বিশ্বের বহু দেশের তুলনায় ইরানের শাসনব্যবস্থা ব্যতিক্রমধর্মী। দেশটিতে প্রেসিডেন্ট ও সংসদ সদস্যরা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এলেও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকে একজন ধর্মীয় নেতার হাতে ‘সুপ্রিম লিডার’ বা সর্বোচ্চ নেতার কাছে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এই পদে রয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
ইসলামি বিপ্লব থেকে উত্থান
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামি প্রজাতন্ত্র। বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লব-পরবর্তী ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদ সৃষ্টি হয়।
১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্ম নেওয়া আলী খামেনি তরুণ বয়সেই খোমেনির অনুসারী হন। শাহবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে একাধিকবার গ্রেপ্তার হন। ১৯৮১ সালে বোমা হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তাঁর ডান হাত আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়।
বিপ্লবের পর তিনি বিপ্লবী পরিষদে দায়িত্ব পালন করেন, পরে উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংগঠনে ভূমিকা রাখেন। একই বছর ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে টানা আট বছর দায়িত্ব পালন করেন।
কীভাবে হলেন সর্বোচ্চ নেতা
১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর ৮৮ সদস্যের ধর্মীয় পরিষদ Assembly of Experts খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। যদিও সে সময় তিনি সংবিধানে নির্ধারিত ‘গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ’ মর্যাদায় ছিলেন না।
পরবর্তীতে সংবিধানে সংশোধন এনে শর্ত শিথিল করা হয় এবং তাঁকে আয়াতুল্লাহ পদে উন্নীত করা হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা পুনর্বিন্যাস করা হয়, তবে সামরিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব সর্বোচ্চ নেতার হাতেই থাকে।
সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ। বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম, সামরিক নেতৃত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তে তাঁর অনুমোদন অপরিহার্য। পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে বৈদেশিক নীতি সবক্ষেত্রেই তাঁর চূড়ান্ত মতামত কার্যকর হয়।
তাঁর শাসনামলে মোহাম্মদ খাতামি, মাহমুদ আহমাদিনেজাদ, হাসান রুহানি, এব্রাহিম রাইসি এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ একাধিক প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেছেন। অনেকেই নীতিগত ভিন্নমত পোষণ করলেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাঠামো অক্ষুণ্ণ থেকেছে।
২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচন, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসা, ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলেইমানি হত্যাকাণ্ড এবং একই বছরে ইউক্রেনীয় যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিতের ঘটনা এসব বড় সংকটে খামেনির নেতৃত্ব ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ইসরায়েলবিরোধী কড়া অবস্থান এবং পশ্চিমা বিশ্ববিরোধী বক্তব্যের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস। সদস্যদের প্রার্থীতা যাচাই করে Guardian Council, যার ওপরও সর্বোচ্চ নেতার প্রভাব থাকে। নির্বাচিত হলে সর্বোচ্চ নেতা আজীবন দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
৮৬ বছর বয়সী খামেনির স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে জল্পনা চলমান। তিনি মারা গেলে বা পদত্যাগ করলে উত্তরসূরি কে হবেন, তা নির্ধারণ করবে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস এমনই সাংবিধানিক বিধান রয়েছে।
ইসলামি বিপ্লব-পরবর্তী ইরানে আলী খামেনিই দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি সর্বোচ্চ নেতার পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তাঁর উত্থান, ক্ষমতার বিস্তার এবং দীর্ঘ শাসনকাল ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও বিধ্বংসী মোড় নিয়েছে ইরান পরিস্থিতি। গত শনিবার ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ি এবং সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারেরা নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা (IRNA)। ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, তেহরানে চালানো এই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর (Precision strike) হামলায় খামেনেয়ির পাশাপাশি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ আব্দুল রহিম মৌসাভি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ প্রাণ হারিয়েছেন। এই হামলাটিকে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে, খামেনেয়ির নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী শামখানি এবং ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) স্থল ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ পাকপুরও এই অভিযানে নিহত হয়েছেন। ইরনা আরও জানিয়েছে যে, সশস্ত্র বাহিনীর আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ কমান্ডার এই হামলায় নিহত হয়েছেন, যাদের নাম ও পরিচয় পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। শনিবারের এই বড় ধরনের সামরিক অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। দেশটির বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে শীর্ষ নেতৃত্বের এমন আকস্মিক অবসান পুরো অঞ্চলকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার (১ মার্চ) সকালে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে খামেনির হত্যাকে ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং এর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, “এই গুরুতর অপরাধ কখনোই অপ্রতিক্রিয়ায় থাকবে না। এটি ইসলামি বিশ্ব ও শিয়াবাদের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এই মহান নেতার বিশুদ্ধ রক্ত এক উন্মত্ত স্রোতের মতো প্রবাহিত হয়ে মার্কিন-জায়োনিস্টদের শোষণ ও অপরাধ নির্মূল করবে।” আরও বলা হয়, “আমরা আমাদের সর্বশক্তি ও দৃঢ়তা নিয়ে, ইসলামি জাতি এবং বিশ্বের মুক্ত মানুষদের সমর্থনসহ, এই অপরাধের পরিকল্পনাকারী ও দায়ীদের অনুতপ্ত করব।” প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার পাশাপাশি সাত দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করেন। এর আগে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানায়, শনিবার ভোরে রাজধানী তেহরানে নিজ কার্যালয়ে খামেনিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে, যা বড় ধরনের বিস্ফোরণের ইঙ্গিত দেয়। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানায়, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিজ কার্যালয়েই খামেনি নিহত হন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্র উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসনব্যবস্থা চালু হয়। এরপর দেশটি দুজন সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে, যাঁরা ‘আয়াতুল্লাহ’ উপাধি ধারণ করেন। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ছিলেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে। রোববার (১ মার্চ) সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম Islamic Republic of Iran Broadcasting (আইআরআইবি) এক বিশেষ ঘোষণায় জানায়, দেশের সর্বোচ্চ নেতা “শাহাদাত বরণ করেছেন”। একই তথ্য নিশ্চিত করে Tasnim News Agency ও Fars News Agency। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা Reuters–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার ভোরে ইরানে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার সময় খামেনি তেহরানের একটি উচ্চ-নিরাপত্তা গোপন স্থানে শীর্ষ উপদেষ্টাদের নিয়ে বৈঠক করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে তার মৃত্যুর দাবি তোলেন। পরে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানান, ওই হামলায় খামেনির পাশাপাশি তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগীও নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ইরানের সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলী শামখানি এবং ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর–এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ইরানি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলার ঠিক আগে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব Ali Larijani-এর সঙ্গেও একটি ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত বাংকারে কৌশলগত আলোচনা চলছিল। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা খামেনির বাসভবন ও আশপাশের এলাকার স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে দেখা যায়, স্থাপনাটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে এবং চারপাশে আগুনে পোড়ার চিহ্ন স্পষ্ট। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা, শক্তিশালী বাংকার-বাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলাটি চালানো হয়েছে, যা ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত স্থাপনাও ধ্বংস করতে সক্ষম। এই ঘটনার পর ইরানজুড়ে শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। আইআরজিসি হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।