সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

চীন-পাকিস্তানকে মোকাবিলায় ২০০ যুদ্ধজাহাজের লক্ষ্য ভারতের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ১১:৩৭
চীন ও পাকিস্তানের নৌ সক্ষমতা মোকাবিলায় আগামী ১০ বছরে ২০০ যুদ্ধজাহাজের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ভারত। ছবি: সংগৃহীত
চীন ও পাকিস্তানের নৌ সক্ষমতা মোকাবিলায় আগামী ১০ বছরে ২০০ যুদ্ধজাহাজের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ভারত। ছবি: সংগৃহীত

ভারত আগামী ১০ বছরের মধ্যে নিজেদের নৌবাহিনীর জাহাজের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। চীন ও পাকিস্তানের নৌ সক্ষমতা মোকাবিলায় এই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় নৌবহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানও চীনের তৈরি আধুনিক আক্রমণাত্মক ডুবোজাহাজ নিজেদের নৌবহরে যুক্ত করেছে। এ পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগরে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াচ্ছে নয়াদিল্লি।

 

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভারত সম্প্রতি নিজেদের তৈরি দুটি যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীতে যুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টেলথ প্রযুক্তির ফ্রিগেট আইএনএস মহেন্দ্রগিরি এবং ডুবোজাহাজ শনাক্ত ও প্রতিরোধে সক্ষম যুদ্ধজাহাজ আইএনএস মালভান। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব জাহাজকে ভারতের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে স্বনির্ভরতার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীতে প্রায় ১৫০টি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩৫টি ফ্রিগেট, ডেস্ট্রয়ার ও ডুবোজাহাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধজাহাজ। এছাড়া আরও প্রায় ৫০টি জাহাজ নির্মাণাধীন রয়েছে।

 

ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক রিয়ার অ্যাডমিরাল ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সঞ্জয় মিশ্র বলেন, দেশীয়ভাবে তৈরি জাহাজের ওপর নির্ভর করে ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০ জাহাজের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে এই সংখ্যাও ছাড়িয়ে যাওয়া যেতে পারে।

 

তিনি বলেন, বর্তমান কৌশলগত পরিস্থিতিতে ভারতের অন্তত দুটি শক্তিশালী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নৌবহর প্রয়োজন। তবে এমন সক্ষমতা গড়ে তুলতে আরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ও সহায়ক জাহাজ প্রয়োজন হবে।

 

নৌবহর সম্প্রসারণের গতি বাড়াতে ভারত প্রতি ছয় সপ্তাহ বা তার কাছাকাছি সময়ে একটি করে নতুন যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করছে। গত দেড় মাসেই দেশটি নিজস্ব উপকরণ ও প্রযুক্তিতে তৈরি পাঁচটি জাহাজ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত করেছে।

 

ভারতের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ২০৪৭ সালের মধ্যে জাহাজ নির্মাণে সম্পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জন করা। তবে এই লক্ষ্য পূরণের পথে বিশেষায়িত ইস্পাত ও অন্যান্য উপাদানের জন্য আমদানিনির্ভরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং পুরনো জাহাজ নির্মাণ অবকাঠামোর মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
তুরস্কে স মকামী গোষ্ঠীর ওপর একযোগে সাঁড়াশি অভিযান, তীব্র নিন্দা মানবাধিকার সংগঠনের
তুরস্কে স মকামী গোষ্ঠীর ওপর একযোগে সাঁড়াশি অভিযান, তীব্র নিন্দা মানবাধিকার সংগঠনের

তুরস্কে এলজিবিটিকিউ+ (LGBTQ+) এবং এইচআইভি সহায়তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন অধিকার গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের ওপর সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। রোববার ভোরে ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা, ইজমির, আয়দিন এবং মেরসিনের মতো বড় শহরগুলোতে একযোগে এই তল্লাশি চালানো হয়।   অভিযানের সময় পুলিশ বিভিন্ন সংগঠনের কার্যালয় ও জনপ্রিয় আড্ডাস্থলগুলোতে হানা দিয়ে বহু সদস্যকে আটক করেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে গত এক দশক ধরে এলজিবিটিকিউ গোষ্ঠীগুলোর ওপর যে বৈরিতা চলে আসছে, এই অভিযান তারই একটি বড় বহিঃপ্রকাশ। অভিযানের পাশাপাশি অধিকার গোষ্ঠীগুলোর ওয়েবসাইটও ব্লক করে দেওয়া হয়েছে।   এই অভিযানের বিষয়ে তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের পরিবার ও শিশু বিষয়ক দশ বছর মেয়াদি নির্বাহী আদেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী পরিবার ও শিশুদের রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব এবং শিশু, তরুণ বা পরিবারকে লক্ষ্য করে কোনো অপরাধমূলক বা অবৈধ কার্যক্রম কখনোই সহ্য করা হবে না। এই অভিযানে ১৬২ জন সন্দেহভাজন, ৯টি সংগঠন এবং ১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া এসব সংগঠন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে বিপুল পরিমাণ তহবিল গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এটি কোনো আইনি তদন্ত নয়, বরং পরিবার ও শিশুদের সুরক্ষার আড়ালে পুরো সমাজকে একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলার রাজনৈতিক অপচেষ্টা। অপরাধমূলক সংগঠন গঠন, মাদক বা পতিতাবৃত্তির মতো ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে পুরো সম্প্রদায়কে অপরাধী বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে তারা।   ২০১৫ সালে ইস্তাম্বুল প্রাইড নিষিদ্ধ করার পর থেকেই তুরস্কের ধর্মীয় রক্ষণশীল একে পার্টি তাদের ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে এলজিবিটিকিউ গোষ্ঠীর ওপর ক্রমশ চাপ বাড়িয়ে চলেছে। এমনকি সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরে ভ্রমণরত একটি এলজিবিটিকিউ প্রমোদতরীকেও তুরস্কের বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৫:৪১
৩৭১ দিনে বিশ্বভ্রমণ, ২২০টির বেশি বন্দরে নোঙর করবে বিশ্বের দীর্ঘতম ক্রুজ ‘রেগাট্টা’

৩৭১ দিনে বিশ্বভ্রমণ, ২২০টির বেশি বন্দরে নোঙর করবে বিশ্বের দীর্ঘতম ক্রুজ ‘রেগাট্টা’

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধেই ফুরিয়ে আসছে মার্কিন অস্ত্র, চীনের সঙ্গে  লড়াইয়ে কতটা প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র?

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধেই ফুরিয়ে আসছে মার্কিন অস্ত্র, চীনের সঙ্গে লড়াইয়ে কতটা প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র?

বিশ্বজুড়ে ডিজেলের আকাশছোঁয়া দামের জন্য ইউক্রেনকে সরাসরি দায়ী করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্বজুড়ে ডিজেলের আকাশছোঁয়া দামের জন্য ইউক্রেনকে সরাসরি দায়ী করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

তিউনিসিয়ায় ঝড়ের কবলে টার্কিশ এয়ারলাইন্স, তিনবার অবতরণে ব্যর্থ হয়ে মৃ ত্যুভয়ে যাত্রীদের আর্তনাদ
তিউনিসিয়ায় ঝড়ের কবলে টার্কিশ এয়ারলাইন্স, তিনবার অবতরণে ব্যর্থ হয়ে মৃ ত্যুভয়ে যাত্রীদের আর্তনাদ

ইস্তাম্বুল থেকে তিউনিসিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার তিউনিস-কার্থেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে বিমানটি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরপর তিনবার অবতরণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন পাইলট। একপর্যায়ে বিমানটি দ্রুতগতিতে নিচের দিকে নামতে শুরু করলে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও কান্নার রোল পড়ে যায়।     এই ঘটনায় যাত্রীদের মৃত্যুভয়ের এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ফ্লাইটে থাকা মেরিনা মাইস্কায়া নামের এক যাত্রী তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সেদিনের লোমহর্ষক মুহূর্তের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়, তীব্র ঝাঁকুনির সময় যাত্রীরা প্রাণভয়ে নিজেদের সিট শক্ত করে আঁকড়ে ধরে আছেন এবং পুরো কেবিন জুড়ে যাত্রীদের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে।   মেরিনা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ইস্তাম্বুল থেকে যাত্রাটি বেশ মসৃণ থাকলেও অবতরণের ঠিক আগমুহূর্তে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তিনি জানান, জীবনে কখনো তিনি এতটা মৃত্যুভয়ে ভোগেননি।   জানা গেছে, পাইলট সাহসিকতার সাথে ভয়াবহ সেই ঝড়ের ভেতর দিয়েই তিনবার তিউনিস-কার্থেজ বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা চালান। প্রতিটি চেষ্টাতেই বিমানটি প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠে এবং তৃতীয়বারের চেষ্টায় এটি হঠাৎ করে ছিটকে নিচে নামতে শুরু করে। তবে শেষ পর্যন্ত পাইলটের দক্ষতায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।   পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মূল গন্তব্য থেকে প্রায় ৬০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত এনফিধা-হামামেত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়। ভয়ংকর এই অভিজ্ঞতার পর যাত্রীরা টার্কিশ এয়ারলাইন্সের পাইলটদের দক্ষতার প্রশংসা করেছেন এবং নিরাপদে মাটিতে পা রাখতে পেরে গভীর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৩:২৪
সাবেক প্রেমিকার কাছে অর্থ ফেরত চেয়ে করা ভারতীয় ব্যবসায়ীর মামলা খারিজ করেছে সিঙ্গাপুরের হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

প্রেমিকার পেছনে কোটি টাকা খরচ, ব্রেকআপের পর ফেরত চেয়ে আদালতে হেরে গেলেন ভারতীয় ব্যবসায়ী

নয়াদিল্লিতে দুই দিনব্যাপী ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে বৈঠকে বসেছেন সদস্য দেশগুলোর নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের শেষ দিনে ঐক্যের বার্তা, সামনে ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের মতপার্থক্য

ভিটেমাটি হারানোর বেদনায় কাঁদছেন উচ্ছেদের মুখে পড়া হংকংয়ের এক গ্রামীণ বাসিন্দা। ছবি: সংগৃহীত

২৮.৬ বিলিয়ন ডলারের হাই-টেক হাবের জন্য উচ্ছেদ করা হচ্ছে হংকংয়ের ২৫টি গ্রাম!

অনুমোদন ও অবকাঠামোগত অনিয়মের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ২৫২টি মাদ্রাসাকে বন্ধের নোটিস দিয়েছে রাজ্য সরকার। ছবি: সংগৃহীত
মাদ্রাসার অনুমোদন নিয়ে কড়াকড়ি, পশ্চিমবঙ্গে ২৫২টিতে বন্ধের নোটিস, শোকজ আরও ১০০টি

পশ্চিমবঙ্গজুড়ে পরিচালিত মাদ্রাসাগুলোর ওপর সরকারি সমীক্ষার পর ২৫২টি মাদ্রাসাকে বন্ধের নোটিস দিয়েছে রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে আরও প্রায় ১০০টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিস বা শোকজ করা হয়েছে। রোববার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদন, অবকাঠামো ও পরিচালন ব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়মের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।    রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু জানিয়েছেন, বন্ধের নোটিস পাওয়া ২৫২টি প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও নেই। অন্যদিকে শোকজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের অবস্থান ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের জবাব পর্যালোচনার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।    সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, জুনের শুরু থেকে পশ্চিমবঙ্গের সব জেলায় এই সমীক্ষা চালানো হয়। এতে মাদ্রাসাগুলোর অনুমোদন, অবকাঠামো, পরিচালন ব্যবস্থা এবং সরকারি নিয়ম মেনে চলার বিষয়গুলো যাচাই করা হয়েছে। অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা মাদ্রাসাগুলো কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।    সমীক্ষায় প্রায় ২ হাজার ১৩২টি মাদ্রাসা প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বিপরীতে প্রায় ২ হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসা প্রয়োজনীয় সরকারি বা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন কিংবা অ্যাফিলিয়েশন ছাড়া চলছে বলে প্রশাসনিক তথ্যে উঠে এসেছে। বিশেষ করে খারিজি মাদ্রাসাগুলোর কার্যক্রম ও বৈধতা যাচাইয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।    জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের ২২টি জেলা ও কলকাতা এলাকার মাদ্রাসাগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন, পরিচালন ব্যবস্থা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসংখ্যা, অবকাঠামো এবং অর্থের উৎস খতিয়ে দেখা হয়েছে। পরে সংগৃহীত তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল আছে কি না, তা যাচাই করতে বিশেষ পরিদর্শন ও তদন্তকারী দলও পাঠানো হয়।    প্রশাসনের প্রতিবেদনে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাব, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসংখ্যা কম থাকা, নির্ধারিত স্কুল পাঠ্যক্রম থেকে বড় ধরনের বিচ্যুতি এবং প্রশাসনিক নিয়ম না মানার মতো বিষয় উঠে এসেছে। এসব কারণেই একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। জেলা হিসেবে মালদহে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৪৪ থেকে ৪৫টি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়েছে। এরপর উত্তর দিনাজপুরে প্রায় ৩৭টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রায় ৩২টি এবং মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় প্রায় ২৫টি করে মাদ্রাসা রয়েছে।    এদিকে কয়েকটি মাদ্রাসায় ‘ভারতবিরোধী’ শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করার অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এসেছে বলে একটি সরকারি সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণ ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। একই বিষয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েতি রাজমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ কিছু প্রতিষ্ঠানে কথিত উগ্রপন্থী তৎপরতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেছেন, সব মাদ্রাসাকে একই দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়।    রাজ্য সরকার জানিয়েছে, যাচাই ও পর্যালোচনার এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও চলবে। যেসব প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে কিংবা সরকারি নিয়ম মানছে না, সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক ও আইনসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১০:৫৮
মাঝ আকাশে রায়ানএয়ারের বিমানের জানালা ভেঙে যাওয়ার ঘটনার পর কেবিনের ভেতরের একটি দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

বিমানের জানালা ভেঙে যাত্রী ‘বাইরে চলে যান’, দাবির আপত্তি রায়ানএয়ার সিইও

দক্ষিণ কোরিয়ায় সহকর্মীর বিয়েতে গিয়ে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন এক ভারতীয় নারী। ছবি: সংগৃহীত

কোরিয়ান বিয়েতে খাবারের আগে দিতে হয় উপহার, টোকেন না থাকায় আটকে গেলেন ভারতীয় নারী

কেতজিওত কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ

‘বেবি, সে মা রা গেছে।’- ফিলিস্তিনি ব ন্দি র মৃ ত্যু র পর ইসরায়েলি কারারক্ষীদের হোয়াটসঅ্যাপে নি র্যা ত নে র ত থ্য

0 Comments