সাবেক ব্রিটিশ রাজপুত্র এবং ইয়র্কের সাবেক ডিউক অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে গ্রেফতারের পর মুক্তি দিয়েছে টেমস ভ্যালি পুলিশ। সরকারি পদে থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তবে মুক্তি পেলেও তার বিরুদ্ধে আইনি তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও গ্রেফতার
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় নরফোকের স্যান্ড্রিংহাম এস্টেট থেকে ৬৬ বছর বয়সী অ্যান্ড্রুকে গ্রেফতার করা হয়। একই সাথে বার্কশায়ার ও নরফোকের বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। এর মধ্যে উইন্ডসর গ্রেট পার্কে তার সাবেক বাসভবন 'রয়্যাল লজ'-এও অভিযান চালানো হয়। সন্ধ্যায় আইলসহ্যাম থানা থেকে গাড়ির পেছনের সিটে বসে তাকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে।
অভিযোগের ধরণ
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বিশেষ বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় অ্যান্ড্রু তার পদের অপব্যবহার করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর ও চীন সফরের সংবেদনশীল সরকারি প্রতিবেদন এবং আফগানিস্তানে খনিজ বিনিয়োগ সংক্রান্ত গোপন তথ্য জেফরি এপস্টিনকে সরবরাহ করেছিলেন। এছাড়াও ২০১০ সালে এপস্টিন কর্তৃক জনৈক নারীকে অ্যান্ড্রুর কাছে পাঠানোর একটি পৃথক যৌন অপরাধের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
রাজা ও রাজপরিবারের অবস্থান
ভাইয়ের গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজা তৃতীয় চার্লস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "আইনকে অবশ্যই তার নিজস্ব গতিতে চলতে হবে।" রাজপ্রাসাদ থেকে জানানো হয়েছে যে, পুলিশকে এই তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গ্রেফতারের সময় রাজা লন্ডন ফ্যাশন সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলেন এবং এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। ওয়েলসের যুবরাজ ও রাজকুমারীও রাজার এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন।
অন্যান্য প্রতিক্রিয়া
গর্ডন ব্রাউন: যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন জানিয়েছেন, তিনি এপস্টিন ফাইল থেকে প্রাপ্ত নতুন তথ্য সম্বলিত একটি পাঁচ পৃষ্ঠার চিঠি পুলিশকে দিয়েছেন।
স্কাই রবার্টস: প্রয়াত ভার্জিনিয়া জিউফ্রের ভাই এই গ্রেফতারকে "বেঁচে থাকাদের বিজয়" হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদিও এই নির্দিষ্ট গ্রেফতারি জিউফ্রের মামলার সাথে সরাসরি যুক্ত নয়, তবুও তিনি একে সত্যের জয় হিসেবে দেখছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প: মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ঘটনাকে রাজপরিবারের জন্য "দুর্ভাগ্যজনক" বলে মন্তব্য করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসা অ্যান্ড্রু ২০১৯ সালে রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান এবং ২০২২ সালে তার সামরিক উপাধি ও রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা হারান। টেমস ভ্যালি পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় তারা যথাযথ সময়ে পরবর্তী আপডেট প্রদান করবে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচির সোলজারবাজার এলাকায় একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের সময় বাসিন্দারা সেহরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। দুর্ঘটনার বিবরণ ও তীব্রতা - প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোররাতে যখন পুরো ভবনটি শান্ত ছিল এবং মানুষ সেহরির আয়োজনে ব্যস্ত ছিল, তখনই হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনটি ধসে পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সিন্ধ প্রাদেশিক দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের (পিডিএমএ) করাচি শাখার প্রধান হাসান খান এএফপিকে বলেন, "প্রাথমিক আলামত দেখে আমরা নিশ্চিত যে এটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো কারণ আছে কি না তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।" হতাহত ও বর্তমান পরিস্থিতি - উদ্ধারকারীরা এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। আহত অন্তত ১৩ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক, যার ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিন্ধ প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন। উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জরাজীর্ণ ভবন - করাচিতে জরাজীর্ণ ভবন এবং অনিরাপদ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গত বছরের জুলাই মাসেও লিয়ারি এলাকায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একটি ৫ তলা ভবন ধসে ২৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। বারবার এমন দুর্ঘটনায় প্রশাসনের নজরদারি এবং আবাসিক এলাকায় গ্যাস ব্যবহারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এক নজরে দুর্ঘটনার তথ্য: স্থান: সোলজারবাজার, করাচি, পাকিস্তান। সময়: ১৯ ফেব্রুয়ারি, ভোর ৪টা (সেহরির সময়)। হতাহত: ১৬ নিহত, ১৩ আহত (আশঙ্কাজনক)। কারণ: প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক হামলা হবে “আগুন নিয়ে খেলা”র মতো বিপজ্জনক পদক্ষেপ। তিনি মনে করেন, এমন হামলা বড় ধরনের পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে থাকা ইরানের স্থাপনাগুলো অতীতেও হামলার শিকার হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের পরিস্থিতি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার পরদিনই তার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসে। ল্যাভরভ বলেন, চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা বাড়াতে পারে। সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নীতিরও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার জ্বালানি কোম্পানি লুকঅয়েল ও রোসনেফট-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পাশাপাশি ভারতকে রুশ তেল কেনা থেকে বিরত রাখতে চাপ প্রয়োগ এবং ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে রাশিয়া, চীন ও ইরানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্তকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন। ল্যাভরভের ভাষ্য, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন সংকটের সমাধানের কথা বলছে, অন্যদিকে ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে রাশিয়ার বাণিজ্যিক স্বার্থে আঘাত হানছে। তার মতে, এই দ্বিমুখী অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সূত্র: মেহের নিউজ
যুক্তরাজ্যে স্যাটেলাইট নেভিগেশন অনুসরণ করতে গিয়ে উপকূলীয় কাদামাটির এলাকায় আটকে পড়ে একটি ডেলিভারি ভ্যান। পরে জরুরি উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় ভ্যানটি নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, পণ্য সরবরাহের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত ঠিকানায় যাওয়ার সময় চালক জিপিএসের দেখানো বিকল্প পথ অনুসরণ করেন। তবে সেটি তাকে পাকা সড়কের পরিবর্তে উপকূলবর্তী একটি মাডফ্ল্যাট এলাকায় নিয়ে যায়। বাইরে থেকে জমিটি শক্ত মনে হলেও বাস্তবে তা ছিল গভীর ও নরম কাদায় পূর্ণ। ফলে ভ্যানটি দ্রুত কাদায় দেবে গিয়ে চলাচল অক্ষম হয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ধরনের মাডফ্ল্যাট অঞ্চল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে জোয়ারের সময়। পানির স্তর হঠাৎ বেড়ে গেলে সেখানে আটকে পড়া ব্যক্তি বা যানবাহন বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে পারে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল বিশেষ সরঞ্জাম ও টো-যানের সহায়তায় ভ্যানটি টেনে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসে। চালক শারীরিকভাবে অক্ষত থাকলেও তাকে ভবিষ্যতে অপরিচিত এলাকায় শুধুমাত্র জিপিএসের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেভিগেশন অ্যাপ অনেক সময় বাস্তব পরিস্থিতি—যেমন উপকূলীয় কাদা, অস্থায়ী রাস্তা বা সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড—সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারে না। তাই অচেনা এলাকায় প্রযুক্তির পাশাপাশি স্থানীয় নির্দেশনা ও সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চালকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—ডিজিটাল নির্দেশনার পাশাপাশি আশপাশের বাস্তব অবস্থা যাচাই করে তবেই পথ নির্বাচন করতে।