ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনার জবাবে বিশ্বজুড়ে শান্তির ডাক দিলেন পোপ
পোপ চতুর্দশ লিও বুধবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমানে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অস্থির পৃথিবীতে ঐক্য ও শান্তির যে বার্তা তিনি দিচ্ছেন, তা শোনার এখনই উপযুক্ত সময়।
আফ্রিকা সফরের অংশ হিসেবে আলজেরিয়া থেকে ক্যামেরুন যাওয়ার পথে তিনি এই মন্তব্য করেন। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ক্রমাগত সমালোচনার মুখেও তিনি তার এই শান্তিবাদী অবস্থানে অনড় রয়েছেন।
পোপ লিও আলজেরিয়ার গ্র্যান্ড মসজিদ পরিদর্শনকে একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভিন্ন বিশ্বাস ও জীবনধারা সত্ত্বেও মানুষ চাইলে একে অপরের সাথে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং এই ভ্রাতৃত্বের চিত্রটিই আজ বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভ্যাটিকান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা পোপের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের কোনো হুমকিতেই তিনি বিন্দুমাত্র ভীত নন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পোপের ধর্মতাত্ত্বিক জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর জবাবে পোপ সেন্ট অগাস্টিনের জন্মভূমি পরিদর্শন করে পরোক্ষভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধের নীতি সম্পর্কে তার জ্ঞান ও আদর্শ অত্যন্ত গভীর।
ট্রাম্প ও ভ্যাটিকানের এই বাগযুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের নিজেকে আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা এবং পরবর্তীতে সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ঘটনাটি এই দ্বৈরথকে আরও বেশি নাটকীয় করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পোপের এই সফর কেবল ধর্মীয় নয় বরং একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। তিনি বিশ্বনেতাদের ক্ষমতার আস্ফালন বাদ দিয়ে অবিলম্বে মানবিকতার পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন যা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
পোপের আফ্রিকা সফর এখন ওয়াশিংটনের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে এক ধরণের প্রতীকী প্রতিরোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, কেবল সংলাপের মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্তক্ষয়ী সংকটের অবসান ঘটানো সম্ভব এবং এতেই বিশ্ব মানবতার কল্যাণ নিহিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি মুদি দোকানের পার্কিং লটে লাইসেন্সবিহীন এক চালকের বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় ৯ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুটির মা এবং তার পাঁচ বছর বয়সী বড় বোন। শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে জ্যাকসন টাউনশিপের কোশার মুদি দোকান এনপিজিএস (NPGS)-এর পার্কিং লটে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে ওশান কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস। জানা গেছে, ২০ বছর বয়সী মারিয়া কোবনগুজমান নামের ওই তরুণী একটি ফোর্ড ফিউশন গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তার কখনোই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। পার্কিং লট দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি স্ট্রলারে করে সন্তান নিয়ে হেঁটে যাওয়া ওই মায়ের ওপর গাড়ি তুলে দেন। দুর্ঘটনার পরপরই মা এবং তার দুই সন্তানকে উদ্ধার করে জার্সি শোর ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা ৯ মাসের শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে আহত মা এবং তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে বর্তমানে হাসপাতালে স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় মারিয়া কোবনগুজমানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালিয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটানো এবং গাড়ি দিয়ে হামলার দুটি পৃথক অভিযোগেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি পুরোপুরি জেনেও মারিয়াকে গাড়ি চালাতে দেওয়ায় আরিয়াদনা লাজারো-ফ্লোরেস (২২) নামের আরেক তরুণীর বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। অন্যের জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করার অভিযোগে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুজনকেই বর্তমানে ওশান কাউন্টি কারাগারে রাখা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে বাবার জন্মদিনেই জন্ম নিল ১৯ পাউন্ডের তিন ছেলে, আলোচনায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড
নবজাতক সন্তান হত্যায় ১৫ বছরের কিশোরীকে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত কারাদণ্ড
লটারিতে জিতলেন ৫৮ লাখ ডলার! এক ভুলে পুরস্কারের সম্পূর্ণ অর্থই হারালেন ব্যক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরলিন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ব্রিটিশ রাজনৈতিক ভাষ্যকার মিলো ইয়ানোপুলোসকে আটক করেছে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই। গত মাসে নির্ধারিত অভিবাসন শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ৪১ বছর বয়সী ইয়ানোপুলোস গত মাসের অভিবাসন শুনানিতে হাজির হননি। এরপর বৃহস্পতিবার নিউ অরলিন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইসিই কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের দাবি, ইয়ানোপুলোস যুক্তরাজ্যের নাগরিক এবং ২০১৯ সালের ১৪ মে নিউইয়র্ক সিটি দিয়ে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তবে পরে অনুমোদিত সময়ের বেশি দেশটিতে অবস্থান করেন বলে বিভাগটি জানিয়েছে। বিভাগটি আরও জানায়, শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ায় ২২ জুলাই একজন অভিবাসন বিচারক ইয়ানোপুলোসের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ জারি করেন। বর্তমানে তিনি আইসিইর হেফাজতে থাকবেন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলবে। ইয়ানোপুলোস ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম ব্রেইটবার্টে কাজ করার মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার বক্তব্য ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে তখন সমালোচনা ও নিন্দা দেখা দেয়। ২০১৭ সালে তার পুরোনো কিছু মন্তব্য গণমাধ্যমে পুনরায় আলোচনায় আসার পর তিনি ব্রেইটবার্ট থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর বিভিন্ন ডানপন্থী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দেয়। মূলধারার রিপাবলিকানদের সঙ্গেও তার বিরোধ তৈরি হয়। ২০২০ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। পরে র্যাপার কানিয়ে ওয়েস্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ২০২৪ সালের ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনায় সহায়তা করেন। আইসিইর তথ্যভান্ডারে ইয়ানোপুলোসকে বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারীদের বহিষ্কার নিয়ে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিভাগটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীরা যেন আর দেশের ভেতরে বিমান ভ্রমণ করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসন কাজ করছে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য একটি সরকারি আবেদনের মাধ্যমে সহায়তা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে ৩ হাজার ডলার এবং বিনামূল্যে বিমান ভ্রমণের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে যারা এই সুযোগ গ্রহণ করবেন না, তাদের আটক করে বহিষ্কার করা হতে পারে বলেও বিভাগটি সতর্ক করেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
নিউইয়র্কে সিটি জবের সুযোগ, একাধিক পদে বেতন শুরু ৫৫ হাজার ডলার থেকে
ইউরোপে ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি রিট্রিটে যাচ্ছেন মামদানির স্ত্রী ও নিউইয়র্কের ফার্স্ট লেডি রামা দুয়াজি
মেসেজ পেয়ে বিটকয়েন বুথে ৯০ বছরের বৃদ্ধা, শেষ মুহূর্তে পুলিশ থামাল ১০ হাজার ডলারের প্রতারণা!
নিউইয়র্ক সিটিতে এক থেকে নয়টি আবাসিক ইউনিট থাকা ভবনে ময়লা ফেলার জন্য সরকারি নির্ধারিত ডাস্টবিন ব্যবহার না করলে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে জরিমানা শুরু হবে। প্রথমবার নিয়ম ভাঙলে ৫০ ডলার জরিমানা করবে নিউইয়র্ক সিটি স্যানিটেশন বিভাগ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এক থেকে নয়টি আবাসিক ইউনিট থাকা সব সম্পত্তিতে ময়লা রাখার জন্য সরকারি নিউইয়র্ক সিটি ডাস্টবিন ব্যবহার করতে হবে। এসব ডাস্টবিনের ধারণক্ষমতা ৫৫ গ্যালন বা তার কম এবং নিরাপদ ঢাকনা থাকতে হবে। সরকারি ডাস্টবিন ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে বাসিন্দা ও সম্পত্তির মালিকদের প্রস্তুতির জন্য ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সতর্কতামূলক সময় রাখা হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়মটির পূর্ণ প্রয়োগ শুরু হবে এবং নিয়ম না মানলে সমন জারি ও জরিমানা করা হবে। জরিমানার পরিমাণ অপরাধের সংখ্যার সঙ্গে বাড়বে। প্রথমবার নিয়ম ভাঙলে ৫০ ডলার, দ্বিতীয়বার ১০০ ডলার এবং তৃতীয়বার ও পরবর্তী প্রতিটি অপরাধের জন্য ২০০ ডলার জরিমানা করা হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি নিউইয়র্ক সিটি ডাস্টবিন ময়লা নিরাপদে সংরক্ষণ এবং সংগ্রহের সুবিধার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এসব ডাস্টবিন নতুন ধরনের ময়লা সংগ্রহের সরঞ্জামের সঙ্গে ব্যবহারের উপযোগী। শহরের বিভিন্ন হোম ডিপোতে সরকারি ডাস্টবিন কেনার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত ডাস্টবিন অনলাইনে কেনার এবং বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। হোম ডিপোর বিভিন্ন সরবরাহ সহযোগীর মাধ্যমে ডাস্টবিন পৌঁছে নেওয়া যায়। তবে ডাস্টবিনের আকার ও প্রাপ্যতা স্থান ও মজুতের ওপর নির্ভর করবে। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, এক থেকে নয়টি আবাসিক ইউনিট থাকা ভবনের মালিক ও ব্যবস্থাপকদের বাসিন্দাদের উৎপাদিত ময়লা রাখার জন্য পর্যাপ্ত ডাস্টবিন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে ১০ বা তার বেশি ইউনিটের আবাসিক ভবনের জন্য ময়লা ব্যবস্থাপনার নিয়ম আলাদা। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে শহরের রাস্তায় খোলা কালো ময়লার ব্যাগ কমানো এবং ময়লা সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও পরিচ্ছন্ন ও কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছে স্যানিটেশন বিভাগ। সরকারি ডাস্টবিনের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে কম ঘনত্বের আবাসিক ভবনগুলোতেও ময়লা নির্দিষ্ট পাত্রে রাখার ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে। ফলে ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এক থেকে নয়টি আবাসিক ইউনিট থাকা ভবনের বাসিন্দা ও সম্পত্তির মালিকদের সরকারি নিউইয়র্ক সিটি ডাস্টবিন ব্যবহারের নিয়ম মেনে চলতে হবে। নিয়ম না মানলে প্রথমবার ৫০ ডলার জরিমানার মুখে পড়তে হবে। সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি স্যানিটেশন বিভাগ
অভিবাসনে বদলাচ্ছে আমেরিকার ধর্মীয় মানচিত্র, বাড়ছে মসজিদ, ইসলামিক স্কুল ও মন্দির
গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ লাইনে প্রায় ১০ লাখ ভারতীয়, অপেক্ষা করতে হতে পারে ১৭৯ বছর