সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত তেল স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলাকে ইসরাইলের ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বা ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত গোপন অভিযান বলে দাবি করেছে ইরানের একটি সামরিক সূত্র।
ইরানের সংবাদমাধ্যম Tasnim News Agency-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই সূত্রের ভাষ্য, এ ধরনের অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের অভিযোগ থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া এবং আঞ্চলিক দেশগুলোকে বিভ্রান্ত করা।
সূত্রটি দাবি করে, ইরান আগেই ঘোষণা দিয়েছে যে অঞ্চলে থাকা মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থ-সম্পর্কিত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে এবং ইতোমধ্যে কয়েকটিতে হামলাও হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি Saudi Aramco-এর স্থাপনাগুলো ইরানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিল না বলেও তারা উল্লেখ করেছে।
একই সূত্র আরও অভিযোগ তোলে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর ভবিষ্যতে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এবং এ নিয়ে ইসরাইলের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে সংবাদমাধ্যম The Times of Israel জানিয়েছিল, ইরান থেকে ছোড়া একটি ড্রোন সৌদি আরামকোর রাস তানুরা শোধনাগারে আঘাত হানে। হামলার পর সেখানে আগুন লাগলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর রাস তানুরা স্থাপনার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
রাস তানুরা সৌদি আরবের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের বৃহৎ তেল শোধনাগারগুলোর একটি। জ্বালানি অবকাঠামোতে এ ধরনের হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
উল্লেখ্য, ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বলতে এমন গোপন অভিযানকে বোঝায়, যেখানে প্রকৃত হামলাকারী নিজের পরিচয় আড়াল করে অন্য কোনো পক্ষকে দায়ী করার কৌশল নেয়। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক বা সামরিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয় এবং জনমত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার প্রয়াস চালানো হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী এখন ঝুঁকির কেন্দ্রে। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। দৈনিক প্রায় ৩১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই পথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রুট অচল হলে ২০ দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশের তেলক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এতে জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হবে এবং সরবরাহ সংকট দ্রুত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে। বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি চীনের মোট তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই প্রণালী দিয়ে। সরবরাহ বন্ধ থাকলে দেশটির পেট্রোকেমিক্যাল ও বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি সংকটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধাক্কা দেবে। চীনের অর্থনীতিতে বড় আঘাত মানে বিশ্ববাজারে তার প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, কমতে পারে বৈশ্বিক আমদানি-রপ্তানি সূচক। বাজারমূল্য থেকে ট্রিলিয়ন ডলার হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। সরবরাহ সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে জ্বালানি বাজারে দৃশ্যমান। অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, এলএনজির দামও দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সংকটে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে জাপান। দেশটির আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। জ্বালানি ঘাটতির প্রভাব ইতোমধ্যে টোকিওর অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুরের মতো এশিয়ার শিল্পনির্ভর অর্থনীতিগুলোও চাপের মুখে পড়তে পারে। সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা শুধু জ্বালানি বাজার নয় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত টানা তিন দিনে ইরান থেকে ছোড়া ১৭৮টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৮০টিরও বেশি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে এ খবর প্রকাশ করে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা Kuwait News Agency। প্রতিরক্ষা সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেই অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়। তবে সবগুলো প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। কয়েকটি লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম হয়, এতে কুয়েতি বাহিনীর ২৭ সদস্য আহত হন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি সামরিক স্থাপনা রয়েছে— ক্যাম্প আরিফজান, আলী আল সালেম এয়ারবেইস এবং ক্যাম্প বুহেরিং। একই দিনে দেশটিতে তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড United States Central Command (সেন্টকম) জানায়, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুল গোলাবর্ষণের কারণে এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানগুলো ভূপাতিত হয়। তবে বিমানগুলোর ছয়জন ক্রু সদস্য নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।
বিশ্বের জ্বালানি তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এই রুট দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তা পুড়িয়ে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরান এই কঠোর পদক্ষেপ নিল। মঙ্গলবার আইআরজিসি কমান্ডারের পক্ষ থেকে প্রণালীটি বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। হরমুজ প্রণালী বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম কৌশলগত পয়েন্ট। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো তাদের তেল ও গ্যাস বহিঃবিশ্বে রপ্তানির জন্য মূলত এই রুটের ওপরই নির্ভরশীল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে। এর আগে ইরান একাধিকবার এই রুট বন্ধের হুমকি দিলেও এবার সরাসরি জাহাজ পুড়িয়ে দেওয়ার আলটিমেটাম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। খামেনি হত্যার প্রতিবাদে ইরান ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা জোরদার করেছে।