রোজা

ছবি: ফ্রিপিক
ঈদের দিন কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন—জানুন ইসলামি বিধান

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা—আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   ঈদের দিনে করণীয় ঈদের দিনটি শুরু হয় পবিত্রতা ও ইবাদতের মাধ্যমে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী-   গোসল ও পরিচ্ছন্নতা: ঈদের সকালে গোসল করা সুন্নাত। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন। তাকবির পাঠ: ঈদের দিন বেশি বেশি তাকবির পড়া সুন্নাত। এটি আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। উত্তম পোশাক পরিধান: সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন বা পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা উচিত। এটি আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ। তাকওয়া অর্জন: বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি আত্মিক পবিত্রতা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঈদুল ফিতরের আগে খাওয়া: ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে বিজোড় সংখ্যক খেজুর খাওয়া সুন্নাত। ফিতরা আদায়: ঈদের নামাজের আগে ফিতরা প্রদান করা জরুরি, যাতে অসহায় মানুষেরাও ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারে। ঈদগাহে যাওয়া: সম্ভব হলে হেঁটে যাওয়া এবং ভিন্ন পথে ফিরে আসা সুন্নাত। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া: ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। শুভেচ্ছা বিনিময়: ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’ বলে পরস্পর শুভেচ্ছা জানানো উত্তম আমল।   ঈদের দিনে যা করবেন না ঈদের আনন্দ যেন ইসলামের শিক্ষা থেকে বিচ্যুত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি- ঈদের দিনে রোজা রাখা: সম্পূর্ণ হারাম। মুহাম্মদ (সা.) এই দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। অপ্রয়োজনীয় নফল নামাজ: ঈদের নামাজের আগে বা পরে ঈদগাহে কোনো নফল নামাজ আদায় নেই। ইবাদতে অবহেলা: ব্যস্ততার কারণে ঈদের নামাজ অবহেলা করা উচিত নয়। বিদআত ও কুসংস্কার: ধর্মে নেই এমন কাজকে ইবাদত মনে করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অপচয় ও অনৈতিক কাজ: ঈদের আনন্দ যেন অপচয়, জুয়া বা ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে পরিণত না হয়।   ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ঈদ শুধু আনন্দের দিন নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিকতার চর্চারও একটি বড় সুযোগ। তাই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই ফুটে ওঠে, যখন তা শরিয়তের নির্দেশনা মেনে উদযাপন করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নতুন চাঁদ দেখলে মহানবী (সা.) যেই দোয়া পড়তেন

ইসলামী বর্ষপঞ্জি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। হিজরি বর্ষের মাস শুরু ও শেষ নির্ধারণ, রোজা পালন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নতুন চাঁদ দেখার সঙ্গে যুক্ত।   দুনিয়ার মুসলমানরা জানেন, নবী করিম (সা.) নতুন চাঁদ দেখা মাত্রই কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন। সেই দোয়ার মূল লেখা এবং উচ্চারণ হলো:   আরবি: اَللهُ أَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ وَالسَّلاَمَةِ وَالْإِسْلاَمِ وَالتَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ وَتَرْضَى، رَبِّىْ وَرَبُّكَ اللهُ   উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।”   অর্থ: “হে আল্লাহ! তুমি ওই চাঁদকে আমাদের ওপর উদিত করো নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে। আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ।”   হাদিস সূত্রে জানা যায়, তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) যখন নতুন চাঁদ দেখতেন, তখন তিনি এই দোয়া পড়তেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কঠোর পরিশ্রম কি রোজা না রাখার অজুহাত হতে পারে? ইসলামের বিধান যা বলছে

রমজান মাসে রোজা রাখা সকল প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিমের জন্য ফরজ। যেসব পেশার মানুষ কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে যুক্ত—যেমন রিকশা চালক, গার্মেন্টস শ্রমিক বা মাটি কাটার কাজের লোক—তাদের জন্যও রোজা রাখা ফরজই। তবে পরিশ্রমের অজুহাতে রোজা না রাখার সুযোগ নেই।   যারা অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের পেশায় যুক্ত, তাদের উচিত রমজানে কাজের চাপ সামঞ্জস্য করা। উদাহরণস্বরূপ, সাধারণ দিনে পুরো দিন কাজ করা হলেও রমজানে অর্ধদিবস কাজ করা এবং অবশিষ্ট সময় বিশ্রাম নেওয়া উচিত। এতে রোজা রাখা সহজ হয়। তবু যদি কোন দিন এমন কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, যার কারণে প্রাণ বা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি থাকে, সেই দিনের রোজা খোলা যায় এবং পরবর্তীতে কাজা রোজা আদায় করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে কাফফারা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।   আধিকারিক ও অধীস্তদের জন্যও দায়িত্ব রয়েছে। অধীস্তদের কাজ হালকা করে দিলে আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রোজা রাখা বাধ্যতামূলক। আল্লাহ তায়ালা বলেন: হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারীতা অর্জন কর’ (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৩)           এছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রমজান মাসের রোজা তোমাদের উপর ফরজ, তবে অতিরিক্ত নফল রোজা রাখতে পারো। ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা না রাখা গর্হিত এবং শাস্তিযোগ্য। হাদিসে বর্ণিত আছে, যারা রোজা ভেঙে দেয় পূর্ণ করার আগে, তাদের কঠোর শাস্তি হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
বিভিন্ন ধরনের খাবার । ফাইল ছবি: সংগৃহীত
ইফতারে খালি পেটে যে ৩ খাবার খেলেই হতে পারে বিপদ

দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর ইফতারে খালি পেটে খাওয়া কিছু খাবার শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক খাবার বেছে নেওয়া না হলে তা পেটে অ্যাসিডিটি, ব্যথা এবং হজমজনিত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।   সাইট্রাস ফল ও ঠান্ডা শরবত: কমলালেবু, মুসুম্বি বা তাদের তৈরি ঠান্ডা জুস খালি পেটে খেলে পেটে ভার অনুভূত হয় এবং অ্যাসিড উৎপাদন বাড়ে। এছাড়া ফ্রুক্টোজ হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং ঠান্ডা শরবত সর্দি-কাশির ঝুঁকি বাড়ায়।   চা ও কফি: ভারী খাবারের সঙ্গে চা-কফি খাওয়া পুষ্টিবিদরা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন। দীর্ঘ সময় খালি পেটে খাওয়া ও তার পর চা-কফি গ্রহণ করলে অ্যাসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা রক্তে শর্করার ভারসাম্য বিঘ্নিত করে এবং অগ্ন্যাশয় ও যকৃতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।   তৈলাক্ত খাবার: ভাজাপোড়া, ছোলা বা মুড়ি খালি পেটে খেলে গ্যাস, মাথাব্যথা, অবসাদ এবং আলসারের সম্ভাবনা থাকে। দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের খাবার অন্ত্রের সমস্যা ও পেটের মেদ বৃদ্ধি করতে পারে। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, ইফতারে সুষম খাবার, সবজি, খেজুর, দই এবং সহজে হজমযোগ্য খাবার নির্বাচন করা উচিত। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর ইফতারে সতর্ক থাকা এবং পেটের জন্য উপযোগী খাবার বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি
রমজান মাসের ৩০ আমল: তাকওয়া ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথ

রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সুরা বাকারা: ১৮৩)   রোজা শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম। নবীজি (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রোজা রেখেও মিথ্যা ও পাপ কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার ত্যাগের আল্লাহর কাছে কোনো মূল্য নেই।” (সহিহ বুখারি: ৬০৫৭)   রমজানে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল তুলে ধরা হলো-   ১. তারাবি নামাজ আদায় ঈমান ও সওয়াবের আশায় তারাবি আদায় করলে অতীতের গুনাহ মাফ হয়। (বুখারি)   ২. তাহাজ্জুদ পড়া রমজানে তাহাজ্জুদে বিশেষ ফজিলত রয়েছে। (নাসায়ী)   ৩. কোরআন তিলাওয়াত রমজান কোরআন নাজিলের মাস। বেশি বেশি তিলাওয়াত ও কোরআন শিক্ষা করা উত্তম।   ৪. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় জামাতে নামাজ একাকী নামাজের চেয়ে ২৭ গুণ বেশি মর্যাদাসম্পন্ন। (বুখারি)   ৫. সেহরি খাওয়া সেহরিতে বরকত রয়েছে। (বুখারি)   ৬. দেরিতে সেহরি করা ফজরের আগে সেহরি করা সুন্নত।   ৭. সময়মতো ইফতার করা ইফতারের সময় রোজাদারের জন্য বিশেষ আনন্দ রয়েছে। (তিরমিজি)   ৮. তাড়াতাড়ি ইফতার করা সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা সুন্নত। (আবু দাউদ)   ৯. ইফতারের দোয়া পড়া “আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু…” (আবু দাউদ)   ১০. অন্যকে ইফতার করানো রোজাদারকে ইফতার করালে সমান সওয়াব পাওয়া যায়। (তিরমিজি)   ১১. দান-সদকা রমজানে রাসুল (সা.) সবচেয়ে বেশি দান করতেন। (বুখারি)   ১২. সদকাতুল ফিতর আদায় ঈদের আগে আদায় করা ওয়াজিব। (মুসলিম)   ১৩. যাকাত আদায় যার ওপর ফরজ হয়েছে, তিনি রমজানে আদায় করতে পারেন।   ১৪. বেশি বেশি নফল ইবাদত রমজানে একটি নফল অন্য মাসের ফরজের সমান সওয়াবের। (শুয়াবুল ইমান)   ১৫. জুমার দিন তাড়াতাড়ি মসজিদে যাওয়া প্রতিটি পদক্ষেপে এক বছরের নফল রোজা ও নামাজের সওয়াব। (আবু দাউদ)   ১৬. ওমরাহ পালন রমজানে একটি ওমরাহ একটি হজের সমতুল্য। (বুখারি)   ১৭. তওবার নামাজ পড়া গুনাহের পর দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে তওবা করা।   ১৮. সালাতুত তাসবিহ পড়া বিগত গুনাহ মাফের বিশেষ আমল।   ১৯. মাসনূন দোয়া পড়া দৈনন্দিন জীবনের দোয়াগুলো নিয়মিত পড়া।   ২০. বেশি বেশি ইস্তিগফার ইস্তিগফার করলে আল্লাহ সংকট দূর করেন। (আবু দাউদ)   ২১. শেষ দশকে ইতিকাফ সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া।   ২২. লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। (বুখারি)   ২৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা আখেরাতে বিশ্বাসী ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করবে। (বুখারি)   ২৪. গিবত, মিথ্যা ও অশ্লীলতা বর্জন গিবত মারাত্মক গুনাহ।   ২৫. বেশি বেশি জিকির “আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো…” (সূরা আনফাল: ৪৫)   ২৬. মা-বাবার খেদমত মা-বাবা জান্নাত বা জাহান্নামের কারণ হতে পারেন। (ইবনে মাজাহ)   ২৭. অসুস্থ ও বিপদগ্রস্তদের খোঁজ নেওয়া রোগী দেখা সুন্নত। (বুখারি)   ২৮. নবীজি (সা.) ও সাহাবিদের জীবনী পড়া তাদের জীবন আমাদের জন্য আদর্শ।   ২৯. রমজানের মাসআলা জানা শুদ্ধভাবে রোজা পালনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন।   ৩০. বেশি বেশি দরুদ শরীফ পাঠ একবার দরুদ পড়লে আল্লাহ ১০টি রহমত নাজিল করেন। (নাসায়ী)

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
সেহরিতে জেগে ওঠার পন্থা
সেহরিতে ওঠা সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অভ্যাস

রমজান মাসে সেহরি রোজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেহরির খাবার শরীরকে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও পানি সরবরাহ করে। তবে অনিয়মিত ঘুম, রাত জাগা ও ক্লান্তির কারণে অনেকেই সময়মতো সেহরি খেতে উঠতে পারেন না।   পুষ্টিবিদরা ও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কিছু সহজ অভ্যাস নিয়মিত সেহরিতে ওঠাকে সহজ করতে পারে। ঘুমানোর সময় আগে নেওয়া, ঘুমের আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমানো, একাধিক অ্যালার্ম ব্যবহার করা এবং পরিবারের সহযোগিতা নেওয়া কার্যকর। এছাড়া রাতে ভারী খাবার এড়িয়ে হালকা খাবার খাওয়া, সেহরির খাবার আগেভাগে প্রস্তুত রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং দিনের অতিরিক্ত ঘুম এড়িয়ে চলাও সহায়ক।   মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা ও ধীরে ধীরে অভ্যাস তৈরি করাও জরুরি। সেহরি বাদ দিলে সারাদিন দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, পানিশূন্যতা ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকরভাবে রোজা পালনের জন্য সেহরিতে সময়মতো ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
রোজায় কোন মসজিদে মিলবে বিরিয়ানি? তথ্য জানাবে নতুন অ্যাপ ‘বিরিয়ানি দিবে’

রোজার মাসে ইফতার ও তারাবির নামাজের পর বিভিন্ন মসজিদে বিতরণ করা হয় বিরিয়ানি, তেহারি কিংবা অন্যান্য খাবার। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবছরই চলে আলোচনা, মিম ও রিলসের ঝড়। এবার সেই আগ্রহকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে একটি নতুন অ্যাপ—‘বিরিয়ানি দিবে’।   অ্যাপটি ডেভেলপ করেছেন রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি)-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের প্রিন্স।   ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে অ্যাপটি আনুষ্ঠানিকভাবে লাইভ করা হয়। ডেভেলপারের দাবি, ব্যবহারকারীরা এখানে জানতে পারবেন কোন এলাকায়, কোন মসজিদে, কখন ফ্রি বিরিয়ানি বা তেহারি বিতরণ করা হচ্ছে।   ডেভেলপার জুবায়ের জানান, এটি মূলত একটি “ফান প্রজেক্ট”। ওয়েবসাইট ও অ্যাপে ব্যবহারকারীরা লাইভ লোকেশন যুক্ত করতে পারবেন। কেউ চাইলে তথ্য যুক্ত করতে পারবেন, আবার অন্যরা সেই তথ্য যাচাই (ভেরিফাই) করার সুযোগও পাবেন। তার ভাষায়, “এটা একদমই মজার ছলে করা একটি উদ্যোগ। যে কেউ চাইলে ভিজিট করে দেখতে পারে এবং সুযোগ থাকলে খাবার গ্রহণ করতে পারে।”   রোজার মাসে মসজিদের বিরিয়ানি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়, সেটিকে প্রযুক্তির মাধ্যমে এক প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে উদ্যোগটিকে। ইতোমধ্যে তরুণদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অ্যাপটির ওয়েব সংস্করণ পাওয়া যাচ্ছে: https://biriyanidibe1.vercel.app/   তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেকোনো তথ্য ব্যবহার করার আগে বাস্তবতা যাচাই করা এবং স্থানীয় নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা উচিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
দিল্লির জামা মসজিদের সামনে ইফতার করছেন মুসল্লিরা। ছবিটি ২০২৫ সালের। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে
বিশ্বের কোথায় কত ঘণ্টা রোজা: রমজান ২০২৬-এর সময়সূচি ও বৈশ্বিক প্রভাব

পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে বিশ্বের মুসলিম সমাজে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে এই বছর রোজা শুরু হতে পারে আগামী ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিতে রোজার সময়ের দৈর্ঘ্য ভিন্ন হবে।   রমজান মাসে মুসলিমরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, ধূমপান এবং শারীরিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতি অর্জন। সাধারণত রোজার সময়কাল ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়।   হিজরি ক্যালেন্ডার বা চন্দ্র বর্ষের ওপর ভিত্তি করে রমজান নির্ধারণ করা হয়। প্রতি বছর রমজান সৌর বছরের তুলনায় ১০–১২ দিন আগে আসে। এই হিসাব অনুযায়ী ২০৩০ সালে বিশ্বে দুইবার রমজান মাস পালিত হবে—প্রথমটি ৫ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয়টি ২৬ ডিসেম্বর।   উত্তর গোলার্ধ (ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, এশিয়া): ১২–১৩ ঘণ্টা, শীতকাল হওয়ায় এবার কিছুটা কম। দক্ষিণ গোলার্ধ (চিলি, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা): ১৪–১৫ ঘণ্টা, মাসের শেষের দিকে কিছুটা কমে আসবে। ২০২৬ সালের সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা প্রথম ও শেষ দিনের সাহরি ও ইফতারের সময় অনুযায়ী রোজা পালন করবেন।   সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে সোমবার সকালে শাবান মাসের চাঁদের ছবি ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার জন্য দেশের নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছে ফতোয়া কাউন্সিল। সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্টও একই আহ্বান জানিয়েছে। চাঁদ দেখা গেলে রোজা শুরু হবে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি), নাহলে বৃহস্পতিবার থেকে। বাংলাদেশে সাধারণত একদিন পর রোজা শুরু হয়, তাই প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হতে পারে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে।   ভৌগোলিক অবস্থান ও ঋতু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছর রোজার সময় ও পরিবেশ পরিবর্তিত হয়। উত্তর গোলার্ধের মুসলিমদের জন্য এবারের রমজান কিছুটা আরামদায়ক হলেও, দক্ষিণ গোলার্ধের মুসলিমদের দীর্ঘ সময় ধৈর্য ও সংযম দেখাতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
রমজানকে স্বাগত। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব মুসলিম যে ৭ ব্যতিক্রমী রীতিতে রমজান উদযাপন করেন

বিশ্ব মুসলিমের বহুল প্রতীক্ষিত মাস পবিত্র রমজান। নামাজ, রোজা, দান-সদকা ও আত্মসংযম— এই মৌলিক ইবাদতগুলো সব দেশেই অভিন্ন এবং এতে কোনো ভিন্নতার সুযোগ নেই। তবে দেশ ও সংস্কৃতি ভেদে রমজান পালনের পরিবেশ ও রীতিতে দেখা যায় বৈচিত্র্য। কোথাও ইফতারের সময় কামানের গর্জনে জানান দেওয়া হয়, কোথাও আবার সেহরির আগে ঘুমন্ত রোজাদারদের জাগানো হয় ঢোলের তালে তালে। স্থানীয় সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ছোঁয়ায় রমজান এভাবেই হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও বহুমাত্রিক।   ইবাদতের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নিজস্ব সামাজিক রীতি ও ঐতিহ্য রমজানকে দেয় আলাদা মাত্রা। বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রচলিত এমনই সাতটি ব্যতিক্রমী ও আকর্ষণীয় রীতি তুলে ধরা হলো—   ১. কামানের গোলায় ইফতারের সময় ঘোষণা রমজানের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্য হলো ইফতারের সময় কামানের গোলার শব্দে জানান দেওয়া। ধারণা করা হয়, এই রীতির উৎপত্তি মিসরে। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে, মাগরিবের আজানের সময় একটি কামানের গোলা ছুড়ে ইফতারের সময় ঘোষণা করা হয়।   ঘড়ি ও লাউডস্পিকারের প্রচলনের আগে কামানের মাধ্যমেই ইফতারের গণঘোষণা দেওয়া হতো। আজও সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, জর্ডান, কাতার ও বাহরাইনে এই ঐতিহ্য টিকে আছে।   ২. রঙিন ফানুসে রমজানের বার্তা মিসরের ঐতিহ্যবাহী রমজান লণ্ঠন—ফানুস—এখন মুসলিম বিশ্বের এক পরিচিত প্রতীক। রমজান এলেই মিসরের ঘরবাড়ি, রাস্তা, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিপণিবিতান সাজানো হয় রঙিন ফানুসে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আলোকসজ্জা বিশ্বের নানা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং রমজানের আনন্দ ও উৎসবের আবহ তৈরি করেছে।   ৩. সেহরির সময় ঢোল বাজিয়ে জাগানো সেহরির সময় মানুষকে জাগাতে ঢোল বাজানোর প্রথা শত শত বছরের পুরোনো। আরব দেশগুলোতে যিনি এই দায়িত্ব পালন করেন, তাকে বলা হয় মেসাহারাতি। তুরস্কে তিনি পরিচিত দাভুলচু নামে, আর উপমহাদেশে পরিচিত সেহেরিওয়ালা হিসেবে।   ভোরের আগে তারা ঢোল বাজিয়ে ও ছন্দে ছন্দে ডাক দিয়ে পাড়া-মহল্লা ঘুরে মানুষকে সেহরির জন্য জাগিয়ে তোলেন। তুরস্কে এই ঢোলবাদকেরা প্রায়ই উসমানি আমলের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেন। ইন্দোনেশিয়ায় সেহরি ও ইফতারের সময় জানান দিতে ব্যবহৃত হয় বড় ঢোল, যা বেদুগ নামে পরিচিত।   ৪. সেহরি ও ইফতারে নগর ঘোষক বা নাফার ঢোলের পাশাপাশি কিছু দেশে সেহরির বার্তা পৌঁছে দেন নগর ঘোষক। মরক্কোয় এদের বলা হয় নাফার। আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা চালু হওয়ার আগে তারা পাড়া-মহল্লা ঘুরে রোজা, সেহরি, নামাজের সময়সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিতেন। কোনো কোনো অঞ্চলে এই ভূমিকা মেসাহারাতির সঙ্গে মিলেও যায়।   ৫. হাগ আল লায়লা সংযুক্ত আরব আমিরাতে রমজানের আগে পালিত হয় হাগ আল লায়লা। শাবান মাসের ১৫ তারিখে অনুষ্ঠিত এই উৎসবের মাধ্যমে শুরু হয় রমজানের কাউন্টডাউন। শিশুরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গান গায় এবং মিষ্টি ও বাদাম সংগ্রহ করে। এই আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে দানশীলতা ও সামাজিক বন্ধনের শিক্ষা দেওয়া হয়।   ৬. পূর্বপুরুষের স্মরণ ও সম্মিলিত স্নান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলমানের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় রমজান ঘিরে রয়েছে নানা রীতি। এর মধ্যে অন্যতম নগাবুবুরিত। এতে ইফতারের আগে বিকেলের সময় বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে কাটানো হয়—পার্কে হাঁটা, ধর্মীয় আলোচনা শোনা কিংবা খাবারের দোকানে ভিড় করা এই রীতির অংশ।   জাভা অঞ্চলে রমজানের শেষ দিকে আয়োজন করা হয় তাকবিরান মিছিল। তরুণেরা হাতে লণ্ঠন নিয়ে আল্লাহর প্রশংসায় তাকবির ধ্বনি দিতে দিতে রাস্তায় বের হন।   রমজানের আগে পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারতের রীতি রয়েছে, যা নিয়াদরান নামে পরিচিত। জাকার্তাসহ বিভিন্ন এলাকায় এটি শ্রদ্ধা ও স্মরণের অংশ হিসেবে পালন করা হয়।   এ ছাড়া রোজা শুরুর এক-দুদিন আগে পাডুসান নামে একটি প্রথা রয়েছে, যেখানে মানুষ প্রাকৃতিক ঝরনা, নদী বা জলাশয়ে সম্মিলিতভাবে গোসল করে আত্মশুদ্ধির অনুভূতি লাভ করে।   ৭. চাঁদ রাত চাঁদ রাত অর্থ চাঁদের রাত। এটি দক্ষিণ এশিয়ায় ঈদুল ফিতরের আগের রাতের একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন। নতুন চাঁদ দেখার মাধ্যমে রমজানের সমাপ্তি এবং শাওয়াল মাসের সূচনা হয়।   বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে মানুষ খোলা জায়গায় জড়ো হয়ে চাঁদ দেখেন, একে অপরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। নারীরা মেহেদি লাগান, ঘরে ঘরে তৈরি হয় ঈদের মিষ্টি, আর শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় জমে ওঠে বাজার।   দেশভেদে রমজানের রীতি ভিন্ন হলেও এর মূল চেতনা এক—সংযম, ইবাদত ও মানবিকতা। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মাঝেও পবিত্র রমজান সারা বিশ্বের মুসলমানদের এক সুতোয় বাঁধে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
রমজানের কাজা রোজা আদায়ের শেষ সুযোগ শাবানে

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয় স্তম্ভ হলো সাওম বা রোজা। পবিত্র রমজান মাসে সুস্থ-সবল প্রত্যেক মুসলিমের জন্য রোজা রাখা ফরজ। তবে শারীরিক অসুস্থতা, সফর বা নারীদের ঋতুস্রাবের কারণে অনেক সময় রমজানের আবশ্যকীয় রোজা কাজা হয়ে যায়। এগুলো পরবর্তীতে আদায়ের সুযোগ রয়েছে।   কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, “তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ হবে বা সফরে থাকবে, সে অন্যান্য দিনে সংখ্যা পূরণ করবে। আর যাদের জন্য তা কষ্টকর হবে, তাদের কর্তব্য ফিদ্যা প্রদান করা।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৪)   শরিয়ত অনুসারে, কাজা রোজা আদায়ের জন্য ধরা-বাঁধা কোনো সময় নেই। যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে এটি আদায় করা যায়, তবে শওয়াল মাস থেকে শুরু করে পরবর্তী রমজানের আগের মাস শাবান পর্যন্ত এটি বিশেষভাবে সুপরামর্শ। বিশেষ করে চলমান রজব মাসের পর শাবান মাসে কাজা রোজা আদায়ের শেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।   হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, চারটি মাস সম্মানিত—জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব। শাবান মাসের গুরুত্বও অপরিসীম। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, রমজান মাসের সওমের কাজা আদায় শাবান মাসে সম্পন্ন করা হতো। নবীজির (সা.) ব্যস্ততার কারণে অন্য কোনো মাসে কাজা রোজা আদায়ের সুযোগ পাওয়া যেত না। (মেশকাত, হাদিস: ২০৩০; সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮২৬)   বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, শরিয়তসম্মত কারণে রমজানের কাজা রোজা থাকলে শাবানের দিনগুলোতে তা সম্পূর্ণ করা উচিত, যাতে পরবর্তী রমজান শুরু হওয়ার আগে সমস্ত ফরজ রোজা আদায় করা যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
রোজা সামনে রেখে বাজার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোক্তারা
রোজা সামনে রেখে বাজার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোক্তারা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক : রোজায় ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে সরকার এ বছর বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণে পণ্য আমদানি করা হয়েছে এবং রোজাকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে নিরাপদ মজুত। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম কম থাকায় দেশের বাজারেও জোগান ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। এর প্রভাবে শবেবরাতের পর থেকে রোজার নিত্যপণ্যের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।   তবে রোজায় বেশি ব্যবহৃত কয়েকটি পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। পেঁয়াজ, খেজুর, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেল কেজিপ্রতি ৫ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে দুধের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিকেজি দুধ কিনতে ক্রেতাকে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। এসব কারণে রমজানে পণ্যমূল্য বাড়তে পারে—এমন শঙ্কা প্রকাশ করছেন ভোক্তারা।   রাজধানীর কাওরানবাজার, নয়াবাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার ও জিনজিরা বাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯৫ টাকায়, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১১৫ থেকে ১৩০ টাকা। ভরা মৌসুমে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬৫ টাকায়, যেখানে গত বছর একই সময়ে দাম ছিল প্রায় ৫৫ টাকা।   বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকায়, যা গত বছর রোজার আগে ছিল ১৭৬ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ১৮৫ টাকায়। সরু মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা কেজিতে, যা গত বছর ছিল ১৪০ টাকা। মাঝারি দানার মসুর ডাল ১২০ টাকা এবং মোটা দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়।   অন্যদিকে, চিনির দাম কিছুটা কমেছে। খুচরা বাজারে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০৫ টাকায়, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১২৫ টাকা। তবে গুঁড়া প্যাকেটজাত দুধের দাম বেড়েছে। ডিপ্লোমা ব্র্যান্ডের দুধ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯২০ টাকায়, যা গত বছর রোজার আগে ছিল ৮৪০ টাকা।   কাওরানবাজারে বাজার করতে আসা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “এবার শবেবরাতের আগে ও পরে বাজারে হঠাৎ করে দাম বাড়েনি। সরবরাহও ভালো। তবে গত বছরের তুলনায় কিছু পণ্যের দাম বেশি থাকায় সামনে কী হবে তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।”   কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “রমজানে পণ্যের দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের দুর্বল আইন প্রয়োগ। বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য থাকা সত্ত্বেও যদি দাম বাড়ে, তাহলে তদারকি বাড়াতে হবে এবং অনিয়মকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”   বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “এ বছর রমজানে কিছু পণ্যের দাম কমবে। গত বছরের তুলনায় নিত্যপণ্যের গড় আমদানি প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি হয়েছে। এই সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় গতবারের চেয়ে এবারের রমজান ভোক্তাদের জন্য বেশি স্বস্তিদায়ক হবে। কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব কি বন্ধ? ইউএস ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে কী বলা আছে

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস  এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

Top week

বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?
আমেরিকা

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0