আন্তর্জাতিক

হরমুজে ঝুঁকি, কুয়েত কমালো তেল উৎপাদন

তাবাস্সুম মার্চ ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচলে হুমকির প্রেক্ষিতে কুয়েত তার অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ও শোধন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (কেপিসি) শনিবার এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলা এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পক্ষ থেকে আসা সম্ভাব্য হুমকি বিবেচনায় এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কেপিসি জানিয়েছে, এই উৎপাদন হ্রাস স্থায়ী নয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় সম্পূর্ণ উৎপাদনে ফিরবে।

 

সংস্থা আরও জানিয়েছে, হ্রাসের ফলে কুয়েতের অভ্যন্তরীণ বাজারে কোনো প্রভাব পড়বে না। পূর্বপরিকল্পিত ব্যবস্থার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে পূরণ করা হবে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হবে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হওয়ায় এ ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামকে প্রভাবিত করতে পারে।

 

সূত্র: আল জাজিরা

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
সৌদি আরবের রিয়াদে, ৫ মার্চ, ২০২৬, ইরানের সাথে মার্কিন-ইসরাইলি সংঘর্ষের মধ্যে, শহরের উপরে ধোঁয়া উড়ছে। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি, কাতার ও আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত

শুক্রবার ও শনিবার ইরান সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালায়। সৌদি আরবের আল-খার্জে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়, তবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। শায়বাহ তেলক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে আসা ছয়টি ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে।   কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ওপর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। শুক্রবার কাতারে ইরান থেকে ১০টি ড্রোন ছোড়া হয়, যার মধ্যে নয়টি ধ্বংস করা হয়েছে, একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।   সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনকে ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করেছে। আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং মার্কিন উপগ্রহ যোগাযোগ কেন্দ্র, রাডার ও সতর্কতা সিস্টেমে আঘাত করা হয়েছে। এই ঘটনায় কিছু ফ্লাইট স্থগিত ও আংশিকভাবে পুনরায় চালু করা হয়েছে।   বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে। উত্তেজনাপূর্ণ এই হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

তাবাস্সুম মার্চ ৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় ইরানি অভিনেত্রী এলনাজ নরোজি।

ইরানি পুলিশের নির্যাতন নিয়ে মুখ খুললেন বিখ্যাত অভিনেত্রী

দক্ষিণের কোচি শহরে আইআরআইএস লাভান নোঙর করে আছে।

ইরানি নৌযানকে আশ্রয় দিল ভারত

ছবি: সংগৃহীত।

জর্ডানে ১১৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ইরানের

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানে হামলার বিরুদ্ধে ইউরোপের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছে ইউরোপের সাধারণ মানুষ। স্পেন, ইতালি, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোতে পরিচালিত সাম্প্রতিক একাধিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ওই অঞ্চলের সিংহভাগ নাগরিক এই সামরিক হস্তক্ষেপের বিপক্ষে এবং তারা তাদের সরকারকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন। আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার প্রকাশিত এসব জরিপের ফলাফল ইউরোপীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ জনমতের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে। দেশভিত্তিক জরিপের চিত্র: স্পেন: মাদ্রিদ-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান '৪০ডিবি' (40dB)-এর জরিপ অনুযায়ী, স্পেনের প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার বিপক্ষে। প্রায় ৫৭ শতাংশ নাগরিক তাদের সরকারের সামরিক সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। এছাড়া ৫৩ শতাংশ স্প্যানিশ মনে করেন, এই যুদ্ধের জন্য স্পেনের সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়। ইতালি: রোম-ভিত্তিক সংস্থা 'ইউট্রেন্ড'-এর জরিপে দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশ ইতালীয় এই সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধী। এদের মধ্যে বড় একটি অংশ (প্রায় ৪৮ শতাংশ) চায় তাদের সরকার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখুক। তবে কট্টর ডানপন্থীদের মধ্যে হামলার পক্ষে কিছুটা সমর্থন লক্ষ্য করা গেছে। জার্মানি: জার্মানির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম 'এআরডি' (ARD)-এর জরিপে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেখানে ৫৮ শতাংশ মানুষ এই হামলাকে 'অযৌক্তিক' বলে মনে করেন। গত ২০ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি জার্মানদের আস্থা সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া মাত্র ১৭ শতাংশ জার্মান ইসরায়েলকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে মনে করেন। ৭৫ শতাংশ মানুষ আশঙ্কা করছেন যে এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যুক্তরাজ্য: লন্ডনের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান 'ইউগভ' (YouGov)-এর জরিপ বলছে, হামলার পরপরই যুক্তরাজ্যের ৪৯ শতাংশ মানুষ এর বিরোধিতা করেছেন, যেখানে সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ২৮ শতাংশ। রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (RAF) ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়েও অর্ধেকের বেশি ব্রিটিশ নাগরিক নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন।   প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ বিমান হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনীয়সহ এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং তেহরান অঞ্চলজুড়ে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউরোপের সাধারণ মানুষের এই বিরোধিতামূলক অবস্থান ইইউভুক্ত দেশগুলোর সরকারগুলোর ওপর নীতি নির্ধারণী চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে আটলান্টিক-পারস্পরিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

তাবাস্সুম মার্চ ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে ইসরায়েলি হামলা

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজে ঝুঁকি, কুয়েত কমালো তেল উৎপাদন

মধ্যপ্রাচ্যে ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে ফ্লাইট

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রখ্যাত ব্যবসায়ী খলাফ আহমদ আল হাবতুর। ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পকে তোপ আমিরাতের ধনকুবের

ইরান যুদ্ধের ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রখ্যাত ব্যবসায়ী খলাফ আহমদ আল হাবতুর। তিনি অভিযোগ করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে এমন এক যুদ্ধে টেনে আনা হয়েছে, যার ঝুঁকি তারা নিজেরা চায়নি। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্পের কাছে জানতে চেয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র কেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করল এবং এর আগে উপসাগরীয় দেশগুলোর ঝুঁকি আদৌ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কি না।   খোলা এক চিঠিতে ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে আল হাবতুর প্রশ্ন তোলেন, তাদের অঞ্চলকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষমতা তাকে কে দিয়েছে। তিনি জানতে চান, এই সিদ্ধান্ত কি একান্তই ট্রাম্পের, নাকি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তার সরকারের চাপের ফল।   চিঠিতে তিনি বলেন, এই সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর। সম্ভাব্য নৈরাজ্য ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে কি না—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার মতে, এই উত্তেজনার প্রথম শিকার হবে অঞ্চলটির দেশগুলো।   আল হাবতুর আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) এবং আরব দেশগুলোকে এমন ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন, যা তারা কখনও চায়নি। তবে তিনি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর নিজস্ব সামরিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে এবং তারা নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম।   চিঠির শেষাংশে তিনি আবারও প্রশ্ন তোলেন—তাদের অঞ্চলকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার অনুমতি ট্রাম্পকে কে দিয়েছে। তবে এই চিঠির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প বা হোয়াইট হাউস কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারও চিঠিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেয়নি।   এদিকে ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, এই চিঠিকে তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইরানের রাজধানীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইসরাইলের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।

তাবাস্সুম মার্চ ৭, ২০২৬ 0
জার্মানির ভাইস চ্যান্সেলর লার্স ক্লিঙবেইল।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অবৈধ যুদ্ধে যোগ দেবে না জার্মানি: ভাইস চ্যান্সেলর

ছবি: সংগৃহীত।

ইরানকে আন্তর্জাতিক আদালতের সামনে দাঁড়ানোর আহ্বান, যুদ্ধাপরাধ তদন্তে নতুন মোড়

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

যুদ্ধ বন্ধের জন্য যে শর্ত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

0 Comments