃতীয়বার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।   ২০২৮ সালের নির্বাচনের জন্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে অন্য কয়েকজনের নামও প্রস্তাব করেছেন লারোসা। তিনি এমন একজন প্রার্থী চান যিনি অত্যন্ত দক্ষ এবং দেশ চালাতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে তিনি রাহম ইমানুয়েল, গ্যাভিন নিউজম এবং পিট বুটিগিগ-এর মতো নেতাদের নাম উল্লেখ করেন। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এখনো নির্বাচনে লড়ার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা দেননি; এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেবেন। বর্তমানে যোগাযোগ কৌশলবিদ হিসেবে কর্মরত লারোসা জানান, তার পছন্দ কেবল এই তিনজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তিনি এমন কাউকে চান যিনি স্রোতের অনুকূলে না ভেসে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন। এদিকে, লারোসার এই সমালোচনার বিষয়ে কমলা হ্যারিসের কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ১৯:৩২
সন্দেহভাজন নারী I ছবি: সংগৃহীত

আবর্জনার ঝুড়িতেই লুকিয়ে ছিল প্রমাণ, ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের কাঁটাচামচের ডিএনএতে ১৪ বছর পর গ্রেপ্তার নারী

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ

ট্রাম্পের অভিবাসন কড়াকড়ির মাঝে কোন মার্কিন ভিসা এখনো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কে লিজিয়নার্সে ৫ জনের মৃত্যু, ৮২ আক্রান্ত; তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি মেয়র মামদানির

0 Comments