হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপত্তা সম্পর্কিত নতুন কূটনৈতিক ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ইরান ভারতের কাছে তিনটি জাহাজ—অ্যাসফেল্ট স্টার, আল জাফজিয়া এবং স্টেলার রুবি—ফেরত চেয়েছে। পাশাপাশি, ভারতের কাছে জরুরি ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামের অনুরোধও জানানো হয়েছে ইরানের পক্ষ থেকে।
জাহাজগুলোর মধ্যে স্টেলার রুবি ইরানের মালিকানাধীন, আর আল জাফজিয়া ও অ্যাসফেল্ট স্টার যথাক্রমে মালি ও নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী। গত ফেব্রুয়ারিতে আরব সাগরের ভারতীয় সীমানায় এই জাহাজগুলো জব্দ করেছিল ভারতীয় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড, কারণ তাদের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে জ্বালানি তেল পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমানে তিনটি জাহাজ মুম্বাই বন্দরে রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিনটি জাহাজ ফেরত চাওয়া হয় এবং ইরানের জনগণের জন্য জরুরি ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামের অনুরোধ জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় ও ইরানি সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনো মন্তব্য করেননি।
হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে চলাচল করা তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট ব্যবহার করে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রপ্তানির জন্য এই পথ অপরিহার্য।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ১২টিরও বেশি ট্যাঙ্কার জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে, তবে ভারতের জাহাজে কোনো হামলা হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি নির্দেশ দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী ভারতীয় জাহাজগুলোকে নিরাপদ রাখা হবে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মনিয়ম জয়শঙ্কর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, এই নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং এতে কোনো ‘লুকোছাপা’ নেই।
এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে ভারতের চারটি জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার জাহাজকে নিরাপদ প্যাসেজ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ভয়াবহ রকেট ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ, ২০২৬) ভোরে গ্রিন জোনে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত এই কূটনৈতিক মিশনে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। হামলার পর দূতাবাস চত্বর থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা গেছে। ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, অন্তত পাঁচটি ড্রোন এবং বেশ কয়েকটি রকেট লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অন্তত তিনটি ড্রোনকে দূতাবাসের দিকে ধেয়ে আসতে দেখা গেছে। দূতাবাসের সি-র্যাম (C-RAM) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে দুটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও একটি ড্রোন সরাসরি দূতাবাস প্রাঙ্গণের ভেতরে আঘাত হানে। এর পরপরই সেখানে আগুন ধরে যায় এবং ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে চারপাশ। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি এ যাবতকালের অন্যতম তীব্র হামলা। ইরান-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এই হামলার পেছনে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে। হামলার পরপরই ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী বাগদাদের উচ্চ সুরক্ষিত ‘গ্রিন জোন’ এলাকাটি সিলগালা করে দিয়েছে। সেখানে থাকা অন্যান্য কূটনৈতিক মিশন ও সরকারি ভবনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে এই হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম অস্থির হয়ে উঠেছে। ইরাকি ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে ইরান-পন্থি গোষ্ঠীগুলো মার্কিন অবস্থানে বারবার আঘাত হানছে, যার ধারাবাহিকতায় আজকের এই বড় ধরনের হামলাটি ঘটল।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে বিমান হামলার ঘটনায় শতাধিক মানুষের হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে তালেবান সরকার, যদিও ইসলামাবাদ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তালেবান সরকারের এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সোমবার সন্ধ্যায় কাবুলের ওমিদ নামে একটি আসক্তি চিকিৎসা হাসপাতালে হামলা চালানো হয়। এতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। তাদের অভিযোগ, পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর হামলায় চিকিৎসাধীন রোগীরাই হতাহতের শিকার হয়েছেন। প্রায় দুই হাজার শয্যার এই হাসপাতালটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হতো। হামলার ফলে হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং হতাহতের সংখ্যা কয়েকশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, কাবুল ও পূর্ব আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তাকারী অবকাঠামো” লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে, কোনো হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা করা হয়নি। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অন্তত ৩০টি মরদেহ দেখা গেছে এবং তখনও ভবনের কিছু অংশে আগুন জ্বলছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে প্রায় দুই হাজার রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শারাফাত জামান আমরখাইল জানান, হাসপাতালের আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না। তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত দাবি করেন, এ হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আফগানিস্তানের সাবেক কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ বলেন, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের পরিপন্থী। একই সঙ্গে আফগান ক্রিকেটার রশিদ খানও হামলাকে “অত্যন্ত লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে আটটার দিকে কাবুলজুড়ে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, পরে আকাশে বিমান ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুললেও তালেবান তা অস্বীকার করে আসছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ইতোমধ্যে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ গোপনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে উৎসাহ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তার মতে, যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তারা প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিলেও আড়ালে ভিন্ন ভূমিকা পালন করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দিকেও ইঙ্গিত করেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার নিয়মিত ব্যক্তিগত যোগাযোগের খবর প্রকাশিত হয়েছে—এসব তথ্য কতটা সত্য, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যাদের মধ্যে দুই শতাধিক শিশু রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানান তিনি। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি উপসাগরীয় অঞ্চলের মুসলিম জনগণের উদ্দেশে বলেন, চলমান সংঘাতে তারা কোন পক্ষকে সমর্থন করবে—এ বিষয়টি তাদের ভাবা উচিত। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যদি উপসাগরীয় দেশগুলোর মাটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়, তবে তেহরান নীরব থাকবে না। লারিজানির ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সংঘাত একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং অন্যদিকে “মুসলিম ইরান ও প্রতিরোধ শক্তির” মধ্যকার লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে।