সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

৬০ দিনের মধ্যে চুক্তি না হলে হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ১৩:১৩
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যে স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো না হলে হরমুজ প্রণালিতে এককভাবে টোল বা শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র নিজ উদ্যোগে এই পদক্ষেপ নেবে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুদ্ধবিরতির সময়কাল বা পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে এই প্রণালিতে কোনো টোল দিতে হবে না। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে টোল আরোপ করবে।

 

তিনি আরও বলেন, চুক্তি না হলে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র অতীতে, বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে যে নিরাপত্তা ও সহায়তা দিয়ে আসছে, তার ব্যয় তুলতে এই টোল আরোপ করা হতে পারে। তার দাবি অনুযায়ী, এই নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সামরিক উপস্থিতি ও অভিযানের মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা হচ্ছে।

 

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প যখন এই হুঁশিয়ারি দেন, তখন ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, লেবাননে ইসরায়েলের নতুন হামলার পর এই নৌপথ আবারও বন্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

 

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, জুনের শুরুতে একটি গোপন অভিযানের মাধ্যমে এই জলপথ দিয়ে ২০০টিরও বেশি জাহাজে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল নিরাপদে পরিবহন করা হয়েছে।


হরমুজ প্রণালি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধের আগের সময়ে বিশ্বের দৈনিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। পরবর্তী সময়ে এই পথ ঘিরে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো একাধিকবার আলোচনা করলেও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেনি। বিভিন্ন সময়ে এই নৌপথে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোরের প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করা হয়।

 

গত বুধবার সই হওয়া সমঝোতা স্মারকে ১৪ দফা বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা যায়। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।

 

শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স দাবি করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে। তার মতে, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার ছিল এবং সেটি সম্পন্ন হয়েছে।


অন্যদিকে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে ভিন্ন অবস্থান জানানো হয়। লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করার ঘোষণা দেয় তারা। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে এবং জাহাজ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত জানায়।

 

চলমান পরিস্থিতির মধ্যে রোববার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে। আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিত্ব করবেন পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
জীবনের সঞ্চয় দিয়ে কেনা স্বপ্নের বাড়ি নিয়ে বিপাকে জর্জিয়ার এক দম্পতি
সব পাওনা শোধ করে স্বপ্নের বাড়ি কিনেছিলেন, এক বছর পর ২০ হাজার ডলারের বকেয়া দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় জীবনের প্রথম স্বপ্নের বাড়ি কিনে চরম বিপাকে পড়েছেন এক দম্পতি। বাড়ি কেনার নথিপত্রে কোনো ধরনের বকেয়া না থাকার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও, হঠাৎ করেই স্থানীয় হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এইচওএ) তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ২০ হাজার ডলারের বিলের অভিযোগ এনে বাড়িটি বাজেয়াপ্ত (ফোরক্লোজার) করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তাতিয়ানা পিমেন্টেল নামের ওই নারী আমেরিকায় ২৫ বছর কাটানোর পর ২০২৪ সালে ডেকাব কাউন্টির হোয়াইটহল ফরেস্ট কমিউনিটিতে নিজের জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে একটি টাউনহাউস কিনেছিলেন। কিন্তু এক বছর না পেরোতেই হোয়াইটহল ফরেস্ট ইস্ট কন্ডোমিনিয়াম অ্যাসোসিয়েশনের এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ তাদের পথে বসার উপক্রম করেছে।   আটলান্টা নিউজ ফার্স্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে আট হাজার ডলারের বকেয়া দাবি করা হলেও মাসিক ফি ও আইনি খরচ মিলিয়ে তা এখন ২০ হাজার ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। অবাক করা বিষয় হলো, তাতিয়ানা বাড়িটির মালিক হয়েছেন দুই বছরেরও কম সময় ধরে, অথচ তাকে চার বছরের বকেয়া পরিশোধ করতে বলা হচ্ছে! বাড়ি কেনার সময় সরকারি নথিতে এইচওএ-এর ব্যালেন্স শূন্য ছিল এবং ২০২১ সালেই এই অ্যাসোসিয়েশনটি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল বলে জানা যায়। কিন্তু ২০২৪ সালে ডিন হার্ড নামের এক ব্যক্তি কোনো আনুষ্ঠানিক নির্বাচন বা ভোটাভুটি ছাড়াই নিজেকে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এটি পুনরায় চালু করেন, যা নিয়ে স্থানীয় অন্য বাসিন্দাদের মাঝেও চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে।   আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রথমে কোনো আইনজীবী না পেলেও পরবর্তীতে ডেকাব প্রো বোনো-এর ক্যান্ডেস স্নিড নামের একজন আইনজীবী বিনা পারিশ্রমিকে তাদের পক্ষে লড়তে রাজি হন। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর আদালতে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। সমস্যা সমাধানে তাতিয়ানার টাইটেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি ৯ হাজার ৬০০ ডলারের একটি চেক দিলেও অ্যাসোসিয়েশনটি বাড়তি কয়েক হাজার ডলার আইনি ফি দাবি করে বসে আছে। এদিকে, পুরো হোয়াইটহল ফরেস্ট কমিউনিটিই এক নজিরবিহীন আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত। তাদের পানির বিল বাবদ ৫১ লাখ ডলার এবং আবর্জনা পরিষ্কার বাবদ আরও ২৪ হাজার ডলার বকেয়া রয়েছে। বর্তমান নেতৃত্বের ওপর আস্থাহীনতার কারণে কমিউনিটির প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ মাসিক চাঁদা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। উদ্ভূত এসব সমস্যার সমাধানে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্য সম্প্রতি এইচওএ-এর ওপর নজরদারি বাড়াতে নতুন একটি আইন পাস করলেও, তা ২০২৭ সালের জানুয়ারির আগে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৯:১২
টেক্সাসে আইসিই এজেন্টের ৫ রাউন্ড গু লি তে গুরুতর আহত ব্যক্তি, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য

টেক্সাসে আইসিই এজেন্টের ৫ রাউন্ড গু লি তে গুরুতর আহত ব্যক্তি, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য

৫৪ হাজার ডলারের এইচ-১বি ইন্টার্নশিপ, যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কের কেন্দ্রে ভার্জিনিয়া টেক

৫৪ হাজার ডলারের এইচ-১বি ইন্টার্নশিপ, যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কের কেন্দ্রে ভার্জিনিয়া টেক

অ্যামাজন প্রাইমের যোগ্য গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পর্যন্ত রিফান্ড

প্রাইম সাবস্ক্রাইবারদের অ্যাকাউন্টে আসছে ২০০ ডলার, কারা পাবেন এই অর্থ

কিশোরী দারিয়া সারকভের স্মরণে ব্যস্ত সড়কে রাখা সিটি বাইকের পাশে ফুল ও বেলুন (প্রতীকী ছবি)
সাইকেল চালাতে ভালোবাসত দারিয়া, নিউইয়র্কে সেই সিটি বাইকেই হলো শেষ যাত্রা

সাইকেল চালাতে খুব ভালোবাসত ১৫ বছরের দারিয়া সারকভ। নিয়মিত সাইকেল চালানোর স্মৃতির মধ্যে সিটি বাইকে তোলা একটি ছবিও রয়েছে তার। কিন্তু এক বছর পর সেই সিটি বাইকেই চড়ে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল কিশোরীটি।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ম্যানহাটনের ইস্ট ভিলেজ এলাকায় ১৪তম স্ট্রিটে ১৩ বছর বয়সী এক বন্ধুর সঙ্গে সিটি বাইকে যাচ্ছিল দারিয়া। এ সময় একটি ভারী নির্মাণকাজের ট্রাকের সঙ্গে তার সাইকেলের সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত দারিয়াকে উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলেই প্রায় ১০ মিনিট ধরে বাঁচানোর চেষ্টা করেন জরুরি সেবাকর্মীরা। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।   দুর্ঘটনায় দারিয়া ও তার সাইকেল ভারী গাড়িটির নিচে আটকে যায় বলে জানা গেছে। তার সঙ্গে থাকা ১৩ বছর বয়সী বন্ধুটিও আহত হয়েছে এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক ঘটনাস্থলেই ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দারিয়ার পরিণতি বুঝতে পেরে চালক কান্নায় ভেঙে পড়েন।   দারিয়ার পরিবারের এক বন্ধু ক্রিস জ্যানসেন জানিয়েছেন, পরিবারের জন্য এই কঠিন সময়ে সহায়তা করতে তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে। দারিয়ার শেষকৃত্যসহ অন্যান্য খরচ এবং পরিবারকে সহযোগিতার জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। রোববার সকাল পর্যন্ত তহবিলে ৬২ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি জমা পড়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারিয়ার সাইকেল চালানোর বেশ কিছু ছবি রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তোলা একটি ছবিতে তাকে সিটি বাইকে দেখা যায়। দুর্ঘটনার প্রায় এক বছর আগে তোলা সেই ছবিটি এখন পরিবারের কাছে দারিয়ার আনন্দময় সময়ের একটি বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে উঠেছে।   দারিয়ার যমজ বোন গ্রেটার পাশেও দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন পরিবারের বন্ধুরা। পরিবারের বন্ধু জ্যানসেন দারিয়ার পরিবারকে এই কঠিন সময়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।   পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৭:৪১
নিউইয়র্কে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেয়র জোহরান মামদানি

জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে নিউইয়র্কে মুখোমুখি ট্রাম্প-মামদানি, বৈঠক গ্রেসি ম্যানশনে

অবৈধ ভোটের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

অবৈধ ভোট ও নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করল বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অ-মার্কিন নাগরিকের ভোট দেওয়ার অভিযোগ

গ্রিন কার্ডধারীর বিরুদ্ধে অবৈধ ভোটের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রে প্তার মেক্সিকান নাগরিক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
রিয়াদে হামলার পর নতুন শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষের ধারণা, স্বচ্ছন্দে অবসরজীবন কাটাতে প্রায় ১২ লাখ ডলার সঞ্চয় থাকা দরকার। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত শ্রোডার্সের এক জরিপেও এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে অবসরের পর এই অর্থ কতদিন চলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে বসবাস করছেন তার ওপর।   ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মানিলায়ন ১২ লাখ ডলার অবসর সঞ্চয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি কত বছর চলতে পারবেন, তার একটি হিসাব করেছে। এতে দুটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে—একটি ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রতি মাসে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পাবেন, অন্য ক্ষেত্রে পাবেন না।   হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা। সেখানে ৬৭ বছর বয়সে অবসর নিলে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ৪৪ দশমিক ৬ বছর চলতে পারে। অর্থাৎ সঞ্চয় শেষ হতে পারে ১১১ বছর বয়সের কাছাকাছি গিয়ে। সোশ্যাল সিকিউরিটি না থাকলেও এই অর্থ সেখানে প্রায় ২৩ দশমিক ৪ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে।   এরপর রয়েছে আলাবামা, মিসিসিপি, কানসাস ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। এসব রাজ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলার যথাক্রমে প্রায় ৪৩ দশমিক ১, ৪২, ৪০ দশমিক ৮ ও ৪০ দশমিক ৫ বছর চলতে পারে। ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, মিসৌরি, টেনেসি ও আরকানসাসেও একই অর্থ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় চলার হিসাব পাওয়া গেছে। টেনেসিতে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ প্রায় ৩৯ দশমিক ৭ বছর এবং সুবিধা ছাড়া প্রায় ২২ বছর চলতে পারে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোতে একই পরিমাণ অর্থ অনেক দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানিলায়নের বিশ্লেষণে হাওয়াইকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবস্থানগুলোর একটি হিসেবে পাওয়া গেছে। সেখানে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা থাকলেও ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ১৩ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে। হাওয়াইয়ের পর ম্যাসাচুসেটস, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, আলাস্কা ও নিউইয়র্কেও অবসরের নির্দিষ্ট বাজেট তুলনামূলক দ্রুত শেষ হওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে।   তবে ১২ লাখ ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছানোও অনেক আমেরিকানের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। শ্রোডার্সের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগে তারা সাত অঙ্কের সঞ্চয় করতে পারবেন।   সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়েও অনিশ্চয়তা   এদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালের দিকে কর্মসূচিটির তহবিল সংকটে পড়তে পারে এবং সংস্কার না হলে সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আইনপ্রণেতারা আলোচনা করছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন ও বিল ক্যাসিডি এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর তহবিলকে অন্তত ৫০ বছর আর্থিকভাবে টেকসই রাখার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের পথ তৈরি করা।   ক্যাসিডি ও সিনেটর টিম কেইন-এর আরেকটি প্রস্তাবে ৭৫ বছরের জন্য শেয়ারবাজারসহ তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক অর্থ ট্রেজারি বিভাগের অতিরিক্ত ঋণের মাধ্যমে জোগানের কথা রয়েছে।   অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি মোরেনো সোশ্যাল সিকিউরিটির বেতনভিত্তিক করের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত এই কর প্রযোজ্য। তাদের যুক্তি, উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর করের আওতা বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যেতে পারে।   তবে রক্ষণশীল কয়েকটি সংগঠন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, কর বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে মজুরি ও কর্মসংস্থানে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৬:১৭
১২ লাখ ডলারের সঞ্চয়ে স্টেটভেদে বদলে যাচ্ছে অবসরজীবনের হিসাব

১২ লাখ ডলারে অবসরজীবন, কোনো স্টেটে ৪৪ বছর আবার কোথাও মাত্র ১৩ বছর

ভুয়া আমেরিকান ফুটবলার সেজে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

ভুয়া ফুটবলার সেজে ১৩ কোটি টাকার প্র তা র ণা, সামনে এল আরও ৩৫ নারী

ট্রাম্পের ‘ট্রায়াম্ফাল আর্চে’ থাকবে ড্রোন ও স্নাইপার

স্মৃতিস্তম্ভের বদলে সামরিক কমপ্লেক্স! ট্রাম্পের আর্চে থাকবে ড্রোন-স্নাইপার

0 Comments