বিশ্ব মুসলিমের বহুল প্রতীক্ষিত মাস পবিত্র রমজান। নামাজ, রোজা, দান-সদকা ও আত্মসংযম— এই মৌলিক ইবাদতগুলো সব দেশেই অভিন্ন এবং এতে কোনো ভিন্নতার সুযোগ নেই। তবে দেশ ও সংস্কৃতি ভেদে রমজান পালনের পরিবেশ ও রীতিতে দেখা যায় বৈচিত্র্য। কোথাও ইফতারের সময় কামানের গর্জনে জানান দেওয়া হয়, কোথাও আবার সেহরির আগে ঘুমন্ত রোজাদারদের জাগানো হয় ঢোলের তালে তালে। স্থানীয় সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ছোঁয়ায় রমজান এভাবেই হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও বহুমাত্রিক। ইবাদতের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নিজস্ব সামাজিক রীতি ও ঐতিহ্য রমজানকে দেয় আলাদা মাত্রা। বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রচলিত এমনই সাতটি ব্যতিক্রমী ও আকর্ষণীয় রীতি তুলে ধরা হলো— ১. কামানের গোলায় ইফতারের সময় ঘোষণা রমজানের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্য হলো ইফতারের সময় কামানের গোলার শব্দে জানান দেওয়া। ধারণা করা হয়, এই রীতির উৎপত্তি মিসরে। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে, মাগরিবের আজানের সময় একটি কামানের গোলা ছুড়ে ইফতারের সময় ঘোষণা করা হয়। ঘড়ি ও লাউডস্পিকারের প্রচলনের আগে কামানের মাধ্যমেই ইফতারের গণঘোষণা দেওয়া হতো। আজও সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, জর্ডান, কাতার ও বাহরাইনে এই ঐতিহ্য টিকে আছে। ২. রঙিন ফানুসে রমজানের বার্তা মিসরের ঐতিহ্যবাহী রমজান লণ্ঠন—ফানুস—এখন মুসলিম বিশ্বের এক পরিচিত প্রতীক। রমজান এলেই মিসরের ঘরবাড়ি, রাস্তা, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিপণিবিতান সাজানো হয় রঙিন ফানুসে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আলোকসজ্জা বিশ্বের নানা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং রমজানের আনন্দ ও উৎসবের আবহ তৈরি করেছে। ৩. সেহরির সময় ঢোল বাজিয়ে জাগানো সেহরির সময় মানুষকে জাগাতে ঢোল বাজানোর প্রথা শত শত বছরের পুরোনো। আরব দেশগুলোতে যিনি এই দায়িত্ব পালন করেন, তাকে বলা হয় মেসাহারাতি। তুরস্কে তিনি পরিচিত দাভুলচু নামে, আর উপমহাদেশে পরিচিত সেহেরিওয়ালা হিসেবে। ভোরের আগে তারা ঢোল বাজিয়ে ও ছন্দে ছন্দে ডাক দিয়ে পাড়া-মহল্লা ঘুরে মানুষকে সেহরির জন্য জাগিয়ে তোলেন। তুরস্কে এই ঢোলবাদকেরা প্রায়ই উসমানি আমলের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেন। ইন্দোনেশিয়ায় সেহরি ও ইফতারের সময় জানান দিতে ব্যবহৃত হয় বড় ঢোল, যা বেদুগ নামে পরিচিত। ৪. সেহরি ও ইফতারে নগর ঘোষক বা নাফার ঢোলের পাশাপাশি কিছু দেশে সেহরির বার্তা পৌঁছে দেন নগর ঘোষক। মরক্কোয় এদের বলা হয় নাফার। আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা চালু হওয়ার আগে তারা পাড়া-মহল্লা ঘুরে রোজা, সেহরি, নামাজের সময়সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিতেন। কোনো কোনো অঞ্চলে এই ভূমিকা মেসাহারাতির সঙ্গে মিলেও যায়। ৫. হাগ আল লায়লা সংযুক্ত আরব আমিরাতে রমজানের আগে পালিত হয় হাগ আল লায়লা। শাবান মাসের ১৫ তারিখে অনুষ্ঠিত এই উৎসবের মাধ্যমে শুরু হয় রমজানের কাউন্টডাউন। শিশুরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গান গায় এবং মিষ্টি ও বাদাম সংগ্রহ করে। এই আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে দানশীলতা ও সামাজিক বন্ধনের শিক্ষা দেওয়া হয়। ৬. পূর্বপুরুষের স্মরণ ও সম্মিলিত স্নান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলমানের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় রমজান ঘিরে রয়েছে নানা রীতি। এর মধ্যে অন্যতম নগাবুবুরিত। এতে ইফতারের আগে বিকেলের সময় বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে কাটানো হয়—পার্কে হাঁটা, ধর্মীয় আলোচনা শোনা কিংবা খাবারের দোকানে ভিড় করা এই রীতির অংশ। জাভা অঞ্চলে রমজানের শেষ দিকে আয়োজন করা হয় তাকবিরান মিছিল। তরুণেরা হাতে লণ্ঠন নিয়ে আল্লাহর প্রশংসায় তাকবির ধ্বনি দিতে দিতে রাস্তায় বের হন। রমজানের আগে পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারতের রীতি রয়েছে, যা নিয়াদরান নামে পরিচিত। জাকার্তাসহ বিভিন্ন এলাকায় এটি শ্রদ্ধা ও স্মরণের অংশ হিসেবে পালন করা হয়। এ ছাড়া রোজা শুরুর এক-দুদিন আগে পাডুসান নামে একটি প্রথা রয়েছে, যেখানে মানুষ প্রাকৃতিক ঝরনা, নদী বা জলাশয়ে সম্মিলিতভাবে গোসল করে আত্মশুদ্ধির অনুভূতি লাভ করে। ৭. চাঁদ রাত চাঁদ রাত অর্থ চাঁদের রাত। এটি দক্ষিণ এশিয়ায় ঈদুল ফিতরের আগের রাতের একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন। নতুন চাঁদ দেখার মাধ্যমে রমজানের সমাপ্তি এবং শাওয়াল মাসের সূচনা হয়। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে মানুষ খোলা জায়গায় জড়ো হয়ে চাঁদ দেখেন, একে অপরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। নারীরা মেহেদি লাগান, ঘরে ঘরে তৈরি হয় ঈদের মিষ্টি, আর শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় জমে ওঠে বাজার। দেশভেদে রমজানের রীতি ভিন্ন হলেও এর মূল চেতনা এক—সংযম, ইবাদত ও মানবিকতা। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মাঝেও পবিত্র রমজান সারা বিশ্বের মুসলমানদের এক সুতোয় বাঁধে।
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয় স্তম্ভ হলো সাওম বা রোজা। পবিত্র রমজান মাসে সুস্থ-সবল প্রত্যেক মুসলিমের জন্য রোজা রাখা ফরজ। তবে শারীরিক অসুস্থতা, সফর বা নারীদের ঋতুস্রাবের কারণে অনেক সময় রমজানের আবশ্যকীয় রোজা কাজা হয়ে যায়। এগুলো পরবর্তীতে আদায়ের সুযোগ রয়েছে। কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, “তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ হবে বা সফরে থাকবে, সে অন্যান্য দিনে সংখ্যা পূরণ করবে। আর যাদের জন্য তা কষ্টকর হবে, তাদের কর্তব্য ফিদ্যা প্রদান করা।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৪) শরিয়ত অনুসারে, কাজা রোজা আদায়ের জন্য ধরা-বাঁধা কোনো সময় নেই। যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে এটি আদায় করা যায়, তবে শওয়াল মাস থেকে শুরু করে পরবর্তী রমজানের আগের মাস শাবান পর্যন্ত এটি বিশেষভাবে সুপরামর্শ। বিশেষ করে চলমান রজব মাসের পর শাবান মাসে কাজা রোজা আদায়ের শেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, চারটি মাস সম্মানিত—জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব। শাবান মাসের গুরুত্বও অপরিসীম। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, রমজান মাসের সওমের কাজা আদায় শাবান মাসে সম্পন্ন করা হতো। নবীজির (সা.) ব্যস্ততার কারণে অন্য কোনো মাসে কাজা রোজা আদায়ের সুযোগ পাওয়া যেত না। (মেশকাত, হাদিস: ২০৩০; সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮২৬) বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, শরিয়তসম্মত কারণে রমজানের কাজা রোজা থাকলে শাবানের দিনগুলোতে তা সম্পূর্ণ করা উচিত, যাতে পরবর্তী রমজান শুরু হওয়ার আগে সমস্ত ফরজ রোজা আদায় করা যায়।
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক : রোজায় ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে সরকার এ বছর বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণে পণ্য আমদানি করা হয়েছে এবং রোজাকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে নিরাপদ মজুত। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম কম থাকায় দেশের বাজারেও জোগান ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। এর প্রভাবে শবেবরাতের পর থেকে রোজার নিত্যপণ্যের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে রোজায় বেশি ব্যবহৃত কয়েকটি পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। পেঁয়াজ, খেজুর, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেল কেজিপ্রতি ৫ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে দুধের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিকেজি দুধ কিনতে ক্রেতাকে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। এসব কারণে রমজানে পণ্যমূল্য বাড়তে পারে—এমন শঙ্কা প্রকাশ করছেন ভোক্তারা। রাজধানীর কাওরানবাজার, নয়াবাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার ও জিনজিরা বাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯৫ টাকায়, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১১৫ থেকে ১৩০ টাকা। ভরা মৌসুমে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬৫ টাকায়, যেখানে গত বছর একই সময়ে দাম ছিল প্রায় ৫৫ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকায়, যা গত বছর রোজার আগে ছিল ১৭৬ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ১৮৫ টাকায়। সরু মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা কেজিতে, যা গত বছর ছিল ১৪০ টাকা। মাঝারি দানার মসুর ডাল ১২০ টাকা এবং মোটা দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়। অন্যদিকে, চিনির দাম কিছুটা কমেছে। খুচরা বাজারে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০৫ টাকায়, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১২৫ টাকা। তবে গুঁড়া প্যাকেটজাত দুধের দাম বেড়েছে। ডিপ্লোমা ব্র্যান্ডের দুধ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯২০ টাকায়, যা গত বছর রোজার আগে ছিল ৮৪০ টাকা। কাওরানবাজারে বাজার করতে আসা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “এবার শবেবরাতের আগে ও পরে বাজারে হঠাৎ করে দাম বাড়েনি। সরবরাহও ভালো। তবে গত বছরের তুলনায় কিছু পণ্যের দাম বেশি থাকায় সামনে কী হবে তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।” কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “রমজানে পণ্যের দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের দুর্বল আইন প্রয়োগ। বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য থাকা সত্ত্বেও যদি দাম বাড়ে, তাহলে তদারকি বাড়াতে হবে এবং অনিয়মকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।” বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “এ বছর রমজানে কিছু পণ্যের দাম কমবে। গত বছরের তুলনায় নিত্যপণ্যের গড় আমদানি প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি হয়েছে। এই সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় গতবারের চেয়ে এবারের রমজান ভোক্তাদের জন্য বেশি স্বস্তিদায়ক হবে। কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা