এক নজিরবিহীন নাটকীয়তায় ব্রিটেনের রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে গ্রেফতার করেছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় ‘অসদাচরণের’ গুরুতর অভিযোগে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, আজই তার ৬৬তম জন্মদিন ছিল।
টেমস ভ্যালি পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল অলিভার রাইট এক বিবৃতিতে জানান, “একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়নের পর, আমরা এখন সরকারি অফিসে অসদাচরণের অভিযোগের ভিত্তিতে এই আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছি।”
রাজকীয় জাঁকজমক থেকে থানার লক-আপ
বিবিসির রাজকীয় বিষয়ক সংবাদদাতা শন কফলান এই ঘটনাকে ‘সংবাদ জগতের এক ভূমিকম্প’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বাকিংহাম প্যালেস বা উইন্ডসর ক্যাসেলের বিলাসিতা ছেড়ে রাজপুত্রের জন্য এখন অপেক্ষা করছে থানার সাধারণ লক-আপ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা থাকবে না; বরং সাধারণ বন্দিদের মতো একটি কক্ষ, একটি বিছানা এবং একটি টয়লেট সংবলিত ‘হেফাজত স্যুট’-এ তাকে রাখা হবে।
এই গ্রেফতারের প্রেক্ষিতে রাজা চার্লস অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।”
তদন্তের মূলে যা রয়েছে
যদিও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট নথি বা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেনি, তবে জানা গেছে এই তদন্ত অ্যান্ড্রুর ‘বাণিজ্য দূত’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়কার কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পর্কিত।
এপস্টিন সংযোগ: অভিযোগ রয়েছে যে, বাণিজ্য দূত থাকাকালীন কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি তিনি জেফরি এপস্টিনের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন।
গুরুতর অভিযোগ: দ্বিতীয় এক নারীকে যৌন সম্পর্কের উদ্দেশ্যে জেফরি এপস্টিন কর্তৃক যুক্তরাজ্যে পাঠানোর বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তল্লাশি অভিযান: গ্রেফতারের ফলে পুলিশ এখন অ্যান্ড্রুর বাড়ি, কম্পিউটার সরঞ্জাম, ফাইল এবং ডিজিটাল ডিভাইস তল্লাশি করার আইনি ক্ষমতা পেয়েছে। ইতোমধ্যেই উইন্ডসর গ্রেট পার্কের ‘রয়েল লজ’-এ তল্লাশি শুরু হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও পরবর্তী ধাপ
সাবেক পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট দাল বাবু জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই অ্যান্ড্রুর ওপর আইনি চাপ বাড়ছিল। বর্তমানে তাকে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে রাখা সম্ভব, যদিও সাধারণত ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগ গঠন বা জামিনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আইনি বিশেষজ্ঞ ডমিনিক ক্যাসিয়ানির মতে, ‘সরকারি অফিসে অসদাচরণ’ প্রমাণ করা বেশ জটিল। প্রসিকিউটরদের চারটি প্রধান দিক খতিয়ে দেখতে হবে:
অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই সময়ে ‘সরকারি কর্মকর্তা’ ছিলেন কি না।
তিনি ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন কি না।
তার কর্মকাণ্ড ‘জনগণের আস্থার অপব্যবহার’ কি না।
তার এই কাজের পেছনে কোনো ‘যুক্তিসঙ্গত অজুহাত’ ছিল কি না।
অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর শুরু থেকেই সমস্ত অনিয়মের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন। তবে এই গ্রেফতারি ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার বাংলাদেশে নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নির্বাচনে জয়লাভ এবং দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার পাঠানো বিশেষ বার্তায় তিনি এই শুভেচ্ছা জানান। বার্তায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘস্থায়ী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্মরণ করিয়ে দেন এবং ভবিষ্যতে এই দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, প্রতিরক্ষা ও অভিবাসন এবং মানবিক সহায়তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকারও জানান। দুই দেশের নেতাদের এই কূটনৈতিক যোগাযোগ ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় পর্যটন খাতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শহরটিতে পর্যটন ব্যয় আগের বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫২ বিলিয়ন সৌদি রিয়ালে পৌঁছেছে। একই সময়ে দর্শনার্থীর সংখ্যা ২ কোটি ১০ লাখের মাইলফলক স্পর্শ করেছে, যা বৈশ্বিক ধর্মীয় পর্যটন মানচিত্রে মদিনার ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে। আতিথেয়তা খাতের ব্যাপক বিস্তার ক্রমবর্ধমান পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আবাসন চাহিদা মেটাতে মদিনার আতিথেয়তা খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে শহরটিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৫ শতাংশ বেড়ে ৬১০টিতে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে লাইসেন্সপ্রাপ্ত কক্ষের সংখ্যা ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৬ হাজার ছাড়িয়েছে। পর্যটন সেবা সহজতর করতে ট্যুরিজম এজেন্সির সংখ্যাও ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এখন ২৪০টিরও বেশি। রমজান কেন্দ্রিক বিশেষ প্রস্তুতি ও পরিদর্শন আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে পর্যটন সেবা ও প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে মদিনা সফর করেছেন সৌদি পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-খতিব। ‘দ্য স্পিরিট অব রমজান’ শীর্ষক মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি মদিনার বর্তমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি এবং দর্শনার্থীদের সেবার মান যাচাই করেন। বিনিয়োগে আস্থার প্রতিফলন পর্যটনমন্ত্রী জানান, গত পাঁচ বছরে অসংখ্য আন্তর্জাতিক নামী ব্র্যান্ড মদিনার হোটেল ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগ করেছে। তিনি মদিনায় ৩৯ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল ব্যয়ে নির্মিত ‘র্যাডিসন হোটেল মদিনা’র উদ্বোধন করেন, যা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়েছে। আল-খতিব বলেন, আজকের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সুসংহত ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি, যার ফলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো এখন মদিনার বাজার নিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। সামনের দিনগুলোতে এই প্রবৃদ্ধি আরও টেকসই রূপ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আফগানিস্তানের নারীদের ওপর নতুন করে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তালেবান সরকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সরকার স্বামীদের তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দিয়ে একটি নতুন আইন জারি করেছে, যা কার্যত পারিবারিক সহিংসতাকে ‘বৈধতা’ দেওয়ার শামিল। তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা স্বাক্ষরিত ৯০ পাতার এই নতুন দণ্ডবিধিটি পশতু ভাষায় ‘দ্য মাহাকুমু জাজাই উসুলনামা’ (আদালতের ফৌজদারি বা দণ্ডবিধি সংক্রান্ত নিয়মাবলী) নামে পরিচিত। এই নথির একটি অনুলিপি পর্যালোচনা করে ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, এটি ইতোমধ্যে আফগানিস্তানের আদালতগুলোতে কার্যকর করার জন্য বিতরণ করা হয়েছে। নতুন আইনের বিতর্কিত দিকসমূহ: শাস্তির অনুমোদন: নতুন এই দণ্ডবিধিতে স্বামীদের অধিকার দেওয়া হয়েছে যে, তারা চাইলে তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাসন বা শাস্তি দিতে পারবেন। শাস্তির সীমা: আইনের একটি অদ্ভুত শর্তে বলা হয়েছে, মারধরের ফলে যদি ভুক্তভোগীর ‘হাড় ভেঙে যায়’ কিংবা শরীর ‘জখম’হয়, তবেই কেবল স্বামী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি শাস্তির আওতায় আসবেন। অর্থাৎ, হাড় না ভাঙা পর্যন্ত বা বড় কোনো ক্ষত না হওয়া পর্যন্ত শারীরিক নির্যাতনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে না। মানবাধিকার উদ্বেগ: মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই আইনের ফলে আফগান নারীরা ঘরের ভেতরে চরম অনিরাপদ হয়ে পড়বেন। আগে যেখানে ঘরোয়া নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের কিছুটা সুযোগ ছিল, এই দণ্ডবিধি সেই পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দিল। ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকে তালেবান সরকার একের পর এক নারী অধিকারবিরোধী আইন জারি করে আসছে। এর আগে নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জনসমক্ষে চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। নতুন এই ফৌজদারি আইনটি আফগানিস্তানে নারী অধিকারের কফিনে শেষ পেরেক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, তালেবান তাদের তথাকথিত কঠোর শাসনব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই ৯০ পাতার দণ্ডবিধি কার্যকর করেছে, যা দেশটিকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।