অভিবাসী

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পথে জোয়ারের কবলে পড়া ১৪০ অভিবাসীকে উদ্ধার করল ফ্রান্স
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পথে জোয়ারের কবলে পড়া ১৪০ অভিবাসীকে উদ্ধার করল ফ্রান্স

জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টাকালে প্রায় ১৪০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে ফ্রান্সের মেরিটাইম রেসকিউ টিম। শনিবার ভোরে একাধিক উদ্ধারকারী নৌকার সমন্বয়ে পরিচালিত এক জটিল ও দীর্ঘ অভিযানে তাদের নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনা হয়।   ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার সকালে নরম্যান্ডি উপকূলের ডিয়েপ বন্দরের দিকে একটি অভিবাসীবাহী নৌকা যেতে দেখে সেন্ট-ওবিন-সুর-মেরে অবস্থিত নজরদারি স্টেশন। এরপর দুটি টহল নৌকার সাহায্যে সেটির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। শুক্রবার গভীর রাতে বার্ক-সুর-মার উপকূলের কাছে 'ট্যাক্সি-বোটের' অপেক্ষায় থাকা প্রায় ৪০ জন অভিবাসী জোয়ারের পানিতে আটকা পড়েন। বিপদ বুঝতে পেরে উদ্ধারকারী দল দ্রুত তাদের সৈকতে নিয়ে আসে এবং ফায়ার ও রেসকিউ সার্ভিসের কাছে হস্তান্তর করে।   রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই নৌকাটি আবারও উত্তর দিকে যাত্রা শুরু করে এবং অন্য একটি সৈকতে পৌঁছায়। সেখানে লাইফ জ্যাকেট পরা আরও ৮২ জন নৌকায় ওঠার অপেক্ষায় ছিলেন, যদিও ছোট ওই নৌকায় আগে থেকেই প্রায় ২০ জন উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অপেক্ষমাণ অভিবাসীরা শেষ পর্যন্ত নৌকায় না ওঠার সিদ্ধান্ত নেন এবং ফরাসি উদ্ধারকর্মীরা তাদের ডাঙায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন।   অবশেষে রাত সাড়ে ৩টার দিকে নৌকায় থাকা যাত্রীরাও চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা বাতিল করেন। এই উদ্ধার অভিযানের পর হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।   ফরাসি মেরিটাইম প্রিফেকচার শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে মরিয়া এই অভিবাসীরা চরম জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া সাধারণত ফরাসি উদ্ধারকারীদের সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই এসব ভঙ্গুর নৌকায় জোর করে উদ্ধার অভিযান চালালে নৌকাডুবির প্রবল ঝুঁকি থাকে, তাই সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়।   সম্প্রতি চ্যানেল পাড়ি দিতে ব্যবহৃত এই ছোট নৌকাগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত সোমবারেই একটি ১৫ মিটার লম্বা নৌকায় রেকর্ড ২৩০ জন যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন, যা মাঝপথে ভেঙে গিয়ে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ট্র্যাজেডির জন্ম দিতে পারত বলে সতর্ক করেছেন ফরাসি উদ্ধারকর্মীরা।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর হাতে খু ন বৃদ্ধ, নিউসমকে দুষলেন ট্রাম্পের ‘বর্ডার জার’
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর হাতে খু ন বৃদ্ধ, নিউসমকে দুষলেন ট্রাম্পের ‘বর্ডার জার’

ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের বাড়ির সামনে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় রাজ্যটির গভর্নর গ্যাভিন নিউসমকে তীব্র আক্রমণ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'বর্ডার জার' টম হোম্যান। গত সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়াতে টড স্টুয়ার্ট (৬৮) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিজ বাড়ির লনে মর্মান্তিকভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মার্কোস ইরিয়ার্তে-ভালদেজ (৩৬) নামের এক অবৈধ ভেনেজুয়েলান অভিবাসী, যার কাছে স্পেনের নাগরিকত্বও রয়েছে।   'ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস'-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টম হোম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনীতির শিকার না হলে ওই বৃদ্ধকে আজ প্রাণ হারাতে হতো না। ক্যালিফোর্নিয়ার 'স্যাংচুয়ারি সিটি' বা আশ্রয়দাতা শহরের নীতিকে দায়ী করে তিনি বলেন, "গভর্নর নিউসম এবং ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন জননিরাপত্তার চেয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি তাদের রাজনৈতিক আক্রোশকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যার ফলশ্রুতিতেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।" হোম্যান আরও জানান, গত এক দশকে এমন শত শত ঘটনার প্রমাণ তার কাছে রয়েছে।   সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই ভয়াবহ হামলার ঠিক আগের দিনই অভিযুক্ত ইরিয়ার্তে-ভালদেজকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এর আগে চুরির এক মামলায় গৃহবন্দী থাকার শর্ত লঙ্ঘন করা সত্ত্বেও নিউসমের নিয়োগকৃত এক বিচারক তাকে মুক্তি দেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি ক্যাডিল্যাক এসইউভি থেকে নেমে প্রটেক্টিভ ভেস্ট পরা ওই ব্যক্তি স্টুয়ার্টের ওপর আচমকা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। স্টুয়ার্ট মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যন্ত্রণায় চিৎকার করার সময়ও তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি এবং হামলাকারীর মধ্যে পূর্বের কোনো পরিচয় ছিল না।   এই ঘটনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর ব্যর্থতাকে দায়ী করায় ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেছেন হোম্যান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে তারা যথাযথ তদন্ত করে ওই ব্যক্তিকে বহিষ্কারের জন্য একটি ডিটেইনার ইস্যু করেছিলেন। তবে গভর্নরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে উল্টো ফেডারেল কর্তৃপক্ষের ওপরই দায় চাপিয়েছে। তাদের দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো আইন ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে অভিবাসন আইন প্রয়োগে বাধা দেয় না। ২০০৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এই অপরাধীর বিরুদ্ধে এর আগেও চুরি, বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং স্ত্রীকে মারধর করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাকে ১.১ মিলিয়ন ডলারের জামিনে আটকে রাখা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
২. ম্যানহাটনে চার সদস্যের পরিবারের আবাসন খরচ মেটানো কঠিন। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বছরে ১ লাখ ডলার আয়েও কেন বাংলাদেশীদের সঞ্চয় করা কঠিন!

নিউইয়র্কে বছরে ১ লাখ ডলার আয় শুনতে বড় অঙ্ক মনে হলেও চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য এই অর্থে সব খরচ সামলে নিয়মিত সঞ্চয় করা কঠিন হতে পারে। বাসাভাড়া, ট্যাক্স, খাবার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, চাইল্ড কেয়ার ও যাতায়াতের খরচ মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন যে, ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী নিউইয়র্ক সিটির কিছু এলাকায় চার সদস্যের পরিবারের শুধু মৌলিক প্রয়োজন মেটাতেই বছরে ১ লাখ ডলারের বেশি আয়ের প্রয়োজন হতে পারে।   ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটরের ২০২৬ সালের তথ্য এই বাস্তবতার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে। ম্যানহাটনে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের পরিবারে একজন মাত্র কর্মজীবী হলে মৌলিক জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে ঘণ্টায় প্রায় ৫৮ ডলার আয় প্রয়োজন বলে হিসাব করা হয়েছে। ফুলটাইম কাজের হিসাবে এটি বছরে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডলার।   একই পরিবারের দুই প্রাপ্তবয়স্কই কাজ করলে ম্যানহাটনে প্রত্যেকের ঘণ্টায় প্রায় ৪০.৬১ ডলার আয় প্রয়োজন। দুজনের সম্মিলিত বার্ষিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার ডলার। অর্থাৎ বছরে ১ লাখ ডলারের পারিবারিক আয় অনেক ক্ষেত্রে সঞ্চয়ের আগেই মৌলিক ব্যয় মেটাতে চাপে পড়ে যেতে পারে।   বাংলাদেশি অধ্যুষিত কুইন্সেও পরিস্থিতি খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। এমআইটির ২০২৬ সালের হিসাবে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের পরিবারে একজন কর্মজীবী হলে ঘণ্টায় প্রায় ৫২.৮৪ ডলার আয় প্রয়োজন। বছরে এর পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ডলার। দুই প্রাপ্তবয়স্কই কাজ করলে প্রত্যেকের প্রয়োজনীয় আয় ঘণ্টায় প্রায় ৩৭.৬১ ডলার, অর্থাৎ পরিবারের সম্মিলিত আয় বছরে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ডলার।   এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এমআইটির লিভিং ওয়েজ হিসাব কোনো বিলাসবহুল জীবনযাত্রার বাজেট নয়। খাবার, বাসস্থান, পরিবহন, চিকিৎসা, চাইল্ড কেয়ার, ট্যাক্সসহ পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে কত আয় দরকার, তার একটি আনুমানিক হিসাব এটি। ফলে বাড়ি কেনার ডাউন পেমেন্ট, বড় অঙ্কের সঞ্চয়, বিদেশ ভ্রমণ কিংবা ব্যয়বহুল জীবনযাত্রা এই হিসাবের মূল লক্ষ্য নয়।   বছরে ১ লাখ ডলার বেতন মানে মাসে গ্রস ইনকাম প্রায় ৮ হাজার ৩৩৩ ডলার। কিন্তু এই পুরো অর্থ পরিবারের হাতে আসে না। ফেডারেল ইনকাম ট্যাক্সের পাশাপাশি নিউইয়র্ক স্টেট ইনকাম ট্যাক্স দিতে হয়। নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের আবার আলাদা সিটি ইনকাম ট্যাক্সও রয়েছে। এর সঙ্গে সোশ্যাল সিকিউরিটি ও মেডিকেয়ার পেরোল ট্যাক্স কেটে নেওয়া হয়। পরিবারের ফাইলিং স্ট্যাটাস, সন্তান, বিভিন্ন ডিডাকশন ও ক্রেডিটের কারণে প্রত্যেকের প্রকৃত টেক হোম পে আলাদা হয়।   নিউইয়র্ক সিটির নিজস্ব ইনকাম ট্যাক্স ব্যবস্থাও পরিবারের হাতে থাকা অর্থের ওপর প্রভাব ফেলে। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্সের প্রকাশিত হার অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির ব্যক্তিগত ইনকাম ট্যাক্সের হার আয়ের স্তর ও ফাইলিং স্ট্যাটাস অনুযায়ী প্রায় ৩ শতাংশের কিছু বেশি থেকে ৩.৮৭৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।   এরপর আসে হাউজিং। এমআইটির ২০২৬ সালের হিসাবে ম্যানহাটনে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের পরিবারের জন্য বার্ষিক হাউজিং ব্যয় প্রায় ৪০ হাজার ৮৭৭ ডলার ধরা হয়েছে। অর্থাৎ মাসে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ ডলার। কেবল বাসস্থানের খরচই ১ লাখ ডলার গ্রস আয়ের বড় একটি অংশ নিয়ে নিতে পারে।   সন্তান ছোট হলে সবচেয়ে বড় চাপগুলোর একটি চাইল্ড কেয়ার। দুই অভিভাবকই কাজ করেন এমন দুই সন্তানের পরিবারের জন্য ম্যানহাটনে এমআইটির হিসাবে বার্ষিক চাইল্ড কেয়ার ব্যয় প্রায় ৩২ হাজার ডলার। এর সঙ্গে বছরে খাবারের জন্য প্রায় ২০ হাজার ৮০০ ডলার, চিকিৎসা ব্যয়ে প্রায় ১২ হাজার ৭০০ ডলার এবং পরিবহনে প্রায় ৭ হাজার ৯০০ ডলারের হিসাব রয়েছে।   এই কারণেই একই ১ লাখ ডলার বেতনের আর্থিক মূল্য পরিবারভেদে সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। সন্তানহীন একজন সিঙ্গেল ব্যক্তির জন্য যে আয় তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যের হতে পারে, দুই সন্তানসহ একটি পরিবারের ক্ষেত্রে একই অর্থ যথেষ্ট নাও হতে পারে। আবার পরিবারের দুজন আয় করছেন কি না, চাইল্ড কেয়ার প্রয়োজন কি না, কোথায় বাসা নেওয়া হয়েছে এবং চাকরির মাধ্যমে হেলথ ইন্স্যুরেন্স কতটা কভার হচ্ছে, তার ওপর মাসিক বাজেট ব্যাপকভাবে বদলে যায়।   এমনকি নিউইয়র্কের মধ্যেও পার্থক্য বড়। ম্যানহাটন ও কুইন্সের জীবনযাত্রার ব্যয় এক নয়, আবার নিউইয়র্ক সিটির বাইরের অনেক কাউন্টিতে একই পরিবারের প্রয়োজনীয় আয় আরও কম হতে পারে। ফলে শুধু বার্ষিক বেতন দিয়ে একজন পরিবার কতটা স্বচ্ছল, তা নির্ধারণ করা কঠিন।   বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের ক্ষেত্রে আরও কিছু আলাদা আর্থিক অগ্রাধিকার থাকতে পারে। দেশে পরিবারকে অর্থ পাঠানো, সন্তানের শিক্ষা, ভবিষ্যতে বাড়ি কেনার জন্য ডাউন পেমেন্ট জমানো কিংবা আত্মীয়স্বজনের বিভিন্ন দায়িত্ব বহনের কারণে মাসিক বাজেটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এসব ব্যয় পরিবারভেদে আলাদা এবং সব বাংলাদেশি পরিবারের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়।   সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে বছরে ১ লাখ ডলার আয় কম নয়, কিন্তু চার সদস্যের পরিবারের জন্য এটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চ আয়ের নিশ্চিন্ত জীবন হিসেবে দেখার সুযোগও নেই। ২০২৬ সালের লিভিং ওয়েজ হিসাব বলছে, কুইন্স বা ম্যানহাটনের মতো এলাকায় দুই সন্তানসহ একটি পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর জন্যই পরিস্থিতিভেদে ১ লাখ ডলারের উল্লেখযোগ্য বেশি পারিবারিক আয় প্রয়োজন হতে পারে।   তাই নিউইয়র্কে ১ লাখ ডলার বেতনের আসল হিসাব শুধু পেচেকের অঙ্কে নয়। পরিবারে কয়জন সদস্য, কয়জন আয় করেন, কোথায় থাকেন, সন্তানদের চাইল্ড কেয়ার প্রয়োজন কি না এবং হাউজিং ও হেলথ কেয়ারে কত খরচ হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত সঞ্চয় থাকবে কি না সেটি নির্ধারণ করে মূলত এসব বিষয়ই।

তাবাস্সুম আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্মকর্তাদের দ্বারা এক ব্যক্তিকে আটক করার দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত
জুলাইয়ে আইসিইর রেকর্ড অভিযান, গ্রেফতার ৫১ হাজার অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইমিগ্রেশন অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। জুলাই মাসে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই প্রায় ৫১ হাজার অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছে। এক মাসে আইসিইর গ্রেফতারের হিসাবে এটি নতুন রেকর্ড। জুনে প্রায় ৪৩ হাজার গ্রেফতারের আগের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে জুলাইয়ের সংখ্যা।   দ্য ইনডিপেনডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জুলাইয়ে প্রায় ৫১ হাজার গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একাধিক ফেডারেল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে গ্রেফতার করেছে আইসিই।   ট্রাম্প প্রশাসনের বড় পরিসরের ডিপোর্টেশন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বাড়ানোর মধ্যেই এই রেকর্ড হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইসিইকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক গ্রেফতারের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি আগে বলেছে, আইসিইর কোনো আনুষ্ঠানিক গ্রেফতার কোটা নেই।   জুলাইয়ের অভিযান শুধু বাসাবাড়ি বা কর্মস্থলে সীমাবদ্ধ ছিল না। এয়ারপোর্ট, ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত বিভিন্ন অফিস এবং ট্রাফিক স্টপেও গ্রেফতার চালিয়েছে ফেডারেল এজেন্টরা। বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে এয়ারপোর্টে নজরদারি বাড়ানোর তথ্য সামনে এসেছে।   ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এয়ারপোর্টে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৪০ জন অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকো, মায়ামি ও মিসৌরির কানসাস সিটির এয়ারপোর্টে গেট ও টিকিট কাউন্টারের কাছেও ফেডারেল এজেন্টদের গ্রেফতার অভিযান চালানোর খবর পাওয়া গেছে।   তবে রেকর্ড গ্রেফতারের পাশাপাশি কাদের আটক করা হচ্ছে, তা নিয়েও বিতর্ক চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তাদের অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য অপরাধের রেকর্ড থাকা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়া। অন্যদিকে জুলাইয়ের শুরুর দিকের ডিটেনশন তথ্য বিশ্লেষণ করে স্টেটলাইন জানিয়েছিল, আইসিই হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের এক-তৃতীয়াংশেরও কমের ক্রিমিনাল কনভিকশন ছিল। দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, তারা ওই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।   জুলাইয়ের অভিযানকে ঘিরে ট্রাফিক স্টপও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। হিউস্টনে ৫২ বছর বয়সী মেক্সিকান নাগরিক লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো এবং মেইনে ২৫ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক জোয়ান সেবাস্তিয়ান গেরেরো এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে নিহত হন। দুটি ঘটনাই ট্রাফিক স্টপের সময় ঘটে।   গেরেরোর ঘটনায় ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বলেছে, জননিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কারণে একজন আইসিই অফিসার গুলি চালান। সালগাদো আরাউহোর ঘটনায় সংস্থাটির দাবি, আত্মরক্ষায় গুলি চালানো হয়েছিল। এসব ঘটনার পর ট্রাফিক স্টপ ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন গ্রেফতার নিয়ে সমালোচনা ও প্রতিবাদ বাড়ে।   দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাণহানির পর ট্রাফিক স্টপ সাময়িকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্রুত সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। জুলাইয়ের মাঝামাঝি তিনি ট্রাফিক স্টপকে আইসিইর গুরুত্বপূর্ণ এনফোর্সমেন্ট টুল হিসেবে উল্লেখ করে এটি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন।   চলতি বছরের শুরুতে মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে আইসিইর অভিযান কিছুটা ধীর হয়েছিল। পরবর্তী মাসগুলোতে আবার গ্রেফতার বাড়তে শুরু করে। জুনে ৪৩ হাজারের বেশি মানুষকে আইসিই ডিটেনশনে নেওয়ার পর জুলাইয়ে সেই সংখ্যাও ছাড়িয়ে যায়।   রেকর্ড গ্রেফতারের পেছনে আইসিইর জনবল ও অর্থায়ন বৃদ্ধিকেও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফেডারেল সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নতুন হাজারো এজেন্ট নিয়োগ এবং ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের ফলে দেশজুড়ে অভিযান আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হয়েছে।   জুলাইয়ের ৫১ হাজার গ্রেফতার দেখাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট এখন আরও বড় পরিসরে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে এয়ারপোর্ট ও ট্রাফিক স্টপের মতো জায়গায় অভিযান বিস্তৃত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য আইসিইর এনফোর্সমেন্টের পরিধিও আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত হয়েছে।

সিদ্দিকুর রহমান আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসীদের ওপর জরিমানা আরোপ করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
দেশ ছাড়ুন, না হলে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ডলার জরিমানা' মিশিগানের অভিবাসীর সামনে ট্রাম্পের কঠিন শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে চাপ তৈরির অংশ হিসেবে মিশিগানে বসবাসরত ৬৮ বছর বয়সী এক অভিবাসীর ওপর ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮৩৮ ডলারের জরিমানা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২০১২ সালে তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশনের আদেশ দেওয়া হলেও পরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগই সেই আদেশ কার্যকর স্থগিত রেখেছিল। এখন দেশ না ছাড়ার কারণ দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়েছেন তিনি।   এমলাইভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি তার অসুস্থ স্ত্রীর প্রধান দেখাশোনাকারী। তার স্ত্রী একজন মার্কিন নাগরিক। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে ওই অভিবাসীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ২০১২ সালে ডিপোর্টেশনের আদেশ হওয়ার পরও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তার রিমুভাল স্থগিত করেছিল। ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যান। কিন্তু চলতি বছর তাকে পাঠানো নোটিশে অভিযোগ করা হয়, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেননি। এর ভিত্তিতেই তার ওপর ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮৩৮ ডলারের জরিমানা ধার্য করা হয়।   ডেট্রয়েটের ইমিগ্রেশন আইনজীবী রিম খ্রাইজাত ওই ব্যক্তির পক্ষে জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিলের সঙ্গে তার স্ত্রীর চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীদের চিঠিও জমা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ওই নারী তার স্বামীর ওপর নির্ভরশীল এবং স্বামীই তার প্রধান পরিচর্যাকারী।   তবে আইনজীবীর দাবি, আইসিই আপিলে তুলে ধরা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়েই জরিমানার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার যখন একজন ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দিয়েছে, তখন পরবর্তী সময়ে সেই একই সময়ের জন্য তাকে বিপুল অঙ্কের জরিমানা করা কতটা যৌক্তিক।   এ ঘটনা শুধু মিশিগানের একজন অভিবাসীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ট্রাম্প প্রশাসন ডিপোর্টেশন অর্ডার থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা আরোপের নীতি জোরদার করেছে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে এসব জরিমানা মওকুফ করার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত আইসিই ডিপোর্টেশন অর্ডারের পরও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এক লাখ তিন হাজারের বেশি জরিমানার নোটিশ দিয়েছে। এসব জরিমানার সম্মিলিত পরিমাণ ৮৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি।   ট্রাম্প প্রশাসন স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ উৎসাহিত করতে সিবিপি হোম অ্যাপ ব্যবহার করছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, যোগ্য ব্যক্তিরা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে নির্দিষ্ট আর্থিক সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জরিমানা মওকুফের সুযোগ পেতে পারেন।   তবে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ও আইনজীবীদের একটি অংশ এই জরিমানা নীতির বিরুদ্ধে আদালতে গেছে। তাদের অভিযোগ, বিপুল অঙ্কের জরিমানা আরোপের প্রক্রিয়ায় যথাযথ আইনি সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে এটি মার্কিন সংবিধানের অতিরিক্ত জরিমানা নিষিদ্ধ করার বিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে একাধিক ফেডারেল মামলা চলছে।   মিশিগানের ওই অভিবাসীর ঘটনা এখন ট্রাম্প প্রশাসনের স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ নীতির বাস্তব প্রভাবের একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যাদের পুরোনো ডিপোর্টেশন অর্ডার রয়েছে কিন্তু বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাদের জন্য এ ধরনের জরিমানার নীতি নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
আইনজীবী আসমা আলী
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে মুসলিম হওয়ায় ইতিহাস গড়া নারী বিচারককে অপসারণের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম নারী মিউনিসিপ্যাল বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। গত ৫ আগস্ট ইয়েমেনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান ও পেশায় আইনজীবী আসমা আলী মিসিসিপির ডেল্টা অঞ্চলের বেনোয়েট শহরের বিচারক হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। চারশোরও কম বাসিন্দার এই ছোট শহরটিতে মিউনিসিপ্যাল বিচারকরা মূলত ছোটখাটো অপরাধ, শহরের আইন লঙ্ঘন এবং ট্রাফিক টিকিটের মতো বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি করে থাকেন। তবে আসমা আলীর এই ঐতিহাসিক নিয়োগ উদযাপনের বদলে তাকে এবং তার কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিদ্বেষ ও মিথ্যা তথ্যের বিস্তার ঘটেছে।   এই নিয়োগের পর থেকেই মিসিসিপির রক্ষণশীল রাজনীতিকদের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। স্টেট সিনেটর মাইকেল ম্যাকলেনডন প্রকাশ্যেই আসমা আলীকে বেঞ্চ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই রিপাবলিকান সিনেটর দাবি করেন যে তিনি 'মোহাম্মদের ওপর নয়, সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস রাখেন' এবং তার দায়িত্ব পালনের সময় মিসিসিপিকে কোনোভাবেই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ শহরে পরিণত হতে দেবেন না। পাশাপাশি, মিসিসিপির কৃষিমন্ত্রী ও গভর্নর পদপ্রার্থী অ্যান্ডি গিপসন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাজ্যে শরিয়া আইন নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।   সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজব আর ক্রমাগত হুমকির মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন বিচারক আসমা আলী। সমালোচনার জবাবে তিনি দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন, একজন আমেরিকান হিসেবে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন ও পড়াশোনা করেছেন এবং তিনি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানেরই প্রয়োগ করবেন। কোনো ধর্মীয় আইন প্রয়োগের ভিত্তিহীন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণেই কেন তাকে একজন বিচারক হিসেবে অযোগ্য ভাবা হবে। ধর্মীয় বিদ্বেষের এই ঘটনা দেশটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বিচারব্যবস্থায় যোগদানের পথ কতটা কণ্টকাকীর্ণ, সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার জন্য লাইনে দাঁড়ানো মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারালে যেসব সরকারি সহায়তা পেতে পারেন

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো মানেই আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের সরকারি সহায়তার সুযোগও শেষ হয়ে যাওয়া নয়। পরিস্থিতি, আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বসবাসের অঙ্গরাজ্য এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থার ওপর নির্ভর করে বেকার ব্যক্তি ও তার পরিবার বিভিন্ন সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে বেকারত্ব বীমা, স্বাস্থ্যবিমা সহায়তা, খাদ্য সহায়তা, চাকরি খোঁজা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং কিছু ক্ষেত্রে নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য নগদ সহায়তা।   তবে এসব কর্মসূচির যোগ্যতার নিয়ম এক নয়। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ফেডারেল আইন এবং ২০২৬ সালে কার্যকর বা পরিবর্তনশীল কিছু নিয়মের কারণে অভিবাসীদের ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা আরও জটিল হয়েছে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তাগুলোর একটি হলো বেকারত্ব বীমা বা ইউআই। এটি ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের যৌথ ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হলেও প্রতিটি অঙ্গরাজ্য নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী সুবিধা দেয়। সাধারণত নিজের দোষে নয়, যেমন কর্মী ছাঁটাই বা কাজ না থাকার কারণে চাকরি হারালে এবং নির্দিষ্ট সময়ে পর্যাপ্ত কাজ ও মজুরির ইতিহাস থাকলে বেকারত্ব বীমা পাওয়ার সুযোগ থাকে। কত টাকা এবং কতদিন এই সুবিধা পাওয়া যাবে, তা অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন।   অ-নাগরিকদের জন্যও বেকারত্ব বীমা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সুবিধা দাবি করার সময় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থাও যাচাই করতে পারে। ফলে গ্রিন কার্ডধারী বা বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকা অন্য কর্মীরা শুধু মার্কিন নাগরিক নন বলে বেকারত্ব বীমা থেকে বাদ পড়েন না।   চাকরি হারানোর পর যত দ্রুত সম্ভব যে অঙ্গরাজ্যে কাজ করতেন, সেই অঙ্গরাজ্যের বেকারত্ব বীমা কর্মসূচিতে আবেদন করা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু চাকরি হারিয়েছেন বলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধা পাওয়া যায় না। কাজের ইতিহাস, মজুরি এবং অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়।   চাকরির সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা চলে গেলে আরেকটি বড় সমস্যা তৈরি হয়। চাকরি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যবিমা হারালে স্বাস্থ্যবিমা বাজারের মাধ্যমে নতুন বিমা পরিকল্পনায় যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চাকরি ছাড়া, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া বা অন্য কোনো কারণে চাকরির স্বাস্থ্যবিমা হারালেও বিশেষ নিবন্ধন সময়সীমার আওতায় নতুন পরিকল্পনার জন্য আবেদন করা যায়। সাধারণত চাকরির স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ৬০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হয়। আয় কমে গেলে মাসিক প্রিমিয়াম কমানোর জন্য কর-ছাড় বা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতাও তৈরি হতে পারে।   কিছু পরিবারের ক্ষেত্রে মেডিকেইডও গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে। তবে মেডিকেইড পাওয়ার যোগ্যতা অঙ্গরাজ্য, আয়, পরিবারের পরিস্থিতি এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। ২০২৬ সালে মেডিকেইডের নিয়মেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ফেডারেল আইনের অধীনে নির্দিষ্ট কিছু প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, নির্দিষ্ট কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, সামাজিক সেবা বা শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার মতো শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। তবে কিছু মানুষ এসব শর্তের বাইরে থাকতে পারেন এবং অঙ্গরাজ্যভেদে বাস্তবায়নের সময়ও ভিন্ন হতে পারে।   চাকরি হারিয়ে পরিবারের আয় কমে গেলে খাবারের খরচ সামলানোর জন্য খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি বা স্ন্যাপের জন্যও আবেদন করা যেতে পারে। এটি সাধারণভাবে ‘ফুড স্ট্যাম্প’ নামে পরিচিত। স্ন্যাপের জন্য অঙ্গরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয় এবং আয়, সম্পদ ও পরিবারের সদস্যসংখ্যাসহ বিভিন্ন যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়। ২০২৫ সালের নতুন ফেডারেল আইনের পর স্ন্যাপের কাজ-সংক্রান্ত শর্ত এবং অ-নাগরিকদের যোগ্যতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে।   অভিবাসীদের জন্য এ ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জরুরি। কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীরা সাধারণভাবে স্ন্যাপ পাওয়ার যোগ্য নন। নির্দিষ্ট কিছু বৈধভাবে অবস্থানরত অ-নাগরিক স্ন্যাপ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত পাঁচ বছর বসবাসের শর্ত রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু এবং নির্দিষ্ট প্রতিবন্ধিতার কারণে সুবিধা পাওয়া কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে। পরিবারের কোনো সদস্য স্ন্যাপের জন্য অযোগ্য হলেও পরিবারের অন্য যোগ্য সদস্যরা আবেদন করতে পারেন।   চাকরি হারানোর পর সরাসরি নগদ সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সবার জন্য নেই। তবে পরিবারে ছোট সন্তান থাকলে এবং আয় খুব কম হলে অঙ্গরাজ্যের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের জন্য সাময়িক সহায়তা কর্মসূচি বা ট্যানফের আওতায় সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। এই কর্মসূচি মূলত নিম্নআয়ের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার জন্য পরিচালিত হয়। এর নিয়ম, সুবিধার পরিমাণ এবং যোগ্যতার শর্ত অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন।   অন্যদিকে, সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই সাধারণ বেকার ভাতা নয়। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী অথবা নির্ধারিত ধরনের প্রতিবন্ধিতা রয়েছে এবং একই সঙ্গে সীমিত আয় ও সম্পদ রয়েছে, এমন ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এসএসআই-এর জন্য যোগ্য হতে পারেন। তাই শুধু চাকরি হারিয়েছেন বলেই কেউ এসএসআই পাওয়ার যোগ্য হয়ে যান না।   সরকারি সহায়তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নতুন চাকরি খোঁজা ও দক্ষতা উন্নয়ন। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি আমেরিকান জব সেন্টার রয়েছে। এসব কেন্দ্রে চাকরিপ্রার্থীরা বিনামূল্যে চাকরি খোঁজার সহায়তা, জীবনবৃত্তান্ত তৈরির পরামর্শ, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, পেশা নির্বাচন-সংক্রান্ত পরামর্শ, চাকরি খোঁজার কর্মশালা এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির তথ্য পেতে পারেন। কিছু কেন্দ্রে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধাও থাকে।   বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন একই ধরনের কাজে ছিলেন এবং চাকরি হারানোর পর নতুন খাতে যেতে চান, তাদের জন্য এসব কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। স্থানীয় কেন্দ্রে গিয়ে কোন প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থান কর্মসূচির জন্য তারা যোগ্য হতে পারেন, সে বিষয়েও তথ্য পাওয়া যায়।   তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার যোগ্যতা নির্ধারণে শুধু বেকার হওয়াই যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীর অঙ্গরাজ্য, পারিবারিক আয়, সম্পদ, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কাজের ইতিহাস এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থার ওপর নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই একটি সরকারি সুবিধার যোগ্যতার নিয়ম দেখে অন্য সব সুবিধার ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।   চাকরি হারালে প্রথম কাজ হওয়া উচিত দ্রুত বেকারত্ব বীমার জন্য আবেদন করা। পাশাপাশি নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরি শেষ হওয়া বা কর্মী ছাঁটাই-সংক্রান্ত নথি, শেষ কয়েকটি বেতনপত্র এবং কাজের ইতিহাসের অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা দরকার। চাকরি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যবিমা কখন শেষ হবে, সেটিও জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এরপর স্বাস্থ্যবিমা বাজার, মেডিকেইড অথবা চাকরি হারানোর পর সাময়িকভাবে আগের স্বাস্থ্যবিমা চালিয়ে যাওয়ার সুবিধা কোবরা, কোনটি প্রযোজ্য হতে পারে তা যাচাই করা যেতে পারে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যোগ্যতা থাকলে সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করতে দ্বিধা না করা। তবে ২০২৬ সালে বিভিন্ন কর্মসূচির নিয়ম পরিবর্তিত হওয়ায়, বিশেষ করে অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য বা ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ যোগ্যতার শর্ত যাচাই করা জরুরি।

তাবাস্সুম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের ৩১ লাখ অভিবাসী শহরের অর্থনীতি, শ্রমবাজার, ব্যবসা ও সেবাখাতে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান, গড়ে তুলছেন বহুজাতিক নগর সমাজ।
নিউইয়র্কের অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে ৩১ লাখ অভিবাসী

নিউইয়র্ক শহরের জনসংখ্যা, শ্রমবাজার ও অর্থনীতিতে অভিবাসীদের ভূমিকা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নগর কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে বিদেশে জন্মগ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩১ লাখে পৌঁছেছে। শহরের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৮ শতাংশ এবং কর্মশক্তির ৪৩ শতাংশই এই জনগোষ্ঠীর।   জুন ২০২৬ সালে প্রকাশিত ‘দ্য নিউয়েস্ট নিউইয়র্কার্স’ প্রতিবেদনে নিউইয়র্কের অভিবাসী জনগোষ্ঠীর আকার, বৈচিত্র্য এবং অর্থনৈতিক অবদানের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অভিবাসীরা কেবল শহরের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ নন; ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্যসেবা, আবাসন, পর্যটন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতেও তাদের ব্যাপক অংশগ্রহণ রয়েছে।   প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিউইয়র্কে বসবাসকারী বিদেশে জন্মগ্রহণকারীর সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় শহরের সম্মিলিত সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস, হিউস্টন, শিকাগো ও সান হোসে—এই চার শহরে থাকা বিদেশে জন্মগ্রহণকারী মানুষের মোট সংখ্যার তুলনায় নিউইয়র্কের সংখ্যা বেশি।   শহরের পাঁচ বরোর প্রায় সব এলাকাতেই অভিবাসী জনগোষ্ঠীর শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে কুইন্স ও ব্রুকলিনে বিদেশে জন্মগ্রহণকারী বাসিন্দার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ফ্লাশিং-মারে হিল, এলমহার্স্ট, করোনা, ইস্ট ফ্ল্যাটবুশ, গ্রেভসেন্ড ও ওয়াশিংটন হাইটসের মতো এলাকাগুলোতে বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের ঘনবসতি রয়েছে।   নিউইয়র্কের অভিবাসী সমাজের বৈচিত্র্যও প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উঠে এসেছে। চীন ও ডোমিনিকান রিপাবলিক শহরের বিদেশে জন্মগ্রহণকারী জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে। এরপর রয়েছে জ্যামাইকা ও মেক্সিকো। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। বিদেশে জন্মগ্রহণকারী সবচেয়ে বড় ১০টি জনগোষ্ঠীর তালিকায় বাংলাদেশ সপ্তম অবস্থানে রয়েছে।   অভিবাসীদের অর্থনৈতিক গুরুত্ব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায় কর্মক্ষেত্রে। নগর কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, নিউইয়র্কের মোট কর্মশক্তির ৪৩ শতাংশ বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। অর্থাৎ শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা ও সেবাখাতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক মানুষ অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অংশ।   স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে তাদের উপস্থিতি বিশেষভাবে দৃশ্যমান। এ খাতে কর্মরত প্রায় ৫ লাখ ১৯ হাজার মানুষের মধ্যে ৪৪ শতাংশ বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। বিশেষ করে বাড়িভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে অভিবাসী কর্মীদের ওপর উল্লেখযোগ্য নির্ভরতা রয়েছে।   খাদ্য ও পানীয়, আবাসন এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট কাজেও অভিবাসীদের অংশগ্রহণ অনেক বেশি। এসব খাতে কর্মরতদের প্রায় প্রতি পাঁচজনের মধ্যে তিনজন বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। ফলে রেস্তোরাঁ, হোটেল, পর্যটনসেবা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নগরজীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে অভিবাসী শ্রমিকদের অবদান সরাসরি প্রতিফলিত হচ্ছে।   অভিবাসনের প্রভাব শুধু কর্মসংস্থান বা অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। নিউইয়র্কের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যেও এর বড় প্রভাব রয়েছে। শহরের প্রায় অর্ধেক বাসিন্দা নিজেদের বাড়িতে ইংরেজির পাশাপাশি অন্য কোনো ভাষা ব্যবহার করেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্কের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বাসিন্দা হয় নিজেরাই বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন, নয়তো অন্তত একজন অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তান। অর্থাৎ অভিবাসনের প্রভাব শহরের একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম নিউইয়র্কের সমাজ ও সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করছে।   নগর কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনটি নিউইয়র্কের অর্থনৈতিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে। বিপুলসংখ্যক অভিবাসী কর্মী বিভিন্ন খাতে কাজ করার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা, ভোক্তা হিসেবে বাজারকে সক্রিয় রাখা এবং শহরের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করতেও ভূমিকা রাখছেন।   বিশ্লেষকদের কাছে এ পরিসংখ্যানের তাৎপর্য হলো নিউইয়র্কের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারকে অভিবাসী জনগোষ্ঠী থেকে আলাদা করে দেখা বাস্তবসম্মত নয়। শহরের জনসংখ্যা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা এবং সেবাব্যবস্থার সঙ্গে অভিবাসীদের অংশগ্রহণ গভীরভাবে যুক্ত। তাই নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ নগর অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামো বোঝার ক্ষেত্রেও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

সিদ্দিকুর রহমান আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ আফ্রিকায় ধরপাকড় ও সহিংসতার মুখে দেশ ছাড়লেন ১ লাখ ৭৮ হাজার অভিবাসী
ধরপাকড় ও সহিংসতার মুখে দেশ ছাড়লেন ১ লাখ ৭৮ হাজার অভিবাসী

দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান এবং ক্রমবর্ধমান অভিবাসীবিরোধী সহিংস বিক্ষোভের মুখে গত কয়েক মাসে ১ লাখ ৭৮ হাজারেরও বেশি আফ্রিকান দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। আফ্রিকার অন্যতম উন্নত অর্থনীতির এই দেশ থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় অভিবাসী প্রত্যাবাসনের ঘটনা। আতঙ্কে অনেকেই নিজেদের দেশে ফিরে যাচ্ছেন, আবার অনেককে জোরপূর্বক নির্বাসিত করা হয়েছে।   অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশের সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসের শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত কেবল জিম্বাবুয়েতেই ফিরে গেছেন ১ লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। এছাড়া মালাউইতে ৫৬ হাজার এবং নাইজেরিয়া, ঘানা, মোজাম্বিক ও লেসোথোর মতো দেশগুলোতে ফিরেছেন এক হাজারেরও বেশি নাগরিক। দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার জানিয়েছে, গত এপ্রিল মাস থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকিরা হয় স্বেচ্ছায় অথবা দেশগুলোর সরকারের দেওয়া প্রত্যাবাসন সুবিধার আওতায় ফিরে গেছেন।   মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্চ বেকারত্ব হার এবং সরকারি পরিষেবাগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অভিবাসীদের দায়ী করে আসছে স্থানীয়রা। এর জেরে চলতি বছর দেশটিতে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে, যা গত ৩০ জুন দেশব্যাপী তীব্র রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযান চালায় এবং অনেক বৈধ অভিবাসীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতেও হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া ও ঘানার মতো দেশগুলো তাদের বেশ কয়েকজন নাগরিক নিহতের দাবি করলেও, দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার তা অস্বীকার করে এগুলোকে সাধারণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।   আকস্মিক এই গণ-প্রত্যাবাসনের ফলে চরম মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিসেফ এবং জাতিসংঘের শিশু অধিকার কমিটি জানিয়েছে, হাজার হাজার শিশু স্কুল থেকে ছিটকে পড়েছে এবং তারা সহিংসতা ও মানসিক চাপের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। মালাউই সরকারের মতে, ফিরে আসাদের মধ্যে ৫ বছরের কম বয়সী অন্তত ৪ হাজার শিশু রয়েছে। অন্যদিকে, জিম্বাবুয়েতে ফিরে যাওয়া শিশুদের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। এর পাশাপাশি চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন অসংখ্য এইচআইভি আক্রান্ত রোগী, যারা ওষুধ ও চিকিৎসার নথিপত্র ছাড়াই আকস্মিকভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাদের চিকিৎসায় জিম্বাবুয়ে সীমান্তে জরুরি ক্লিনিক স্থাপন করেছে দাতব্য চিকিৎসা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ)।   দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার জানিয়েছে, এই ধরপাকড় অভিযান সামনে আরও কঠোর হবে। বর্তমানে জোহানেসবার্গের একটি আটক কেন্দ্রে আরও ৩ হাজার মানুষ নির্বাসনের অপেক্ষায় রয়েছেন। অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ বন্ধ করতে দেশজুড়ে প্রায় ৬ হাজার ৩০০ পরিদর্শক মোতায়েন করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অভিবাসীদের ওপর যেকোনো ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানালেও, অভিবাসন আইন প্রয়োগে অতীতের সরকারি ব্যর্থতা স্বীকার করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
একা আসা প্রায় ২৪ হাজার অভিবাসী শিশুর আইনি প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পেয়েছে বার্ক ল’ গ্রুপ। ছবি: সংগৃহীত
২৪ হাজার অভিবাসী শিশুর আইনি দায়িত্ব পেল ২৬ কর্মীর একটি আইন প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রে একা আসা প্রায় ২৪ হাজার অভিবাসী শিশুর অভিবাসন আদালতে আইনি প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পেয়েছে টেক্সাসভিত্তিক ছোট আইন প্রতিষ্ঠান বার্ক ল’ গ্রুপ। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের শরণার্থী পুনর্বাসন দপ্তর প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বছরে সর্বোচ্চ ১৫ কোটি ডলারের চুক্তি করেছে। এ চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটি যোগ্য শিশুদের আইনি পরামর্শ, আইনি দিকনির্দেশনা এবং আদালতে আনুষ্ঠানিক আইনজীবী হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করবে।   ফেডারেল রেজিস্টারে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকলেও মঙ্গলবারই এ–সংক্রান্ত নোটিশ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, আগামী বছরের আগস্ট পর্যন্ত বার্ক ল’ গ্রুপ এই দায়িত্ব পালন করবে। নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে একা যুক্তরাষ্ট্রে আসা শিশুদের আইনি সহায়তা দেওয়ার বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে।   এর আগে এই দায়িত্ব পালন করত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আকাসিয়া সেন্টার ফর জাস্টিস। গত শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে শরণার্থী পুনর্বাসন দপ্তরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এর আগে কয়েক মাস ধরে আকাসিয়া এবং তাদের সহযোগী বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন আটকে রেখেছিল ফেডারেল সরকার। আকাসিয়া এবং তাদের সহযোগী সংস্থাগুলো এতদিন প্রায় ২০ হাজার শিশুর আইনি প্রতিনিধিত্ব করেছে।   নতুন দায়িত্ব পাওয়া বার্ক ল’ গ্রুপের আটটি কার্যালয়ে মোট কর্মী রয়েছেন মাত্র ২৬ জন। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের উচ্চঝুঁকির মামলা, পরিবেশ, নিয়ন্ত্রক ও করপোরেট আইন নিয়ে কাজ করা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দিলেও তাদের ওয়েবসাইটে কোনো আইনজীবীর বিশেষজ্ঞতার তালিকায় অভিবাসন আইনের উল্লেখ নেই। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   যুক্তরাষ্ট্রের ২০০৮ সালের মানবপাচারবিরোধী আইনের অধীনে একা দেশে আসা শিশুদের আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালন করে আসছিল। প্রথমে ভেরা ইনস্টিটিউট ফর জাস্টিস এবং পরে আকাসিয়া সেন্টার ফর জাস্টিস এই কার্যক্রম পরিচালনা করে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল। ২০২৫ সালে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ প্রথমে তাদের চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নেয়, যদিও আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরে শিশুদের সংবেদনশীল তথ্য সরকারের কাছে দেওয়ার দাবি জানিয়ে অর্থ প্রদান স্থগিত করা হয়। একই বছরের শেষ দিকে শরণার্থী পুনর্বাসন দপ্তর নতুন আইন প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সংস্থার কাছ থেকে এ দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তাব আহ্বান করে।   নতুন চুক্তিটি একক উৎসের সমঝোতা হিসেবে দেওয়া হলেও প্রয়োজন হলে বার্ক ল’ গ্রুপ অন্য আইন প্রতিষ্ঠান বা অলাভজনক সংস্থাকে উপঠিকাদার হিসেবে যুক্ত করতে পারবে। তবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে প্রতিষ্ঠানটির হাতেই।

তাবাস্সুম আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
যোগ্য পরিবারগুলোর জন্য পুষ্টি কর্মসূচির অধীনে বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে দুধ ও শিশু খাদ্যসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় ১০টি জিনিস একেবারে ফ্রি, তবু না জেনে টাকা খরচ করছেন অনেক বাংলাদেশি

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ও কমিউনিটি পর্যায়ে এমন অনেক সেবা ও পণ্য রয়েছে, যা নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। তবে তথ্যের অভাব বা সচেতনতার ঘাটতির কারণে অনেক বাংলাদেশি পরিবার এসব সুবিধা গ্রহণ না করে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অর্থ ব্যয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় কাউন্টি অফিস, পাবলিক লাইব্রেরি ও কমিউনিটি সংস্থাগুলোর সেবা সম্পর্কে জানলে বছরে হাজার হাজার ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব।   যোগ্য পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর একটি হলো উইমেন, ইনফ্যান্টস অ্যান্ড চিলড্রেন প্রোগ্রাম। আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকলে গর্ভবতী নারী, নবজাতক ও পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য দুধ, বেবি ফর্মুলা, ডিম, সিরিয়াল, ফলসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার বিনামূল্যে দেওয়া হয়।   অনেক অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কমিউনিটিতে পরিচালিত ডায়াপার ব্যাংক থেকেও প্রয়োজনীয় পরিবারগুলো নিয়মিত বিনামূল্যে ডায়াপার ও ওয়াইপস সংগ্রহ করতে পারেন। একইভাবে অনেক ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ও স্থানীয় স্বাস্থ্য সংস্থা যোগ্য পরিবারকে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে কার সিট সরবরাহ করে এবং সঠিকভাবে স্থাপনের প্রশিক্ষণও দেয়।   পাবলিক লাইব্রেরি শুধু বই ধার দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক লাইব্রেরি সদস্যদের জন্য হটস্পট, ল্যাপটপ, মিউজিয়াম পাস, খেলনা, সেলাই মেশিন, এমনকি বিভিন্ন রান্নার সরঞ্জামও ধার দেওয়ার সুবিধা রয়েছে। কিছু লাইব্রেরিতে ‘সিড লাইব্রেরি’ থেকে মৌসুমি সবজির বীজও বিনামূল্যে সংগ্রহ করা যায়।   যাদের বার্ষিক আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে, তারা আইআরএসের ফ্রি ফাইল কর্মসূচি বা ভলান্টিয়ার ইনকাম ট্যাক্স অ্যাসিস্ট্যান্স,  কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনা খরচে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে পারেন। এতে বেসরকারি ট্যাক্স প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হয় না।   গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে অনেক স্কুল ডিস্ট্রিক্ট শিশুদের জন্য বিনামূল্যে খাবার ও সামার প্রোগ্রামের আয়োজন করে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত ‘বাই নাথিং’ কমিউনিটি গ্রুপের মাধ্যমে ব্যবহৃত কিন্তু ভালো অবস্থার সোফা, খাট, স্ট্রলার, শিশুদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ নানা জিনিস বিনামূল্যে পাওয়া যায়।   স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও অনেক সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ফার্মেসি, হাসপাতাল ও স্থানীয় স্বাস্থ্য মেলায় বিনামূল্যে ফ্লু টিকা, রক্তচাপ পরীক্ষা এবং কিছু এলাকায় মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ও ডেন্টাল স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়।   এ ছাড়া বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের রিটার্ন নীতির আওতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য ফেরত দিয়ে অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। তবে এ সুবিধার শর্ত কোম্পানিভেদে ভিন্ন হয়। তাই কেনাকাটার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রিটার্ন নীতি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   কমিউনিটির অভিজ্ঞরা বলছেন, এসব সুবিধার যোগ্যতা, আয়সীমা ও সেবার ধরন অঙ্গরাজ্য, কাউন্টি এবং সিটি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কোনো সুবিধা গ্রহণের আগে স্থানীয় কাউন্টি অফিস, পাবলিক লাইব্রেরি, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট বা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা উচিত।

সিদ্দিকুর রহমান আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর ধরপাকড়ে নতুন রেকর্ড, জুলাইয়ে গ্রেপ্তার ৫১ হাজার
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর ধরপাকড়ে নতুন রেকর্ড, জুলাইয়ে গ্রেপ্তার ৫১ হাজার

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) অধীনস্থ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) দেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, সংস্থাটি শুধুমাত্র জুলাই মাসেই ৫১ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে, যা ডিএইচএসের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের রেকর্ড।   একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরেও ধরপাকড় বাড়িয়েছে আইসিই; সংস্থাটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে বিমানবন্দরগুলো থেকে অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এবিসি নিউজের সাথে আলাপকালে এক অভিবাসন আইনজীবী জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে যাদের আটক করা হচ্ছে তাদের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং তাদের কাছে বৈধ কাজের অনুমতি বা প্যারোলের নথিপত্র রয়েছে।   সাম্প্রতিক এই গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যান নিয়ে এবিসি নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও ডিএইচএস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে গত জুন মাসে ডিএইচএস জানিয়েছিল, আইসিই-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৯ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো (ডিপোর্টেশন) হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক সূত্রের মতে, আইসিই অত্যন্ত নীরবে দেশজুড়ে তাদের এই অভিযান জোরদার করছে।   অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্ররা মনে করছেন, প্রশাসনের উচিত সম্পূর্ণ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা এবং তাদের মতে, বর্তমান ধরপাকড় অভিযান যথেষ্ট নয়। ট্রাম্প-সমর্থিত 'ওভারসাইট প্রজেক্ট'-এর প্রেসিডেন্ট মাইক হাওয়েল এবিসি নিউজকে বলেন, "বাইডেন আমলে যে পরিমাণ অবৈধ অভিবাসীকে দেশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমান প্রশাসনের গণ-ডিপোর্টেশনের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তার তুলনায় এই গ্রেপ্তারের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য।" কর্মস্থলে অভিযানকে মূল কৌশল হিসেবে গ্রহণ না করা পর্যন্ত এই সংখ্যা নিচুই থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রকৃত তথ্য আদায়ের জন্য তিনি ডিএইচএসের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান।   এদিকে, ডিএইচএসের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বাইডেন আমলের 'ভয়ংকর' নীতি বাতিল করা হয়েছে, যার কারণে অবৈধভাবে অবস্থানকারীরা দেশের ভেতরে অবাধে বিমান ভ্রমণের সুযোগ পেতেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে ডিএইচএস এটি আর বরদাস্ত করবে না। অবৈধ অভিবাসীরা যেন নিজ দেশে ফেরত যাওয়া (সেলফ-ডিপোর্ট) ছাড়া আর কোনো কারণে উড়োজাহাজ ব্যবহার করতে না পারেন, তা নিশ্চিতে বর্তমান প্রশাসন অত্যন্ত কঠোরভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
মরক্কো থেকে স্পেনের সিউটায় প্রবেশের পর রাস্তায় ও পার্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো অভিবাসী। ছবি: সংগৃহীত
মরক্কো থেকে সিউটায় ঢল, অনিশ্চয়তায় হাজারো অভিবাসীর ভবিষ্যৎ

মরক্কো থেকে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউটায় কয়েক দিনের ব্যবধানে হাজারো মানুষের প্রবেশের পর সেখানে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন শত শত অভিবাসী। সীমান্ত পার হতে পারলেও মূল ভূখণ্ড স্পেনে যেতে না পেরে অনেকে রাস্তায়, পার্কে ও উন্মুক্ত স্থানে দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ঘটনাটিকে দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   চার সন্তানের বাবা ৪৪ বছর বয়সী মরক্কোর নাগরিক ইউসুফ এল আব্বাস জানান, সাত বছর আগে বিলবাওয়ে চাকরি হারানোর পর বসবাসের অনুমতির মেয়াদ শেষ হলে তাকে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়। সম্প্রতি শত শত মানুষ সিউটায় প্রবেশের খবর পেয়ে তিনিও তেতুয়ান হয়ে ফনিদেকে পৌঁছান। পথে তিনি জানতে পারেন, মরক্কো সীমান্তে আগের মতো কড়াকড়ি নেই এবং মানুষকে সীমান্তের দিকে যেতে দেওয়া হচ্ছে।   ইউসুফের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তে পৌঁছে মাত্র কয়েক মিনিট সাঁতার কেটেই তিনি সিউটায় প্রবেশ করেন। তবে সবাই এতটা ভাগ্যবান ছিলেন না। তার দাবি, পানিতে নামার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কয়েকজনের মরদেহ ভাসতে দেখেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেনের ওই ভূখণ্ডে পৌঁছাতে গিয়ে অন্তত ৭২ জন ডুবে বা পদদলিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।   স্পেনের তথ্য অনুযায়ী, এ সপ্তাহে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সিউটায় প্রবেশ করেন। পরে তাদের মধ্যে ৪৮ হাজারের বেশি মরক্কোতে ফিরে গেলেও শত শত মানুষ এখনো সেখানে অবস্থান করছেন। তাদের অনেকেই মূল ভূখণ্ড স্পেনে যেতে পারছেন না এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের অপেক্ষায় রয়েছেন।   ১৭ বছর বয়সী সাঈদও সীমান্ত খোলা থাকার খবর পেয়ে সিউটায় আসেন। তিনি জানান, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একটি কেন্দ্রে নেওয়া হলেও জায়গা না থাকায় পরে আবার রাস্তায় ফিরে আসতে হয়। তার লক্ষ্য একটি সুরক্ষা কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়ে স্প্যানিশ ভাষা শেখা এবং ১৮ বছর পূর্ণ হলে নাপিত হিসেবে কাজ শুরু করা। তবে বৈধ কাগজপত্র না পেলে সেই স্বপ্ন ভেঙে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।   এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে থাকা অভিবাসীদের পানি, খাবার, কম্বল ও পোশাক দিয়ে সহায়তা করছেন। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশঙ্কা, এই সংকটকে কেন্দ্র করে সামাজিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। তাদের মতে, এমন পরিস্থিতি উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর জন্য রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।   মরক্কো সরকার বলেছে, সীমান্ত পরিস্থিতির জন্য তারা কোনোভাবেই সন্তুষ্ট নয় এবং ঘটনাটির পেছনে মানবপাচারকারী চক্রের ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে স্পেনও বলছে, সীমান্তে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পেছনে মানবপাচারকারী নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল। তবে দুই দেশের মধ্যে এ ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও জল্পনাও অব্যাহত রয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
ভাইকে কিডনি দিয়ে জীবন বাঁচানো সেই অভিবাসী আবারও আইসিই-এর হেফাজতে
ভাইকে কিডনি দিয়ে জীবন বাঁচানো অভিবাসী আবারও আইসিইর হেফাজতে

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে রুটিন চেক-ইন করার সময় হোসে গ্রেগোরিও গঞ্জালেস নামের এক ভেনেজুয়েলান অভিবাসীকে আবারও আটক করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। প্রায় এক বছর আগে নিজের ছোট ভাইকে কিডনি দিয়ে তার জীবন বাঁচিয়েছিলেন হোসে। গত ২১ জুলাই তাকে আটক করা হয়। গত এপ্রিল মাসে এক বছরের ‘মানবিক প্যারোল’-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে তিনি আইসিই-এর নিবিড় নজরদারি কর্মসূচির অধীনে ছিলেন এবং নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছিলেন। তার আইনজীবী পিটার মেইনেকে জানিয়েছেন, হোসের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং তিনি নজরদারির সব নিয়ম মেনেই চলছিলেন, তাই নিঃস্বার্থ এই মানুষটিকে এভাবে আটক করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।   ছোট ভাই হোসে আলফ্রেডো পাচেকো গত আগস্টে কিডনি প্রতিস্থাপনের পর থেকে বড় ভাই হোসের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। সম্প্রতি একটি মেডিকেল চেকআপ শেষে পাচেকো তার ভাইকে আনতে যাওয়ার কথা জানিয়ে টেক্সট করলে হোসে শুধু লেখেন, "ভাই, আমি তোমাকে ভালোবাসি। তারা আমাকে নির্বাসনে (ডিপোর্ট) পাঠাতে যাচ্ছে।" এই মেসেজ পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন পাচেকো। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, হোসে শুধু তার বড় ভাই নন, তার একমাত্র দেখভালকারীও। তাকে ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে একা হয়ে যাওয়ার চরম আতঙ্কে ভুগছেন পাচেকো।   এর আগে ২০২৫ সালের মার্চ মাসেও হোসেকে আটক করেছিল আইসিই, যার ফলে তার ভাইয়ের কিডনি প্রতিস্থাপন বাধাগ্রস্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সে সময় শিকাগোবাসীর ব্যাপক আন্দোলনের মুখে মানবিক কারণে তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয় এবং আগস্টে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, হোসে ২০২৩ সালের জুনে প্রথমবার অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার চেষ্টা করে বিতাড়িত হন।   পরবর্তীতে ভাইয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি পুনরায় প্রবেশ করেন। তার আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হলেও তাকে গোড়ালি-মনিটর পরিয়ে দেশে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ডিএইচএস-এর মতে, প্যারোলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেখানে অবস্থান করে তিনি দেশের আইন লঙ্ঘন করেছেন। তার আইনজীবী নির্বাসন ঠেকাতে পুনরায় মানবিক প্যারোলের আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।   বর্তমানে হোসেকে মিসৌরির একটি আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং তাকে ভেনেজুয়েলায় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই সিদ্ধান্ত হোসে ও তার ভাই উভয়ের জীবনের জন্যই বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। পাচেকো কিডনি প্রতিস্থাপনের পর থেকে বেশ কিছু জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং জানুয়ারিতে মারাত্মক রক্ত সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছিলেন। অন্যদিকে, কিডনি দাতা হিসেবে হোসেরও নিয়মিত মেডিকেল চেকআপ প্রয়োজন। ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এমনিতেই ভঙ্গুর, তার ওপর সম্প্রতি শক্তিশালী ভূমিকম্পে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এত কিছুর পরও আটক কেন্দ্র থেকে ফোন করে ছোট ভাইকে নিজের জন্য দুশ্চিন্তা না করার সান্ত্বনা দিয়েছেন হোসে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
স্পেনে একদিনে ৬০ হাজার অভিবাসীর অনুপ্রবেশ
স্পেনে একদিনে ৬০ হাজার অভিবাসীর অনুপ্রবেশ, সীমান্তে জরুরি সেনা মোতায়েন

মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছিটমহল সেউটায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছে। স্পেনের শীর্ষ আদালতের সাম্প্রতিক একটি রায়ের পর এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, সেউটা বা মেলিলায় পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় সাগরে আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না। এই আইনি সুযোগকে কাজে লাগিয়েই বিপুল সংখ্যক মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে।   অপ্রত্যাশিত এই অভিবাসী স্রোতের পরিপ্রেক্ষিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গোটা ঘটনাটিকে দেশের ওপর একটি ‘আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বেআইনিভাবে প্রবেশ করা সকল অভিবাসীকে যত দ্রুত সম্ভব মরক্কোয় ফিরিয়ে দেওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সীমান্তে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্পেন সরকার তাৎক্ষণিকভাবে সেউটা ও মেলিলা অঞ্চলে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করেছে।   স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারী এই অভিবাসীদের সংখ্যা সেউটার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের সমান, যা ছোট এই শহরটির স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার জন্ম দিয়েছে।   তবে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের পর এরই মধ্যে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় বা কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় মরক্কোয় ফিরে গেছেন। বর্তমানে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৫০ জন হারে মানুষ সেউটা ছেড়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এদিকে এই গণ-অভিবাসন সংকট পুরো ইউরোপজুড়েই তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।   মাদ্রিদের অভিযোগ, মানবপাচারকারী অপরাধ চক্রগুলো আদালতের রায়কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপব্যবহার করে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন দেশের নেতারা এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইতালির পক্ষ থেকে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও মাদ্রিদ তার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।   বর্তমানে মরক্কো কর্তৃপক্ষের নিবিড় সহযোগিতায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে স্পেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
২৫ হাজারের বেশি অনিয়মিত অভিবাসীকে মরক্কোতে ফেরত পাঠিয়েছে স্পেন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তে নজিরবিহীন অনুপ্রবেশে প্রাণ গেল অন্তত ৩৪ জনের, ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে স্পেন

উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় প্রবেশ করা ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে ইতোমধ্যে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সাম্প্রতিক এই সীমান্ত সংকট মোকাবিলায় স্পেন ও মরক্কো যৌথভাবে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম চালাচ্ছে।   স্পেনের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ স্থল ও সমুদ্রপথে মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশ করে। পরে তাদের প্রায় অর্ধেক স্বেচ্ছায় অথবা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মরক্কোতে ফিরে গেছে। সীমান্তে নতুন করে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীও অভিযান জোরদার করেছে।   এই নজিরবিহীন অনুপ্রবেশের সময় সীমান্তে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অনেকের মৃত্যু ডুবে যাওয়া এবং পদদলিত হওয়ার ঘটনায় ঘটেছে।   স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এ ঘটনাকে দেশের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার অভিযোগ, মানবপাচারকারী চক্র ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে হাজারো মানুষকে সীমান্তে জড়ো হতে উৎসাহিত করেছে। তিনি দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন।   সেউতা ও মেলিয়া উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, যা বহু বছর ধরে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান অভিবাসন রুট। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মানুষ উন্নত জীবনের আশায় মরক্কো হয়ে এসব সীমান্ত দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করে। সাম্প্রতিক এই সংকট ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

তাবাস্সুম জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
স্পেনের ছিটমহল সিউটাতে আকস্মিকভাবে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসীর প্রবেশ। ছবি: সংগৃহীত
স্পেনের সিউটা সীমান্তে হাজার হাজার অভিবাসীর ভিড়, মর্মান্তিক মৃত্যু বেড়ে ৩৪

মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনের উত্তরাঞ্চলীয় ছিটমহল সিউটাতে আকস্মিকভাবে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করায় সেখানে তীব্র মানবিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্তে সেনা ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে মরক্কো কর্তৃপক্ষও ক্রসিং গেটে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি জলকামান ব্যবহার করেছে।   হঠাৎ এই বিপুল জনস্রোতের মাঝে পড়ে এবং সাগর সাঁতরে বা স্থলপথে স্পেনে প্রবেশের চেষ্টার সময় কমপক্ষে ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, শুধু জুলাই মাসেই সমুদ্রে ডুবে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত এই সীমান্ত এলাকায় প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৪৯ জন অভিবাসী।   পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইতিমধ্যে সিউটা সফর করেছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘটনাকে স্পেনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সিউটাতে একটি অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।   এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্দরেও কূটনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। স্পেনের বর্তমান অভিবাসী পরিস্থিতি নিয়ে ইতালির কিছু নেতার কড়া মন্তব্যের জেরে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে ইতালির রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন সিউটার পরিস্থিতিকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে উল্লেখ করেছেন। অভিবাসীদের ঢল রুখতে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মরক্কোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

তাবাস্সুম জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসী ট্রাক ড্রাইভারদের লাইসেন্স বাতিলের পর ট্রাকিং খাতে সামরিক সদস্যদের নিয়োগ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
অভিবাসী ট্রাক ড্রাইভারদের লাইসেন্স বাতিলের পর ট্রাকিং খাতে সামরিক সদস্যদের নিয়োগ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন খাত ও সাপ্লাই চেইনকে সুরক্ষিত রাখতে এবং সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসী ট্রাক চালকদের লাইসেন্স বাতিলের পর সৃষ্ট শূন্যস্থান পূরণে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন "ফ্রিডম হলার্স" (Freedom Haulers) নামে একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সাবেক সামরিক সদস্যদের (ভেটেরান) কমার্শিয়াল ট্রাক ড্রাইভিং পেশায় নিয়োগ দেওয়া। পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এবং ভেটেরান অ্যাফেয়ার্স, যুদ্ধ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে।   "ফ্রিডম হলার্স" প্রোগ্রামের অধীনে, যেসব ভেটেরানের সামরিক বাহিনীতে ভারী যানবাহন (২.৫ টনের বেশি) চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারা সরাসরি কমার্শিয়াল ড্রাইভিং লাইসেন্সের (CDL) জন্য স্কিল টেস্ট বা রোড টেস্ট ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন। আর যাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই, তারা জিআই বিলের (GI Bill) মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কমার্শিয়াল ড্রাইভিং স্কুলে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে তারা আবাসন ভাতাও পেতে পারেন।   গত বছর থেকে মার্কিন পরিবহন মন্ত্রণালয় ট্রাক ড্রাইভারদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা যাচাই এবং লাইসেন্সের বৈধতা নিয়ে কড়াকড়ি শুরু করে। অদক্ষ ও অবৈধভাবে ইস্যু করা লাইসেন্সধারী প্রায় হাজার হাজার অভিবাসী চালকের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। পরিবহন মন্ত্রী শন ডাফি এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, "আমাদের রাস্তা থেকে বিপজ্জনক বিদেশি চালকদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং আমেরিকার ট্রাকিং শিল্পে ভেটেরানদের যুক্ত করে দেশের সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করা হবে।"   এই উদ্যোগের ফলে ট্রাক ড্রাইভিং পেশায় একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভেটেরানদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা এবং মানসিক দৃঢ়তা এই পেশার জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের স্বপ্ন পূরণে সিনেটে নতুন বিল
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের স্বপ্ন পূরণে সিনেটে নতুন বিল, উপকৃত হতে পারেন ৮০ লাখ অভিবাসী

ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যালেক্স প্যাডিলা সম্প্রতি মার্কিন সিনেটে একটি যুগান্তকারী বিল পুনরায় উত্থাপন করেছেন, যা লাখ লাখ অভিবাসীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। ‘রিনিউয়িং ইমিগ্রেশন প্রভিশনস অব দ্য ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট অব ১৯২৯’ শীর্ষক এই বিলটি ১৯২৯ সালের একটি পুরোনো অভিবাসন আইনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং গণ-ডিপোর্টেশন বা বিতাড়ন কর্মসূচির বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদী অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষা দিতেই মূলত ডেমোক্র্যাটরা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।   প্রস্তাবিত এই বিলে বর্তমান অভিবাসন আইনের 'রেজিস্ট্রি' বা নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। ১৯৮৬ সালের পর থেকে এই আইনে কোনো বড় সংস্কার হয়নি এবং বর্তমানে কেবল ১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারির আগে যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন, তারাই এই সুবিধার আওতাভুক্ত। কিন্তু নতুন বিলে এই নির্দিষ্ট কাট-অফ তারিখ বাতিল করে একটি চলমান বা রোলিং সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে, কোনো অভিবাসী গুরুতর অপরাধমূলক রেকর্ড ছাড়া টানা সাত বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলে তিনি আইনত স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।   সিনেটর প্যাডিলার কার্যালয় ও সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এই বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রায় ৮ মিলিয়ন বা ৮০ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। সুবিধাভোগীদের মধ্যে ড্রিমার, টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) হোল্ডার, দীর্ঘমেয়াদী ভিসাধারীদের সন্তান এবং দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা এইচ-১বি (H-1B) ভিসাধারী উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীরাও রয়েছেন। প্যাডিলা জোর দিয়ে বলেছেন, যারা বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সমাজে অবদান রাখছেন এবং নিয়মিত কর পরিশোধ করছেন, তাদের জন্য একটি সুষ্ঠু আইনি পথ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।   তবে, বিলটি মার্কিন কংগ্রেসে চূড়ান্তভাবে পাস হওয়া বেশ কঠিন একটি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। বর্তমান কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের আধিপত্য থাকায় এবং অভিবাসন ইস্যুতে মার্কিন রাজনীতিতে তীব্র দলীয় বিভক্তি থাকায় এই পদক্ষেপের ভবিষ্যৎ অনেকটাই অনিশ্চিত। রক্ষণশীল ও কট্টরপন্থীরা এরই মধ্যে বিলটির তীব্র সমালোচনা শুরু করেছেন; অনেকেই এটিকে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য একটি সাধারণ ক্ষমা বা 'অ্যামনেস্টি' হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর বিরোধিতা করছেন। তা সত্ত্বেও, ডিক ডারবিন ও বার্নি স্যান্ডার্সের মতো প্রবীণ নেতারা এবং দেশব্যাপী অসংখ্য শ্রমিক ও মানবাধিকার সংগঠন এই বিলের প্রতি তাদের জোরালো সমর্থন জানিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন বিমানবন্দরে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া বিদেশি নাগরিকদের গ্রেপ্তার শুরু। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নজরদারি কার্যক্রমে বিমানবন্দরে যাত্রী গ্রেপ্তার শুরু, বিতর্কে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি ব্যবস্থার তথ্য ব্যবহার করে পরিচালিত এই অভিযানে মানবাধিকারকর্মী ও অভিবাসন আইনজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এতে বৈধ অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদনকারীরাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন ও অভিবাসন এবং শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে বিমানযাত্রীদের শনাক্ত করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বিমানবন্দরে নিবন্ধন, নিরাপত্তা তল্লাশি বা উড়োজাহাজে ওঠার আগমুহূর্তে সাধারণ পোশাকে থাকা কর্মকর্তারা যাত্রীদের আটক করছেন।   স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের ভাষ্য, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন কার্যকর করা। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এটি আগের প্রশাসনের নীতির পরিবর্তনের অংশ। তাদের মতে, অবৈধভাবে অবস্থানকারীরা যাতে নির্বিঘ্নে দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণ করতে না পারেন, সে লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   তবে অভিবাসন আইনজীবীদের দাবি, যাদের আশ্রয়ের আবেদন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা অন্য কোনো বৈধ অভিবাসন আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের মধ্যেও কেউ কেউ এই অভিযানের মুখোমুখি হয়েছেন। অনেকের বিরুদ্ধেই কোনো ফৌজদারি অভিযোগ নেই। এতে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে বিমান ভ্রমণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বেড়েছে।   কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় কর্মকর্তারাও এই পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, বিমানযাত্রীদের ব্যক্তিগত ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে অভিবাসন অভিযান পরিচালনা করলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাডা, টেনেসি, কলোরাডো ও ম্যাসাচুসেটসসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যের বিমানবন্দরে এ ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এতে অন্তত কয়েক ডজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তবে দেশজুড়ে মোট কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা রয়েছে, তারা অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আগে আইনজীবীর পরামর্শ নিন। কারণ বর্তমান নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলো অভিবাসন আইন প্রয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ ফ্লোরিডায় আইসের গ্রেফতার অভিযান হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় চরম আতঙ্ক। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ ফ্লোরিডায় আইসের সাঁড়াশি অভিযান বৃদ্ধি: গভীর উদ্বেগে কমিউনিটি নেতারা ও অভিবাসী অধিকারকর্মীরা

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডা অঞ্চলে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টম এনফোর্সমেন্ট বা আইসের গ্রেফতার অভিযান হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কমিউনিটি নেতারা, অভিবাসী অধিকারকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে বুধবার সকালে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।   সম্প্রতি হাইতিয়ান নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস সুবিধা বাতিল করার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর থেকে দেশটিতে বসবাস ও কাজ করে আসা লাখ লাখ হাইতিয়ান নাগরিকের এই আইনি সুরক্ষা সম্প্রতি শেষ হয়েছে। দক্ষিণ ফ্লোরিডাসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হাইতিয়ানদের মাঝে এই সিদ্ধান্তের ফলে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে।   অভিযানের শিকার পরিবার এবং অধিকারকর্মীদের মতে, টিপিএস বাতিলের এই সিদ্ধান্তের কারণে বর্ণগত প্রোফাইলিং, আইনি প্রক্রিয়ার ঘাটতি এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে আইসের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। আমেরিকান ফ্রেন্ডস সার্ভিস কমিটির ইয়ারেলিজ মেনডেজ জামোরা বলেন, অভিবাসী গ্রেফতারের সাম্প্রতিক এই উল্লম্ফন পরিবারগুলোকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে এবং পুরো কমিউনিটিতে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে। স্থানীয় প্রশাসনের কিছু নীতি ও সিদ্ধান্তের কারণে এখন অভিবাসীরা সন্তানকে স্কুলে পাঠানো, চিকিৎসা নেওয়া কিংবা কর্মস্থলে যাওয়ার মতো সাধারণ কাজগুলো করতেও ভয় পাচ্ছে।   বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় মিরানারে অবস্থিত আইস এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস ফ্যাসিলিটিতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ক্রমবর্ধমান এই কড়াকড়ি কীভাবে অভিবাসী পরিবার, কর্মী, ব্যবসায়ী এবং সামগ্রিক জনজীবনকে প্রভাবিত করছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এছাড়া অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় নেতাদের জোরালো ভূমিকা পালনের দাবিও জানানো হবে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০