বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এগিয়ে নিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে SB Global। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মোঃ সামিউল বশির তার উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে একটি পরিচিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক সংস্থা IEE (International Education Evaluations)-এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই অংশীদারিত্বের ফলে Educational Credential Assessment (ECA) প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী হবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা সরাসরি উপকৃত হবেন।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগ দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ক্রেডেনশিয়াল মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য করবে এবং বৈশ্বিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকে ত্বরান্বিত করবে।
শুধু ECA সেবা নয়, SB Global বিভিন্ন পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার সহায়তাও প্রদান করছে। এর মধ্যে রয়েছে—
প্রতিষ্ঠাতা মোঃ সামিউল বশির-এর রয়েছে স্বাস্থ্য ও বৈজ্ঞানিক শিক্ষা খাতে ১৫ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা। তিনি ২২টি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রবন্ধের লেখক, যা Google Scholar-এ সূচিভুক্ত। তার গবেষণার ক্ষেত্র বিস্তৃত—ডায়াবেটিস, ঔষধি উদ্ভিদ, COVID-19-এ টেলিমেডিসিন, ডেঙ্গু, ক্যান্সারের বায়োমার্কারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমানে তিনি Kurigram Institute of Health Technology-এ প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি American Society for Clinical Pathology এবং International Commission on Healthcare Professions থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সংযোগের সমন্বয়ে SB Global ইতোমধ্যে একটি সম্ভাবনাময় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দেশের তরুণ প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষ করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
ভারতের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে কার্যক্রম জোরদার করতে সর্বোচ্চ ৮,৯০০ জন বিশেষজ্ঞের একটি দল গঠনের পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে এআই, ডেটা সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা খাতে নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে কোম্পানিটি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টিসিএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে. কৃতিভাসন বলেন, ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীর ১ থেকে ১.৫ শতাংশকে ‘ফরওয়ার্ড-ডিপ্লয়েড ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। জুন মাসের শেষে প্রতিষ্ঠানের কর্মীসংখ্যার ভিত্তিতে এ সংখ্যা প্রায় ৫,৯০০ থেকে ৮,৯০০ জন হতে পারে। এই প্রকৌশলীরা সরাসরি গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে তাদের ব্যবসায়িক চাহিদা অনুযায়ী এআই প্রযুক্তি বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির সমন্বয় করবেন। টিসিএসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা সমীর সেকসারিয়া জানান, দীর্ঘদিন নিজস্ব সক্ষমতার ওপর নির্ভর করলেও এখন কোম্পানিটি কৌশলগতভাবে এআই, ডেটা সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা খাতে অধিগ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনা করছে। কৃতিভাসনের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আইটি আউটসোর্সিং শিল্পের জন্য হুমকি নয়; বরং এটি নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এআই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য অভিজ্ঞ প্রযুক্তি অংশীদারের প্রয়োজন হবে, আর সেখানেই টিসিএস নিজেদের শক্ত অবস্থানে দেখতে চায়। জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে ভারতের প্রায় ৩১৫ বিলিয়ন ডলারের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারীর আশঙ্কা, এআইয়ের কারণে প্রকৌশলীর চাহিদা কমে যেতে পারে। তবে টিসিএসসহ ভারতের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে, এআই বরং নতুন ধরনের দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তি সেবার চাহিদা সৃষ্টি করবে।
রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী সুমি শহরে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা ও স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, হামলাটি শহরের বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। এতে আবাসিক ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, ব্যক্তিগত যানবাহন এবং অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে দমকল, চিকিৎসাকর্মী ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সহায়তার আহ্বান জানান। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর দাবি, একই রাতে রাশিয়া দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের দিকে শতাধিক ড্রোন এবং একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ ড্রোন প্রতিহত করা সম্ভব হলেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। একই সময়ে কিয়েভ, খারকিভ, ওডেসা, জাপোরিঝিয়া ও দোনেৎস্ক অঞ্চলেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সুমি হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। মস্কো বরাবরের মতো দাবি করে আসছে, তাদের হামলা ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামো ও অস্ত্রভাণ্ডারকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়। তবে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, রাশিয়ার বহু হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হচ্ছেন এবং আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে সুমি অঞ্চল একাধিকবার ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবর্ষণের শিকার হয়েছে। রাশিয়ার সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় যুদ্ধের শুরু থেকেই এটি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলা ইউক্রেনের মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে এবং যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে।
ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি শনিবার তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি নিয়ে ‘পরীক্ষা’ না করার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে পিছু না হটলে ইরানের অবকাঠামোর ওপর আরও বড় ধরনের হামলার যে হুমকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দিয়েছেন, তারই রেশ ধরে এই মন্তব্য করেন হাকাবি। নিউজনেশন-এর ‘মর্নিং ইন আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্ট তাদের আরও একটি সুযোগ, আরও একটি সতর্কতা ও বোঝার সময় দিচ্ছেন। তাদের মনে রাখা উচিত যে তারা বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। তারা কি সত্যিই এর সীমা পরীক্ষা করতে চায়? আশা করি তারা সেই দুঃসাহস দেখাবে না।" চলতি সপ্তাহে হরমোজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের অভ্যন্তরে প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত এই তেলের রুটটি সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর অযৌক্তিক আগ্রাসনের জন্য ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর দিকে ড্রোন ও মিসাইল নিক্ষেপ করেছে ইরান, যার মধ্যে তিনটি দেশে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা মোতায়েন রয়েছে। ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পটভূমিতে এই উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে বর্তমানে আর কার্যকর নেই। গত মাসে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। একই সময়ে ইসরাইলি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ট্রাম্পকে হত্যার একটি কথিত ইরানি ষড়যন্ত্রের খবর সামনে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই এই পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প শুক্রবার রাতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, তার কিছু হলে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, "ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের দিকে ১০০০ মিসাইল তাক করা আছে, এবং তারা যদি বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যার কোনো চেষ্টা করে, তবে সাথে সাথে আরও হাজার হাজার মিসাইল নিক্ষেপ করা হবে।" যদিও সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিছু মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতেই ইসরাইল এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি সামনে এনে থাকতে পারে। চলমান আঞ্চলিক এই সংঘাতে ইসরাইল এক ধরনের অপ্রত্যাশিত খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার মার্কিন সমকক্ষের চেয়ে ভিন্ন কোনো লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে। গত মাসের শুরুতে একটি উত্তপ্ত ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করার খবর প্রকাশ্যে আসে, যা তাদের মধ্যকার সম্ভাব্য মতানৈক্যের ইঙ্গিত দেয়। তবে শনিবার হাকাবি দুই নেতার মধ্যে কোনো গুরুতর ফাটলের কথা উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেন, তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। তিনি বলেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বা প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দূরত্বের যে ধারণা ছড়ানো হচ্ছে, তা কেবল তাদের বিরোধীদের কল্পনা। কাছ থেকে পরিস্থিতি দেখে তিনি এমন কোনো বাস্তবতার প্রমাণ পাননি বলে নিশ্চিত করেছেন এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত।