আইস

জুলাই মাসে আইসের হাতে আটক হয়েছেন ৪৬ হাজারের বেশি অভিবাসী। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসনে কড়াকড়ি আরও বেড়েছে, জুলাইয়ে আইস এর হাতে আটক ৪৬ হাজারের বেশি অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। জুলাই মাসে দেশজুড়ে ৪৬ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস), যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এক মাসে সর্বোচ্চ আটকের রেকর্ড। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) অভ্যন্তরীণ তথ্যের ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই মাসের আটকের সংখ্যা জুন মাসের তুলনায়ও বেশি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আইস এর হেফাজতে প্রায় ৬৮ হাজার ব্যক্তি রয়েছেন, যা সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও জোরদারের নির্দেশনার পরই এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   সাম্প্রতিক সময়ে আইস এর অভিযান শুধু কর্মস্থল বা নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই। বিমানবন্দর, অভিবাসন চেক-ইন অফিস, ট্রাফিক স্টপ, আদালত প্রাঙ্গণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কমিউনিটিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে বৈধ কাগজপত্র না থাকা বা অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতায় থাকা অনেক অভিবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।   বিশেষ করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও অভিবাসন যাচাই কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আইনজীবীরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যাদের অভিবাসন মামলা চলমান বা যাদের বৈধ অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, তারা ভ্রমণের আগে আইনি পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন তিন লাখের বেশি হাইতিয়ান অভিবাসীর টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে এসব অভিবাসীর একটি বড় অংশ বহিষ্কারের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন, যদি তারা অন্য কোনো বৈধ অভিবাসন সুবিধা অর্জন করতে না পারেন।   অভিযান জোরদারের মধ্যেই গত মাসে টেক্সাস ও মেইনে পৃথক ঘটনায় আইস কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুটি ঘটনাই এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, বর্তমান প্রশাসনের অভিযানের ফলে এখন পর্যন্ত ৩০ লাখের বেশি অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। বিভাগের তথ্যমতে, এর মধ্যে আনুমানিক ২২ লাখ ব্যক্তি স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করেছেন। একই সময়ে ৯ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে বহিষ্কার এবং ১০ লাখের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   তবে এসব পরিসংখ্যান হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নিজস্ব তথ্য। এগুলোর সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে যাদের অভিবাসন আবেদন বিচারাধীন, যাদের টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা অন্যান্য অস্থায়ী সুবিধা রয়েছে, কিংবা যাদের বৈধ অবস্থান নিয়ে কোনো জটিলতা আছে, তাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
এয়ারপোর্টে বাড়ছে আইস এর অভিযান, আটক হচ্ছেন অভিবাসীরা; অ্যাসাইলাম প্রক্রিয়ায় এলো বড় পরিবর্তন
এয়ারপোর্টে বাড়ছে আইস এর অভিযান, আটক হচ্ছেন অভিবাসীরা; অ্যাসাইলাম প্রক্রিয়ায় এলো বড় পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগে নতুন ধারা দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট আইস এর অভিযান জোরদার করেছে। একই সময়ে অ্যাসাইলাম আবেদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এই দুটি পরিবর্তনের ফলে যাদের অ্যাসাইলাম, স্ট্যাটাস পরিবর্তন, গ্রিন কার্ড বা অন্য কোনো ইমিগ্রেশন আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, তাদের জন্য বিমান ভ্রমণ আগের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।    রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস, লাস ভেগাস, ডেনভার, ন্যাশভিলসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন-সংক্রান্ত কারণে যাত্রীদের আটক করার ঘটনা বেড়েছে। এসব অভিযানে শুধু চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই নন, কিছু ক্ষেত্রে বিচারাধীন ইমিগ্রেশন আবেদন বা ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতায় থাকা ব্যক্তিদেরও আটক করা হয়েছে।    এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে ঘটে যাওয়া একটি বহুল আলোচিত ঘটনা। গত সপ্তাহে বাল্টিমোর ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (বিডব্লিউআই) অভ্যন্তরীণ একটি ফ্লাইটে ওঠার সময় জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষক ফাতিমা আমেকাকে আইস আটক করে। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানায়, তিনি ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন এবং সে কারণেই অভিবাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মী, গবেষক ও কয়েকজন আইনপ্রণেতা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।   বিমানবন্দরে অভিযানের পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩১ হাজারের বেশি যাত্রীর তথ্য আইস এর কাছে পাঠায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ৮০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়। ডিএইচএস বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসন আইন বাস্তবায়নের স্বার্থে সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান প্রদান আইনসম্মত। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের জন্য তৈরি যাত্রী তথ্যব্যবস্থা এখন বেসামরিক অভিবাসন আইন প্রয়োগেও ব্যবহৃত হওয়ায় অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।    এদিকে অ্যাসাইলাম আবেদনকারীদের জন্যও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন। ইউএসসিআইএস সম্প্রতি একটি অন্তর্বর্তীকালীন চূড়ান্ত বিধি কার্যকর করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অ্যাসাইলাম কর্মকর্তা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার না নিয়েই আবেদনটি সরাসরি ইমিগ্রেশন কোর্টে পাঠাতে পারবেন। সরকারের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের মামলার জট কমানো এবং দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   তবে অভিবাসন আইন কর্মকর্তাদের একাংশের আশঙ্কা, সাক্ষাৎকারের সুযোগ কমে গেলে অনেক আবেদনকারী তাদের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা বা আশ্রয় চাওয়ার কারণ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারাতে পারেন। যদিও কোনো আবেদন সরাসরি ইমিগ্রেশন কোর্টে পাঠানো মানেই সেটি বাতিল নয়। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারী একজন ইমিগ্রেশন বিচারকের সামনে পূর্ণাঙ্গ শুনানির সুযোগ পাবেন।    সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে অভিবাসন আইনজীবীরাও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, যাদের অ্যাসাইলাম মামলা, স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন, গ্রিন কার্ড বা ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন এখনো বিচারাধীন, তারা অপ্রয়োজনীয় বিমান ভ্রমণের আগে অবশ্যই নিজেদের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করুন। একই সঙ্গে ভ্রমণের সময় বৈধ পরিচয়পত্র, ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত নথিপত্র এবং প্রয়োজনে আইনজীবীর যোগাযোগের তথ্য সঙ্গে রাখার পরামর্শও দিচ্ছেন তারা।    ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা আরও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বিচারাধীন আবেদন থাকা মানেই সবাইকে আটক করা হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। প্রতিটি মামলার আইনি অবস্থা, নথিপত্র এবং ব্যক্তির অভিবাসন ইতিহাস আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত গুজব বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর না করে, ডিএচএস, ইউএসসিআইএস এবং অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ অনুসরণ করাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসী শিশুদের তথ্য বিনিময় নীতিকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্য শেয়ারিং নীতিতে বিপাকে অভিবাসী পরিবার, গ্রেপ্তার ১২ হাজারের বেশি শিশু ও অভিভাবক

যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ফেডারেল সংস্থা অফিস অব রিফিউজি রিসেটেলমেন্ট (ওআরআর) থেকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) কাছে তথ্য সরবরাহের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ১২ হাজারের বেশি শিশু, তাদের অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মার্কিন সরকারের অভ্যন্তরীণ নথি পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ওআরআর অভিভাবকহীন শিশু, তাদের অভিভাবক, আত্মীয়স্বজন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে ৪ লাখ ৬০ হাজারের বেশি তথ্য ও তদন্তসূত্র আইসের কাছে পাঠিয়েছে। অতীতে শিশু কল্যাণ কার্যক্রমকে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম থেকে আলাদা রাখা হলেও বর্তমান নীতিতে সেই অবস্থান বদলে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।    রয়টার্সের প্রতিবেদনে ২৪ বছর বয়সী এক অভিবাসী মা, ছদ্মনাম অরোরার ঘটনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থায় নিজের ছয় বছরের মেয়েকে ফিরে পেতে তিনি ছয় মাস চেষ্টা করেন। মা ও মেয়ের পুনর্মিলনের কয়েক দিনের মধ্যেই দুজনকে আইস আটক করে টেক্সাসের একটি পারিবারিক আটক কেন্দ্রে পাঠায়। পরে তাদের মুক্তি দেওয়া হলেও অরোরাকে ইলেকট্রনিক অ্যাঙ্কেল মনিটর পরিয়ে নিয়মিত কর্তৃপক্ষের কাছে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।    ওআরআর ১৯৮০ সালে যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের পুনর্বাসনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকো সীমান্তে একা আসা শিশুদের আশ্রয় ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্বও সংস্থাটিকে দেওয়া হয়। ২০০৮ সালের আইনের উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের দ্রুত নিরাপদ অভিভাবকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং অভিভাবকদের অভিবাসনগত অবস্থান নির্বিশেষে পারিবারিক পুনর্মিলন নিশ্চিত করা।    বাইডেন প্রশাসনের সময় ওআরআরের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জেন স্মায়ার্স রয়টার্সকে বলেন, শিশু সুরক্ষার জন্য আগে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল তা এখন পুরোপুরি বদলে গেছে এবং শিশু কল্যাণ কর্মসূচিকে আরও বেশি মানুষকে দেশ থেকে বহিষ্কারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।    তবে ওআরআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শিশুদের গ্রেপ্তারে তাদের কোনো ভূমিকা নেই এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগের বিষয়টি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের আওতাধীন। অন্যদিকে ডিএইচএস বলেছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপর্যাপ্তভাবে যাচাই করা বা অপরাধমূলক অতীত রয়েছে এমন পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করার উদ্দেশ্যেই ওআরআর থেকে আইসের তদন্ত শাখায় তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
মায়ের মুক্তির দাবিতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বিটার দুই মেয়ে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ২২ বছর ধরে গ্রিনকার্ড থাকা নারীকে আটক করল আইসিই, মায়ের মুক্তির জন্য লড়ছেন দুই মেয়ে

যুক্তরাষ্ট্রে গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বৈধভাবে বসবাসকারী এক গ্রিনকার্ডধারী নারীকে গত এক বছর ধরে কারাগারে আটকে রেখেছে মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)। বাগানে কাজ করার সময় হঠাৎ ধরে নিয়ে যাওয়া ওই নারীর মুক্তির দাবিতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তার দুই কন্যা। প্রায় ১২ মাস ধরে বন্দি থাকা এই নারীর মুক্তি ও ডিপোর্টেশন (দেশত্যাগ) ঠেকানোর চেষ্টায় এখন আন্তর্জাতিক মহলেও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম শিকাগো ট্রিব্রিউন-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।   আটক ওই নারীর নাম বেয়াটা সিমিওনকোভিক। তিনি পোল্যান্ডের নাগরিক হলেও ১৯৯৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে বসবাস করে আসছেন। ২০০৩ সালে তিনি দেশটির স্থায়ী বাসিন্দার অনুমোদন বা গ্রিনকার্ড অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করেছিলেন তিনি। পেশায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও প্রবীণদের সেবিকা বেয়াটা তার দুই মেয়েকে নিয়ে রাউন্ড লেক এলাকায় বসবাস করতেন।   ঘটনাবলির সূত্রপাত ২০২৫ সালের আগস্টে। শিকাগোর শহরতলি ডেস প্লেইনসে নিজ মেয়ের বাড়ির বাগানে গাছপালার পরিচর্যা করছিলেন বেয়াটা। সে সময় হঠাৎ সাধারণ পোশাকে মুখে মাস্ক পরা দুই আইসিই কর্মকর্তা সেখানে হাজির হয়ে তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। সেদিনের স্মৃতির কথা তুলে ধরে তার মেয়ে ক্লাউদিয়া (২৫) জানান, খবরটি প্রথম তারা জানতে পারেন তাদের সত্-বাবা জনের ফোনের মাধ্যমে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের জানিয়েছিলেন, চোখের সামনে থেকে মুহূর্তের মধ্যে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, তার কিছুই করার ছিল না।   গ্রেপ্তারের পর তাকে কেন্টাকির ক্যাম্পবেল কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায় কর্তৃপক্ষ। সেখানে প্রায় ৬০ জন নারীর সঙ্গে গাদাগাদি করে তাকে রাখা হয়, যাদের অধিকাংশই ছিলেন বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসী। নোংরা পরিবেশ, অপরিস্কার সেল এবং এমনকি মারাত্মক অপরাধীদের সঙ্গে রাখা হয়েছিল তাকে।   আইসিই সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, ২০০৫ এবং ২০১১ সালে দোকানে ছোটখাটো চুরির অপরাধের রেকর্ড রয়েছে বেয়াটার বিরুদ্ধে। এছাড়া ২০০১ সালে অভিবাসন সুবিধার জন্য ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। যদিও তার পরিবার ও আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, বহু বছর আগেই জরিমানা এবং আদালতের নজরদারির মেয়াদ শেষ করে সেই পুরনো আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছিল। কঠিন সময়ে সন্তানদের জন্য ছোটখাটো চুরির ভুলের এত বছর পর এমন কঠোর পদক্ষেপকে অন্যায় বলে দাবি করছেন তার পরিবার।   তবে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) এক মুখপাত্র শিকাগো ট্রিব্রিউনকে বলেছেন, "গ্রিনকার্ড থাকা কোনো অধিকার নয়, এটি একটি বিশেষ সুযোগ। দেশের আইন লঙ্ঘন বা অপব্যবহার করা হলে সেই অনুমোদন বাতিল করার পূর্ণ অধিকার সরকারের রয়েছে।" গত বছরের ডিসেম্বরে অভিবাসন আদালত তার ডিপোর্টেশনের নির্দেশ দিলেও তার পরিবার এর বিরুদ্ধে আপিল করেছে।   এদিকে বেয়াটার মতোই একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন ডোনা হিউজ-ব্রাউন নামের এক আইরিশ নাগরিক। তবে সম্প্রতি তার ওপর থেকে ডিপোর্টেশনের আদেশ বাতিল করে আদালত তাকে মুক্তি দিয়েছে। ডোনা এখন বেয়াটার মুক্তির জন্য জোর দাবি তুলছেন এবং আশা করছেন যে তার মামলার আইনি নজির ব্যবহার করেই বেয়াটাকে আইসিই-এর বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।   মায়ের আইনি লড়াইয়ের খরচ চালানো এবং ঘরের বন্দক পরিশোধ করতে গিয়ে ছোট মেয়ে গ্যাবি (২১) তার নার্সিং পড়াশোনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। দুই বোন মিলে মায়ের আইনি লড়াই ও ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইলিনয়ের প্রভাবশালী সিনেটর ডিক ডারবিনের কার্যালয়ও এই পরিবারটিকে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।   নিজের জন্মভূমি পোল্যান্ডে এখন আর বেয়াটার চেনা কেউ নেই। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে গড়ে তোলা সংসার, সন্তান ও জীবন ছেড়ে তাকে আবারও নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে তার পরিবার।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
কনর রিড ও তার স্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড ইন্টারভিউতে ডেকে নিয়ে ব্রিটিশ তরুণকে আটক করল মার্কিন ইমিগ্রেশন

মাত্র ৯ বছর বয়স থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা ২৯ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রিন কার্ডের সাক্ষাৎকার গ্রহণের কথা বলে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)। ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত ইমিগ্রেশন অফিসে গত ৩ জুন সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে পরিবারের চোখ ফাঁকি দিয়ে আটক হন কনর রিড নামের ওই তরুণ। প্রায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে তাকে ইমিগ্রেশন হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং যেকোনো সময় তাকে যুক্তরাজ্যে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।   যুক্তরাজ্যের কেন্ট কাউন্টির চ্যাথামে জন্ম নেওয়া কনর রিড ২০০৭ সালে পরিবারের সঙ্গে শিক্ষার্থী ভিসার অধীনে নির্ভরশীল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তিনি আমেরিকান স্কুলেই পড়াশোনা করেছেন এবং জীবনের সিংহভাগ সময় দেশটিতে কাটালেও মাত্র একবার যুক্তরাজ্যে যান। ২০১১ সালে প্রথমবার তাকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, বয়সের কারণে তিনি 'ড্যাকা' (DACA) কর্মসূচির আওতায় আইনি সুরক্ষা ও কাজ করার অনুমতি পান। তবে পরবর্তীতে অ্যালকোহল গ্রহণ, মাদকের সরঞ্জাম রাখা এবং পুলিশকে কাজে বাধা দেওয়ার মতো কয়েকটি ছোটখাটো অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় ২২ বছর বয়সে তার ড্যাকা স্ট্যাটাস নবায়নের সুযোগ হাতছাড়া হয়। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি অনুযায়ী তাকে ‘অপরাধী অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।   ২০২০ সালে মার্কিন নাগরিক জায়লিনকে বিয়ে করেন কনর। তাদের তিন বছর বয়সী দুটি জমজ সন্তানও রয়েছে। বৈবাহিক সূত্রের ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের বা ‘গ্রিন কার্ড’ পেতে তিনি আবেদন করেছিলেন। ৩ জুন টাম্পার ইমিগ্রেশন সেন্টারে সাক্ষাৎকার চলাকালেই চারজন আইস কর্মকর্তা তাকে হঠাৎ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান। তাকে প্রথমে পিনেল্যাস কাউন্টি জেলে এবং পরবর্তীতে লুইজিয়ানার একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায় কর্তৃপক্ষ।   আইস (ICE)-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নতুন নির্দেশনায় গুরুতর ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত অবৈধ অভিবাসীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বহিষ্কার করা হচ্ছে। কনর বর্তমানে এই চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে এই আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে অন্তত ছয় মাস সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিন কার্ডের সাক্ষাৎকারের পর আইসের হেফাজতে নেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ডের সাক্ষাৎকারে গিয়ে আটক নারী, যেকোনো মুহূর্তে হতে পারেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত

বৈবাহিক ভিত্তিতে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটক হন শিকাগো এলাকার এক নারী। গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) হেফাজতে থাকা ওই নারীকে যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার আইনজীবী। ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এবিসি৭ শিকাগোর অনুসন্ধানী বিভাগ আই টিম।    প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথমে তাকে ইলিনয়ের ব্রডভিউ আইসিই প্রসেসিং সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে ইন্ডিয়ানার ব্রাজিল শহরের একটি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে থাকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, জায়গাটির অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে সেটি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। ভিডিও কলে তিনি এবিসি৭ শিকাগোকে বলেন, “মানুষ তাদের বিড়াল-কুকুরেরও এর চেয়ে ভালো যত্ন নেয়। জায়গাটি এতটাই খারাপ ছিল যে এটি সম্ভবত বন্ধ করে দেওয়া উচিত।”   বর্তমানে তিনি কেন্টাকির একটি আইসিই ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন। সেখানে একই কক্ষে আরও ১৩ জন নারীর সঙ্গে থাকতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে একবারও তাজা ফল বা সবজি পাননি। সপ্তাহে মাত্র তিন দিন, প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে খোলা বাতাসে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।   এদিকে তার স্বামী মার্ক গুল্ড একজন মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি শিকাগো এলাকায় বসবাস করছেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বর্তমানে ৩০০ মাইলেরও বেশি দূরত্ব। সাম্প্রতিক এক ভিডিও কলে মার্ক গুল্ড বলেন, “প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমি তার একটি বার্তার অপেক্ষায় থাকি। প্রথম মেসেজটি পেলেই কিছুটা স্বস্তি পাই।”   বর্তমানে দম্পতির যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম টেক্সট বার্তা এবং মাঝে মধ্যে বন্দিদের জন্য অনুমোদিত ভিডিও কল। পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওই নারী। তিনি বলেন, যেকোনো সময় তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। তবে তিনি আশা হারাননি।   তার ভাষায়, “সেই দিন আসবে। আমি জানি খুব শিগগিরই আসবে। পরিস্থিতি যেমনই হোক, আমরা আবার একসঙ্গে হব, আর সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।” পরে প্রতিবেদনে জানা যায়, ওই নারীর নাম এয়ারিদা গুল্ড। তিনি মূলত ইউরোপের দেশ লিথুয়ানিয়ার নাগরিক। মার্কিন নাগরিক মার্ক গুল্ডকে বিয়ের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন এবং বৈবাহিক ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন। সেই আবেদনের অংশ হিসেবে সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হয়েই তিনি ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটক হন।   এবিসি৭ শিকাগোর প্রতিবেদনে তার আইনজীবী জানান, এয়ারিদা গুল্ডের অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই তাকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। প্রতিবেদনে তাকে আটকের নির্দিষ্ট আইনি কারণ বা তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
চীনা মানবাধিকার আইনজীবী উ শাওপিং। ছবি: সংগৃহীত
পেনসিলভানিয়ায় অ্যামাজনের পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার সময় আইস এর হাতে আটক চীনা মানবাধিকার আইনজীবী

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে অ্যামাজনের পার্সেল সরবরাহের সময় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট আইস এর হাতে আটক হয়েছেন চীনের মানবাধিকার আইনজীবী উ শাওপিং। তাঁর এসাইলাম আবেদন এখনো বিচারাধীন থাকলেও তাঁকে আটক করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও চীনা ভিন্নমতাবলম্বীরা।   দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার কাম্বারল্যান্ড কাউন্টির মাউন্ট হলি স্প্রিংস এলাকায় অ্যামাজনের পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার সময় আইস কর্মকর্তারা উ শাওপিংকে থামান। তাঁর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা তাঁর নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইলে তিনি বিচারাধীন আশ্রয় আবেদনের নথি দেখিয়ে জানান যে তিনি বৈধভাবে পর্যটক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে আশ্রয়ের আবেদন করেন। এরপরও তাঁকে আটক করে পেনসিলভানিয়ার একটি অভিবাসন আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়।    উ শাওপিং ২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনে মানবাধিকার আইনজীবীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়নের সময় দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ২০২০ সালে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন, যার নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। এ সময় তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য অ্যামাজনের ডেলিভারি কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত চীনা মানবাধিকারকর্মীদের বিভিন্ন কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন।    চীনে থাকাকালে উ শাওপিং ধর্মীয় সংখ্যালঘু, ফালুন গং অনুসারী এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের জিয়ামেনে মানবাধিকারকর্মীদের একটি বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর সেখানে উপস্থিত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুই বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী ডিং জিয়াশি ও শু ঝিয়ং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দণ্ডিত হন। ওই ঘটনার পরপরই উ শাওপিং যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন।    উ শাওপিংয়ের স্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, তাঁর স্বামী সবসময় চীনের সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে ছিলেন। কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার সমালোচনার কারণেই তিনি নিপীড়নের শিকার হন এবং শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।    দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উ শাওপিংয়ের অভিবাসন আদালতে পরবর্তী শুনানির তারিখ ২৭ জুলাই নির্ধারিত রয়েছে। তাঁর সমর্থকদের আশঙ্কা, তাঁকে যদি চীনে ফেরত পাঠানো হয়, তাহলে সেখানে তিনি কারাবাসসহ গুরুতর নিপীড়নের মুখে পড়তে পারেন।    এ ঘটনার বিষয়ে আইস এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো প্রকাশ্য ব্যাখ্যা দেয়নি। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের আটক এবং অভিবাসন প্রয়োগ নীতির প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
শিকাগোর ও'হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয় লিন্ডসেকে। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি, যুক্তরাষ্ট্রে শতভাগ বৈধ গ্রিন কার্ডধারীদেরও আটক করছে ICE

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে বৈধভাবে বসবাসের পরও ডেটন আন্দ্রে লিন্ডসে নামের এক গ্রিন কার্ডধারীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)। জ্যামাইকায় ছুটি কাটিয়ে শিকাগোর ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রশাসন অভিবাসন আইন কঠোর করার পর থেকে লিন্ডসের মতো বহু বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদেরও এখন অভিবাসন দপ্তরের কড়াকড়ির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) এবং আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইক এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেটন আন্দ্রে লিন্ডসে মূলত জ্যামাইকার নাগরিক হলেও গত প্রায় তিন দশক ধরে বৈধ পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি ইলিনয়ের জোলিয়েটে একটি ওয়ালমার্ট ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে কাজ করার পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকটি রেস্তোরাঁয় শেফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ও তার স্ত্রী বেঞ্জি লিন্ডসে গত ছয় বছর ধরে বিবাহিত জীবন কাটাচ্ছেন এবং তাদের যৌথ পরিবারে ৫ সন্তান ও ৭ নাতি-নাতনি রয়েছে।   পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ও’হেয়ার বিমানবন্দরে নামার পর অভিবাসন কর্মকর্তারা লিন্ডসেকে আটকে দেন। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতি অত্যন্ত কঠোর করায় বিমানবন্দরে সাধারণ গ্রিন কার্ডধারীদের নথিপত্র এবং অতীত ইতিহাস পুনরায় নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ২০১৪ সালে লিন্ডসের বিরুদ্ধে একটি পারিবারিক সাধারণ সহিংসতার (মিসডিমিনর ডোমেস্টিক ব্যাটারি) অভিযোগ এবং প্রায় ১০ বছর আগে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর (ডিইউআই) একটি ট্রাফিক মামলা ছিল।   স্থানীয় গণমাধ্যম ডব্লিউজিএন ৯ (WGN 9) জানায়, লিন্ডসে এর আগেও বহুবার কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করেছেন। আদালতের রায়ে বিচারক উল্লেখ করেছেন যে, লিন্ডসের অতীত অপরাধগুলো এককভাবে বিবেচনা করলে তেমন গুরুতর নয়, তবে একসঙ্গে দেখলে তা আইনের প্রতি এক ধরনের অবজ্ঞার ইঙ্গিত দেয়। লিন্ডসে জামিন পাওয়ার যোগ্য হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে মুক্তি না দিয়ে কেন্টাকির হপকিন্স কাউন্টি জেলে বন্দি রাখা হয়েছে।   এই ঘটনার পর লিন্ডসের স্ত্রী বেঞ্জি লিন্ডসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই, কোনো গুরুতর অপরাধের রেকর্ডও নেই। সে শতভাগ বৈধ একজন মানুষ, তাও আইস তাকে অন্যায়ভাবে আটকে রেখেছে।” দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের কারণে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। লিন্ডসের আইনজীবীরা গত জুন মাসে কেন্টাকির ফেডারেল আদালতে একটি ‘হেবিয়াস কর্পাস’ (অবৈধ আটকাদেশ চ্যালেঞ্জকারী রিট) পিটিশন দায়ের করেছেন।   প্রোপাবলিকার এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আইসের এই ধরপাকড় চ্যালেঞ্জ করে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজারেরও বেশি হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দাখিল করা হয়েছে, যা বিগত তিনটি প্রশাসনের সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি। কেন্টাকির যে কেন্টাকি ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে লিন্ডসের মামলাটি বিচারাধীন, সেখানে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৫০০টিরও বেশি রিট আবেদন জমা পড়েছে।   ইউসি বার্কলের ‘ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার মানুষকে আইস গ্রেপ্তার করেছে। জুন মাসের শেষ দিকে মাত্র ৫ দিনে ১০ হাজার মানুষকে আটক করা হয়। বর্তমানে আইসের ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে বন্দির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার।   অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, শুধু লিন্ডসে একাই নন, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির স্নাতক মাহমুদ খলিল এবং মিলওয়াকি ইসলামিক সোসাইটির প্রেসিডেন্ট সালাহ সারসুরের মতো দীর্ঘদিনের গ্রিন কার্ডধারীদেরও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক মাস করে আটকে রাখা হয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তারা মুক্তি পান। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের এক মুখপাত্র অবশ্য জানিয়েছেন, যারা অবৈধ বা নিয়মের বাইরে আছেন, তাদের নিজ খরচে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, অন্যথায় গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। লিন্ডসের পরিবার এখন আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে তাকিয়ে আছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
মামলার বাদী উলিসেস পেনা লোপেজ ও তার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
৩ বছরের মেয়ের সামনেই বাবাকে নির্মম মারধর, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন দপ্তরের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সানিভেলের এক অভিবাসী কাঠমিস্ত্রিকে তার তিন বছর বয়সী শিশুকন্যার সামনেই চরম নিষ্ঠুরতায় মারধর এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)-এর বিরুদ্ধে। এই অমানবিক আচরণের শিকার উলিসেস পেনা লোপেজ ও তার পরিবার মার্কিন ফেডারেল সরকার এবং দুটি বেসরকারি কারা কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন। সান জোসের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা এই মামলাটি স্থানীয় কমিউনিটির মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে।   মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে সানিভেলে নিজের অ্যাপার্টমেন্টের সামনে গাড়িতে বসে কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন লোপেজ। ঠিক তখনই আচমকা মুখে মাস্ক পরা এবং বিশেষ রণসজ্জায় সজ্জিত একদল আইস (ICE) এজেন্ট তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একজন কর্মকর্তা লাঠি দিয়ে লোপেজের গাড়ির কাচে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। লোপেজ গাড়ি থেকে নেমে আসামাত্রই কর্মকর্তারা তাকে জাপটে ধরেন। লোপেজের স্ত্রী আবি পেনা, যিনি একজন মার্কিন নাগরিক, সিঁড়ির ওপর থেকে বাধা পেয়ে পুরো ঘটনাটি দেখছিলেন। অন্যদিকে, তাদের তিন বছরের শিশু সন্তান জানলা দিয়ে বাবার ওপর এই নৃশংস নির্যাতন প্রত্যক্ষ করে ভয়ে ও আতঙ্কে চিৎকার করে কাঁদছিল।   অভিযোগে বলা হয়েছে, এক কর্মকর্তা লোপেজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ধরেন এবং বাকিরা তাকে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর তাকে টেনে তুলে গাড়ির সঙ্গে চেপে ধরে বুক, পাঁজর ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি ঘুষি মারতে থাকেন। লোপেজ ইংরেজি ভালো না বোঝায় কর্মকর্তারা তাকে ইংরেজিতে গালিগালাজ ও চিৎকার করছিলেন। গ্রেপ্তারের পর প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় লোপেজ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং খিঁচুনি শুরু হয়। চিকিৎসাগতভাবে তিনি এর আগে একটি ‘মিনি স্ট্রোক’-এর ভুক্তভোগী ছিলেন। কিন্তু গাড়ি থেকে নামানোর সময় হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় তাকে ৪ ফুট উঁচু ভ্যান থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়, যার ফলে তিনি মাথায় মারাত্মক আঘাত পান। মাটিতে পড়া অবস্থায় আইস এজেন্টরা তাকে লাথি ও ঘুষি মারতে থাকেন। এমনকি এক কর্মকর্তা তার গলা চেপে ধরে পুরো শরীরের ভর দিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করেন, যার ফলে লোপেজ দুইবার জ্ঞান হারান। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্যারামেডিকস ডেকে তাকে মাউন্টেন ভিউয়ের এল ক্যামিনো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।   হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর লোপেজকে বেকার্সফিল্ডের কাছে অবস্থিত ‘গোল্ডেন স্টেট এনেক্স’ এবং পরবর্তীতে ‘ক্যালিফোর্নিয়া সিটি’ নামের দুটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। এগুলো পরিচালনা করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জিইও গ্রুপ ও কোরসিভিক। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও লোপেজকে সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, বরং তীব্র শীতের মধ্যে সারারাত লাইট জ্বালিয়ে রেখে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। মাসের পর মাস তার প্রয়োজনীয় ওষুধ ও হৃদরোগের জন্য নির্ধারিত খাবার বন্ধ রাখা হয়। অবশেষে গত বছরের অক্টোবরে তাকে মেক্সিকোতে ডিপোর্ট বা বহিষ্কার করা হয়।   এদিকে মার্কিন সরকারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) এই মামলার দাবিগুলো অস্বীকার করেছে। তাদের একজন মুখপাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ৩১ বছর বয়সী লোপেজ একজন চিহ্নিত অপরাধী, যিনি ২০১৩ সালে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। ২০২০ সালে তার বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য সহিংসতা এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনার অপরাধে সাজা হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সর্বদা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বনিম্ন বল প্রয়োগ করে থাকে বলে দাবি করেন তিনি।   তবে লোপেজের আইনজীবী এলেনা হজেস বলেন, অতীতে কারও কোনো অপরাধের রেকর্ড থাকলেই তাকে এভাবে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার করার অধিকার আইস কর্মকর্তাদের নেই। আইস মূলত নিজেদের নির্মম নির্যাতন ও স্বাস্থ্যসেবা দিতে ব্যর্থ হওয়ার দায় এড়াতেই এখন লোপেজের অতীতের অপরাধের প্রসঙ্গ সামনে আনছে।   বর্তমানে মেক্সিকোতে থাকা লোপেজ শারীরিক ও মানসিকভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন, নির্যাতনের কারণে তিনি ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। এদিকে সানিভেলে থাকা তার স্ত্রী তীব্র মানসিক অবসাদ ও বিষণ্নতায় ভুগছেন। আর তাদের তিন বছরের কন্যাসন্তানটি এখনো মাঝরাতে আতঙ্কে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে। কদিন আগেই তাকে ঘরের কোণে বাবার ছবি জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা গেছে। লোপেজের পরিবার এই অন্যায়ের বিচার এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর ছেলে রোনালদো সালগাদো। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই এজেন্টের গুলিতে প্রবাসী মেক্সিকান নিহত, ভিডিওতে বাবার মৃত্যু দেখলেন সন্তান

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর অভিযানের সময় গুলিতে নিহত হয়েছেন মেক্সিকান বংশোদ্ভূত অভিবাসী শ্রমিক লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো। পরিবারের দাবি, তিনি প্রতিদিনের মতোই নির্মাণকাজে যাচ্ছিলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও দেখে তার বড় ছেলে রোনালদো সালগাদো বুঝতে পারেন, নিহত ব্যক্তিই তার বাবা।   দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে রোনালদোর মা ফোন করে জানান, তার বাবা কাজে যাওয়ার পর থেকে কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না এবং কিছু একটা ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে বলে আশঙ্কা করছেন। এরপর রোনালদো দ্রুত হিউস্টনের উত্তরাঞ্চলে নির্মাণস্থলের দিকে রওনা হন, যেখানে তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতেন। পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তিনি দেখতে পান, আইসের অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে থাকা ব্যক্তিটি তার বাবা।   পরিবারের সদস্যরা জানান, লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো প্রায় ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি পরিবারের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিন ছেলেকেই কলেজে পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছেন। রোনালদো বলেন, তার বাবা ছিলেন একজন পরিশ্রমী ও পরিবারকেন্দ্রিক মানুষ। তিনি বিশ্বাস করেন, বাবার পিছু নেওয়া চিহ্নবিহীন (Unmarked) সরকারি গাড়িগুলো দেখে তিনি ভয় পেয়ে থাকতে পারেন। তার ধারণা, যারা তাকে অনুসরণ করছিল তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, এটি হয়তো তার বাবা বুঝতে পারেননি।   পরিবারের দাবি, লোরেঞ্জোর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ছিল পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। তিনি আশা করেছিলেন, একদিন হয়তো বৈধ অভিবাসন মর্যাদা পাবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন পূরণ হবে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ধরন এবং আইসের অভিযান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে অভিযানে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিবাসী অধিকারকর্মীরা।   এদিকে আইসের পক্ষ থেকে ঘটনাটির তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গুলির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না বা তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।   লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, একজন পরিশ্রমী শ্রমিক, যিনি তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করে পরিবারের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তার মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম I ছবি: সংগৃহীত
আইসের গুলিতে মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যু, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা মেক্সিকোর

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এজেন্টের গুলিতে এক মেক্সিকান নাগরিক নিহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মেক্সিকো। বুধবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।   তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকান নাগরিকদের ওপর এমন দুর্ব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তাই তারা শুধু কূটনৈতিক চিঠি চালাচালি বা আন্তঃআমেরিকান মানবাধিকার কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। প্রেসিডেন্ট শিনবাউম আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বনামধন্য কোম্পানিতে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বৈধ অভিবাসন নথিপত্র না থাকার কারণেই এক মেক্সিকান নাগরিককে আটকের নামে প্রাণ দিতে হলো।   গত মঙ্গলবার হিউস্টনে এই প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) দাবি করেছে, তারা অবৈধভাবে বসবাসকারী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে একটি নির্দিষ্ট তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল। লরেঞ্জো সালগাদো আরউজো নামের ওই মেক্সিকান নাগরিককে গাড়ি থামানোর নির্দেশ দিলে তিনি তা অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করেন।   আইস কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, লরেঞ্জো তার গাড়ি দিয়ে আইসের একটি গাড়িতে ধাক্কা দেন এবং এক এজেন্টকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও আত্মরক্ষার্থে ওই এজেন্ট গুলি চালালে লরেঞ্জো গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।   তবে এই ঘটনার পর বুধবার নিহতের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় কমিউনিটি নেতারা পুরো ঘটনার একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। নিহত লরেঞ্জো সালগাদো আরউজোর ছেলে জানিয়েছেন, তার বাবা প্রায় ৩৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। এমনকি তিনি তার ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের বৈধ অনুমতিপত্র পাওয়ার আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই ছিলেন। বৈধতা পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা একজন দীর্ঘস্থায়ী বাসিন্দাকে এভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
সাজাপ্রাপ্ত  I ছবি: সংগৃহীত
আইস কারাগার ঘিরে বিক্ষোভের জেরে আরও ৭ জনকে কারাদণ্ড দিল মার্কিন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে গত বছরের ৪ জুলাই প্রেইরিল্যান্ড আইস (ICE) কারাগারের বাইরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘটনায় সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে আরও সাতজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের ওই বিক্ষোভে আতশবাজি ফোটানো হয়েছিল এবং এক পুলিশ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার জের ধরেই বুধবার আদালত নতুন করে এই সাজার রায় ঘোষণা করেছে।   বুধবার সাজাপ্রাপ্ত সাতজনের মধ্যে ছয়জনই আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন। দোষ স্বীকার করায় আদালত তাদের দুই থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। তবে ইনেস সোতো নামের এক আসামি কোনো আপস-রফা বা দোষ স্বীকার না করায়, তাকে সন্ত্রাসীদের বস্তুগত সহায়তা প্রদানসহ অন্যান্য গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত তাকে সর্বোচ্চ ৫০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে।   উল্লেখ্য, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই এই একই ঘটনায় বিচার শেষে আরও আটজন আসামিকে অস্বাভাবিক কঠোর সাজা প্রদান করেছিল আদালত। সেই রায়ে তাদের ৩০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরও সাতজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হলো। আইস কারাগারের বাইরের ওই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মার্কিন বিচারব্যবস্থায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনে এমন কঠোর শাস্তির বিষয়টি এখন দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
আইসের নতুন প্রধান হিসেবে ট্রাম্পের পছন্দ ল্যান্স শ্রয়ার, অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোরতার ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)-এর নতুন পরিচালক হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত ওকলাহোমা স্টেট ট্রুপার ল্যান্স শ্রয়ারকে মনোনয়ন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক নিয়োগ নয়; বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের স্পষ্ট বার্তাও বহন করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশিসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লাখো অভিবাসী পরিবারের জন্য এই পরিবর্তনের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, প্রায় তিন দশকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ল্যান্স শ্রয়ারকে আইসের পরিচালক হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।   ট্রাম্প বলেন, ওকলাহোমায় দীর্ঘ ২৯ বছর দায়িত্ব পালনকারী শ্রয়ার একজন "প্রকৃত দেশপ্রেমিক" এবং দক্ষ আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা। তিনি অপরাধ দমন এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলেও দাবি করেন।   আইস যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন বাস্তবায়নের প্রধান সংস্থাগুলোর একটি। সংস্থাটি অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, আটক, বহিষ্কার এবং কর্মস্থল বা বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে। ফলে সংস্থার নেতৃত্বে পরিবর্তন সরাসরি অভিবাসন নীতির বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে।   ২০১৭ সালের পর থেকে আইসে সিনেট-অনুমোদিত কোনো স্থায়ী পরিচালক দায়িত্ব পালন করেননি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে সংস্থাটি এতদিন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।   শ্রয়ারের সবচেয়ে আলোচিত অভিজ্ঞতার একটি হলো ২৮৭(জি) কর্মসূচিতে সম্পৃক্ততা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফ অফিসগুলো আইসের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে অংশ নিতে পারে।   ট্রাম্প তাঁর ঘোষণায় এই অভিজ্ঞতার বিশেষ উল্লেখ করে বলেন, শ্রয়ার বিপজ্জনক অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং বেআইনি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই নিয়োগ ট্রাম্প প্রশাসনের এমন একটি কৌশলের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফেডারেল সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো হতে পারে।   তবে সমালোচকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে ল্যান্স শ্রয়ার খুব পরিচিত কোনো ব্যক্তি নন। তাঁর প্রকাশ্য প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার তথ্যও সীমিত। ফলে আইসের মতো বড় একটি ফেডারেল সংস্থা পরিচালনায় তাঁর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোরও আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ধারাবাহিকতায় আইসের অভিযান আরও জোরদার হতে পারে।   ল্যান্স শ্রয়ারের দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাঁর মনোনয়ন সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। স্বাধীনতা দিবসের ছুটি শেষে কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হলে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে।   রিপাবলিকানরা দ্রুত অনুমোদনের পক্ষে থাকলেও ডেমোক্র্যাটরা আইসের জবাবদিহি, অভিবাসীদের অধিকার এবং সংস্থার ক্ষমতার পরিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। ফলে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মনোনয়ন থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে কোনো ধরনের শিথিলতার বার্তা দিতে চাইছে না। বরং কঠোর আইন প্রয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অবস্থানই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে আইস কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ‘আন্তিফা’ নেতার ১০০ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের নর্থ টেক্সাসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কেন্দ্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় 'আন্তিফা' (Antifa) সেলের এক নেতার ১০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বেঞ্জামিন হানিল সং নামের ওই নেতাসহ এই হামলায় জড়িত মোট আটজনকে সম্মিলিতভাবে ৫৫০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বাকি সাতজন পেয়েছেন ৪৫০ বছরের সাজা। আগামী ৪ জুলাই প্রেইরিল্যান্ড ডিটেনশন সেন্টারে হওয়া এই হামলার এক বছর পূর্ণ হওয়ার ঠিক আগেই এমন যুগান্তকারী রায় প্রদান করল মার্কিন বিচার বিভাগ।   ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে 'আন্তিফা' সংগঠনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করেন। ট্রাম্পের ওই কড়া আদেশের পর আন্তিফার সাথে জড়িত কোনো আসামির বিরুদ্ধে এটিই প্রথম বড় সাজার রায়। দণ্ডপ্রাপ্তরা মূলত দাঙ্গা সৃষ্টি, অস্ত্র ও বিস্ফোরকের ব্যবহার, সন্ত্রাসীদের বস্তুগত সহায়তা প্রদান এবং এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার চেষ্টার মতো গুরুতর সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ এই রায় প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, যেসব আন্তিফা সন্ত্রাসী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারি স্থাপনায় হামলা চালাবে, তাদের অত্যন্ত দ্রুত ও কঠোর বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এ ধরনের সহিংস চরমপন্থার কোনো স্থান নেই। যারা আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের হুমকি দেয় কিংবা আইনের শাসনকে দুর্বল করার চেষ্টা করে, বিচার বিভাগ তাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে আক্রমণাত্মক তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: রয়টার্স
গুদামকে অভিবাসী আটক কেন্দ্র বানানোর পরিকল্পনা থেকে সরে এলো আইস

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) বহুল আলোচিত অভিবাসী আটক কেন্দ্র সম্প্রসারণ প্রকল্প থেকে সরে আসছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেনা ১১টি শিল্প গুদামের মধ্যে ৭টিই বিক্রি অথবা অন্য ফেডারেল সংস্থার কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।   অভিবাসন আটক ব্যবস্থাকে বড় পরিসরে পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ইতোমধ্যে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যমান ব্যবস্থার বাইরে নতুন বড় পরিসরের আটক কেন্দ্র গড়ে তোলা।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, তারা এখন স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত বিদ্যমান আটক কেন্দ্রগুলোকেই অগ্রাধিকার দেবে। সংস্থাটির ভাষ্য, আটক ব্যক্তিদের দ্রুত অপসারণই প্রধান লক্ষ্য, নতুন অবকাঠামো নির্মাণে অতিরিক্ত ব্যয় নয়।   এক বিবৃতিতে ডিএইচএস বলেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো উচিত। করদাতাদের অর্থ ব্যয় করে দীর্ঘ সময় তাদের আটক রাখার প্রয়োজন নেই।   এই সিদ্ধান্তের ফলে আইসের ‘ডিটেনশন রি-ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিশিয়েটিভ’ নামে পরিচিত ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বৃহৎ পরিকল্পনা কার্যত স্থগিত হয়ে গেল। পরিকল্পনাটির লক্ষ্য ছিল ২০০টির বেশি আটক কেন্দ্রকে সংকুচিত করে ৩৪টি ফেডারেল নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্র গড়ে তোলা।   ট্রাম্প প্রশাসন আগে জানিয়েছিল, অভিবাসী আটক সক্ষমতা বৃদ্ধি তার গণ-নির্বাসন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে নতুন গুদামগুলোকে আটক কেন্দ্রে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে পড়ে।   এ প্রকল্প স্থানীয় পর্যায়েও ব্যাপক বিরোধিতার মুখে পড়ে। মিশিগান, নিউ জার্সি, মেরিল্যান্ড, জর্জিয়া ও ইউটাহসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় প্রশাসন এবং অধিকারকর্মীরা পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত ঝুঁকির বিষয় তুলে ধরে মামলা করেন। এর ফলে কয়েকটি আদালত নির্মাণকাজ স্থগিতের নির্দেশ দেয়।   সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয় মিশিগানের রোমুলাস শহরের একটি বড় গুদামকে ঘিরে। সেখানে প্রায় ৫০০ জনকে রাখার পরিকল্পনা ছিল। পরে মিশিগানের অ্যাটর্নি জেনারেল ডানা নেসেল এই সিদ্ধান্তকে জনচাপ ও আইনি লড়াইয়ের ফলাফল বলে মন্তব্য করেন।   বর্তমানে ডিএইচএস জানিয়েছে, মিশিগান, নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, জর্জিয়া এবং ইউটাহর কয়েকটি সম্পত্তি বিক্রি অথবা প্রকল্প বাতিল করা হবে। তবে টেক্সাস, অ্যারিজোনা এবং মেরিল্যান্ডে কিছু প্রকল্প এখনও চলমান রয়েছে।   অন্যদিকে, আইস এখন বেসরকারি আটক কেন্দ্র পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে নতুন সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংস্থাটির আগে থেকেই চুক্তি রয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ১৪ মাসে আইস হেফাজতে ৪৭তম মৃত্যু, যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন আন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট(আইস)-এর হেফাজতে এক মেক্সিকান অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই ঘটনা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে আইস হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা ৪৭-এ পৌঁছানোর বিষয়টি সামনে এনেছে।   মৃত ব্যক্তির নাম আলেহান্দ্রো ক্যাবরেরা ক্লেমেন্তে (৪৯)। তিনি উইন করেকশনাল সেন্টার -এ আটক ছিলেন। আইস-এর পাঠানো নোটিফিকেশন অনুযায়ী, ১১ এপ্রিল তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেলে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   ২০২৫ সালে শুরু হওয়া কঠোর অভিবাসন অভিযানের পর থেকে আইস হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্লেমেন্তে এই সময়ের মধ্যে ১৫তম মেক্সিকান নাগরিক, যিনি আটক অবস্থায় মারা গেলেন।   মেক্সিকোর কূটনীতিক ভেনেসা কালভা রুইজ এই মৃত্যুগুলোকে “অ্যালার্মিং” ও “অগ্রহণযোগ্য প্রবণতা” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনা পদ্ধতিগত ব্যর্থতা, পরিচালনাগত দুর্বলতা এবং সম্ভাব্য অবহেলার ইঙ্গিত দেয়।   মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আইস ডিটেনশন সেন্টারগুলোর পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা ও বন্দীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।   এদিকে আইস জানিয়েছে, প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনাই নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তবে সমালোচকরা বলছেন, শুধু তদন্ত নয়—স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Unknown এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউ ইয়র্কে আইস বিরোধী বিক্ষোভ: প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ার দায়ে ১৫ জন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটি-তে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) বিরোধী এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে ১৫ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি)।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আইউইটনেস নিউজ জানায়, সোমবার বিক্ষোভকারীরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিয়ার টেকনোলজিস-এর ভবনে প্রবেশ করে অবস্থান নেন। আইসের কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ তুলে তারা এ কর্মসূচি পালন করছিলেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে নির্দেশ দিলে তারা তা অমান্য করেন। পরে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে হাজিরার নোটিশ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে।   এর আগে সন্ধ্যায় জুইশ ফর রেশিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক জাস্টিস-এর উদ্যোগে ইউনিয়ন স্কোয়ার এলাকায় ‘সেডার ইন দ্য স্ট্রিটস’ শিরোনামে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব পাসওভার উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় গান ও বক্তব্যের মাধ্যমে আইসের অভিবাসন নীতির প্রতিবাদ জানান।   গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারীরাও ওই সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। সমাবেশে বক্তব্য দেন নিউইয়র্কের মেয়র জোরান মামদানি। তিনি বলেন, পাসওভারের শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভয়ের বিরুদ্ধে আশা এবং বিভেদের বিরুদ্ধে সংহতির মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

Unknown এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০