নিউইয়র্কে ড্রাইভাররা সাবধান! সামান্য ভুলেই বাড়িতে আসতে পারে টিকিট
নিউইয়র্ক সিটিতে ইয়েলো ট্যাক্সি, উবার, লিফট বা লিভারি চালকদের জন্য রাস্তার ক্যামেরা এনফোর্সমেন্ট এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাস লেনে ভুল করে গাড়ি চালানো, সেখানে দাঁড়ানো বা পার্ক করার মতো ঘটনায় শুধু রাস্তার ক্যামেরাই নয়, এমটিএ বাসে থাকা ক্যামেরার মাধ্যমেও টিকিট আসতে পারে।
শহরের নির্দিষ্ট বাস লেনে থাকা ক্যামেরা গাড়ির ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। পরে গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের ঠিকানায় নোটিস অব লায়াবিলিটি পাঠানো হয়। এমটিএ বাসে থাকা ক্যামেরাও বাস লেনে দাঁড়ানো বা পার্ক করা, বাসস্টপে দাঁড়ানো এবং ডাবল পার্কিংয়ের মতো লঙ্ঘন শনাক্ত করতে পারে।
বাস লেনের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাধারণভাবে সেখানে গাড়ি চালানো যায় না। তবে নিকটতম মোড়ে ডানে মোড় নেওয়া, দ্রুত যাত্রী ওঠানো বা নামানো এবং বৈধ পার্কিং স্পটে যাওয়ার মতো কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। তাই শুধু কয়েক সেকেন্ডের জন্য বাস লেনে ঢুকলেও পরিস্থিতি ও সাইন অনুযায়ী সেটি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ক্যামেরায় ধরা পড়া বাস লেনের লঙ্ঘনের জরিমানা প্রথমবার ৫০ ডলার থেকে শুরু হয়। একই ধরনের লঙ্ঘন ১২ মাসের মধ্যে আবার হলে জরিমানা ধাপে ধাপে ১০০, ১৫০, ২০০ এবং পরবর্তী প্রতিটি লঙ্ঘনে ২৫০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এমটিএ বাসের ক্যামেরায় ধরা পড়া সংশ্লিষ্ট লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ধাপে ধাপে জরিমানা প্রযোজ্য।
শুধু বাস লেন নয়, নিউইয়র্কে রেড লাইট ও স্পিড ক্যামেরার এনফোর্সমেন্টও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের মধ্যে শহরের ৬০০টি ইন্টারসেকশনে রেড লাইট ক্যামেরা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নিউইয়র্ক সিটি। ২০২৬ সালের শুরুতে শহর প্রতি সপ্তাহে ৫০টি নতুন ইন্টারসেকশনে ক্যামেরা চালুর প্রক্রিয়া শুরু করে।
রেড লাইট ক্যামেরায় ধরা পড়লে জরিমানা ৫০ ডলার এবং স্পিড ক্যামেরার ক্ষেত্রেও জরিমানা ৫০ ডলার থেকে শুরু হয়। এসব ক্যামেরা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সাধারণত গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের কাছে নোটিস পাঠানো হয়।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে টিকিট জমিয়ে রাখলে। নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং ও ক্যামেরা-সংক্রান্ত বকেয়া জরিমানা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ বা চ্যালেঞ্জ না করলে তা জাজমেন্টে যেতে পারে। এরপর জরিমানা ও সুদের সঙ্গে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
নিউইয়র্ক স্টেটে ১৮ মাসের মধ্যে তিন বা তার বেশি পার্কিং, রেড লাইট, বাস লেন বা স্পিড ক্যামেরার বকেয়া জাজমেন্ট থাকলে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নবায়ন স্থগিত বা আটকে যেতে পারে। একইভাবে ১২ মাসের মধ্যে পাঁচ বা তার বেশি পার্কিং টিকিট জাজমেন্টে থাকলেও রেজিস্ট্রেশন নবায়নে সমস্যা হতে পারে। টিএলসি গাড়িও এই নিয়মের আওতায় রয়েছে।
তাই নিউইয়র্কের ড্রাইভারদের জন্য বাস লেনের সাইন, পার্কিং সাইন ও কার্বের নির্দেশনা ভালোভাবে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। ক্যামেরার উপস্থিতি চোখে না পড়লেও নিয়ম ভাঙলে পরে ডাকযোগে নোটিস আসতে পারে। আর কোনো টিকিট এলে সেটি উপেক্ষা না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ বা প্রয়োজন হলে হিয়ারিংয়ের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা উচিত।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু পেশায় এখনো কর্মীর চাহিদা তুলনামূলক বেশি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দেশজুড়ে প্রায় ৭৩ লাখ চাকরির পদ খালি ছিল। একই সময়ে ন্যাশভিল, আটলান্টা, কলম্বাস ও র্যালেইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে বেকারত্বের হারও তুলনামূলক কম ছিল। তবে শুধু একটি দক্ষতা থাকলেই ৩০ দিনের মধ্যে চাকরি নিশ্চিত হবে বা চাকরি নিজে থেকে খুঁজে আসবে, এমন কোনো তথ্য নেই। চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, বৈধভাবে কাজের অনুমতি, ভাষাগত দক্ষতা, অবস্থান এবং নিয়োগকর্তার চাহিদার ওপর। চাহিদার দিক থেকে নার্সিং ও সেবাযত্নের কাজ এখনো গুরুত্বপূর্ণ পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে। ২০২৫ সালে নিবন্ধিত নার্সদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৯৭ হাজার ৫৫০ ডলার। আগামী ১০ বছর এ পেশায় কর্মসংস্থান আরও ৬ শতাংশ বাড়তে পারে। এ সময়ে বছরে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ৮০০টি নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। নার্সিং সহকারীদের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালে এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৪২ হাজার ২৬০ ডলার। আগামী ১০ বছরে বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ৩০০টি নার্সিং সহকারী ও রোগীসেবাকর্মীর পদে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নার্সিং সহকারী হিসেবে কাজ করতে অনেক রাজ্যে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রয়োজন। ট্রাক চালনাও যুক্তরাষ্ট্রে বড় কর্মসংস্থানের একটি ক্ষেত্র। ভারী ট্রাক ও ট্রেইলার চালকদের ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৫৮ হাজার ৬৪০ ডলার। আগামী ১০ বছরে এ পেশায় কর্মসংস্থান ৪ শতাংশ বাড়তে পারে এবং বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার ৫০০টি চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের কাজে প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক ড্রাইভার লাইসেন্স বা সিডিএল থাকতে হয়। কারিগরি পেশাগুলোর চাহিদাও কম নয়। ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের কারিগর এবং ওয়েল্ডারের মতো কাজে দক্ষ কর্মীদের বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজন রয়েছে। এসব পেশায় সবসময় চার বছরের কলেজ ডিগ্রি প্রয়োজন হয় না। তবে প্রশিক্ষণ, কাজের অভিজ্ঞতা এবং রাজ্যভেদে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা, তথ্যনিরাপত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণের মতো কাজে চাহিদা রয়েছে। ২০২৫ সালে কম্পিউটার সহায়তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৬২ হাজার ৮৯০ ডলার। তথ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ১৮০ ডলার। আগামী ১০ বছরে তথ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কর্মসংস্থান ২১ শতাংশ বাড়তে পারে। শহরভেদেও শ্রমবাজারের চিত্র আলাদা। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বড় শহরগুলোর মধ্যে ন্যাশভিলে বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। আটলান্টা, কলম্বাস ও র্যালেইয়ে তা ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং শার্লটে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে র্যালেইয়ে এক বছরে বেসরকারি ও সরকারি মিলিয়ে মোট বেতনভুক্ত চাকরি ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং শার্লটে ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খোঁজার সময় শুধু কোন শহরে বেশি চাকরি রয়েছে, সেটি দেখলেই হবে না। নিজের দক্ষতার চাহিদা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, বৈধভাবে কাজের অনুমতি, ইংরেজি দক্ষতা, বেতন, বাসাভাড়া, কর এবং যাতায়াত খরচ একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো দক্ষতাই চাকরির নিশ্চয়তা দেয় না। তবে সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স এবং বাস্তব কাজের দক্ষতা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নিজের চাকরির সুযোগ বাড়ানো সম্ভব।
আমেরিকায় ইহুদি নিরাপত্তায় বছরে ১০১ কোটি ডলার! এক বছরে বেড়েছে কোটি কোটি ডলার
ডিভি লটারি ২০২৬: বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের নাগরিকদের আবেদন নিষিদ্ধ
নিউইয়র্কে ড্রাইভাররা সাবধান! সামান্য ভুলেই বাড়িতে আসতে পারে টিকিট
সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা বলেছেন, বড় হয়ে দুই মেয়ে মালিয়া ও সাশা বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর তাদের খুব একটা মিস করেন না। ২৬ আগস্ট প্রকাশিত ‘আইএমও’ পডকাস্টের এক পর্বে কমেডিয়ান জন স্টুয়ার্টের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। মিশেল অবশ্য পরিষ্কার করে বলেন, মেয়েদের তিনি ভালোবাসেন এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করেন। এমনকি ওই দিন রাতেই তাদের সঙ্গে ডিনারে দেখা করার কথা ছিল তার। তিনি বলেন, সন্তানরা কলেজে যাওয়ার সময় স্বামী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু তার নিজের প্রতিক্রিয়া ছিল অনেকটা ভিন্ন। মিশেলের ভাষ্য, মেয়েরা বাড়িতে থাকার সময় শুক্রবার রাতগুলোতে তাদের কোথায় আছে, কখন ফিরবে, নিরাপদে আছে কি না, এসব নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হতো। এখন সেই চাপ নেই। বরং মেয়েদের বড় হয়ে নিজেদের জীবন তৈরি করতে দেখে তিনি খুশি। মিশেল ও বারাক ওবামার দুই মেয়ে মালিয়া ও সাশা। মালিয়া হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২১ সালে পড়াশোনা শেষ করেন এবং পরে চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত হন। সাশা ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ২০২৩ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পডকাস্টে মিশেল আরও বলেন, সন্তানদের সঙ্গে তার দীর্ঘ সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছে এবং তিনি তাদের খুব ভালোভাবে জানেন। এখন মেয়েরা নিজেদের মতো করে বড় হয়েছে, সেটি তিনি উপভোগ করছেন। মিশেলের মন্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ তার কথাকে সন্তানদের বড় হয়ে স্বাধীন জীবন শুরু করার স্বাভাবিক বাস্তবতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, সন্তানদের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর তাদের না মিস করার অনুভূতির সঙ্গে তারা একমত নন। তবে মিশেলের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল সন্তানদের প্রতি ভালোবাসার অভাব নয়। বরং সন্তানদের প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে নিজেদের জীবন গড়ে তোলার পর একজন মায়ের জীবনে যে নতুন স্বাধীনতা ও পরিবর্তন আসে, সেটিই তিনি তুলে ধরেছেন।
৬৫ বছর পার হলেই আমেরিকায় কী কী সুবিধা, ২০২৬ সালের ৭টি তথ্য জানলে চমকে যাবেন
ওহাইওতে এক মাসের অভিযানে ৭৯ নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করল মার্কিন মার্শালরা
গৃহযুদ্ধের আগে ‘সন্তানের বাহিনী’ গড়তে চেয়েছিলেন ইলন মাস্ক, দাবি প্রাক্তন সঙ্গীর
নিউইয়র্কের হারলেম এলাকায় একটি গির্জায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে কুরআনের একটি কপি ছেঁড়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মার্কিন অধিকারকর্মী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ঘটনাটিতে জড়িত হিসেবে ডানপন্থী কর্মী জেক ল্যাংয়ের নাম উঠে এসেছে। প্রকাশিত ভিডিও ও বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অনুষ্ঠানের সময় ল্যাং কুরআনের একটি কপি হাতে নিয়ে সেটি ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় তিনি মুসলিমদের উদ্দেশে আক্রমণাত্মক বক্তব্যও দেন। তবে ঘটনাটির পূর্ণ ভিডিও, অনুষ্ঠানের আয়োজক এবং ল্যাংয়ের বক্তব্যের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট নিয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই এখনো সীমিত। ঘটনাটি নিউইয়র্কের হারলেম এলাকার একটি গির্জায় হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বরের একটি গির্জার অনুষ্ঠান সম্পর্কেও অনলাইনে তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে জেক ল্যাংয়ের উপস্থিতির উল্লেখ রয়েছে। জেক ল্যাং যুক্তরাষ্ট্রের ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের একজন ছিলেন। পুলিশের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এবং তিনি প্রায় চার বছর হেফাজতে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৬ জানুয়ারির ঘটনায় অভিযুক্ত ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষমা ঘোষণা করলে ল্যাংও মুক্তি পান। কারাগার থেকে মুক্তির পর ল্যাং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরোধিতা করে সমাবেশ আয়োজনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। ২০২৬ সালে নিউইয়র্ক, মিশিগান ও মিনেসোটাসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নেতৃত্বে বা অংশগ্রহণে ইসলামবিরোধী কর্মসূচির খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে মার্চে নিউইয়র্কের গ্রেসি ম্যানশনের বাইরে ল্যাংয়ের নেতৃত্বে একটি ইসলামবিরোধী সমাবেশকে কেন্দ্র করে পাল্টা বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার একপর্যায়ে দুটি সন্দেহজনক বিস্ফোরক ডিভাইস ছোড়া হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ পরে একটি ডিভাইসকে বিস্ফোরক হিসেবে শনাক্ত করে। ওই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেসি ম্যানশনের ওই সমাবেশে ল্যাংয়ের কর্মসূচির মূল বক্তব্য ছিল নিউইয়র্কে কথিত ‘ইসলামিক দখল’ বা ইসলামায়নের বিরোধিতা। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি তখন ল্যাংয়ের কর্মসূচিকে বিদ্বেষ ও বর্ণবাদের সঙ্গে যুক্ত বলে সমালোচনা করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি পাল্টা বিক্ষোভে সহিংসতারও নিন্দা জানান। সাম্প্রতিক হারলেমের ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় বিদ্বেষের সীমা নিয়ে বিতর্ক চলছে। মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী ব্যাপক মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত করলেও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে ধর্মীয় গ্রন্থ অবমাননার মতো কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়ই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। একদিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন থাকে, অন্যদিকে কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে হারলেমের ঘটনাটিও এই বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এখন পর্যন্ত হারলেমের ঘটনায় নিউইয়র্ক পুলিশ বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা কোনো মামলা বা তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে গির্জা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত কোনো বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। এদিকে জেক ল্যাংয়ের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। আগস্টে মিশিগানের ডিয়ারবর্নে তার নেতৃত্বে ইসলামবিরোধী সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও সংবাদে এসেছে। হারলেমের সর্বশেষ ঘটনাটি তাই শুধু একটি ধর্মীয় গ্রন্থ ছেঁড়ার ঘটনা হিসেবে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বিতর্কের নতুন একটি উদাহরণ হিসেবেও আলোচনায় এসেছে। তবে ঘটনার আইনগত পরিণতি বা কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানতে আরও নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে। সূত্র: মিশরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মাসরাওয়ি, সিবিএস নিউজ, নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয় এবং অন্যান্য প্রকাশিত প্রতিবেদন।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ কোটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ফাঁসের দাবি, তদন্তে এফবিআই
নিউ ইয়র্কে আজ থেকে নির্দিষ্ট ট্র্যাশ বিন বাধ্যতামূলক, না মানলে জরিমানা